📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 কৃতজ্ঞতা নবিদের গুণ

📄 কৃতজ্ঞতা নবিদের গুণ


জাহান্নামীদের অধিকাংশই হবে নারী। এর বড় কারণ হচ্ছে, স্বামীর অবাধ্য হওয়া এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞ না থাকা।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীসমাজকে উদ্দেশ্য করে করে বলেন,
'হে নারীসমাজ! তোমরা সদকা করতে থাকো। কারণ আমি দেখেছি, জাহান্নামীদের মধ্যে তোমরাই সর্বাধিক। নারীরা আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, তা কী কারণে? তিনি বললেন, কারণ তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশম্পাত করে থাকো। আর স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকো।'২১৪
হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের উদ্দেশ্যে বললেন,
'তোমরা সদকা করো। কেননা তোমাদের অধিকাংশ হবে জাহান্নামের ইন্ধন। (এ কথা শোনার পর) নারীদের মাঝখান থেকে একজন দাঁড়াল, যার উভয় গালে কালো দাগ ছিল। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, তা কেন? তিনি বললেন, তোমরা বেশি অভিযোগ করে থাকো এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকো। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মহিলাগণ তাদের অলংকারাদি সদকা করতে লাগল এবং বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিছানো কাপড়ে তা ফেলতে লাগল।' ২১৫
নারীসমাজের অকৃতজ্ঞতার উদাহরণ তো বুখারি ও মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে, স্বামী যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করতে থাকেন, তার সমস্ত হক আদায় করতে থাকেন, তারপর একদিন তার প্রতি তার সামান্য অবহেলা প্রকাশ পেলেই সে তার সমস্ত সদাচার ও অনুগ্রহের কথা ভুলে যায়। নাকের জল চোখের জল এক করে বলে, 'আপনার কাছ থেকে কখনো ভালো কিছু পেলাম না। এ সংসারে এসে আমার কপালে কোনোদিন শান্তি জুটল না।'
হাদিস শরিফে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের এই স্বভাব- প্রকৃতির দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন, তোমরা অধিক পরিমাণে অভিযোগ করো এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকো।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বিবি খাদিজার ইন্তেকালের পরও তার প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন। তার শোকর আদায় করতেন। কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশস্বরূপ তিনি খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গিনীদের সম্মান করতেন। তাদের খোঁজখবর নিতেন। তাই দেখে একদিন আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নারীসুলভ ঈর্ষাকাতর হয়ে বলে বসলেন, তিনি তো একজন বুড়ি মহিলা ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তো আপনাকে তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দান করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তায়ালা আমাকে তার চেয়ে উত্তম কাউকে দান করেননি। এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিভিন্ন গুণ ও অবদানের কথা বর্ণনা করতে লাগলেন।

টিকাঃ
২১৪ সহিহ বুখারি: ৩০৪।
২১৫ সহিহ মুসলিম : ১৯২১।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 রাগ করে চলে যাওয়া

📄 রাগ করে চলে যাওয়া


দাম্পত্য জীবনে কখনো মতানৈক্য হয়। টুকটাক কথা কাটাকাটি হয়। অনেক পরিবারে প্রায়ই হয়। এই মতানৈক্য ও কথা কাটাকাটি কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করে। তখন অনেক নারী উত্তেজিত হয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। শয়তান তাকে পেয়ে বসে। এমতাবস্থায় প্রথমেই সে যে চিন্তাটা করে, 'স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি কিংবা অন্য কোথাও চলে যাবে।'
এই চিন্তাটি সম্পূর্ণ ভুল। নতুন বিবাহিতা নারীরা এই ভুলটি বেশি করে থাকে। বাহ্যত এখানে ভুল একটি হলেও মূলত ভুল চারটি। সে একসঙ্গে চারটি ভুল করে।
১. শরিয়তের হুকুম লঙ্ঘন। আর তা হলো স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ঘর থেকে বের হওয়া।
২. যে বাড়িতে গিয়ে উঠছে, সে বাড়ির সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করা। তাদের সবাইকে পেরেশানির মধ্যে ফেলা।
৩. চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়া। তাদের সংসারের ভেতরের অবস্থা সবাই জেনে যাওয়া।
৪. সমস্যাকে আরও প্রকট করে তোলা এবং স্বামীকে কঠিন ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়া।
স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া কখনো সমস্যার সমাধ'ন নয়। বরং সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়ানো। আর এভাবে চলে যাওয়ার কারণে এক সমস্যা থেকে আরও হাজার সমস্যা সৃষ্টি হয়।
আপনি বরং আপনার স্বামীর সঙ্গে বসে শান্ত ও সুস্থিরভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করুন। আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করতে থাকুন।
স্বামী কখনো রাগান্বিত হলে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় না জড়িয়ে আপনি মুখে তালা দিয়ে রাখুন। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দিন।
আপনার স্বামী কখনো আপনাকে কষ্ট দিলে, আপনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে, আপনি তার সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করুন এবং ধৈর্যধারণ করুন। অচিরেই দেখবেন সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তার মন থেকে সমস্ত কালিমা দূর হয়ে তা মেঘমুক্ত স্বচ্ছ আকাশের মতো হয়ে গেছে। মনের বিশাল সে আকাশ খুলে সে আপনার জন্য বসে আছে। সে আকাশে আপনি ছাড়া আর কারও অধিকার নেই ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়ানোর।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 শ্বশুরবাড়ির মানুষের সঙ্গে আচরণ

📄 শ্বশুরবাড়ির মানুষের সঙ্গে আচরণ


মেয়েদের জন্মই যেহেতু স্বামীর ঘরে যাওয়ার জন্য। তাই প্রতিটি মেয়ের ও তার পরিবারের সকলের চিন্তা থাকে সে যে পরিবারে যাবে, সে পরিবারটি কেমন হবে। তারা তাকে কীভাবে গ্রহণ করবে। সে তাদের কীভাবে গ্রহণ করবে। তারা তার সঙ্গে কেমন আচরণ করবে। সে তাদের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিবে? এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষেরই কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। স্বামী ও তার পরিবারের উচিত নিজের পরিবার-পরিজন ও সব ছেড়ে আসা এই মেয়েটির সঙ্গে উত্তম আচরণ করা। তাকে মমতার পরশ বুলিয়ে দেওয়া। কোনো ভুল করলে ক্ষমা করে দেওয়া। সে কোনো কিছু না পারলে তাকে শেখার জন্য সময় দেওয়া। আকারে-ইঙ্গিতে হেয় না করা।
কিন্তু এরপরও অনেক পরিবারে কিছু না কিছু সমস্যা হয়েই যায়। কোনো না কোনোভাবে তাকে কষ্ট পেতেই হয়। কখনও তা সামান্য হয়। কখনও তা অসামান্য। দেখা যায় স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে স্বামীও তাকে কথা শোনানো শুরু করে। তখন অনেক মেয়ে এতে অস্থির হয়ে পড়ে। কী করবে বুঝতে পারে না। দুশ্চিন্তায় ভুগে।
শুনুন, আপনি যদি তাদের হৃদয় রাজ্য জয় করতে চান, তাদের কাছে আপনার মর্যাদাকে আরও সমুন্নত করতে চান, তাহলে আপনাকে এই পরিবারের বড়দের সম্মান করতে হবে ও ছোটদের আদর-স্নেহ করতে হবে। বিশেষ করে আপনার শ্বাশুড়িকে। আপনি তার প্রতি উত্তম আচরণ করুন। কোমল ভাষায় তার সঙ্গে কথা বলুন। তার সেবা করুন।
শুধু আপনি না, আপনার স্বামীকেও আপনি তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণে উদ্বুদ্ধ করুন। সে কখনো তাদের সঙ্গে মন্দ আচরণ করলে তাকে শুধরানোর চেষ্টা করুন।
স্বামীর কাছে কখনো তার মায়ের দোষ-ত্রুটির কথা আলোচনা করবেন না। এতে সে মনে আঘাত পাবে। শ্বাশুড়ির কোনো আচরণে কষ্ট পেলে সবর করুন। সবর, সবর এবং সবর। তারপর দেখুন, সবর আপনার মর্যাদা কত ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়।
মনে রাখবেন, আজ আপনি যেমন আচরণ করবেন, একদিন আপনার সঙ্গেও (যেদিন আপনি শ্বাশুড়ি হবেন সেদিন) তেমন আচরণ করা হবে। সুতরাং তার বয়স্ক পিতা-মাতার প্রতি আপনি দয়াশীল হোন। তাদের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দিন।
পবিত্র কুরআনে সুরা বনি ইসরাঈলের এই আয়াতটির প্রতি লক্ষ করুন,
وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا.
'তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করতে ও পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে, তাদের 'উফ' বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলো।' ২১৬
এই আয়াতে কারিমায় যদিও স্বামীকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু স্ত্রীরও কর্তব্য তাকে এই দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা। তাদের হক আদায়ের ক্ষেত্রে স্বামীর সামনে বাধা হয়ে না দাঁড়ানো। স্ত্রী যদি শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সঙ্গে সমস্যা সৃষ্টি করে রাখে, তখন তা স্বামীকেও সমস্যায় ফেলে দেয়। সে বুঝতে পারে না উভয় পক্ষের মন রক্ষা করে কীভাবে চলবে। তাদের মাঝে মীমাংসা কীভাবে করবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় স্ত্রীকে সে তার পিতা-মাতার চেয়ে প্রাধান্য দিয়ে ফেলে কিংবা অন্যায়ভাবে পিতা-মাতার বিরুদ্ধাচরণ করে। এতে সে বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং স্ত্রীও তার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ, এসব মূলত স্ত্রীর কারণেই হয়েছে। তাই এর কুফল তাকেও ভোগ করতে হয়।
গুনাহর কাজের প্রতি যে আহ্বান করবে, সেই গুনাহর বোঝা এবং যারা সেই গুনাহ করবে, তাদের সকলের গুনাহর বোঝাও তার উপর বর্তায়।
আর পিতা-মাতার সঙ্গে অবাধ্যচরণ অনেক বড় কবিরা গুনাহ। এর ফলে মানুষ আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়।
সদাচারিণী স্ত্রী স্বামীকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণে সাহায্য করে। পিতামাতার সঙ্গে সে যদি কোনো অসদাচরণ করে, কিংবা তাদের হক নষ্ট করে, তখন সে তাকে উপদেশ দানের, সংশোধনের চেষ্টা করে। শয়তানের সাহায্যকারী হয় না।

টিকাঃ
২১৬ সুরা বনি ইসরাইল: ২৩।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 প্রতিবেশীর হকের প্রতি লক্ষ রাখা

📄 প্রতিবেশীর হকের প্রতি লক্ষ রাখা


একটি প্রবাদ আছে, বাসা দেখার আগে প্রতিবেশী দেখে নাও।
কারণ, প্রতিবেশী ভালো হলে বিপদাপদে সেই সবার আগে এগিয়ে আসে। আবার প্রতিবেশী খারাপ হলে সেই সবচেয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ প্রতিবেশী থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে বলেছেন। তিনি বলেন,
'মন্দ প্রতিবেশী থেকে তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে পানাহ চাও।' ২১৭
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি দুআ হলো,
'হে আল্লাহ! আমি আবাসস্থলের মন্দ প্রতিবেশী থেকে আপনার কাছে পানাহ চাচ্ছি।' ২১৮
এজন্য আমাদের যেটা করতে হবে, সর্বপ্রথম নিজেকে একজন উত্তম প্রতিবেশী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশতে হবে। সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করার মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
যেহেতু প্রয়োজনের সময় প্রতিবেশীই মানুষের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে। তাদের সঙ্গে অবশ্যই আমরা যেন উত্তম আচরণ করি। মন্দ আচরণ পরিহার করি। কারণ, এমনটি মানুষকে জাহান্নামী এবং আল্লাহর ক্রোধের পাত্রে পরিণত করে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একবার জিজ্ঞাসা করা হলো,
'অধিক সালাত, রোজা এবং সদকা করার কারণে অমুক মহিলার আলোচনা হয়ে থাকে। তবে সে তার প্রতিবেশীদের মুখে কষ্ট দিয়ে থাকে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে জাহান্নামী।' ২১৯
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয়! আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ব্যক্তি ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেন, যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে না।' ২২০
বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ছিলাম। তার এক গোলাম বকরির চামড়া ছিলছিল। তখন তিনি বললেন, হে গোলাম, চামড়া ছিলে প্রথমে গোশত আমাদের ইহুদি প্রতিবেশীকে দিবে। এ কথাটি তিনি কয়েকবার বললেন। তখন গোলাম তাকে বলল, আপনি কতবার বলবেন? তিনি বললেন,
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের জন্য আমাদের এত উপদেশ দিয়েছেন যে, আমরা ধারণা করে বসেছিলাম যে, তিনি হয়ত শীঘ্রই প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকার বানিয়ে দিবেন।' ২২১
তবে প্রতিবেশী যদি এমন হয় যে প্রকাশ্যে আল্লাহর নাফরমানি করে, পাপাচারী, কিংবা সে বিদআতি, তাহলে তার কাছ থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
কারণ, এ ক্ষেত্রে আশঙ্কা আছে, সন্তানরা হয়ত তার সঙ্গে মিশে দীন ইসলামের পরিপন্থি কিছু শিখে ফেলবে।
তবে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা যাবে না। তার কোনো হক নষ্ট করা যাবে না। তার সঙ্গে কখনো তর্কে জড়াতে হলে ভদ্রতা বজায় রাখতে হবে, যাতে আল্লাহ তায়ালা তাকে হেদায়াত দান করেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'দীন হচ্ছে সম্পূর্ণ কল্যাণকামিতা।'
আজকাল তো এমন একটা কালচার সৃষ্টি হয়ে গেছে, দেখে যায় একই বিল্ডিংয়ে বছরের পর পর একসঙ্গে বসবাস করছে। কিন্তু কারও সঙ্গে কারও কোনো পরিচয় নেই। দেখা-সাক্ষাৎ, কথা-বার্তা নেই। আসা-যাওয়া নেই। সবাই নিজেকে নিয়ে আছে। আমরা এতটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছি।
অনেক নারীকে এমন একটা কথা বলতে শোনা যায়, আলহামদুলিল্লাহ আমার কোনো প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক নেই। আমি কারও বাসায় যাই না। আর কেউ আমার বাসায় আসে না। আমি আমার মতো থাকি। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলি না। কেউ আমার সঙ্গে কথা বলে না। এটা ভালো না। নবিজির নির্দেশনা এমন নয়।
কাউকে চিনে না, জানে না বলে তার সঙ্গে একেবারে মিশবে না, তার প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসবে না, বিপদে সাহায্য করবে না, সে কোনো সমস্যায় পড়লে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে পাশ কাটিয়ে যাবে, ইসলামি সমাজ এতটা স্বার্থপর নয়। সমস্ত মুসলমানরা হচ্ছে একটি দেহের ন্যায়।
ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘যে মুমিন মানুষের সঙ্গে মিশে এবং তাদের দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে, সে ওই মুমিনের চেয়ে উত্তম যে মানুষের সঙ্গে মিশে না এবং তাদের দেওয়া কষ্টে ধৈর্যধারণ করে না।’ ২২২

টিকাঃ
২১৭ সুনানে নাসাঈ: ৫৫০২।
২১৮ ইমাম বুখারিকৃত আল-আদাবুল মুফরাদ: ১১৬।
২১৯ মুসনাদে আহমাদ।
২২০ সহিহ বুখারি : ৬০১৬।
২২১ সহিহ বুখারি: ৬০১৬।
২২২ সুনানে তিরমিযি।
* দেখুন, কাইফা তাকসিবিনা কালবা যাওযিকি ওয়া তুরদিনা রাব্বাকি গ্রন্থটি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00