📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্বামী যদি মদের নেশা থাকে

📄 স্বামী যদি মদের নেশা থাকে


চাচার পছন্দে হুট করে নাবিলার বিয়ে হয়ে গেল। বেশি খোঁজ নেওয়ার সুযোগ তার হয়নি। এই চাচাই তার সব। ছোট্ট বেলায় বাবা-মা মারা যাওয়ার পর চাচার কাছেই সে বড় হয়েছে।
সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। বিয়ের কিছুদিন পর সে জানতে পারল তার স্বামীর একটি খারাপ নেশা আছে। মদের নেশা। ততদিনে গর্ভে তার নতুন মেহমান চলে এসেছে।
নাবিলার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। সে মারাত্মক কষ্ট পেল। কী করবে বুঝতে পারছে না? তার তো এ পৃথিবী বাবা-মা, ভাই-বোন কেউ নেই। শুধু চাচা আছেন। বিষয়টা চাচাকে জানানো কি ঠিক হবে?
পরামর্শের জন্য সে ডক্টর লায়লার কাছে গেল। সব শুনে ডক্টর লায়লা তাকে বললেন, এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তোমার জন্য একটি পরীক্ষা। তুমি তা মেনে নাও। আর খুব ভালোভাবে মনে রেখো, জগতে আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে কোনো কিছু হয় না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তাকদিরের ভালো-মন্দের উপর ঈমান আনা পর্যন্ত কেউ মুমিন হতে পারবে না। এমনকি তার নিশ্চিত বিশ্বাস থাকতে হবে, সে যা পেয়েছে তা কখনোই তার হাতছাড়া হতো না। আর যা পায়নি তা কখনোই তার লাভ হতো না।' ২১১
তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো, যাতে তিনি তোমাকে সাহায্য করেন। মা তার সন্তানের প্রতি যতটা দয়ার্দ্র, আমাদের প্রতি তিনি তার চেয়েও অধিক দয়ার্দ্র। তার প্রতিটি ফায়সালা হেকমতপূর্ণ। যদিও আমাদের তা বুঝে না আসুক।
তুমি চেষ্টা করলে অবশ্যই তোমার স্বামীকে পরিবর্তন করতে পারবে। খারাপ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারবে।
মদ পান যদিও মারাত্মক পাপ। কবিরা গুনাহ। তবে তুমি শুরুতেই তাকে এ কথা বলতে যেও না। মদখোর বলে সম্বোধন করো না।
রাতে আলাদা থেকো না। বিছানা পৃথক করো না। তোমার উত্তম আচরণ হয়ত তার হেদায়াতের কারণ হবে।
মদের গন্ধ খুব মারাত্মক। সহ্য করার মতো না। মদখোর স্বামীর সঙ্গে সংসার করাটাও কষ্টের। নিজের প্রতি নিজের খুব ঘৃণা ও অপমানবোধ হয়।
তোমার কোমল আচরণ ও নম্র কথায় যদি কাজ না হয়, তাহলে তুমি সেই নারীর মতো করবে যার স্বামীও মদখোর ছিল। সে কী করেছিল, তার স্বামী যখন মদ খাচ্ছিল তখন একটি ক্যামেরায় ভিডিও করে রেখেছিল। তারপর সেই ভিডিও তাকে যখন দেখাল, তখন সে আসলে খুব লজ্জা পেল এবং তওবা করল আর কখনো মদ ছুঁবে না।
তোমার সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যয়ের পরও যদি কাজ না হয়, তখন তুমি পারিবারিক বিষয়ে কোনো বিজ্ঞ লোকের শরণাপন্ন হতে পারো, যিনি জানেন তোমার স্বামীকে তিনি কীভাবে বোঝাবেন।
এসব কিছুতেও কাজ না হলে তুমি তাকে ভয় দেখাও যে, তুমি তাকে ছেড়ে তোমার পরিবারের কাছে চলে যাবে।
তবে তুমি মনে রেখো, ভয় দেখানোর আগে অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসার আচরণ করতে হবে। আশা রাখতে হবে। সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে হবে। উপদেশ দিতে হবে। বোঝাতে হবে। তবে স্বামীরা উপদেশ একটু দেরীতে গ্রহণ করে। বিশেষ করে কিছু পুরুষ আছে পাপকাজে ডুবে থাকলেও নিজেকে খুব জ্ঞানী মনে করে। স্ত্রীর উপদেশ গ্রহণ করতে চায় না।
তুমি সবর করো। আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা রাখো। ভয় পেয়ো না। দুঃখ করো না। অনেক সময় বিপদাপদ আল্লাহর নৈকট্যলাভের কারণ হয়।
বেশি বেশি নামাজ পড়ো। শেষ রাতে উঠে আল্লাহর দরবারে দুআ ও কান্নাকাটি করো।
কয়েক মাস পর মেয়েটি চিঠি লিখে জানাল, তার স্বামী তওবা করেছে। মদ পান ছেড়ে দিয়েছে। আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান করেছেন।

টিকাঃ
২১১ সুনানে তিরমিযি: ২১৪৪।
২১২ হামাসাতুন ফি উষুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 গৃহব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একজন নারীই দায়িত্বশীল

📄 গৃহব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একজন নারীই দায়িত্বশীল


আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেক দায়িত্বশীলকেই তার আপন অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। শাসক জনগণের দায়িত্বশীল, তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। পুরুষ তার পরিবারের লোকদের দায়িত্বশীল, তাকে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে। নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানদের দায়িত্বশীল, তাকে তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে। গোলাম তার মনিবের সম্পদের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল, তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।' ২১৩
গৃহব্যবস্থাপনার অনেক বড় দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা নারীদের উপর ন্যস্ত করেছেন এবং এর মাধ্যমে তাদের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিধান করেছেন। সুতরাং এ ব্যাপারে নারীদের যত্নবান থাকা এবং স্বামী-সন্তানদের প্রতি যত্নশীল থাকা উচিত।
স্বামীর ধন-সম্পদের ব্যাপারে যত্নশীল থাকার অর্থ তার ধন-সম্পদের হেফাজত করা। সুষ্ঠু ব্যবহার করা। অপচয় ও অপব্যবহার না করা।
আর সন্তানদের প্রতি যত্নশীল থাকার অর্থ তাদের উত্তমভাবে দেখাশোনা করা। তাদের জন্য ত্যাগ স্বীকার করা। তাদের আদব-আখলাক শিক্ষা দেওয়া। নবিজির সুন্নতের তালিম দেওয়া। আল্লাহর পরিচয় তাদের সামনে তুলে ধরা। একজন আদর্শ মুসলিম হিসেব তাদের গড়ে তুলতে চেষ্টা করা।
তারা কোনো ভুল করলে, কোমলভাবে শুধরে দেওয়া। প্রহার না করা। অনেকে প্রহার করে। এতে তারা আরও জেদি হয়ে উঠে।

টিকাঃ
২১৩ সহিহ বুখারি: ২৫৫৪।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 কৃতজ্ঞতা নবিদের গুণ

📄 কৃতজ্ঞতা নবিদের গুণ


জাহান্নামীদের অধিকাংশই হবে নারী। এর বড় কারণ হচ্ছে, স্বামীর অবাধ্য হওয়া এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞ না থাকা।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীসমাজকে উদ্দেশ্য করে করে বলেন,
'হে নারীসমাজ! তোমরা সদকা করতে থাকো। কারণ আমি দেখেছি, জাহান্নামীদের মধ্যে তোমরাই সর্বাধিক। নারীরা আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, তা কী কারণে? তিনি বললেন, কারণ তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশম্পাত করে থাকো। আর স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকো।'২১৪
হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের উদ্দেশ্যে বললেন,
'তোমরা সদকা করো। কেননা তোমাদের অধিকাংশ হবে জাহান্নামের ইন্ধন। (এ কথা শোনার পর) নারীদের মাঝখান থেকে একজন দাঁড়াল, যার উভয় গালে কালো দাগ ছিল। সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, তা কেন? তিনি বললেন, তোমরা বেশি অভিযোগ করে থাকো এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকো। বর্ণনাকারী বলেন, তখন মহিলাগণ তাদের অলংকারাদি সদকা করতে লাগল এবং বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিছানো কাপড়ে তা ফেলতে লাগল।' ২১৫
নারীসমাজের অকৃতজ্ঞতার উদাহরণ তো বুখারি ও মুসলিম শরিফের একটি হাদিসে এভাবে তুলে ধরা হয়েছে, স্বামী যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করতে থাকেন, তার সমস্ত হক আদায় করতে থাকেন, তারপর একদিন তার প্রতি তার সামান্য অবহেলা প্রকাশ পেলেই সে তার সমস্ত সদাচার ও অনুগ্রহের কথা ভুলে যায়। নাকের জল চোখের জল এক করে বলে, 'আপনার কাছ থেকে কখনো ভালো কিছু পেলাম না। এ সংসারে এসে আমার কপালে কোনোদিন শান্তি জুটল না।'
হাদিস শরিফে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের এই স্বভাব- প্রকৃতির দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন, তোমরা অধিক পরিমাণে অভিযোগ করো এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকো।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো বিবি খাদিজার ইন্তেকালের পরও তার প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন। তার শোকর আদায় করতেন। কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশস্বরূপ তিনি খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গিনীদের সম্মান করতেন। তাদের খোঁজখবর নিতেন। তাই দেখে একদিন আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নারীসুলভ ঈর্ষাকাতর হয়ে বলে বসলেন, তিনি তো একজন বুড়ি মহিলা ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তো আপনাকে তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দান করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ তায়ালা আমাকে তার চেয়ে উত্তম কাউকে দান করেননি। এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বিভিন্ন গুণ ও অবদানের কথা বর্ণনা করতে লাগলেন।

টিকাঃ
২১৪ সহিহ বুখারি: ৩০৪।
২১৫ সহিহ মুসলিম : ১৯২১।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 রাগ করে চলে যাওয়া

📄 রাগ করে চলে যাওয়া


দাম্পত্য জীবনে কখনো মতানৈক্য হয়। টুকটাক কথা কাটাকাটি হয়। অনেক পরিবারে প্রায়ই হয়। এই মতানৈক্য ও কথা কাটাকাটি কখনো মারাত্মক আকার ধারণ করে। তখন অনেক নারী উত্তেজিত হয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। শয়তান তাকে পেয়ে বসে। এমতাবস্থায় প্রথমেই সে যে চিন্তাটা করে, 'স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়ি কিংবা অন্য কোথাও চলে যাবে।'
এই চিন্তাটি সম্পূর্ণ ভুল। নতুন বিবাহিতা নারীরা এই ভুলটি বেশি করে থাকে। বাহ্যত এখানে ভুল একটি হলেও মূলত ভুল চারটি। সে একসঙ্গে চারটি ভুল করে।
১. শরিয়তের হুকুম লঙ্ঘন। আর তা হলো স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ঘর থেকে বের হওয়া।
২. যে বাড়িতে গিয়ে উঠছে, সে বাড়ির সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করা। তাদের সবাইকে পেরেশানির মধ্যে ফেলা।
৩. চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়া। তাদের সংসারের ভেতরের অবস্থা সবাই জেনে যাওয়া।
৪. সমস্যাকে আরও প্রকট করে তোলা এবং স্বামীকে কঠিন ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়া।
স্বামীর ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া কখনো সমস্যার সমাধ'ন নয়। বরং সমস্যা থেকে পালিয়ে বেড়ানো। আর এভাবে চলে যাওয়ার কারণে এক সমস্যা থেকে আরও হাজার সমস্যা সৃষ্টি হয়।
আপনি বরং আপনার স্বামীর সঙ্গে বসে শান্ত ও সুস্থিরভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করুন। আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করতে থাকুন।
স্বামী কখনো রাগান্বিত হলে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় না জড়িয়ে আপনি মুখে তালা দিয়ে রাখুন। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে তার অবস্থায় ছেড়ে দিন।
আপনার স্বামী কখনো আপনাকে কষ্ট দিলে, আপনার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে, আপনি তার সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করুন এবং ধৈর্যধারণ করুন। অচিরেই দেখবেন সে তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তার মন থেকে সমস্ত কালিমা দূর হয়ে তা মেঘমুক্ত স্বচ্ছ আকাশের মতো হয়ে গেছে। মনের বিশাল সে আকাশ খুলে সে আপনার জন্য বসে আছে। সে আকাশে আপনি ছাড়া আর কারও অধিকার নেই ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়ানোর।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00