📄 সফল মিলনের সুফল
দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসার বন্ধনকে সুদৃঢ় করতে সফল মিলনের ভূমিকা অপরিসীম। এর মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে সৃষ্ট অনেক জটিল ও কঠিন সমস্যা নিমিষেই সমাধান হয়ে যায়। আবার ব্যর্থ ও অতৃপ্ত মিলনের দ্বারা অনেক জটিল ও কঠিন সমস্যা সৃষ্টি হয়।
তাই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহিত দম্পতিদের সফল মিলনে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এ কাজটিকে তিনি দান সদকার মতো পূণ্য কাজের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি এর বিনিময়ে সওয়াব প্রাপ্তির ঘোষণাও দিয়েছেন।
সফল মিলনে বহুবিধ উপকারিতা নিহিত রয়েছে:
১. পূর্ণরূপে তৃপ্তি লাভ।
২. স্ত্রীর সন্তুষ্টি লাভ।
৩. প্রতিদান লাভ।
৪. ছদকার সওয়াব লাভ।
৫. ঈমানের হেফাজত।
৬. আত্মিক ও দৈহিক প্রশান্তি লাভ।
৭. সন্তান লাভ।
৮. কুচিন্তা থেকে মুক্তি লাভ।
৯. পরিতৃপ্ত নিদ্রা লাভ।
১০. পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাওয়া।
১১. দাম্পত্য বন্ধন সুদৃঢ় হওয়া।
এ ছাড়া আরও অসংখ্য পার্থিব-অপার্থিব উপকার নিহিত রয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা এ এমন এক তৃপ্তি, যার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো তৃপ্তির তুলনা হয় না। বিশেষ করে মিলন যখন সফল মিলন হয়। কারণ, এতে প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৃপ্তি লাভ করে থাকে। চোখ সঙ্গীকে দেখে তৃপ্ত হয়। কান তার কথা শ্রবণ করে। নাক তার ঘ্রাণ নিয়ে। মুখ চুম্বন করে। হাত স্পর্শ করে। এভাবে প্রতিটি অঙ্গই তৃপ্তি লাভ করে।
এ কারনেই পবিত্র কুরআনে নারীকে প্রশান্তি লাভের কারন বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার। ১৯৪
একটি সফল ও পূর্ণ মিলন স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই এমন আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি দান করে যা মুহূর্তের জন্য হলেও তাদের সকল দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেয়। তারপর এক গভীর ও প্রশান্তিময় নিদ্রা আনয়ন করে।
মিলনের এই তৃপ্তি তারা অনুভব করে দীর্ঘক্ষণ। তাছাড়া এটি পরস্পরকে আরও গভীরভাবে ভালোবাসতে সাহায্য করে।
অনেক সময় মিলনের ব্যর্থতার জন্য নারীকে দায়ী করা হয়। পুরুষও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী থাকে। যেহেতু উইমেন চ্যাপ্টার; তাই নারীদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। বিনা কারণে স্বামীর ডাকে সাড়া না দেওয়া, কিংবা স্বামীকে তৃপ্তি লাভে সহযোগিতা না করা ইত্যাদি নানা কারণে নারীকে দায়ী করা হয়ে থাকে।
ইসলাম স্ত্রীর চাহিদা পূরণের বিষয়টিকে যেমন গুরুত্ব দিয়েছে, তেমনি স্বামীরও। স্ত্রীকে স্বামীর ডাকে সাড়া দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। বিনা কারণে অনিহা প্রকাশ করার মন্দ পরিণতি সম্পর্কে সতর্কও করেছে। এতে স্বামীর গুনাহের পথে পা বাড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'স্বামী যখন স্ত্রীকে নিজ প্রয়োজনে ডাকবে, তখন সে যেন তাতে সাড়া দেয়, যদিও সে চুলার কাছে (রান্নার কাজে) থাকে।'১৯৫
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ। কোনো পুরুষ যদি তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে আর সে আসতে অস্বীকার করে। যে কারণে স্বামী তার প্রতি সারারাত অসন্তুষ্ট থাকে। তাহলে ফেরেশতারা ভোর পর্যন্ত সেই নারীকে অভিসম্পাত দিতে থাকেন।' ১৯৬
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, 'যে নারী তার স্বামীর শয্যা ছেড়ে রাত্রি যাপন করে, ভোর পর্যন্ত ফেরেশতারা তাকে অভিশম্পাত দিতে থাকে।'১৯৭
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামীর অনুমতি ব্যতীত কোনো স্ত্রীকে নফল রোজা রাখতেও নিষেধ করেছেন। কারণ, রোজা রাখার সময় শরীর দুর্বল থাকে। দুর্বলতার কারণে মিলনে আগ্রহ কম থাকে। এমতাবস্থায় স্বামী তাকে ডাকলে সে হয়ত সাড়া দিবে না। আগ্রহবোধ করবে না। যদি সাড়া দেয় তাহলে রোজাদার অবস্থায় মিলিত হওয়ার কারণে তার রোজা ভেঙে যাবে। আর নফল রোজা ভাঙলে তা কাযা করা ওয়াজিব হয়ে যায়। তখন অবশ্যই তাকে পরবর্তিতে সেই রোজাটি কাযা করতে হবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর নফল রোজা রাখা জায়েজ নেই। এমনিভাবে স্বামীর অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর ঘর থেকে বের হওয়া জায়েজ নেই।'১৯৮
স্বামী যদি দূরে কোথাও থাকে। যেমন, বিদেশে বা অন্য কোথাও সফরে, তাহলে বিনা অনুমতিতে স্ত্রী নফল রোজা রাখতে পারবে।
এখানে একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন, দৈহিক চাহিদা সাধারণত স্ত্রীর তুলনায় পুরুষের বেশি থাকে। কারণ, বিভিন্ন কাজে সে বাহিরে থাকে। বাহিরে প্রলুব্ধ হওয়ার মতো অনেক ফেতনা থাকে। হারাম বিষয় থাকে। সেসব ফেতনা ও হারাম থেকে বাঁচার জন্য সে স্ত্রী গমন করে। এমতাবস্থায় স্ত্রী যদি কোনো শরঈ ওযর ব্যতীত তার ডাকে সাড়া না দেয়, তখন স্বামীর অনেক বড় ফেতনায় নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এভাবে স্ত্রী যদি স্বামীকে অসন্তুষ্ট করে তখন আল্লাহও অসন্তুষ্ট হন। ১৯৯
টিকাঃ
১৯৪ সুরা রূম: ২১।
১৯৫ • জামে তিরমিযি: ১১৬০। সুনানে নাসাঈ : ৮৯৭১।
* সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
১৯৭ সহিহ বুখারি।
১৯৮ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
১৯৯ দেখুন কাইফা তাকসিবিনা কালবা যাওযিকি ও তুরদিনা রাব্বাকি গ্রন্থটি।
📄 নিজেদের স্বামী-স্ত্রী সুলভ বিষয়গুলো অন্যের কাছে প্রকাশ না করা
নিঃসন্দেহে স্ত্রী স্বামীর সবচেয়ে কাছের মানুষ। বিশেষ করে যে স্ত্রী তার স্বামীকে প্রাণোধিক ভালোবাসে।
গোপন বিষয় গোপন রাখা আসলে কঠিন। এটা মানুষের অন্তরে ভারী বোঝা হয়ে থাকে। সে যখন অন্যের কাছে তা প্রকাশ করে দেয়, তখন তার অন্তর থেকে বোঝাটি নেমে যায়। সে হালকা বোধ করে। বিশেষ করে গোপন বিষয় যদি এমন হয়, যা সে ছাড়া আর কেউ জানে না। তাহলে সেই বোঝা আরও ভারী হয়ে থাকে। তখন অন্যের কাছে প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত সে স্বস্তি বোধ করে না।
এ কারণে গোপন বিষয় গোপন রাখা অনেক বড় একটি আমানত।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তি কারও সঙ্গে কথা বলার সময় যদি এদিক সেদিক তাকায়, তাহলে তার সেই কথাটি আমানত।
তিনি আরও বলেন,
'কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ সেই ব্যক্তি হবে, যে স্ত্রীর সঙ্গে মিলন করে এবং স্ত্রী তার সঙ্গে মিলন করে। তারপর সে তার (স্ত্রীর) গোপন কথা প্রকাশ করে দেয়।'২০০
সুতরাং গোপন বিষয় গোপন রাখা শরিয়তে ওয়াজিব। সামাজিকভাবেও তা আবশ্যক। এর অন্যথা হলে পারিবারিক ও সামাজিক বিপর্যয় দেখা দিবে।
মানুষ যখন কারও সংসারের প্রাইভেট বিষয় জেনে যায়। সে তার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে কীরূপ আচরণ করে। তার ভালো-মন্দ সব খবরই তাদের কাছে থাকে, তখন তা তার জন্য তাদের সামনে লজ্জিত হওয়ার কারণ। ইসলাম মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার নির্দেশ প্রদান করে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'কেউ কারও দোষ গোপন রাখলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন।' ২০১
সাধারণভাবেই কারও গোপন বিষয় গোপন রাখা আবশ্যক। আর বিষয়টি যদি স্বামী-স্ত্রীর মিলনের মতো স্পর্শকাতর হয়, তাহলে তা গোপন রাখা আরও অধিক আবশ্যক।
আজকাল বিকৃত রুচির কিছু মূর্খ লোককে দেখা যায়, এসব আলোচনা ছাড়া মজাই পান না। সারাদিন শুধু এসব আলোচনা করেন। আসলে তারা ব্যক্তিত্বহীন ও নির্লজ্জ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই নিজেদের একান্ত মুহূর্তগুলোর কথা অন্যের কাছে প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'কোনো পুরুষ হয়ত তার স্ত্রীর সঙ্গে যা করে তা বলে বেড়াবে। আর কোনো নারীও হয়ত স্বামীর সঙ্গে যা করে তা বলে বেড়াবে।'
এ কথা শুনে লোকেরা চুপ করে রইল। তখন একজন মহিলা বলল, আল্লাহর শপথ! মহিলারা এমনটি করে। আর পুরুষরাও তা করে। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
'তোমরা এমনটি করো না। কারণ তা এমন শয়তানের ন্যায়, যার সঙ্গে কোনো শয়তান নারীর রাস্তায় দেখা হলো, তারপর সে জনসম্মুখেই তার সঙ্গে কুকর্ম শুরু করল।'২০২
সেই সঙ্গে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো নারী অন্য নারীর সঙ্গে সাক্ষাতে পরস্পর যেসব আলোচনা করে, সেসব স্বামীর কাছে এসে বলতে নিষেধ করেছেন।
টিকাঃ
২০০ সহিহ মুসলিম: ১৪৩৭, সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৭০, মুসনাদে আহমাদ: ১১২৫৮।
২০১ সহিহ মুসলিম: ২৫৯৪।
২০২ মুসনাদে আহমাদ।
📄 পারিবারিক সমস্যায় বান্ধবীদের কাছে পরামর্শ না চাওয়া
অনেক নারী আছে, স্বামীর সঙ্গে কোনো সমস্যা হলে বান্ধবীদের সঙ্গে শেয়ার করে। তাদের কাছে পরামর্শ চায়। তখন তারা তাকে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করে।
কেউ পরামর্শ দেয়, 'তুই তাকে তোর সঙ্গে মিলিত হতে দিস না। দেখবি সোজা হয়ে যাবে। আমি একবার এমনটি করেছিলাম। ভালো কাজে দিয়েছে।'
আরেকজন বলে, 'মুখে মুখে উত্তর দিয়ে দিবি। চিৎকার করে কথা বলবি। দেখবি ঠিকই দাম দিবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।'
তৃতীয়জন বলে, 'বাপের বাড়ি চলে যা। তোর বাবা-মাকে গিয়ে বল, তারা একটা সমাধান করে দিবে।'
চতুর্থজন বলে, 'আমি তোকে এক গণকের ঠিকানা দিয়ে দিচ্ছি। তুই তার কাছে যাবি। সে তোকে একটা তাবিজ দিবে। তাবিজটি নিয়ে তুই তোর বেডরুমে রাখবি। ব্যস, পরদিন সকালে উঠে দেখবি তোর স্বামী তোর গোলামে পরিণত হয়েছে। তুই যা বলবি সে তাই করবে।
এই পরামর্শটি সবচেয়ে জঘণ্য। কারণ, সে তাকে হারাম কাজ করতে বলছে। ইসলামি শরিয়তে কোনো গণকের কাছে কিংবা কুফরি কালাম করে এমন কারও কাছে গমন করা সম্পূর্ণ হারাম। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
'যে কোনো গণকের কাছে গমন করল, তারপর তার কথা বিশ্বাস করল। সে মুহাম্মাদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।'২০০
এ ছাড়া প্রথম তিন বান্ধবী যেসব পরামর্শ দিয়েছে, সবগুলোই নেতিবাচক। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের স্বামীর কথা বলেছে। নিজেদের স্বামীর সঙ্গে তারা যেসব আচরণ করেছে, সে আলোকে পরামর্শ দিয়েছে।
অথচ তাদের স্বামী এবং যে পরামর্শ চাইতে এসেছে তার স্বামী এক নয়।
তোমাকে খুব ভালোভাবে মনে রাখতে হবে, একজনের স্বামীর সঙ্গে যে বুদ্ধি কাজে দিবে, তা আরেকজনের স্বামীর সঙ্গে নাও দিতে পারে।
যে পুরুষের সঙ্গে তোমার সমস্যা হয়েছে, সে তোমার স্বামী, তাদের স্বামী নয়। তুমি তাকে যেভাবে চিনো, জানো, বুঝো, তারা তাকে সেভাবে চিনে না, জানে না, বুঝে না।
বান্ধবীদের এসব পরামর্শ শুনে অসংখ্য নারীর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে।
অধিকাংশ পুরুষেরই দাম্পত্য জীবনের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা কমতে থাকে, তবে স্ত্রী যদি প্রেমময়ী হয় তাহলে ভিন্ন কথা।
সুতরাং তুমি তোমার স্বামীকে ভালোবাসা দাও। প্রেম দাও। তোমার সংসারে অন্য যা কিছুর অভাব থাকুক, ভালোবাসার অভাব যেন না থাকে। তোমার স্বামী যেন কখনো ভালোবাসার অভাবে না ভুগে। তুমি যদি তার রক্তে তোমার ভালোবাসা প্রবাহিত করে দিতে পারো, তাহলে সে যত দূরে যাক, তোমার কাছে ছুটে আসবে।
সুতরাং বান্ধবীদের পরামর্শ দিয়ে নয়, ভালোবাসার শক্তি দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করো। নিজেদের বিষয় নিজেদের মাঝেই রাখো। ২০৪
টিকাঃ
২০০ মুসনাদে আহমাদ: ৯৫৩৬।
২০৪ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।
📄 স্বামীর প্রতি ঘৃণাবোধ কখন প্রশংসনীয় ও কখন নিন্দনীয়?
সাধারণত আত্মমর্যাদাবোধ একটি প্রশংসনীয় গুণ। আল্লাহ তায়ালার আত্মমর্যাদাবোধ রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
'আল্লাহ তায়ালার আত্মমর্যাদাবোধ রয়েছে। আর আল্লাহ তায়ালার আত্মমর্যাদাবোধ হচ্ছে কোনো মুমিন বান্দার হারাম কাজে লিপ্ত না হওয়া। ২০৫
আত্মমর্যাদাবোধ না থাকলে চরিত্র বলতে পৃথিবীতে কিছু থাকত না। জনসম্মুখেই কুকর্ম সংঘটিত হত।
স্বামীর ক্ষেত্রে স্ত্রীর আত্মমর্যাদাবোধ হচ্ছে তাকে কোনো হারাম কাজ করতে না দেওয়া। যেমন-মদ পান, ধূমপান, হারাম উপার্জন, পরনারী গমন, নামাজ না পড়া, যাকাত আদায় না করা ইত্যাদি।
স্ত্রীর এমন আত্মমর্যাদাবোধ প্রশংসনীয় এবং এটা তার দায়িত্বও। এ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে তা নিন্দনীয়। বিশেষ করে যদি অমূলক ধারণা বা সন্দেহের ক্ষেত্রে হয়।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'কিছু বিষয় আছে যা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন। আর কিছু বিষয় আছে যা তিনি অপছন্দ করেন। আল্লাহ তায়ালার কাছে পছন্দনীয় আত্মমর্যাদাবোধ হচ্ছে, সন্দেহজনক বিষয় বর্জনের আত্মসম্মানবোধ। আর তাঁর কাছে অপছন্দনীয় আত্মমর্যাদাবোধ হচ্ছে সন্দেহ ও বদনামের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যক্ষেত্রের আত্মমর্যাদাবোধ।'২০৬
হাদিসটির মর্ম হলো, আল্লাহ তায়ালা শরিয়ত বিরোধী কাজে ঘৃণাবোধ করাকে পছন্দ করেন। শরিয়ত অনুমোদিত কাজের ক্ষেত্রে ঘৃণাবোধ করাকে অপছন্দ করেন।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অসংখ্য পরিবার ভিত্তিহীন, অমূলক সন্দেহ থেকে সৃষ্ট ঘৃণাবোধের কারণে ধ্বংস হয়ে যায়। প্রথমে পরিবার ধ্বংস হয়। তারপর অনুতাপ ও যন্ত্রণার অনলে পুড়ে নিজেরা ধ্বংস হয়।
দাম্পত্য জীবনের ক্ষেত্রে মূল কথা হলো, তুমি যাচাই-বাছাই করে, দেখে-শুনে, একজন সৎ ও বিশ্বস্ত পুরুষকে তোমার স্বামী হিসেবে নির্বাচন করেছো। সুতরাং এখন আর তোমার জন্য শোভনীয় নয় যে, কারণে অকারণে প্রতি পদে পদে তুমি তাকে সন্দেহ করবে। তার পিছনে লেগে থাকবে।
মনে রাখবে, পুরুষরা অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ নারীদের অপছন্দ করে।
অতি সন্দেহ একটি মানসিক রোগ। তোমাকে যেন এই রোগে না ধরে; মানসিক অশান্তিতে ভুগবে। সন্দেহ রোগ থেকে বাঁচার জন্য নিজেকে তুমি কোনো কাজে ব্যস্ত রাখতে পারো। কাজ না থাকলে নামাজ, তেলাওয়াত, জিকির ইত্যাদিতে মশগুল থাকতে পারো। কেননা মেয়ে মানুষ ঘরে বসে থাকলে এবং তার কোনো কাজ না থাকলে মাথায় উকূনের মতো মনের মধ্যে সন্দেহের উকুন বাসা বাঁধতে থাকে।
পক্ষান্তরে তোমার স্বামী যাতে তোমাকে সন্দেহ না করে সেজন্য তোমার কিছু কর্তব্য রয়েছে, যেমন:
১. পুতঃপবিত্র চরিত্রের অধিকারী হওয়া।
২. স্বামীর অনুমতি ব্যতীত বাইরে না যাওয়া। তার অনুপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত কাউকে ঢুকতেও না দেওয়া।
৩. পরপুরুষের সঙ্গে কথাবার্তা ও মেলামেশা না করা। সম্পূর্ণ পর্দার হালতে থাকা।
৪. সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকা। এগুলোর নাম যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কিন্তু এগুলো মানুষকে অসামাজিক করে তোলে। বিভিন্ন পাপাচারে লিপ্ত করে। মানুষের মন-মস্তিষ্ক ও চিন্তা-চেতনাকে আচ্ছন্ন করে রাখে। স্বামী-সন্তানদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করে।২০৭
টিকাঃ
২০৫ সহিহ বুখারি।
২০৬ মুসনাদে আহমাদ।
২০৭ দেখুন, কাইফা তাকসিবিনা কালবা যাওযিকি...।