📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 মজার মজার খাবার রান্না করা

📄 মজার মজার খাবার রান্না করা


ক্ষুধা মানুষের দেহে একধরনের বিশৃঙ্খলা ও সমস্যা সৃষ্টি করে। এ সময় মানুষ সুস্থিরভাবে কোনো কিছু চিন্তা করতে পারে না। তার মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে।
এমন সময় যদি সে পছন্দের কোনো খাবার খেতে পায়, তখন সে খুবই খুশি ও আনন্দিত হয়। তার অন্তরে খাবার প্রস্তুতকারীর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।
উসামা বিনতে হারেস তার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সময় উপদেশ প্রদান করতে গিয়ে বলেন,
'স্বামীর ঘুম ও খাবারের সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকো। কারণ ক্ষুধা মানুষকে উত্তেজিত করে। আর ঘুমের স্বল্পতা তাকে ক্রুদ্ধ করে তোলে।'
যে নারী স্বামীর খাওয়ার সময়ের প্রতি লক্ষ রাখে, তার জন্য মজাদার ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করে, সে খুব সহজেই তার মন জয় করে ফেলে।
তবে আমার উদ্দেশ্য এটা নয় যে, নারীরা খাবার তৈরি করতে অনেক দীর্ঘ সময় নষ্ট করবে। যার ফলে ঘরের অন্যান্য কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। বরং অন্যান্য দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সে স্বামীর জন্য সুস্বাদু খাবার তৈরি করবে।
তারপর স্বামী যখন ক্ষুধা নিয়ে বাসায় ফিরবে। আর এসে দেখবে তার পছন্দের খাবার রেডি। বাসার সবকিছু সাজানো-গোছানো। আর এদিকে স্ত্রীও তার অপেক্ষায় ছিল, সে আসলে একসঙ্গে খেতে বসবে। এমন প্রীতি ও ভালোবাসাপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশে আল্লাহ তায়ালা বরকত দান করেন। এমন ঈমানি পরিবেশকে আল্লাহ তায়ালা খুব পছন্দ করেন।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্বামীর আনুগত্য দাসবৃত্তি নয়, বরং সুখী দাম্পত্যের মূল ভিত

📄 স্বামীর আনুগত্য দাসবৃত্তি নয়, বরং সুখী দাম্পত্যের মূল ভিত


এক মহিলা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল,
'আমি নারীদের প্রতিনিধি হিসেবে আপনার কাছে এসেছি। আল্লাহ তায়ালা পুরুষের উপর জিহাদ ফরজ করেছেন। তারা যদি (যুদ্ধ করতে গিয়ে) আঘাত পায়, তাহলে সওয়াব লাভ করে। আর শহিদ হলে তারা আল্লাহর কাছে জীবিত থেকে রিজিক লাভ করতে থাকে। আমরা নারী সম্প্রদায়। তাদের সব কাজ করি। এসব কাজের কী প্রতিদান রয়েছে আমাদের জন্য? তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে সকল নারীদের সঙ্গে তোমার দেখা হবে তুমি তাদের 'লে দিও যে, স্বামীর আনুগত্য করা ও তার হক স্বীকার করে নেওয়া সেই আমলের সমান। আর তোমাদের মধ্যে খুব কম নারীই তা করে থাকে।'
এই হাদিসে স্বামীর আনুগত্যকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের মতো মহান ইবাদতের সমকক্ষ বলা হয়েছে। অর্থাৎ যে নারী স্বামীর আনুগত্য করে এবং তার হক মেনে নেয়, সে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী মুজাহিদের সমান প্রতিদান লাভ করে। কিন্তু অধিকাংশ নারীই এ ফযিলতের কথা জানে না। জানলেও আমল করে না। কিংবা আংশিক আমল করে। অথচ স্বামীর আনুগত্যের দ্বারা একজন নারীর জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'কোনো নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, স্বামীর আনুগত্য করে, তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'১৭৮
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন নারী উত্তম? তিনি বললেন,
'যে নারীর দিকে তাকালে স্বামী আনন্দ লাভ করে। স্বামী কোনো আদেশ করলে তা মান্য করে এবং নিজের বিষয়ে ও স্বামীর সম্পদের ক্ষেত্রে তার অপছন্দনীয় কিছু করে না।'১৭৯
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'আমি যদি কাউকে সেজদা করার জন্য নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে তার স্বামীকে সেজদা করার নির্দেশ দিতাম। ১৮০
আমাদের সমাজের পরিবারগুলোর দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, অধিকাংশ পারিবারিক সমস্যা স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর অবাধ্যতার কারণে হয়ে থাকে। অথচ একজন মুমিন নারী শরিয়ত নির্দেশিত পন্থায় স্বামীর আনুগত্য করলে শুধু ইহজীবনে নয়, পরকালিন জীবনেও সুখী হতে পারে। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা স্বামীর আনুগত্যকে মুমিন নারীদের সিফাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন,
فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ
'সুতরাং সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগতা এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে তারা আল্লাহ যা সংরক্ষিত করেছেন (অর্থাৎ স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের সতীত্ব, স্বামীর সম্পদ ও তার যাবতীয় হক) তা হিফাজত করে। ১৮১

টিকাঃ
* সহিহ হাদিস, মুসনাদে বাযযার।
১৭৮ মুসনাদে আহমাদ।
১৭৯ সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহিহা : ৩৪৯০।
১৮০ সুরা নিসা: ৩৪।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 নেতিবাচক অনুভূতিগুলো কীভাবে প্রকাশ করবেন?

📄 নেতিবাচক অনুভূতিগুলো কীভাবে প্রকাশ করবেন?


রাগের মাথায় আপনি আপনার স্বামীকে কিছু বলতে যাবেন না। আপনি সময় নিন। শান্ত ও স্থির হোন। তারপর বলুন। শান্ত ও স্থির হতে যদি আপনার দীর্ঘ সময় লেগে যায়, সমস্যা নেই।
যা বলার সুস্পষ্ট ভাষায় অল্প কথায় বলুন। বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বলুন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন। তিরস্কার কিংবা ভর্ৎসনা করার সময় সরাসরি সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকুন। যেমন, 'তুমি এটা করেছো। তোমার কারণে এমন হয়েছে। তুমিই তো বলেছো।'
এভাবে সরাসরি সম্বোধন করবেন না। কারণ, এতে পুরুষ উত্তেজিত হয়। সে অপমান বোধ করে। সে মনে করে, তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। তখন সে পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করে।
যেমন ধরুন, কোনোদিন আপনার স্বামীর বাসায় ফিরতে দেরি হলো। তখন আপনি তাকে 'তুমি কেন দেরি করলে' এভাবে না বলে বলুন, 'তোমার আসতে দেরি হওয়ায় আমি সেই কখন থেকে টেনশন করছি। তোমার কখনো দেরি হলে তুমি যদি একটা কল বা টেক্সট করে আমাকে জানিয়ে দাও...।'
• নিজেদের কোনো সমস্যা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করবেন না। এতে কিছুতেই সমস্যার সমাধান হবে না।
• সবসময় নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিরত থাকুন। যেমন, আপনি নিপীড়িত, এই সংসারে আপনি সুখী নন, আপনার কপাল মন্দ। বরং পজিটিভ চিন্তা করুন। আল্লাহ আপনাকে যেসব নেয়ামতের মধ্যে রেখেছেন, সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করুন।
• সংসারের যে কোনো সমস্যা নিয়ে আপনি সরাসরি আপনার স্বামীর সঙ্গে কথা বলুন। অন্য কারও সঙ্গে নয়। এমনকি আপনার পিত্রালয়ের কারও সঙ্গে কিংবা বান্ধবীদের সঙ্গেও নয়।
• নিরবে কষ্ট সহ্য না করে তা দূর করার চেষ্টা করুন। এমন কিছু করুন যা আপনার বিষাদে ভরা জীবনকে আনন্দময় করে তুলবে।
• সবসময় মনে রাখবেন আপনার স্বামী কোনো ফেরেশতা না। সে একজন সাধারণ মানুষ। ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তার মাঝে পূর্ণতা খুঁজতে যাবেন না।
এক মহিলা ছিল, যখনই সে স্বামীর সঙ্গে বের হতো, তাদের পাশ দিয়ে কোনো যুবতী নারী যাওয়ার সময় সে তার স্বামীকে তার দিকে তাকাতে নিষেধ করত। অথচ তার স্বামী একজন দীনদার চরিত্রবান মানুষ ছিলেন।
আত্মমর্যাদাবোধ ভালো। তবে এতটা নয়। এটা দাম্পত্য জীবনের জন্য কবরস্বরূপ।
দুনিয়াবিমুখ এক বুজুর্গ ছিল, তার স্ত্রী একদিন তাকে জিজ্ঞাসা করল, রাস্তায় কয়জন নারীকে দেখেছেন?
বুজুর্গ বললেন, আল্লাহর কসম, আমি শুধু আমার পায়ের দিকে তাকিয়েছিলাম।
দেখুন, স্বামী বুজুর্গ হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী তাকে এই প্রশ্ন করছে।
পরিশেষে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই বলছি, আল্লাহকে ভয় করুন।
এক আল্লাহর ওলি বলেন,
'মনের চিন্তা-ভাবনার ব্যাপারে যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তাকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভুল থেকে রক্ষা করেন।'
সুবহানাল্লাহ! বড় দামি কথা!

টিকাঃ
* হামাসাতুন ফি উয়ুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 এরপর সে আর কোনোদিন চোখ তুলে তাকায়নি

📄 এরপর সে আর কোনোদিন চোখ তুলে তাকায়নি


বিয়ের পর চার বছর হয়ে গেছে। এখনো কোনো সন্তান হয়নি। চারদিকে তাদের নিয়ে ফিসফাস শুরু হয়েছে।
কিন্তু দোষটা কার, এটা তারা দুজনের কেউ জানে না। একদিন তারা দুজন মিলে হাসাপাতালে গেল। ডাক্তার কিছু টেস্ট দিলেন। তারা টেস্টগুলো করালেন। রিপোর্ট আসল। স্বামী রিপোর্ট হাতে নিয়ে দেখল, সমস্যা তার স্ত্রীর, সে সম্পূর্ণ সুস্থ আছে। কিন্তু সে স্ত্রীকে বিষয়টি বললো না। তাকে বাইরে বসিয়ে রেখে ভেতরে গেলো। তারপর ডাক্তার সাহেবকে জিজ্ঞাসা করল, কী অবস্থা ডাক্তার সাহেব?
ডাক্তার সাহেব সমস্ত রিপোর্ট দেখে বললেন, 'আপনার স্ত্রী গর্ভধারণ করতে পারবে না।'
এ কথা শুনে তিনি ঘাবড়ালেন না। আলহামদুলিল্লাহ বললেন। সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা। তারপর তিনি বললেন, ডাক্তার সাহেব, আমি বাইরে গিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে আসছি। তবে আপনি তাকে বলবেন, সমস্যা আমার। তার না। এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ। সে ডাক্তার সাহেবকে খুব করে অনুরোধ করল। ডাক্তার সাহেব তার পীড়াপীড়িতে রাজি হলেন।
সে স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে এলো। ডাক্তার তাকে বললেন, আপনার স্বামী অক্ষম। আল্লাহ যদি না চান তাহলে তার ভালো হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
স্ত্রীর সামনে তার চোখে-মুখে কষ্টের ছাপ দেখা গেল। সে বাসায় এল। কয়েকদিন না যেতেই বিষয়টা সবাই জেনে গেল। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, সবাই।
এভাবে অনেক বছর কেটে গেল। তারা দুজনই সবর করে আছেন। স্ত্রী আর সইতে না পেরে একদিন বলেই বসল, দীর্ঘ নয় বছর আমি সহ্য করেছি। আর পারছি না। আমি ডিভোর্স চাই। আমি আবার বিয়ে করে সন্তানের মুখ দেখতে চাই।
তখন স্বামী বলল, এটা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা।
স্ত্রী তাকে লাস্ট ওয়ার্নিং দিল, আমি সর্বোচ্চ আর একটি বছর দেখব। এর মধ্যে যদি তুমি সুস্থ হতে পার তো আলহামদুলিল্লাহ। অন্যথায়...।
স্বামী বলল, ঠিক আছে। তুমি যা বলবে তাই হবে। সে আল্লাহ তায়ালার রহমতের ব্যাপারে খুব আশাবাদী ছিল।
এদিকে মানুষের চোখে তার স্ত্রী অনেক মহান বনে গেল। সবাই বলতে লাগল, দেখো, স্বামী অক্ষম। তারপরও সে এত বছর সবর করে তার সঙ্গে সংসার করে যাচ্ছে। এমন মহিয়সী নারী আজকাল খুব কম পাওয়া যায়।
এরপর অল্প কদিন না যেতেই স্ত্রীর কিডনীতে সমস্যা দেখা দিল। ধীরে ধীরে তার অবস্থার অবনতি হলো। একপর্যায়ে তার একটি কিডনী ড্যামেজ হয়ে গেল।
তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হল। কয়েকদিন পর তার স্বামী তাকে জানাল যে, সে কিডনীর খোঁজে একটু দেশের বাইরে যাচ্ছে।
বাইরে গিয়ে স্ত্রীকে ফোন দিল যে, সে কিডনীর সন্ধান পেয়েছে। একজন দাতা তার কিডনী দিতে রাজি হয়েছে।
অপারেশনের একদিন আগে কিডনী দাতা এলো।
স্বামী তখন স্ত্রীর কাছে আবার সফরে যাওয়ার অনুমতি চাইল। তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ আছে। সেগুলো শেষ করতে হবে।
তখন স্ত্রী বলল, কাল আমার অপারেশন, আর আজ আপনি আমাকে রেখে চলে যাচ্ছেন? আপনি কি কোনো স্বামী?
অপারেশন সাকসেসফুল হল। কয়েকদিন পর স্বামী ফিরে এলো। তাকে দেখতে কেমন অসুস্থ মনে হচ্ছে। দুর্বল হয়ে পড়েছে। কারণ, সেই তার স্ত্রীকে কিডনী দান করেছে। এর কয়েক মাস পর স্ত্রী তার সেই কাঙ্ক্ষিত সুসংবাদ লাভ করল। সে গর্ভধারণ করল। সবার মাঝে খুশি ছড়িয়ে পড়ল। তার সুস্থ সুন্দর একটি বাচ্চা হল।
একদিন স্বামী তার ডায়েরিটা টেবিলের উপর রেখে বাহিরে গিয়েছিল। ঘর গোছাতে গিয়ে সেটা স্ত্রীর নজরে পড়ল। সে হাতে নিয়ে ডায়েরিটা খুলল। তারপর পড়ে দেখল। তখন সে সব জানতে পারল। সে জানত না, মূলত সমস্যা তার ছিল। সে সন্তান জন্মদানে অক্ষম ছিল। তার স্বামীর আসলে কোনো সমস্যা ছিল না এবং কিডনীও তাকে অন্য কোনো লোক নয়, তার স্বামীই তাকে দান করেছে।
ডায়েরিটা বন্ধ করে সে অনেকক্ষণ কাঁদল। নিজের প্রতি তার ভীষণ লজ্জা হল। এরপর লজ্জায় সে আর কোনোদিন তার স্বামীর দিকে চোখ তুলে তাকায়নি। ১৮৩

টিকাঃ
* হামাসাতুন ফি উষুনি যাওযাইন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00