📄 চিরসাথী
পুরুষ মানুষ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হয় তখন, যখন দেখে সে কোনো কষ্ট পেলে তার স্ত্রী খুশি হয়। আর সে খুশি হলে তার স্ত্রী কষ্ট পায়। এটি তার মনে স্ত্রীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে এবং এ কারণে পরবর্তিতে এত বড় বড় সমস্যা সৃষ্টি হয়, যার সীমা-পরিসীমা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না।
একজন স্ত্রী শুধু তার স্বামীর শয্যাসঙ্গিনীই নন। বরং সে তার চিন্তা-ভাবনা, আবেগ-অনুভূতি, হাসি-কান্না, স্থিরতা-অস্থিরতা, সফলতা-ব্যর্থতা, সুখ-দুঃখ, সুস্থতা-অসুস্থতা, সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা, জয়-পরাজয়, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, সর্বাবস্থার সঙ্গিনী।
কতইনা সৌভাগ্যবতী সেই নারী, যে স্বামীর চোখের দিকে তাকিয়েই তার অবস্থা বুঝতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও তার অনুগামী করে নেয়। সে যে কোনো পরিস্থিতিতে তার পাশে থাকে, তাকে সহযোগিতা করে। কোনো কারণে স্বামীর মন খারাপ থাকলে সে তার স্বামীর কষ্টের বোঝা নিজ কাঁধে তুলে নেয় এবং তাকে মানসিক প্রশান্তি দান করে।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাণপ্রিয়া স্ত্রী বিবি খাদিজা হলেন নারীদের আদর্শ। তার নিম্নোক্ত ঘটনাটি পড়লেই আমরা তা বুঝতে পারবে।
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সর্বপ্রথম ওহি নাযিল হলো। ভয়ে তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। কাঁপতে কাঁপতে ঘরে ফিরলেন। খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, আমাকে চাদরাবৃত কর, চাদরাবৃত কর। খাদিজা, আমার কী হল? তারপর তিনি তাকে সব বর্ণনা করলেন এবং বললেন, আমি আমার নিজের ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করছি। তখন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে বললেন, কখনো নয়। আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহ তায়ালা কখনো আপনাকে অপদস্থ করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন। সত্য কথা বলেন। মেহমানকে আপ্যায়ন করেন। সত্যের পথে বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করেন। ১১৬৮
এর চেয়ে অভয় ও সান্ত্বনাবাণী আর কী হতে পারে?
এ কারনেই খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা জান্নাতি নারী হতে পেরেছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করেছিলেন এবং তার যাবতীয় কষ্টের ভার লাঘব করেছিলেন।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আমাকে আদেশ করা হয়েছে, খাদিজাকে (জান্নাতে) মণিমুক্তা দ্বারা নির্মিত ঘরের সুসংবাদ দিতে। যেখানে কোনো হৈচৈ নেই, দুঃখ কষ্ট নেই।' ১৬৯
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্মৃতি মনে গেঁথে রেখেছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় আজীবন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর প্রায়ই তার কথা স্মরণ করতেন।
সাইয়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজাকে অধিক স্মরণ করার কারণে আমি খাদিজাকে এত ঈর্ষা করতাম, যতটুকু ঈর্ষা আমি নবিজির অন্য কোনো স্ত্রীকে করিনি। অথচ আমি খাদিজাকে কখনো দেখিনি।
খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার ইন্তেকালের তিন বছর পর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করেছিলেন। তার জীবদ্দশায় তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করেননি।
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথা স্মরণ করলে আমি বললাম, লাল মাড়ি বিশিষ্টা এক বৃদ্ধা নারীকে আপনি কেন এত স্মরণ করেন? আল্লাহ কি আপনাকে তার পরিবর্তে উত্তম কাউকে দেননি? তখন নবিজি বললেন, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ তায়ালা আমাকে তার পরিবর্তে উত্তম কাউকে দেননি। লোকেরা যখন আমাকে অস্বীকার করেছিল, তখন সে আমার প্রতি ঈমান এনেছিল। লোকেরা যখন আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তখন সে আমাকে বিশ্বাস করেছিল। লোকেরা যখন আমাকে বঞ্চিত করেছিল, তখন সে তার সমস্ত সম্পদ দিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা অন্য সকল স্ত্রীদের পরিবর্তে শুধু তার ঘরে আমাকে সন্তান দান করেছেন।' ১৭০
টিকাঃ
১৬৮ সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।
১৬৯ সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।
১৪০ সহিহ বুখারি।
📄 শাশুড়ি মায়েদের প্রতি
বউ শ্বাশুড়ির মাঝে যেসব কারণে সম্পর্ক নষ্ট হয় তন্মধ্যে বড় একটি কারণ হচ্ছে, বউয়ের সন্তান হতে দেরি হওয়া। নতুন মেহমানের আগমনি বার্তা আসতে দেরি হওয়া।
বউয়ের সন্তান হতে দেরি হলে শ্বাশুড়ির উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে তার কথার ধরণ পাল্টাতে থাকে। বউয়ের সঙ্গে তার ব্যবহার ক্রমশ অসহ্য থেকে অসহ্যতর হয়ে উঠতে থাকে। তিনি তখন এই বউকে তালাক দিয়ে আবার বিয়ে করার জন্য ছেলেকে চাপ দিতে থাকে।
এতে বাড়ির বউ খুব কষ্ট পায়। তার আবেগ-অনুভূতি মারাত্মকভাবে আহত হয়। সে তার শ্বাশুড়িকে ঘৃণা করতে শুরু করে। আর কেনই বা করবে না?
শ্বাশুড়ি যে তার জীবনটা নরকে পরিণত করেছে। সকাল-সন্ধ্যা সবসময় একই খোঁটা শুনতে শুনতে কে কদিন ধৈর্য ধরে রাখতে পারে বলুন।
একসময় স্বামী নিজেও তার মায়ের মতো খোঁটা দেওয়া শুরু করে। কটুবাক্য শোনাতে থাকে। যেন সন্তান না হওয়ার জন্য সে-ই একমাত্র দায়ী।
শ্বাশুড়ির উচিত পুত্রবধুর এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকা। এমন অনেক দম্পতি আছে, বিয়ের বহু বছর পর যাদের সন্তান হয়েছে। সন্তান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এমন নারীরও একসময় সন্তান হওয়ার অসংখ্য ঘটনা আছে।
এবার বউ-শ্বাশুড়ির মাঝে আরেকটি সমস্যার কথা বলি-
বউয়ের শুধু কন্যা সন্তান হয়। তাই শ্বাশুড়ি তাই তার প্রতি নাখোশ। প্রতিদিন তার মুখে একই জিকির, নাতি কবে হবে, নাতির মুখ তিনি কবে দেখবেন? তার বংশের বাতি কবে আসবে? তিনি নাতির নাম ঠিক করে রেখেছেন। নাতি হলে এই নাম রাখবেন ইত্যাদি।
অসহায় বেচারি তখন বুঝতে পারে না কী করবে? শ্বাশুড়ির কারণে এ বাড়িটি তার জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সে আল্লাহর দরবারে খুব কান্নাকাটি করে। এ ক্ষেত্রে তার তো কোনো হাত নেই। শুধু তার না, কারও কোনো হাত নেই। কারও কোনো ক্ষমতা নেই। একমাত্র আল্লাহর কুদরতই পারে এটা করতে। তিনি
যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন। যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। যাকে ইচ্ছা নিঃসন্তান রাখেন।
নাতির মুখ দেখার জন্য শ্বাশুড়ি তার ছেলেকে আবার বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকে।
এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়। যেমন- পুত্রবধু সংসারের ঠিকমতো দেখাশোনা করে না, সন্তানদের খেয়াল রাখে না, কিংবা নিজের প্রতি যত্ন নেয় না।
মা যখন দেখেন বিয়ের পর তার ছেলেটার যত্ন নেওয়ার, দেখাশোনা করার কেউ নেই, তখন তার কষ্ট লাগে। তিনি তখন এর জন্য তখন বউকে দোষারোপ করেন।
ঘরের কোন কাজ কে করবে এ নিয়েও অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি হয়। স্বামী যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রত্যেকের উপযোগী কাজ ঠিকভাবে বণ্টন করে দেয়, তাহলে আর এ সমস্যা হওয়ার কথা না।
অনেক সময় পুত্রবধূ সুন্দরী ও রূপবতী না হওয়ার কারণে শ্বাশুড়ি তাকে তার পুত্রের অযোগ্য মনে করতে থাকে। সে মনে করে, তার পুত্র আরও সুন্দর বউ পাওয়ার যোগ্য।
নিঃসন্দেহে চেহারার সৌন্দর্য সবকিছু নয়। উত্তম আখলাক, সুন্দর আচার-ব্যবহার, মাধুর্যপূর্ণ কথা, মিষ্টি হাসি-এসব দিয়ে চেহারার সৌন্দর্য ঢেকে দেওয়া যায়। বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যটাই মূল। তাই ইসলামে আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের প্রতি বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আর বউয়ের সৌন্দর্য নিয়ে শ্বাশুড়ির তো মাথা ব্যাথা করার কোনো কারণ নেই। কারণ তার ছেলে তাকে দেখেই বিয়ে করেছে। পছন্দ হয়েছে বলেই তাকে আল্লাহর কালেমা পড়ে গ্রহণ করেছে। তার সঙ্গে সংসার করছে। তার ছেলের চোখে যদি সে সুন্দর হয়, তাহলেই তো যথেষ্ট। মূল কথা হচ্ছে ছেলের খুশি। ছেলে খুশি থাকলে তারও খুশি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয় উল্টো। তিনি তা সহ্য করতে পারেন না।
সুন্দরী নারী বিয়ে করে চরম অশান্তিতে আছে এমন অসংখ্য পুরুষ এ সমাজে আছে।
সুতরাং পুত্রবধুকে সুন্দরী হতে হবে, এমনটা আবশ্যক নয়। ১৭১
টিকাঃ
১৭১ হামাসাতুন ফি উয়নি যাওযাইন: ১৫৬-১৫৭
📄 পুত্রবধূর মন কীভাবে জয় করবেন?
কথায় আছে, কোনো বউ মেয়ে হয় না, আর কোনো শ্বাশুড়ি মা হয় না। আসলেই কী তাই?
না। ব্যতিক্রমও আছে। কিছু শ্বাশুড়ি আসলেই 'মা' হন। মায়ের ভূমিকা পালন করেন।
পুত্রবধুকে নিজের কন্যার মতো মনে করুন। মমতার ডানা দিয়ে তার সমস্ত দোষ ঢেকে রাখুন। তার কোনো ক্ষতি চাওয়ার আগে ভাবুন, আপনি নিজেও একজন নারী। একজন নারী হয়ে আপনি আরেকজন নারীর ক্ষতি করতে পারেন না। তাছাড়া আপনি মা। নবি-রাসুলদের পরই আপনার মর্যাদা। আপনি শুধু আপনার ছেলের মা নন, আপনার পুত্রবধুরও মা। সে-ও আপনাকে মা বলে ডাকে। আপনার আরেক মেয়ে সে। সে আপনার সুকোমল স্নেহ চায়। মমতার পরশ চায়।
সুতরাং আপনি উত্তম আখলাকের পরিচয় দিন। বিচক্ষণতা ও সহনশীলতা প্রদর্শন করুন। সে কোনো কিছু না পারলে তাকে শেখার জন্য সময় দিন। তাকে আপনাদের সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন।
আপনার পরিবারের কেউ যেন তার সঙ্গে কোনো প্রকার খারাপ আচরণ না করে, সেজন্য সবাইকে কড়াভাবে সতর্ক করে দিন। বিশেষ করে আপনার মেয়েদের। তারা যেন তার পেছনে লেগে না থাকে। তার দোষ অন্বেষণ করে না বেড়ায়।
সে কোনো ভুল করে ফেললে আপনি তাকে কোমলভাবে নসিহত করুন। খুব ভালোভাবে জেনে রাখুন, আপনারা দুজন ভিন্ন দুটি সময়ের, ভিন্ন দুটি প্রজন্মের, ভিন্ন দুটি পরিবারের। তাই আপনাদের মাঝে রুচি ও স্বভাবগত ভিন্নতা থাকাটা স্বাভাবিক। এসব আপনি বুঝার চেষ্টা করুন। সে কেন আপনাদের পরিবারের একজন হয়ে উঠতে পারছে না, আপনি তা নিয়ে ভাবুন।
জায়নামাজে বসে একাগ্র মনে তার জন্য আল্লাহর কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করুন। আপনার নেক দুআ তার অনেক উপকারে আসবে।
📄 পুরুষের জীবনের সবচেয়ে মধুর জিনিস
জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেন, একজন পুরুষের জীবনের সবচেয়ে মধুর জিনিস হলো, ঘরে প্রবেশের সময় স্ত্রীর উষ্ণ ও নির্মল অভ্যর্থনা।
স্বামী যখন বাসায় ফিরে দেখে তার স্ত্রী তার অপেক্ষায় বসে আছে। আর সন্তানরা দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরছে, মুহূর্তেই তার সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। আনন্দে তার চোখ-মুখ চিকচিক করতে থাকে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে খুশি করার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে এমনভাবে সাক্ষাৎ করে যা সে পছন্দ করে, তাহলে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তাকে আনন্দিত করবেন।'১৭২
এবার এক মহিলা সাহাবির ঘটনা শোনো, আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রী উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘটনা, যা হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'আবু তালহার ঔরসজাত উম্মে সুলাইমের ছেলে মারা গেল। তিনি তার পরিবারের লোকদের বললেন, আবু তালহাকে তোমরা সংবাদটি দিও না, যতক্ষণ আমি না বলি। (তিনি চাচ্ছিলেন তার স্বামী আবু তালহা সফর থেকে ফিরে আসা মাত্রই দুঃসংবাদ শুনে তার মন যেন খারাপ হয়ে না যায়।)
তারপর আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন। উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহা তার সামনে খাবার উপস্থিত করলে তিনি রাতের খাবার খেলেন। তারপর উম্মে সুলাইম যথাসাধ্য সাজগোজ করলেন। আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সঙ্গে মিলিত হলেন। যখন উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহা দেখলেন যে, তিনি মিলনে পরিতৃপ্ত, তখন তাকে পুত্রমৃত্যুর সংবাদটি দিলেন। তবে দুঃসংবাদের সংবাদটি তিনি তাকে সরাসরি দিলেন না। এখানেও প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিলেন। স্বামীকে সম্বোধন করে বললেন, কেউ যদি কারও কাছে কোনো জিনিস
আমানত রেখে তারপর তা নিয়ে যায়, তবে তার কি তা রেখে দেওয়ার অধিকার আছে? আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, না। উন্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু আনহা তখন বললেন, তাহলে আপনি আপনার পুত্রের ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে সওয়াবের প্রত্যাশা করুন। আবু তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন রেগে গিয়ে বললেন, তুমি আমাকে আগে বলনি কেন? আর এখন আমি অপবিত্র অবস্থায় আছি। এখন তুমি আমাকে এই সংবাদটি দিলে?
তারপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে গেলেন। তাঁকে বিষয়টি জানালেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আবু তালহাকে বললেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের গত রাতের মাঝে বরকত দান করুন। '১৭৩
নবিজির দুআর বরকতে তাদের পরিবারে পরবর্তিতে দশজন সন্তান হয়েছিল। সুবহানাল্লাহ! এমন স্ত্রী কল্পনা করা যায়!
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহিলা সাহাবিগণ কত উত্তম দৃষ্টান্ত রেখে গিয়েছেন আমাদের জন্য। স্বামীর মানসিক প্রশান্তির প্রতি তারা কত গভীরভাবে খেয়াল রেখেছেন। সন্তান মারা যাওয়ার মুহূর্ত হচ্ছে একজন মায়ের জীবনে সবচেয়ে কষ্টের ও শোকের। অনেক মা তখন শোকের আতিশয্যে বারবার জ্ঞান হারাতে থাকেন। কয়েকজন মিলেও তাকে ঠিক রাখতে পারেন না। এমন কঠিন শোকের দিনেও স্বামী যেন কষ্ট না পায় সেদিকে লক্ষ রেখেছেন। তাছাড়া সন্তান মৃত্যুর সংবাদটিও তিনি কত প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দিয়েছেন, যাতে আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকতে তার কষ্ট না হয়। তিনি ভেঙে না পড়েন।
এ কারণেই শত অভাব-অনটন সত্ত্বেও সাহাবায়ে কেরামের ঘরগুলো ছিল একেকটি জান্নাতের বাগান। স্বর্গোদ্যান। আর আমাদের ঘরগুলো...।
দুআ করি আমাদের নারীরাও যেন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার মতো হয়।
কিন্তু আমাদের নারীরা যেন এমন না হয়, যার স্বামী বাসায় ফেরা মাত্রই সে তার সামনে অভিযোগের বাক্স নিয়ে আসে। সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কাজের মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাজার-ঘাট নিয়ে অভিযোগ। শুধু অভিযোগ আর অভিযোগ। বাসায় ফেরা মাত্রই এতসব অভিযোগ স্বামীর উপর খারাপ প্রভাব ফেলে।
টিকাঃ
১৪২ তাবারানি।
১৭০ সহিহ মুসলিম: ৬১০০।