📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্বামীর হক

📄 স্বামীর হক


একজন স্ত্রীর উপর স্বামীর হকগুলো হচ্ছে,
♥ সবসময় তার মন জয় করার চেষ্টা করা।
♥ শরিয়তসম্মত সমস্ত কাজে তার অনুগত থাকা। অবাধ্য না হওয়া।
♥ নিজের ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করা।
♥ অতিরিক্ত ভরণ-পোষণ দাবি না করা।
♥ তার অনুমতি ছাড়া কাউকে ঘরে প্রবেশ করতে না দেওয়া।
♥ তার অনুমতি ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া।
♥ সে বিছানায় ডাকলে শরয়ি কোনো ওযর না থাকলে আপত্তি না করা।
♥ তার পরিবারের সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
♥ তার পিতা-মাতাকে সম্মান করা।
♥ সন্তানদের উত্তমরূপে লালন-পালন করা।
♥ স্বামীকে আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত রাখা।
♥ পরপুরুষের সঙ্গে কথাবার্তা না বলা, মেলামেশা না করা।
♥ মানুষের কাছে তার বদনাম না করা।
♥ তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 প্রাণের চেয়ে প্রিয়

📄 প্রাণের চেয়ে প্রিয়


একজন স্ত্রীর কাছে আল্লাহ ও রাসুলের পর স্বামীই তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হওয়া উচিত। একজন স্বামীর কাছে আল্লাহ ও রাসুলের পর তার স্ত্রীই সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হওয়া উচিত।
সাহাবি হযরত আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এক বাহিনীর প্রধান করে যুদ্ধে প্রেরণ করলেন। সেই বাহিনীতে আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাও ছিলেন। ফিরে এসে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ কে? তিনি বললেন, আয়েশা। আমি বললাম, আমার উদ্দেশ্য পুরুষদের মধ্যে কে? তিনি বললেন, তার (আয়েশার) পিতা।'১৬৬
তাবেঈ কায়স বিন আবু হাজেম রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত,
'আবদুল্লাহ ইবনে রওয়াহা রাদিয়াল্লাহু আনহু কাঁদছিলেন। তখন তার স্ত্রীও কান্না শুরু করলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, কাঁদছ কেন? স্ত্রী বলল, আপনি কাঁদছেন, তাই আপনাকে দেখে কাঁদছি।'১৬৭

টিকাঃ
১৬৬ সহিহ বুখারি: ৪৯৫৩।
১৬৭ মুসতাদরাকে হাকেম: ৮৭৪৭।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 চিরসাথী

📄 চিরসাথী


পুরুষ মানুষ সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হয় তখন, যখন দেখে সে কোনো কষ্ট পেলে তার স্ত্রী খুশি হয়। আর সে খুশি হলে তার স্ত্রী কষ্ট পায়। এটি তার মনে স্ত্রীর প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে এবং এ কারণে পরবর্তিতে এত বড় বড় সমস্যা সৃষ্টি হয়, যার সীমা-পরিসীমা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না।
একজন স্ত্রী শুধু তার স্বামীর শয্যাসঙ্গিনীই নন। বরং সে তার চিন্তা-ভাবনা, আবেগ-অনুভূতি, হাসি-কান্না, স্থিরতা-অস্থিরতা, সফলতা-ব্যর্থতা, সুখ-দুঃখ, সুস্থতা-অসুস্থতা, সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা, জয়-পরাজয়, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, সর্বাবস্থার সঙ্গিনী।
কতইনা সৌভাগ্যবতী সেই নারী, যে স্বামীর চোখের দিকে তাকিয়েই তার অবস্থা বুঝতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে নিজেকেও তার অনুগামী করে নেয়। সে যে কোনো পরিস্থিতিতে তার পাশে থাকে, তাকে সহযোগিতা করে। কোনো কারণে স্বামীর মন খারাপ থাকলে সে তার স্বামীর কষ্টের বোঝা নিজ কাঁধে তুলে নেয় এবং তাকে মানসিক প্রশান্তি দান করে।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রাণপ্রিয়া স্ত্রী বিবি খাদিজা হলেন নারীদের আদর্শ। তার নিম্নোক্ত ঘটনাটি পড়লেই আমরা তা বুঝতে পারবে।
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সর্বপ্রথম ওহি নাযিল হলো। ভয়ে তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন। কাঁপতে কাঁপতে ঘরে ফিরলেন। খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, আমাকে চাদরাবৃত কর, চাদরাবৃত কর। খাদিজা, আমার কী হল? তারপর তিনি তাকে সব বর্ণনা করলেন এবং বললেন, আমি আমার নিজের ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করছি। তখন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে বললেন, কখনো নয়। আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহ তায়ালা কখনো আপনাকে অপদস্থ করবেন না। আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন। সত্য কথা বলেন। মেহমানকে আপ্যায়ন করেন। সত্যের পথে বিপদগ্রস্তদের সাহায্য করেন। ১১৬৮
এর চেয়ে অভয় ও সান্ত্বনাবাণী আর কী হতে পারে?
এ কারনেই খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহা জান্নাতি নারী হতে পেরেছিলেন। তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করেছিলেন এবং তার যাবতীয় কষ্টের ভার লাঘব করেছিলেন।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'আমাকে আদেশ করা হয়েছে, খাদিজাকে (জান্নাতে) মণিমুক্তা দ্বারা নির্মিত ঘরের সুসংবাদ দিতে। যেখানে কোনো হৈচৈ নেই, দুঃখ কষ্ট নেই।' ১৬৯
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্মৃতি মনে গেঁথে রেখেছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় আজীবন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর প্রায়ই তার কথা স্মরণ করতেন।
সাইয়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজাকে অধিক স্মরণ করার কারণে আমি খাদিজাকে এত ঈর্ষা করতাম, যতটুকু ঈর্ষা আমি নবিজির অন্য কোনো স্ত্রীকে করিনি। অথচ আমি খাদিজাকে কখনো দেখিনি।
খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার ইন্তেকালের তিন বছর পর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বিয়ে করেছিলেন। তার জীবদ্দশায় তিনি অন্য কাউকে বিয়ে করেননি।
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার কথা স্মরণ করলে আমি বললাম, লাল মাড়ি বিশিষ্টা এক বৃদ্ধা নারীকে আপনি কেন এত স্মরণ করেন? আল্লাহ কি আপনাকে তার পরিবর্তে উত্তম কাউকে দেননি? তখন নবিজি বললেন, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ তায়ালা আমাকে তার পরিবর্তে উত্তম কাউকে দেননি। লোকেরা যখন আমাকে অস্বীকার করেছিল, তখন সে আমার প্রতি ঈমান এনেছিল। লোকেরা যখন আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তখন সে আমাকে বিশ্বাস করেছিল। লোকেরা যখন আমাকে বঞ্চিত করেছিল, তখন সে তার সমস্ত সম্পদ দিয়ে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা অন্য সকল স্ত্রীদের পরিবর্তে শুধু তার ঘরে আমাকে সন্তান দান করেছেন।' ১৭০

টিকাঃ
১৬৮ সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।
১৬৯ সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম।
১৪০ সহিহ বুখারি।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 শাশুড়ি মায়েদের প্রতি

📄 শাশুড়ি মায়েদের প্রতি


বউ শ্বাশুড়ির মাঝে যেসব কারণে সম্পর্ক নষ্ট হয় তন্মধ্যে বড় একটি কারণ হচ্ছে, বউয়ের সন্তান হতে দেরি হওয়া। নতুন মেহমানের আগমনি বার্তা আসতে দেরি হওয়া।
বউয়ের সন্তান হতে দেরি হলে শ্বাশুড়ির উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে তার কথার ধরণ পাল্টাতে থাকে। বউয়ের সঙ্গে তার ব্যবহার ক্রমশ অসহ্য থেকে অসহ্যতর হয়ে উঠতে থাকে। তিনি তখন এই বউকে তালাক দিয়ে আবার বিয়ে করার জন্য ছেলেকে চাপ দিতে থাকে।
এতে বাড়ির বউ খুব কষ্ট পায়। তার আবেগ-অনুভূতি মারাত্মকভাবে আহত হয়। সে তার শ্বাশুড়িকে ঘৃণা করতে শুরু করে। আর কেনই বা করবে না?
শ্বাশুড়ি যে তার জীবনটা নরকে পরিণত করেছে। সকাল-সন্ধ্যা সবসময় একই খোঁটা শুনতে শুনতে কে কদিন ধৈর্য ধরে রাখতে পারে বলুন।
একসময় স্বামী নিজেও তার মায়ের মতো খোঁটা দেওয়া শুরু করে। কটুবাক্য শোনাতে থাকে। যেন সন্তান না হওয়ার জন্য সে-ই একমাত্র দায়ী।
শ্বাশুড়ির উচিত পুত্রবধুর এই কঠিন সময়ে তার পাশে থাকা। এমন অনেক দম্পতি আছে, বিয়ের বহু বছর পর যাদের সন্তান হয়েছে। সন্তান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এমন নারীরও একসময় সন্তান হওয়ার অসংখ্য ঘটনা আছে।
এবার বউ-শ্বাশুড়ির মাঝে আরেকটি সমস্যার কথা বলি-
বউয়ের শুধু কন্যা সন্তান হয়। তাই শ্বাশুড়ি তাই তার প্রতি নাখোশ। প্রতিদিন তার মুখে একই জিকির, নাতি কবে হবে, নাতির মুখ তিনি কবে দেখবেন? তার বংশের বাতি কবে আসবে? তিনি নাতির নাম ঠিক করে রেখেছেন। নাতি হলে এই নাম রাখবেন ইত্যাদি।
অসহায় বেচারি তখন বুঝতে পারে না কী করবে? শ্বাশুড়ির কারণে এ বাড়িটি তার জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সে আল্লাহর দরবারে খুব কান্নাকাটি করে। এ ক্ষেত্রে তার তো কোনো হাত নেই। শুধু তার না, কারও কোনো হাত নেই। কারও কোনো ক্ষমতা নেই। একমাত্র আল্লাহর কুদরতই পারে এটা করতে। তিনি
যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন। যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন। যাকে ইচ্ছা নিঃসন্তান রাখেন।
নাতির মুখ দেখার জন্য শ্বাশুড়ি তার ছেলেকে আবার বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকে।
এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়। যেমন- পুত্রবধু সংসারের ঠিকমতো দেখাশোনা করে না, সন্তানদের খেয়াল রাখে না, কিংবা নিজের প্রতি যত্ন নেয় না।
মা যখন দেখেন বিয়ের পর তার ছেলেটার যত্ন নেওয়ার, দেখাশোনা করার কেউ নেই, তখন তার কষ্ট লাগে। তিনি তখন এর জন্য তখন বউকে দোষারোপ করেন।
ঘরের কোন কাজ কে করবে এ নিয়েও অনেক সময় সমস্যার সৃষ্টি হয়। স্বামী যদি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রত্যেকের উপযোগী কাজ ঠিকভাবে বণ্টন করে দেয়, তাহলে আর এ সমস্যা হওয়ার কথা না।
অনেক সময় পুত্রবধূ সুন্দরী ও রূপবতী না হওয়ার কারণে শ্বাশুড়ি তাকে তার পুত্রের অযোগ্য মনে করতে থাকে। সে মনে করে, তার পুত্র আরও সুন্দর বউ পাওয়ার যোগ্য।
নিঃসন্দেহে চেহারার সৌন্দর্য সবকিছু নয়। উত্তম আখলাক, সুন্দর আচার-ব্যবহার, মাধুর্যপূর্ণ কথা, মিষ্টি হাসি-এসব দিয়ে চেহারার সৌন্দর্য ঢেকে দেওয়া যায়। বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যটাই মূল। তাই ইসলামে আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের প্রতি বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আর বউয়ের সৌন্দর্য নিয়ে শ্বাশুড়ির তো মাথা ব্যাথা করার কোনো কারণ নেই। কারণ তার ছেলে তাকে দেখেই বিয়ে করেছে। পছন্দ হয়েছে বলেই তাকে আল্লাহর কালেমা পড়ে গ্রহণ করেছে। তার সঙ্গে সংসার করছে। তার ছেলের চোখে যদি সে সুন্দর হয়, তাহলেই তো যথেষ্ট। মূল কথা হচ্ছে ছেলের খুশি। ছেলে খুশি থাকলে তারও খুশি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু হয় উল্টো। তিনি তা সহ্য করতে পারেন না।
সুন্দরী নারী বিয়ে করে চরম অশান্তিতে আছে এমন অসংখ্য পুরুষ এ সমাজে আছে।
সুতরাং পুত্রবধুকে সুন্দরী হতে হবে, এমনটা আবশ্যক নয়। ১৭১

টিকাঃ
১৭১ হামাসাতুন ফি উয়নি যাওযাইন: ১৫৬-১৫৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00