📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 নিজেদের কলহ-বিবাদ থেকে সন্তানদের দূরে রাখুন

📄 নিজেদের কলহ-বিবাদ থেকে সন্তানদের দূরে রাখুন


এমন অনেক পরিবার আছে, যেখানে সন্তানদের সকালের সূর্যের মিষ্টি আলোয়, পাখিদের মিষ্টি গানে ঘুম ভাঙে না। তাদের সেই সৌভাগ্য হয় না। তাদের ঘুম ভাঙে পিতা-মাতার কলহ-বিবাদের কর্কশ আওয়াজে। সে ঘুম থেকে উঠে দেখে তার পিতা-মাতা চিৎকার করছে। একে অপরকে দোষারোপ করছে। গালি দিচ্ছে। এটা সেটা ভাঙচুর করছে। বাসায় প্রলয়কাণ্ড বাঁধিয়ে তুলেছে।
সে তখন বুঝতে পারে না, এখন সে কার কাছে যাবে। কে তাকে কাছে টেনে নিবে। সে বিছানা থেকে নামতে ভয় পায়। অগত্যা বিছানায় শুয়েই কাঁদতে থাকে। তার দু'চোখের অশ্রুতে নদি বয়ে যেতে থাকে।
তখন হয় তার বাবা কিংবা তার মা এসে তাকে কাছে টেনে নেন। তারপর তার কাছে অন্য পক্ষের বদনাম করা শুরু করেন। বলে, দেখেছো তোমার বাবা কত খারাপ! কিংবা তোমার মা কত খারাপ! সকাল সকাল আমার সঙ্গে কেমন ঝগড়া করছে!
কোথায় তারা নিজেরা ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলবে, তা না। উল্টো সন্তানকেও এতে জড়াচ্ছে। তাকে নিজেদের যুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
এভাবে একসময় সন্তানের মন থেকে বাবা-মার প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থাবোধ উঠে যায়।
এমন দৃশ্য আমাদের সমাজের অসংখ্য পরিবারের।
এর চেয়েও অদ্ভূত ব্যাপার হচ্ছে, কোনো কোনো বাবা-মা আছেন, সন্তানদের সামনে ঝগড়া না করলে, একে অপরকে তুই-তুই করে কথা না বললে, গায়ে হাত না তুললে যেন তাদের তৃপ্তি মেটে না।
দাম্পত্য জীবনে সমস্যা থাকবেই। সমস্যা যেমন আছে তেমনি সমাধানও আছে। কিন্তু আমরা যদি সন্তানদের সামনে ঝগড়া করি, তাহলে তাদের উপরের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তারা আমাদের কাছ থেকে ঝগড়া করা শিখে এবং বড় হয়ে একসময় আমাদের সঙ্গেই ঝগড়া করা শুরু করে। আমাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা আমাদেরকেই ফিরিয়ে দেয়।
এভাবে অশান্ত পরিবেশে বেড়ে উঠতে উঠতে একসময় তারাও অশান্ত হয়ে যায়। তাদের স্বভাব-প্রকৃতিতে কঠোরতা চলে আসে। ভবিষ্যতে সে যখন তার সন্তানদের প্রতিপালন করতে যায়, তখন সে তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করে।
সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে, স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সন্তানের কাছে দোষী হিসেবে তুলে ধরা। অনেক সময় এমন হয়, ঝগড়া করার পর পুরুষ বাইরে চলে যায়। তখন সন্তানরা মাকে তাদের বাবা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। মা তাদের সামনে বাবার দোষ-ত্রুটিগুলো তুলে ধরেন। তাকে তাদের কাছে ছোট করেন। অনেক বাবাও এই কাজটি করেন।
সন্তানদের সামনে যেমন ঝগড়া করা যাবে না, তেমনি নিজেদের কোনো সমস্যার সমাধান নিয়েও আলোচনা করা যাবে না। তাদের কোনোভাবেই এসবে জড়ানো যাবে না। তাহলে মাঝেমাঝে কথা কাটাকাটির টুকটাক আওয়াজ তাদের কানে আসলেও তারা মনে করে নিবে, এগুলো স্বাভাবিক বিষয়। একটু-আধটু হয়ই। নিজেদের অজান্তেই তাদের মাঝে তখন সমাধানের মানসিকতা গড়ে উঠবে।
পিতা-মাতাকে অবশ্যই সন্তানদের সুস্থ সুন্দর পরিবেশে গড়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের স্মরণ রাখতে হবে সন্তানদের সামনে ঝগড়া তাদের ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করে। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রাসাদকে চূর্ণ করে।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 নারীরা যেসব পুরুষদের অপছন্দ করে

📄 নারীরা যেসব পুরুষদের অপছন্দ করে


১. বিয়েপ্রবণ। যে পুরুষ ঘন ঘন বিয়ে করে। বর্তমান স্ত্রীর কী অবস্থা হবে, আল্লাহর কাছে সে কী জবাব দিবে—এসব নিয়ে যার কোনো চিন্তা নেই।
২. সন্দেহপ্রবণ। যে স্ত্রীকে প্রতি পদে পদে সন্দেহ করে। তার এই রোগের কারণে একসময় সংসার ভেঙে যায়।
৩. অতিরিক্ত আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন।
৪. কৃপণ। স্ত্রী-সন্তানদের মৌলিক প্রয়োজনাদি পূরণ করে না। সে নিজে ভোগ করে না। কাউকে ভোগও করতে দেয় না। তার মাথায় শুধু ভবিষ্যৎ ভবিষ্যৎ। তার জীবনের সমস্ত উপার্জন ভবিষ্যতের জন্য, যে ভবিষ্যত সে কোনোদিন পাবে কিনা নিশ্চয়তা নেই।
৫. খোঁটা দানকারী।
৬. দুর্বল ব্যক্তিত্বের অধিকারী।
৭. সংসারের দায়িত্ব পালনে অক্ষম।
৮. ওয়াদা ভঙ্গকারী।
৯. মুনাফিক। যার ভেতরে একটা, আর বাহিরে আরেকটা। নিজেকে সে খুব ভালো, সৎ হিসেবে জাহির করে, অথচ সে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
১০. পরনিন্দাকারী, চোগলখোর। যে মানুষের মাঝে চোগলখোরী করে বেড়ায়। গীবত করে। মহিলাদের সঙ্গে বসে তাদের চোগলখোরী উপভোগ করে।
১১. অবহেলাকারী। যেমনি নিজের প্রতি তেমনি স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের প্রতি।
১২. দৃষ্টির খেয়ানতকারী। যে চুরি করে করে অন্য নারীদের দিকে তাকায়, তাদের পেছন পেছন হাঁটে। স্ত্রী পাশে বসা থাকা অবস্থায় যে পরনারীর দিকে দৃষ্টিপাত করে।
১৩. আত্মমর্যাদাহীন। সে জানে তার স্ত্রী ঘৃণ্য ও গর্হিত কর্মের সঙ্গে জড়িত। তারপরও সে তাকে কিছু বলে না।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 ভুল-ত্রুটি

📄 ভুল-ত্রুটি


প্রতিটি মানুষেরই দোষ-ত্রুটি আছে। ভুল-ভ্রান্তি আছে। নবি-রাসুলগণ ছাড়া কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে না। দোষ-ত্রুটি মুক্ত না।
আর আপনারা স্বামী-স্ত্রী দুজন!
আপনারা একে অপরের দিকে কতবার ভালোবাসা ভরা চোখে তাকিয়েছেন আর আলহামদুলিল্লাহ বলেছেন!
আল্লাহ তায়ালা আপনাদের চারটি হাতকে একত্রিত করেছেন। এখন আপনাদের কারও ছোট ছোট সমস্যা দেখা দিলে আপনারা কি একে অপরের সদাচার ও ভালো গুণগুলোর কথা ভুলে যাবেন? সঙ্গীর অবদানের কথা ভুলে তার দোষগুলোকে বড় করে দেখবেন?
দোষ-ত্রুটিগুলো ভুলে থাকার জন্য আপনারা বেশি বেশি পরস্পরের ভালো গুণগুলো আলোচনা করুন।
পুরুষকে বলছি-একটু নির্জনে একাকি বসুন। তারপর আপনার জীবনে আপনার স্ত্রীর অবদানের কথাগুলো চিন্তা করুন। সে কত শত বার আপনার অন্তরে সুখের দোলা দিয়েছে। সুখে-দুঃখে কীভাবে আপনার পাশে থেকেছে।
নারীকেও বলছি, আপনিও নির্জনে একটু একাকি বসুন, তারপর ভাবুন যে, আপনার স্বামীর আগমনে কত দিন আপনার ঘর আলোকিত হয়েছে! আপনি কত বার তার বাহুডোরে নিজেকে নিরাপদ ভেবেছেন। সে আপনার সন্তানদের পিতা। আপনাদের আরেকটু ভালো রাখার জন্য সারাদিন বাইরে সে কত কষ্ট করে!
শয়তানকে আপনাদের মনে কুমন্ত্রণা দেওয়ার সুযোগ দিবেন না। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। আপনারা! জন দুজনার ভালো গুণগুলোর কথা, অবদানের কথা স্মরণ করুন। তারপর দুজন দুজনকে ক্ষমা করে দিন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَّا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
'তারা যেন ক্ষমা ও মার্জনা করে দেয়। তোমরা কি চাও না আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল ও চির দয়ালু।' ১৫২
আর মানুষ যখন কোনো গুনাহ করে তওবা করে, তখন সে এমন হয়ে যায়, যেন তার কোনো গুনাহই ছিল না। আল্লাহ তায়ালা তাকে এভাবে মাফ করে দেন।
আল্লাহ যদি মাফ করে দিতে পারেন, তাহলে আপনারা কেন পারবেন না। কেউ ভুল স্বীকার করে নিলে তাকে মাফ করে দেওয়াই তো মুমিনের সিফাত। মুত্তাকিদের গুণ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'ক্ষমা করলে আল্লাহ বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি বাড়িয়ে দেন।' ১৫৩

টিকাঃ
১৫২ সুরা নূর: ২২।
১৫৩ সহিহ মুসলিম : ২৫৮৮। সুনানে তিরমিযি: ২০২৯। মুসনাদে আহমাদ: ৭১৬৫, ৮৭৮২,৯৩৬০। মুয়াত্তা মালেক: ১৮৮৫। সুনানে দারেমি: ১৬৭৬।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 পুরুষরা সাধারণত কেন ভুল স্বীকার করে না?

📄 পুরুষরা সাধারণত কেন ভুল স্বীকার করে না?


অনেক মানুষ আছে, যারা এই চিন্তা নিয়ে বড় হয় যে, ভুল স্বীকার করা হচ্ছে এক প্রকার দুর্বলতা। তাই তারা কোনো ভুল করলে স্বীকার করে না। নিজেকে দুর্বল বলে প্রমাণ করতে চায় না। বরং তারা অহংকার করে। কলহ-বিবাদ করে। নিজের ভুলকে সঠিক বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করে।
বিভিন্নভাবে আমাদের মাঝে এই সমস্যাটি সৃষ্টি হয়। কারও মাঝে তার পরিবার থেকে সৃষ্টি হয়। সে তার বাবাকে কোনোদিন দেখেনি মায়ের কাছে ভুল স্বীকার করতে।
স্বামী-স্ত্রী যখন ঝগড়া করে, তখন তাদের সন্তানরাও বুঝতে পারে, কে দোষী আর কে নির্দোষ? কে জালেম আর কে মাজলুম?
বরং কখনো কখনো তারা দেখে, তার মা দোষী না হয়েও ঝগড়া এড়াতে দোষ স্বীকার করে নিচ্ছেন।
বাচ্চাদের মনে তখন প্রশ্ন জাগে, কেন আমার বাবা ভুল করে স্বীকার করেন না?
ধীরে ধীরে সে নিজে থেকেই একটা উত্তর তৈরি করে নেয়, তার মন-মগজে ঢুকে যায়, পুরুষরা ভুল স্বীকার করে না। এটা তাদের কাজ নয়। নারীদের কাজ। নারীরা ভুল স্বীকার করবে। পুরুষ নয়।
আপনার সন্তান যেন আপনাকে দেখে এমন শিক্ষা না পায়, সেজন্য আপনার মাঝে ভুল স্বীকারের মানসিকতা থাকতে হবে। এর মানে এটা নয় যে, আপনি স্ত্রীর সামনে লজ্জায় একেবারে ভেঙ্গে পড়বেন। হাতজোড় করে ক্ষমা চাইবেন। অনুনয়ের সুরে বলবেন, আমায় ক্ষমা করো জান!
• আপনাকে প্রথমে যেটা করতে হবে—সতর্ক থাকতে হবে। ক্ষমা চাইতে হয় এমন কোনো ভুল যেন আপনার দ্বারা না হয়।
সেজন্য কখনো রাগান্বিত হবেন না। রাগ করার মতো কখনো কিছু ঘটলেও সামান্য মাত্রায় রাগ করবেন। অতিমাত্রায় নয়। তাহলে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবেন। কারণ, রাগের সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য
হয়ে পড়ে। শয়তান তাকে বন্দি করে নেয়। তারপর তাকে দিয়ে এমন কাজ করায়, যার জন্য পরবর্তিতে তাকে অনুতপ্ত হতে হয়।
♥ দ্বিতীয় : পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত থাকবে, স্ত্রীর মন-মেজাজ যখন খারাপ থাকবে, তখন ক্ষমা না চাওয়া। বরং পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
♥ কোমলভাবে ক্ষমা চাওয়া। এমনভাবে ক্ষমা চাওয়া, যাতে স্ত্রীর মন খুশিতে ভরে উঠে।
♥ মুখে বলতে না পারলে হাদিয়া দিয়ে বোঝানো। এতে সে বুঝতে পারবে আপনি অনুতপ্ত। লজ্জিত।
♥ ক্ষমা চাইতে গিয়ে প্রথমে অন্য কোনো প্রসঙ্গ নিয়ে কোমলভাবে আলোচনা শুরু করলেন। তারপর আলোচনার শেষে গিয়ে বললেন, আসলে তুমি ঠিকই ছিলে।
♥ 'ভুলটা আমার ছিল' কিংবা 'সরি' কথাটা যদি এভাবে সরাসরি বলতে না পারেন, লজ্জা লাগে; তাহলে এভাবে বলুন, 'তোমার আসলে কোনো দোষ ছিল না। তুমি ঠিকই ছিলে।'
♥ টেক্সট করেও ক্ষমা চাইতে পারেন।
আর স্ত্রীর কর্তব্য হলো, স্বামী ক্ষমা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া। সবচেয়ে উত্তম হলো, স্বামীর ক্ষমা চাওয়ার অপেক্ষা না করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00