📄 গালি-গালাজ ও প্রহার না করা
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে মমতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ১"
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পুরুষদেরকে স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের আদেশ করে বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ 'তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে জীবন-যাপন করবে।'১০১
একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোক সম্পর্কে জানতে পারলেন যে, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। তখন তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।'১০২
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, মানুষের মধ্যে যার আখলাক সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে তার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম।'১০৩
যদি কখনো প্রহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অবশ্যই শরিয়তের নির্দেশনা মেনে করতে হবে। ইসলামি শরিয়ত প্রথমেই তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে। প্রথমে তার বিছানা আলাদা করতে বলেছে। এতেও কাজ না হলে প্রহার করতে। তবে মারাত্মক প্রহার নয়। শাসনের কাজ যতটুকুতে হয়ে যায়, ব্যস ততটুকুই। রাগের বশবর্তি হয়ে বেদম প্রহার কখনোই করা যাবে না।
এক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনা হলো, 'তারা যদি সুস্পষ্ট চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও এবং সামান্য প্রহার করো। মারাত্মক নয়।' ১৩৪
কাযি শুরাইহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমি কিছু লোককে দেখি, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। কিন্তু আমি যখন আমার স্ত্রী যয়নবকে প্রহার করতে যাই তখন আমার হাত অবশ হয়ে যায়। যয়নব হচ্ছে সূর্য। আর অন্যান্য নারীরা তারকা। সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তারকার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।'
টিকাঃ
১০০ সুরা রুম: ২১।
১০১ সুরা নিসা: ১৯।
১০২ সুনানে তিরমিযি: ৩৮৯৫, ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭।
১০৩ সুনানে আবু দাউদ: ১১৬২।
১৩৪ সুনানে তিরমিযি।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে মমতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ১"
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পুরুষদেরকে স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের আদেশ করে বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ 'তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে জীবন-যাপন করবে।'১০১
একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোক সম্পর্কে জানতে পারলেন যে, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। তখন তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।'১০২
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, মানুষের মধ্যে যার আখলাক সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে তার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম।'১০৩
যদি কখনো প্রহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অবশ্যই শরিয়তের নির্দেশনা মেনে করতে হবে। ইসলামি শরিয়ত প্রথমেই তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে। প্রথমে তার বিছানা আলাদা করতে বলেছে। এতেও কাজ না হলে প্রহার করতে। তবে মারাত্মক প্রহার নয়। শাসনের কাজ যতটুকুতে হয়ে যায়, ব্যস ততটুকুই। রাগের বশবর্তি হয়ে বেদম প্রহার কখনোই করা যাবে না।
এক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনা হলো, 'তারা যদি সুস্পষ্ট চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও এবং সামান্য প্রহার করো। মারাত্মক নয়।' ১৩৪
কাযি শুরাইহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমি কিছু লোককে দেখি, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। কিন্তু আমি যখন আমার স্ত্রী যয়নবকে প্রহার করতে যাই তখন আমার হাত অবশ হয়ে যায়। যয়নব হচ্ছে সূর্য। আর অন্যান্য নারীরা তারকা। সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তারকার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।'
টিকাঃ
১০০ সুরা রুম: ২১।
১০১ সুরা নিসা: ১৯।
১০২ সুনানে তিরমিযি: ৩৮৯৫, ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭।
১০৩ সুনানে আবু দাউদ: ১১৬২।
১৩৪ সুনানে তিরমিযি।
📄 স্ত্রীর ভরণপোষণের ব্যাপারে কৃপণতা না করা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ
'তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে সেই স্থানে বাস করতে দাও, যেখানে তোমরা নিজেরা বাস করো। তাদের সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না।' ১৩৫
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'স্ত্রীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো। আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছো। হাদিসের শেষাংশে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছেদের ব্যবস্থা করা তোমাদের উপর তাদের হক।' ১৩৬
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'কেউ পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার পোষ্যদের রিজিক নষ্ট করে।' ১৩৭
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'তুমি (তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য) যা কিছুই খরচ করবে, তার প্রতিদান অবশ্যই তোমাকে দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যেই লোকমা তুলে দাও (তারও প্রতিদান তোমাকে দেওয়া হবে)।' ১৩৮
পরিবারের পিছনে খরচ করা যদিও স্বামীর দায়িত্ব। কিন্তু এই হাদিস এবং আরও অন্যান্য সহিহ হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, তা প্রতিদানপূর্ণ সদকাও। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
'কোনো লোক যদি সওয়াবের প্রত্যাশায় তার পরিবারের পিছনে খরচ করে, তাহলে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ।'
সুতরাং বৈধ প্রয়োজনগুলো পূরণের ক্ষেত্রে কৃপণতা না করাই কাম্য। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ বৈধ কোনো কিছু চাইলে তিনি তা প্রদান করতেন।
একটি হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'সর্বোত্তম দিনার হচ্ছে, পুরুষ তার পরিবারের পেছনে যেটি ব্যয় করে।'
ইবনু আবিদ দুনিয়া কিতাবুল ইয়াল নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন, ইবনে আয়েশা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে, আইয়ুব আলাইহিস সালাম তার শাগরেদদের বলতেন, তোমরা তোমাদের সন্তান ও স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাদের এমন অভাবের হাতে ছেড়ে দেবে না যে, তারা মানুষের হাতের দিকে চেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, তার একটি ঝুড়ি ছিল। তিনি সেটি নিয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতেন। আর স্ত্রী ও পরিবারের জন্য ফলমূল ও প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ফিরতেন।
এভাবেই তারা পরিবার ও সন্তানদের ব্যাপারে উদারহস্ত ছিলেন। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবার ও ভরণপোষণের ব্যাপারে খরুচে ছিলেন।
টিকাঃ
১৩৫ সুরা তালাক: ৬।
১৩৬ সহিহ মুসলিম: ২৮৪০।
১৩৭ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
১৩৮ সহিহ বুখারি: ৩৯৩৬, ৪৪০৯।
* সহিহ বুখারি: ৪১৪১।
* সহিহ মুসলিম: ৯৯৪।
* ইমাম নাসাঈকৃত সুনানে কুবরা: ৯১৩৮।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ
'তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে সেই স্থানে বাস করতে দাও, যেখানে তোমরা নিজেরা বাস করো। তাদের সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না।' ১৩৫
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'স্ত্রীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো। আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছো। হাদিসের শেষাংশে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছেদের ব্যবস্থা করা তোমাদের উপর তাদের হক।' ১৩৬
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'কেউ পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার পোষ্যদের রিজিক নষ্ট করে।' ১৩৭
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'তুমি (তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য) যা কিছুই খরচ করবে, তার প্রতিদান অবশ্যই তোমাকে দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যেই লোকমা তুলে দাও (তারও প্রতিদান তোমাকে দেওয়া হবে)।' ১৩৮
পরিবারের পিছনে খরচ করা যদিও স্বামীর দায়িত্ব। কিন্তু এই হাদিস এবং আরও অন্যান্য সহিহ হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, তা প্রতিদানপূর্ণ সদকাও। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
'কোনো লোক যদি সওয়াবের প্রত্যাশায় তার পরিবারের পিছনে খরচ করে, তাহলে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ।'
সুতরাং বৈধ প্রয়োজনগুলো পূরণের ক্ষেত্রে কৃপণতা না করাই কাম্য। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ বৈধ কোনো কিছু চাইলে তিনি তা প্রদান করতেন।
একটি হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'সর্বোত্তম দিনার হচ্ছে, পুরুষ তার পরিবারের পেছনে যেটি ব্যয় করে।'
ইবনু আবিদ দুনিয়া কিতাবুল ইয়াল নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন, ইবনে আয়েশা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে, আইয়ুব আলাইহিস সালাম তার শাগরেদদের বলতেন, তোমরা তোমাদের সন্তান ও স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাদের এমন অভাবের হাতে ছেড়ে দেবে না যে, তারা মানুষের হাতের দিকে চেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, তার একটি ঝুড়ি ছিল। তিনি সেটি নিয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতেন। আর স্ত্রী ও পরিবারের জন্য ফলমূল ও প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ফিরতেন।
এভাবেই তারা পরিবার ও সন্তানদের ব্যাপারে উদারহস্ত ছিলেন। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবার ও ভরণপোষণের ব্যাপারে খরুচে ছিলেন।
টিকাঃ
১৩৫ সুরা তালাক: ৬।
১৩৬ সহিহ মুসলিম: ২৮৪০।
১৩৭ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
১৩৮ সহিহ বুখারি: ৩৯৩৬, ৪৪০৯।
* সহিহ বুখারি: ৪১৪১।
* সহিহ মুসলিম: ৯৯৪।
* ইমাম নাসাঈকৃত সুনানে কুবরা: ৯১৩৮।
📄 একটি মারাত্মক গুনাহ : স্ত্রীকে বেদম প্রহার
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ
'আর স্ত্রীদেরও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের প্রতি (স্বামীদের) অধিকার রয়েছে।'১৪১
অর্থাৎ স্ত্রীরও অধিকার রয়েছে পুরুষ তার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবে। তার সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাকে উত্তম সঙ্গ দান করবে। পবিত্র কুরআন আমাদেরকে এমন নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মুআবিয়া বিন হায়দার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
'এক ব্যক্তি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, স্বামীর উপর স্ত্রীর কী অধিকার রয়েছে? তিনি বলেন, স্বামী আহার করলে স্ত্রীকেও একই মানের আহার করাবে, স্বামী পরিধান করলে স্ত্রীকেও একই মানের পোশাক পরিধান করাবে। কখনও তার মুখমণ্ডলে আঘাত করবে না। অশ্লীল গালমন্দ করবে না এবং নিজ বাড়ি ছাড়া অন্যত্র তাকে একাকি ছাড়বে না।'১৪২
ইসলাম অবাধ্য নারীকে প্রহারের বৈধতা দিলেও তার চেহারায় আঘাত করার বৈধতা দেয় না। চেহারায় আঘাত করতে নিষেধ করে। অনেক সময় স্ত্রীর অবাধ্যচরণ এতটাই বেড়ে যায় যে, কোনো উপদেশ কিংবা তার সঙ্গে শয্যা ত্যাগেও সে সংশোধন হয় না। তখন প্রহারের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু প্রহার করলেও বেদম প্রহার করা যাবে না। এমনভাবে মারা যাবে না যে দেহের বিভিন্ন জায়গায় দাগ বসে যায়।
প্রথম কথা হলো তাকে প্রহারই করা যাবে না, অন্যান্য উপায়ে সংশোধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন লোকের ব্যাপারে আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন, যে স্ত্রীকে বেদম প্রহার করে আবার রাতে তার সঙ্গে সহবাস করে এবং এতে সে লজ্জাবোধ করে না।
বুখারি শরিফের হাদিস, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
'তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে তার স্ত্রীকে ক্রীতদাসের মতো প্রহার করে, কিন্তু ওই দিনের শেষেই সে আবার তার সঙ্গে এক বিছানায় মিলিত হয়।' ১৪৩
একজন পুরুষ পরিবারের অভিভাবক। শ্রদ্ধার পাত্র। তার পক্ষে কীভাবে সম্ভব স্ত্রীকে এভাবে প্রহার করা? তাকে গো পেটানো পিটিয়ে হাতের রস মেটানো? তাকে না-খাইয়ে না পরিয়ে অনাদরে রাখা। এটা মারাত্মক অপরাধ। কোনো জ্ঞানী ও সম্ভ্রান্ত লোক এমন কাজ করতে পারে না।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তার কোনো স্ত্রীকে প্রহার করেননি।
আম্মাজান হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন,
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো কিছুকে নিজ হাতে আঘাত করেননি। কোনো খাদেম বা কোনো নারীকেও কখনো প্রহার করেননি। অবশ্য আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গেলে ভিন্ন কথা।' ১৪৪
টিকাঃ
১৪১ সুরা বাকারা: ২২৮।
১৪২ সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫০।
১৪৩ সহিহ বুখারি: ৪৯৪২।
১৪৪ সুনানে তিরমিযি, শামায়েলে মুহাম্মাদিয়্যাহ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ
'আর স্ত্রীদেরও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের প্রতি (স্বামীদের) অধিকার রয়েছে।'১৪১
অর্থাৎ স্ত্রীরও অধিকার রয়েছে পুরুষ তার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবে। তার সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাকে উত্তম সঙ্গ দান করবে। পবিত্র কুরআন আমাদেরকে এমন নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মুআবিয়া বিন হায়দার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
'এক ব্যক্তি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, স্বামীর উপর স্ত্রীর কী অধিকার রয়েছে? তিনি বলেন, স্বামী আহার করলে স্ত্রীকেও একই মানের আহার করাবে, স্বামী পরিধান করলে স্ত্রীকেও একই মানের পোশাক পরিধান করাবে। কখনও তার মুখমণ্ডলে আঘাত করবে না। অশ্লীল গালমন্দ করবে না এবং নিজ বাড়ি ছাড়া অন্যত্র তাকে একাকি ছাড়বে না।'১৪২
ইসলাম অবাধ্য নারীকে প্রহারের বৈধতা দিলেও তার চেহারায় আঘাত করার বৈধতা দেয় না। চেহারায় আঘাত করতে নিষেধ করে। অনেক সময় স্ত্রীর অবাধ্যচরণ এতটাই বেড়ে যায় যে, কোনো উপদেশ কিংবা তার সঙ্গে শয্যা ত্যাগেও সে সংশোধন হয় না। তখন প্রহারের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু প্রহার করলেও বেদম প্রহার করা যাবে না। এমনভাবে মারা যাবে না যে দেহের বিভিন্ন জায়গায় দাগ বসে যায়।
প্রথম কথা হলো তাকে প্রহারই করা যাবে না, অন্যান্য উপায়ে সংশোধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন লোকের ব্যাপারে আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন, যে স্ত্রীকে বেদম প্রহার করে আবার রাতে তার সঙ্গে সহবাস করে এবং এতে সে লজ্জাবোধ করে না।
বুখারি শরিফের হাদিস, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
'তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে তার স্ত্রীকে ক্রীতদাসের মতো প্রহার করে, কিন্তু ওই দিনের শেষেই সে আবার তার সঙ্গে এক বিছানায় মিলিত হয়।' ১৪৩
একজন পুরুষ পরিবারের অভিভাবক। শ্রদ্ধার পাত্র। তার পক্ষে কীভাবে সম্ভব স্ত্রীকে এভাবে প্রহার করা? তাকে গো পেটানো পিটিয়ে হাতের রস মেটানো? তাকে না-খাইয়ে না পরিয়ে অনাদরে রাখা। এটা মারাত্মক অপরাধ। কোনো জ্ঞানী ও সম্ভ্রান্ত লোক এমন কাজ করতে পারে না।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তার কোনো স্ত্রীকে প্রহার করেননি।
আম্মাজান হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন,
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো কিছুকে নিজ হাতে আঘাত করেননি। কোনো খাদেম বা কোনো নারীকেও কখনো প্রহার করেননি। অবশ্য আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গেলে ভিন্ন কথা।' ১৪৪
টিকাঃ
১৪১ সুরা বাকারা: ২২৮।
১৪২ সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫০।
১৪৩ সহিহ বুখারি: ৪৯৪২।
১৪৪ সুনানে তিরমিযি, শামায়েলে মুহাম্মাদিয়্যাহ।
📄 আল্লাহর নাফরমানির বিষয়ে ছাড় না দেওয়া
এ বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার স্ত্রী-সন্তানরা যখন আল্লাহর হক আদায় করবে না, তখন আপনার হকও আদায় করবে না। আল্লাহর হকের ব্যাপারে যে যত্নবান নয়, স্বাভাবিকভাবেই সে বান্দার হকের ব্যাপারে যত্নবান থাকবে না। আর একজন অভিভাবক হিসেবে স্ত্রীর নাফরমানির গুনাহ আপনার উপর এসেও বর্তাবে। তাই তারা আল্লাহর হুকুমের খেলাফ কোনো কাজ করলে আপনার উচিত তাকে বাধা দেওয়া, বোঝানো, সতর্ক করা, শাসন করা আপনার অবশ্য কর্তব্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ. كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ.
'বনি ইসরাঈলের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে দাউদ ও মরিয়ম তনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা একারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে মন্দ কাজে নিষেধ করত না, যা তারা করত। তারা যা করত তা কতইনা মন্দ ছিল!' ১৪৫
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ.
'হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনদের সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হলো মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহ তায়ালা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তাদেরকে যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।' ১৪৬
সুরা নিসায় আল্লাহ তায়ালা বলেন,
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ
'পুরুষরা নারীর উপর কর্তৃত্বশীল, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং পুরুষরা তাদের অর্থ সম্পদ ব্যয় করে।' ১৪৭
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমরা অনেকেই আমাদের এই দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন, অসচেতন। স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাপারে আমরা আমাদের দ্বীনি গায়রাত তথা ধর্মীয় আত্মমর্যাদাবোধ বিসর্জন দিয়েছি। আমাদের পরিবারের নারীরা পর্দা প্রথাকে অবহেলা করছে। বেপর্দা হয়ে বাইরে বের হচ্ছে। কোনো মাহরাম ছাড়া শপিংয়ে যাচ্ছে। অনৈসলামিক জামা-কাপড় পড়ছে। পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলছে। ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ছবি ছাড়ছে। এগুলো আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। কিন্তু আমরা তাদের নিষেধ করছি না। তাদের সঙ্গে কঠোর হতে পারছি না। আমরা দুর্বল, অসহায়, নাদান হয়ে পড়ছি।
আমাদের সন্তানরা ঘরে বসে টিভি দেখছে, গান শুনছে, গেমস খেলছে। কিন্তু আমাদের কোনো বিকার নেই। যেন এগুলো হওয়ারই কথা ছিল। স্ত্রী-সন্তানদের কাছে আমাদের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। আল্লাহর ভয়ের চেয়ে স্ত্রী-সন্তানদের ভয় আমাদের বেশি গ্রাস করেছে। আল্লাহর অসন্তুষ্টির চেয়ে স্ত্রী-সন্তানদের অসন্তুষ্টি আমরা বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হোন এবং মানুষকেও তার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেন।'
এমতাবস্থায় স্ত্রী-সন্তান কেউ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে না। সে তখন সবসময় দুশ্চিন্তায় ভোগে।
আমরা যে দেখি, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিভিন্ন সময় পারস্পরিক কলহ ও দ্বন্ধ সৃষ্টি হয়, এর পেছনে মূলত কারণ আল্লাহর নাফরমানি। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ
'আর তোমাদের উপর যে বিপদ আপতিত হয় তা তোমাদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তায়ালা অনেক ক্ষমা করেন।১৪৮
পরিবারের কারও দ্বারা কোনো গুনাহ হলে শরিয়ত লঙ্ঘিত হলে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন আচরণ করতেন, একটি ঘটনার মাধ্যমে এখানে তা তুলে ধরছি।
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একবার আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন। তখন ঘরে একখানা পর্দা ঝুলানো ছিল। যাতে (প্রাণির) ছবি ছিল। তা দেখে নবিজির চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি পর্দাখানা হাতে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন। তারপর বললেন, কেয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে ওই সব লোকের যারা আল্লাহর সৃষ্টি সদৃশ্য ছবি অঙ্কন করে।
সুবহানাল্লাহ! অথচ আজ আমাদের মুসলমানদের ঘরে কত ছবি টাঙানো থাকে। শো-পিস নামের কত কত পুতুল ও মূর্তি থাকে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে ঘরে কোনো প্রাণির ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।১৪৯
আর স্পষ্ট কথা, যে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না সে ঘরে অবশ্যই শয়তান প্রবেশ করে। শয়তান সে ঘরকে নিজের বাসস্থান বানিয়ে নেয়। শয়তান যে ঘরকে বাসস্থান বানিয়ে নেয়, সে ঘরে অশান্তি, অকল্যাণ, কলহ-বিবাদ, পেরেশানি ও দুশ্চিন্তা ইত্যাদি বাড়তে থাকবে।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমাদের প্রত্যেকেই অভিভাবক। তোমাদের প্রত্যেককেই আপন অধিনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আর পুরুষ তার পরিবারের অভিভাবক। তাকে তার অধিনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।' ১৫০
নিম্নোক্ত হাদিসটি পড়ন, এখানে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও কঠিন কথা বলেছেন, 'কোনো বান্দা যখন এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, সে তার অধিনস্থদের ব্যাপারে খেয়ানতকারী ছিল, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন।'
ঘিরে টিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি ঢুকিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নাটক-মুভি দেখার সুযোগ করে দেওয়া কিংবা তারা এগুলো ঘরে নিয়ে আসলে কিছু না বলা, এগুলো তাদের সঙ্গে প্রতারনা নয়? খেয়ানত নয়? তাদের আখেরাত বরবাদ করে দেওয়া নয়? এগুলো যদি খেয়ানত না হয়, তাহলে খেয়ানত কোনটি? স্ত্রী-সন্তানরা কে কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে, কথা বলছে-এগুলো সম্পর্কে উদাসীন থাকা কি খেয়ানত নয়? এভাবে কি আমরা আমাদের উপর জান্নাতকে হারাম করছি না?
মহান সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, 'যেসব নারী শরীরে উল্কি অঙ্কন করে এবং যারা উল্কি অঙ্কন করায়, যেসব নারী ভ্রু উপড়ে দেয় এবং যারা ভ্রু উপড়াতে চায় এবং যেসব নারী (সৌন্দর্যের জন্য) সম্মুখের দাঁতের মধ্যে ফাঁক তৈরী করে ও যেসব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি সাধন করে, তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। ১৫১
বর্ণনাকারী বলেন, বনি আসাদ গোত্রের এক মহিলার নিকট হাদিসটি পৌঁছাল, যাকে উম্মে ইয়াকুব নামে ডাকা হয়। তিনি কুরআন পাঠ করছিলেন, অতঃপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে এ বিষয়ে আলোচনা করে বলেন, আমি নিশ্চিত যে, আপনার স্ত্রীর মাঝে এর কোনো একটি বিষয়
আছে। আমি গেলে ঠিকই দেখতে পাব। তিনি বললেন, তুমি যাও। দেখ, আছে কি না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রীর কাছে গেল। কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। তারপর সে তার নিকট ফিরে এসে বলল, কিছুই দেখতে পাইনি। তখন তিনি বললেন, যদি সে রকম কিছু হতো, তাহলে আমি তার সঙ্গে সহবাস করতাম না।
অর্থাৎ তার সঙ্গে থাকতাম না। বরং তাকে তালাক দিয়ে দিতাম এবং বিচ্ছিন্ন করে দিতাম।
আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরام এমনই কঠোর ছিলেন। স্ত্রী-সন্তানরা আল্লাহর কোনো নাফরমানী করবে, এটা তারা বরদাশত করতে পারতেন না।
টিকাঃ
১৪৫ সুরা মায়িদা: ৭৮-৭৯।
১৪৬ সুরা তাহরিম: ৬।
১৪৭ সুরা নিসা: ৩৪।
১৪৮ সুরা শুরা : ৩১
১৪৯ সহিহ বুখারি : ২১০৫।
১৫০ সহিহ বুখারি: ৭১৩৮।
১৫১ সহিহ বুখারি: ৪৮৮৬।
এ বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনার স্ত্রী-সন্তানরা যখন আল্লাহর হক আদায় করবে না, তখন আপনার হকও আদায় করবে না। আল্লাহর হকের ব্যাপারে যে যত্নবান নয়, স্বাভাবিকভাবেই সে বান্দার হকের ব্যাপারে যত্নবান থাকবে না। আর একজন অভিভাবক হিসেবে স্ত্রীর নাফরমানির গুনাহ আপনার উপর এসেও বর্তাবে। তাই তারা আল্লাহর হুকুমের খেলাফ কোনো কাজ করলে আপনার উচিত তাকে বাধা দেওয়া, বোঝানো, সতর্ক করা, শাসন করা আপনার অবশ্য কর্তব্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ. كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ.
'বনি ইসরাঈলের মধ্যে যারা কাফের তাদেরকে দাউদ ও মরিয়ম তনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা একারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমালঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে মন্দ কাজে নিষেধ করত না, যা তারা করত। তারা যা করত তা কতইনা মন্দ ছিল!' ১৪৫
আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ.
'হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনদের সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হলো মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহ তায়ালা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তাদেরকে যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।' ১৪৬
সুরা নিসায় আল্লাহ তায়ালা বলেন,
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ
'পুরুষরা নারীর উপর কর্তৃত্বশীল, এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের কতককে কতকের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং পুরুষরা তাদের অর্থ সম্পদ ব্যয় করে।' ১৪৭
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমরা অনেকেই আমাদের এই দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন, অসচেতন। স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাপারে আমরা আমাদের দ্বীনি গায়রাত তথা ধর্মীয় আত্মমর্যাদাবোধ বিসর্জন দিয়েছি। আমাদের পরিবারের নারীরা পর্দা প্রথাকে অবহেলা করছে। বেপর্দা হয়ে বাইরে বের হচ্ছে। কোনো মাহরাম ছাড়া শপিংয়ে যাচ্ছে। অনৈসলামিক জামা-কাপড় পড়ছে। পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলছে। ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের ছবি ছাড়ছে। এগুলো আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। কিন্তু আমরা তাদের নিষেধ করছি না। তাদের সঙ্গে কঠোর হতে পারছি না। আমরা দুর্বল, অসহায়, নাদান হয়ে পড়ছি।
আমাদের সন্তানরা ঘরে বসে টিভি দেখছে, গান শুনছে, গেমস খেলছে। কিন্তু আমাদের কোনো বিকার নেই। যেন এগুলো হওয়ারই কথা ছিল। স্ত্রী-সন্তানদের কাছে আমাদের নৈতিক পরাজয় ঘটেছে। আল্লাহর ভয়ের চেয়ে স্ত্রী-সন্তানদের ভয় আমাদের বেশি গ্রাস করেছে। আল্লাহর অসন্তুষ্টির চেয়ে স্ত্রী-সন্তানদের অসন্তুষ্টি আমরা বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে মানুষকে সন্তুষ্ট করার জন্য আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে, আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হোন এবং মানুষকেও তার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেন।'
এমতাবস্থায় স্ত্রী-সন্তান কেউ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে না। সে তখন সবসময় দুশ্চিন্তায় ভোগে।
আমরা যে দেখি, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিভিন্ন সময় পারস্পরিক কলহ ও দ্বন্ধ সৃষ্টি হয়, এর পেছনে মূলত কারণ আল্লাহর নাফরমানি। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ
'আর তোমাদের উপর যে বিপদ আপতিত হয় তা তোমাদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তায়ালা অনেক ক্ষমা করেন।১৪৮
পরিবারের কারও দ্বারা কোনো গুনাহ হলে শরিয়ত লঙ্ঘিত হলে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন আচরণ করতেন, একটি ঘটনার মাধ্যমে এখানে তা তুলে ধরছি।
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, একবার আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন। তখন ঘরে একখানা পর্দা ঝুলানো ছিল। যাতে (প্রাণির) ছবি ছিল। তা দেখে নবিজির চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি পর্দাখানা হাতে নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন। তারপর বললেন, কেয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে ওই সব লোকের যারা আল্লাহর সৃষ্টি সদৃশ্য ছবি অঙ্কন করে।
সুবহানাল্লাহ! অথচ আজ আমাদের মুসলমানদের ঘরে কত ছবি টাঙানো থাকে। শো-পিস নামের কত কত পুতুল ও মূর্তি থাকে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে ঘরে কোনো প্রাণির ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।১৪৯
আর স্পষ্ট কথা, যে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না সে ঘরে অবশ্যই শয়তান প্রবেশ করে। শয়তান সে ঘরকে নিজের বাসস্থান বানিয়ে নেয়। শয়তান যে ঘরকে বাসস্থান বানিয়ে নেয়, সে ঘরে অশান্তি, অকল্যাণ, কলহ-বিবাদ, পেরেশানি ও দুশ্চিন্তা ইত্যাদি বাড়তে থাকবে।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমাদের প্রত্যেকেই অভিভাবক। তোমাদের প্রত্যেককেই আপন অধিনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আর পুরুষ তার পরিবারের অভিভাবক। তাকে তার অধিনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।' ১৫০
নিম্নোক্ত হাদিসটি পড়ন, এখানে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও কঠিন কথা বলেছেন, 'কোনো বান্দা যখন এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করে যে, সে তার অধিনস্থদের ব্যাপারে খেয়ানতকারী ছিল, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন।'
ঘিরে টিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি ঢুকিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নাটক-মুভি দেখার সুযোগ করে দেওয়া কিংবা তারা এগুলো ঘরে নিয়ে আসলে কিছু না বলা, এগুলো তাদের সঙ্গে প্রতারনা নয়? খেয়ানত নয়? তাদের আখেরাত বরবাদ করে দেওয়া নয়? এগুলো যদি খেয়ানত না হয়, তাহলে খেয়ানত কোনটি? স্ত্রী-সন্তানরা কে কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে, কথা বলছে-এগুলো সম্পর্কে উদাসীন থাকা কি খেয়ানত নয়? এভাবে কি আমরা আমাদের উপর জান্নাতকে হারাম করছি না?
মহান সাহাবি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, 'যেসব নারী শরীরে উল্কি অঙ্কন করে এবং যারা উল্কি অঙ্কন করায়, যেসব নারী ভ্রু উপড়ে দেয় এবং যারা ভ্রু উপড়াতে চায় এবং যেসব নারী (সৌন্দর্যের জন্য) সম্মুখের দাঁতের মধ্যে ফাঁক তৈরী করে ও যেসব নারী আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি সাধন করে, তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। ১৫১
বর্ণনাকারী বলেন, বনি আসাদ গোত্রের এক মহিলার নিকট হাদিসটি পৌঁছাল, যাকে উম্মে ইয়াকুব নামে ডাকা হয়। তিনি কুরআন পাঠ করছিলেন, অতঃপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে এ বিষয়ে আলোচনা করে বলেন, আমি নিশ্চিত যে, আপনার স্ত্রীর মাঝে এর কোনো একটি বিষয়
আছে। আমি গেলে ঠিকই দেখতে পাব। তিনি বললেন, তুমি যাও। দেখ, আছে কি না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর স্ত্রীর কাছে গেল। কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। তারপর সে তার নিকট ফিরে এসে বলল, কিছুই দেখতে পাইনি। তখন তিনি বললেন, যদি সে রকম কিছু হতো, তাহলে আমি তার সঙ্গে সহবাস করতাম না।
অর্থাৎ তার সঙ্গে থাকতাম না। বরং তাকে তালাক দিয়ে দিতাম এবং বিচ্ছিন্ন করে দিতাম।
আল্লাহর হুকুমের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরام এমনই কঠোর ছিলেন। স্ত্রী-সন্তানরা আল্লাহর কোনো নাফরমানী করবে, এটা তারা বরদাশত করতে পারতেন না।
টিকাঃ
১৪৫ সুরা মায়িদা: ৭৮-৭৯।
১৪৬ সুরা তাহরিম: ৬।
১৪৭ সুরা নিসা: ৩৪।
১৪৮ সুরা শুরা : ৩১
১৪৯ সহিহ বুখারি : ২১০৫।
১৫০ সহিহ বুখারি: ৭১৩৮।
১৫১ সহিহ বুখারি: ৪৮৮৬।