📄 স্ত্রীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বলেন,
'আমি তোমার রাগ ও সন্তুষ্টি বুঝে নিতে পারি। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কীভাবে তা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তখন কসম খেলে বল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর কসম। আর রাগের সময় বল, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আল্লাহর কসম।' আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, 'আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি শুধু আপনার নামটি বর্জন করি।' ১২৯
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার স্বভাব-প্রকৃতি ও মেজাজের প্রতি কত সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতেন! কত গভীরভাবে তিনি তাকে বোঝার চেষ্টা করতেন। হাদিসটিতে দেখুন, তিনি তার কত সামান্য বিষয়ের প্রতি খেয়াল করেছেন।
সঙ্গীর স্বভাব-প্রকৃতি, মন-মানসিকতা, আবেগ-অনুভূতি ও রুচির প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখার দ্বারা পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যা তখন এড়িয়ে চলা যায়। এর মাধ্যমে স্বামী বুঝতে পারে, তার কোন কাজটি তার স্ত্রীর অপছন্দের। আর কোন কাজটি পছন্দের। এমনিভাবে স্ত্রীও বুঝতে পারে, তার স্বামী কী কী কারণে অসন্তুষ্ট হয়। রাগ করে। সে কখন কী চায়?
নারীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ স্বামী সবসময় স্ত্রীর এসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখে। তার ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করে। তাকে অধিক ভর্ৎসনা করা থেকে বিরত থাকে। তবে আল্লাহর হুকুমের খেলাফ কোনো কাজ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাকড়াও করে। তাকে তা থেকে নিবৃত রাখে।
টিকাঃ
১২৯ সহিহ বুখারি: ৫২২৮।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বলেন,
'আমি তোমার রাগ ও সন্তুষ্টি বুঝে নিতে পারি। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কীভাবে তা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তখন কসম খেলে বল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর কসম। আর রাগের সময় বল, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আল্লাহর কসম।' আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, 'আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি শুধু আপনার নামটি বর্জন করি।' ১২৯
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার স্বভাব-প্রকৃতি ও মেজাজের প্রতি কত সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতেন! কত গভীরভাবে তিনি তাকে বোঝার চেষ্টা করতেন। হাদিসটিতে দেখুন, তিনি তার কত সামান্য বিষয়ের প্রতি খেয়াল করেছেন।
সঙ্গীর স্বভাব-প্রকৃতি, মন-মানসিকতা, আবেগ-অনুভূতি ও রুচির প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখার দ্বারা পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যা তখন এড়িয়ে চলা যায়। এর মাধ্যমে স্বামী বুঝতে পারে, তার কোন কাজটি তার স্ত্রীর অপছন্দের। আর কোন কাজটি পছন্দের। এমনিভাবে স্ত্রীও বুঝতে পারে, তার স্বামী কী কী কারণে অসন্তুষ্ট হয়। রাগ করে। সে কখন কী চায়?
নারীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ স্বামী সবসময় স্ত্রীর এসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখে। তার ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করে। তাকে অধিক ভর্ৎসনা করা থেকে বিরত থাকে। তবে আল্লাহর হুকুমের খেলাফ কোনো কাজ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাকড়াও করে। তাকে তা থেকে নিবৃত রাখে।
টিকাঃ
১২৯ সহিহ বুখারি: ৫২২৮।
📄 গালি-গালাজ ও প্রহার না করা
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে মমতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ১"
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পুরুষদেরকে স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের আদেশ করে বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ 'তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে জীবন-যাপন করবে।'১০১
একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোক সম্পর্কে জানতে পারলেন যে, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। তখন তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।'১০২
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, মানুষের মধ্যে যার আখলাক সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে তার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম।'১০৩
যদি কখনো প্রহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অবশ্যই শরিয়তের নির্দেশনা মেনে করতে হবে। ইসলামি শরিয়ত প্রথমেই তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে। প্রথমে তার বিছানা আলাদা করতে বলেছে। এতেও কাজ না হলে প্রহার করতে। তবে মারাত্মক প্রহার নয়। শাসনের কাজ যতটুকুতে হয়ে যায়, ব্যস ততটুকুই। রাগের বশবর্তি হয়ে বেদম প্রহার কখনোই করা যাবে না।
এক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনা হলো, 'তারা যদি সুস্পষ্ট চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও এবং সামান্য প্রহার করো। মারাত্মক নয়।' ১৩৪
কাযি শুরাইহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমি কিছু লোককে দেখি, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। কিন্তু আমি যখন আমার স্ত্রী যয়নবকে প্রহার করতে যাই তখন আমার হাত অবশ হয়ে যায়। যয়নব হচ্ছে সূর্য। আর অন্যান্য নারীরা তারকা। সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তারকার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।'
টিকাঃ
১০০ সুরা রুম: ২১।
১০১ সুরা নিসা: ১৯।
১০২ সুনানে তিরমিযি: ৩৮৯৫, ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭।
১০৩ সুনানে আবু দাউদ: ১১৬২।
১৩৪ সুনানে তিরমিযি।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে মমতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ১"
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পুরুষদেরকে স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের আদেশ করে বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ 'তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে জীবন-যাপন করবে।'১০১
একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোক সম্পর্কে জানতে পারলেন যে, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। তখন তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।'১০২
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, মানুষের মধ্যে যার আখলাক সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে তার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম।'১০৩
যদি কখনো প্রহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অবশ্যই শরিয়তের নির্দেশনা মেনে করতে হবে। ইসলামি শরিয়ত প্রথমেই তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে। প্রথমে তার বিছানা আলাদা করতে বলেছে। এতেও কাজ না হলে প্রহার করতে। তবে মারাত্মক প্রহার নয়। শাসনের কাজ যতটুকুতে হয়ে যায়, ব্যস ততটুকুই। রাগের বশবর্তি হয়ে বেদম প্রহার কখনোই করা যাবে না।
এক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনা হলো, 'তারা যদি সুস্পষ্ট চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও এবং সামান্য প্রহার করো। মারাত্মক নয়।' ১৩৪
কাযি শুরাইহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমি কিছু লোককে দেখি, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। কিন্তু আমি যখন আমার স্ত্রী যয়নবকে প্রহার করতে যাই তখন আমার হাত অবশ হয়ে যায়। যয়নব হচ্ছে সূর্য। আর অন্যান্য নারীরা তারকা। সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তারকার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।'
টিকাঃ
১০০ সুরা রুম: ২১।
১০১ সুরা নিসা: ১৯।
১০২ সুনানে তিরমিযি: ৩৮৯৫, ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭।
১০৩ সুনানে আবু দাউদ: ১১৬২।
১৩৪ সুনানে তিরমিযি।
📄 স্ত্রীর ভরণপোষণের ব্যাপারে কৃপণতা না করা
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ
'তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে সেই স্থানে বাস করতে দাও, যেখানে তোমরা নিজেরা বাস করো। তাদের সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না।' ১৩৫
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'স্ত্রীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো। আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছো। হাদিসের শেষাংশে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছেদের ব্যবস্থা করা তোমাদের উপর তাদের হক।' ১৩৬
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'কেউ পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার পোষ্যদের রিজিক নষ্ট করে।' ১৩৭
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'তুমি (তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য) যা কিছুই খরচ করবে, তার প্রতিদান অবশ্যই তোমাকে দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যেই লোকমা তুলে দাও (তারও প্রতিদান তোমাকে দেওয়া হবে)।' ১৩৮
পরিবারের পিছনে খরচ করা যদিও স্বামীর দায়িত্ব। কিন্তু এই হাদিস এবং আরও অন্যান্য সহিহ হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, তা প্রতিদানপূর্ণ সদকাও। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
'কোনো লোক যদি সওয়াবের প্রত্যাশায় তার পরিবারের পিছনে খরচ করে, তাহলে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ।'
সুতরাং বৈধ প্রয়োজনগুলো পূরণের ক্ষেত্রে কৃপণতা না করাই কাম্য। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ বৈধ কোনো কিছু চাইলে তিনি তা প্রদান করতেন।
একটি হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'সর্বোত্তম দিনার হচ্ছে, পুরুষ তার পরিবারের পেছনে যেটি ব্যয় করে।'
ইবনু আবিদ দুনিয়া কিতাবুল ইয়াল নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন, ইবনে আয়েশা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে, আইয়ুব আলাইহিস সালাম তার শাগরেদদের বলতেন, তোমরা তোমাদের সন্তান ও স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাদের এমন অভাবের হাতে ছেড়ে দেবে না যে, তারা মানুষের হাতের দিকে চেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, তার একটি ঝুড়ি ছিল। তিনি সেটি নিয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতেন। আর স্ত্রী ও পরিবারের জন্য ফলমূল ও প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ফিরতেন।
এভাবেই তারা পরিবার ও সন্তানদের ব্যাপারে উদারহস্ত ছিলেন। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবার ও ভরণপোষণের ব্যাপারে খরুচে ছিলেন।
টিকাঃ
১৩৫ সুরা তালাক: ৬।
১৩৬ সহিহ মুসলিম: ২৮৪০।
১৩৭ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
১৩৮ সহিহ বুখারি: ৩৯৩৬, ৪৪০৯।
* সহিহ বুখারি: ৪১৪১।
* সহিহ মুসলিম: ৯৯৪।
* ইমাম নাসাঈকৃত সুনানে কুবরা: ৯১৩৮।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ
'তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে সেই স্থানে বাস করতে দাও, যেখানে তোমরা নিজেরা বাস করো। তাদের সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না।' ১৩৫
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'স্ত্রীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো। আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছো। হাদিসের শেষাংশে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছেদের ব্যবস্থা করা তোমাদের উপর তাদের হক।' ১৩৬
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'কেউ পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার পোষ্যদের রিজিক নষ্ট করে।' ১৩৭
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'তুমি (তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য) যা কিছুই খরচ করবে, তার প্রতিদান অবশ্যই তোমাকে দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যেই লোকমা তুলে দাও (তারও প্রতিদান তোমাকে দেওয়া হবে)।' ১৩৮
পরিবারের পিছনে খরচ করা যদিও স্বামীর দায়িত্ব। কিন্তু এই হাদিস এবং আরও অন্যান্য সহিহ হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, তা প্রতিদানপূর্ণ সদকাও। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
'কোনো লোক যদি সওয়াবের প্রত্যাশায় তার পরিবারের পিছনে খরচ করে, তাহলে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ।'
সুতরাং বৈধ প্রয়োজনগুলো পূরণের ক্ষেত্রে কৃপণতা না করাই কাম্য। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ বৈধ কোনো কিছু চাইলে তিনি তা প্রদান করতেন।
একটি হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'সর্বোত্তম দিনার হচ্ছে, পুরুষ তার পরিবারের পেছনে যেটি ব্যয় করে।'
ইবনু আবিদ দুনিয়া কিতাবুল ইয়াল নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন, ইবনে আয়েশা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে, আইয়ুব আলাইহিস সালাম তার শাগরেদদের বলতেন, তোমরা তোমাদের সন্তান ও স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাদের এমন অভাবের হাতে ছেড়ে দেবে না যে, তারা মানুষের হাতের দিকে চেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, তার একটি ঝুড়ি ছিল। তিনি সেটি নিয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতেন। আর স্ত্রী ও পরিবারের জন্য ফলমূল ও প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ফিরতেন।
এভাবেই তারা পরিবার ও সন্তানদের ব্যাপারে উদারহস্ত ছিলেন। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবার ও ভরণপোষণের ব্যাপারে খরুচে ছিলেন।
টিকাঃ
১৩৫ সুরা তালাক: ৬।
১৩৬ সহিহ মুসলিম: ২৮৪০।
১৩৭ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
১৩৮ সহিহ বুখারি: ৩৯৩৬, ৪৪০৯।
* সহিহ বুখারি: ৪১৪১।
* সহিহ মুসলিম: ৯৯৪।
* ইমাম নাসাঈকৃত সুনানে কুবরা: ৯১৩৮।
📄 একটি মারাত্মক গুনাহ : স্ত্রীকে বেদম প্রহার
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ
'আর স্ত্রীদেরও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের প্রতি (স্বামীদের) অধিকার রয়েছে।'১৪১
অর্থাৎ স্ত্রীরও অধিকার রয়েছে পুরুষ তার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবে। তার সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাকে উত্তম সঙ্গ দান করবে। পবিত্র কুরআন আমাদেরকে এমন নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মুআবিয়া বিন হায়দার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
'এক ব্যক্তি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, স্বামীর উপর স্ত্রীর কী অধিকার রয়েছে? তিনি বলেন, স্বামী আহার করলে স্ত্রীকেও একই মানের আহার করাবে, স্বামী পরিধান করলে স্ত্রীকেও একই মানের পোশাক পরিধান করাবে। কখনও তার মুখমণ্ডলে আঘাত করবে না। অশ্লীল গালমন্দ করবে না এবং নিজ বাড়ি ছাড়া অন্যত্র তাকে একাকি ছাড়বে না।'১৪২
ইসলাম অবাধ্য নারীকে প্রহারের বৈধতা দিলেও তার চেহারায় আঘাত করার বৈধতা দেয় না। চেহারায় আঘাত করতে নিষেধ করে। অনেক সময় স্ত্রীর অবাধ্যচরণ এতটাই বেড়ে যায় যে, কোনো উপদেশ কিংবা তার সঙ্গে শয্যা ত্যাগেও সে সংশোধন হয় না। তখন প্রহারের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু প্রহার করলেও বেদম প্রহার করা যাবে না। এমনভাবে মারা যাবে না যে দেহের বিভিন্ন জায়গায় দাগ বসে যায়।
প্রথম কথা হলো তাকে প্রহারই করা যাবে না, অন্যান্য উপায়ে সংশোধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন লোকের ব্যাপারে আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন, যে স্ত্রীকে বেদম প্রহার করে আবার রাতে তার সঙ্গে সহবাস করে এবং এতে সে লজ্জাবোধ করে না।
বুখারি শরিফের হাদিস, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
'তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে তার স্ত্রীকে ক্রীতদাসের মতো প্রহার করে, কিন্তু ওই দিনের শেষেই সে আবার তার সঙ্গে এক বিছানায় মিলিত হয়।' ১৪৩
একজন পুরুষ পরিবারের অভিভাবক। শ্রদ্ধার পাত্র। তার পক্ষে কীভাবে সম্ভব স্ত্রীকে এভাবে প্রহার করা? তাকে গো পেটানো পিটিয়ে হাতের রস মেটানো? তাকে না-খাইয়ে না পরিয়ে অনাদরে রাখা। এটা মারাত্মক অপরাধ। কোনো জ্ঞানী ও সম্ভ্রান্ত লোক এমন কাজ করতে পারে না।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তার কোনো স্ত্রীকে প্রহার করেননি।
আম্মাজান হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন,
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো কিছুকে নিজ হাতে আঘাত করেননি। কোনো খাদেম বা কোনো নারীকেও কখনো প্রহার করেননি। অবশ্য আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গেলে ভিন্ন কথা।' ১৪৪
টিকাঃ
১৪১ সুরা বাকারা: ২২৮।
১৪২ সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫০।
১৪৩ সহিহ বুখারি: ৪৯৪২।
১৪৪ সুনানে তিরমিযি, শামায়েলে মুহাম্মাদিয়্যাহ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ
'আর স্ত্রীদেরও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের প্রতি (স্বামীদের) অধিকার রয়েছে।'১৪১
অর্থাৎ স্ত্রীরও অধিকার রয়েছে পুরুষ তার সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করবে। তার সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাকে উত্তম সঙ্গ দান করবে। পবিত্র কুরআন আমাদেরকে এমন নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মুআবিয়া বিন হায়দার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
'এক ব্যক্তি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, স্বামীর উপর স্ত্রীর কী অধিকার রয়েছে? তিনি বলেন, স্বামী আহার করলে স্ত্রীকেও একই মানের আহার করাবে, স্বামী পরিধান করলে স্ত্রীকেও একই মানের পোশাক পরিধান করাবে। কখনও তার মুখমণ্ডলে আঘাত করবে না। অশ্লীল গালমন্দ করবে না এবং নিজ বাড়ি ছাড়া অন্যত্র তাকে একাকি ছাড়বে না।'১৪২
ইসলাম অবাধ্য নারীকে প্রহারের বৈধতা দিলেও তার চেহারায় আঘাত করার বৈধতা দেয় না। চেহারায় আঘাত করতে নিষেধ করে। অনেক সময় স্ত্রীর অবাধ্যচরণ এতটাই বেড়ে যায় যে, কোনো উপদেশ কিংবা তার সঙ্গে শয্যা ত্যাগেও সে সংশোধন হয় না। তখন প্রহারের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু প্রহার করলেও বেদম প্রহার করা যাবে না। এমনভাবে মারা যাবে না যে দেহের বিভিন্ন জায়গায় দাগ বসে যায়।
প্রথম কথা হলো তাকে প্রহারই করা যাবে না, অন্যান্য উপায়ে সংশোধনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন লোকের ব্যাপারে আশ্চর্য প্রকাশ করেছেন, যে স্ত্রীকে বেদম প্রহার করে আবার রাতে তার সঙ্গে সহবাস করে এবং এতে সে লজ্জাবোধ করে না।
বুখারি শরিফের হাদিস, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
'তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে তার স্ত্রীকে ক্রীতদাসের মতো প্রহার করে, কিন্তু ওই দিনের শেষেই সে আবার তার সঙ্গে এক বিছানায় মিলিত হয়।' ১৪৩
একজন পুরুষ পরিবারের অভিভাবক। শ্রদ্ধার পাত্র। তার পক্ষে কীভাবে সম্ভব স্ত্রীকে এভাবে প্রহার করা? তাকে গো পেটানো পিটিয়ে হাতের রস মেটানো? তাকে না-খাইয়ে না পরিয়ে অনাদরে রাখা। এটা মারাত্মক অপরাধ। কোনো জ্ঞানী ও সম্ভ্রান্ত লোক এমন কাজ করতে পারে না।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তার কোনো স্ত্রীকে প্রহার করেননি।
আম্মাজান হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন,
'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো কিছুকে নিজ হাতে আঘাত করেননি। কোনো খাদেম বা কোনো নারীকেও কখনো প্রহার করেননি। অবশ্য আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গেলে ভিন্ন কথা।' ১৪৪
টিকাঃ
১৪১ সুরা বাকারা: ২২৮।
১৪২ সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫০।
১৪৩ সহিহ বুখারি: ৪৯৪২।
১৪৪ সুনানে তিরমিযি, শামায়েলে মুহাম্মাদিয়্যাহ।