📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 ঘরোয়া কাজে স্ত্রীকে সহায়তা করা

📄 ঘরোয়া কাজে স্ত্রীকে সহায়তা করা


একজন পুরুষের উচিত স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতি লক্ষ রাখা। বিভিন্ন কাজে তাকে সহায়তা করা। তার প্রয়োজনগুলো পূরণ করে দেওয়া। ঘরের কাজে তাকে সহযোগিতা করা।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও স্ত্রীদের ঘরের কাজে হেল্প করতেন। নিজেই নিজের জুতা পরিষ্কার করতেন। কাপড়ে তালি লাগাতেন। ঘর ঝাড়ু দিতেন। কিন্তু যখন মুআযযিন আযান দিত। তখন যেন তিনি পরিবারের কাউকে চিনতেন না। আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন,
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে থেকে ঘরে এসে ঘরের লোকদের সেবা ও সহযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। নামাজের সময় হলে মসজিদে চলে যেতেন।' ১২৮
আমাদের একনজর নারীসত্তার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাকে পুরুষের চেয়ে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। সংসারে পুরুষের মতো তারও বিশ্রাম ও আরামের প্রয়োজন আছে। তাই পুরুষের উচিত স্ত্রীকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা। বাসায় যখন থাকবে তখন একের পর এক কাজের ফরমায়েশ না করে নিজেও কিছু কাজ করে দেওয়া কিংবা নিজের কাজ নিজে করে নেওয়া। সবকিছু তার জন্য রেখে না দেওয়া।

টিকাঃ
১২৮ সহিহ বুখারি : ৬৭৬।

একজন পুরুষের উচিত স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতি লক্ষ রাখা। বিভিন্ন কাজে তাকে সহায়তা করা। তার প্রয়োজনগুলো পূরণ করে দেওয়া। ঘরের কাজে তাকে সহযোগিতা করা।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও স্ত্রীদের ঘরের কাজে হেল্প করতেন। নিজেই নিজের জুতা পরিষ্কার করতেন। কাপড়ে তালি লাগাতেন। ঘর ঝাড়ু দিতেন। কিন্তু যখন মুআযযিন আযান দিত। তখন যেন তিনি পরিবারের কাউকে চিনতেন না। আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন,
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে থেকে ঘরে এসে ঘরের লোকদের সেবা ও সহযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। নামাজের সময় হলে মসজিদে চলে যেতেন।' ১২৮
আমাদের একনজর নারীসত্তার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাকে পুরুষের চেয়ে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। সংসারে পুরুষের মতো তারও বিশ্রাম ও আরামের প্রয়োজন আছে। তাই পুরুষের উচিত স্ত্রীকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা। বাসায় যখন থাকবে তখন একের পর এক কাজের ফরমায়েশ না করে নিজেও কিছু কাজ করে দেওয়া কিংবা নিজের কাজ নিজে করে নেওয়া। সবকিছু তার জন্য রেখে না দেওয়া।

টিকাঃ
১২৮ সহিহ বুখারি : ৬৭৬।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্ত্রীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখা

📄 স্ত্রীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখা


আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বলেন,
'আমি তোমার রাগ ও সন্তুষ্টি বুঝে নিতে পারি। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কীভাবে তা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তখন কসম খেলে বল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর কসম। আর রাগের সময় বল, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আল্লাহর কসম।' আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, 'আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি শুধু আপনার নামটি বর্জন করি।' ১২৯
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার স্বভাব-প্রকৃতি ও মেজাজের প্রতি কত সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতেন! কত গভীরভাবে তিনি তাকে বোঝার চেষ্টা করতেন। হাদিসটিতে দেখুন, তিনি তার কত সামান্য বিষয়ের প্রতি খেয়াল করেছেন।
সঙ্গীর স্বভাব-প্রকৃতি, মন-মানসিকতা, আবেগ-অনুভূতি ও রুচির প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখার দ্বারা পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যা তখন এড়িয়ে চলা যায়। এর মাধ্যমে স্বামী বুঝতে পারে, তার কোন কাজটি তার স্ত্রীর অপছন্দের। আর কোন কাজটি পছন্দের। এমনিভাবে স্ত্রীও বুঝতে পারে, তার স্বামী কী কী কারণে অসন্তুষ্ট হয়। রাগ করে। সে কখন কী চায়?
নারীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ স্বামী সবসময় স্ত্রীর এসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখে। তার ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করে। তাকে অধিক ভর্ৎসনা করা থেকে বিরত থাকে। তবে আল্লাহর হুকুমের খেলাফ কোনো কাজ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাকড়াও করে। তাকে তা থেকে নিবৃত রাখে।

টিকাঃ
১২৯ সহিহ বুখারি: ৫২২৮।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বলেন,
'আমি তোমার রাগ ও সন্তুষ্টি বুঝে নিতে পারি। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কীভাবে তা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তখন কসম খেলে বল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর কসম। আর রাগের সময় বল, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আল্লাহর কসম।' আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, 'আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি শুধু আপনার নামটি বর্জন করি।' ১২৯
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার স্বভাব-প্রকৃতি ও মেজাজের প্রতি কত সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতেন! কত গভীরভাবে তিনি তাকে বোঝার চেষ্টা করতেন। হাদিসটিতে দেখুন, তিনি তার কত সামান্য বিষয়ের প্রতি খেয়াল করেছেন।
সঙ্গীর স্বভাব-প্রকৃতি, মন-মানসিকতা, আবেগ-অনুভূতি ও রুচির প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখার দ্বারা পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যা তখন এড়িয়ে চলা যায়। এর মাধ্যমে স্বামী বুঝতে পারে, তার কোন কাজটি তার স্ত্রীর অপছন্দের। আর কোন কাজটি পছন্দের। এমনিভাবে স্ত্রীও বুঝতে পারে, তার স্বামী কী কী কারণে অসন্তুষ্ট হয়। রাগ করে। সে কখন কী চায়?
নারীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ স্বামী সবসময় স্ত্রীর এসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখে। তার ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করে। তাকে অধিক ভর্ৎসনা করা থেকে বিরত থাকে। তবে আল্লাহর হুকুমের খেলাফ কোনো কাজ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাকড়াও করে। তাকে তা থেকে নিবৃত রাখে।

টিকাঃ
১২৯ সহিহ বুখারি: ৫২২৮।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 গালি-গালাজ ও প্রহার না করা

📄 গালি-গালাজ ও প্রহার না করা


আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে মমতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ১"
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পুরুষদেরকে স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের আদেশ করে বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ 'তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে জীবন-যাপন করবে।'১০১
একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোক সম্পর্কে জানতে পারলেন যে, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। তখন তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।'১০২
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, মানুষের মধ্যে যার আখলাক সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে তার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম।'১০৩
যদি কখনো প্রহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অবশ্যই শরিয়তের নির্দেশনা মেনে করতে হবে। ইসলামি শরিয়ত প্রথমেই তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে। প্রথমে তার বিছানা আলাদা করতে বলেছে। এতেও কাজ না হলে প্রহার করতে। তবে মারাত্মক প্রহার নয়। শাসনের কাজ যতটুকুতে হয়ে যায়, ব্যস ততটুকুই। রাগের বশবর্তি হয়ে বেদম প্রহার কখনোই করা যাবে না।
এক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনা হলো, 'তারা যদি সুস্পষ্ট চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও এবং সামান্য প্রহার করো। মারাত্মক নয়।' ১৩৪
কাযি শুরাইহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমি কিছু লোককে দেখি, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। কিন্তু আমি যখন আমার স্ত্রী যয়নবকে প্রহার করতে যাই তখন আমার হাত অবশ হয়ে যায়। যয়নব হচ্ছে সূর্য। আর অন্যান্য নারীরা তারকা। সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তারকার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।'

টিকাঃ
১০০ সুরা রুম: ২১।
১০১ সুরা নিসা: ১৯।
১০২ সুনানে তিরমিযি: ৩৮৯৫, ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭।
১০৩ সুনানে আবু দাউদ: ১১৬২।
১৩৪ সুনানে তিরমিযি।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে মমতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ১"
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পুরুষদেরকে স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের আদেশ করে বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ 'তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে জীবন-যাপন করবে।'১০১
একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোক সম্পর্কে জানতে পারলেন যে, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। তখন তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।'১০২
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, মানুষের মধ্যে যার আখলাক সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে তার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম।'১০৩
যদি কখনো প্রহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অবশ্যই শরিয়তের নির্দেশনা মেনে করতে হবে। ইসলামি শরিয়ত প্রথমেই তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে। প্রথমে তার বিছানা আলাদা করতে বলেছে। এতেও কাজ না হলে প্রহার করতে। তবে মারাত্মক প্রহার নয়। শাসনের কাজ যতটুকুতে হয়ে যায়, ব্যস ততটুকুই। রাগের বশবর্তি হয়ে বেদম প্রহার কখনোই করা যাবে না।
এক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনা হলো, 'তারা যদি সুস্পষ্ট চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও এবং সামান্য প্রহার করো। মারাত্মক নয়।' ১৩৪
কাযি শুরাইহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমি কিছু লোককে দেখি, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। কিন্তু আমি যখন আমার স্ত্রী যয়নবকে প্রহার করতে যাই তখন আমার হাত অবশ হয়ে যায়। যয়নব হচ্ছে সূর্য। আর অন্যান্য নারীরা তারকা। সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তারকার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।'

টিকাঃ
১০০ সুরা রুম: ২১।
১০১ সুরা নিসা: ১৯।
১০২ সুনানে তিরমিযি: ৩৮৯৫, ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭।
১০৩ সুনানে আবু দাউদ: ১১৬২।
১৩৪ সুনানে তিরমিযি।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্ত্রীর ভরণপোষণের ব্যাপারে কৃপণতা না করা

📄 স্ত্রীর ভরণপোষণের ব্যাপারে কৃপণতা না করা


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ
'তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে সেই স্থানে বাস করতে দাও, যেখানে তোমরা নিজেরা বাস করো। তাদের সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না।' ১৩৫
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'স্ত্রীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো। আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছো। হাদিসের শেষাংশে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছেদের ব্যবস্থা করা তোমাদের উপর তাদের হক।' ১৩৬
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'কেউ পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার পোষ্যদের রিজিক নষ্ট করে।' ১৩৭
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'তুমি (তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য) যা কিছুই খরচ করবে, তার প্রতিদান অবশ্যই তোমাকে দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যেই লোকমা তুলে দাও (তারও প্রতিদান তোমাকে দেওয়া হবে)।' ১৩৮
পরিবারের পিছনে খরচ করা যদিও স্বামীর দায়িত্ব। কিন্তু এই হাদিস এবং আরও অন্যান্য সহিহ হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, তা প্রতিদানপূর্ণ সদকাও। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
'কোনো লোক যদি সওয়াবের প্রত্যাশায় তার পরিবারের পিছনে খরচ করে, তাহলে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ।'
সুতরাং বৈধ প্রয়োজনগুলো পূরণের ক্ষেত্রে কৃপণতা না করাই কাম্য। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ বৈধ কোনো কিছু চাইলে তিনি তা প্রদান করতেন।
একটি হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'সর্বোত্তম দিনার হচ্ছে, পুরুষ তার পরিবারের পেছনে যেটি ব্যয় করে।'
ইবনু আবিদ দুনিয়া কিতাবুল ইয়াল নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন, ইবনে আয়েশা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে, আইয়ুব আলাইহিস সালাম তার শাগরেদদের বলতেন, তোমরা তোমাদের সন্তান ও স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাদের এমন অভাবের হাতে ছেড়ে দেবে না যে, তারা মানুষের হাতের দিকে চেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, তার একটি ঝুড়ি ছিল। তিনি সেটি নিয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতেন। আর স্ত্রী ও পরিবারের জন্য ফলমূল ও প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ফিরতেন।
এভাবেই তারা পরিবার ও সন্তানদের ব্যাপারে উদারহস্ত ছিলেন। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবার ও ভরণপোষণের ব্যাপারে খরুচে ছিলেন।

টিকাঃ
১৩৫ সুরা তালাক: ৬।
১৩৬ সহিহ মুসলিম: ২৮৪০।
১৩৭ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
১৩৮ সহিহ বুখারি: ৩৯৩৬, ৪৪০৯।
* সহিহ বুখারি: ৪১৪১।
* সহিহ মুসলিম: ৯৯৪।
* ইমাম নাসাঈকৃত সুনানে কুবরা: ৯১৩৮।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
أَسْكِنُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ سَكَنتُمْ مِنْ وُجْدِكُمْ وَلَا تُضَارُوهُنَّ لِتُضَيِّقُوا عَلَيْهِنَّ
'তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে সেই স্থানে বাস করতে দাও, যেখানে তোমরা নিজেরা বাস করো। তাদের সংকটে ফেলার জন্য কষ্ট দিও না।' ১৩৫
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'স্ত্রীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছো। আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছো। হাদিসের শেষাংশে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছেদের ব্যবস্থা করা তোমাদের উপর তাদের হক।' ১৩৬
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'কেউ পাপী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার পোষ্যদের রিজিক নষ্ট করে।' ১৩৭
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'তুমি (তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য) যা কিছুই খরচ করবে, তার প্রতিদান অবশ্যই তোমাকে দেওয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যেই লোকমা তুলে দাও (তারও প্রতিদান তোমাকে দেওয়া হবে)।' ১৩৮
পরিবারের পিছনে খরচ করা যদিও স্বামীর দায়িত্ব। কিন্তু এই হাদিস এবং আরও অন্যান্য সহিহ হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, তা প্রতিদানপূর্ণ সদকাও। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,
'কোনো লোক যদি সওয়াবের প্রত্যাশায় তার পরিবারের পিছনে খরচ করে, তাহলে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ।'
সুতরাং বৈধ প্রয়োজনগুলো পূরণের ক্ষেত্রে কৃপণতা না করাই কাম্য। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ বৈধ কোনো কিছু চাইলে তিনি তা প্রদান করতেন।
একটি হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'সর্বোত্তম দিনার হচ্ছে, পুরুষ তার পরিবারের পেছনে যেটি ব্যয় করে।'
ইবনু আবিদ দুনিয়া কিতাবুল ইয়াল নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেন, ইবনে আয়েশা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে, আইয়ুব আলাইহিস সালাম তার শাগরেদদের বলতেন, তোমরা তোমাদের সন্তান ও স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাদের এমন অভাবের হাতে ছেড়ে দেবে না যে, তারা মানুষের হাতের দিকে চেয়ে থাকে।
তিনি বলেন, তার একটি ঝুড়ি ছিল। তিনি সেটি নিয়ে প্রতিদিন বাজারে যেতেন। আর স্ত্রী ও পরিবারের জন্য ফলমূল ও প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ফিরতেন।
এভাবেই তারা পরিবার ও সন্তানদের ব্যাপারে উদারহস্ত ছিলেন। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবার ও ভরণপোষণের ব্যাপারে খরুচে ছিলেন।

টিকাঃ
১৩৫ সুরা তালাক: ৬।
১৩৬ সহিহ মুসলিম: ২৮৪০।
১৩৭ সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম।
১৩৮ সহিহ বুখারি: ৩৯৩৬, ৪৪০৯।
* সহিহ বুখারি: ৪১৪১।
* সহিহ মুসলিম: ৯৯৪।
* ইমাম নাসাঈকৃত সুনানে কুবরা: ৯১৩৮।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00