📄 একে অপরকে আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করা
দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আল্লাহর আনুগত্য ও তার ইবাদতে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সাহায্য করা। উদ্বুদ্ধ করা। আমরা সকলেই জানি যে, মানব জীবনের মুক্তি ও সফলতা একমাত্র আল্লাহর আনুগত্যের মাঝে নিহিত। আমাদের সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য তো তাঁর ইবাদত করা। তাঁর হক আদায়ের চেষ্টা করা। তিনি আমাদের যেসব নেয়ামত দান করেছেন, তাঁর ইবাদতের মাধ্যমে সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহর ইবাদতবিহীন একটি মুসলিম পরিবার কখনোই সফল ও কামিয়াব হতে পারে না। প্রকৃত মুসলিম পরিবার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।
স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্ব, পরস্পরকে বিভিন্ন ফরজ, ওয়াজিব ও নফল আমলসমূহ আদায়ে সাহায্য করা। এতে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন। দাম্পত্য জীবনে সজীবতা আসে। রহমত ও বরকত নাযিল হয়।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করছে, তাঁর হুকুম পালনে উদ্বুদ্ধ করছে, এমন দৃশ্য সত্যিই প্রশান্তি ও তৃপ্তিদায়ক। কত মধুর সে দৃশ্য! কত পবিত্র সে দাম্পত্য!
নবি জীবন থেকে এবার একটি উদাহরণ উপস্থাপন করা যাক, আম্মাজান জুওয়াইরিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত,
'নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ভোরবেলা ফজরের নামাজ আদায় করে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। সে সময় তিনি নামাজের স্থানে বসা ছিলেন। এরপর তিনি চাশতের পরে ফিরে আসলেন। তখনও তিনি নামাজের স্থানে বসা ছিলেন। নবিজি বললেন, যে অবস্থায় তোমাকে দেখে গিয়েছিলাম, তুমি দেখি সেই অবস্থায় আছ। তিনি বললেন, হাঁ। তখন নবিজি বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর চারটি কালিমা তিনবার পড়েছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা কিছু পড়েছো, এর সঙ্গে এই চারটি কালিমা ওজন করা হলে, কালিমা চারটিই ভারী হবে।'
কালিমাটি হলো,
'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, আদাদা খালকিহী ওয়া রিযা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহী, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ।'
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসার সঙ্গে তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার মাখলুকের সংখ্যার পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমপরিমাণ, তার আরশের ওযন পরিমাণ ও তার কালিমাসমূহের সংখ্যার পরিমাণ।১২২
হাদিসটি লক্ষ করুন। স্ত্রীকে দীনি তালিম প্রদানের ক্ষেত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটা আগ্রহী ছিলেন।
প্রিয় পাঠক! আপনার কাছে আমার একটি চাওয়া থাকবে—আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হলেও বসবেন, বসে তাকে দীন শেখাবেন, বিভিন্ন যিকির-আযকার, দুআ-দুরুদ শেখাবেন। আমলের ফাযায়েল সম্বলিত গ্রন্থ থেকে তালিম করবেন। তাকে প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। আপনার নিজের জানা থাকলে উত্তর দিবেন। জানা না থাকলে উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে জেনে তাকে জানাবেন। তাকে ফরজ, ওয়াজিব আদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য নফল আমলসমূহ আদায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সেগুলোর ফযিলত বর্ণনা করবেন।
বুখারি শরিফে বিতর অধ্যায়ে একটি পরিচ্ছেদ আছে এই শিরোনামে 'বিতরের জন্য নবিজি কর্তৃক তার স্ত্রীগণকে জাগিয়ে দেওয়া'।
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায় করতেন। আর আমি তখন তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। বিতর পড়ার সময় তিনি আমাকে জাগিয়ে দিতেন। তখন আমিও বিতর পড়তাম।'১২৩
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'আল্লাহ তায়ালা সেই লোকের প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে তুলে। সে যদি উঠতে না চায় তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা সেই নারীর প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয়। সে যদি উঠতে না চায়, তাহলে মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।'১২৪
এই হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, উভয়েরই দায়িত্ব। স্ত্রী কোনো আমলের কথা ভুলে গেলে স্বামী তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। আর স্বামী ভুলে গেলে স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। আমলটি করতে সহযোগিতা করবে। প্রত্যেকেরই দায়িত্ব অপরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। সহযোগিতা করা।
আবু সাঈদ খুদরি এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়। তারপর তারা উভয়ে মিলে একসঙ্গে দু'রাকাত নামাজ পড়ে। তখন তাদের নাম অধিক পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার জিকিরকারী ও জিকিরকারিণীদের খাতায় লেখা হয়।'১২৫
ঘরে নফল নামাজ আদায়ের বিশেষ ফযিলত রয়েছে। এতে ঘরে নূর আসে। হেদায়াতের নূর। ঈমানের নূর। রহমত ও বরকত নাযিল হয়। এ বিষয়ে আমরা অনেক উদাসীন। নামাজের প্রতি যাদের অধিক আগ্রহ থাকে, নামাজকে ভালোবাসে, তারাও অনেকে নফল আদায় করলে মসজিদে করে। অথচ সুন্নত হলো সুন্নত, নফল ও ওযিফা ইত্যাদি ঘরে বসে আদায় করা।
এ কারণে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
'ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হচ্ছে ঘরে আদায়কৃত নামাজ।'১২৬
কারণ? এতে পরিবারের অন্যান্যরা নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের উপর এর প্রভাব পড়ে। তারা নামাজের শিক্ষা নিয়ে বেড়ে উঠে।
রমজান মাসে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বসে ইফতার, এ দৃশ্য দেখতে যেমন বড় সুন্দর লাগে, তেমনি তাদের একসঙ্গে নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত করা, গরিব আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়া—এ দৃশ্যগুলোও বড় সুন্দর। কোমল। মনোরম। চিত্তস্পর্শী।
আমরা যদি এর উপর আমল করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমাদের দাম্পত্য জীবন আরও মধুর, সজীব ও প্রাণবন্ত হবে। আমাদের ঘরগুলো হবে একেকটি মিনি জান্নাত।
যারা আমল করেন, তারা অবশ্যই জানেন, এর কী অপার্থিব স্বাদ ও তৃপ্তি!
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةٌ طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'মুমিন নারী-কিংবা পুরুষ যে-ই নেক আমল করবে, অবশ্যই আমি তাকে উত্তম জীবন দান করব এবং তারা যে আমল করবে, তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান তাদের দান করব।' ১২৭
টিকাঃ
১২২ সহিহ মুসলিম: ৬৮০৬।
১২০ সহিহ বুখারি: ৫১২।
১২৪ সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৮।
১২৫ সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৯, ১৪৫১।
১২৬ সহিহ বুখারি: ৭৩১।
১২৭ সুরা নাহল: ৯৭।
দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আল্লাহর আনুগত্য ও তার ইবাদতে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সাহায্য করা। উদ্বুদ্ধ করা। আমরা সকলেই জানি যে, মানব জীবনের মুক্তি ও সফলতা একমাত্র আল্লাহর আনুগত্যের মাঝে নিহিত। আমাদের সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য তো তাঁর ইবাদত করা। তাঁর হক আদায়ের চেষ্টা করা। তিনি আমাদের যেসব নেয়ামত দান করেছেন, তাঁর ইবাদতের মাধ্যমে সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহর ইবাদতবিহীন একটি মুসলিম পরিবার কখনোই সফল ও কামিয়াব হতে পারে না। প্রকৃত মুসলিম পরিবার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।
স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্ব, পরস্পরকে বিভিন্ন ফরজ, ওয়াজিব ও নফল আমলসমূহ আদায়ে সাহায্য করা। এতে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন। দাম্পত্য জীবনে সজীবতা আসে। রহমত ও বরকত নাযিল হয়।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করছে, তাঁর হুকুম পালনে উদ্বুদ্ধ করছে, এমন দৃশ্য সত্যিই প্রশান্তি ও তৃপ্তিদায়ক। কত মধুর সে দৃশ্য! কত পবিত্র সে দাম্পত্য!
নবি জীবন থেকে এবার একটি উদাহরণ উপস্থাপন করা যাক, আম্মাজান জুওয়াইরিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত,
'নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ভোরবেলা ফজরের নামাজ আদায় করে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। সে সময় তিনি নামাজের স্থানে বসা ছিলেন। এরপর তিনি চাশতের পরে ফিরে আসলেন। তখনও তিনি নামাজের স্থানে বসা ছিলেন। নবিজি বললেন, যে অবস্থায় তোমাকে দেখে গিয়েছিলাম, তুমি দেখি সেই অবস্থায় আছ। তিনি বললেন, হাঁ। তখন নবিজি বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর চারটি কালিমা তিনবার পড়েছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা কিছু পড়েছো, এর সঙ্গে এই চারটি কালিমা ওজন করা হলে, কালিমা চারটিই ভারী হবে।'
কালিমাটি হলো,
'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, আদাদা খালকিহী ওয়া রিযা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহী, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ।'
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসার সঙ্গে তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার মাখলুকের সংখ্যার পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমপরিমাণ, তার আরশের ওযন পরিমাণ ও তার কালিমাসমূহের সংখ্যার পরিমাণ।১২২
হাদিসটি লক্ষ করুন। স্ত্রীকে দীনি তালিম প্রদানের ক্ষেত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটা আগ্রহী ছিলেন।
প্রিয় পাঠক! আপনার কাছে আমার একটি চাওয়া থাকবে—আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হলেও বসবেন, বসে তাকে দীন শেখাবেন, বিভিন্ন যিকির-আযকার, দুআ-দুরুদ শেখাবেন। আমলের ফাযায়েল সম্বলিত গ্রন্থ থেকে তালিম করবেন। তাকে প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। আপনার নিজের জানা থাকলে উত্তর দিবেন। জানা না থাকলে উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে জেনে তাকে জানাবেন। তাকে ফরজ, ওয়াজিব আদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য নফল আমলসমূহ আদায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সেগুলোর ফযিলত বর্ণনা করবেন।
বুখারি শরিফে বিতর অধ্যায়ে একটি পরিচ্ছেদ আছে এই শিরোনামে 'বিতরের জন্য নবিজি কর্তৃক তার স্ত্রীগণকে জাগিয়ে দেওয়া'।
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায় করতেন। আর আমি তখন তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। বিতর পড়ার সময় তিনি আমাকে জাগিয়ে দিতেন। তখন আমিও বিতর পড়তাম।'১২৩
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'আল্লাহ তায়ালা সেই লোকের প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে তুলে। সে যদি উঠতে না চায় তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা সেই নারীর প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয়। সে যদি উঠতে না চায়, তাহলে মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।'১২৪
এই হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, উভয়েরই দায়িত্ব। স্ত্রী কোনো আমলের কথা ভুলে গেলে স্বামী তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। আর স্বামী ভুলে গেলে স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। আমলটি করতে সহযোগিতা করবে। প্রত্যেকেরই দায়িত্ব অপরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। সহযোগিতা করা।
আবু সাঈদ খুদরি এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়। তারপর তারা উভয়ে মিলে একসঙ্গে দু'রাকাত নামাজ পড়ে। তখন তাদের নাম অধিক পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার জিকিরকারী ও জিকিরকারিণীদের খাতায় লেখা হয়।'১২৫
ঘরে নফল নামাজ আদায়ের বিশেষ ফযিলত রয়েছে। এতে ঘরে নূর আসে। হেদায়াতের নূর। ঈমানের নূর। রহমত ও বরকত নাযিল হয়। এ বিষয়ে আমরা অনেক উদাসীন। নামাজের প্রতি যাদের অধিক আগ্রহ থাকে, নামাজকে ভালোবাসে, তারাও অনেকে নফল আদায় করলে মসজিদে করে। অথচ সুন্নত হলো সুন্নত, নফল ও ওযিফা ইত্যাদি ঘরে বসে আদায় করা।
এ কারণে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
'ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হচ্ছে ঘরে আদায়কৃত নামাজ।'১২৬
কারণ? এতে পরিবারের অন্যান্যরা নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের উপর এর প্রভাব পড়ে। তারা নামাজের শিক্ষা নিয়ে বেড়ে উঠে।
রমজান মাসে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বসে ইফতার, এ দৃশ্য দেখতে যেমন বড় সুন্দর লাগে, তেমনি তাদের একসঙ্গে নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত করা, গরিব আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়া—এ দৃশ্যগুলোও বড় সুন্দর। কোমল। মনোরম। চিত্তস্পর্শী।
আমরা যদি এর উপর আমল করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমাদের দাম্পত্য জীবন আরও মধুর, সজীব ও প্রাণবন্ত হবে। আমাদের ঘরগুলো হবে একেকটি মিনি জান্নাত।
যারা আমল করেন, তারা অবশ্যই জানেন, এর কী অপার্থিব স্বাদ ও তৃপ্তি!
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةٌ طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'মুমিন নারী-কিংবা পুরুষ যে-ই নেক আমল করবে, অবশ্যই আমি তাকে উত্তম জীবন দান করব এবং তারা যে আমল করবে, তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান তাদের দান করব।' ১২৭
টিকাঃ
১২২ সহিহ মুসলিম: ৬৮০৬।
১২০ সহিহ বুখারি: ৫১২।
১২৪ সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৮।
১২৫ সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৯, ১৪৫১।
১২৬ সহিহ বুখারি: ৭৩১।
১২৭ সুরা নাহল: ৯৭।
📄 ঘরোয়া কাজে স্ত্রীকে সহায়তা করা
একজন পুরুষের উচিত স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতি লক্ষ রাখা। বিভিন্ন কাজে তাকে সহায়তা করা। তার প্রয়োজনগুলো পূরণ করে দেওয়া। ঘরের কাজে তাকে সহযোগিতা করা।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও স্ত্রীদের ঘরের কাজে হেল্প করতেন। নিজেই নিজের জুতা পরিষ্কার করতেন। কাপড়ে তালি লাগাতেন। ঘর ঝাড়ু দিতেন। কিন্তু যখন মুআযযিন আযান দিত। তখন যেন তিনি পরিবারের কাউকে চিনতেন না। আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন,
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে থেকে ঘরে এসে ঘরের লোকদের সেবা ও সহযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। নামাজের সময় হলে মসজিদে চলে যেতেন।' ১২৮
আমাদের একনজর নারীসত্তার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাকে পুরুষের চেয়ে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। সংসারে পুরুষের মতো তারও বিশ্রাম ও আরামের প্রয়োজন আছে। তাই পুরুষের উচিত স্ত্রীকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা। বাসায় যখন থাকবে তখন একের পর এক কাজের ফরমায়েশ না করে নিজেও কিছু কাজ করে দেওয়া কিংবা নিজের কাজ নিজে করে নেওয়া। সবকিছু তার জন্য রেখে না দেওয়া।
টিকাঃ
১২৮ সহিহ বুখারি : ৬৭৬।
একজন পুরুষের উচিত স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতি লক্ষ রাখা। বিভিন্ন কাজে তাকে সহায়তা করা। তার প্রয়োজনগুলো পূরণ করে দেওয়া। ঘরের কাজে তাকে সহযোগিতা করা।
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও স্ত্রীদের ঘরের কাজে হেল্প করতেন। নিজেই নিজের জুতা পরিষ্কার করতেন। কাপড়ে তালি লাগাতেন। ঘর ঝাড়ু দিতেন। কিন্তু যখন মুআযযিন আযান দিত। তখন যেন তিনি পরিবারের কাউকে চিনতেন না। আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন,
'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইরে থেকে ঘরে এসে ঘরের লোকদের সেবা ও সহযোগিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। নামাজের সময় হলে মসজিদে চলে যেতেন।' ১২৮
আমাদের একনজর নারীসত্তার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, তাকে পুরুষের চেয়ে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। সংসারে পুরুষের মতো তারও বিশ্রাম ও আরামের প্রয়োজন আছে। তাই পুরুষের উচিত স্ত্রীকে বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করা। বাসায় যখন থাকবে তখন একের পর এক কাজের ফরমায়েশ না করে নিজেও কিছু কাজ করে দেওয়া কিংবা নিজের কাজ নিজে করে নেওয়া। সবকিছু তার জন্য রেখে না দেওয়া।
টিকাঃ
১২৮ সহিহ বুখারি : ৬৭৬।
📄 স্ত্রীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখা
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বলেন,
'আমি তোমার রাগ ও সন্তুষ্টি বুঝে নিতে পারি। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কীভাবে তা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তখন কসম খেলে বল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর কসম। আর রাগের সময় বল, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আল্লাহর কসম।' আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, 'আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি শুধু আপনার নামটি বর্জন করি।' ১২৯
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার স্বভাব-প্রকৃতি ও মেজাজের প্রতি কত সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতেন! কত গভীরভাবে তিনি তাকে বোঝার চেষ্টা করতেন। হাদিসটিতে দেখুন, তিনি তার কত সামান্য বিষয়ের প্রতি খেয়াল করেছেন।
সঙ্গীর স্বভাব-প্রকৃতি, মন-মানসিকতা, আবেগ-অনুভূতি ও রুচির প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখার দ্বারা পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যা তখন এড়িয়ে চলা যায়। এর মাধ্যমে স্বামী বুঝতে পারে, তার কোন কাজটি তার স্ত্রীর অপছন্দের। আর কোন কাজটি পছন্দের। এমনিভাবে স্ত্রীও বুঝতে পারে, তার স্বামী কী কী কারণে অসন্তুষ্ট হয়। রাগ করে। সে কখন কী চায়?
নারীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ স্বামী সবসময় স্ত্রীর এসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখে। তার ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করে। তাকে অধিক ভর্ৎসনা করা থেকে বিরত থাকে। তবে আল্লাহর হুকুমের খেলাফ কোনো কাজ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাকড়াও করে। তাকে তা থেকে নিবৃত রাখে।
টিকাঃ
১২৯ সহিহ বুখারি: ৫২২৮।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাকে বলেন,
'আমি তোমার রাগ ও সন্তুষ্টি বুঝে নিতে পারি। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কীভাবে তা বুঝতে পারেন? তিনি বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক, তখন কসম খেলে বল, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহর কসম। আর রাগের সময় বল, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আল্লাহর কসম।' আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, 'আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি শুধু আপনার নামটি বর্জন করি।' ১২৯
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার স্বভাব-প্রকৃতি ও মেজাজের প্রতি কত সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতেন! কত গভীরভাবে তিনি তাকে বোঝার চেষ্টা করতেন। হাদিসটিতে দেখুন, তিনি তার কত সামান্য বিষয়ের প্রতি খেয়াল করেছেন।
সঙ্গীর স্বভাব-প্রকৃতি, মন-মানসিকতা, আবেগ-অনুভূতি ও রুচির প্রতি সূক্ষ্ম দৃষ্টি রাখার দ্বারা পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়। দাম্পত্য জীবনের অনেক সমস্যা তখন এড়িয়ে চলা যায়। এর মাধ্যমে স্বামী বুঝতে পারে, তার কোন কাজটি তার স্ত্রীর অপছন্দের। আর কোন কাজটি পছন্দের। এমনিভাবে স্ত্রীও বুঝতে পারে, তার স্বামী কী কী কারণে অসন্তুষ্ট হয়। রাগ করে। সে কখন কী চায়?
নারীর আবেগ-অনুভূতি, মন-মানসিকতা এবং পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ স্বামী সবসময় স্ত্রীর এসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখে। তার ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়ন করে। তাকে অধিক ভর্ৎসনা করা থেকে বিরত থাকে। তবে আল্লাহর হুকুমের খেলাফ কোনো কাজ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে পাকড়াও করে। তাকে তা থেকে নিবৃত রাখে।
টিকাঃ
১২৯ সহিহ বুখারি: ৫২২৮।
📄 গালি-গালাজ ও প্রহার না করা
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে মমতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ১"
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পুরুষদেরকে স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের আদেশ করে বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ 'তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে জীবন-যাপন করবে।'১০১
একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোক সম্পর্কে জানতে পারলেন যে, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। তখন তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।'১০২
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, মানুষের মধ্যে যার আখলাক সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে তার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম।'১০৩
যদি কখনো প্রহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অবশ্যই শরিয়তের নির্দেশনা মেনে করতে হবে। ইসলামি শরিয়ত প্রথমেই তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে। প্রথমে তার বিছানা আলাদা করতে বলেছে। এতেও কাজ না হলে প্রহার করতে। তবে মারাত্মক প্রহার নয়। শাসনের কাজ যতটুকুতে হয়ে যায়, ব্যস ততটুকুই। রাগের বশবর্তি হয়ে বেদম প্রহার কখনোই করা যাবে না।
এক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনা হলো, 'তারা যদি সুস্পষ্ট চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও এবং সামান্য প্রহার করো। মারাত্মক নয়।' ১৩৪
কাযি শুরাইহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমি কিছু লোককে দেখি, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। কিন্তু আমি যখন আমার স্ত্রী যয়নবকে প্রহার করতে যাই তখন আমার হাত অবশ হয়ে যায়। যয়নব হচ্ছে সূর্য। আর অন্যান্য নারীরা তারকা। সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তারকার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।'
টিকাঃ
১০০ সুরা রুম: ২১।
১০১ সুরা নিসা: ১৯।
১০২ সুনানে তিরমিযি: ৩৮৯৫, ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭।
১০৩ সুনানে আবু দাউদ: ১১৬২।
১৩৪ সুনানে তিরমিযি।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার এবং তিনি তোমাদের মাঝে মমতা ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় তাতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। ১"
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে পুরুষদেরকে স্ত্রীদের সঙ্গে উত্তম আচরণের আদেশ করে বলেন,
وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ 'তোমরা তাদের সঙ্গে সদাচরণের মাধ্যমে জীবন-যাপন করবে।'১০১
একবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোক সম্পর্কে জানতে পারলেন যে, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। তখন তিনি বললেন, 'তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীর নিকট সর্বোত্তম।'১০২
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, মানুষের মধ্যে যার আখলাক সর্বোত্তম। আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে যে তার স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম।'১০৩
যদি কখনো প্রহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে অবশ্যই শরিয়তের নির্দেশনা মেনে করতে হবে। ইসলামি শরিয়ত প্রথমেই তাকে প্রহার করতে নিষেধ করেছে। প্রথমে তার বিছানা আলাদা করতে বলেছে। এতেও কাজ না হলে প্রহার করতে। তবে মারাত্মক প্রহার নয়। শাসনের কাজ যতটুকুতে হয়ে যায়, ব্যস ততটুকুই। রাগের বশবর্তি হয়ে বেদম প্রহার কখনোই করা যাবে না।
এক্ষেত্রে হাদিসের নির্দেশনা হলো, 'তারা যদি সুস্পষ্ট চরিত্রহীনতায় লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও এবং সামান্য প্রহার করো। মারাত্মক নয়।' ১৩৪
কাযি শুরাইহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, 'আমি কিছু লোককে দেখি, তারা স্ত্রীদের প্রহার করে। কিন্তু আমি যখন আমার স্ত্রী যয়নবকে প্রহার করতে যাই তখন আমার হাত অবশ হয়ে যায়। যয়নব হচ্ছে সূর্য। আর অন্যান্য নারীরা তারকা। সূর্য যখন উদিত হয়, তখন তারকার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।'
টিকাঃ
১০০ সুরা রুম: ২১।
১০১ সুরা নিসা: ১৯।
১০২ সুনানে তিরমিযি: ৩৮৯৫, ইবনে মাজাহ: ১৯৭৭।
১০৩ সুনানে আবু দাউদ: ১১৬২।
১৩৪ সুনানে তিরমিযি।