📄 স্ত্রীর সঙ্গে কঠোর আচরণ না করা
যেহেতু নারীদের অনেক নায়ক তবিয়ত দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই তার উপর অধিক চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে, তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করতে থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। কারণ, তাদের পাঁজরের হাড্ডি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড্ডিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁকা হল উপরেরটি। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও তাহলে ভেঙে ফেলবে। আর যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় রেখে দিলে বাঁকাই থেকে যাবে। সুতরাং তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।'১১৬
সুতরাং যেটা অসম্ভব সেটা করতে যেও না। অর্থাৎ তাকে সম্পূর্ণরূপে সোজা করতে যাওয়া। তুমি বরং তোমার স্ত্রীর মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করো। তার স্বভাব-প্রকৃতি অনুধাবনের চেষ্টা করো এবং তার সঙ্গে নরম ও কোমল আচরণ করো।
ইমাম বাইযাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাদিসে ব্যবহৃত اسْتَوْصُوا শব্দের অর্থ হলো, আমি তোমাদের তাদের ব্যাপারে কল্যাণকামিতার আদেশ করছি। সুতরাং তোমরা আমার আদেশ পালন করো এবং তাদের কল্যাণ কামনা করো।
হাদিসে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, শরয়িভাবে বৈধ এমন বিষয়ে নারীকে তার স্বভাবগত বক্রতার উপর ছেড়ে দেওয়া। সে যেভাবে আছে সেভাবেই তার সঙ্গে থাকা। তাকে সোজা করার চেষ্টা না করা। মনে রাখতে হবে, বক্রতাও এক প্রকার সৌন্দর্য। চোখের ভ্রুটা বক্র না হয়ে যদি সোজা হত, তাহলে তা দেখতে লাগতো না।
তবে সে যদি স্বভাবগত বক্রতার কারণে কোনো গুনাহে লিপ্ত হয়, আল্লাহর নাফরমানি করে, ওয়াজিব কোনো আমল ছেড়ে দেয়, তখন আর তাকে ছাড় দেওয়া যাবে না।
অনুরূপভাবে হাদিসে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, নারীকে ক্ষমার মাধ্যমে শাসন করতে হবে। নম্রভাবে তাকে পরিচালিত করতে হবে। তার অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহারে ধৈর্যধারণ করতে হবে। বিচক্ষণতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
অপর একটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিন নারীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ পোষণ করবে না। তার কোনো স্বভাব-চরিত্র অপছন্দ হলে অন্য কোনো স্বভাব-চরিত্র তার অবশ্যই পছন্দ হবে।' ১১৭
অর্থাৎ সে তার কোনো কিছু এমনভাবে ঘৃণা করবে না, যার কারণে তার সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটাতে হয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমরা আমার পক্ষ হতে নারীদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ করো। কেননা তারা তো তোমাদের কাছে আটকে আছে।' ১১৮
এটা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় হজ্বে প্রদত্ত ভাষণের অংশবিশেষ। কত চমৎকার উপমা দেখুন। 'নারীরা তোমাদের নিকট আটকে আছে।' কারণ, তারা পুরুষের নিকট বন্দির ন্যায়। ভগ্ন হৃদয়, ডানা ভাঙ্গা পাখির ন্যায়। তাই পুরুষের উচিত তার ভগ্ন হৃদয়কে জোড়া লাগানো। তার প্রতি সদাচরণ করা। তাকে সম্মান করা। তাকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা। সে কোনো ভুল করে ফেললে ক্ষমা করা। এটি অনেক বড় একটি শিষ্টাচার। সুমহান আখলাকের পরিচায়ক। বিশেষ করে স্ত্রীর রাগের সময়।
অনুরূপভাবে এই হাদিস থেকে আমরা আরেকটি নির্দেশনা লাভ করি, আর তা হচ্ছে, স্ত্রী তার স্বামীর কাছে থাকতে বাধ্য। তার অনুমতি ছাড়া সে কোথাও যাবে না ও কোথাও থাকবে না। স্বামীর গৃহকেই নিজ গৃহ মনে করবে। এটাকেই সে আপন ভুবন বানিয়ে নিবে।
এবার এই হাদিসটি শুনুন। আমি একটু পর পর হাদিস উল্লেখ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুলের আদর্শের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চাচ্ছি। কারণ তিনিই আমাদের জন্য আদর্শের বাতি, আলোকবর্তিকা।
তাই আমাদের তার আদর্শ অধ্যয়ন করা ও তা গ্রহণ করা উচিত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে।' ১১১৯
নাসাঈ শরিফে 'স্ত্রীর সঙ্গে আচরণ' অধ্যায়ে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে,
'আম্মাজান সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলেন, সেদিন তার পালা ছিল। কাফেলা থেকে পিছনে পড়ে যাওয়ার কারণে তার আসতে বিলম্ব হল। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে এসে তাকে গ্রহণ করলেন। তিনি তখন কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, আপনি আমাকে একটি ধীরগামী উটে চড়িয়েছেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু হাত দিয়ে তার অশ্রু মুছে দিলেন এবং তাকে শান্ত করলেন।'
আল্লাহু আকবার! আল্লাহর রাসুল নিজ হাতে তার চোখ মুছে দিচ্ছেন এবং তাকে শান্ত করছেন। কিন্তু তারপরও তিনি যখন কেঁদে চললেন, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ করে তাকে ত্যাগ করলেন। সাফিয়্যা তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে গিয়ে বললেন, আমার ভাগের আজকের দিনটি তোমাকে দিয়ে দিলাম। দেখ তুমি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারো কি না। তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কী করলেন?
হে নারী! তুমি একটু মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ করো। এই হাদিসটি সামনে ইনশাআল্লাহ আসবে। কিন্তু আমি বলছি, এখানে তুমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বুদ্ধিমত্তার প্রতি লক্ষ করো। কীভাবে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মন ভালো করলেন।
তিনি কী করলেন, তার ওড়নাটিতে গোলাব ও জাফরানের পানি ছিটালেন, যাতে সুঘ্রাণ আসে। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিয়রের কাছে এসে বসলেন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার? আজকে তুমি আমার কাছে? তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন সাফিয়্যা তার ভাগের দিনটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দিয়েছেন। তিনি তখন সাফিয়্যার প্রতি খুশি হয়ে গেলেন।
টিকাঃ
১১৬ সহিহ বুখারি: ৩৩৩১, ৫১১৬।
১১৭ সহিহ মুসলিম: ১৪৬৯।
১১৮ সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫১।
* সুরা হুজুরাত : ২১।
যেহেতু নারীদের অনেক নায়ক তবিয়ত দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই তার উপর অধিক চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে, তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করতে থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। কারণ, তাদের পাঁজরের হাড্ডি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড্ডিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁকা হল উপরেরটি। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও তাহলে ভেঙে ফেলবে। আর যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় রেখে দিলে বাঁকাই থেকে যাবে। সুতরাং তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।'১১৬
সুতরাং যেটা অসম্ভব সেটা করতে যেও না। অর্থাৎ তাকে সম্পূর্ণরূপে সোজা করতে যাওয়া। তুমি বরং তোমার স্ত্রীর মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করো। তার স্বভাব-প্রকৃতি অনুধাবনের চেষ্টা করো এবং তার সঙ্গে নরম ও কোমল আচরণ করো।
ইমাম বাইযাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাদিসে ব্যবহৃত اسْتَوْصُوا শব্দের অর্থ হলো, আমি তোমাদের তাদের ব্যাপারে কল্যাণকামিতার আদেশ করছি। সুতরাং তোমরা আমার আদেশ পালন করো এবং তাদের কল্যাণ কামনা করো।
হাদিসে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, শরয়িভাবে বৈধ এমন বিষয়ে নারীকে তার স্বভাবগত বক্রতার উপর ছেড়ে দেওয়া। সে যেভাবে আছে সেভাবেই তার সঙ্গে থাকা। তাকে সোজা করার চেষ্টা না করা। মনে রাখতে হবে, বক্রতাও এক প্রকার সৌন্দর্য। চোখের ভ্রুটা বক্র না হয়ে যদি সোজা হত, তাহলে তা দেখতে লাগতো না।
তবে সে যদি স্বভাবগত বক্রতার কারণে কোনো গুনাহে লিপ্ত হয়, আল্লাহর নাফরমানি করে, ওয়াজিব কোনো আমল ছেড়ে দেয়, তখন আর তাকে ছাড় দেওয়া যাবে না।
অনুরূপভাবে হাদিসে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, নারীকে ক্ষমার মাধ্যমে শাসন করতে হবে। নম্রভাবে তাকে পরিচালিত করতে হবে। তার অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহারে ধৈর্যধারণ করতে হবে। বিচক্ষণতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
অপর একটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিন নারীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ পোষণ করবে না। তার কোনো স্বভাব-চরিত্র অপছন্দ হলে অন্য কোনো স্বভাব-চরিত্র তার অবশ্যই পছন্দ হবে।' ১১৭
অর্থাৎ সে তার কোনো কিছু এমনভাবে ঘৃণা করবে না, যার কারণে তার সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটাতে হয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমরা আমার পক্ষ হতে নারীদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ করো। কেননা তারা তো তোমাদের কাছে আটকে আছে।' ১১৮
এটা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় হজ্বে প্রদত্ত ভাষণের অংশবিশেষ। কত চমৎকার উপমা দেখুন। 'নারীরা তোমাদের নিকট আটকে আছে।' কারণ, তারা পুরুষের নিকট বন্দির ন্যায়। ভগ্ন হৃদয়, ডানা ভাঙ্গা পাখির ন্যায়। তাই পুরুষের উচিত তার ভগ্ন হৃদয়কে জোড়া লাগানো। তার প্রতি সদাচরণ করা। তাকে সম্মান করা। তাকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা। সে কোনো ভুল করে ফেললে ক্ষমা করা। এটি অনেক বড় একটি শিষ্টাচার। সুমহান আখলাকের পরিচায়ক। বিশেষ করে স্ত্রীর রাগের সময়।
অনুরূপভাবে এই হাদিস থেকে আমরা আরেকটি নির্দেশনা লাভ করি, আর তা হচ্ছে, স্ত্রী তার স্বামীর কাছে থাকতে বাধ্য। তার অনুমতি ছাড়া সে কোথাও যাবে না ও কোথাও থাকবে না। স্বামীর গৃহকেই নিজ গৃহ মনে করবে। এটাকেই সে আপন ভুবন বানিয়ে নিবে।
এবার এই হাদিসটি শুনুন। আমি একটু পর পর হাদিস উল্লেখ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুলের আদর্শের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চাচ্ছি। কারণ তিনিই আমাদের জন্য আদর্শের বাতি, আলোকবর্তিকা।
তাই আমাদের তার আদর্শ অধ্যয়ন করা ও তা গ্রহণ করা উচিত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে।' ১১১৯
নাসাঈ শরিফে 'স্ত্রীর সঙ্গে আচরণ' অধ্যায়ে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে,
'আম্মাজান সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলেন, সেদিন তার পালা ছিল। কাফেলা থেকে পিছনে পড়ে যাওয়ার কারণে তার আসতে বিলম্ব হল। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে এসে তাকে গ্রহণ করলেন। তিনি তখন কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, আপনি আমাকে একটি ধীরগামী উটে চড়িয়েছেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু হাত দিয়ে তার অশ্রু মুছে দিলেন এবং তাকে শান্ত করলেন।'
আল্লাহু আকবার! আল্লাহর রাসুল নিজ হাতে তার চোখ মুছে দিচ্ছেন এবং তাকে শান্ত করছেন। কিন্তু তারপরও তিনি যখন কেঁদে চললেন, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ করে তাকে ত্যাগ করলেন। সাফিয়্যা তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে গিয়ে বললেন, আমার ভাগের আজকের দিনটি তোমাকে দিয়ে দিলাম। দেখ তুমি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারো কি না। তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কী করলেন?
হে নারী! তুমি একটু মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ করো। এই হাদিসটি সামনে ইনশাআল্লাহ আসবে। কিন্তু আমি বলছি, এখানে তুমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বুদ্ধিমত্তার প্রতি লক্ষ করো। কীভাবে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মন ভালো করলেন।
তিনি কী করলেন, তার ওড়নাটিতে গোলাব ও জাফরানের পানি ছিটালেন, যাতে সুঘ্রাণ আসে। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিয়রের কাছে এসে বসলেন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার? আজকে তুমি আমার কাছে? তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন সাফিয়্যা তার ভাগের দিনটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দিয়েছেন। তিনি তখন সাফিয়্যার প্রতি খুশি হয়ে গেলেন।
টিকাঃ
১১৬ সহিহ বুখারি: ৩৩৩১, ৫১১৬।
১১৭ সহিহ মুসলিম: ১৪৬৯।
১১৮ সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫১।
* সুরা হুজুরাত : ২১।
📄 স্ত্রীর প্রতি নবিজির ভালোবাসা
দু'ভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়। কথার মাধ্যমে। কাজের মাধ্যমে। কথার মাধ্যমে-যেমন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে যারআর দীর্ঘ হাদিসে** আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলেছিলেন, আমি তোমার জন্য উম্মে যারআর জন্য তার স্বামী আবু যারআর মতো। (অর্থাৎ সে তার স্ত্রীকে যেমন ভালোবাসত ও মহব্বত করত। আমিও তোমাকে তেমন ভালোবাসি ও মহব্বত করি।) তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছিলেন, আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক, অবশ্যই আপনি আমার জন্য উম্মে যারআর জন্য আবু যারআর চেয়ে উত্তম। সুবহানাল্লাহ! যেমন মহান স্বামী, তেমনি মহান স্ত্রী। আম্মাজান আয়েশার কী প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা! রাদিয়াল্লাহু আনহা।
আর স্ত্রীর প্রতি কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশের উদাহরণ তো আল্লাহর রাসুলের জীবনে অসংখ্য। যে মানতে চায়, যে অনুসরণ করতে চায় তার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত, আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'আমি পানীয় দ্রব্য পান করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম। তিনি আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করেছি সেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। অথচ আমি তখন ঋতুমতি ছিলাম। আমি হাঁড় থেকে গোশত কামড়ে নিতাম। তারপর হাঁড়টি তাকে দিতাম। তিনি আমি যেখানে মুখ রাখতাম সেখানে মুখ রাখতেন। অথচ আমি তখন ঋতুমতী ছিলাম।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করা ও খাওয়া উভয় ক্ষেত্রেই আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যেখানে মুখ রেখেছিলেন তিনিও সেখানে মুখ রেখেছিলেন। অথচ তখন আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঋতুমতী ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি দৈহিক উত্তেজনাবশত করেননি। বরং মহব্বত ও ভালোবাসা প্রকাশার্থে করেছিলেন। কারণ আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে তখন মিলিত হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ তিনি ঋতুমতী ছিলেন।
অপর একটি হাদিসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। অথচ আমি তখন হায়েজ অবস্থায় ছিলাম।'
টিকাঃ
** 'স্ত্রীকে সময় দেওয়া' শিরোনামে হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এখানে পুনরুল্লেখ করা হলো না।
'সুনানে ইবনে মাজাহ: ৫২৩।
দু'ভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়। কথার মাধ্যমে। কাজের মাধ্যমে। কথার মাধ্যমে-যেমন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে যারআর দীর্ঘ হাদিসে** আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলেছিলেন, আমি তোমার জন্য উম্মে যারআর জন্য তার স্বামী আবু যারআর মতো। (অর্থাৎ সে তার স্ত্রীকে যেমন ভালোবাসত ও মহব্বত করত। আমিও তোমাকে তেমন ভালোবাসি ও মহব্বত করি।) তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছিলেন, আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক, অবশ্যই আপনি আমার জন্য উম্মে যারআর জন্য আবু যারআর চেয়ে উত্তম। সুবহানাল্লাহ! যেমন মহান স্বামী, তেমনি মহান স্ত্রী। আম্মাজান আয়েশার কী প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা! রাদিয়াল্লাহু আনহা।
আর স্ত্রীর প্রতি কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশের উদাহরণ তো আল্লাহর রাসুলের জীবনে অসংখ্য। যে মানতে চায়, যে অনুসরণ করতে চায় তার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত, আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'আমি পানীয় দ্রব্য পান করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম। তিনি আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করেছি সেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। অথচ আমি তখন ঋতুমতি ছিলাম। আমি হাঁড় থেকে গোশত কামড়ে নিতাম। তারপর হাঁড়টি তাকে দিতাম। তিনি আমি যেখানে মুখ রাখতাম সেখানে মুখ রাখতেন। অথচ আমি তখন ঋতুমতী ছিলাম।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করা ও খাওয়া উভয় ক্ষেত্রেই আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যেখানে মুখ রেখেছিলেন তিনিও সেখানে মুখ রেখেছিলেন। অথচ তখন আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঋতুমতী ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি দৈহিক উত্তেজনাবশত করেননি। বরং মহব্বত ও ভালোবাসা প্রকাশার্থে করেছিলেন। কারণ আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে তখন মিলিত হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ তিনি ঋতুমতী ছিলেন।
অপর একটি হাদিসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। অথচ আমি তখন হায়েজ অবস্থায় ছিলাম।'
টিকাঃ
** 'স্ত্রীকে সময় দেওয়া' শিরোনামে হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এখানে পুনরুল্লেখ করা হলো না।
'সুনানে ইবনে মাজাহ: ৫২৩।
📄 স্ত্রীর প্রতি খলিফা মাহদির ভালোবাসা
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সুন্দর একটি চিত্র আমরা খলিফা মাহদির জীবনে দেখতে পাই। আল্লামা ইবনে কাসির তার বিখ্যাত আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
খলিফা মাহদির জীবদ্দশায় একবার তার স্ত্রী খায়যুরান হজ্জে গমন করেন। তিনি যখন মক্কায় অবস্থান করছিলেন, তখন মাহদি তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করেন এবং তাঁর প্রতি ভালাবাসা প্রকাশে নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করেন,
'আমি খুব সুখে আছি। তবে তুমি ছাড়া কোনো সুখই যে পূর্ণতা পায় না। প্রিয়তমা! তুমি ছাড়া আমার সুখে থাকাটা যে অনুচিত। যেখানে তুমি নেই, অথচ আমি আছি।
তুমি দ্রুত ফিরে এসো। যদি পারো, বাতাসের সঙ্গে উড়ে এসো।'
একটু কল্পনা করুন, কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি এভাবে মন খুলে ভালোবাসা প্রকাশ করে, তাহলে স্ত্রী কি নিজেকে ধরে রাখতে পারে? তার শিরায় শিরায় প্রেমের কী আশ্চর্য ঢেউ উঠে? আবেগের তরঙ্গ তাকে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়?
খলিফা মাহদির স্ত্রী খাইযুরানের শিরাতেও প্রেমের এমন ঢেউ উঠেছিল। তাই চিঠিটি পড়ামাত্র সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর লিখতে বসে গেল,
'তোমার যে প্রেমজ্বালার কথা তুমি তুলে ধরেছো, তা আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু আমি তো উড়তে পারছি না প্রিয়তম। নচেৎ আমি উড়ে যেতাম।
হায়! আমি তোমার জন্য যা লুকিয়ে রেখেছি আমার অন্তরায়, যদি বাতাস তা পৌঁছে দিত তোমার হৃদয় সীমানায়।'
আমি তো দস্তরখানে রাখা সুসজ্জিত খাবারের ন্যায় প্রস্তুত হয়ে আছি। তুমি যদি আমার অনুপস্থিতিতে আমাকে স্মরণ করে সুখ পাও, তাহলে সে সুখই হবে স্থায়ী সুখ।'
সুবহানাল্লাহ! স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কী অনুপম বহিঃপ্রকাশ!
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সুন্দর একটি চিত্র আমরা খলিফা মাহদির জীবনে দেখতে পাই। আল্লামা ইবনে কাসির তার বিখ্যাত আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
খলিফা মাহদির জীবদ্দশায় একবার তার স্ত্রী খায়যুরান হজ্জে গমন করেন। তিনি যখন মক্কায় অবস্থান করছিলেন, তখন মাহদি তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করেন এবং তাঁর প্রতি ভালাবাসা প্রকাশে নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করেন,
'আমি খুব সুখে আছি। তবে তুমি ছাড়া কোনো সুখই যে পূর্ণতা পায় না। প্রিয়তমা! তুমি ছাড়া আমার সুখে থাকাটা যে অনুচিত। যেখানে তুমি নেই, অথচ আমি আছি।
তুমি দ্রুত ফিরে এসো। যদি পারো, বাতাসের সঙ্গে উড়ে এসো।'
একটু কল্পনা করুন, কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি এভাবে মন খুলে ভালোবাসা প্রকাশ করে, তাহলে স্ত্রী কি নিজেকে ধরে রাখতে পারে? তার শিরায় শিরায় প্রেমের কী আশ্চর্য ঢেউ উঠে? আবেগের তরঙ্গ তাকে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়?
খলিফা মাহদির স্ত্রী খাইযুরানের শিরাতেও প্রেমের এমন ঢেউ উঠেছিল। তাই চিঠিটি পড়ামাত্র সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর লিখতে বসে গেল,
'তোমার যে প্রেমজ্বালার কথা তুমি তুলে ধরেছো, তা আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু আমি তো উড়তে পারছি না প্রিয়তম। নচেৎ আমি উড়ে যেতাম।
হায়! আমি তোমার জন্য যা লুকিয়ে রেখেছি আমার অন্তরায়, যদি বাতাস তা পৌঁছে দিত তোমার হৃদয় সীমানায়।'
আমি তো দস্তরখানে রাখা সুসজ্জিত খাবারের ন্যায় প্রস্তুত হয়ে আছি। তুমি যদি আমার অনুপস্থিতিতে আমাকে স্মরণ করে সুখ পাও, তাহলে সে সুখই হবে স্থায়ী সুখ।'
সুবহানাল্লাহ! স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কী অনুপম বহিঃপ্রকাশ!
📄 একে অপরকে আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করা
দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আল্লাহর আনুগত্য ও তার ইবাদতে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সাহায্য করা। উদ্বুদ্ধ করা। আমরা সকলেই জানি যে, মানব জীবনের মুক্তি ও সফলতা একমাত্র আল্লাহর আনুগত্যের মাঝে নিহিত। আমাদের সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য তো তাঁর ইবাদত করা। তাঁর হক আদায়ের চেষ্টা করা। তিনি আমাদের যেসব নেয়ামত দান করেছেন, তাঁর ইবাদতের মাধ্যমে সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহর ইবাদতবিহীন একটি মুসলিম পরিবার কখনোই সফল ও কামিয়াব হতে পারে না। প্রকৃত মুসলিম পরিবার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।
স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্ব, পরস্পরকে বিভিন্ন ফরজ, ওয়াজিব ও নফল আমলসমূহ আদায়ে সাহায্য করা। এতে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন। দাম্পত্য জীবনে সজীবতা আসে। রহমত ও বরকত নাযিল হয়।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করছে, তাঁর হুকুম পালনে উদ্বুদ্ধ করছে, এমন দৃশ্য সত্যিই প্রশান্তি ও তৃপ্তিদায়ক। কত মধুর সে দৃশ্য! কত পবিত্র সে দাম্পত্য!
নবি জীবন থেকে এবার একটি উদাহরণ উপস্থাপন করা যাক, আম্মাজান জুওয়াইরিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত,
'নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ভোরবেলা ফজরের নামাজ আদায় করে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। সে সময় তিনি নামাজের স্থানে বসা ছিলেন। এরপর তিনি চাশতের পরে ফিরে আসলেন। তখনও তিনি নামাজের স্থানে বসা ছিলেন। নবিজি বললেন, যে অবস্থায় তোমাকে দেখে গিয়েছিলাম, তুমি দেখি সেই অবস্থায় আছ। তিনি বললেন, হাঁ। তখন নবিজি বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর চারটি কালিমা তিনবার পড়েছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা কিছু পড়েছো, এর সঙ্গে এই চারটি কালিমা ওজন করা হলে, কালিমা চারটিই ভারী হবে।'
কালিমাটি হলো,
'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, আদাদা খালকিহী ওয়া রিযা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহী, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ।'
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসার সঙ্গে তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার মাখলুকের সংখ্যার পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমপরিমাণ, তার আরশের ওযন পরিমাণ ও তার কালিমাসমূহের সংখ্যার পরিমাণ।১২২
হাদিসটি লক্ষ করুন। স্ত্রীকে দীনি তালিম প্রদানের ক্ষেত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটা আগ্রহী ছিলেন।
প্রিয় পাঠক! আপনার কাছে আমার একটি চাওয়া থাকবে—আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হলেও বসবেন, বসে তাকে দীন শেখাবেন, বিভিন্ন যিকির-আযকার, দুআ-দুরুদ শেখাবেন। আমলের ফাযায়েল সম্বলিত গ্রন্থ থেকে তালিম করবেন। তাকে প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। আপনার নিজের জানা থাকলে উত্তর দিবেন। জানা না থাকলে উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে জেনে তাকে জানাবেন। তাকে ফরজ, ওয়াজিব আদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য নফল আমলসমূহ আদায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সেগুলোর ফযিলত বর্ণনা করবেন।
বুখারি শরিফে বিতর অধ্যায়ে একটি পরিচ্ছেদ আছে এই শিরোনামে 'বিতরের জন্য নবিজি কর্তৃক তার স্ত্রীগণকে জাগিয়ে দেওয়া'।
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায় করতেন। আর আমি তখন তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। বিতর পড়ার সময় তিনি আমাকে জাগিয়ে দিতেন। তখন আমিও বিতর পড়তাম।'১২৩
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'আল্লাহ তায়ালা সেই লোকের প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে তুলে। সে যদি উঠতে না চায় তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা সেই নারীর প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয়। সে যদি উঠতে না চায়, তাহলে মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।'১২৪
এই হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, উভয়েরই দায়িত্ব। স্ত্রী কোনো আমলের কথা ভুলে গেলে স্বামী তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। আর স্বামী ভুলে গেলে স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। আমলটি করতে সহযোগিতা করবে। প্রত্যেকেরই দায়িত্ব অপরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। সহযোগিতা করা।
আবু সাঈদ খুদরি এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়। তারপর তারা উভয়ে মিলে একসঙ্গে দু'রাকাত নামাজ পড়ে। তখন তাদের নাম অধিক পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার জিকিরকারী ও জিকিরকারিণীদের খাতায় লেখা হয়।'১২৫
ঘরে নফল নামাজ আদায়ের বিশেষ ফযিলত রয়েছে। এতে ঘরে নূর আসে। হেদায়াতের নূর। ঈমানের নূর। রহমত ও বরকত নাযিল হয়। এ বিষয়ে আমরা অনেক উদাসীন। নামাজের প্রতি যাদের অধিক আগ্রহ থাকে, নামাজকে ভালোবাসে, তারাও অনেকে নফল আদায় করলে মসজিদে করে। অথচ সুন্নত হলো সুন্নত, নফল ও ওযিফা ইত্যাদি ঘরে বসে আদায় করা।
এ কারণে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
'ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হচ্ছে ঘরে আদায়কৃত নামাজ।'১২৬
কারণ? এতে পরিবারের অন্যান্যরা নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের উপর এর প্রভাব পড়ে। তারা নামাজের শিক্ষা নিয়ে বেড়ে উঠে।
রমজান মাসে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বসে ইফতার, এ দৃশ্য দেখতে যেমন বড় সুন্দর লাগে, তেমনি তাদের একসঙ্গে নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত করা, গরিব আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়া—এ দৃশ্যগুলোও বড় সুন্দর। কোমল। মনোরম। চিত্তস্পর্শী।
আমরা যদি এর উপর আমল করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমাদের দাম্পত্য জীবন আরও মধুর, সজীব ও প্রাণবন্ত হবে। আমাদের ঘরগুলো হবে একেকটি মিনি জান্নাত।
যারা আমল করেন, তারা অবশ্যই জানেন, এর কী অপার্থিব স্বাদ ও তৃপ্তি!
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةٌ طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'মুমিন নারী-কিংবা পুরুষ যে-ই নেক আমল করবে, অবশ্যই আমি তাকে উত্তম জীবন দান করব এবং তারা যে আমল করবে, তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান তাদের দান করব।' ১২৭
টিকাঃ
১২২ সহিহ মুসলিম: ৬৮০৬।
১২০ সহিহ বুখারি: ৫১২।
১২৪ সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৮।
১২৫ সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৯, ১৪৫১।
১২৬ সহিহ বুখারি: ৭৩১।
১২৭ সুরা নাহল: ৯৭।
দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আল্লাহর আনুগত্য ও তার ইবাদতে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সাহায্য করা। উদ্বুদ্ধ করা। আমরা সকলেই জানি যে, মানব জীবনের মুক্তি ও সফলতা একমাত্র আল্লাহর আনুগত্যের মাঝে নিহিত। আমাদের সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য তো তাঁর ইবাদত করা। তাঁর হক আদায়ের চেষ্টা করা। তিনি আমাদের যেসব নেয়ামত দান করেছেন, তাঁর ইবাদতের মাধ্যমে সেগুলোর শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহর ইবাদতবিহীন একটি মুসলিম পরিবার কখনোই সফল ও কামিয়াব হতে পারে না। প্রকৃত মুসলিম পরিবার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।
স্বামী-স্ত্রীর দায়িত্ব, পরস্পরকে বিভিন্ন ফরজ, ওয়াজিব ও নফল আমলসমূহ আদায়ে সাহায্য করা। এতে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হন। দাম্পত্য জীবনে সজীবতা আসে। রহমত ও বরকত নাযিল হয়।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করছে, তাঁর হুকুম পালনে উদ্বুদ্ধ করছে, এমন দৃশ্য সত্যিই প্রশান্তি ও তৃপ্তিদায়ক। কত মধুর সে দৃশ্য! কত পবিত্র সে দাম্পত্য!
নবি জীবন থেকে এবার একটি উদাহরণ উপস্থাপন করা যাক, আম্মাজান জুওয়াইরিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত,
'নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ভোরবেলা ফজরের নামাজ আদায় করে তাঁর নিকট থেকে বের হলেন। সে সময় তিনি নামাজের স্থানে বসা ছিলেন। এরপর তিনি চাশতের পরে ফিরে আসলেন। তখনও তিনি নামাজের স্থানে বসা ছিলেন। নবিজি বললেন, যে অবস্থায় তোমাকে দেখে গিয়েছিলাম, তুমি দেখি সেই অবস্থায় আছ। তিনি বললেন, হাঁ। তখন নবিজি বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর চারটি কালিমা তিনবার পড়েছি। আজকে তুমি এ পর্যন্ত যা কিছু পড়েছো, এর সঙ্গে এই চারটি কালিমা ওজন করা হলে, কালিমা চারটিই ভারী হবে।'
কালিমাটি হলো,
'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, আদাদা খালকিহী ওয়া রিযা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহী, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ।'
অর্থ: আমি আল্লাহর প্রশংসার সঙ্গে তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তার মাখলুকের সংখ্যার পরিমাণ, তার সন্তুষ্টির সমপরিমাণ, তার আরশের ওযন পরিমাণ ও তার কালিমাসমূহের সংখ্যার পরিমাণ।১২২
হাদিসটি লক্ষ করুন। স্ত্রীকে দীনি তালিম প্রদানের ক্ষেত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটা আগ্রহী ছিলেন।
প্রিয় পাঠক! আপনার কাছে আমার একটি চাওয়া থাকবে—আপনি আপনার স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিদিন কিছু সময়ের জন্য হলেও বসবেন, বসে তাকে দীন শেখাবেন, বিভিন্ন যিকির-আযকার, দুআ-দুরুদ শেখাবেন। আমলের ফাযায়েল সম্বলিত গ্রন্থ থেকে তালিম করবেন। তাকে প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। আপনার নিজের জানা থাকলে উত্তর দিবেন। জানা না থাকলে উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে জেনে তাকে জানাবেন। তাকে ফরজ, ওয়াজিব আদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য নফল আমলসমূহ আদায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সেগুলোর ফযিলত বর্ণনা করবেন।
বুখারি শরিফে বিতর অধ্যায়ে একটি পরিচ্ছেদ আছে এই শিরোনামে 'বিতরের জন্য নবিজি কর্তৃক তার স্ত্রীগণকে জাগিয়ে দেওয়া'।
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায় করতেন। আর আমি তখন তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতাম। বিতর পড়ার সময় তিনি আমাকে জাগিয়ে দিতেন। তখন আমিও বিতর পড়তাম।'১২৩
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'আল্লাহ তায়ালা সেই লোকের প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে তুলে। সে যদি উঠতে না চায় তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা সেই নারীর প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয়। সে যদি উঠতে না চায়, তাহলে মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।'১২৪
এই হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, উভয়েরই দায়িত্ব। স্ত্রী কোনো আমলের কথা ভুলে গেলে স্বামী তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। আর স্বামী ভুলে গেলে স্ত্রী তাকে স্মরণ করিয়ে দিবে। আমলটি করতে সহযোগিতা করবে। প্রত্যেকেরই দায়িত্ব অপরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। সহযোগিতা করা।
আবু সাঈদ খুদরি এবং আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে উঠে তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়। তারপর তারা উভয়ে মিলে একসঙ্গে দু'রাকাত নামাজ পড়ে। তখন তাদের নাম অধিক পরিমাণে আল্লাহ তায়ালার জিকিরকারী ও জিকিরকারিণীদের খাতায় লেখা হয়।'১২৫
ঘরে নফল নামাজ আদায়ের বিশেষ ফযিলত রয়েছে। এতে ঘরে নূর আসে। হেদায়াতের নূর। ঈমানের নূর। রহমত ও বরকত নাযিল হয়। এ বিষয়ে আমরা অনেক উদাসীন। নামাজের প্রতি যাদের অধিক আগ্রহ থাকে, নামাজকে ভালোবাসে, তারাও অনেকে নফল আদায় করলে মসজিদে করে। অথচ সুন্নত হলো সুন্নত, নফল ও ওযিফা ইত্যাদি ঘরে বসে আদায় করা।
এ কারণে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
'ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হচ্ছে ঘরে আদায়কৃত নামাজ।'১২৬
কারণ? এতে পরিবারের অন্যান্যরা নামাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদের উপর এর প্রভাব পড়ে। তারা নামাজের শিক্ষা নিয়ে বেড়ে উঠে।
রমজান মাসে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বসে ইফতার, এ দৃশ্য দেখতে যেমন বড় সুন্দর লাগে, তেমনি তাদের একসঙ্গে নামাজ আদায়, কুরআন তেলাওয়াত করা, গরিব আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়া—এ দৃশ্যগুলোও বড় সুন্দর। কোমল। মনোরম। চিত্তস্পর্শী।
আমরা যদি এর উপর আমল করতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমাদের দাম্পত্য জীবন আরও মধুর, সজীব ও প্রাণবন্ত হবে। আমাদের ঘরগুলো হবে একেকটি মিনি জান্নাত।
যারা আমল করেন, তারা অবশ্যই জানেন, এর কী অপার্থিব স্বাদ ও তৃপ্তি!
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
مَنْ عَمِلَ صَالِحاً مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةٌ طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
'মুমিন নারী-কিংবা পুরুষ যে-ই নেক আমল করবে, অবশ্যই আমি তাকে উত্তম জীবন দান করব এবং তারা যে আমল করবে, তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান তাদের দান করব।' ১২৭
টিকাঃ
১২২ সহিহ মুসলিম: ৬৮০৬।
১২০ সহিহ বুখারি: ৫১২।
১২৪ সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৮।
১২৫ সুনানে আবু দাউদ: ১৩০৯, ১৪৫১।
১২৬ সহিহ বুখারি: ৭৩১।
১২৭ সুরা নাহল: ৯৭।