📄 পারস্পরিক বোঝাপড়া
দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়। হৃদ্যতাপূর্ণ সহাবস্থান তৈরি হয়। পারিবারিক মিলবন্ধন সুদৃঢ় হয়। অনেক কঠিন সমস্যাও তখন সহজে সমাধান করা যায়। অপরদিকে পারস্পরিক বোঝাপড়া না থাকলে সংসারে অনেক অশান্তি ও ফিতনার সৃষ্টি হয়। পারিবারিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। ক্রমাগত দূরত্ব বাড়তে থাকে। অনৈক্য দেখা দিতে থাকে। একে অন্যের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে থাকে এবং সবশেষে তা আমাদের জন্য এক অশুভ পরিণতি ডেকে আনে।
সেজন্য পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়ে আমাদের সকলের সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আমরা আমাদের চারপাশে একটু দৃষ্টি দিলেই দেখতে পাই, পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো না থাকায় কত পরিবার ভেঙে গেছে। পাপের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে।
যেহেতু মানুষ দেহসর্বস্ব নয়, তার মাঝে আবেগ, অনুভূতি, মন, মনন ও আত্মার অস্তিত্ব বিদ্যমান। তাই আমাদের সর্বপ্রথম যেটা করতে হবে, সঙ্গীর এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তার রুচি ও অভিপ্রায় জানতে হবে এবং সেগুলোকে মূল্যায়ণ করতে হবে। তাকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে হবে। তার সব বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
বিয়ের প্রথম দিকে এই সমস্যাগুলো হয় না। কারণ, তখন স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই সর্বাত্মক চেষ্টা থাকে একে অপরকে আকর্ষণ করার। তার মন জয় করার। স্যাক্রিফাইস করার। একটু অতিরিক্ত ভালো সেজে থাকার। দুজনের মাঝে তখন স্বভাব ও আচরণগত ভিন্নতা থাকলেও তারা সেটা প্রকাশের চেষ্টা করে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার চাদর দিয়ে সেসব ঢেকে রাখে।
সমস্যাটা হয় বিয়ের এক দু'বছর যাওয়ার পর। তখন উভয়ের আসল রূপটা প্রকাশ পায়।
স্বামী-স্ত্রী বুঝতে পারে তাদের দুজনের মাঝে যতটা না মিল তার চেয়ে অনেক অমিল।
এতদিন তাদের মাঝে সবকিছু ঠিকভাবে চললেও এখন আর চলছেনা। সংসার নামক গাড়িটা একটু পরপর কোথায় যেন আটকে যাচ্ছে। কিসের সাথে যেন ধাক্কা
খাচ্ছে। সংসারটাকে দিন দিন কেমন যেন কঠিন মনে হচ্ছে। রসকসহীন। তিক্ত। বিস্বাদ। একঘেঁয়ে।
এখন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয়। কথা কাটাকাটি হয়।
অবশ্য মতবিরোধের এ বিষয়টি একেবারে নেতিবাচক নয়। এর অনেক ইতিবাচক দিকও রয়েছে। স্বভাব ও রুচিবোধের এই যে ভিন্নতা ও বৈচিত্র, এটি মানুষের প্রকৃতিগত বিষয়। এই বৈচিত্রগুণের বলেই মানুষ একে অপরকে আকর্ষণ করে থাকে। এর মাধ্যমে দাম্পত্যজীবনে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। একে অপরকে ভালোভাবে জানার ও বোঝার প্রয়োজন অনুভূত হয়। উভয়ে তখন নিজেকে ভেঙ্গে নতুন করে গড়ার চেষ্টা করে। নানা বৈচিত্র ও ভিন্নতার মাঝে তারা ঐক্যের সুর খুঁজে ফিরে।
এতদিন যা ছিল কৃত্রিম এখন তা বাস্তব রূপ লাভ করে।
পারস্পরিক আন্তরিকতা ও ভালোবাসা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। স্বামী-স্ত্রী সেসব সফলভাবে মোকাবেলা করে দাম্পত্য জীবনকে আরও মজবুত ও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়।
কিন্তু আসল সমস্যাটা দেখা দেয় যখন আমরা একে অপরের উপর নিজেদের অভিপ্রায় ও অভিরুচি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। সঙ্গিকে নিজের ভাবশিষ্য বানানোর চেষ্টা করি এবং এভাবে আমরা দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে মারাত্মক ভুলটা করি।
কারণ, এমতাবস্থায় পারস্পরিক মতানৈক্য ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতগুলো চরম আকার ধারণ করে।
দুজনের মাঝে সত্তাগত এবং স্বভাব-প্রকৃতিগত পার্থক্য ও বৈচিত্রগুলো যদি আমরা সুস্পষ্টরূপে আবিষ্কার করতে পারি এবং সেগুলোকে যথাস্মান ও সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিতে পারি, তাহলেই দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলো অনেকাংশে আমরা কমিয়ে ফেলতে পারি। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে একজন নারী একজন পুরুষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন দৈহিক গঠনের দিক থেকে, তেমনি রুচিবোধ, অভ্যাস, চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মন-মানসিকতার দিক থেকে।
দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়। হৃদ্যতাপূর্ণ সহাবস্থান তৈরি হয়। পারিবারিক মিলবন্ধন সুদৃঢ় হয়। অনেক কঠিন সমস্যাও তখন সহজে সমাধান করা যায়। অপরদিকে পারস্পরিক বোঝাপড়া না থাকলে সংসারে অনেক অশান্তি ও ফিতনার সৃষ্টি হয়। পারিবারিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। ক্রমাগত দূরত্ব বাড়তে থাকে। অনৈক্য দেখা দিতে থাকে। একে অন্যের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে থাকে এবং সবশেষে তা আমাদের জন্য এক অশুভ পরিণতি ডেকে আনে।
সেজন্য পারস্পরিক বোঝাপড়ার বিষয়ে আমাদের সকলের সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আমরা আমাদের চারপাশে একটু দৃষ্টি দিলেই দেখতে পাই, পারস্পরিক বোঝাপড়া ভালো না থাকায় কত পরিবার ভেঙে গেছে। পাপের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে।
যেহেতু মানুষ দেহসর্বস্ব নয়, তার মাঝে আবেগ, অনুভূতি, মন, মনন ও আত্মার অস্তিত্ব বিদ্যমান। তাই আমাদের সর্বপ্রথম যেটা করতে হবে, সঙ্গীর এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তার রুচি ও অভিপ্রায় জানতে হবে এবং সেগুলোকে মূল্যায়ণ করতে হবে। তাকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিতে হবে। তার সব বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা যাবে না।
বিয়ের প্রথম দিকে এই সমস্যাগুলো হয় না। কারণ, তখন স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই সর্বাত্মক চেষ্টা থাকে একে অপরকে আকর্ষণ করার। তার মন জয় করার। স্যাক্রিফাইস করার। একটু অতিরিক্ত ভালো সেজে থাকার। দুজনের মাঝে তখন স্বভাব ও আচরণগত ভিন্নতা থাকলেও তারা সেটা প্রকাশের চেষ্টা করে না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার চাদর দিয়ে সেসব ঢেকে রাখে।
সমস্যাটা হয় বিয়ের এক দু'বছর যাওয়ার পর। তখন উভয়ের আসল রূপটা প্রকাশ পায়।
স্বামী-স্ত্রী বুঝতে পারে তাদের দুজনের মাঝে যতটা না মিল তার চেয়ে অনেক অমিল।
এতদিন তাদের মাঝে সবকিছু ঠিকভাবে চললেও এখন আর চলছেনা। সংসার নামক গাড়িটা একটু পরপর কোথায় যেন আটকে যাচ্ছে। কিসের সাথে যেন ধাক্কা
খাচ্ছে। সংসারটাকে দিন দিন কেমন যেন কঠিন মনে হচ্ছে। রসকসহীন। তিক্ত। বিস্বাদ। একঘেঁয়ে।
এখন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয়। কথা কাটাকাটি হয়।
অবশ্য মতবিরোধের এ বিষয়টি একেবারে নেতিবাচক নয়। এর অনেক ইতিবাচক দিকও রয়েছে। স্বভাব ও রুচিবোধের এই যে ভিন্নতা ও বৈচিত্র, এটি মানুষের প্রকৃতিগত বিষয়। এই বৈচিত্রগুণের বলেই মানুষ একে অপরকে আকর্ষণ করে থাকে। এর মাধ্যমে দাম্পত্যজীবনে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। একে অপরকে ভালোভাবে জানার ও বোঝার প্রয়োজন অনুভূত হয়। উভয়ে তখন নিজেকে ভেঙ্গে নতুন করে গড়ার চেষ্টা করে। নানা বৈচিত্র ও ভিন্নতার মাঝে তারা ঐক্যের সুর খুঁজে ফিরে।
এতদিন যা ছিল কৃত্রিম এখন তা বাস্তব রূপ লাভ করে।
পারস্পরিক আন্তরিকতা ও ভালোবাসা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। স্বামী-স্ত্রী সেসব সফলভাবে মোকাবেলা করে দাম্পত্য জীবনকে আরও মজবুত ও সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়।
কিন্তু আসল সমস্যাটা দেখা দেয় যখন আমরা একে অপরের উপর নিজেদের অভিপ্রায় ও অভিরুচি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। সঙ্গিকে নিজের ভাবশিষ্য বানানোর চেষ্টা করি এবং এভাবে আমরা দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে মারাত্মক ভুলটা করি।
কারণ, এমতাবস্থায় পারস্পরিক মতানৈক্য ও দ্বন্দ্ব-সংঘাতগুলো চরম আকার ধারণ করে।
দুজনের মাঝে সত্তাগত এবং স্বভাব-প্রকৃতিগত পার্থক্য ও বৈচিত্রগুলো যদি আমরা সুস্পষ্টরূপে আবিষ্কার করতে পারি এবং সেগুলোকে যথাস্মান ও সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিতে পারি, তাহলেই দাম্পত্য জীবনের সমস্যাগুলো অনেকাংশে আমরা কমিয়ে ফেলতে পারি। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে একজন নারী একজন পুরুষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন দৈহিক গঠনের দিক থেকে, তেমনি রুচিবোধ, অভ্যাস, চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মন-মানসিকতার দিক থেকে।
📄 স্ত্রীর সঙ্গে কঠোর আচরণ না করা
যেহেতু নারীদের অনেক নায়ক তবিয়ত দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই তার উপর অধিক চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে, তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করতে থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। কারণ, তাদের পাঁজরের হাড্ডি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড্ডিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁকা হল উপরেরটি। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও তাহলে ভেঙে ফেলবে। আর যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় রেখে দিলে বাঁকাই থেকে যাবে। সুতরাং তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।'১১৬
সুতরাং যেটা অসম্ভব সেটা করতে যেও না। অর্থাৎ তাকে সম্পূর্ণরূপে সোজা করতে যাওয়া। তুমি বরং তোমার স্ত্রীর মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করো। তার স্বভাব-প্রকৃতি অনুধাবনের চেষ্টা করো এবং তার সঙ্গে নরম ও কোমল আচরণ করো।
ইমাম বাইযাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাদিসে ব্যবহৃত اسْتَوْصُوا শব্দের অর্থ হলো, আমি তোমাদের তাদের ব্যাপারে কল্যাণকামিতার আদেশ করছি। সুতরাং তোমরা আমার আদেশ পালন করো এবং তাদের কল্যাণ কামনা করো।
হাদিসে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, শরয়িভাবে বৈধ এমন বিষয়ে নারীকে তার স্বভাবগত বক্রতার উপর ছেড়ে দেওয়া। সে যেভাবে আছে সেভাবেই তার সঙ্গে থাকা। তাকে সোজা করার চেষ্টা না করা। মনে রাখতে হবে, বক্রতাও এক প্রকার সৌন্দর্য। চোখের ভ্রুটা বক্র না হয়ে যদি সোজা হত, তাহলে তা দেখতে লাগতো না।
তবে সে যদি স্বভাবগত বক্রতার কারণে কোনো গুনাহে লিপ্ত হয়, আল্লাহর নাফরমানি করে, ওয়াজিব কোনো আমল ছেড়ে দেয়, তখন আর তাকে ছাড় দেওয়া যাবে না।
অনুরূপভাবে হাদিসে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, নারীকে ক্ষমার মাধ্যমে শাসন করতে হবে। নম্রভাবে তাকে পরিচালিত করতে হবে। তার অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহারে ধৈর্যধারণ করতে হবে। বিচক্ষণতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
অপর একটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিন নারীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ পোষণ করবে না। তার কোনো স্বভাব-চরিত্র অপছন্দ হলে অন্য কোনো স্বভাব-চরিত্র তার অবশ্যই পছন্দ হবে।' ১১৭
অর্থাৎ সে তার কোনো কিছু এমনভাবে ঘৃণা করবে না, যার কারণে তার সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটাতে হয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমরা আমার পক্ষ হতে নারীদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ করো। কেননা তারা তো তোমাদের কাছে আটকে আছে।' ১১৮
এটা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় হজ্বে প্রদত্ত ভাষণের অংশবিশেষ। কত চমৎকার উপমা দেখুন। 'নারীরা তোমাদের নিকট আটকে আছে।' কারণ, তারা পুরুষের নিকট বন্দির ন্যায়। ভগ্ন হৃদয়, ডানা ভাঙ্গা পাখির ন্যায়। তাই পুরুষের উচিত তার ভগ্ন হৃদয়কে জোড়া লাগানো। তার প্রতি সদাচরণ করা। তাকে সম্মান করা। তাকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা। সে কোনো ভুল করে ফেললে ক্ষমা করা। এটি অনেক বড় একটি শিষ্টাচার। সুমহান আখলাকের পরিচায়ক। বিশেষ করে স্ত্রীর রাগের সময়।
অনুরূপভাবে এই হাদিস থেকে আমরা আরেকটি নির্দেশনা লাভ করি, আর তা হচ্ছে, স্ত্রী তার স্বামীর কাছে থাকতে বাধ্য। তার অনুমতি ছাড়া সে কোথাও যাবে না ও কোথাও থাকবে না। স্বামীর গৃহকেই নিজ গৃহ মনে করবে। এটাকেই সে আপন ভুবন বানিয়ে নিবে।
এবার এই হাদিসটি শুনুন। আমি একটু পর পর হাদিস উল্লেখ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুলের আদর্শের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চাচ্ছি। কারণ তিনিই আমাদের জন্য আদর্শের বাতি, আলোকবর্তিকা।
তাই আমাদের তার আদর্শ অধ্যয়ন করা ও তা গ্রহণ করা উচিত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে।' ১১১৯
নাসাঈ শরিফে 'স্ত্রীর সঙ্গে আচরণ' অধ্যায়ে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে,
'আম্মাজান সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলেন, সেদিন তার পালা ছিল। কাফেলা থেকে পিছনে পড়ে যাওয়ার কারণে তার আসতে বিলম্ব হল। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে এসে তাকে গ্রহণ করলেন। তিনি তখন কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, আপনি আমাকে একটি ধীরগামী উটে চড়িয়েছেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু হাত দিয়ে তার অশ্রু মুছে দিলেন এবং তাকে শান্ত করলেন।'
আল্লাহু আকবার! আল্লাহর রাসুল নিজ হাতে তার চোখ মুছে দিচ্ছেন এবং তাকে শান্ত করছেন। কিন্তু তারপরও তিনি যখন কেঁদে চললেন, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ করে তাকে ত্যাগ করলেন। সাফিয়্যা তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে গিয়ে বললেন, আমার ভাগের আজকের দিনটি তোমাকে দিয়ে দিলাম। দেখ তুমি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারো কি না। তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কী করলেন?
হে নারী! তুমি একটু মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ করো। এই হাদিসটি সামনে ইনশাআল্লাহ আসবে। কিন্তু আমি বলছি, এখানে তুমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বুদ্ধিমত্তার প্রতি লক্ষ করো। কীভাবে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মন ভালো করলেন।
তিনি কী করলেন, তার ওড়নাটিতে গোলাব ও জাফরানের পানি ছিটালেন, যাতে সুঘ্রাণ আসে। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিয়রের কাছে এসে বসলেন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার? আজকে তুমি আমার কাছে? তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন সাফিয়্যা তার ভাগের দিনটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দিয়েছেন। তিনি তখন সাফিয়্যার প্রতি খুশি হয়ে গেলেন।
টিকাঃ
১১৬ সহিহ বুখারি: ৩৩৩১, ৫১১৬।
১১৭ সহিহ মুসলিম: ১৪৬৯।
১১৮ সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫১।
* সুরা হুজুরাত : ২১।
যেহেতু নারীদের অনেক নায়ক তবিয়ত দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাই তার উপর অধিক চাপ প্রয়োগ করতে থাকলে, তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করতে থাকলে হিতে বিপরীত হতে পারে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো। কারণ, তাদের পাঁজরের হাড্ডি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড্ডিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁকা হল উপরেরটি। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও তাহলে ভেঙে ফেলবে। আর যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় রেখে দিলে বাঁকাই থেকে যাবে। সুতরাং তোমরা নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।'১১৬
সুতরাং যেটা অসম্ভব সেটা করতে যেও না। অর্থাৎ তাকে সম্পূর্ণরূপে সোজা করতে যাওয়া। তুমি বরং তোমার স্ত্রীর মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করো। তার স্বভাব-প্রকৃতি অনুধাবনের চেষ্টা করো এবং তার সঙ্গে নরম ও কোমল আচরণ করো।
ইমাম বাইযাবি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হাদিসে ব্যবহৃত اسْتَوْصُوا শব্দের অর্থ হলো, আমি তোমাদের তাদের ব্যাপারে কল্যাণকামিতার আদেশ করছি। সুতরাং তোমরা আমার আদেশ পালন করো এবং তাদের কল্যাণ কামনা করো।
হাদিসে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, শরয়িভাবে বৈধ এমন বিষয়ে নারীকে তার স্বভাবগত বক্রতার উপর ছেড়ে দেওয়া। সে যেভাবে আছে সেভাবেই তার সঙ্গে থাকা। তাকে সোজা করার চেষ্টা না করা। মনে রাখতে হবে, বক্রতাও এক প্রকার সৌন্দর্য। চোখের ভ্রুটা বক্র না হয়ে যদি সোজা হত, তাহলে তা দেখতে লাগতো না।
তবে সে যদি স্বভাবগত বক্রতার কারণে কোনো গুনাহে লিপ্ত হয়, আল্লাহর নাফরমানি করে, ওয়াজিব কোনো আমল ছেড়ে দেয়, তখন আর তাকে ছাড় দেওয়া যাবে না।
অনুরূপভাবে হাদিসে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, নারীকে ক্ষমার মাধ্যমে শাসন করতে হবে। নম্রভাবে তাকে পরিচালিত করতে হবে। তার অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহারে ধৈর্যধারণ করতে হবে। বিচক্ষণতা ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
অপর একটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিন নারীর প্রতি ঘৃণা বিদ্বেষ পোষণ করবে না। তার কোনো স্বভাব-চরিত্র অপছন্দ হলে অন্য কোনো স্বভাব-চরিত্র তার অবশ্যই পছন্দ হবে।' ১১৭
অর্থাৎ সে তার কোনো কিছু এমনভাবে ঘৃণা করবে না, যার কারণে তার সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটাতে হয়।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তোমরা আমার পক্ষ হতে নারীদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ করো। কেননা তারা তো তোমাদের কাছে আটকে আছে।' ১১৮
এটা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় হজ্বে প্রদত্ত ভাষণের অংশবিশেষ। কত চমৎকার উপমা দেখুন। 'নারীরা তোমাদের নিকট আটকে আছে।' কারণ, তারা পুরুষের নিকট বন্দির ন্যায়। ভগ্ন হৃদয়, ডানা ভাঙ্গা পাখির ন্যায়। তাই পুরুষের উচিত তার ভগ্ন হৃদয়কে জোড়া লাগানো। তার প্রতি সদাচরণ করা। তাকে সম্মান করা। তাকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা। সে কোনো ভুল করে ফেললে ক্ষমা করা। এটি অনেক বড় একটি শিষ্টাচার। সুমহান আখলাকের পরিচায়ক। বিশেষ করে স্ত্রীর রাগের সময়।
অনুরূপভাবে এই হাদিস থেকে আমরা আরেকটি নির্দেশনা লাভ করি, আর তা হচ্ছে, স্ত্রী তার স্বামীর কাছে থাকতে বাধ্য। তার অনুমতি ছাড়া সে কোথাও যাবে না ও কোথাও থাকবে না। স্বামীর গৃহকেই নিজ গৃহ মনে করবে। এটাকেই সে আপন ভুবন বানিয়ে নিবে।
এবার এই হাদিসটি শুনুন। আমি একটু পর পর হাদিস উল্লেখ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুলের আদর্শের সঙ্গে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চাচ্ছি। কারণ তিনিই আমাদের জন্য আদর্শের বাতি, আলোকবর্তিকা।
তাই আমাদের তার আদর্শ অধ্যয়ন করা ও তা গ্রহণ করা উচিত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে।' ১১১৯
নাসাঈ শরিফে 'স্ত্রীর সঙ্গে আচরণ' অধ্যায়ে হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে,
'আম্মাজান সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলেন, সেদিন তার পালা ছিল। কাফেলা থেকে পিছনে পড়ে যাওয়ার কারণে তার আসতে বিলম্ব হল। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগিয়ে এসে তাকে গ্রহণ করলেন। তিনি তখন কাঁদছিলেন আর বলছিলেন, আপনি আমাকে একটি ধীরগামী উটে চড়িয়েছেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দু হাত দিয়ে তার অশ্রু মুছে দিলেন এবং তাকে শান্ত করলেন।'
আল্লাহু আকবার! আল্লাহর রাসুল নিজ হাতে তার চোখ মুছে দিচ্ছেন এবং তাকে শান্ত করছেন। কিন্তু তারপরও তিনি যখন কেঁদে চললেন, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগ করে তাকে ত্যাগ করলেন। সাফিয়্যা তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে গিয়ে বললেন, আমার ভাগের আজকের দিনটি তোমাকে দিয়ে দিলাম। দেখ তুমি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারো কি না। তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কী করলেন?
হে নারী! তুমি একটু মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ করো। এই হাদিসটি সামনে ইনশাআল্লাহ আসবে। কিন্তু আমি বলছি, এখানে তুমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বুদ্ধিমত্তার প্রতি লক্ষ করো। কীভাবে তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মন ভালো করলেন।
তিনি কী করলেন, তার ওড়নাটিতে গোলাব ও জাফরানের পানি ছিটালেন, যাতে সুঘ্রাণ আসে। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিয়রের কাছে এসে বসলেন। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কী ব্যাপার? আজকে তুমি আমার কাছে? তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে তা দান করেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পারলেন সাফিয়্যা তার ভাগের দিনটি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে দিয়েছেন। তিনি তখন সাফিয়্যার প্রতি খুশি হয়ে গেলেন।
টিকাঃ
১১৬ সহিহ বুখারি: ৩৩৩১, ৫১১৬।
১১৭ সহিহ মুসলিম: ১৪৬৯।
১১৮ সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৮৫১।
* সুরা হুজুরাত : ২১।
📄 স্ত্রীর প্রতি নবিজির ভালোবাসা
দু'ভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়। কথার মাধ্যমে। কাজের মাধ্যমে। কথার মাধ্যমে-যেমন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে যারআর দীর্ঘ হাদিসে** আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলেছিলেন, আমি তোমার জন্য উম্মে যারআর জন্য তার স্বামী আবু যারআর মতো। (অর্থাৎ সে তার স্ত্রীকে যেমন ভালোবাসত ও মহব্বত করত। আমিও তোমাকে তেমন ভালোবাসি ও মহব্বত করি।) তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছিলেন, আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক, অবশ্যই আপনি আমার জন্য উম্মে যারআর জন্য আবু যারআর চেয়ে উত্তম। সুবহানাল্লাহ! যেমন মহান স্বামী, তেমনি মহান স্ত্রী। আম্মাজান আয়েশার কী প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা! রাদিয়াল্লাহু আনহা।
আর স্ত্রীর প্রতি কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশের উদাহরণ তো আল্লাহর রাসুলের জীবনে অসংখ্য। যে মানতে চায়, যে অনুসরণ করতে চায় তার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত, আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'আমি পানীয় দ্রব্য পান করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম। তিনি আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করেছি সেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। অথচ আমি তখন ঋতুমতি ছিলাম। আমি হাঁড় থেকে গোশত কামড়ে নিতাম। তারপর হাঁড়টি তাকে দিতাম। তিনি আমি যেখানে মুখ রাখতাম সেখানে মুখ রাখতেন। অথচ আমি তখন ঋতুমতী ছিলাম।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করা ও খাওয়া উভয় ক্ষেত্রেই আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যেখানে মুখ রেখেছিলেন তিনিও সেখানে মুখ রেখেছিলেন। অথচ তখন আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঋতুমতী ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি দৈহিক উত্তেজনাবশত করেননি। বরং মহব্বত ও ভালোবাসা প্রকাশার্থে করেছিলেন। কারণ আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে তখন মিলিত হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ তিনি ঋতুমতী ছিলেন।
অপর একটি হাদিসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। অথচ আমি তখন হায়েজ অবস্থায় ছিলাম।'
টিকাঃ
** 'স্ত্রীকে সময় দেওয়া' শিরোনামে হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এখানে পুনরুল্লেখ করা হলো না।
'সুনানে ইবনে মাজাহ: ৫২৩।
দু'ভাবে ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়। কথার মাধ্যমে। কাজের মাধ্যমে। কথার মাধ্যমে-যেমন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে যারআর দীর্ঘ হাদিসে** আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলেছিলেন, আমি তোমার জন্য উম্মে যারআর জন্য তার স্বামী আবু যারআর মতো। (অর্থাৎ সে তার স্ত্রীকে যেমন ভালোবাসত ও মহব্বত করত। আমিও তোমাকে তেমন ভালোবাসি ও মহব্বত করি।) তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছিলেন, আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক, অবশ্যই আপনি আমার জন্য উম্মে যারআর জন্য আবু যারআর চেয়ে উত্তম। সুবহানাল্লাহ! যেমন মহান স্বামী, তেমনি মহান স্ত্রী। আম্মাজান আয়েশার কী প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা! রাদিয়াল্লাহু আনহা।
আর স্ত্রীর প্রতি কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশের উদাহরণ তো আল্লাহর রাসুলের জীবনে অসংখ্য। যে মানতে চায়, যে অনুসরণ করতে চায় তার জন্য একটি উদাহরণই যথেষ্ট।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত, আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'আমি পানীয় দ্রব্য পান করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিতাম। তিনি আমি যেখানে মুখ লাগিয়ে পান করেছি সেখানে মুখ লাগিয়ে পান করতেন। অথচ আমি তখন ঋতুমতি ছিলাম। আমি হাঁড় থেকে গোশত কামড়ে নিতাম। তারপর হাঁড়টি তাকে দিতাম। তিনি আমি যেখানে মুখ রাখতাম সেখানে মুখ রাখতেন। অথচ আমি তখন ঋতুমতী ছিলাম।'
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পান করা ও খাওয়া উভয় ক্ষেত্রেই আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা যেখানে মুখ রেখেছিলেন তিনিও সেখানে মুখ রেখেছিলেন। অথচ তখন আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঋতুমতী ছিলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি দৈহিক উত্তেজনাবশত করেননি। বরং মহব্বত ও ভালোবাসা প্রকাশার্থে করেছিলেন। কারণ আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার সঙ্গে তখন মিলিত হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ তিনি ঋতুমতী ছিলেন।
অপর একটি হাদিসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে হেলান দিয়ে কুরআন তেলাওয়াত করতেন। অথচ আমি তখন হায়েজ অবস্থায় ছিলাম।'
টিকাঃ
** 'স্ত্রীকে সময় দেওয়া' শিরোনামে হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এখানে পুনরুল্লেখ করা হলো না।
'সুনানে ইবনে মাজাহ: ৫২৩।
📄 স্ত্রীর প্রতি খলিফা মাহদির ভালোবাসা
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সুন্দর একটি চিত্র আমরা খলিফা মাহদির জীবনে দেখতে পাই। আল্লামা ইবনে কাসির তার বিখ্যাত আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
খলিফা মাহদির জীবদ্দশায় একবার তার স্ত্রী খায়যুরান হজ্জে গমন করেন। তিনি যখন মক্কায় অবস্থান করছিলেন, তখন মাহদি তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করেন এবং তাঁর প্রতি ভালাবাসা প্রকাশে নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করেন,
'আমি খুব সুখে আছি। তবে তুমি ছাড়া কোনো সুখই যে পূর্ণতা পায় না। প্রিয়তমা! তুমি ছাড়া আমার সুখে থাকাটা যে অনুচিত। যেখানে তুমি নেই, অথচ আমি আছি।
তুমি দ্রুত ফিরে এসো। যদি পারো, বাতাসের সঙ্গে উড়ে এসো।'
একটু কল্পনা করুন, কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি এভাবে মন খুলে ভালোবাসা প্রকাশ করে, তাহলে স্ত্রী কি নিজেকে ধরে রাখতে পারে? তার শিরায় শিরায় প্রেমের কী আশ্চর্য ঢেউ উঠে? আবেগের তরঙ্গ তাকে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়?
খলিফা মাহদির স্ত্রী খাইযুরানের শিরাতেও প্রেমের এমন ঢেউ উঠেছিল। তাই চিঠিটি পড়ামাত্র সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর লিখতে বসে গেল,
'তোমার যে প্রেমজ্বালার কথা তুমি তুলে ধরেছো, তা আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু আমি তো উড়তে পারছি না প্রিয়তম। নচেৎ আমি উড়ে যেতাম।
হায়! আমি তোমার জন্য যা লুকিয়ে রেখেছি আমার অন্তরায়, যদি বাতাস তা পৌঁছে দিত তোমার হৃদয় সীমানায়।'
আমি তো দস্তরখানে রাখা সুসজ্জিত খাবারের ন্যায় প্রস্তুত হয়ে আছি। তুমি যদি আমার অনুপস্থিতিতে আমাকে স্মরণ করে সুখ পাও, তাহলে সে সুখই হবে স্থায়ী সুখ।'
সুবহানাল্লাহ! স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কী অনুপম বহিঃপ্রকাশ!
স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সুন্দর একটি চিত্র আমরা খলিফা মাহদির জীবনে দেখতে পাই। আল্লামা ইবনে কাসির তার বিখ্যাত আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
খলিফা মাহদির জীবদ্দশায় একবার তার স্ত্রী খায়যুরান হজ্জে গমন করেন। তিনি যখন মক্কায় অবস্থান করছিলেন, তখন মাহদি তার ব্যাপারে আশঙ্কাবোধ করেন এবং তাঁর প্রতি ভালাবাসা প্রকাশে নিম্নোক্ত কবিতাটি আবৃত্তি করেন,
'আমি খুব সুখে আছি। তবে তুমি ছাড়া কোনো সুখই যে পূর্ণতা পায় না। প্রিয়তমা! তুমি ছাড়া আমার সুখে থাকাটা যে অনুচিত। যেখানে তুমি নেই, অথচ আমি আছি।
তুমি দ্রুত ফিরে এসো। যদি পারো, বাতাসের সঙ্গে উড়ে এসো।'
একটু কল্পনা করুন, কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি এভাবে মন খুলে ভালোবাসা প্রকাশ করে, তাহলে স্ত্রী কি নিজেকে ধরে রাখতে পারে? তার শিরায় শিরায় প্রেমের কী আশ্চর্য ঢেউ উঠে? আবেগের তরঙ্গ তাকে কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়?
খলিফা মাহদির স্ত্রী খাইযুরানের শিরাতেও প্রেমের এমন ঢেউ উঠেছিল। তাই চিঠিটি পড়ামাত্র সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর লিখতে বসে গেল,
'তোমার যে প্রেমজ্বালার কথা তুমি তুলে ধরেছো, তা আমার হাতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু আমি তো উড়তে পারছি না প্রিয়তম। নচেৎ আমি উড়ে যেতাম।
হায়! আমি তোমার জন্য যা লুকিয়ে রেখেছি আমার অন্তরায়, যদি বাতাস তা পৌঁছে দিত তোমার হৃদয় সীমানায়।'
আমি তো দস্তরখানে রাখা সুসজ্জিত খাবারের ন্যায় প্রস্তুত হয়ে আছি। তুমি যদি আমার অনুপস্থিতিতে আমাকে স্মরণ করে সুখ পাও, তাহলে সে সুখই হবে স্থায়ী সুখ।'
সুবহানাল্লাহ! স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কী অনুপম বহিঃপ্রকাশ!