📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 তুলনায় যাবেন না

📄 তুলনায় যাবেন না


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يُسْقَوْنَ مِنْ رَحِيقٍ مَخْتُومٍ خِتَامُهُ مِسْلٌ وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ
'জান্নাতীদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় হতে পান করানো হবে, যার মোহর হবে মিশকের, এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক।'৮০
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও পার্থিব বিষয়ে তার স্ত্রীগণের দৃষ্টি আখেরাতমুখী করে দিতেন।
একবার নবিপত্নিগণ নবিজিকে জিজ্ঞাসা করলেন,
أَيُّنَا أَسْرَعُ بِكَ لُحُوقًا؟ قَالَ: أَطْوَلُكُنَّ يَدًا، فَأَخَذُوا قَصَبَةً يَذْرَعُونَهَا، فَكَانَتْ سَوْدَةُ أَطْوَلَهُنَّ يَدًا، فَعَلِمْنَا بَعْدُ أَنَّمَا كَانَتْ طُولَ يَدِهَا الصَّدَقَةُ، وَكَانَتْ أَسْرَعَنَا لُحُوقًا بِهِ زَيْنَبُ وَكَانَتْ تُحِبُّ الصَّدَقَةَ
'আপনার মৃত্যুর পর আমাদের মধ্যে কে সর্বাগ্রে আপনার সঙ্গে মিলিত হবে? (অর্থাৎ কে সবার আগে মৃত্যুবরণ করবে?) তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা। তখন তারা একটি বাঁশের কঞ্চি নিয়ে নিজেদের হাত মেপে দেখতে লাগল। (দেখল যে,) সাওদা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর হাত সবচেয়ে লম্বা। কিন্তু পরবর্তিতে আমরা জানতে পারলাম যে হাত লম্বা বলতে দান-সদকা বেশি করা বুঝিয়েছেন। (অর্থাৎ যে দান-সদকা বেশি করে)। (নবিজির ইন্তেকালের পর) যয়নাব আমাদের মধ্যে সর্বাগ্রে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি দান-সদকা খুব ভালোবাসতেন।'৮১
নারীকে বলছি-
স্বামীর কাছে কিছু চাইলে সে যদি কখনো না করে, তখন তাকে সুন্দর করে বলুন, 'তোমার মুখে না শুনতেও ভালো লাগে।' দেখবেন, 'না' টা সঙ্গে সঙ্গে 'হাঁ' হয়ে গেছে।
কম্পেয়ারিজম। মানে তুলনা করা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি খুব ইতিবাচক হলেও দাম্পত্য জীবনে খুব নেতিবাচক। এর ফলে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়। অসন্তুষ্টি ও অকৃতজ্ঞতাবোধ জন্ম নেয়।
পুরুষ মানুষ কাউকে স্ত্রী নিয়ে সুখে থাকতে দেখে, নিজের স্ত্রীকে সেই নারীর সঙ্গে তুলনা করে আফসোস করে। তাকে তার মতো হতে বলে। স্ত্রী এতে খুব অপমান বোধ করে।
স্ত্রীও তার স্বামীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে তুলনা করে। তার তখন সেই বান্ধবীর কথা মনে পড়ে, যে তাকে বলেছিল, আমার স্বামী আমার খুব খেয়াল রাখে। সমস্ত কাজে আমাকে সাহায্য করে।
তারপর বান্ধবীর স্বামীর সঙ্গে নিজের স্বামীর তুলনা করতে গিয়ে যখন সে দেখে যে, তার স্বামী তাকে কোনো কাজে সাহায্য করে না। মিষ্টি করে কথা বলে না। তাকে বোঝার চেষ্টা করে না।
এসব ভেবে তার মনটা বিষাদে ভরে যায়। তার মনের গহীনে চাপা বোবা কান্না গুমরে মরে। সে খুব কষ্ট অনুভব করে।
এরপর যখন তার স্বামী বাড়িতে আসে, তখন সে তার সঙ্গে বিরক্তি নিয়ে কথা বলে।
আসলে তারা দুজন যাদের সুখী দম্পতি মনে করছে, তারাও আসলে সুখী নয়। কেননা তাদের সংসারের কিছু কিছু দিক হয়ত খুব পজিটিভ। আনন্দের, সুখের। কিন্তু এমনও অনেক দিক আছে, যেগুলো খুব নেতিবাচক। কষ্টের। বিষাদের। সে কথাগুলো হয়ত তারা জানে না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, জীবনসঙ্গি হিসেবে আমরা যেমনটি কল্পনা করে রাখি, একেবারে মনের মতো, নিখুঁত, আমাদের পক্ষে আসলে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয় না।
কিন্তু আমরা চাইলে আমাদের কল্পনার সেই মানুষটিকে গড়ে নিতে পারি।
কীভাবে?
সর্বপ্রথম আমাদের যেটা করতে হবে, আমাদের কল্পনার চক্ষুকে বন্ধ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একজন নারীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তার স্বামী দীনদার ও আখলাকি হওয়া। তার আচার-ব্যবহার ভালো হওয়া। তাহলে সে তার হেফাজত করতে পারবে এবং তার অধিকারসমূহের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে।
অমুক তার স্ত্রীকে এই দিয়েছে, সেই দিয়েছে। এখানে বেড়াতে নিয়ে গেছে, ওখানে ঘুরতে নিয়ে গেছে। এই করেছে, সেই করেছে—একজন নারীর কখনো তার স্বামীকে এসব কথা বলা উচিত নয়। এমনিভাবে স্বামীর সামনে কখনো বিয়ের আগের ও পরের অবস্থার মাঝে তুলনা না করা। তবে বিয়ের পরের কোনো অবস্থা যদি বেশি ভালো হয়, তাহলে উল্লেখ করা যেতে পারে।
এমনিভাবে একজন পুরুষেরও কখনো উচিত নয়, স্ত্রীর সামনে অন্য কোনো নারীর প্রশংসা করে তাকে খোঁটা দেওয়া। তার আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করা। সে কষ্ট পাবে এমন কোনো কথা বলা। তাকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা।
এতে দাম্পত্যজীবনের প্রতি এক ধরনের অতৃপ্তি চলে আসে। আমরা হতাশায় ভুগতে থাকি। আমাদের মানসিক শান্তি নষ্ট হতে থাকে।
♡ ♡ ♡
আমরা কখনো নাটক, মুভি ও সিরিয়ালের রোমান্টিসিজম আমাদের বাস্তব জীবনের তুলনা করব না। তাহলে আমরা প্রতারিত হব।
কেননা এসব নাটক, মুভি ও সিরিয়ালে আমরা যা দেখি এগুলো কল্পনা ও অভিনয় ছাড়া আর কিছু নয়।
কিভাবে?
সেটা আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।
আমরা যদি এসব অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বাস্তব জীবনের দিকে তাকাই, তাদের সাংসারিক জীবনের খোঁজখবর নেই, তাহলে দেখতে পাব তারা একেকজন একেকটি নরকে বাস করছে। ঘৃণা এসে যাবে তাদের সংসার জীবনের কথা শুনলে। সংসার জীবনে তারা একেকজন চরম ব্যর্থ। অসুখী। সেখানে না আছে কোনো
ভালোবাসা। না আছে চারিত্রিক পবিত্রতা। তাদের বিয়ে করতে দেরি হয়। বিয়ে ভাঙতে দেরি হয় না।
যখন তাদের বিয়ে ভেঙে যায়, কোর্টে মামলা হয়। অনেক টানাহেঁচড়া হয়। মান-সম্মান সব ধুলোয় মিশে যায়। তখন তারা মিডিয়ায় ইন্টারভিউ দিতে এসে বলে, 'আমরা দুজন আলাদা হয়ে গেছি ঠিকই। তবে এখনও আমরা দুজন খুব ভালো বন্ধু। আমাদের দুজনের বোঝাপড়াটা চমৎকার।'
এত চমৎকার যে, তাদের পক্ষে এক ছাদের নিচে থাকা সম্ভব হয়নি।
এসব হাস্যকর কথাবার্তা। খুবই হাস্যকর। ভয়াবহ মিথ্যে। দর্শকের সঙ্গে চরম প্রতারণা।
আল্লাহ তায়ালা এসব ধোঁকা থেকে আমাদের হেফাজত করুন এবং সবর ও শোকরের জিন্দেগি দান করুন।৮২

টিকাঃ
৮০ সুরা মুতাফফিফীন: ২৫-২৬।
৮১ সহিহ বুখারি: ১৪২০।
৮২. হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 দরজা কে খুলবে?

📄 দরজা কে খুলবে?


একদিন সকালে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটি হলো। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুজনেই প্রতিজ্ঞা করল যে, বাসায় যে-ই আসুক, তারা কেউ দরজা খুলবে না।
ঘটনাক্রমে সেদিন স্বামীর পিতা-মাতা এলো। তারা দরজা নক করছে। জোরে জোরে ডাকছে। দরজা খুলতে বলছে।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। স্ত্রী চোখের ইশারায় স্বামীকে তার প্রতিজ্ঞার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
তখন তার পিতা-মাতা অনেকক্ষণ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থেকে চলে গেল। কিন্তু তারা দরজা খুলল না।
কিছুক্ষণ পর স্ত্রীর পিতা-মাতা এলো। দরজায় নক করলো। তারা নক করতেই তাদের মেয়ে অস্থির হয়ে গেল।
স্বামী তার স্ত্রীর দিকে তাকাল, দেখল, সে অঝোরে কাঁদছে। আর বলছে, আল্লাহর শপথ! আমার পিতা-মাতা আমার ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকবে আর আমি দরজা খুলব না, এটা কখনো হতে পারে না। এটা আমার জন্য খুবই কষ্টের।
স্বামী তার কথা শুনে চুপ করে রইল। তখন স্ত্রী গিয়ে দরজা খুলে দিল।
এ ঘটনার পর অনেক বছর কেটে গেল। এর মাঝে তাদের পাঁচটি সন্তান হয়েছে। প্রথম চারটি একে একে পুত্র সন্তান। আর পঞ্চমটি কন্যা সন্তান।
কন্যা সন্তান হওয়াতে তার স্বামী সবচেয়ে বেশি খুশি হলো। মেয়ের আকিকার জন্য বড় করে অনুষ্ঠান করল। আত্মীয়-স্বজন সবাইকে দাওয়াত করলো।
সবাই তো অবাক। মেয়ে হওয়ায় তুমি এত খুশি হলে? কারণ কী? এর আগে তো তোমার আরও চারটি পুত্র সন্তান হয়েছে। তখন তো তোমাকে এত খুশি হতে দেখিনি?
তখন সে উত্তর দিল, একদিন এই মেয়েই আমার জন্য দরজা খুলে দিবে?
কন্যা সন্তান হলে যারা কষ্ট পায়, স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, সন্তান কোলে নিতে চায় না, মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে রাখে, জাহেলি যুগের মানুষের মতো যাদের মুখ কালো হয়ে যায় তাদের জন্য আফসোস! শত আফসোস!!
আমাদের মধ্যে অনেকে আছে, কন্যা সন্তানের চেয়ে পুত্র সন্তান বেশি পছন্দ করে। স্ত্রী পুত্র সন্তান জন্ম না দিলে সে খুব কষ্ট পায়। মনে হয় তাকে কেউ অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষেপ করেছে।
অথচ এটা আমাদের ইসলামের পবিত্র শিক্ষার পরিপন্থি। আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। ইসলামে পুত্রসন্তানকে কন্যাসন্তান থেকে আলাদা করে দেখা হয়নি। আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী প্রত্যেক মুমিন জানে যে, আল্লাহ তায়ালা তার পবিত্র কুরআনে বলেছেন, 'তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন। যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।'৮৩
সুতরাং কন্যা সন্তান হলে যারা অসন্তুষ্ট হয়, তারা মূলত আল্লাহর ফায়সালার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়। তিনি বান্দার জন্য যেটাকে কল্যাণকর মনে করেছেন, সেটাকে অপছন্দ করে।
একজন মুমিন কন্যা সন্তান হলে কীভাবে অসন্তুষ্ট হতে পারে? কীভাবে তার চেহারা কালো হয়ে যেতে পারে? এটা কী আল্লাহ তায়ালার বিরাট দান নয়? তাঁর নেয়ামত নয়?
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যা ও পুত্র সন্তানের মাঝে পার্থক্য করতে নিষেধ করেছেন। তারা প্রত্যেকেই আল্লাহর নেয়ামত। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমরা উপহার-উপঢৌকনের ক্ষেত্রে সন্তানদের মাঝে সমতা বজায় রাখবে। যদি আমি প্রাধান্য দিতাম, তাহলে নারীদের প্রাধান্য দিতাম।'৮৪
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, 'যার তিনটি মেয়ে অথবা তিনটি বোন আছে, সে তাদের সঙ্গে সদাচরণ করলে জান্নাতে যাবে।'৮৫
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, 'যে ব্যক্তি দুটি কন্যা সন্তানকে লালন-পালন করবে, আমি এবং সে এভাবে একসঙ্গে জান্নাতে পাশাপাশি থাকব। এই বলে তিনি হাতের দুটি আঙুল একত্র করে ইশারায় বুঝিয়ে দিলেন।'৮৬

টিকাঃ
৮৩ সুরা শুরা: ৪৯।
৮৪ হাফেজ ইবন হাজার রহিমাহুল্লাহ কৃত ফাতহুল বারি: ৫/২৫৩।
৮৫ সুনানে তিরমিযি: ১৯১২।
৮৬ সুনানে তিরমিযি: ১৯১৪।
* হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 আপনার দাম্পত্যবৃক্ষে ঈমান সিঞ্চিত করুন

📄 আপনার দাম্পত্যবৃক্ষে ঈমান সিঞ্চিত করুন


গোলাপ দেখতে কী সুন্দর তাই না! কী মনমাতানো তার সুরভী! সে নীরবে তার সুরভী ছড়িয়ে যায়। আমরা তার সুরভী উপভোগ করি।
আমরা যদি গোলাপবৃক্ষের যত্ন না নেই। তাতে নিয়মিত পানি না দেই। পরিচর্যা না করি। তাহলে কী আমাদের পক্ষে সবসময় গোলাপের এমন সুরভী উপভোগ করা সম্ভব হতো? হতো না।
আমরা গোলাপের এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারতাম? পারতাম না।
মানুষের দাম্পত্য জীবনও একটি বৃক্ষের ন্যায়। এরও ফুল আছে। ফল আছে। মনমাতানো সুরভী আছে। প্রশান্তি ছড়ানো ছায়া আছে।
কিন্তু এগুলো লাভ করতে হলে আমাদের দাম্পত্য বৃক্ষের যত্ন নিতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। তাহলে আমাদের দাম্পত্য জীবন ফুলে ফলে ছেয়ে থাকবে। ভালোবাসার ছায়া ছড়ানো থাকবে।
কিন্তু কীভাবে আমরা এর যত্ন নিব?
সেজন্য আমাদের যেটা করতে হবে-দাম্পত্য জীবন নামক বৃক্ষের গোড়ায় ঈমানের পানি সিঞ্চন করতে হবে। তাকওয়া তথা আল্লাহর ভয় অর্জন করতে হবে। স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস করতে হবে। সমস্ত গুনাহর কাজ ছাড়ার চেষ্টা করতে হবে। সৎকাজে একে অপরকে সাহায্য করতে হবে। অল্পে তুষ্ট থাকতে হবে। সন্তানকে দীনদারির উপর গড়ে তুলতে হবে। রাতে উঠে একসঙ্গে তাহাজ্জুদ আদায় করতে হবে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'আল্লাহ তায়ালা সেই লোকের প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে তুলে। সে যদি উঠতে না চায় তাহলে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ তায়ালা সেই নারীর প্রতি রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয়। সে যদি উঠতে না চায়, তাহলে মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়।৮৭
১ রাতে উঠে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে তাহাজ্জুদ, সুবহানাল্লাহ, আহা কী স্বর্গীয় দৃশ্য!
কিন্তু এমন দম্পতি বর্তমানে কোথায়, যারা একে অপরকে তাহাজ্জুদের জন্য জাগিয়ে দিবে। উঠতে না চাইলে মুখে পানি ছিটিয়ে দিবে।
এমন দম্পতি খুঁজে পাওয়া আজকাল দুরূহ হলেও এমন অনেক দম্পতি পাওয়া যায়, যারা রাত জেগে একসঙ্গে নাটক, মুভি উপভোগ করে। গান শুনে। পছন্দের নাটক-সিরিয়ালের সময় হয়ে গেল স্মরণ করিয়ে দেয়। বিভিন্ন পার্টি ইনজয় করে।
নাউযুবিল্লাহ। আমরা এমন দম্পতি হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, যারা আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত এবং যাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট।
আমরা তো এমন দম্পতি হতে চাই যাদের বন্ধন শুধু ইহকালের নয়। চিরকালের। যারা জান্নাতেও একসঙ্গে বসবাস করবে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
'অর্থাৎ স্থায়ীভাবে অবস্থানের সেই জান্নাত, যার ভেতর তারা নিজেরাও প্রবেশ করবে এবং তার বাপ-দাদাগণ, স্ত্রীগণ ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেককার হবে, তারাও। আর (তাদের অভ্যর্থনার জন্য) ফেরেশতাগণ তাদের নিকট প্রত্যেক দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। (আর বলতে থাকবে) তোমরা দুনিয়ায় যে সবর অবলম্বন করেছিলে, তার বদৌলতে এখন তোমাদের প্রতি কেবল শান্তিই বর্ষিত হবে এবং প্রকৃত নিবাসে এটা তোমাদের উৎকৃষ্ট পরিণাম।'৮৮
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন,
إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ. هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِثُونَ.
'নিশ্চয় সেদিন জান্নাতবাসীগণ আপন ব্যস্ততায় মগ্ন থাকবে। তারা ও তাদের স্ত্রীগণ নিবিড় ছায়ায় আরামদায়ক আসনে হেলান দিয়ে থাকবে।'৮৯

টিকাঃ
৮৭ সুনানে নাসাঈ: ১৬০৯।
৮৮ সুরা রাদ: ২৩-২৪।
৮৯ সুরা ইয়াসিন: ৫৫-৫৬।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 দাম্পত্য জীবনের সুরক্ষা ও রক্ষাকবচ

📄 দাম্পত্য জীবনের সুরক্ষা ও রক্ষাকবচ


কোনো দম্পতি যদি চায় তাদের দাম্পত্য সুখ স্থায়ী হোক। তার পরিবার ও সন্তান-সন্ততি বিপদাপদ মুক্ত থাকুক। জিন শয়তান ও মানুষ শয়তানের হাত থেকে নিরাপদ থাকুক। তাহলে তাদের কিছু সুরক্ষা ও রক্ষাকবচ গ্রহণ করতে হবে।
কী সেই সুরক্ষা? কী সেই রক্ষাকবচ?
কুরআন-হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন দুআ-দুরুদ, তাসবিহ-তাহলিল ও যিকির-আযকার হচ্ছে সেই সুরক্ষা ও রক্ষাকবচ। এগুলো পড়ার দ্বারা মুমিন যে কোনো বিপদাপদ থেকে মুক্ত থাকে। কোনো বিপদে পড়লে দ্রুত তা থেকে পরিত্রাণ লাভ করে।
কিন্তু আমরা অনেকেই এসব দুআ দুরুদ সম্পর্কে জানি না। যারা জানি, তাদের অনেকে আবার পড়ি না।
মানুষ প্রতিমুহূর্তেই বিভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। কখনো তা অনুকূল হয়, কখনো তা প্রতিকূল। তাই সর্বাবস্থায় আমাদের আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়।
তাছাড়া আমরা প্রায়ই আশপাশের মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন আনন্দ ও সুখের কথা শেয়ার করি। স্ত্রী যেমন শেয়ার করে, তেমনি স্বামীও করে। যেমন, আমার স্বামীর প্রমোশন হয়েছে। কিংবা আমার সন্তানটা ভালো রেজাল্ট করেছে। ওর স্বাস্থ্য আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে ইত্যাদি। এগুলো যখন শেয়ার করি তখন অনেক হিংসুকের চোখ বড় বড় হয়ে উঠে। তাদের বদনজর লাগে।
নজর লাগার বিষয়টি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তাই আমাদের উচিত সকাল-সন্ধ্যা হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন দুআ ও আমলের মাধ্যমে নিজেকে ও নিজের পরিবারের সকলকে সুরক্ষিত রাখা।
যেমন, ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দিয়ে বিসমিল্লাহ বলে প্রবেশ করা। তখন শয়তান আর সেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে না। তেমনি খেতে বসে বিসমিল্লাহ বলে আহার শুরু করা।
* পথিক প্রকাশন থেকে 'নবীজির দিন রাতের আমল' নামে এ বিষয়ক একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ইমাম ইবনুস সুন্নি রহ. বিরচিত। আপনারা চাইলে সে কিতাবটি সংগ্রহ করে আমল করতে পারেন।
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দুআ পড়ে বের হওয়া। কেউ যদি নিম্নোক্ত দুআটি পড়ে ঘর থেকে বের হয়, তাহলে সে সমস্ত অনিষ্ট ও শয়তানের হাত থেকে নিরাপদ থাকবে। আল্লাহ তায়ালা তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। দুআটি হচ্ছে,
بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ. لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.
'আল্লাহর নামে বের হচ্ছি। আল্লাহর উপর ভরসা করছি। তিনি ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।৯১
প্রতি নামাজের শেষে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়া।
প্রত্যেক নামাজের শেষে ও ঘুমের সময় আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করা। সময় করে সুরা বাকারা পড়ে সমস্ত ঘরে দম করা। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ঘরে সুরা বাকারা তেলাওয়াত করা হয় সেই ঘর থেকে শয়তান দূর হয়ে যায়।
শোয়ার সময় অযু করে শোয়া। ডান কাত হয়ে শোয়া এবং জিকির করতে করতে ঘুমাতে যাওয়া।
আজকাল আমরা গান শুনতে শুনতে ঘুমাতে যাই। আল্লাহ না করুন ওই অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হয়, তখন কী অবস্থা হবে চিন্তা করুন। জীবনের শেষ আমল যদি হয় গান শোনা কিংবা নাটক, সিনেমা ইত্যাদি দেখা, তাহলে কি আমি আমার নাজাতের আশা করতে পারি।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে হেফাজত করুন।
• বেশি বেশি দান-সদকা করা। দান-সদকার দ্বারা বিভিন্ন বিপদাপদ দূর হয়।

টিকাঃ
৯১ "সুনানে তিরমিযি: ৩৪২২। সুনানে আবু দাউদ: ৫০৯৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00