📄 শপিংয়ে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়
שপিং পুরুষের জন্য একটা ঝামেলার বিষয়। মানসিক চাপ। কিন্তু নারীদের কাছে শপিং মানেই 'ওয়াও'। ইট'স ফ্যান্টাসটিক। তারা শপিং খুব ইনজয় করে।
এমন অনেক নারী আছে, যারা সারাদিন সারারাত ধরে শপিং করলেও তার শপিং শেষ হবে না। এমন শপিং আসক্ত তারা।
আমাদের কেউ কেউ আছে স্ত্রীর সঙ্গে শপিংয়ে যেতে চায় না। তাকে একাই যেতে দেন। প্রথম কথা তো হলো, নারীদের শপিংয়ে যাওয়াটাই ঠিক না। পর্দার খেলাফ। তারপরও যদি যেতে হয়, তাকে একা যেতে না দেওয়া। সঙ্গে কোনো মাহরামকে দিয়ে দেওয়া।
পুরুষ সঙ্গে গেলে তার পর্দা অধিক রক্ষা হয়। পুরুষ তার জন্য আবরণ ও সুরক্ষাস্বরূপ। তাছাড়া স্ত্রীর জন্য এটা আনন্দেরও বিষয়। স্বামী তার সঙ্গে গেলে সে ফিল করে, স্বামী তাকে গুরুত্ব দেয়।
তবে কথা হলো, আপনি যখন আপনার স্ত্রীকে শপিংয়ে নিয়ে যাবেন, তখন খুব তাড়া দিতে থাকবেন না। জলদি কেনাকাটা করো। জলদি কেনাকাটা করো। কিংবা তুচ্ছ কারণে রাগ করবেন না।
তার ভেতর আপনাকে এই অনুভূতি সৃষ্টি করাতে হবে যে, আপনি তাকে নিয়ে বের হতে পেরে খুশি। আপনার ভালো লাগছে। আপনি খুব উপভোগ করছেন। তবে স্ত্রীর উচিত অযথা সময় নষ্ট না করা। সংক্ষেপে শপিং শেষ করা। স্বামীর সামর্থের প্রতি লক্ষ রাখা। তার সামর্থের বাইরের কোনো কিছু না কেনা বা কেনার জন্য পীড়াপীড়ি না করা।
টিকাঃ
৭৩ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।
📄 কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়
এবার আসি বেড়াতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে-
পুরুষরা অনেক সময় স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যান। বেড়াতে যাওয়ার সময় তাদের রেডি হতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই পুরুষের রেডি হতে সময় কম লাগে। নারীদের সময় বেশি লাগে।
পুরুষ দেখা যায় আগেই রেডি হয়ে বাড়ির বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে। এদিকে স্ত্রীর বের হতে একটু দেরি হচ্ছে। তারপর স্ত্রী যখন বের হয়, তখন স্বামী অভিযোগের সুরে বলতে শুরু করে, তোমার সবসময় দেরি হয়। আমি কতক্ষণ ধরে তোমার অপেক্ষা করছি। এজন্য তোমাকে নিয়ে কোথাও যেতে মন চায় না। তুমি শুরুতেই মুড নষ্ট করে দাও।
সে এটা খেয়াল করে না যে, তাদের হয়ত ছোট ছোট সন্তান আছে, তাই স্ত্রী শুধু একাই রেডি হন না। সন্তানদেরও তার রেডি করতে হয়। তাদের রেডি করতে গিয়ে অনেক সময় একটু দেরি হয়। একেবারে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে দেখা যায় কোনো বাচ্চাকে বাথরুমে নিয়ে যেতে হয়।
সে যদি তাকে তিরস্কার করার আগে এসব বিষয় নিয়ে একটু চিন্তা করত। আরেকটু সবর করত। তাহলে তার জন্য মঙ্গল হত।
অনেক নারী আছে, স্বামীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কিংবা গাড়িতে বসিয়ে রেখে প্রতিবেশিনীর সঙ্গে কথা বলতে থাকে। ‘ভাবি, বেড়াতে যাচ্ছি, আমার বাসার দিকে একটু খেয়াল রাইখেন’—এ কথা বলতে গিয়ে অন্যান্য আলাপও শুরু করে দেয়। এদিকে স্বামী বেচারা অপেক্ষা করতে করতে চরম বিরক্ত।
টিকাঃ
৭৪ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।
📄 শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাওয়া
আমরা অনেক সময় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাই। উৎসবে, উপলক্ষে, বিশেষ কোনো আয়োজনে। এটি খুবই আনন্দের। বিশেষ করে সন্তানদের জন্য। নানুর বাড়ির কথা শুনলে তাদের আনন্দের যেন বাঁধ ছুটে। খুশিতে তারা কী করবে বুঝতে পারে না। সারা বাড়ি লাফাতে থাকে।
কিন্তু অনেক পুরুষ আছে, তারা তাদের কিছু আচার-আচরণের দ্বারা এই আনন্দকে বিষাদে পরিণত করে। পুরো বেড়ানোটা মাটি করে দেয়।
যেমন অনেকে বাসায় ফিরে এসে শ্বশুর বাড়ির বদনাম শুরু করে দেয়। এর চেয়ে বড় কথা হলো, যতক্ষণ শ্বশুর বাড়ি থাকে, চেহারায় একটা বিরক্তির ভাব নিয়ে থাকে। মুখ অন্ধকার করে রাখে। কপাল কুঁচকে রাখে।
এটা ঠিক না। কখনো স্ত্রীর পরিবারের সমালোচনা করবেন না। কারণ, এভাবে তার মনে আঘাত দেওয়া হয়। সে কষ্ট পায়। আপনার প্রতি তার মনে শ্রদ্ধার যে কোমল জায়গাটি ছিল, সেটি নষ্ট হয়। আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে সম্মান করতে চান, তাহলে তার পরিবারকেও আপনার সম্মান করতে হবে। কেননা, তাদের সম্মানেই তার সম্মান।
টিকাঃ
৭৫ 'হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।
📄 এরই নাম ভালোবাসা
মাহমুদ একদিন তার বন্ধুকে আক্ষেপ নিয়ে বলছিল, তিন বছর হলো আমাদের বিয়ের। আমি তাকে শরিয়তসম্মতভাবেই বিয়ে করেছিলাম। খুব আখলাকি। দীনদার। তবে আমার কেন জানি তাকে ভালো লাগে না। সে তেমন সুন্দর না। সেটাই হয়ত তাকে আমার ভালো না লাগার কারণ।
বিয়ের প্রথম দিকে সে স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত ছিল। সিজারে সন্তান হওয়ার পর তার এই সমস্যা আরও বেড়েছে। আগের চেয়ে অনেক মোটা হয়েছে। থলথলে মেদ জমেছে। এখন আমি কী করব?
সমাধান
* যেহেতু সে দীনদার ও উত্তম আখলাকের অধিকারিণী। সুতরাং আপনি তার সঙ্গে থাকুন। সুখ শুধু সৌন্দর্যের মাঝেই নিহিত নয়। জগতের সমস্ত নারী কি সুন্দরী?
* দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই এর বিনিময়ে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করবেন। তার উসিলায় আপনাকে রিজিক দান করবেন। অজানা বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবেন।
* আপনি আপনার নিয়তকে আল্লাহর ওয়াস্তে খাঁটি করুন; ব্যাপক কল্যাণ লাভ করবেন। আপনি তাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করলে কী নিশ্চয়তা আছে যে, সেই নারীর এর চেয়ে বড় কোনো রোগ থাকবে না কিংবা তাকে নিয়ে আপনি সুখি হবেন? এমনও তো হতে পারে আপনি আরও কঠিন বিপদে পড়বেন। তখন আবার ডিভোর্স। তারপর আবার বিয়ে।
* আপনি বরং তাকে মেদ কমানোর জন্য এক্সারসাইজ করতে উদ্বুদ্ধ করুন। নিয়মিত হাঁটতে বলুন। তাকে কোনো মহিলা ফিটনেস স্পেশালিস্টের কাছে নিয়ে যান। সন্তান জন্মদানের পর প্রায় সব নারীরই কম বেশি ওজন বেড়ে যায়। কিছু এক্সারসাইজ করলে এটি আবার ঠিক হয়ে যায়। তাকে বলুন, ওজন না কমালে ভবিষ্যতে সে কী কী স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগবে। যেমন তার হাঁটুর সমস্যা দেখা দিতে পারে, ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তার ডায়াবেটিস, স্ট্রোক সহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এবার একটি ঘটনা শুনুন, এক লোক সুন্দরী এক নারীকে বিয়ে করলো। সে তাকে খুব ভালোবাসত। বিয়ের কয়েক বছর পর তার স্ত্রীর ব্রণের সমস্যা দেখা দিল। দাগে দাগে তার পুরো চেহারা একেবারে নষ্ট হয়ে গেল।
স্ত্রীর এই সমস্যা দেখা দেওয়ার সময় সে সফরে ছিল। তাই সে জানতে পারেনি।
ফিরে আসার সময় রাস্তায় এক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সে তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে।
এরপর তারা উভয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে থাকে। এদিকে তার স্ত্রীর ব্রণের সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট হতে থাকে। একসময় তার সম্পূর্ণ চেহারা নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু স্বামী তো অন্ধ। সে তো তার স্ত্রীর চেহারার এই দশা দেখতে পায় না।
এভাবেই তারা দুজন দুজনকে ভালোবেসে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেয়। একদিন তার স্ত্রী মারা যায়। সে তখন তার মৃত্যুশোকে ভীষণ মুষড়ে পড়ে।
স্ত্রীকে দাফন করে সে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এমন সময় পেছন থেকে এক লোক তাকে ডাক দিয়ে বলল, কোথায় যাচ্ছ হে?
-বাড়িতে।
-তুমি তো অন্ধ। একা কীভাবে যাবে?
-আমি অন্ধ নই। অন্ধ সেজেছিলাম। সফর থেকে ফেরার সময় পথিমধ্যেই আমি আমার স্ত্রীর সমস্যার কথা জেনেছিলাম। কিন্তু আমি তার মনে কষ্ট দিতে চাইনি। সে স্ত্রী হিসেবে খুব উত্তম ছিল। তাই আমি এত বছর অন্ধ সেজে থেকেছি।
সুবহানাল্লাহ! এরই নাম ভালোবাসা! আজকাল এমন স্বামীর কথা শুধু কল্পনাতেই সম্ভব। ১৬
টিকাঃ
৭৬ 'হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।