📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 আদরের বোন

📄 আদরের বোন


সাদিক সাহেব। একজন সরকারি চাকরিজীবী। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনিই সবার বড়। অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছেন। পড়ালেখা করেছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরেছেন। ভাই বোনদের পড়াশোনা করিয়েছেন। বছর তিনেক হয় একমাত্র বোনটাকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় আদরের বোন তার। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে এখন আর তার খোঁজখবর নেওয়া হয় না। তাকে তিনি একরকম ভুলেই গেছেন।
একদিন সন্ধ্যায় তিনি অফিস থেকে ফিরে জামা-কাপড় ছাড়লেন। তারপর খেতে বসলেন। তার স্ত্রীও পাশে বসলেন। তিনি পাশে বসে মাছি তাড়াচ্ছেন আর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি তার বোন রুমানার কথা জিজ্ঞেস করলেন।
-আচ্ছা, রুমানার কী খবর? ওরা কেমন আছে?
-কেমন আছে? হয়ত ভালোই আছে। ডালে চুমুক দিতে দিতে বললেন সাদিক সাহেব।
-অনেক দিন হলো তাদের সঙ্গে কথা হয় না। তোমাকে তো আজকাল তাদের কোনো খোঁজখবর নিতে দেখি না। একটা ফোনও দেও না।
-বিয়ে দিয়ে স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছি। তার সমস্ত দায়দায়িত্ব তো তার স্বামীর।
-তা ঠিক আছে। কিন্তু বিয়ে দিয়ে দিয়েছ বলে তোমার দায়িত্ব তো শেষ হয়ে যায়নি। আর সে-ও তোমার পর হয়ে যায়নি। তোমার বোন তো কোনো পণ্য নয় যে, কোনো ছেলের সঙ্গে একটি চুক্তি করে পণ্যটি তার হাতে তুলে দিলে। ব্যস, তোমার দায়িত্ব শেষ হয়ে গেল। তুমি বড়। এখনও তুমি তার অভিভাবক।
সাদিক সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি খাওয়া শেষ করে বিছানায় গিয়ে শরীরটা ছেড়ে দিলেন।
সংসারের বিভিন্ন কাজ করতে করতে রুমানার দুপুর দু'টা তিনটা বেজে যায়। তারপর গোসল, খাওয়া-দাওয়া ও যোহরের নামাজ শেষে করে বিকেল পাঁচটা
অবধি পর্যন্ত ঘুম। ঘুম থেকে উঠে আসরের নামাজ। আসরের পর চেয়ার নিয়ে বারান্দার কাছে গিয়ে বসা। মাঠে বাচ্চাদের খেলা করতে দেখা।
সন্ধ্যা যখন নামতে শুরু করে, তখন সে অনেকটা উদাস হয়ে যায়। অতীত তার সঙ্গে গল্প করতে আসে। তার তখন মা-বাবা, ভাইদের কথা মনে পড়ে। ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা গহন হয়ে নামে। সে চেয়ার ছেড়ে উঠে ভেতরে চলে যায়।
রুমানা তার স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই তার বড় ভাইয়ের গল্প করে। তার অবদানের কথা, ভালো গুণগুলোর কথা পাঁচকাহন করে বলে। সে এমন একটা ভাই পেয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করে। সন্তানকে সে তার মামার গল্প শোনায়। সে কখনো কান্না করলে, তার মামা তাকে এই কিনে দিবে সেই কিনে দিবে বলে তাকে প্রবোধ দেয়।
বিয়ের প্রথম প্রথম তার ভাই তার অনেক খোঁজ নিত। প্রায়ই ফোন করে তার অবস্থাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত। তার ভাই যখন তাকে ফোন করত, তখন সে তার সঙ্গে জোরে জোরে কথা বলত। সে আসলে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের শোনাতে চাইত, তার ভাই তার খোঁজখবর নিচ্ছে।
সে মাঝে মাঝে তার স্বামীকে বানিয়ে বলত, ভাইয়া তোমাকে সালাম দিতে বলেছে। এভাবে সে তার স্বামীর মনে তার ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করত।
তবে বিয়ের পর দিন যত গিয়েছে, তার ভাই-ও তার খোঁজখবর নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। আর আজকাল তো সে তাকে সম্পূর্ণ ভুলে গেছে, এজন্য তার খুব মন খারাপ হয়। সে মুখ ফুটে কথাগুলো কাউকে বলতে পারে না। তার স্বামী মাঝে মাঝে এ নিয়ে তাকে দুয়েকটা খোঁচা দেয়। কিন্তু সে তা সহ্য করতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে দেয়। এমনিতে সে খুব স্বামী ভক্ত নারী। কিন্তু তার ভাইকে নিয়ে তার স্বামী কিছু বললে, সে কীভাবে যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। তার উপর ডাকিনির শক্তি এসে ভর করে।
আপনি কি জানেন, বোনকে বিয়ে দেওয়ার পর আপনি যখন তাকে ফোন করেন, তার অবস্থাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তাকে বেড়াতে আসার কথা বলেন, তখন খুশিগুলো তার মনের জানালায় এসে তিরতির করতে থাকে।
আপনার বোন যেন বলতে চায়, আমার ভাই আমার আশ্রয়। বিয়ের পর (আল্লাহ না করুন) আমি যদি কখনো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হই, তাহলে আমার ভাই-ই হবে আমার ঠিকানা।
সুতরাং বিয়ের পর আপনি স্ত্রী-সন্তান, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে বোনকে ভুলে যাবেন না। আপনি তার জন্য সম্মান, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। আপনি আছেন বলেই পৃথিবীতে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করে।
আপনারা একই মায়ের সন্তান-তার এতটুকু পরিচয় কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তার খুশি তো আপনার মায়েরও খুশি।
এক আরব বেদুইনকে বলা হলো, আপনার সন্তান মারা গেছে। তখন সে বলল, আল্লাহর পক্ষ থেকে বিরাট প্রতিদান লাভ হলো।
তারপর তাকে বলা হলো, আপনার ভাই মারা গেছে। তখন সে বলল, আমার পিঠ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
কারণ, ভাইয়ের কোনো বিকল্প হয় না। ভাই বড় ধন। অমূল্য রতন।
তাই ভাই-বোনদের প্রতি যত্নবান হোন। বিশেষ করে বোনদের। তাদের বিয়ে দিয়ে ভুলে যাবেন না। যত সমস্যাই হোক, শয়তানকে কখনো আপনাদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করার সুযোগ দিবেন না।

টিকাঃ
*২ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 শপিংয়ে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়

📄 শপিংয়ে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়


שপিং পুরুষের জন্য একটা ঝামেলার বিষয়। মানসিক চাপ। কিন্তু নারীদের কাছে শপিং মানেই 'ওয়াও'। ইট'স ফ্যান্টাসটিক। তারা শপিং খুব ইনজয় করে।
এমন অনেক নারী আছে, যারা সারাদিন সারারাত ধরে শপিং করলেও তার শপিং শেষ হবে না। এমন শপিং আসক্ত তারা।
আমাদের কেউ কেউ আছে স্ত্রীর সঙ্গে শপিংয়ে যেতে চায় না। তাকে একাই যেতে দেন। প্রথম কথা তো হলো, নারীদের শপিংয়ে যাওয়াটাই ঠিক না। পর্দার খেলাফ। তারপরও যদি যেতে হয়, তাকে একা যেতে না দেওয়া। সঙ্গে কোনো মাহরামকে দিয়ে দেওয়া।
পুরুষ সঙ্গে গেলে তার পর্দা অধিক রক্ষা হয়। পুরুষ তার জন্য আবরণ ও সুরক্ষাস্বরূপ। তাছাড়া স্ত্রীর জন্য এটা আনন্দেরও বিষয়। স্বামী তার সঙ্গে গেলে সে ফিল করে, স্বামী তাকে গুরুত্ব দেয়।
তবে কথা হলো, আপনি যখন আপনার স্ত্রীকে শপিংয়ে নিয়ে যাবেন, তখন খুব তাড়া দিতে থাকবেন না। জলদি কেনাকাটা করো। জলদি কেনাকাটা করো। কিংবা তুচ্ছ কারণে রাগ করবেন না।
তার ভেতর আপনাকে এই অনুভূতি সৃষ্টি করাতে হবে যে, আপনি তাকে নিয়ে বের হতে পেরে খুশি। আপনার ভালো লাগছে। আপনি খুব উপভোগ করছেন। তবে স্ত্রীর উচিত অযথা সময় নষ্ট না করা। সংক্ষেপে শপিং শেষ করা। স্বামীর সামর্থের প্রতি লক্ষ রাখা। তার সামর্থের বাইরের কোনো কিছু না কেনা বা কেনার জন্য পীড়াপীড়ি না করা।

টিকাঃ
৭৩ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়

📄 কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়


এবার আসি বেড়াতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে-
পুরুষরা অনেক সময় স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যান। বেড়াতে যাওয়ার সময় তাদের রেডি হতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই পুরুষের রেডি হতে সময় কম লাগে। নারীদের সময় বেশি লাগে।
পুরুষ দেখা যায় আগেই রেডি হয়ে বাড়ির বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে। এদিকে স্ত্রীর বের হতে একটু দেরি হচ্ছে। তারপর স্ত্রী যখন বের হয়, তখন স্বামী অভিযোগের সুরে বলতে শুরু করে, তোমার সবসময় দেরি হয়। আমি কতক্ষণ ধরে তোমার অপেক্ষা করছি। এজন্য তোমাকে নিয়ে কোথাও যেতে মন চায় না। তুমি শুরুতেই মুড নষ্ট করে দাও।
সে এটা খেয়াল করে না যে, তাদের হয়ত ছোট ছোট সন্তান আছে, তাই স্ত্রী শুধু একাই রেডি হন না। সন্তানদেরও তার রেডি করতে হয়। তাদের রেডি করতে গিয়ে অনেক সময় একটু দেরি হয়। একেবারে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে দেখা যায় কোনো বাচ্চাকে বাথরুমে নিয়ে যেতে হয়।
সে যদি তাকে তিরস্কার করার আগে এসব বিষয় নিয়ে একটু চিন্তা করত। আরেকটু সবর করত। তাহলে তার জন্য মঙ্গল হত।
অনেক নারী আছে, স্বামীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কিংবা গাড়িতে বসিয়ে রেখে প্রতিবেশিনীর সঙ্গে কথা বলতে থাকে। ‘ভাবি, বেড়াতে যাচ্ছি, আমার বাসার দিকে একটু খেয়াল রাইখেন’—এ কথা বলতে গিয়ে অন্যান্য আলাপও শুরু করে দেয়। এদিকে স্বামী বেচারা অপেক্ষা করতে করতে চরম বিরক্ত।

টিকাঃ
৭৪ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাওয়া

📄 শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাওয়া


আমরা অনেক সময় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যাই। উৎসবে, উপলক্ষে, বিশেষ কোনো আয়োজনে। এটি খুবই আনন্দের। বিশেষ করে সন্তানদের জন্য। নানুর বাড়ির কথা শুনলে তাদের আনন্দের যেন বাঁধ ছুটে। খুশিতে তারা কী করবে বুঝতে পারে না। সারা বাড়ি লাফাতে থাকে।
কিন্তু অনেক পুরুষ আছে, তারা তাদের কিছু আচার-আচরণের দ্বারা এই আনন্দকে বিষাদে পরিণত করে। পুরো বেড়ানোটা মাটি করে দেয়।
যেমন অনেকে বাসায় ফিরে এসে শ্বশুর বাড়ির বদনাম শুরু করে দেয়। এর চেয়ে বড় কথা হলো, যতক্ষণ শ্বশুর বাড়ি থাকে, চেহারায় একটা বিরক্তির ভাব নিয়ে থাকে। মুখ অন্ধকার করে রাখে। কপাল কুঁচকে রাখে।
এটা ঠিক না। কখনো স্ত্রীর পরিবারের সমালোচনা করবেন না। কারণ, এভাবে তার মনে আঘাত দেওয়া হয়। সে কষ্ট পায়। আপনার প্রতি তার মনে শ্রদ্ধার যে কোমল জায়গাটি ছিল, সেটি নষ্ট হয়। আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে সম্মান করতে চান, তাহলে তার পরিবারকেও আপনার সম্মান করতে হবে। কেননা, তাদের সম্মানেই তার সম্মান।

টিকাঃ
৭৫ 'হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00