📘 দুজনার পাঠশালা 📄 শ্বশুরবাড়ির মানুষের সঙ্গে আচরণ

📄 শ্বশুরবাড়ির মানুষের সঙ্গে আচরণ


এক ধনী ব্যক্তি। বিয়ে করেছে এক গরীবের মেয়েকে। মেয়েটি খুব সুন্দরী। দীনদার। ধনী ব্যক্তি একদিন গাড়ি নিয়ে বের হলো। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তার শ্বশুরকে দেখলো, সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমে তাকে জড়িয়ে ধরলো। মাথায় চুমু খেলো।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি একজন ধনী মানুষ হয়ে এমনটা কীভাবে করলেন?
তখন তিনি মৃদু হেসে বললেন, আমি এমনটি করেছি যাতে আমার সন্তানরা আমার শ্বশুরকে মর্যাদার চোখে দেখে। তাদের কাছে তার মর্যাদা অনেক বেড়ে যায়। তখন তারা তাদের মাকেও মর্যাদার চোখে দেখবে।
♥ আপনার স্ত্রীকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে দেখা করতে ও তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধাপ্রদান করবেন না। আপনি নিজেকে আপনার স্ত্রীর স্থানে রেখে কল্পনা করুন। তার উপর তাদেরও হক আছে।
♥ তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে আপনি তার প্রশংসা করুন। যেমন সে খুব সুন্দরভাবে সন্তানদের দেখভাল করে। সংসারের সবকিছু সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখে।
♥ আপনার শ্যালক ও সমন্দিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করুন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। মাঝে মাঝে ফোন, অথবা টেক্সট করে তাদের খোঁজখবর নিন।
♥ আপনি আপনার শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে এমনভাবে মিশবেন যেন, আপনিও তাদের পরিবারেরই একজন। তারা গরিব হলে অবহেলার চোখে দেখবেন না। স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বেড়াতে যান। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলুন। খোঁজ খবর নিন। মাঝে মাঝে তাদের হাদিয়া দিন। তাদের থেকে দূরে দূরে থাকবেন না। তারা যেন মনে না করে আপনি পরের বাড়ির ছেলে। তাদের খেদমত করতে আগ্রহী থাকুন।
• নিজের আর্থিক বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না। এগুলো স্পর্শকাতর বিষয়।
• স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের নাম মুখস্থ রাখুন। এ বিষয়টিকে তারা খুব মূল্যায়ণ করে।
♥ সন্তানদের নাম রাখার ক্ষেত্রে শ্বশুর-শাশুড়ির মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করুন। তাদের আবেগ অনুভূতিকে অবহেলা করবেন না।
♥ শ্বাশুড়িকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসুন। তার মন জয় করার চেষ্টা করুন। তার সঙ্গে আদব ও এহতেরাম বজায় রাখুন।
♥ আপনার পরিবার সম্পর্কে তাদেরও জানান। তবে কখনোই এমন কিছু জানাবেন না, যাতে তাদের চোখে আপনার পরিবারের লোকেরা ছোটো হয়। তাদের মর্যাদাহানি হয়।
♥ আপনি যেমন চান আপনার স্ত্রী আপনার মা-বাবাকে, আপনার পরিবারের লোকদের সম্মান করুক, ভালোবাসুক। তেমনি সেও চায়।
♥ জনৈকা নারী বলেন, আমার পরিবারকে সম্মান করা মানে আমাকে সম্মান করা। তাদের অপমান করা মানে আমাকে অপমান করা। আমার স্বামী যেমন চায়, তার পরিবারের লোকজন আমাদের এখানে বেড়াতে আসলে আমি যেন তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। তাদের সঙ্গে হাসিখুশি থাকি। তেমনি আমিও চাই। সুতরাং সে আমার জন্য যেমন হবে, আমিও তার জন্য তেমন হব।”

টিকাঃ
৭১ 'হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা 📄 আদরের বোন

📄 আদরের বোন


সাদিক সাহেব। একজন সরকারি চাকরিজীবী। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনিই সবার বড়। অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছেন। পড়ালেখা করেছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরেছেন। ভাই বোনদের পড়াশোনা করিয়েছেন। বছর তিনেক হয় একমাত্র বোনটাকে বিয়ে দিয়েছেন। বড় আদরের বোন তার। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে এখন আর তার খোঁজখবর নেওয়া হয় না। তাকে তিনি একরকম ভুলেই গেছেন।
একদিন সন্ধ্যায় তিনি অফিস থেকে ফিরে জামা-কাপড় ছাড়লেন। তারপর খেতে বসলেন। তার স্ত্রীও পাশে বসলেন। তিনি পাশে বসে মাছি তাড়াচ্ছেন আর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছেন। কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি তার বোন রুমানার কথা জিজ্ঞেস করলেন।
-আচ্ছা, রুমানার কী খবর? ওরা কেমন আছে?
-কেমন আছে? হয়ত ভালোই আছে। ডালে চুমুক দিতে দিতে বললেন সাদিক সাহেব।
-অনেক দিন হলো তাদের সঙ্গে কথা হয় না। তোমাকে তো আজকাল তাদের কোনো খোঁজখবর নিতে দেখি না। একটা ফোনও দেও না।
-বিয়ে দিয়ে স্বামীর হাতে তুলে দিয়েছি। তার সমস্ত দায়দায়িত্ব তো তার স্বামীর।
-তা ঠিক আছে। কিন্তু বিয়ে দিয়ে দিয়েছ বলে তোমার দায়িত্ব তো শেষ হয়ে যায়নি। আর সে-ও তোমার পর হয়ে যায়নি। তোমার বোন তো কোনো পণ্য নয় যে, কোনো ছেলের সঙ্গে একটি চুক্তি করে পণ্যটি তার হাতে তুলে দিলে। ব্যস, তোমার দায়িত্ব শেষ হয়ে গেল। তুমি বড়। এখনও তুমি তার অভিভাবক।
সাদিক সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না। তিনি খাওয়া শেষ করে বিছানায় গিয়ে শরীরটা ছেড়ে দিলেন।
সংসারের বিভিন্ন কাজ করতে করতে রুমানার দুপুর দু'টা তিনটা বেজে যায়। তারপর গোসল, খাওয়া-দাওয়া ও যোহরের নামাজ শেষে করে বিকেল পাঁচটা
অবধি পর্যন্ত ঘুম। ঘুম থেকে উঠে আসরের নামাজ। আসরের পর চেয়ার নিয়ে বারান্দার কাছে গিয়ে বসা। মাঠে বাচ্চাদের খেলা করতে দেখা।
সন্ধ্যা যখন নামতে শুরু করে, তখন সে অনেকটা উদাস হয়ে যায়। অতীত তার সঙ্গে গল্প করতে আসে। তার তখন মা-বাবা, ভাইদের কথা মনে পড়ে। ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা গহন হয়ে নামে। সে চেয়ার ছেড়ে উঠে ভেতরে চলে যায়।
রুমানা তার স্বামীর সঙ্গে প্রায়ই তার বড় ভাইয়ের গল্প করে। তার অবদানের কথা, ভালো গুণগুলোর কথা পাঁচকাহন করে বলে। সে এমন একটা ভাই পেয়ে নিজেকে খুব ভাগ্যবতী মনে করে। সন্তানকে সে তার মামার গল্প শোনায়। সে কখনো কান্না করলে, তার মামা তাকে এই কিনে দিবে সেই কিনে দিবে বলে তাকে প্রবোধ দেয়।
বিয়ের প্রথম প্রথম তার ভাই তার অনেক খোঁজ নিত। প্রায়ই ফোন করে তার অবস্থাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত। তার ভাই যখন তাকে ফোন করত, তখন সে তার সঙ্গে জোরে জোরে কথা বলত। সে আসলে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের শোনাতে চাইত, তার ভাই তার খোঁজখবর নিচ্ছে।
সে মাঝে মাঝে তার স্বামীকে বানিয়ে বলত, ভাইয়া তোমাকে সালাম দিতে বলেছে। এভাবে সে তার স্বামীর মনে তার ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করত।
তবে বিয়ের পর দিন যত গিয়েছে, তার ভাই-ও তার খোঁজখবর নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। আর আজকাল তো সে তাকে সম্পূর্ণ ভুলে গেছে, এজন্য তার খুব মন খারাপ হয়। সে মুখ ফুটে কথাগুলো কাউকে বলতে পারে না। তার স্বামী মাঝে মাঝে এ নিয়ে তাকে দুয়েকটা খোঁচা দেয়। কিন্তু সে তা সহ্য করতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়ে দেয়। এমনিতে সে খুব স্বামী ভক্ত নারী। কিন্তু তার ভাইকে নিয়ে তার স্বামী কিছু বললে, সে কীভাবে যেন রুদ্রমূর্তি ধারণ করে। তার উপর ডাকিনির শক্তি এসে ভর করে।
আপনি কি জানেন, বোনকে বিয়ে দেওয়ার পর আপনি যখন তাকে ফোন করেন, তার অবস্থাদি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তাকে বেড়াতে আসার কথা বলেন, তখন খুশিগুলো তার মনের জানালায় এসে তিরতির করতে থাকে।
আপনার বোন যেন বলতে চায়, আমার ভাই আমার আশ্রয়। বিয়ের পর (আল্লাহ না করুন) আমি যদি কখনো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হই, তাহলে আমার ভাই-ই হবে আমার ঠিকানা।
সুতরাং বিয়ের পর আপনি স্ত্রী-সন্তান, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে বোনকে ভুলে যাবেন না। আপনি তার জন্য সম্মান, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। আপনি আছেন বলেই পৃথিবীতে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করে।
আপনারা একই মায়ের সন্তান-তার এতটুকু পরিচয় কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়? তার খুশি তো আপনার মায়েরও খুশি।
এক আরব বেদুইনকে বলা হলো, আপনার সন্তান মারা গেছে। তখন সে বলল, আল্লাহর পক্ষ থেকে বিরাট প্রতিদান লাভ হলো।
তারপর তাকে বলা হলো, আপনার ভাই মারা গেছে। তখন সে বলল, আমার পিঠ ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
কারণ, ভাইয়ের কোনো বিকল্প হয় না। ভাই বড় ধন। অমূল্য রতন।
তাই ভাই-বোনদের প্রতি যত্নবান হোন। বিশেষ করে বোনদের। তাদের বিয়ে দিয়ে ভুলে যাবেন না। যত সমস্যাই হোক, শয়তানকে কখনো আপনাদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করার সুযোগ দিবেন না।

টিকাঃ
*২ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা 📄 শপিংয়ে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়

📄 শপিংয়ে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়


שপিং পুরুষের জন্য একটা ঝামেলার বিষয়। মানসিক চাপ। কিন্তু নারীদের কাছে শপিং মানেই 'ওয়াও'। ইট'স ফ্যান্টাসটিক। তারা শপিং খুব ইনজয় করে।
এমন অনেক নারী আছে, যারা সারাদিন সারারাত ধরে শপিং করলেও তার শপিং শেষ হবে না। এমন শপিং আসক্ত তারা।
আমাদের কেউ কেউ আছে স্ত্রীর সঙ্গে শপিংয়ে যেতে চায় না। তাকে একাই যেতে দেন। প্রথম কথা তো হলো, নারীদের শপিংয়ে যাওয়াটাই ঠিক না। পর্দার খেলাফ। তারপরও যদি যেতে হয়, তাকে একা যেতে না দেওয়া। সঙ্গে কোনো মাহরামকে দিয়ে দেওয়া।
পুরুষ সঙ্গে গেলে তার পর্দা অধিক রক্ষা হয়। পুরুষ তার জন্য আবরণ ও সুরক্ষাস্বরূপ। তাছাড়া স্ত্রীর জন্য এটা আনন্দেরও বিষয়। স্বামী তার সঙ্গে গেলে সে ফিল করে, স্বামী তাকে গুরুত্ব দেয়।
তবে কথা হলো, আপনি যখন আপনার স্ত্রীকে শপিংয়ে নিয়ে যাবেন, তখন খুব তাড়া দিতে থাকবেন না। জলদি কেনাকাটা করো। জলদি কেনাকাটা করো। কিংবা তুচ্ছ কারণে রাগ করবেন না।
তার ভেতর আপনাকে এই অনুভূতি সৃষ্টি করাতে হবে যে, আপনি তাকে নিয়ে বের হতে পেরে খুশি। আপনার ভালো লাগছে। আপনি খুব উপভোগ করছেন। তবে স্ত্রীর উচিত অযথা সময় নষ্ট না করা। সংক্ষেপে শপিং শেষ করা। স্বামীর সামর্থের প্রতি লক্ষ রাখা। তার সামর্থের বাইরের কোনো কিছু না কেনা বা কেনার জন্য পীড়াপীড়ি না করা।

টিকাঃ
৭৩ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা 📄 কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়

📄 কোথাও বেড়াতে যাওয়ার সময় লক্ষণীয়


এবার আসি বেড়াতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে-
পুরুষরা অনেক সময় স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যান। বেড়াতে যাওয়ার সময় তাদের রেডি হতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই পুরুষের রেডি হতে সময় কম লাগে। নারীদের সময় বেশি লাগে।
পুরুষ দেখা যায় আগেই রেডি হয়ে বাড়ির বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে। এদিকে স্ত্রীর বের হতে একটু দেরি হচ্ছে। তারপর স্ত্রী যখন বের হয়, তখন স্বামী অভিযোগের সুরে বলতে শুরু করে, তোমার সবসময় দেরি হয়। আমি কতক্ষণ ধরে তোমার অপেক্ষা করছি। এজন্য তোমাকে নিয়ে কোথাও যেতে মন চায় না। তুমি শুরুতেই মুড নষ্ট করে দাও।
সে এটা খেয়াল করে না যে, তাদের হয়ত ছোট ছোট সন্তান আছে, তাই স্ত্রী শুধু একাই রেডি হন না। সন্তানদেরও তার রেডি করতে হয়। তাদের রেডি করতে গিয়ে অনেক সময় একটু দেরি হয়। একেবারে বের হওয়ার আগ মুহূর্তে দেখা যায় কোনো বাচ্চাকে বাথরুমে নিয়ে যেতে হয়।
সে যদি তাকে তিরস্কার করার আগে এসব বিষয় নিয়ে একটু চিন্তা করত। আরেকটু সবর করত। তাহলে তার জন্য মঙ্গল হত।
অনেক নারী আছে, স্বামীকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে কিংবা গাড়িতে বসিয়ে রেখে প্রতিবেশিনীর সঙ্গে কথা বলতে থাকে। ‘ভাবি, বেড়াতে যাচ্ছি, আমার বাসার দিকে একটু খেয়াল রাইখেন’—এ কথা বলতে গিয়ে অন্যান্য আলাপও শুরু করে দেয়। এদিকে স্বামী বেচারা অপেক্ষা করতে করতে চরম বিরক্ত।

টিকাঃ
৭৪ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية