📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 একদিকে মা, একদিকে স্ত্রী

📄 একদিকে মা, একদিকে স্ত্রী


বউ-শাশুড়ির মাঝে সাধারণত সম্পর্ক ভালো থাকে না, এটা প্রসিদ্ধ কথা। তাদের মাঝে বন্দুক যুদ্ধ না হলেও স্নায়ু যুদ্ধ চলতে থাকে। খুব কম পরিবারেই বউ-শাশুড়ির মাঝে সুসম্পর্ক দেখা যায়। কোনো কোনো পরিবারের কাছে তো এটা দুঃস্বপ্ন।
স্ত্রী ও মাকে নিয়ে অনেক পুরুষকে কঠিন সমস্যায় পড়তে হয়। উভয় সংকট যাকে বলে। একদিকে মা, একদিকে স্ত্রী। সে কোন পক্ষ নিবে বুঝতে পারে না। কারণ তাকে দুজনকেই সন্তুষ্ট রাখতে হবে।
এমতাবস্থায় সে যদি একটু হেকমত ও সবরের সঙ্গে চলে, তাহলে সে উভয়কেই সন্তুষ্ট রাখতে পারবে এবং উভয়ের হক আদায় করতে পারবে।
প্রথমে পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। আপনার মায়ের প্রতি আপনার স্ত্রীর অনুভূতি কী, সে তাকে নিয়ে কী ভাবে, তার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, এগুলো জানার চেষ্টা করতে হবে।
আপনার মা আপনাদের সঙ্গে থাকলে আপনার স্ত্রী যদি বিরক্তি প্রকাশ করে তাহলে এর কারণ কী—আপনাকে তা খুঁজে বের করতে হবে।
অপরদিকে মায়ের দিকটিও আপনার ভুলে থাকলে চলবে না। আপনার স্ত্রীর প্রতি তার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের পেছনে কারণ হচ্ছে—তিনি আশঙ্কা করেন, তিনি আপনার কাছে অপাংক্তেয় হয়ে পড়বেন। এতদিন যে মাকে অবলম্বন করে আপনি বেঁচেছেন। এখন তাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো নারীকে আপনি আপনার অবলম্বন বানিয়েছেন। এসব ভেবে তিনি হয়তো খুব সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।
এ ক্ষেত্রে আপনার জন্য আমার পরামর্শ হলো,
• আপনি তাদের উভয়ের সঙ্গেই কথা বলুন। তাদের আবেগ-অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।
♥ আপনার স্ত্রী যদি আপনার মায়ের সঙ্গে না থাকে, কিংবা কর্মস্থলের কারণে আপনাকে ফ্যামিলি নিয়ে আলাদা থাকতে হয়, তাহলে চেষ্টা করবেন উভয়ের মাঝে ঘন ঘন সাক্ষাৎ করাতে। স্ত্রীকে প্রায় মায়ের বাড়িতে নিয়ে আসবেন। এসে যেন আবার বেশিদিন না থাকে। তখন
আবার তিক্ততা শুরু হয়ে যাবে। স্বল্প সময়ের জন্য আসবেন। দু-তিন দিন বা দুয়েক সপ্তাহ। আপনি এটা ভাববেন না, বেশিদিন থাকলে সম্পর্ক মধুর হবে।
♥ স্ত্রীর সঙ্গে আপনি আপনার মায়ের স্মৃতিচারণ করুন। আপনাদের তিনি কত কষ্ট করে মানুষ করেছেন, বড় করেছেন, তার সেসব ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা আলোচনা করুন। তাকে মাঝে মাঝে আপনার মায়ের মজার মজার ঘটনা শোনান। এভাবে তার ভেতর আপনার মায়ের প্রতি মমত্ব ও শ্রদ্ধাবোধ জেগে উঠবে।
• আপনার মা সম্পর্কে আপনার কোনো নেতিবাচক চিন্তা স্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
♥ তাদের একজনকে আরেকজনের সামনে মন্দভাবে তুলে ধরবেন না। একজনের কাছে অন্যজনের খারাপ দিকগুলো আলোচনা করবেন না।
• দুজনের কেউ যেন অপরের সম্পর্কে আপনার কাছে মন্দ কিছু বলার সুযোগ না পায়। গালিগালাজ তো দূরের কথা।
♥ যে কোনো দ্বন্ধ সূচনাতেই মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।
• কারও বেশি বেশি বলার অভ্যাস থাকলে শুধু নির্দিষ্ট অভিযোগটি শুনুন। অতীতের পুরনো কাসন্দি ঘাটার সুযোগ দেবেন না।
• প্রত্যেককে নিয়ে আলাদাভাবে বসুন। এমন যেন না হয়, দুজনকে একসঙ্গে নিয়ে বসলেন। আর তারা আপনার সামনেই ঝগড়া শুরু করে দিল।
• দুজনের কাউকে অপরকে মহব্বত করার জন্য জোর করবেন না। এক পক্ষকে খুশি করতে গিয়ে অপর পক্ষের উপর জুলুম করবেন না।
• সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে নিজে সমস্যায় জড়াবেন না। নিজেকে দূরে রাখবেন। তবে কী হচ্ছে, তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।
• তারা উভয়ে যেন আপনাকে সম্মান করে, আপনার কথা গ্রহণ করে, নিজেকে আপনার সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে।
♥ কিছু বিষয়ে আপনাকে সুস্পষ্টরূপে 'না' বলে দিতে হবে। কোনোরূপ প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যেমন, আপনার মা যদি আপনার সন্তানদের লালন-পালনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চান কিংবা আপনার স্ত্রী যদি সন্তানদের দাদা-দাদীর কাছে যেতে বাধা দেয়।
এবার এক ব্যতিক্রমী নারীর কথা বলি, সব নারী তো আর একরকম হয় না। পৃথিবীতে আল্লাহর কিছু প্রিয় বান্দিও থাকেন। আমার একজন বৃদ্ধা পেশেন্ট আছেন। পঙ্গু। তার সঙ্গে সবসময় একজন মহিলা থাকেন। এক মুহূর্তের জন্যও তাকে ছেড়ে কোথাও যান না। বৃদ্ধার ছেলে বড় এক ভার্সিটির প্রফেসর। একদিন সে আমাকে বলল, এই ভদ্র মহিলা আমার স্ত্রী। আজ চৌদ্দ বছর যাবৎ সে আমার মায়ের খেদমত করে যাচ্ছে। তাকে সেবা-শুশ্রুষা করছে। এক রাতের জন্য সে আমার মাকে একা থাকতে দেয়নি।
আল্লাহর এ জমিনে আল্লাহর এমন বান্দিও আছে, যে পূর্ণ নিবেদন ও আত্মত্যাগের সঙ্গে, নিজের সর্বস্ব দিয়ে শ্বাশুড়ির খেদমত করে যাচ্ছে।

টিকাঃ
* হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন: ১৪৪-১৪৫।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্ত্রীর কারণে মায়ের উপর জুলুম না করা

📄 স্ত্রীর কারণে মায়ের উপর জুলুম না করা


মায়ের শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহের কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পর তাকে সর্বোচ্চ শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে। একজন মা তার সন্তানের জান্নাত, যদি সন্তান তার হক আদায় করতে পারে। আর হক আদায় করতে না পারলে এই জান্নাতই তার জন্য জাহান্নামে পরিণত হবে।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
'এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি জিজ্ঞাসা করল, অতঃপর কে? নবিজি বললেন, তোমার মা। সে বললো, অতঃপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। সে বললো, অতঃপর কে? তিনি বললেন, তোমার বাবা। ৫৯
আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন,
'ইয়া রাসুলাল্লাহ, নারীর উপর সবচেয়ে বেশি অধিকার কার? তিনি বললেন, তার স্বামীর। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করলেন, পুরুষের উপর? নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার মায়ের।' ৬০
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন,
'নিশ্চয় মহান আল্লাহ তোমাদের মায়েদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছেন, তারপর আবার তিনি তোমাদের মায়েদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছেন, তারপর তিনি তোমাদের বাবাদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছেন, তারপর তিনি আত্মীয়তার দিক থেকে যে যত নিকটের তার সঙ্গে তত সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছেন।'৬১
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তায়ালা মায়েদের সঙ্গে অবাধ্যচরণকে হারাম করেছেন। নবিজির পবিত্র জবানে ইরশাদ হচ্ছে,
'আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর মায়েদের অবাধ্যচরণ, কন্যা সন্তানকে জীবিত প্রোথিতকরণ, কাউকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিতকরণ হারাম করেছেন। এবং তিনি তোমাদের জন্য গুজব ছড়ানো ও অধিক প্রশ্ন করাকে অপছন্দ করেছেন। '৬২
নবিজি তার অপর একটি হাদিসে পিতা-মাতা উভয়ের অবাধ্যচরণকে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহসমূহের একটি বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু এই হাদিসে তিনি বিশেষভাবে মায়ের অবাধ্যচরণ হারাম হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমে মায়ের অবাধ্যতা যে কত বড় জঘন্য অপরাধ, কত বড় মারাত্মক গুনাহ তা বোঝা যায়।
মা যে কত কষ্ট করে সন্তানকে গর্ভধারণ করেন, দশ মাস তাকে নিজের পেটে বয়ে বেড়ান, স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তার সে কষ্টের কথা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। এ এমন এক কষ্ট। সন্তান যদি সারাজীবন মায়ের খেদমত করে, তাকে মাথায় তুলে রাখে, তথাপি সেই কষ্টের সমতুল্য হবে না। তার সামান্যতম ঋণ পরিশোধ হবে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ إِحْسَانًا حَمَلَتْهُ أُمُّهُ كُرْهًا وَوَضَعَتْهُ كُرْهًا
'আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিচ্ছি, তার মা তাকে কষ্ট করে গর্ভধারণ করেছেন। কষ্ট করে প্রসব করেছেন।' ৬৩
'নবিজি এক লোককে দেখলেন, মাকে কাঁধে নিয়ে কাবা শরিফ তওয়াফ করছে। তখন লোকটি তাকে জিজ্ঞাসা করল, এভাবে কি আমি আমার মায়ের হক আদায় করতে পারব? নবিজি বললেন, গর্ভপাতের সময়ের রক্তের এক ফোটার পরিমাণও আদায় হবে না।'৬৪
একমাত্র শিরক ও আল্লাহর নাফরমানি ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া যাবে না। এটা হারাম। কবিরা গুনাহ।
আজকাল অনেক যুবককে দেখা যায় স্ত্রীর কারণে মাকে কষ্ট দেয়। অপমান করে। অবহেলা করে। এদের দুনিয়া-আখেরাত বরবাদ। ইহকাল ও পরকালে এরা যন্ত্রদায়ক আযাবে গ্রেফতার হবে।
কেউ কেউ আছে নিজের মাকে কষ্ট না দিলেও স্ত্রী যখন তার মাকে কষ্ট দেয়, তার সঙ্গে বেয়াদবি করে, তখন সে চুপ থাকে। স্ত্রীকে শাসন করে না। তাকে বাধা দেয় না। এরা বড়ই হতভাগা। অকৃতজ্ঞ। আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত।
মনে রাখবেন, মা-বাবার সঙ্গে যে যেমন আচরণ করবে, একদিন তার সন্তানরাও তার সঙ্গে তেমন আচরণ করবে। পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ সন্তানদের কাছ থেকে সদাচরণ লাভের কারণ।
অনেক স্ত্রী আছে স্বামীর কাছে তার মায়ের নামে মিথ্যা বলে। স্বামীকে তার মায়ের খেদমত করতে দেখলে সে বেজায় রকম ক্ষেপে যায়। গায়ে পড়ে তার সঙ্গে ঝগড়া বাঁধায়। সে তাদের মা-ছেলের সম্পর্কে ফাঁটল ধরাতে চায়।
স্বামী খুব মা ভক্ত হলে অনেক স্ত্রী এ ধরনের চক্রান্তের পথে হাঁটে। মাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় তার আত্মসম্মানে লাগে। সে চায় তার স্বামী মায়ের চেয়ে তাকে বেশি গুরুত্ব দিক। স্ত্রী দীনদার না হলে, তার মধ্যে আদব-আখলাক ও সুশিক্ষার অভাব থাকলে সে এমনটি করে থাকে।
কিন্তু স্ত্রী যদি দীনদার হয়, আখলাকী হয়, তাহলে সে স্বামীকে তার মায়ের সঙ্গে উত্তম আচরণের ব্যাপারে সাহায্য করে। স্বামী কখনো তার মা-বাবার সঙ্গে মন্দ আচরণ করলে সে তাকে তিরস্কার করে। শাসন করে।
স্বামীর যেমন তার পিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম আচরণ করা কর্তব্য, তেমনি তা স্ত্রীরও কর্তব্য।
একটি বিষয় স্বামীর খুব ভালোভাবে জেনে রাখা দরকার, পিতা-মাতার সঙ্গে, বিশেষ করে মায়ের সঙ্গে সদাচরণের দ্বারা মানুষ অনেক বড় বড় বিপদ থেকে, এমনকি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে মুক্তি লাভ করে। বুখারি শরিফে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,
'তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে তিন ব্যক্তি সফরে বের হয়ে তারা রাত কাটাবার জন্য একটি গুহায় আশ্রয় নেয়। হঠাৎ পাহাড় হতে এক খণ্ড পাথর পড়ে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তখন তারা নিজেদের মধ্যে বলতে লাগল তোমাদের সৎকার্যাবলীর ওসিলা নিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করা ছাড়া আর কোনো কিছুই এ পাথর হতে তোমাদের মুক্ত করতে পারে না। তখন তাদের মধ্যে একজন বলতে লাগল, হে আল্লাহ্! আমার পিতা-মাতা খুব বৃদ্ধ ছিলেন। আমি কখনো তাদের আগে আমার পরিবার পরিজনকে কিংবা দাস-দাসীকে দুধ পান করাতাম না। একদিন কোনো একটি জিনিসের তালাশে আমাকে অনেক দূরে চলে যেতে হয়; কাজেই আমি তাঁদের ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বে ফিরতে পারলাম না। আমি তাঁদের জন্য দুধ দোহন করে নিয়ে এলাম। কিন্তু তাদের ঘুমন্ত পেলাম। তাদের আগে আমার পরিবার-পরিজন ও দাস-দাসীকে দুধ পান করতে দেয়াটাও আমি পছন্দ করিনি। তাই আমি তাঁদের জেগে উঠার অপেক্ষায় পেয়ালাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। এভাবে ভোরের আলো ফুটে উঠল। তারপর তাঁরা জাগলেন এবং দুধ পান করলেন। হে আল্লাহ্! যদি আমি তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এ কাজ করে থাকি, তবে এ পাথরের কারণে আমরা যে বিপদে পড়েছি, তা আমাদের থেকে দূর করে দিন। ফলে পাথর সামান্য সরে গেল।...'৬৫

টিকাঃ
৫৯ সহিহ বুখারি: ৫৯৭১।
৬০ মুসনাদে আহমাদ: ৬৩০৭।
৬১ ইমাম বুখারিকৃত আল-আদাবুল মুফরাদ: ৬০।
৬۲ সহিহ বুখারি: ২৪০৮।
৬৩ সুরা আহকাফ: ১৫।
৬৪ মুসনাদে বাযযার: ৪৫৫৭।
৬৫ 'সহিহ বুখারি : ২২৭২। দেখুন আদেল ফাতহি কৃত আখতাউন শাইয়াতুন তাকাউ ফি-হাল আযওয়ায।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 পরনারী আসক্তি

📄 পরনারী আসক্তি


মানব প্রজন্মের কল্যাণময় ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালা মানুষের মাঝে সৃষ্টিগতভাবে কামস্পৃহা ও যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন। কোনো উদ্দেশ্যহীনভাবে মানুষের মাঝে কামোত্তজনা দেওয়া হয়নি।
কামোত্তেজনা যেমন দিয়েছেন। পাশাপাশি তা নিবারণের বৈধ পন্থাও বাতলে দিয়েছেন। খাবারের প্রয়োজনীয়তা যেমন মানুষের জীবনে অপরিহার্য। তেমনি নির্দিষ্ট বয়স হলে কামোত্তজনা নিবারণের প্রয়োজনীয়তাও আবশ্যক। খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে যেমন হালাল হারামের বিধান রয়েছে। তেমনি যৌন চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রেও হালাল-হারামের বিধান রয়েছে। জায়েজ-নাজায়েজ পন্থা রয়েছে।
কোনোভাবেই যেন মানুষ চারিত্রিক পদস্খলনের শিকার হয়ে মা-ব সমাজকে দূষিত ও পশু সমাজে পরিণত করতে না পারে, তাই কঠোর বিধান জারি করার পাশাপাশি ইসলাম নারী-पुरुषকে কিছু দিকনির্দেশনাও দিয়েছে। যেমন,
* প্রাপ্তবয়স্ক হলে দ্রুত বিয়ে করে ফেলা।
* নারী-পুরুষ উভয়েরই পর্দাপ্রথাকে কঠোরভাবে মেনে চলা। পরনারী বা পরপুরুষকে দেখা তো দূরের কথা। একান্ত প্রয়োজনীয় কথাবার্তাও পর্দার আড়াল ছাড়া না বলা। অপ্রয়োজনী। কথাবার্তা বলার, গালগল্প করার তো কোনো সুযোগই নেই।
* দৃষ্টির হেফাজত করা।
* কামোত্তেজনা জাগলে স্ত্রী গমন করা।
* অশ্লীল নাটক, সিনেমা, ছবি, গান ইত্যাদি না দেখা। অশ্লীল বিনোদন কেন্দ্রে গমন না করা।
* রোযা রাখা।
* দীর্ঘসময় স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে না থাকা।
* শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকলে একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করা। তবে অবশ্যই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ও সন্তুষ্টিক্রমে। অন্যথায় হিতে বিপরীত হতে পারে।
উপরের বিষয়গুলো লক্ষ করলে আপনি বুঝতে পারবেন, ইসলাম অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত পন্থায় যৌনাচারকে শুধু নিষিদ্ধই করেনি। বরং যেসব বস্তু মানুষকে
ব্যভিচার ও অবৈধ যৌনাচারের পথে পা বাড়াতে প্ররোচিত করে সেগুলোও নিষিদ্ধ করেছে। যেমন, ফ্রি মিক্সিং। অর্থাৎ পরনারী কিংবা পরপুরুষের সঙ্গে মেলামেশা, কথা বলা, চ্যাট করা। যৌন সুড়সুড়িমূলক কামোদ্দিপক অশ্লীল নাটক, সিনেমা ইত্যাদি দেখা, গান-বাদ্য শোনা। পর্দা না করা।
কিন্তু এসব বিষয়ে সতর্ক না থাকার কারণে, সর্বোপরি অশ্লীলতার বাজার ব্যাপক রমরমা হওয়ার কারণে অনেক পুরুষকে বিয়ের পরও কুপথে পা বাড়াতে দেখা যায়। যেমন দেখা যায় অনেক নারীকেও। এভাবে ধীরে ধীরে মুসলিম সমাজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আমাদের পরিবারগুলোর মাঝে হীন প্রবৃত্তির ধ্বংসাত্মক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়ছে পারিবারিক জীবনের সুদৃঢ় শৃঙ্খল।
প্রায়ই আমরা পেপার পত্রিকায় দেখতে পাই, পরকিয়ার বিষাক্ত ছোবলে ধ্বংস হয়ে গেছে একটি সুন্দর পরিবার। ছিন্ন হয়ে গেছে বিশ্বাস ও বন্ধনের কোমল সূত্র।
মানুষ যখন বিভিন্ন মিডিয়ায় যৌন উত্তেজনামূলক অশ্লীল কনটেন্টগুলো দেখে, তখন তার মাঝে কুপ্রবৃত্তির শিখা জ্বলে উঠে। লালসাপূর্তির চিন্তায় সে বিভোর হয়ে পড়ে। সে তখন চরিত্রহীনা ভ্রষ্টা নারীদের সঙ্গে তার সতিসাধ্বী মর্যাদাশীলা স্ত্রীকে কল্পনা করে এবং তার মাঝে তাদের খুঁজে বেড়ায়। খুঁজে না পেলে অনেক সময় সে কুপথে পা বাড়ায়।
পরনারীর সঙ্গে যখন সে মেলামেশা করে, রাস্তায় তাদের কামোদ্দীপক বেশভূষা দেখে, তখন সে কামাতুর দৃষ্টিতে তাদের লক্ষ করে এবং কাছে পাওয়ার জন্য ভিতরে ভিতরে লালায়িত হতে থাকে। তার মাঝে যৌন তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ হতে থাকে। এভাবে একসময় সেই তরঙ্গ-স্রোত তাকে পাপের সাগরে নিয়ে নিক্ষেপ করে। সে তখন লজ্জা-সম্ভ্রমের সমস্ত চাদর ছিন্ন করে ফেলে।
তাই পবিত্র কুরআনে মুমিনদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
'(হে নবি,) আপনি মুমিনদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটি তাদের জন্য অধিক পবিত্রতা রক্ষাকারী। নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অধিক অবগত।'৬৬
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَظْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ
'তোমরা তাঁদের (অন্যের পত্নীদের) কাছে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে। এই বিধান তোমাদের অন্তর ও তাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্র। '৬৭
আর কখনো কোনো নারীকে দেখে যৌন কামনা সৃষ্টি হলে সেটার চিকিৎসাও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় সে যেন তার স্ত্রীর নিকট গমন করে।
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত,
'রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলাকে দেখলেন। তখন তিনি তার স্ত্রী যয়নবের কাছে চলে এলেন। আম্মাজান যয়নব তখন তার চামড়া পাকা করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। নবিজি তখন তার সাথে নিজের প্রয়োজন পূরণ করলেন। তারপর বের হয়ে সাহাবিদের নিকট এসে বললেন, স্ত্রী লোক সামনে আসে শয়তানের বেশে এবং ফিরে যায় শয়তানের বেশে। সুতরাং তোমাদের কারও কোনো নারীর উপর (কাম) দৃষ্টি পড়লে সে যেন তাঁর স্ত্রীর নিকট চলে আসে। কারণ তা তার মনের ভিতর যা আছে তা দূর করে দেবে।'৬৮
স্ত্রীলোকের শয়তানের বেশে আসার অর্থ হলো, কুপ্রবৃত্তিকে উস্কে দেওয়া ও খারাপ কাজের প্রতি প্ররোচিত করা।
এটি একটি নববি চিকিৎসা। প্রচলিত চিকিৎসা শাস্ত্রে কিংবা পরিবারসম্বন্ধীয় কোনো বই-পত্র কিংবা ম্যাগাজিনে আমরা এটি খুঁজে পাব না।
স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন। তার প্রতি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন। আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে জীবনসঙ্গী এবং পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র জীবন যাপনে
সহায়তাকারী মনে না করেন। তাকে যদি শুধু আপনি ভোগের উপকরণ করেন, তাহলে আপনার মন কখনোই তার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না।
আপনি তখন পরনারী আসক্ত হয়ে পড়বেন। আজকে এর প্রতি তো কাল আরেকজনের প্রতি। কদিন পর আবার আরেকজনের প্রতি। এভাবে আপনি কখনোই তৃপ্তি লাভ করতে পারবেন না। শাইখ আলি তানতাভি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন,
'নারী হচ্ছে সমুদ্রের ন্যায়। তুমি যতই পান করবে, পিপাসা ততই বাড়তে থাকবে।'
তাই স্ত্রীর প্রতি আপনি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করুন। নজরের হেফাজত করুন। আল্লাহ আপনাকে যে নেয়ামত দান করেছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। তার শুকরিয়া আদায় করুন। আপনার স্ত্রীর ভালো গুণগুলো তালাশ করুন। সেগুলোর আলোচনা করুন। দেখবেন, তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার মতো অনেক কিছুই আপনি তার মাঝে খুঁজে পাচ্ছেন।
মনে রাখবেন, আপনার স্ত্রীকে নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট ও তৃপ্ত হতে না পারলে কোনো নারীকে নিয়েই আপনি সন্তুষ্ট ও তৃপ্ত হতে পারবেন না। স্ত্রীর মাঝে শরিয়তের দৃষ্টিতে গুরুতর এমন কোনো দোষত্রুটি যদি থাকলে ভিন্ন কথা।
শুধু যৌন চাহিদা পূরণ কিংবা যৌন ফ্যান্টাসিতে ভোগার কারণে স্ত্রীর প্রতি অসন্তুষ্ট থাকা কোনো চরিত্রবান ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পুরুষের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। কোনো সভ্য পুরুষের ব্যক্তিত্বের সীমায় এমন অসুস্থ চিন্তা-ভাবনা প্রবেশ করতে পারে না।
তারপরও আমি বলব, আপনার মাঝে এমন কোনো সমস্যা থাকলে, এমন নেতিবাচক কিছু থাকলে আপনি আল্লাহর আশ্রয় কামনা করুন। তার দরবারে হাত তুলে কান্নাকাটি করুন। এ ক্ষেত্রে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম হতে পারে আপনার জন্য অনুসরণীয়।
ইউসুফ আলাইহিস সালামের সামনে যখন নারীর ফেতনা এসেছিল, তখন তিনি আল্লাহর আশ্রয় কামনা করেছিলেন,
وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُنْ مِنَ الْجَاهِلِينَ
'(হে আল্লাহ!) আপনি যদি আমাকে নারীদের ছলনা থেকে রক্ষা না করেন, তবে আমার অন্তর তাদের দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়বে এবং যারা অজ্ঞতাসুলভ কাজ করে আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।'৬৯
আপনি একান্তমনে দুআ করতে থাকুন এবং দুআ কবুলের আশা রাখুন। কারণ, এমন পরিস্থিতিতে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর দুআও আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছিলেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
'সুতরাং ইউসুফের প্রতিপালক তাঁর দুআ কবুল করলেন এবং সেই নারীদের ছলনা থেকে তাকে রক্ষা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।'৭০
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে পাপমুক্ত জীবন-যাপন করা তৌফিক দান করুন। আমিন।

টিকাঃ
৬৬ সুরা নূর: ৩০।
৬৭ সুরা আহযাব: ৫৩।
৬৮ সহিহ মুসলিম: ৩২৭৭।
৬৯ সুরা ইউসুফ: ৩৩।
৭০ সুরা ইউসুফ: ৩৪।
* শাইখ ইবরাহিম দাবিশ কৃত ফাল্গুত তাআমুল মাআয যাওযাহ।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 শ্বশুরবাড়ির মানুষের সঙ্গে আচরণ

📄 শ্বশুরবাড়ির মানুষের সঙ্গে আচরণ


এক ধনী ব্যক্তি। বিয়ে করেছে এক গরীবের মেয়েকে। মেয়েটি খুব সুন্দরী। দীনদার। ধনী ব্যক্তি একদিন গাড়ি নিয়ে বের হলো। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তার শ্বশুরকে দেখলো, সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমে তাকে জড়িয়ে ধরলো। মাথায় চুমু খেলো।
তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি একজন ধনী মানুষ হয়ে এমনটা কীভাবে করলেন?
তখন তিনি মৃদু হেসে বললেন, আমি এমনটি করেছি যাতে আমার সন্তানরা আমার শ্বশুরকে মর্যাদার চোখে দেখে। তাদের কাছে তার মর্যাদা অনেক বেড়ে যায়। তখন তারা তাদের মাকেও মর্যাদার চোখে দেখবে।
♥ আপনার স্ত্রীকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে দেখা করতে ও তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধাপ্রদান করবেন না। আপনি নিজেকে আপনার স্ত্রীর স্থানে রেখে কল্পনা করুন। তার উপর তাদেরও হক আছে।
♥ তার পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের কাছে আপনি তার প্রশংসা করুন। যেমন সে খুব সুন্দরভাবে সন্তানদের দেখভাল করে। সংসারের সবকিছু সুন্দরভাবে গুছিয়ে রাখে।
♥ আপনার শ্যালক ও সমন্দিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করুন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। মাঝে মাঝে ফোন, অথবা টেক্সট করে তাদের খোঁজখবর নিন।
♥ আপনি আপনার শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে এমনভাবে মিশবেন যেন, আপনিও তাদের পরিবারেরই একজন। তারা গরিব হলে অবহেলার চোখে দেখবেন না। স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি বেড়াতে যান। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলুন। খোঁজ খবর নিন। মাঝে মাঝে তাদের হাদিয়া দিন। তাদের থেকে দূরে দূরে থাকবেন না। তারা যেন মনে না করে আপনি পরের বাড়ির ছেলে। তাদের খেদমত করতে আগ্রহী থাকুন।
• নিজের আর্থিক বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন না। এগুলো স্পর্শকাতর বিষয়।
• স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজনদের নাম মুখস্থ রাখুন। এ বিষয়টিকে তারা খুব মূল্যায়ণ করে।
♥ সন্তানদের নাম রাখার ক্ষেত্রে শ্বশুর-শাশুড়ির মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করুন। তাদের আবেগ অনুভূতিকে অবহেলা করবেন না।
♥ শ্বাশুড়িকে অন্তর দিয়ে ভালোবাসুন। তার মন জয় করার চেষ্টা করুন। তার সঙ্গে আদব ও এহতেরাম বজায় রাখুন।
♥ আপনার পরিবার সম্পর্কে তাদেরও জানান। তবে কখনোই এমন কিছু জানাবেন না, যাতে তাদের চোখে আপনার পরিবারের লোকেরা ছোটো হয়। তাদের মর্যাদাহানি হয়।
♥ আপনি যেমন চান আপনার স্ত্রী আপনার মা-বাবাকে, আপনার পরিবারের লোকদের সম্মান করুক, ভালোবাসুক। তেমনি সেও চায়।
♥ জনৈকা নারী বলেন, আমার পরিবারকে সম্মান করা মানে আমাকে সম্মান করা। তাদের অপমান করা মানে আমাকে অপমান করা। আমার স্বামী যেমন চায়, তার পরিবারের লোকজন আমাদের এখানে বেড়াতে আসলে আমি যেন তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। তাদের সঙ্গে হাসিখুশি থাকি। তেমনি আমিও চাই। সুতরাং সে আমার জন্য যেমন হবে, আমিও তার জন্য তেমন হব।”

টিকাঃ
৭১ 'হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00