📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 শেষ কবে স্ত্রীকে গিফট দিয়েছিলেন?

📄 শেষ কবে স্ত্রীকে গিফট দিয়েছিলেন?


এখন আপনাকে একটি প্রশ্ন করি, শেষ কবে স্ত্রীকে গিফট দিয়েছিলেন?
গিফট হচ্ছে ভালোবাসার প্রতীক। কৃতজ্ঞতার স্বরূপ।
গিফট ভালোবাসাকে স্বচ্ছ ও দৃঢ় করে। পারস্পরিক বন্ধনকে মজবুত করে। গিফট যত ছোটই হোক, স্ত্রীর মনে এর প্রভাব বিরাট। এর মাধ্যমে সে বুঝতে পারে আপনি তাকে ভালোবাসেন। গিফট তার অন্তরে ভালোবাসার সঞ্চার করে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, تَهَادَوْا تَحَابُّوا
‘তোমরা পরস্পরকে হাদিয়া দাও, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।’৫৩
দাম্পত্য জীবনে উদযাপন করার মতো অনেক উপলক্ষ আসে। যেমন, কর্মক্ষেত্রে স্বামীর পদোন্নতি। কিংবা স্ত্রীর গর্ভধারণ করা, মা হওয়া। কিংবা তার কুরআন খতম করা।
এসব উপলক্ষ উদযাপন করার জন্য আপনারা পরস্পরকে গিফট দিতে পারেন। গিফট খুব এক্সপেনসিভ, দামী হতে হবে এমন নয়। ছোট বা সামান্য কিছু দিয়েও উপযাপন করা যায়। সঙ্গে হৃদয়স্পর্শী ও আবেগঘন কোনো বাক্য লিখে দিলেন।
দেখবেন, শীতের ঝরাপাতার ন্যায় বিশুষ্ক ও ম্যারম্যারে হয়ে যাওয়া দাম্পত্যজীবনে ফাগুন এসেছে। ভালোবাসা তার সুরভী ছড়াচ্ছে।
কোনো সফর থেকে ফেরার সময় সঙ্গে কোনো গিফট নিয়ে আসতে পারেন। হোক তা সামান্য একটা ফুল কিংবা হাতের চুড়ি।
আপনি যদি বলেন, সামান্য একটা ফুল কেনারও সামর্থ্য আমার নেই, তাহলে কে বিশ্বাস করবে বলুন?!
গিফট যেকোনো বস্তু হতে হবে তা নয়। কোথাও বেড়াতে নিয়ে যাওয়া কিংবা খেতে নিয়ে যাওয়া, এগুলোও এক প্রকার গিফট।
জনৈক ব্যক্তি বলেন, তুমি যখন কোনো গিফট পাবে, আর তার বিনিময়ে কিছু দিতে পারবে না, তখন চিন্তা করো না। কারণ গিফট পেয়ে তুমি যে খুশি হয়েছ, এটাই গিফট প্রদানকারীর জন্য অনেক বড় গিফট হয়ে গেছে।
গিফট প্রদানের সময় কিছু লক্ষণীয় বিষয়:
• গিফটের গায়ে যেন প্রাইজ ট্যাগ লাগানো না থাকে। থাকলে সেটা উঠিয়ে ফেলা।
• কারও সামনে গিফট না দেওয়া। তবে যদি অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা।
♥ গিফট দিয়ে পরে খোঁটা না দেওয়া। কিংবা অন্যদের সামনে সেটার আলোচনা না করা।
দাম্পত্য জীবনে আসা বিভিন্ন আনন্দের উপলক্ষগুলো আপনারা এভাবে উদযাপন করতে পারেন।
পুরনো দম্পতিদের অনেকে এই বলে যুক্তি দিয়ে থাকে, আমাদের এখন আর এসব গিফট-টিফট দেওয়ার বয়স নেই। যৌবন সেই কবে চলে গিয়েছে।
এসব মূর্খতা। যারা সেলফিশ, শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে, সঙ্গি বা সঙ্গিনীর যে কোনো হক আছে, তা জানে না কিংবা স্বীকার করে না, কেবল তারাই এমন কথা বলে।৫৪

টিকাঃ
৫৩ মুয়াত্তা ইমাম মালেক: ২/৯০৮। তাবারানি আওসাত।
৫৪ 'হামাসাতুন ফি উষুনি যাওযাইন: ১৩৪-১৩৫।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 নারীরা যেসব কারণে মিথ্যা বলে

📄 নারীরা যেসব কারণে মিথ্যা বলে


একজন নারীর মিথ্যা বলার অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন,
♥ বিয়ের আগে থেকেই অনেক নারীর মিথ্যা বলার অভ্যাস থাকে। পরিবারের থেকেও অনেকে মিথ্যা বলা শিখে। যেমন, সে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছে, তার পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই মিথ্যা বলে।
♥ কোনো কোনো নারী মায়ের কাছ থেকে মিথ্যা বলা শিখে। সে তার মাকে দেখেছে শুধু তার বাবার সঙ্গে মিথ্যা বলতো। অন্য কারও সঙ্গে মিথ্যা না বললেও তার মা তার বাবার সঙ্গে মিথ্যা বলত। এমন না যে তার বাবা কৃপণ ছিল, তাই তার মা তার সঙ্গে মিথ্যা বলতেন। এটা তার অভ্যাস ছিল।
♥ স্বামীর মিথ্যা বলার অভ্যাস থাকার কারণেও অনেক নারী মিথ্যা বলে। যেমন, তার স্বামী কথা দিয়ে কথা রাখে না। কিংবা কোনো প্রয়োজনে তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেটা আর ফেরত দেয় না। অথবা সে হয়ত তার স্বামীকে কোনো কিছু কিনতে টাকা দিয়েছে, তিনি সেটা কেনার পর বাকি টাকা আর ফেরত দেয়নি। তার কাছে রেখে দিয়েছেন।
♥ আবার অনেক নারী স্বামীর কঠিন স্বভাব ও আচার-আচরণের কারণে মিথ্যা বলে। কোনো কোনো স্বামী আছেন, স্ত্রীর সামান্য ভুলে ক্ষিপ্ত হয়ে যান। খুব মেজাজ দেখান। তেড়েফুঁড়ে আসেন। এমন স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য কোনো কোনো নারী মিথ্যা বলে থাকেন।
♥ আবার অনেক স্বামী স্ত্রীকে মিথ্যা বলতে বাধ্য করেন। যেমন, স্ত্রী কোনো একটা কিছু কিনে বাসায় এসে যদি বলে, এত টাকা। স্বামী তখন তাকে কিছু টাকা কমিয়ে দেয়। যেমন, একশ টাকা বললে স্বামী দেয় পঞ্চাশ টাকা। বারোশ বললে দেয় এক হাজার টাকা। কিংবা তাকে বলে, তুমি এটা কিনে ঠকেছো, এটার দাম এত না। মানে স্ত্রী কিছু কিনলেই সেটার দাম বেশি। এমতাবস্থায় অনেক স্ত্রী মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়।
♥ হিংসুকদের হিংসা থেকে বাঁচার জন্যেও কোনো কোনো নারী মিথ্যা বলে থাকে।
প্রতিকার বা চিকিৎসা
স্ত্রীর মিথ্যা বলার রোগ থাকলে অনেকভাবেই এ রোগের চিকিৎসা করা যায়। নিম্নে কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি তুলে ধরা হলো,
• পারস্পরিক সুন্দর বোঝাপড়া সৃষ্টি করা। আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তোলা।
• স্ত্রীর দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া। নারীরা সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল। তাই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া তাকওয়ার পরিচায়ক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى
'মাফ করে দেওয়াই তাকওয়ার অধিক নিকটতর। ৫৫
• স্ত্রীকে কোমলভাবে বোঝানো যে, মিথ্যা বলা মহাপাপ। কবিরা গুনাহ। মিথ্যা মানুষের বিশ্বাসকে নষ্ট করে দেয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যদি বিশ্বাসই না থাকে, তাহলে তারা কীভাবে সংসার করবে? তাদের মাঝে ভালোবাসা কীভাবে থাকবে? যাকে বিশ্বাস করা যায় না, তাকে কখনো ভালোবাসাও যায় না।
• নিজের প্রয়োজনের কথা স্বামীর কাছে স্পষ্ট করে বলা। 'স্বামীকে বললে হয়ত দিবে না' এই ভেবে অনেক নারী তার প্রয়োজনের কথা বলে না। এমনটি না করা। বরং স্পষ্ট করে বলে দেওয়া।
• অল্পে তুষ্ট থাকা। লোভ না করা। লোভ মানুষকে মিথ্যার দিকে ঠেলে দেয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের নির্দেশ মেনে চলা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'সত্যকে ধারণ করা তোমাদের একান্ত কর্তব্য। কারণ সত্য সৎকর্মের দিকে পথপ্রদর্শন করে। আর সৎকর্ম জান্নাতের দিকে পথপ্রদর্শন করে। কোনো ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বললে ও সত্য বলার চেষ্টায় রত থাকলে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার নিকট সে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। আর তোমরা মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাক। কারণ মিথ্যা পাপের দিকে পথপ্রদর্শন করে। পাপ জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে। কোনো ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বললে এবং মিথ্যার উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করলে অবশেষে সে আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদীরূপে লিপিবদ্ধ হয়। ৫৬

টিকাঃ
৫৫ সুরা বাকারা: ২৩৭।
৫৬ সহিহ মুসলিম: ৬৪০১।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 পুরুষরা যেসব কারণে মিথ্যা বলে

📄 পুরুষরা যেসব কারণে মিথ্যা বলে


এক মহিলার অভিযোগ, আমার স্বামী আমার সঙ্গে সবকিছু নিয়ে মিথ্যা বলে। ছোটোখাটো যে কোনো বিষয় নিয়েও মিথ্যা বলে।
সাধারণত পুরুষরা যেসব নিয়ে মিথ্যা বলে আসুন সেগুলো জেনে নেই।
• নিজের প্রফেশন নিয়ে মিথ্যা বলে। যেমন সে হয়ত কোনো প্রতিষ্ঠানের সহকারি পরিচালক। কিন্তু নিজেকে সে পরিচালক বলে দাবি করে। কিংবা সে কোনো কলেজের লেকচারার। কিন্তু নিজেকে সে প্রফেসর বলে দাবি করে।
• মাসিক ইনকাম নিয়ে অনেকে মিথ্যা বলে। এদের মধ্যে আবার দুই শ্রেণি, কেউ বাড়িয়ে বলে। কেউ কমিয়ে বলে। নিজের প্রেস্টিজ রক্ষার জন্য কেউ বাড়িয়ে বলে। আর স্ত্রী-সন্তানদের বাড়তি খরচের হাত থেকে বাঁচার জন্য কেউ কমিয়ে বলে।
• একটু স্বাধীনতা লাভের জন্য কেউ কেউ মিথ্যা বলে। যেমন সে হয়ত মনের খুশিতে ড্রাইভ করছে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে খেতে গিয়েছে। কিন্তু স্ত্রীকে বলছে অফিসের কাজে আছে।
♥ স্ত্রীর অতিরিক্ত গোয়েন্দাগিরির হাত থেকে বাঁচার জন্য কেউ কেউ মিথ্যা বলে।
♥ চরিত্রে সমস্যা থাকলে মিথ্যা বলে। কোনো গুনাহর কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে মিথ্যা বলে।
স্বামী যখন মিথ্যা বলে তখন স্ত্রীর নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, তার স্বামী তার সঙ্গে কেন মিথ্যা বলে?
অনেক নারী আছে স্বামীকে প্রচুর প্রশ্ন করতে থাকে। জেরা করতে থাকে। তার এই জেরার হাত থেকে বাঁচার জন্য কোনো কোনো পুরুষ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে। যেমন, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সে তা গোপন করে। নিজের মা-বাবা, ভাই-বোনদের পিছনে খরচ করলে তা গোপন করে।
স্ত্রীর অতিরিক্ত সন্দেহ কিংবা কঠোর আচরণও স্বামীকে মিথ্যা বলতে বাধ্য করে।
মিথ্যা অবশ্যই একটি ঘৃণিত স্বভাব। কবিরা গুনাহ। দীর্ঘ সময় নিয়ে এই রোগের চিকিৎসা করা প্রয়োজন। তবে চিকিৎসা গ্রহণের সদিচ্ছা থাকলে, নিয়ত খালেস থাকলে এ রোগ থেকে সেরে উঠা অসম্ভব কিছু নয়।
♥ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মিথ্যা বলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যে, তার মাঝে এ ঘৃণ্য স্বভাব থেকে বের হয়ে আসার যোগ্যতা রয়েছে। সে চেষ্টা করলে পারবে।
♥ তাকে এ জন্য তিরস্কার ও ভর্ৎসনা না করা। এতে হতে পারে সে আরও বিগড়ে যাবে। তার সঙ্গে নম্রতা ও কোমলতার আচরণ করা। তার ভেতরে এই অনুভূতি সৃষ্টি করা যে আপনি তাকে ভালোবাসেন বলেই তার সংশোধন চাচ্ছেন।
♥ তার জন্য দুআ করা। বিশেষ করে যেসব সময়ে দুআ কবুল হয়। যেমন শেষ রাতে উঠে। প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরে। দিনের শুরু ও শেষ সময়ে। জুমুআর দিনে।
♥ তাকে ধর্মীয় বই-পুস্তক পড়তে দেওয়া। মিথ্যার কুফল ও অশুভ পরিণতি বিষয়ক অনেক বই আছে, সেগুলো পড়তে দেওয়া। হক্কানী কোনো আলেমের সোহবতে নিয়ে যাওয়া।
♥ তার মোবাইল, পকেট, মানিব্যাগ ইত্যাদি চেক না করা। তার পিছনে লেগে না থাকা। ৫৭

টিকাঃ
৫৭ 'হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 একদিকে মা, একদিকে স্ত্রী

📄 একদিকে মা, একদিকে স্ত্রী


বউ-শাশুড়ির মাঝে সাধারণত সম্পর্ক ভালো থাকে না, এটা প্রসিদ্ধ কথা। তাদের মাঝে বন্দুক যুদ্ধ না হলেও স্নায়ু যুদ্ধ চলতে থাকে। খুব কম পরিবারেই বউ-শাশুড়ির মাঝে সুসম্পর্ক দেখা যায়। কোনো কোনো পরিবারের কাছে তো এটা দুঃস্বপ্ন।
স্ত্রী ও মাকে নিয়ে অনেক পুরুষকে কঠিন সমস্যায় পড়তে হয়। উভয় সংকট যাকে বলে। একদিকে মা, একদিকে স্ত্রী। সে কোন পক্ষ নিবে বুঝতে পারে না। কারণ তাকে দুজনকেই সন্তুষ্ট রাখতে হবে।
এমতাবস্থায় সে যদি একটু হেকমত ও সবরের সঙ্গে চলে, তাহলে সে উভয়কেই সন্তুষ্ট রাখতে পারবে এবং উভয়ের হক আদায় করতে পারবে।
প্রথমে পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। আপনার মায়ের প্রতি আপনার স্ত্রীর অনুভূতি কী, সে তাকে নিয়ে কী ভাবে, তার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, এগুলো জানার চেষ্টা করতে হবে।
আপনার মা আপনাদের সঙ্গে থাকলে আপনার স্ত্রী যদি বিরক্তি প্রকাশ করে তাহলে এর কারণ কী—আপনাকে তা খুঁজে বের করতে হবে।
অপরদিকে মায়ের দিকটিও আপনার ভুলে থাকলে চলবে না। আপনার স্ত্রীর প্রতি তার নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণের পেছনে কারণ হচ্ছে—তিনি আশঙ্কা করেন, তিনি আপনার কাছে অপাংক্তেয় হয়ে পড়বেন। এতদিন যে মাকে অবলম্বন করে আপনি বেঁচেছেন। এখন তাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো নারীকে আপনি আপনার অবলম্বন বানিয়েছেন। এসব ভেবে তিনি হয়তো খুব সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।
এ ক্ষেত্রে আপনার জন্য আমার পরামর্শ হলো,
• আপনি তাদের উভয়ের সঙ্গেই কথা বলুন। তাদের আবেগ-অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।
♥ আপনার স্ত্রী যদি আপনার মায়ের সঙ্গে না থাকে, কিংবা কর্মস্থলের কারণে আপনাকে ফ্যামিলি নিয়ে আলাদা থাকতে হয়, তাহলে চেষ্টা করবেন উভয়ের মাঝে ঘন ঘন সাক্ষাৎ করাতে। স্ত্রীকে প্রায় মায়ের বাড়িতে নিয়ে আসবেন। এসে যেন আবার বেশিদিন না থাকে। তখন
আবার তিক্ততা শুরু হয়ে যাবে। স্বল্প সময়ের জন্য আসবেন। দু-তিন দিন বা দুয়েক সপ্তাহ। আপনি এটা ভাববেন না, বেশিদিন থাকলে সম্পর্ক মধুর হবে।
♥ স্ত্রীর সঙ্গে আপনি আপনার মায়ের স্মৃতিচারণ করুন। আপনাদের তিনি কত কষ্ট করে মানুষ করেছেন, বড় করেছেন, তার সেসব ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা আলোচনা করুন। তাকে মাঝে মাঝে আপনার মায়ের মজার মজার ঘটনা শোনান। এভাবে তার ভেতর আপনার মায়ের প্রতি মমত্ব ও শ্রদ্ধাবোধ জেগে উঠবে।
• আপনার মা সম্পর্কে আপনার কোনো নেতিবাচক চিন্তা স্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
♥ তাদের একজনকে আরেকজনের সামনে মন্দভাবে তুলে ধরবেন না। একজনের কাছে অন্যজনের খারাপ দিকগুলো আলোচনা করবেন না।
• দুজনের কেউ যেন অপরের সম্পর্কে আপনার কাছে মন্দ কিছু বলার সুযোগ না পায়। গালিগালাজ তো দূরের কথা।
♥ যে কোনো দ্বন্ধ সূচনাতেই মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।
• কারও বেশি বেশি বলার অভ্যাস থাকলে শুধু নির্দিষ্ট অভিযোগটি শুনুন। অতীতের পুরনো কাসন্দি ঘাটার সুযোগ দেবেন না।
• প্রত্যেককে নিয়ে আলাদাভাবে বসুন। এমন যেন না হয়, দুজনকে একসঙ্গে নিয়ে বসলেন। আর তারা আপনার সামনেই ঝগড়া শুরু করে দিল।
• দুজনের কাউকে অপরকে মহব্বত করার জন্য জোর করবেন না। এক পক্ষকে খুশি করতে গিয়ে অপর পক্ষের উপর জুলুম করবেন না।
• সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে নিজে সমস্যায় জড়াবেন না। নিজেকে দূরে রাখবেন। তবে কী হচ্ছে, তার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন।
• তারা উভয়ে যেন আপনাকে সম্মান করে, আপনার কথা গ্রহণ করে, নিজেকে আপনার সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে।
♥ কিছু বিষয়ে আপনাকে সুস্পষ্টরূপে 'না' বলে দিতে হবে। কোনোরূপ প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যেমন, আপনার মা যদি আপনার সন্তানদের লালন-পালনের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চান কিংবা আপনার স্ত্রী যদি সন্তানদের দাদা-দাদীর কাছে যেতে বাধা দেয়।
এবার এক ব্যতিক্রমী নারীর কথা বলি, সব নারী তো আর একরকম হয় না। পৃথিবীতে আল্লাহর কিছু প্রিয় বান্দিও থাকেন। আমার একজন বৃদ্ধা পেশেন্ট আছেন। পঙ্গু। তার সঙ্গে সবসময় একজন মহিলা থাকেন। এক মুহূর্তের জন্যও তাকে ছেড়ে কোথাও যান না। বৃদ্ধার ছেলে বড় এক ভার্সিটির প্রফেসর। একদিন সে আমাকে বলল, এই ভদ্র মহিলা আমার স্ত্রী। আজ চৌদ্দ বছর যাবৎ সে আমার মায়ের খেদমত করে যাচ্ছে। তাকে সেবা-শুশ্রুষা করছে। এক রাতের জন্য সে আমার মাকে একা থাকতে দেয়নি।
আল্লাহর এ জমিনে আল্লাহর এমন বান্দিও আছে, যে পূর্ণ নিবেদন ও আত্মত্যাগের সঙ্গে, নিজের সর্বস্ব দিয়ে শ্বাশুড়ির খেদমত করে যাচ্ছে।

টিকাঃ
* হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন: ১৪৪-১৪৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00