📄 লোকের কথা শুনেই বিশ্বাস না করা
ডক্টর আবদুর রহমান আরিফি বলেন, আমি এক সফরে যানায়ান* শহরে একটি জেলখানা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে অল্পবয়স্ক এক যুবক ছিল। বয়স তেইশ-এর কাছাকাছি। মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে। আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সালাম দিলাম।
তারপর আমার সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করলাম, এর অপরাধ কী?
-বিয়ের তিন মাসের মাথায় নিজ স্ত্রীকে খুন।
-কারণ কী? কী এমন হয়েছিল? আমি অবাক হয়ে জানতে চাইলাম।
তিনি বললেন, বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে সে বেশ সুখে ছিল। হাসি-আনন্দে তাদের দিন কাটছিল। তার স্ত্রী বেশ স্বামী অন্তপ্রাণ ছিল।
এতে কিছু হিংসুক লোকের গায়ে জ্বালা ধরে গেল। তারা তার সুখ সহ্য করতে পারলো না। তাদের সঙ্গে তার আগে থেকে হয়ত কিছু ঝামেলা ছিল কিংবা তারা এই মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়েছিল।
একদিন হিংসুকদের দলের একজন তাকে বলল, তুমি কি তোমার আগের গাড়িটা বিক্রি করে নতুন গাড়ি কিনেছো? সবুজ কালারের? অমুক ব্রান্ডের?
-কই না তো। আমার সেই আগের গাড়িটাই আছে। তোমরা যেটা চিন। কালো কালারের।
-আমি গতকাল তোমার বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম গেটের সামনে একটি সবুজ গাড়ি পার্ক করা। গাড়িতে একজন লোক বসা। তখন তোমার বাসার ভেতর থেকে একজন নারী বের হল। তারপর সে গাড়িতে উঠে সেই লোকের সঙ্গে কোথায় যেন গেল। দু'ঘণ্টা পর সে বাসায় ফিরে এল। তাছাড়া প্রায়ই তোমার বাসায় একজনের আসা-যাওয়া দেখি। তোমার বাসায় কি তোমার স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ থাকে?
-না। বাসায় আমার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ থাকে না। এমনকি বাসায় কোনো কাজের বুয়াও নেই।
লোকটির কথায় তার মনে একটা সন্দেহের রেখা উঁকিঝুঁকি মারতে আরম্ভ করল। সে বাসায় এসে স্ত্রীকে নানাভাবে জিজ্ঞাসা করতে লাগল, বাসায় কেউ এসেছিল কি না।
দুদিন পর হিংসুকদের দলের আরেকজন এলো। সেও এসে প্রথমজনের মতো বলল, তুমি কি তোমার আগের গাড়িটা পাল্টে ফেলেছো? সাদা কোনো গাড়ি কিনেছো?
-না। আমার তো সেই কালো গাড়িটাই এখনো আছে।
-গতকাল আমি তোমার বাসার সামনে একটি সাদা গাড়ি দেখলাম। এক নারী বের হয়ে গাড়িটিতে উঠল।
এর ক'দিন পর তৃতীয়জন এলো। তারপর চতুর্থজন। সবার একই কথা।
তার তখন পুরো পাগল হওয়ার মতো অবস্থা। এসব সে কী শুনছে। সে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, তার স্ত্রীর অন্য কারও সঙ্গে গোপন কোনো সম্পর্ক আছে। নিজেকে সে আর ধরে রাখতে পারছে না। ঘৃণায় ফেটে পড়ছে।
বাসায় আসার পর স্ত্রীর সঙ্গে তার মারাত্মক ঝগড়া হলো। সে তাকে জঘন্য অপবাদ দিল। স্ত্রী রাগ করে বাবার বাড়ি চলে গেল।
কিছুদিন পর...
সেই লোকগুলো আবার একে একে তার কাছে এসে বলল, যেই গাড়িটি তোমার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকত, সেটি এখন তোমার শ্বশুর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। কাল দেখবে সেই নারী কোলে বাচ্চা নিয়ে এসে বলবে, এটা তোমার সন্তান। তোমার ভেতর কী আত্মমর্যাদাবোধ বলতে কিছু নেই?
এভাবে তারা তাকে বিভিন্নভাবে উত্তেজিত করে তুলল। তার ভেতরের আগুনকে আরও উস্কে দিল। একসময় সে শয়তানের কাছে হার মানল। তারপর একদিন রাতে গোপনে সে তার শ্বশুর বাড়ি গেল। রাতের অন্ধকারে স্ত্রীর রুমে প্রবেশ করল। তারপর তাকে নির্মমভাবে খুন করল। একেবারে জবাই। গলা কেটে ফেলল।
তারপর সে নিজেই থানায় গেল। পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করল। বলল, আমি আমার স্ত্রীকে খুন করেছি এবং আমার এতে কোনো আফসোস নেই।
আদালতে তার ফাঁসির রায় হলো।
লক্ষ করুন, কীভাবে দুষ্ট লোকের মিথ্যা কথাকে চোখ বুজে বিশ্বাস করার কারণে দুটি নিষ্পাপ প্রাণ ধ্বংস হয়ে গেল। একটি সুখি সুন্দর পরিবার শ্মশানে পরিণত হল।
সুতরাং নিজের স্বামী বা স্ত্রী কিংবা সন্তান ও পরিবারের মানুষদের ব্যাপারে কেউ কিছু বললে সঙ্গে সঙ্গে তা বিশ্বাস না করা। বরং ভালোভাবে যাচাই করা। শয়তান যেন কোনোভাবেই আমাদের পেয়ে না বসে।
পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন মুমিনদের এ বিষয়ে উত্তম দিকনির্দেশনা দিয়েছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَهُ صُبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ
'হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের নিকট কোনো বার্তা আনয়ন করে, তোমরা তা যাচাই করে দেখবে। পাছে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধন করে বসো এবং পরে কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়। "৫১
টিকাঃ
* ইরানের একটি শহর। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে দুইশ আটানব্বই কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
৫১ "সুরা হুজুরাত: ৬। হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।
📄 অবহেলা
ফয়সালের হাত ধরে যখন আফিফা এ বাড়িতে নতুন বউ হয়ে এলো, তখন তাদের বাসার সবকিছু রঙিন ছিল। চারদিকে হাসির শব্দ ছিল। আনন্দের ছুটোছুটি ছিল। জানালার পর্দাগুলোতে মৃদু হিল্লোলের নাচন ছিল। বিছানায় সুখের গড়াগড়ি ছিল। একটি বালিশে দুটি মাথা ছিল। টবের ফুলগুলো সজিব ছিল।
কিন্তু বছর তিনেক না যেতেই সবকিছু কেমন প্রাণহীন, ম্যারম্যারে হয়ে গেল। বালিশ থেকে দুটি মাথা আলাদা হয়ে গেল। টবের সজিব ফুলগুলো কেমন শুকিয়ে গেল।
মাথার উপর ঘরের ছোট্ট যে ছাদটাকে একসময় তাদের আকাশের চেয়েও বিশাল মনে হত, এখন সে ছাদটাকে তাদের বড্ড ছোট মনে হয়। এর নিচে তাদের দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। তারা এখান থেকে পালাতে চায়।
কিন্তু এমন কেন হলো?
সবকিছু এত দ্রুত কীভাবে বদলে গেল?
ফাগুন আসতে না আসতে সে কীভাবে চৈত্রের কাছে হেরে গেল?
ভালোবাসার বিশাল আইসবার্গ এত দ্রুত কীভাবে গলে নিঃশেষ হয়ে গেল?
'দুটি দেহ, একটি প্রাণ'- থেকে কীভাবে তারা 'দুটি দেহ, দুটি প্রাণ'-এ পরিণত হলো?
এর উত্তর খুব সহজ।
অবহেলা। অবহেলা এবং স্রেফ অবহেলা। পরস্পরের প্রতি অবহেলা।
বিয়ের প্রথম দিকে দুজন দুজনকে যেভাবে গুরুত্ব দিত, পরবর্তিতে আর সেভাবে গুরুত্ব না দেওয়া। শুরুর দিকে দুজন দুজনার যেভাবে খেয়াল রাখত, এখন আর সেভাবে খেয়াল না রাখা।
এই অযত্ন আর অবহেলার কারণে ভালোবাসা ধুঁকতে থাকে। ধুঁকতে ধুঁকতে একসময় মরে যায়।
অনেক নারী আছে বিয়ের প্রথম দিকে স্বামীর যেভাবে সেবা-যত্ন করত, দেখাশুনা করত, পরে আর সেভাবে করে না। বাসার সবকিছু যেভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখত, এখন আর সেভাবে রাখে না। স্বামী অফিসে গেলে কিংবা বাসার বাইরে থাকলে একটু পরপর সে তাকে ফোন করত। তার খোঁজখবর নিত। অফিস থেকে এলে তাকে সুন্দর করে অভ্যর্থনা জানাত। কিন্তু এখন আর সে এসবের কিছুই করে না।
তাই স্বামীর মনে তার প্রতি যে ভালোবাসা ছিল, তা আস্তে আস্তে মরে গিয়েছে। সে এখন আর তাকে আগের মতো ভালোবাসে না।
স্বামীর এমন আচরণে সে তখন খুব আশ্চর্য হয়।
আবার অনেক স্বামী আছে, স্ত্রীকে শুরুতে যেভাবে গুরুত্ব দিত এখন আর সেভাবে গুরুত্ব দেয় না। স্ত্রী তার খেয়াল রাখলেও সে তার খেয়াল রাখে না। তার সঙ্গে সে খুব বাজে ব্যবহার করে। বাইরের মানুষের সঙ্গে সে খুব হাসিখুশি থাকলেও স্ত্রীর সঙ্গে সে খুব রুক্ষ ও কর্কশ।
তাই স্ত্রীর মনে তার প্রতি যে ভালোবাসা ছিল তা একসময় মরে যায়। তার প্রতি যে শ্রদ্ধাবোধ ছিল তা হারিয়ে যায়।
স্ত্রীর এমন আচরণে সে তখন খুব আশ্চর্য হয়।
এমন স্বামী যেমন আছে—যে প্রায়ই বাসায় ফিরে দেখে তার স্ত্রী ঘুমাচ্ছে। আবার এমন স্বামীও আছে, যে স্ত্রীকে বাসায় অসুস্থ ফেলে রেখে ঘুরতে চলে যাচ্ছে।
এজন্য স্বামী-স্ত্রীর কর্তব্য হলো, পরস্পরকে গুরুত্ব দেওয়া। খেয়াল রাখা। পছন্দ-অপছন্দের প্রতি লক্ষ রাখা। অবহেলা না করা। কেননা অবহেলার কারণেই একসময় ভালোবাসা মরে যায়।৫২
টিকাঃ
৫২. ** হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন।
📄 শেষ কবে স্ত্রীকে গিফট দিয়েছিলেন?
এখন আপনাকে একটি প্রশ্ন করি, শেষ কবে স্ত্রীকে গিফট দিয়েছিলেন?
গিফট হচ্ছে ভালোবাসার প্রতীক। কৃতজ্ঞতার স্বরূপ।
গিফট ভালোবাসাকে স্বচ্ছ ও দৃঢ় করে। পারস্পরিক বন্ধনকে মজবুত করে। গিফট যত ছোটই হোক, স্ত্রীর মনে এর প্রভাব বিরাট। এর মাধ্যমে সে বুঝতে পারে আপনি তাকে ভালোবাসেন। গিফট তার অন্তরে ভালোবাসার সঞ্চার করে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, تَهَادَوْا تَحَابُّوا
‘তোমরা পরস্পরকে হাদিয়া দাও, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।’৫৩
দাম্পত্য জীবনে উদযাপন করার মতো অনেক উপলক্ষ আসে। যেমন, কর্মক্ষেত্রে স্বামীর পদোন্নতি। কিংবা স্ত্রীর গর্ভধারণ করা, মা হওয়া। কিংবা তার কুরআন খতম করা।
এসব উপলক্ষ উদযাপন করার জন্য আপনারা পরস্পরকে গিফট দিতে পারেন। গিফট খুব এক্সপেনসিভ, দামী হতে হবে এমন নয়। ছোট বা সামান্য কিছু দিয়েও উপযাপন করা যায়। সঙ্গে হৃদয়স্পর্শী ও আবেগঘন কোনো বাক্য লিখে দিলেন।
দেখবেন, শীতের ঝরাপাতার ন্যায় বিশুষ্ক ও ম্যারম্যারে হয়ে যাওয়া দাম্পত্যজীবনে ফাগুন এসেছে। ভালোবাসা তার সুরভী ছড়াচ্ছে।
কোনো সফর থেকে ফেরার সময় সঙ্গে কোনো গিফট নিয়ে আসতে পারেন। হোক তা সামান্য একটা ফুল কিংবা হাতের চুড়ি।
আপনি যদি বলেন, সামান্য একটা ফুল কেনারও সামর্থ্য আমার নেই, তাহলে কে বিশ্বাস করবে বলুন?!
গিফট যেকোনো বস্তু হতে হবে তা নয়। কোথাও বেড়াতে নিয়ে যাওয়া কিংবা খেতে নিয়ে যাওয়া, এগুলোও এক প্রকার গিফট।
জনৈক ব্যক্তি বলেন, তুমি যখন কোনো গিফট পাবে, আর তার বিনিময়ে কিছু দিতে পারবে না, তখন চিন্তা করো না। কারণ গিফট পেয়ে তুমি যে খুশি হয়েছ, এটাই গিফট প্রদানকারীর জন্য অনেক বড় গিফট হয়ে গেছে।
গিফট প্রদানের সময় কিছু লক্ষণীয় বিষয়:
• গিফটের গায়ে যেন প্রাইজ ট্যাগ লাগানো না থাকে। থাকলে সেটা উঠিয়ে ফেলা।
• কারও সামনে গিফট না দেওয়া। তবে যদি অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা।
♥ গিফট দিয়ে পরে খোঁটা না দেওয়া। কিংবা অন্যদের সামনে সেটার আলোচনা না করা।
দাম্পত্য জীবনে আসা বিভিন্ন আনন্দের উপলক্ষগুলো আপনারা এভাবে উদযাপন করতে পারেন।
পুরনো দম্পতিদের অনেকে এই বলে যুক্তি দিয়ে থাকে, আমাদের এখন আর এসব গিফট-টিফট দেওয়ার বয়স নেই। যৌবন সেই কবে চলে গিয়েছে।
এসব মূর্খতা। যারা সেলফিশ, শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে, সঙ্গি বা সঙ্গিনীর যে কোনো হক আছে, তা জানে না কিংবা স্বীকার করে না, কেবল তারাই এমন কথা বলে।৫৪
টিকাঃ
৫৩ মুয়াত্তা ইমাম মালেক: ২/৯০৮। তাবারানি আওসাত।
৫৪ 'হামাসাতুন ফি উষুনি যাওযাইন: ১৩৪-১৩৫।
📄 নারীরা যেসব কারণে মিথ্যা বলে
একজন নারীর মিথ্যা বলার অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন,
♥ বিয়ের আগে থেকেই অনেক নারীর মিথ্যা বলার অভ্যাস থাকে। পরিবারের থেকেও অনেকে মিথ্যা বলা শিখে। যেমন, সে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছে, তার পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই মিথ্যা বলে।
♥ কোনো কোনো নারী মায়ের কাছ থেকে মিথ্যা বলা শিখে। সে তার মাকে দেখেছে শুধু তার বাবার সঙ্গে মিথ্যা বলতো। অন্য কারও সঙ্গে মিথ্যা না বললেও তার মা তার বাবার সঙ্গে মিথ্যা বলত। এমন না যে তার বাবা কৃপণ ছিল, তাই তার মা তার সঙ্গে মিথ্যা বলতেন। এটা তার অভ্যাস ছিল।
♥ স্বামীর মিথ্যা বলার অভ্যাস থাকার কারণেও অনেক নারী মিথ্যা বলে। যেমন, তার স্বামী কথা দিয়ে কথা রাখে না। কিংবা কোনো প্রয়োজনে তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেটা আর ফেরত দেয় না। অথবা সে হয়ত তার স্বামীকে কোনো কিছু কিনতে টাকা দিয়েছে, তিনি সেটা কেনার পর বাকি টাকা আর ফেরত দেয়নি। তার কাছে রেখে দিয়েছেন।
♥ আবার অনেক নারী স্বামীর কঠিন স্বভাব ও আচার-আচরণের কারণে মিথ্যা বলে। কোনো কোনো স্বামী আছেন, স্ত্রীর সামান্য ভুলে ক্ষিপ্ত হয়ে যান। খুব মেজাজ দেখান। তেড়েফুঁড়ে আসেন। এমন স্বামীর অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য কোনো কোনো নারী মিথ্যা বলে থাকেন।
♥ আবার অনেক স্বামী স্ত্রীকে মিথ্যা বলতে বাধ্য করেন। যেমন, স্ত্রী কোনো একটা কিছু কিনে বাসায় এসে যদি বলে, এত টাকা। স্বামী তখন তাকে কিছু টাকা কমিয়ে দেয়। যেমন, একশ টাকা বললে স্বামী দেয় পঞ্চাশ টাকা। বারোশ বললে দেয় এক হাজার টাকা। কিংবা তাকে বলে, তুমি এটা কিনে ঠকেছো, এটার দাম এত না। মানে স্ত্রী কিছু কিনলেই সেটার দাম বেশি। এমতাবস্থায় অনেক স্ত্রী মিথ্যা বলতে বাধ্য হয়।
♥ হিংসুকদের হিংসা থেকে বাঁচার জন্যেও কোনো কোনো নারী মিথ্যা বলে থাকে।
প্রতিকার বা চিকিৎসা
স্ত্রীর মিথ্যা বলার রোগ থাকলে অনেকভাবেই এ রোগের চিকিৎসা করা যায়। নিম্নে কিছু চিকিৎসা পদ্ধতি তুলে ধরা হলো,
• পারস্পরিক সুন্দর বোঝাপড়া সৃষ্টি করা। আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তোলা।
• স্ত্রীর দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া। নারীরা সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল। তাই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া তাকওয়ার পরিচায়ক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَأَنْ تَعْفُوا أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى
'মাফ করে দেওয়াই তাকওয়ার অধিক নিকটতর। ৫৫
• স্ত্রীকে কোমলভাবে বোঝানো যে, মিথ্যা বলা মহাপাপ। কবিরা গুনাহ। মিথ্যা মানুষের বিশ্বাসকে নষ্ট করে দেয়। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে যদি বিশ্বাসই না থাকে, তাহলে তারা কীভাবে সংসার করবে? তাদের মাঝে ভালোবাসা কীভাবে থাকবে? যাকে বিশ্বাস করা যায় না, তাকে কখনো ভালোবাসাও যায় না।
• নিজের প্রয়োজনের কথা স্বামীর কাছে স্পষ্ট করে বলা। 'স্বামীকে বললে হয়ত দিবে না' এই ভেবে অনেক নারী তার প্রয়োজনের কথা বলে না। এমনটি না করা। বরং স্পষ্ট করে বলে দেওয়া।
• অল্পে তুষ্ট থাকা। লোভ না করা। লোভ মানুষকে মিথ্যার দিকে ঠেলে দেয়। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের নির্দেশ মেনে চলা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'সত্যকে ধারণ করা তোমাদের একান্ত কর্তব্য। কারণ সত্য সৎকর্মের দিকে পথপ্রদর্শন করে। আর সৎকর্ম জান্নাতের দিকে পথপ্রদর্শন করে। কোনো ব্যক্তি সর্বদা সত্য কথা বললে ও সত্য বলার চেষ্টায় রত থাকলে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার নিকট সে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। আর তোমরা মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাক। কারণ মিথ্যা পাপের দিকে পথপ্রদর্শন করে। পাপ জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে। কোনো ব্যক্তি সর্বদা মিথ্যা বললে এবং মিথ্যার উপর অবিচল থাকার চেষ্টা করলে অবশেষে সে আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদীরূপে লিপিবদ্ধ হয়। ৫৬
টিকাঃ
৫৫ সুরা বাকারা: ২৩৭।
৫৬ সহিহ মুসলিম: ৬৪০১।