📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 কালিমাতুন তাইয়্যিবাহ

📄 কালিমাতুন তাইয়্যিবাহ


মহান আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন। মনের ভাব ব্যক্ত করা শিখিয়েছেন। এটি তাঁর অনেক বড় একটি নেয়ামত। কিন্তু আমরা অনেকে এই নেয়ামতের অপব্যবহার করি এবং নিজেদের জন্য অনেক বড় বড় আপদ ডেকে নিয়ে আসি। মিথ্যা, অপবাদ, গিবত, পরচর্চা, কটুবাক্য, কথা লাগানো, কারও সম্পর্কে কাউকে বিষিয়ে তোলা, এসব করে আমরা নিজেদের আখেরাত বরবাদ করি। কিন্তু আমরা যদি একটু সতর্ক হই। আমাদের জবানকে নিয়ন্ত্রণ করি। সবসময় ভালো কথা বলি, তাহলে আমরা খুব সহজেই ইহ ও পরকালিন নাজাত লাভ করতে পারি। আমাদের জীবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে পারি। সংসার জীবনে প্রশান্তির হিমেল হাওয়া ছড়িয়ে দিতে পারি।
কালিমাতুন তাইয়্যিবাহ মানে হচ্ছে উত্তম কথা। সুন্দর কথা। মিষ্টি কথা। ভালো কথা। হাদিসে শরিফে নবিজি উত্তম ও ভালো কথাকে সদকা বলেছেন। এর বিনিময়ে সওয়াব ও প্রতিদান ঘোষণা করেছেন। সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা বৃদ্ধিতে কালিমাতুন তাইয়্যিবার ভূমিকা অপরিসীম। এ সম্পর্কে আমরা এখানে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করব। যেমন,
স্ত্রীর জন্য প্রার্থনা করা। তাকে নিজের প্রার্থনা শোনানো। যেমন আপনি সালাত আদায়ের পর হাত তুলে স্ত্রীর জন্য এভাবে দুআ করলেন,
হে আল্লাহ, আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কারণ আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট।
তবে তাকে শুনিয়ে আবার এমন দুআ করবেন না যাতে সে কষ্ট পায় হয়। যেমন, হে আল্লাহ, আপনি আমার স্ত্রীর আখলাক-চরিত্র, আচার-ব্যবহার সংশোধন করে দিন। তার ভেতরের সমস্ত হঠকারিতা ও অবাধ্যতা দূর করে দিন। তাকে সর্বদা বাধ্য, অনুগতা হওয়ার তৌফিক দান করুন।
কিংবা 'হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আমার স্ত্রীর ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দান করুন, আমি তাকে নিয়ে আর পারছি না।'
স্ত্রী অসুস্থ হলে তার মাথায় হাত রেখে তার জন্য দুআ করা। এমন কোনো কথা না বলা, যাতে তার প্রতি আপনার অবহেলা প্রকাশ পায়। যেমন, বহুত হয়েছে অসুস্থতার ভান। এবার উঠো। তোমার আসলে কিছুই হয়নি।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্ত্রীর কথার কীভাবে সুন্দর করে উত্তর দেবেন?

📄 স্ত্রীর কথার কীভাবে সুন্দর করে উত্তর দেবেন?


এ বিষয়ে আমরা অনেকেই অসচেতন। বলা যায় অজ্ঞ। কথা আমরা সবাই বলতে পারি। কিন্তু সুন্দর করে কথা? অল্প ক'জন পারি। উত্তর আমরা সবাই দিতে পারি। কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর? অল্প ক'জন পারি।
এটি একটি শিল্প বটে। চর্চা করে আয়ত্তে আনতে হয়। এর জন্য প্রচুর পড়তে হয়। যেমন, এখন আপনি পড়ছেন। স্ত্রীর কোন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেওয়া উচিত, এটা না জানার কারণে আমরা অনেক সময় এমনভাবে উত্তর দেই যে, তারা খুব কষ্ট পায়। তাদের হৃদয় ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। তারা অপমানিত বোধ করে। শুধু তাই নয়, আমাদের কথার কারণে অনেক সময় আমাদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাও কমে যায়। তাই আসুন এ বিষয়ে কিছু ধারণা নেওয়া যাক। যেমন, আপনার স্ত্রী যদি কখনো বলে যে, তার মা অসুস্থ, তখন আপনি তাকে কী বলবেন?
আপনি তাকে বলবেন, 'তুমি গিয়ে কিছুদিন তার সঙ্গে থেকে আসো। এখন তোমার তার পাশে থাকা ভীষণ প্রয়োজন।' এভাবে আপনার স্ত্রীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ আরও বেড়ে যাবে।
এভাবে বলা যাবে না, তোমার অন্য বোনদের বলো, তারা গিয়ে তোমার মায়ের সেবা করুক। তিনি কি শুধু তোমার একারই মা? তাদের মা নন? তাদের কী কোনো দায়িত্ব নেই?
আপনার স্ত্রী যদি বলে, 'তোমার সন্তান তোমার মতো হয়েছে। বই পাগল। তুমি পড়তে ভালোবাসো। সে-ও তোমার মতো পড়তে ভালোবাসে।'
আপনি তখন বলুন, 'আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা আমাকে এমন সন্তান দান করেছেন, যার জ্ঞান তার পিতা-মাতার মতো বৃদ্ধি পাচ্ছে।'
কিন্তু এভাবে না বলা, 'আলহামদুলিল্লাহ, সে তার মায়ের মতো হয়নি। তার মা তো জীবনে কোনো দিন বই-ই হাতে নিয়ে দেখেনি।' এভাবে বললে সে তার মনে আঘাত পাবে।
স্ত্রীরও উচিত সন্তান পড়া না পারলে তাকে এভাবে না বলা, 'তুমি তো দেখি তোমার বাবার মতো হয়েছ। অলস, অপদার্থ। মাথায় গোবর ছাড়া কিছু নেই।'
স্ত্রীর রান্নার প্রশংসা করুন। বলুন, খুব মজা হয়েছে। মাশাআল্লাহ। এতে সে খুশি হবে। আপনাকে আরও মজার মজার খাবার রান্না করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবে।
কিন্তু রান্নায় কখনো একটু এদিক-সেদিক হলে বলা যাবে না, 'ভালো করে রান্নাটা তুমি কবে যে শিখবে?'
আপনি কোনো কিছু নিয়ে খুব ব্যস্ত। সেই মুহূর্তে আপনার স্ত্রী আপনার কাছে এসে কোনো উপলক্ষ নিয়ে চটাচটি করলে মেজাজ হারাবেন না। সে কিছু চাইলে আপনি তাকে 'হাঁ'-এর উপর রাখুন। বলুন, অমুক দিন বা অমুক সময়। তবে তৎক্ষণাৎ দেওয়া সম্ভব হলে দিয়ে দিন।
কিন্তু ব্যস্ততার কারণে এটা বলা যাবে না, দেখছ না, ব্যস্ত আছি। চাওয়ার আর সময় পেলে না। কিংবা তুমি কখনো আমার অবস্থা বোঝার চেষ্টা করবে না। বিয়ের এত বছর হয়ে গেল, এখনও তুমি আমাকে বুঝতে পারলে না।
স্ত্রী কিছু বলার সময় তাকে 'আগেই শুনেছি' বলে থামিয়ে না দেওয়া। এতে সে কষ্ট পাবে। আপনি হয়ত খুব স্বাভাবিকভাবে বলবেন। কিন্তু তার মনটা খারাপ হয়ে যাবে।

টিকাঃ
84 হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন: ৬৬-৬৭।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন

📄 যেভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করবেন


ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শব্দ। যেখানে ভালোবাসা আছে, সেখানে কোনো বিষাদ নেই। আইন-আদালত নেই। মামলা-মোকাদ্দমা নেই। বিচার-সালিশ নেই। কিন্তু সবাই কি ভালোবাসা পায়? সবার কপালে কি এই নেয়ামত জোটে? বিশেষ করে স্ত্রীর ভালোবাসা তো খুব কম পুরুষের কপালে জোটে।
আমরা বিয়ে করি, ব্যাচেলর জীবন থেকে বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করি। স্বামী-স্ত্রী হই। একসময় আল্লাহর তাওফিকে বাবা-মা হই। কিন্তু আমরা সবাই প্রেমিক-প্রেমিকা হয়ে উঠতে পারি না। আমাদের সবার কপালে ভালোবাসা জোটে না।
আমরা পুরুষরা বিয়ে করেই মনে করি স্ত্রীকে জয় করে ফেলেছি। তার সবকিছু আমার হয়ে গেছে। তার সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। এখানেই আমরা সবচেয়ে বড় ভুলটা করি। তখন আমরা কর্তৃত্বপরায়ণ স্বামী ঠিকই হই। কিন্তু চিরন্তন প্রেমিক হয়ে উঠতে পারি না।
বিয়ে করার কারণে স্ত্রীর দেহের উপর আমাদের অধিকার ঠিকই জন্মায়। আমরা দুজন দুজনের জন্য হালাল হই। কিন্তু দুজন দুজনকে তখনও জয় করা হয় না। দেহ সম্পূর্ণরূপে সমর্পিত হলেও হৃদয় তখনও সমর্পিত হয় না। আমরা দেহের দ্বার উন্মুক্ত করার স্বাদ পেলেও হৃদয় দ্বার উন্মুক্ত করার স্বাদ পাই না। অথচ দেহের দ্বার উন্মুক্তের স্বাদ ক্ষণিকের। আর হৃদয়দ্বার উন্মুক্তের স্বাদ অনন্তকাল।
আমরা যদি আমাদের স্ত্রীর হৃদয় দ্বার উন্মুক্ত করতে চাই, তার হৃদয়রাজ্য জয় করতে চাই, তাহলে আমাদের তার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। যে সম্পর্ক জীবনের সমস্ত বিষাদকে আনন্দে পরিণত করবে। দুটি আত্মাকে আজীবন এক করে রাখবে। চায়ের কাপে টুনটুন করে বেজে উঠবে। কেননা দৈহিক সম্পর্ক কখনোই সংসারের ভীত নির্মাণ করে না। এটা শুধু ক্ষণিকের আনন্দ দান করে। তাও নির্দিষ্ট একটা বয়স পর্যন্ত। বরং আত্মিক সম্পর্কই সংসারের ভীত নির্মাণ করে। তাই আমাদের অবশ্যই স্ত্রীর সঙ্গে মজবুত আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তার হৃদয় জয় করতে হবে এবং সে জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
কিন্তু আমাদের সেই প্রচেষ্টা পদ্ধতি কী হবে? আমরা কীভাবে স্ত্রীর হৃদয় জয় করব?
খুব সহজ। আসুন জেনে নেওয়া যাক।
♥ আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করবেন, যেন তিনি আপনাকে স্ত্রীর ভালোবাসার রিজিক দান করেন। সে যেন আপনাকে অত্যন্ত ভালোবাসে।
কারও প্রতি ভালোবাসা একটি রিজিক, যা আল্লাহ তায়ালা মানুষকে দান করেন। যেমন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা ছিল। খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার ইন্তেকালের পরও তিনি কোনো বকরি জবাই করলে তা তাঁর বান্ধবীদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন। এজন্য আম্মাজান আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে খুব ঈর্ষা করতেন। নারীর স্বভাবসুলভ যে ঈর্ষা সেই ঈর্ষা।
খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার প্রতি নবিজির অন্তরে এই যে সীমাহীন ভালোবাসা, এটা আল্লাহ তায়ালারই দান ছিল। নবিজি তার পবিত্র জবানেই সেটা বলেছেন,
'আমাকে খাদিজার ভালোবাসার রিজিক দান করা হয়েছে। (অর্থাৎ তার ভালোবাসা আমার মনে জায়গা করে নিয়েছে।)'৪৬
ভালোবাসা আসমান থেকে নাযিল হয়। তারপর তা বান্দাদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়। তাই ভালোবাসার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করা এবং তা লাভ করার জন্য চেষ্টা করা।
♥ স্ত্রীর ছোট ছোট বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখা। এগুলো আপনাকে তার মন জয় করতে সহযোগিতা করবে। সবসময় বড় কিছু করতে হবে এমন নয়।
♥ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় স্ত্রীকে উষ্ণ আলিঙ্গনে সিক্ত করা। একটু জড়িয়ে ধরা, চুমু খাওয়া, নাকে আলতো করে একটা টোকা দেওয়া, গালটা ধরে একটু টান দেওয়া ইত্যাদি। এমনকি রোজা অবস্থায় হলেও। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা অবস্থায় আমাকে চুমু খেতেন।৪৭
♥ কর্মস্থলে গিয়ে কাজের ফাঁকে ফাঁকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা। ফোন বা ম্যাসেজ দিয়ে তাকে জানানো যে, আপনি তাকে মিস করছেন।
• কোনো দিন বাসায় ফিরতে দেরি হলে তাকে জানিয়ে দেওয়া যে, আজ ফিরতে একটু লেট হবে। আপনার ফিরতে দেরি হলে সে আপনাকে নিয়ে টেনশন করে।
• ঘরে প্রবেশের সময় হাসিমুখে প্রবেশ করা।
• তার প্রতি আপনার দায়িত্ব আছে এবং আপনি সেই দায়িত্বের ব্যাপারে সজাগ, সচেতন—এই অনুভূতি তার মাঝে সৃষ্টি করা।
• মাঝে মাঝে স্ত্রীকে সারপ্রাইজ দেওয়া। তাকে কোনো গিফট দেওয়া। এ ক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর প্রতি লক্ষ রাখা। যেমন—ঘড়ি, মোবাইল, আংটি, ড্রেস, কসমেটিকস ইত্যাদি।
• তাকে সম্মান ও মূল্যায়ন করা।
• বাচ্চাদের সামনে কখনো তার সমালোচনা না করা।
• পিতা-মাতার কাছে কখনো তার দোষ বর্ণনা না করা।

টিকাঃ
৪৬ সহিহ মুসলিম: ৬১৭১।
৪৭ সহিহ মুসলিম: ২৪৬৫।
৪৮ হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন: ৬৮-৬৯।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 প্রথমে গিয়ে তোমার গাধাকে তালাক দাও

📄 প্রথমে গিয়ে তোমার গাধাকে তালাক দাও


নতুন বিয়ে হয়েছে। বাসর রাত। স্বামী ঘরে না ঢুকতেই তার কী যেন মনে হলো, একটু আসছি বলে সে আবার বের হয়ে গেল।
নববধূ মনে করল, হয়ত সে তার জন্য সুন্দর কোনো গিফট আনতে গিয়েছে।
একটু পর সে ফিরে এল। সে কিছু আনতে যায়নি। এ কী? তার হাতে পশুর খাবার ঘাস, খড় ইত্যাদি লেগে আছে কেন?
এসব কী? নতুন বউ জিজ্ঞাসা করল।
সে তখন মুখে হাসি ফুটিয়ে বলল, আমার একটা গাধা আছে। হঠাৎ মনে পড়ল যে, গাধাটা এখনো খায়নি। তাই তাকে খাওয়াতে গিয়েছিলাম।
সে খুব অবাক হলো। কিন্তু নতুন বউ। তাই মুখ ফুটে কিছু বলতে পারল না।
ভোরে তার স্বামী তাকে জলদি জাগিয়ে তুলল। বলল সকাল হয়ে গেছে। আমার গাধাটা এখনো কিছু খায়নি। জলদি যাও। তাকে ঘাস-পানি দিয়ে এসো।
এভাবে মধুমাস গত হলো। সারাদিন শুধু গাধার কথা। তার স্বামীর মাথায় শুধু গাধা আর গাধা। গাধাকে খাবার দিয়েছো? গোসল করিয়েছো? ওর এখন কী অবস্থা? কী করছে? ঘুমাচ্ছে? আচ্ছা গাধা তোমাকে কী বলে?
বেচারির মনে হতে লাগল, এ কোন গাধার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। এ কোন গাধার সংসারে এসে সে পড়েছে। গাধা পালতে পালতে তো দেখি সে নিজেই গাধা হয়ে গেছে।
রাগে ক্ষোভে একদিন সে কাপড়-চোপড় সব গুছিয়ে বাবার বাড়ি চলে গেল। এই ছেলের সঙ্গে আর সংসার করা সম্ভব না। গাধার সঙ্গে থাকলে সেও একসময় গাধী হয়ে যাবে। নিজেকে তখন তার গাধী মনে হতে থাকবে।
পরিবারের মুরুব্বিরা এলো। ছেলেকে নিয়ে বসলো। তারা তাকে বুঝালো, 'সবে মাত্র বিয়ে করেছো। বাড়িতে নতুন বউ। এ সময় গাধাকে নয়, বউকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।'
সে তার ভুল বুঝতে পারল। কথা দিল আজ থেকে সে তার গাধাকে ভুলে যাবে। আর বউকে তার বাবার বাড়ি গিয়ে নিয়ে আসবে।
যেদিন বউকে এসে নিয়ে যাওয়ার কথা। সেদিন তার আসতে অনেক দেরি হলো।
-আসতে এত দেরি হলো যে? রাস্তায় কোনো সমস্যা হয়েছিল? তার স্ত্রী তাকে জিজ্ঞাসা করল।
-হুম, ট্রেন আসার কারণে দেরী হয়েছে। খুব শ্ল। আমার গাড়ী চড়ে আসলে আরও আগে পৌঁছতে পারতাম।
এ কথা শুনে সে সঙ্গে সঙ্গে এক চিৎকার দিল। আপনি এক্ষুনি আমাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। যেই ট্রেনে এসেছেন, সেই ট্রেনে করে চলে যান।
এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়ারূপ যদিও গাঁধা কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এমন অনেক বিষয় রয়েছে, পুরুষের মন-মগজ জুড়ে বাস করতে থাকে। তারা সেগুলোতে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। যেমন—ক্যামেরা, মোবাইল, নাটক, সিনেমা, গেমস, গান, গাড়ি, বাইক, ক্রিকেট, ফুটবল ইত্যাদি।
মোবাইলে সামান্য সমস্যা হলে আমরা অনেকে যতটা উদ্বিগ্ন হই, স্ত্রী অসুস্থ হলে, কিংবা সে কোনো ব্যাথা পেলে ততটা উদ্বিগ্ন হয় না।
আমি এক বড় ব্যবসায়ীকে চিনতাম, যে পেঁয়াজের ব্যবসা করত। সে যখনই কোনো পাত্রী দেখতে যেত, পাত্রীর সঙ্গে বসে পেঁয়াজের আলোচনা শুরু করে দিত। আর তখন সে পাত্রী তার হতচ্ছাড়া হয়ে যেত।
এভাবে দশের অধিক পাত্রী তার হতচ্ছাড়া হয়েছে। পাত্রীকে তার পছন্দ হলেও তাকে পাত্রীর পছন্দ হয় না।
শেষ পর্যন্ত সারাজীবন তাকে বিয়ে না করেই থাকতে হয়েছে। বট আর কপালে জোটেনি। পেঁয়াজপ্রেমী কাউকে সে খুঁজে পায়নি।

টিকাঃ
* হামাসাতুন ফি উয়ুনী যাওয়াহিন: 94-95।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00