📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 নারী পুরুষের মতো নয়

📄 নারী পুরুষের মতো নয়


নারীর যখন কোনো কারণে মন খারাপ থাকে, সে কোনো সমস্যায় থাকে, তখন সে কথা বলতে চায়। সে চায়, স্বামী তার কথাগুলো মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করুক। নারীরা সাধারণত তাদের সমস্যার কথা শেয়ার করতে পছন্দ করে। এতে সে হালকা বোধ করে। প্রশান্তি অনুভব করে।
কিন্তু সমস্যা হলো পুরুষের চিন্তায়।
সে মনোযোগ সহকারে স্ত্রীর কথা শুনতে গিয়ে মনে করে, তার স্ত্রী তার কাছে সমাধান চাচ্ছে। আসলে তা নয়। তার স্ত্রী মূলত চাচ্ছে কেউ তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনুক, বুঝুক, তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করুক।
কিন্তু পুরুষের ব্যাপারটি এমন নয়। পুরুষরা সাধারণত তাদের সমস্যার কথা তখনই শেয়ার করে, যখন তার কারও হেল্পের প্রয়োজন হয়। এটাও একটা কারণ যে, পুরুষ স্ত্রীর সমস্যার কথা শোনার সময় মনে করে সে কোনো সমাধান চাচ্ছে, হেল্প চাচ্ছে।
এ কারণে অনেক স্ত্রীকে অভিযোগ করতে শোনা যায়, তার স্বামী তার কথা মন দিয়ে শোনে না।
সমস্যাটা আসলে উভয়ের চিন্তায় ও স্বভাব-প্রকৃতির ভিন্নতায়। স্ত্রী চায়, স্বামী মনোযোগ দিয়ে তার কথাগুলো শুনুক। আর স্বামী মনে করে, স্ত্রী তার কাছে সমাধান চাচ্ছে। সে তখন তাকে সমাধান দিতে যায়। কিন্তু এই সমাধান সে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না। তখন আবার স্বামী মনে করে, তার স্ত্রী তার কথা গ্রহণ করছে না। তার কথাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। গুরুত্বই যেহেতু নেই। তাহলে আর সমস্যার কথা শুনে কী লাভ?
এরপর থেকে স্ত্রীর কথা শোনার প্রতি তার আগ্রহ কমে যায়।
সমাধান-
এ ক্ষেত্রে পুরুষের কর্তব্য হলো, প্রথমেই স্ত্রীকে সমাধান দিতে না যাওয়া। তার কথা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা। এরপর যথাসময় বুঝে সমাধান প্রদান করা। আর স্ত্রীরও উচিত স্বামীর মনোযোগ সহকারে শ্রবণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া। তাকে মুখ ফুটে বলা, তার এই গুণটি তার আসলেই ভালো লাগে।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 পুরুষ নারীর মতো নয়

📄 পুরুষ নারীর মতো নয়


পুরুষ যখন কোনো সমস্যা ও দুশ্চিন্তায় থাকে, তার যখন মন খারাপ থাকে তখন সে চুপ থাকতে পছন্দ করে। একটু একা থাকতে ভালোবাসে।
তাকে এমন চুপচাপ ও একা থাকতে দেখে স্ত্রী মনে করে, সে তাকে উপেক্ষা করছে। তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। কারণ নিজের সমস্যার কথা শেয়ার করার ব্যাপারে পুরুষরা একটু ইন্ট্রোভার্ট হয়। অন্তর্মুখী। সহজে শেয়ার করতে চায় না। আর এক্ষেত্রে নারীরা হয় এক্সট্রোভার্ট। বহির্মুখী। তারা শেয়ার করতে ভালোবাসে।
পুরুষ কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তামগ্ন থাকলে স্ত্রীর উচিত তাকে ভুল না বোঝা। রাগান্বিত না হওয়া। বরং অপেক্ষা করা, তাকে সময় নিতে দেওয়া এবং সুন্দর করে বলা, তোমার যখন কথা বলতে মন চাইবে, তখন বলো। আশা করি একসঙ্গে আমাদের ভালো কিছু সময় কাটবে।
খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পুরুষরা যদিও একটু চুপচাপ থাকে। কিন্তু একটা সময় পর সে ঠিকই তার স্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করে।
কিন্তু পুরুষ যদি শেয়ার করার জন্য প্রস্তুত না থাকে, আর স্ত্রী তাকে পীড়াপীড়ি করে। তখন দেখা যাবে সে মেজাজ হারিয়ে এমন কিছু বলে বসবে, যার পরবর্তিতে তাদের উভয়ের জন্য লজ্জা ও অনুতাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
এসব ক্ষেত্রে পুরুষকে একটু স্পেস দিতে হয়। তারা একটু স্পেস চায়। একা থাকার। একান্তে চিন্তা-ভাবনা করার। নিজে নিজেই সমাধা করার। সে শুরুতে কারও হেল্প নেওয়া পছন্দ করে না। আর নারী চায় কেউ তাকে শুনুক, তাকে বুঝুক। সহমর্মিতা প্রকাশ করুক। মমতার হাত প্রসারিত করুক।
পুরুষ বাস্তবতাপ্রবণ। আর নারী অনুভূতিপ্রবণ। পুরুষ জ্ঞানমুখী। আর নারী আবেগমুখী।

টিকাঃ
88 হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন: ৬০-৬১।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 কালিমাতুন তাইয়্যিবাহ

📄 কালিমাতুন তাইয়্যিবাহ


মহান আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন। মনের ভাব ব্যক্ত করা শিখিয়েছেন। এটি তাঁর অনেক বড় একটি নেয়ামত। কিন্তু আমরা অনেকে এই নেয়ামতের অপব্যবহার করি এবং নিজেদের জন্য অনেক বড় বড় আপদ ডেকে নিয়ে আসি। মিথ্যা, অপবাদ, গিবত, পরচর্চা, কটুবাক্য, কথা লাগানো, কারও সম্পর্কে কাউকে বিষিয়ে তোলা, এসব করে আমরা নিজেদের আখেরাত বরবাদ করি। কিন্তু আমরা যদি একটু সতর্ক হই। আমাদের জবানকে নিয়ন্ত্রণ করি। সবসময় ভালো কথা বলি, তাহলে আমরা খুব সহজেই ইহ ও পরকালিন নাজাত লাভ করতে পারি। আমাদের জীবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে পারি। সংসার জীবনে প্রশান্তির হিমেল হাওয়া ছড়িয়ে দিতে পারি।
কালিমাতুন তাইয়্যিবাহ মানে হচ্ছে উত্তম কথা। সুন্দর কথা। মিষ্টি কথা। ভালো কথা। হাদিসে শরিফে নবিজি উত্তম ও ভালো কথাকে সদকা বলেছেন। এর বিনিময়ে সওয়াব ও প্রতিদান ঘোষণা করেছেন। সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা বৃদ্ধিতে কালিমাতুন তাইয়্যিবার ভূমিকা অপরিসীম। এ সম্পর্কে আমরা এখানে কিঞ্চিৎ আলোকপাত করব। যেমন,
স্ত্রীর জন্য প্রার্থনা করা। তাকে নিজের প্রার্থনা শোনানো। যেমন আপনি সালাত আদায়ের পর হাত তুলে স্ত্রীর জন্য এভাবে দুআ করলেন,
হে আল্লাহ, আপনি তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। কারণ আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট।
তবে তাকে শুনিয়ে আবার এমন দুআ করবেন না যাতে সে কষ্ট পায় হয়। যেমন, হে আল্লাহ, আপনি আমার স্ত্রীর আখলাক-চরিত্র, আচার-ব্যবহার সংশোধন করে দিন। তার ভেতরের সমস্ত হঠকারিতা ও অবাধ্যতা দূর করে দিন। তাকে সর্বদা বাধ্য, অনুগতা হওয়ার তৌফিক দান করুন।
কিংবা 'হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আমার স্ত্রীর ব্যাপারে ধৈর্যধারণ করার তৌফিক দান করুন, আমি তাকে নিয়ে আর পারছি না।'
স্ত্রী অসুস্থ হলে তার মাথায় হাত রেখে তার জন্য দুআ করা। এমন কোনো কথা না বলা, যাতে তার প্রতি আপনার অবহেলা প্রকাশ পায়। যেমন, বহুত হয়েছে অসুস্থতার ভান। এবার উঠো। তোমার আসলে কিছুই হয়নি।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্ত্রীর কথার কীভাবে সুন্দর করে উত্তর দেবেন?

📄 স্ত্রীর কথার কীভাবে সুন্দর করে উত্তর দেবেন?


এ বিষয়ে আমরা অনেকেই অসচেতন। বলা যায় অজ্ঞ। কথা আমরা সবাই বলতে পারি। কিন্তু সুন্দর করে কথা? অল্প ক'জন পারি। উত্তর আমরা সবাই দিতে পারি। কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর? অল্প ক'জন পারি।
এটি একটি শিল্প বটে। চর্চা করে আয়ত্তে আনতে হয়। এর জন্য প্রচুর পড়তে হয়। যেমন, এখন আপনি পড়ছেন। স্ত্রীর কোন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেওয়া উচিত, এটা না জানার কারণে আমরা অনেক সময় এমনভাবে উত্তর দেই যে, তারা খুব কষ্ট পায়। তাদের হৃদয় ভেঙে চৌচির হয়ে যায়। তারা অপমানিত বোধ করে। শুধু তাই নয়, আমাদের কথার কারণে অনেক সময় আমাদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাও কমে যায়। তাই আসুন এ বিষয়ে কিছু ধারণা নেওয়া যাক। যেমন, আপনার স্ত্রী যদি কখনো বলে যে, তার মা অসুস্থ, তখন আপনি তাকে কী বলবেন?
আপনি তাকে বলবেন, 'তুমি গিয়ে কিছুদিন তার সঙ্গে থেকে আসো। এখন তোমার তার পাশে থাকা ভীষণ প্রয়োজন।' এভাবে আপনার স্ত্রীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। আপনার প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ আরও বেড়ে যাবে।
এভাবে বলা যাবে না, তোমার অন্য বোনদের বলো, তারা গিয়ে তোমার মায়ের সেবা করুক। তিনি কি শুধু তোমার একারই মা? তাদের মা নন? তাদের কী কোনো দায়িত্ব নেই?
আপনার স্ত্রী যদি বলে, 'তোমার সন্তান তোমার মতো হয়েছে। বই পাগল। তুমি পড়তে ভালোবাসো। সে-ও তোমার মতো পড়তে ভালোবাসে।'
আপনি তখন বলুন, 'আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালা আমাকে এমন সন্তান দান করেছেন, যার জ্ঞান তার পিতা-মাতার মতো বৃদ্ধি পাচ্ছে।'
কিন্তু এভাবে না বলা, 'আলহামদুলিল্লাহ, সে তার মায়ের মতো হয়নি। তার মা তো জীবনে কোনো দিন বই-ই হাতে নিয়ে দেখেনি।' এভাবে বললে সে তার মনে আঘাত পাবে।
স্ত্রীরও উচিত সন্তান পড়া না পারলে তাকে এভাবে না বলা, 'তুমি তো দেখি তোমার বাবার মতো হয়েছ। অলস, অপদার্থ। মাথায় গোবর ছাড়া কিছু নেই।'
স্ত্রীর রান্নার প্রশংসা করুন। বলুন, খুব মজা হয়েছে। মাশাআল্লাহ। এতে সে খুশি হবে। আপনাকে আরও মজার মজার খাবার রান্না করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবে।
কিন্তু রান্নায় কখনো একটু এদিক-সেদিক হলে বলা যাবে না, 'ভালো করে রান্নাটা তুমি কবে যে শিখবে?'
আপনি কোনো কিছু নিয়ে খুব ব্যস্ত। সেই মুহূর্তে আপনার স্ত্রী আপনার কাছে এসে কোনো উপলক্ষ নিয়ে চটাচটি করলে মেজাজ হারাবেন না। সে কিছু চাইলে আপনি তাকে 'হাঁ'-এর উপর রাখুন। বলুন, অমুক দিন বা অমুক সময়। তবে তৎক্ষণাৎ দেওয়া সম্ভব হলে দিয়ে দিন।
কিন্তু ব্যস্ততার কারণে এটা বলা যাবে না, দেখছ না, ব্যস্ত আছি। চাওয়ার আর সময় পেলে না। কিংবা তুমি কখনো আমার অবস্থা বোঝার চেষ্টা করবে না। বিয়ের এত বছর হয়ে গেল, এখনও তুমি আমাকে বুঝতে পারলে না।
স্ত্রী কিছু বলার সময় তাকে 'আগেই শুনেছি' বলে থামিয়ে না দেওয়া। এতে সে কষ্ট পাবে। আপনি হয়ত খুব স্বাভাবিকভাবে বলবেন। কিন্তু তার মনটা খারাপ হয়ে যাবে।

টিকাঃ
84 হামাসাতুন ফি উযুনি যাওযাইন: ৬৬-৬৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00