📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 কুরআনের আলো থেকে

📄 কুরআনের আলো থেকে


মহান রাব্বুল আলামিন বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার।' ২৫
পবিত্র কুরআনের এই আয়াতের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম, নারীকে আল্লাহ তায়ালা পুরুষের প্রশান্তি লাভের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আপনি লক্ষ করলে দেখবেন, একজন পুরুষের জীবনের সমস্ত সুখই কিন্তু নারীর সঙ্গে মিশে থাকা। সেই ছোট্টবেলায় মায়ের স্নেহের আঁচল। তারপর বোনদের সঙ্গে হেসে-খেলে কাটানো দুরন্ত শৈশব। দাদী-নানীর আদর ভালোবাসা। টগবগে যৌবনে এসে নারীর প্রেমময় স্পর্শ। মায়ের অবর্তমানে তার অভাব পূরণ করা বড় বোন। তার স্নেহমাখা আলিঙ্গন। দিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেওয়া কন্যা সন্তানের মুখের নিষ্পাপ হাসি। নারী ছাড়া শুধু পুরুষ কেন, পৃথিবীটাই তো কল্পনা করা সম্ভব না।
একটি মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আল্লাহ তায়ালা নারীকে সৃষ্টি করেছেন। তাকে আশরাফুল মাখলুকাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি যে, বিয়ের পর সে কারও ঘরের কাজের মানুষ হবে, যে তাকে সবসময় শাসনের মধ্যে রাখবে। তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবে।
নিজের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য নারীর যেমন পুরুষকে প্রয়োজন, তেমনি প্রশান্তি লাভের জন্য পুরুষেরও স্ত্রীকে প্রয়োজন।
নারী যেমন পুরুষের প্রতি, তেমনি পুরুষও নারীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। সৃষ্টিগতভাবে এই আকর্ষণ তাদের মাঝে আল্লাহ তায়ালাই দান করেছেন। এ কথাটি আমরা সবাই জানলেও খুব কম মানুষই এটি জানে যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে আল্লাহ তায়ালা আত্মার প্রশান্তি, অন্তরের প্রফুল্লতা ও নীতি-নৈতিকতার ভারসাম্যতা রেখেছেন। ২৬

টিকাঃ
২৫ সুরা রূম: ২১।
২৬ 'হামাসাতুন ফি উষুনি যাওযাইন: ২৬।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 কেন বিয়ে করবেন?

📄 কেন বিয়ে করবেন?


বিয়ের আগে আমাদের জেনে নেওয়া উচিত আমরা কেন বিয়ে করছি? আমাদের নিয়ত কী? উদ্দেশ্য কী?
কারণ, নিয়ত হচ্ছে কোনো কাজের মূল ও সারবস্তু। নিয়তের মাধ্যমে যে কোনো আমলের প্রতিদান অনেক গুণ বেড়ে যায়। সাধারণ আমলেও বিরাট সওয়াব অর্জন করা যায়। আবার নিয়ত সঠিক না হলে অনেক বড় আমলও অন্তসারঃশূণ্য হয়ে যায়। অসাধারণ আমলও সাধারণ হয়ে যায়। কখনো কখনো তা নষ্টও হয়ে যায়। বিয়ের ক্ষেত্রে আমাদের নিয়ত যাতে সহিহ হয়, গলদ ও স্থূল না হয়। তাই আসুন আমরা জেনে নেই, কী কী নিয়ত করতে হবে:
* প্রথম: রাসুলের আদেশ পালনার্থে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকদের দ্রুত বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
'হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ের সামর্থ্য আছে তারা যেন বিয়ে করে নেয়। কারণ, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখতে সাহায্য করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে রোজা রাখবে। কারণ রোজা যৌন ক্ষমতাকে দমন করে।'২৭
সাহল বিন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি ইরশাদ করেন,
'তোমরা মোহর হিসেবে সামান্য একটি লোহার আংটির বিনিময়ে হলেও বিয়ে করো।'২৮
* দ্বিতীয়: লজ্জাস্থান ও দৃষ্টির হেফাজত করা এবং চারিত্রিক পবিত্রতা হাসিল করা। কোনো নারী-পুরুষ যদি এই নিয়তে বিয়ে করে, তাহলে অবশ্যই তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
* নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তিন প্রকারের লোক, আল্লাহর উপর যাদের হক রয়েছে, মহান আল্লাহ তাদের অবশ্যই সাহায্য করবেন। এক. মনিবের সঙ্গে কিতাবাত চুক্তিকারী গোলাম, যে তার অর্থ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে। দুই. যে বিবাহিত ব্যক্তি চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করতে চায়। তিন. আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ।'
আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী আর কে আছে বলুন?
♥ তৃতীয়: দীনদার মুসলিম পরিবার গঠন করা।
♥ চতুর্থ: নেক সন্তান জন্মদান করা এবং তাদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। হয়তো আল্লাহ তায়ালা তাদের দ্বারা দ্বীনের বড় কোনো খেদমত নিবেন। দীনকে সাহায্য ও বিজয়ী করবেন। তারা হয়ত দ্বীনের বড় কোনো আলেম কিংবা মুজাহিদ হবে।
♥ পঞ্চম: সওয়াব লাভের আশায় স্ত্রী-সন্তানদের পিছনে খরচ করা। নবিজি বলেন, ‘কোনো লোক যদি সওয়াবের প্রত্যাশায় তার পরিবারের পিছনে খরচ করে, তাহলে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ।’
♥ ষষ্ঠ: আল্লাহর ইবাদতে একে অপরকে সাহায্য করা।
♥ সপ্তম: দান-সদকায় একে অপরকে সাহায্য করা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে, ‘কোনো স্ত্রী যদি তার ঘর থেকে খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া খাদ্যদ্রব্য সদকা করে, তবে এজন্য সে সওয়াব লাভ করবে। আর উপার্জন করার কারণে স্বামীও সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চিও অনুরূপ সওয়াব পাবে। তাদের একজনের কারণে অন্যজনের সওয়াবে কোনো কমতি হবে না।’ ৩০

টিকাঃ
২৭ সহিহ বুখারি : ৫০৬৬।
২৮ সুনানে নাসাঈ : ৩২১৮।
* সহিহ বুখারি: ৪১৪১
৩০ সহিহ বুখারি: ১৪২৫।
* হামাসাতুন ফি উয়ুনি যাওযাইন: ৪১।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 পাত্রী নির্বাচনে পুরুষদের কিছু ভুল

📄 পাত্রী নির্বাচনে পুরুষদের কিছু ভুল


বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেক পুরুষ শুরুতেই বিরাট যে ভুলটি করে থাকে তা হলো ভুল পাত্রী নির্বাচন করা।
পাত্রী নির্বাচনে অনেককে প্রাচুর্য ও রূপ-সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিতে দেখা যায়। তাকওয়া, পরহেযগারী, দীনদারি ও আখলাকের বিষয়টি তাদের কাছে তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এ ব্যাপারে তারা উদাসীন। কিন্তু তারা জানে না, এভাবে তারা তাদের ভবিষৎ সুখময় দাম্পত্য জীবনকে কতটা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। তারা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'চারটি গুণ দেখে নারীকে বিয়ে করো—সম্পদ, রূপ-সৌন্দর্য, বংশমর্যাদা এবং দীনদারি। তবে তুমি দীনদারিকে প্রাধান্য দিবে। নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'১
এই হাদিসে আমাদের পাত্রী নির্বাচনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাত্রী নির্বাচনের সময় তার চারটি গুণ দেখতে বলা হয়েছে। তবে দীনদারির গুণটিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অন্য গুণগুলো থাক বা না থাক দীনদারি যেন অবশ্যই থাকে। অন্যথায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
অপর এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'শুধু রূপ দেখে তোমরা নারীদের বিয়ে করো না। হতে পারে রূপই তাদের বরবাদ করে দিবে। তোমরা তাদের অর্থ-সম্পদ দেখেও বিয়ে করো না। হতে পারে অর্থ-সম্পদের কারণে সে অহংকারী হয়ে উঠবে। বরং তোমরা তাদের দীন দেখে বিয়ে করো। একজন নাক-কান কাটা কালো দাসীও তোমাদের জন্য উত্তম, যদি সে দীনদার হয়।' ৩২
কিন্তু অনেক পুরুষকে বলতে শোনা যায়, 'পাত্রী দীনদার হোক না হোক, কিন্তু সুন্দরী হওয়া চাই। দীনদার না হলে বিয়ের পর আমি তাকে দীনদার বানিয়ে নিব। সংশোধনের প্রয়াস চালাব। তার জন্য দুআ করব, আল্লাহ যেন তাকে দীনদার বানিয়ে দেন।'
এটি একটি শয়তানি ধোঁকা। দেখা যাবে, বিয়ের পর স্ত্রী উল্টো তাকে দাওয়াত দিয়ে বদদীন বানিয়ে ফেলেছে। তার তাকওয়া পরহেযগারী সব নষ্ট করে দিয়েছে।
সে যদি স্ত্রীর ডাকে সাড়া না দেয়, বদদীনের পথে পা না বাড়ায়, তথাপি তাকে তার সঙ্গে মানিয়ে চলতে বেগ পেতে হবে। বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হবে। নানান জটিলতা দেখা দিবে।
এমনও হতে পারে, সে তার সংশোধনে ব্যর্থ হয়ে একপর্যায়ে তাকে তালাক দিতে বাধ্য হবে। পরিস্থিতি এতটা জটিল আকার ধারণ করবে।
এমতাবস্থায় তাদের সংসারে কোনো সন্তান এসে থাকলে তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠা তার জন্য কঠিন হয়ে যাবে।
একজন মানুষের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করা, ছোটকাল থেকে সে যে বাঁকা পথে চলে এসেছে, সে পথ থেকে তাকে সোজা পথে নিয়ে আসা, দীনদার বানিয়ে ফেলা সহজ কথা নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ সময়, শ্রম, সাধনা ও সুকৌশলের। প্রয়োজন তার চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা ও স্বভাব-প্রকৃতি গভীরভাবে বুঝতে পারার এবং যথাসময়ে সংশোধনের যথা পদ্ধতি অবলম্বন করার। একজন পুরুষকে ধৈর্যের সঙ্গে এ কাজগুলো করে যেতে হবে।
আর এমন ত্যাগ স্বীকার করার মতো পুরুষ কোথায়?
বর্তমানে অধিকাংশ পুরুষেরই পরিবারকে সময় দেওয়ার মতো সুযোগ থাকে না। ঘুমানোর সময়টা বাদ দিলে মাত্র কয়েক ঘণ্টা তার বাসায় থাকা হয়। বাসাটা হচ্ছে তার কাছে হোটেল। স্ত্রী সে হোটেলের বাবুর্চি। সে বাসায় যায় শুধু দুটো খেয়ে ঘুমানোর জন্য।
পুরুষদের ভুলে যাওয়া উচিত না, যে নারীকে সে তার স্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করছে, সে-ই তার ভবিষ্যৎ সন্তানদের মা। তাদের লালন-পালনকারিণী। তার কাছ থেকেই তারা দীনদারী ও আদব-আখলাক শিখবে।
এজন্যই বলা হয়, তুমি আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিব।
এই কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমরা বলতে পারি, তুমি আমাকে একটি ধার্মিক মা দাও, আমি তোমাকে একটি ধার্মিক জাতি উপহার দিব।
কাঠি সোজা না হলে তার ছায়া যেমন সোজা হয় না। ঠিক তেমনি মা বাঁকা প্রকৃতির হলে সন্তানরাও বাঁকা প্রকৃতির হয়। কেননা সন্তানরা তো তার মায়েরই ছায়াস্বরূপ।
স্ত্রী যদি ধার্মিক না হয়, তার ভেতর যদি তাকওয়া পরহেযগারী না থাকে, সে যদি ইসলামি অনুশাসন মেনে না চলে, তাহলে তাকে স্বামীর জান-মাল ও গোপন
বিষয়াদির ক্ষেত্রে নিরাপদ মনে করা যায় না। এ তো গেল বাহ্যিক বিষয়। ভেতরগত বিষয় যেমন তার চরিত্রের বিষয়েও তাকে নিরাপদ মনে করা যায় না।
ইসলাম শুধু বাহ্যিক দিক নয়, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিককেই গুরুত্ব দিতে বলে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা তোমাদের বাহ্যিক চেহারা-সুরত ও ধন-সম্পদ দেখেন না। বরং তিনি তোমাদের আমল ও অন্তর দেখেন।' ৩৩
তাই পুরুষের কর্তব্য শুধু বাহ্যিক অবস্থা দেখে জীবনসঙ্গিনি নির্বাচন না করা। তার ব্যক্তিসত্তা, মেধা, মনন, আখলাক, তার পিতা-মাতার আখলাক দেখে নেওয়া। বিয়ের আগে খোঁজখবর নিয়ে এগুলো জেনে নেওয়া। কেননা বিয়েকে দীনের অর্ধেক বলা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মাঝেই যদি দীনদারি না থাকে তাহলে সে বিয়ে অর্ধেক দীন হয় কী করে?
মনে রাখবেন, স্ত্রীর সততা, চারিত্রিক পবিত্রতা, আমানতদারিতা-এগুলো এমন গুণ, পৃথিবীর কোনো কিছুর বিনিময়ে যা ক্রয় করা যায় না। এত মূল্যবান। বিয়ের পর আপনার স্ত্রীর চরিত্রে কোনো দাগ লাগলে পৃথিবীর সমস্ত সম্পদ দিয়েও আপনি সেই দাগ মুছতে পারবেন না। সে শুধু নিজেকেই কলঙ্কিত করবে না। আপনার ও আপনার পরিবারের মান-সম্মানও নষ্ট করবে। সবার যন্ত্রণার কারণ হবে।
সুতরাং পাত্রী নির্বাচনের সময় সম্পদ কিংবা অন্য কোনো পার্থিব বস্তুর লোভে দীনদারির বিষয়টি অবহেলা না করা।
সম্পদ, রূপ-যৌবন-এগুলো ক্ষণস্থায়ী। এগুলো একসময় চলে যায়। কিন্তু মানুষের আখলাক-চরিত্রটা থেকে যায়।
হাঁ, আল্লাহ যদি কাউকে এমন স্ত্রী দান করেন যার মধ্যে উপরিউক্ত হাদিসে বর্ণিত চারটি গুণই বিদ্যমান। ধনী, রূপবতী, উচ্চবংশীয়া এবং ধার্মিক। তাহলে তো এটা তার জন্য বিরাট নেয়ামত। সে বিরাট সৌভাগ্যবান। তার এই নেয়ামতের কদর করা উচিত এবং স্ত্রীর হক আদায় করা ও তার প্রতি সদাচরণের মাধ্যমে এই নেয়ামতের হেফাজত করা উচিত। ৩৪

টিকাঃ
১ সহিহ বুখারি : ৫০৪০।
২ ইবনে মাজাহ: ১৮৫৯।
৩০ সহিহ মুসলিম: ৬৪৩৭।
৩৪ আদেল ফাতহির আখতাউন শাইয়াতুন ইয়াকাউ ফি-হাল আযওয়ায: ৬।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্ত্রীকে দীন শিক্ষা দেওয়া

📄 স্ত্রীকে দীন শিক্ষা দেওয়া


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلائِكَةٌ غِلاظٌ شِدَادٌ لا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
'হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনদের সেই অগ্নি থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হলো মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ, যারা আল্লাহ তায়ালা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং তাদেরকে যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।' ৩৫
এই আয়াতে মুমিনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিজেকে ও তার পরিবার- পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর। সে জন্য আমাদের অবশ্যই আল্লাহর হুকুম-আহকামগুলো সঠিকভাবে পালন করতে হবে। তাঁর বিধান অনুযায়ী জীবন-যাপন করতে হবে। আর সে জন্য আমাদের আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জানতে হবে। শরিয়তের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। যেটাকে আমরা দ্বীনি শিক্ষা বলি।
পুরুষকে তার পরিবারের কল্যাণকামী হওয়ার, তাদেরকে সৎকাজের আদেশ করার ও অসৎকাজের নিষেধ করার ব্যাপারে আদেশ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় রাসুলকে নির্দেশ দিয়ে বলেন,
وَأُمُرُ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى
'আপনি আপনার পরিবারস্থ লোকজনকে নামাজের আদেশ করুন, নিজেও তার উপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে রিজিক চাই না। রিজিক তো আমিই আপনাকে দান করি। আর উত্তম পরিণতি তো তাকওয়ার জন্য।' ৩৬
স্ত্রীর পর্দার বিষয়ে অবহেলা থাকলে স্বামীর উচিত তাকে পর্দার ব্যাপারে যত্নবান হতে বলা, সে যেন কোনো পরপুরুষের সামনে না যায়। যাদের সঙ্গে দেখা করা হারাম তাদেরকে দেখা না দেয়।
এখন কাদের সঙ্গে তার পর্দা করতে হবে, এ বিষয়টি যদি স্ত্রীর জানা না থাকে, তাহলে স্বামীর উচিত তাকে জানিয়ে দেওয়া। জানা থাকলে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। তাকে তার প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল ও দুআ-দুরুদ, তাসবিহ-তাহলিল শিক্ষা দেওয়া। কুরআন শরিফ পড়তে না পারলে শুদ্ধ করে কুরআন শেখার ব্যবস্থা করা।
হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজালি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, পুরুষের উচিত হায়েজের বিধানাবলি শিখে রাখা, যাতে স্ত্রীর হায়েজের দিনগুলোতে কী কী বিষয় থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব, তা তার জানা থাকে। স্ত্রীকেও শিক্ষা দেওয়া দরকার। যেমন, (হায়েজের সময়সীমা কী, হায়েজ শেষ হয়েছে কি না তা বোঝার উপায় কী, হায়েজ ও ইস্তিহাযার মধ্যে পার্থক্য কী) হায়েজের সময়কার কোন কোন নামাজের কাযা পড়তে হয় এবং কোন কোন নামাজের কাযা পড়তে হয় না ইত্যাদি যাবতীয় মাসআলা-মাসায়েল তাকে শিক্ষা দেওয়া।
কেননা পবিত্র কুরআনে স্ত্রীকে দোযখ থেকে বাঁচানোর জন্য পুরুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,
قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَاراً
'তোমরা নিজেদের ও তোমাদের পরিবার-পরিজনদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।'৩৭
সেই সাথে স্ত্রীকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদার বিষয়গুলোও শিক্ষা দেওয়া। এ কাজটি পুরুষের জন্য আবশ্যক। স্ত্রী যদি কোনো বিদআতে কান দিয়ে থাকে, পুরুষের উচিত তা তার মন থেকে দূর করে দেওয়া। আল্লাহর হুকুম পালনে অলসতা করলে তাকে আল্লাহর আযাবের ভয় দেখানো। হায়েজ ও এস্তেহাযার প্রয়োজনীয় মাসআলা শিক্ষা দেওয়া, যেমন হায়েজের সময়সীমা কী, হায়েজ ও ইস্তেহাজার মধ্যে পার্থক্য কী, হায়েজ অবস্থায় হজ্জ-উমরার বিধান ইত্যাদি।
মাসআলা শেখার জন্য স্বামী যথেষ্ট হলে কোনো আলেমের কাছে যাওয়া স্ত্রীর জন্য বৈধ নয়। কিংবা পুরুষের যদি মাসআলা না জানা থাকে, কিন্তু কোনো মুফতির কাছ থেকে তিনি জেনে তাকে জানাতে পারেন, তবুও স্ত্রীর জন্য বাইরে যাওয়া জায়েজ নয়। এছাড়া স্ত্রীর বাইরে যাওয়া এবং জিজ্ঞেস করে নেওয়া জায়েজ, বরং ওয়াজিব। এমতাবস্থায় স্বামী নিষেধ করলে গুনাহগার হবে।
স্ত্রীর যদি ফরজ বিধানগুলো জানা থাকে, তবে আরও অধিক ইলম হাসিলের জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া কোনো ওয়াজের মজলিসে যাওয়া জায়েজ নয়।
যদি এমন হয়, স্ত্রী হায়েজ-ইস্তেহাজার কোনো মাসআলা জানে না। না জানার কারণে সে পালনও করে না। আর তার স্বামীও তাকে শিক্ষা দেয় না। এমতাবস্থায় স্ত্রী কোনো আলেমের কাছে যেতে চাইলে স্বামী তার সঙ্গে যাবে। নতুবা গুনাহে সেও তার অংশীদার হবে।
ইবনে হাজম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, প্রাপ্তবয়স্ত ও সুস্থ-মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য পবিত্রতা অবলম্বন করা, সালাত আদায় করা ও রমজানের ফরজ রোজা রাখা আবশ্যক। এ ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত নেই। তাই তাদের উপর নামাজ, রোজা ও পবিত্রতার বিধান সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং সেগুলো পালন করার পদ্ধতিসমূহ জানা ফরজ। অনুরূপভাবে তাদের উপর পানাহার, পরিধেয় বস্ত্র, লজ্জাস্থান, রক্ত, কথা ও কাজ সংক্রান্ত হালাল-হারামের বিধান সম্পর্কে জানা ফরজ। এগুলো সম্পর্কে কোনো মুসলমানের অজ্ঞ থাকার সুযোগ নেই।
একজন পুরুষ যেহেতু পরিবারের দায়িত্বশীল, তাই তার অবশ্য কর্তব্য পরিবারের সকলকে এগুলো শিক্ষা দেওয়া, কিংবা তাদের শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করা। নতুবা সে গুনাহগার হবে এবং এর জন্য আল্লাহর কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে।

টিকাঃ
৩৫ সুরা তাহরিম: ৬।
৩৬ সুরা ত্বহা: ১৩২।
৩৭ সুরা তাহরিম: ৬।
* 'আল-ইহকাম ফি উসূলিল আহকাম: ৫/১২১।
** আখতাউন شাইয়াতুন ইয়াকাউ ফি-হাল আযওয়ায: ২০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00