📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্ত্রীর সঙ্গে আচরণশিল্প

📄 স্ত্রীর সঙ্গে আচরণশিল্প


আচ্ছা, স্ত্রীর সঙ্গে আচরণ—এটি কি কোনো শিল্প, যা চর্চা করতে হয়?
আমি বলব, অবশ্যই এটি একটি শিল্প। এ শিল্পে নিপুণতা আনতে হলে তা চর্চা করতে হবে। নিয়মিত নিজেকে নিয়ে বসতে হবে। আলোচনা-পর্যালোচনা করতে হবে। নবি ও সাহাবায়ে কেরামের সীরাত অধ্যয়ণ করতে হবে এবং সে আলোকে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।
স্ত্রীর সঙ্গে আচরণের এই যে শিল্প, প্রথমে আমাদের এ শিল্প সম্পর্কে জানতে হবে। তবে আমাদের জানার উৎস হবে না কোনো গুগল কিংবা নেট দুনিয়া। অথবা ইসলামের আদর্শচ্যুত আধুনিক কোনো ম্যাগাজিন কিংবা পেপার-পত্রিকা।
আমাদের জানার একমাত্র উৎস হবে রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উসওয়ায়ে হাসানাহ। তার সুস্পষ্ট হেদায়েত ও পথনির্দেশনা।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
‘বস্তুত আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ এমন ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও আখেরাত দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে।’”
এজন্য আমাদের জানতে হবে, স্ত্রীদের সাথে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণনীতি কেমন ছিল? নবিগৃহে ভালোবাসার চিত্র কেমন ছিল? তার দাম্পত্য জীবন কত সুরভিত ছিল? তিনি তার স্ত্রীদের সঙ্গে কেমন ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ আচরণ করতেন? কোনো ভুল হলে তাদের কীভাবে শোধরাতেন, সংশোধন করতেন?
আল্লাহ তায়ালা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র স্ত্রীগণকে আদেশ করেছেন তাঁর ঘরোয়া ও পারিবারিক জীবনের সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বর্ণনা করতে। যদিও তা একান্ত গোপন বিষয় হয়।
উদ্দেশ্য-যাতে উম্মত এগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। হেদায়েত ও পথনির্দেশনা লাভ করতে পারে এবং দাম্পত্য জীবনের যাবতীয় সমস্যার সমাধান খুঁজে নিতে পারে।
নবিজির পূণ্যবতী স্ত্রীগণকে সম্বোধন করে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ
'এবং তোমাদের গৃহে আল্লাহ তায়ালার যেসব আয়াত ও হেকমতের কথা শোনানো হয়, তোমরা তা উল্লেখ করো।' ২২
সুতরাং স্ত্রীদের সাথে আমাদের আচরণনীতি নবিজির জীবনাদর্শ থেকেই আমরা গ্রহণ করব এবং এটাকেই একমাত্র সমাধান ও মুক্তির পথ মনে করব। ২৩

টিকাঃ
” সূরা আহযাব: ২১।
২২ সুরা আহযাব: ৩৪।
২৩ ফাল্গুত তাআমুল মাআয যাওযাহ।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর আচরণনীতি

📄 স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর আচরণনীতি


অনেকগুলো কারণে আমার এ বিষয়ে কলম ধরা। তন্মধ্যে কয়েকটি উল্লেখ করছি:
• প্রথমত স্ত্রীর প্রতি সদাচরণের ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনাগুলো তুলে ধরা। বিশেষ করে স্ত্রীর যেসব অধিকারের ব্যাপারে অধিকাংশ পুরুষরা অজ্ঞ, সেগুলোর ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট বক্তব্যকে তুলে ধরা।
স্ত্রীর অধিকারের ব্যাপারে আমাদের অনেকেই অজ্ঞ। যারা অবগত, তাদের অনেকে আবার না জানার ভান করে। ভুলে থাকতে ভালোবাসে।
♥ দ্বিতীয়ত নারী সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার অপনোদন করা।
নারীদের সম্পর্কে অনেক পুরুষের মাঝে নেতিবাচক মনোভাব ও ভ্রান্ত ধারণা কাজ করে থাকে। যেমন-অনেকে বলে, 'নারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে। বিয়ের পর তাদের সবসময় টাইট দিয়ে রাখবে।'
আবার অনেক পুরুষ নারীদের 'ঝামেলা' মনে করে। যেমন, এক আরব কবির কবিতা:
'আমি দেখেছি, নারীরা পার্থিব জীবনের অনেক ঝামেলার কারণ। সুতরাং কখনো তাদের বিশ্বাস করবে না। সে যদি দাবী করে আসমান থেকে নেমে এসে বলছে— তবুও না।'
অপর এক আরব কবি নারীদের সম্পর্কে আরও মারাত্মক ভুল কথা বলেছেন। যেমন তিনি তার এক কবিতায় বলেন,
'নারীকে পুরুষের জন্য শয়তানস্বরূপ সৃষ্টি করা হয়েছে। শয়তানের অনিষ্ট থেকে আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। দীন-দুনিয়ার যাবতীয় অনিষ্টের মূলে মূলত এরাই।'
নারী সম্পর্কে আমরা এরূপ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী নই। এরূপ কুসংস্কারাচ্ছন্ন চিন্তা-চেতনায় আচ্ছন্ন নই।
নারী সম্পর্কে আমাদের ধারণা তো সেই আরব কবির মতো—
'নারী হচ্ছে বাগানের ফুল। ফুলের ঘ্রাণ কার না ভালো লাগে বল।'
♥ তৃতীয়ত স্ত্রীদের প্রতি পুরুষের বিভিন্ন অভিযোগ।
স্ত্রীর খারাপ আচরণ ও মন্দ ব্যবহারে অনেক পুরুষ অতিষ্ট থাকে। কেউ কেউ তো এহেন পরিস্থিতিতে স্ত্রীর মৃত্যু কামনা করে। মনে মনে ভাবে, সে মরলে মনে হয় আমি শান্তি পেতাম। কিন্তু কী করার! খারাপ মানুষগুলো একটু বেশি দিনই বাঁচে।
জনৈক আরব তার স্ত্রীকে সম্বোধন করে বলছে, ‘তুমি মারা গেলে নেককার বান্দারা খুশি হত।’
আমি বলব, স্ত্রীর প্রতি আচরণের এটা কোনো নববি আদর্শ নয়। নববি আদর্শ কী—এই বইতে তা আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করব।
• চতুর্থত রাসুলের সুন্নতের অনুসরণ এবং তাঁর আদর্শকে আঁকড়ে ধরা।
কেননা রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈবাহিক ও দাম্পত্য জীবনই হলো একজন বিবাহিত পুরুষের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ ও নমুনা। মূলতঃ এই চারটি কারণে আমি এই বিষয়ে কলম ধরেছি।

টিকাঃ
* ফাল্গুত তাআমুল মাআয যাওযাহ।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 কুরআনের আলো থেকে

📄 কুরআনের আলো থেকে


মহান রাব্বুল আলামিন বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার।' ২৫
পবিত্র কুরআনের এই আয়াতের মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম, নারীকে আল্লাহ তায়ালা পুরুষের প্রশান্তি লাভের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আপনি লক্ষ করলে দেখবেন, একজন পুরুষের জীবনের সমস্ত সুখই কিন্তু নারীর সঙ্গে মিশে থাকা। সেই ছোট্টবেলায় মায়ের স্নেহের আঁচল। তারপর বোনদের সঙ্গে হেসে-খেলে কাটানো দুরন্ত শৈশব। দাদী-নানীর আদর ভালোবাসা। টগবগে যৌবনে এসে নারীর প্রেমময় স্পর্শ। মায়ের অবর্তমানে তার অভাব পূরণ করা বড় বোন। তার স্নেহমাখা আলিঙ্গন। দিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেওয়া কন্যা সন্তানের মুখের নিষ্পাপ হাসি। নারী ছাড়া শুধু পুরুষ কেন, পৃথিবীটাই তো কল্পনা করা সম্ভব না।
একটি মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আল্লাহ তায়ালা নারীকে সৃষ্টি করেছেন। তাকে আশরাফুল মাখলুকাতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তাকে এজন্য সৃষ্টি করা হয়নি যে, বিয়ের পর সে কারও ঘরের কাজের মানুষ হবে, যে তাকে সবসময় শাসনের মধ্যে রাখবে। তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করবে।
নিজের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য নারীর যেমন পুরুষকে প্রয়োজন, তেমনি প্রশান্তি লাভের জন্য পুরুষেরও স্ত্রীকে প্রয়োজন।
নারী যেমন পুরুষের প্রতি, তেমনি পুরুষও নারীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। সৃষ্টিগতভাবে এই আকর্ষণ তাদের মাঝে আল্লাহ তায়ালাই দান করেছেন। এ কথাটি আমরা সবাই জানলেও খুব কম মানুষই এটি জানে যে, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে আল্লাহ তায়ালা আত্মার প্রশান্তি, অন্তরের প্রফুল্লতা ও নীতি-নৈতিকতার ভারসাম্যতা রেখেছেন। ২৬

টিকাঃ
২৫ সুরা রূম: ২১।
২৬ 'হামাসাতুন ফি উষুনি যাওযাইন: ২৬।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 কেন বিয়ে করবেন?

📄 কেন বিয়ে করবেন?


বিয়ের আগে আমাদের জেনে নেওয়া উচিত আমরা কেন বিয়ে করছি? আমাদের নিয়ত কী? উদ্দেশ্য কী?
কারণ, নিয়ত হচ্ছে কোনো কাজের মূল ও সারবস্তু। নিয়তের মাধ্যমে যে কোনো আমলের প্রতিদান অনেক গুণ বেড়ে যায়। সাধারণ আমলেও বিরাট সওয়াব অর্জন করা যায়। আবার নিয়ত সঠিক না হলে অনেক বড় আমলও অন্তসারঃশূণ্য হয়ে যায়। অসাধারণ আমলও সাধারণ হয়ে যায়। কখনো কখনো তা নষ্টও হয়ে যায়। বিয়ের ক্ষেত্রে আমাদের নিয়ত যাতে সহিহ হয়, গলদ ও স্থূল না হয়। তাই আসুন আমরা জেনে নেই, কী কী নিয়ত করতে হবে:
* প্রথম: রাসুলের আদেশ পালনার্থে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকদের দ্রুত বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
'হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ের সামর্থ্য আছে তারা যেন বিয়ে করে নেয়। কারণ, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখতে সাহায্য করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে রোজা রাখবে। কারণ রোজা যৌন ক্ষমতাকে দমন করে।'২৭
সাহল বিন সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি ইরশাদ করেন,
'তোমরা মোহর হিসেবে সামান্য একটি লোহার আংটির বিনিময়ে হলেও বিয়ে করো।'২৮
* দ্বিতীয়: লজ্জাস্থান ও দৃষ্টির হেফাজত করা এবং চারিত্রিক পবিত্রতা হাসিল করা। কোনো নারী-পুরুষ যদি এই নিয়তে বিয়ে করে, তাহলে অবশ্যই তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
* নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'তিন প্রকারের লোক, আল্লাহর উপর যাদের হক রয়েছে, মহান আল্লাহ তাদের অবশ্যই সাহায্য করবেন। এক. মনিবের সঙ্গে কিতাবাত চুক্তিকারী গোলাম, যে তার অর্থ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে। দুই. যে বিবাহিত ব্যক্তি চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করতে চায়। তিন. আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদ।'
আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী আর কে আছে বলুন?
♥ তৃতীয়: দীনদার মুসলিম পরিবার গঠন করা।
♥ চতুর্থ: নেক সন্তান জন্মদান করা এবং তাদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। হয়তো আল্লাহ তায়ালা তাদের দ্বারা দ্বীনের বড় কোনো খেদমত নিবেন। দীনকে সাহায্য ও বিজয়ী করবেন। তারা হয়ত দ্বীনের বড় কোনো আলেম কিংবা মুজাহিদ হবে।
♥ পঞ্চম: সওয়াব লাভের আশায় স্ত্রী-সন্তানদের পিছনে খরচ করা। নবিজি বলেন, ‘কোনো লোক যদি সওয়াবের প্রত্যাশায় তার পরিবারের পিছনে খরচ করে, তাহলে তা তার জন্য সদকাস্বরূপ।’
♥ ষষ্ঠ: আল্লাহর ইবাদতে একে অপরকে সাহায্য করা।
♥ সপ্তম: দান-সদকায় একে অপরকে সাহায্য করা। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত আছে, ‘কোনো স্ত্রী যদি তার ঘর থেকে খারাপ কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া খাদ্যদ্রব্য সদকা করে, তবে এজন্য সে সওয়াব লাভ করবে। আর উপার্জন করার কারণে স্বামীও সওয়াব পাবে এবং খাজাঞ্চিও অনুরূপ সওয়াব পাবে। তাদের একজনের কারণে অন্যজনের সওয়াবে কোনো কমতি হবে না।’ ৩০

টিকাঃ
২৭ সহিহ বুখারি : ৫০৬৬।
২৮ সুনানে নাসাঈ : ৩২১৮।
* সহিহ বুখারি: ৪১৪১
৩০ সহিহ বুখারি: ১৪২৫।
* হামাসাতুন ফি উয়ুনি যাওযাইন: ৪১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00