📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 শুরুর কথা

📄 শুরুর কথা


বিয়ের কথা শুনলেই মন কেমন আনন্দে নেচে উঠে। বুকে কেমন কামনার তৃষ্ণা জাগে। চোখের চারপাশে স্বপ্নগুলো কেমন রঙ ছড়াতে থাকে। কল্পনার জাল বুনে কত বিনিদ্র রাত কাটে।
এটি অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার এক মহান নেয়ামত এবং ইসলামি শরিয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
বিয়ের কথা শুনলে এমন আবেগ-অনুভূতি, আগ্রহ-উদ্দীপনা কাজ করে মূলত মানুষের মাঝে জৈবিক চাহিদা ও কাম ক্ষুধা থাকার কারণে।
ইসলাম মানুষের জীবনে যৌনতার অস্তিত্বকে অকপটে স্বীকার করে। স্বীকার করে না যৌনতার অনিয়ন্ত্রিত ও বিশৃঙ্খল ব্যবহারকে।
মানুষ যাতে তার যৌন চাহিদাকে সুশৃঙ্খল ও সুনির্ধারিত পন্থায় যথার্থভাবে ব্যবহার করতে পারে এবং যৌনস্খলনের শিকার হয়ে মানব অস্তিত্ব ও মানব সমাজকে পশু সমাজে পরিণত করতে না পারে তাই ইসলাম বিবাহ প্রথার প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করেছে।
সেই সাথে অবৈধ ও বিকৃত যৌনাচারের ভয়াবহ পরিণতি বর্ণনা করে এ থেকে নিরুৎসাহিত ও সতর্ক করছে। ভালোবাসাকে অপাত্রে না বিলিয়ে হালাল পাত্রে বিলাতে বলেছে। বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসের মাধ্যমে বিয়ের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেছে।
কারণ, বিয়ের মাধ্যমে একজন মানুষের স্বভাবগত পরিচ্ছন্নতা, শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যতা এবং চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষিত হয়। তাকওয়া অর্জনের পথ সুগম হয়। মানব প্রজন্মের আগমন ধারা সুনিশ্চিত হয় বিশুদ্ধ ও পবিত্ররূপে। মানবসমাজ আলাদা হয় পশু সমাজ থেকে।
এ জন্যই বিয়ে ছিল সমস্ত নবিগণের সুন্নত এবং আমাদের রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً
'এবং আপনার পূর্বে আমি অনেক রাসুল প্রেরণ করেছি এবং তাদের দিয়েছি জীবনসঙ্গিনী ও সন্তান-সন্ততি।'*
হাদিস শরিফে এসেছে, আবু আইয়ুব আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
أَرْبَعُ مِنْ سُنَنِ المُرْسَلِينَ: الحَيَاءُ، وَالتَّعَطُرُ، وَالسَّوَاكُ، وَالنَّكَاحُ
'চারটি জিনিস নবি-রাসুলগণের সুন্নাত; লাজ-শরম, সুগন্ধি ব্যবহার, মেসওয়াক করা এবং বিয়ে করা।'১০
মানব বংশ রক্ষার উদ্দেশ্যে মানুষের মাঝে আল্লাহ তায়ালা যে অপার যৌন ক্ষমতা দান করেছেন, তা সুনির্ধারিত ও সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় পূরণের লক্ষ্যে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে বিয়ের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে বলেছেন,
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءُ
'হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যাদের বিয়ের সামর্থ্য আছে তারা যেন বিয়ে করে নেয়। কারণ, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখতে সাহায্য করে এবং লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে রোজা রাখবে। কারণ, রোজা যৌন ক্ষমতাকে দমন করে।”১১
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'কোনো বান্দা যখন বিয়ে করল, তখন সে যেন অর্ধেক দীন পূর্ণ করে ফেলল। সুতরাং সে যেন দীনের অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে।'১২
বিয়ের প্রথম ও অন্যতম ভিত্তি স্বামী-স্ত্রী। সম্পূর্ণ অপরিচিত দুজন মানব-মানবি। এমন অপরিচিত দুজন মানুষের মাঝেই আল্লাহ তায়ালা প্রেম-ভালোবাসা, স্নেহ-প্রীতি, সহমর্মিতা ও সহানুভূতি এবং শান্তি ও প্রশান্তির সেতুবন্ধন স্থাপন করেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا
'আর তার নিদর্শনসমূহের মধ্যে হচ্ছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন; যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করতে পার।'১৩

টিকাঃ
* সুরা আর-রাদ: ৩৮।
১০ সুনানু তিরমিযি: ১০৮০।
১১ সহিহ বুখারি: ৫০৬৬।
১২ মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩০৯৬।
১৩ সুরা রূম: ২১।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 দাম্পত্য জীবনের অর্থ

📄 দাম্পত্য জীবনের অর্থ


আসলে দাম্পত্য জীবনের অর্থ কী?
এত সমস্যা!
সমাধান কী?
এত অভিযোগ!
নিরসন কী?
আমি বলব, দাম্পত্য জীবন হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা, স্নেহ-প্রীতি-ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের অপর নাম।
দুজন নর-নারী বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করে। তারপর তারা তাদের দাম্পত্য জীবনকে স্বার্থক, সুন্দর ও সুখময় করে তোলার চেষ্টা করে।
দাম্পত্য জীবনকে স্বার্থক, সুন্দর ও সুখময় করে তোলার জন্য অবশ্য একটি মূলনীতি আছে। আমরা এখানে সে মূলনীতিটি উল্লেখ করব। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءُ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ
'প্রত্যেক বনি আদমই ভুলকারী। আর সর্বোত্তম ভুলকারী হলো ভুল থেকে তওবাকারী (অর্থাৎ যে সংশোধন প্রয়াসী)।'১৪
আমরা কেউ ত্রুটিমুক্ত নই। ভুলের ঊর্ধ্বে নই। ভুলের কারণেই বনি আদমের পৃথিবীতে আসা। তাই আমাদের দ্বারা ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক।
তবে লক্ষ রাখতে হবে, একই ভুল যেন বারবার না হয়। ভুলের উপর যেন আমরা স্থির না থাকি। কোনো ভুল হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে যেন আমরা তা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করি।
এক্ষেত্রে আমরা নিজের ইগোকে প্রশ্রয় দেব না। গো ধরে থাকব না। তাহলে দিন দিন ভুলের সংখ্যা হ্রাস পেতে থাকবে। জীবন সুন্দর ও ত্রুটিমুক্ত হতে থাকবে। ফুলের মতো চারপাশে সুরভী ছড়াতে থাকবে। রাতের আঁধারে জ্যোৎস্না বিলাতে থাকবে।
জীবনকে যদি একটি বাগানের সাথে তুলনা করি তাহলে ভুলগুলো হলো বাগানের ক্ষতিকর আগাছা। আর তওবা হলো সে আগাছা পরিষ্কারের কাঁচিস্বরূপ।
দাম্পত্য জীবনে সুখ-শান্তি লাভের জন্য হযরত আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিম্নোক্ত কথাটি মূলনীতির পর্যায়ে রাখার মতো। তিনি তাঁর স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
'তুমি যদি আমাকে রাগ করতে দেখ, তাহলে তুমি আমাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করবে। আর আমি যদি তোমাকে রাগ করতে দেখি, তাহলে আমি তোমাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করব। অন্যথায় আমরা একসঙ্গে বসবাস করত পারব না।'
একে অপরকে আমরা যদি ভালোবাসার দৃষ্টিতে দেখি, পরস্পরের প্রতি আমাদের যদি সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতাবোধ থাকে, তাহলে আমরা শুধু আমাদের সঙ্গীর গুণগুলোই দেখতে পাব।
কারণ, ভালোবাসার দৃষ্টিতে শুধু গুণ ধরা পড়ে। দোষ নয়। ঘৃণার দৃষ্টিতে শুধু দোষ ধরা পড়ে। গুণ নয়। যাকে ভালো লাগে, সে বাঁকা হয়ে হাঁটলেও সোজা মনে হয়। আর যাকে ভালো লাগে না, সে সোজা হয়ে হাঁটলেও বাঁকা মনে হয়।"*

টিকাঃ
১৪ সুনানে ইবনে মাযাহ: ৪২৫১; সুনানে তিরমিযি: ২৪৯৯।
* ফাল্গুত তাআমুল মাআয যাওযাহ।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্বামীর অভিযোগ

📄 স্বামীর অভিযোগ


একেকটি সংসার যেন ছোটো ছোটো একেকটি রাজ্য। পুরুষ বা স্বামী সেই রাজ্যের অধিপতি। রাজ্য পরিচালনার সমস্ত দায়িত্ব তারই। তাই রাজ্যের সুখ-সমৃদ্ধি, উন্নতি-অগ্রগতি অনেকটাই তার উপর নির্ভরশীল।
রাজা যদি তার ছোট্ট এই রাজ্যের সুখ-শান্তি কামনা করেন, তাতে স্বর্গোদ্যান নির্মাণ করতে চান, তাহলে তাকে অবশ্যই কিছু বিষয়ে অপরিহার্য জ্ঞান লাভ করতে হবে এবং শরয়ি নির্দেশনা মোতাবেক সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
পুরুষের হাতে সংসার রাজ্যের এই চাবি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই তুলে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতের মাধ্যমে চাবিটি তিনি তার হাতে হস্তান্তর করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে,
الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ
'পুরুষ নারীদের অভিভাবক, যেহেতু আল্লাহ তায়ালা তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু পুরুষগণের উপর অর্থ-সম্পদ ব্যয় করার দায়িত্ব।' ১৬
বিয়ে আল্লাহ তায়ালার শুধু মহান নেয়ামতই নয়। আল্লাহ তায়ালার একটি হুকুমও। সেই সাথে আমাদের নবিজির সুন্নত। তাই বৈবাহিক জীবনকে স্বার্থক ও সুন্দর করে তুলতে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহ তায়ালার হুকুম ও তার রাসুলের হেদায়েত মেনে চলতে হবে। সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসরণ করতে হবে।
সংসার রাজ্য পরিচালনা করতে গিয়ে রাজাকে (পুরুষকে) অনেক সময় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। নানা অভিযোগ-অনুযোগ তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে। ভিতরে ভিতরে খোঁচাতে থাকে। সমস্যা যেহেতু আছে, সেসব সমস্যার সমাধানও আছে। অভিযোগ যেহেতু আছে। সেসব অভিযোগের নিরসনও আছে।
একজন স্বামীর তার স্ত্রীর ব্যাপারে সাধারণত কী কী অভিযোগ থাকে, এবার আমরা তেমনই কিছু অভিযোগের কথা এখানে তুলে ধরব। যেমন,
১. তার সঙ্গে সংসার করে কোনো সুখ নেই।
২. তার চাওয়া-পাওয়ার কোনো শেষ নেই। খরচের কোনো সীমা নেই।
৩. প্রায়ই বাসার বাইরে গমন করে। শপিং, পার্লার, ফাংশন, বেড়াতে যাওয়া-একটা না একটা প্রোগ্রাম আছেই।
৪. খুব উদাসীন। যেমন সন্তান-সন্ততির প্রতি তেমনি আমার প্রতি।
৫. সাংসারিক জ্ঞান-বুদ্ধি কম।
৬. রাতে উপেক্ষা করে।
৭. অগোছালো, অপরিচ্ছন্ন। বাসায় কালি সেজে থাকবে। আর কোথাও বের হওয়ার সময় প্রিন্সেস সেজে বের হবে।
৮. খিটখিটে।
৯. অতিরিক্ত আত্মমর্যাদাবোধ। জেদি। একগুঁয়ে। তাকে নিয়ে আমি আর পারছি না। খুব শীঘ্রই ডিভোর্স দিয়ে দিব।
১০. পর্দা করতে চায় না। দীন-ধর্মের প্রতি উদাসীন।
এ ছাড়াও আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। চারপাশ থেকে সেসব অভিযোগ আমাদের কানে আসে। কিছু কিছু ঘটনা তো আমরা নিজেরাও প্রত্যক্ষ করি।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, সব দোষ স্ত্রী বেচারীর। অভিযোগের তীরে ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার জন্যই যেন সে এই সংসারে এসেছে। আর স্বামী দুধে ধোয়া তুলসি পাতা। তার কোনো দোষ নেই। সে নির্দোষ। নিষ্পাপ। পয়গম্বরদের মতো। (নাউযুবিল্লাহ)
আমি যেহেতু পুরুষ। তাই নিজেকে পুরুষের স্থানে রেখেই বলি, ধরে নিলাম বিয়ে করে আমি বড় কোনো সমস্যায় পড়েছি। নারীদের প্রতি আমার একরকম বিতৃষ্ণা চলে এসেছে। এখন আমি কী করব? বনে গিয়ে কিংবা বন থেকে ধরে এনে কোনো পশু-পাখির সঙ্গে সংসার করব?
তাহলে তো সমস্ত নারী জাতি আমার প্রতি বেজায় রকম ক্ষেপে যাবে। নাকি কোনো পুরুষকে বিয়ে করব?
তখন পুরুষরা আমার দিকে তেড়ে আসবে। এটা কী কখনো সম্ভব?
সম্ভব নয়।
তাহলে সমাধান?
অনেক চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করে দেখলাম-সমাধান একটাই। মুক্তির পথও একটাই। সেটি হচ্ছে, মূলের দিকে ফিরে আসা। উৎসের সন্ধান করা। আর সেই
মূল ও উৎসটি হল কুরআন-সুন্নাহ। কুরআন-সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। নারী-পুরুষের যিনি একমাত্র স্রষ্টা সেই মহান রব্বুল আলামিনের বিধান মেনে চলা। তাঁর রাসুলের জীবনাদর্শকে অনুসরণ করা।
তবে দাম্পত্য জীবনে শুধু যে পুরুষরাই সমস্যার সম্মুখীন হন তা কিন্তু নয়। নারীরাও অনেক সমস্যার সম্মুখীন হন। তাদেরও অনেক অভিযোগ-অনুযোগ থাকে। চেপে রাখা দীর্ঘশ্বাস থাকে। ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়া অশ্রু জল থাকে। এদিক থেকে লক্ষ করলে তারা উভয়েই সমান। অর্থাৎ উভয়েরই কিছু সমস্যা রয়েছে। সয়ে যাওয়া কিছু ব্যথা রয়েছে। বয়ে চলা কিছু কষ্ট রয়েছে।
নারী-পুরুষ প্রত্যেককেই আল্লাহ তায়ালা বিশেষ কিছু গুণ ও বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একে অপরকে ছাড়া তারা কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ না। তারা দুজন দুজনার পরিপূরক। প্রত্যেকের যেমন আলাদা আলাদা দায়িত্ব রয়েছে তেমনি মর্যাদা ও গুরুত্বও রয়েছে। ১৭

টিকাঃ
১৬ 'সুরা নিসা: ৩৪।
১৭ ফাল্গুত তাআমুল মাআয যাওযাহ।

📘 দুজনার পাঠশালা > 📄 স্ত্রীর অভিযোগ

📄 স্ত্রীর অভিযোগ


একটু আগেই বলেছি, বৈবাহিক জীবনে শুধু যে পুরুষের অভিযোগ থাকে তা নয়। একজন নারীরও অনেক অভিযোগ থাকে। নারীরা তো সাধারণত স্বামীর হাতে বাজারের লিস্ট ধরিয়ে থাকে। আজ মনে করুন একটি অভিযোগের লিস্ট ধরিয়ে দিল। বাজারের লিস্টকে গুরুত্ব না দিলে ঘরে যেমন চুলা জ্বলবে না। সবাইকে অভুক্ত থাকতে হবে। তেমনি স্ত্রীর অভিযোগের লিস্টকেও গুরুত্ব না দিলে ঘরে কোনো শান্তি থাকবে না। সবাইকে অশান্তির অনলে পুড়তে হবে।
এবার চলুন-অভিযোগের লিস্টটি দেখে নেওয়া যাক,
১. পরিবারকে সময় দেয় না। বাসা থেকে সেই যে ভোরে বের হয়। ফিরে একেবারে রাত করে।
২. বাবার বাড়ি যেতে দিতে চায় না।
৩. সন্তান ও পরিবারের প্রতি উদাসীন। যেন এ সন্তান ও পরিবার তার না। রাতে বাসায় ফিরে কোথায় একটু পরিবারকে সময় দিবে তা না। এসেই হাত-মুখ ধুয়ে খেতে বসবে। খাওয়া শেষে টিভি বা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
৪. মুখের ভাষা খারাপ। সন্তানদের সামনেই দুর্ব্যবহার শুরু করে। কথায় কথায় গায়ে হাত তোলে। তালাকের হুমকি দেয়।
৫. নামাজ পড়ে না। ধূমপান করে।
৬. সারাক্ষণ শুধু ভুল ধরতে থাকে।
৭. অযথা সন্দেহ করে। খারাপ ধারণা পোষণ করে।
৮. কখনো আমার ভালো কিছুর প্রশংসা করে না। এত সেজেগুজে থাকি তবু তার মন পাই না।
৯. আমি পড়াশোনা করি এটা তার পছন্দ না।
১০. কোনো বিষয়ে আমার সঙ্গে পরামর্শ করে না।
১১. ছোটোখাটো বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। খুব মেজাজ দেখায়।
১২. যত খারাপ লোক আছে, তাদের সঙ্গে তার উঠাবসা। ভালো কারও সঙ্গে মিশতে দেখি না।
১৩. আমাদের কোথাও বেড়াতে নিয়ে যায় না। খাওয়াতে নিয়ে যায় না।
১৪. খুব কৃপণ। হাড় কিপটে। আমার সঙ্গে তো কিপটেমি করে করেই, সন্তান ও তার বাবা-মার সঙ্গেও করে।
এ ছাড়াও আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে। মানুষের জীবনের যেমন নির্দিষ্ট কোনো ছক নেই। বয়ে চলার অভিন্ন কোনো গতিপ্রবাহ নেই, তেমনি অভিযোগেরও কোনো নির্দিষ্টতা নেই। নানান জনের নানান অভিযোগ।
এসব অভিযোগের নিরসন কী? এসব সমস্যার সমাধান কী? সর্বোপরি এসব ক্ষেত্রে একজন নারীর করণীয় কী? স্বামীরই-বা কর্তব্য কী? বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে সে প্রসঙ্গেই আলোচনা করা হয়েছে। সামনের আলোচনাগুলো পড়ুন, ইনশাআল্লাহ আপনি আপনার সমাধান পেয়ে যাবেন।

টিকাঃ
* ফাল্গুত তাআমুল মাআয যাওযাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00