📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ (রাঃ) এর সম্পর্কে

📄 মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ (রাঃ) এর সম্পর্কে


বান্দার ডাকে আল্লাহ্‌ তা'আলার সাড়া দেয়া

বান্দার ডাকে আল্লাহ্‌ তা'আলার সাড়া দেয়া

আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেন -

إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ ﴿٩﴾ وَمَا جَعَلَهُ اللَّـهُ إِلَّا بُشْرَىٰ وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ ۚ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّـهِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿١٠﴾

(৯) আর স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ফরিয়াদ করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে পর পর আগমনকারী এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করছি’। (১০) আর আল্লাহ্‌ তো তা করেছেন কেবল সুসংবাদস্বরূপ এবং যাতে এর দ্বারা তোমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয় এবং সাহায্য তো আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকেই। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

রেফারেন্স: সূরা আল-আনফালঃ ৮:৯-১০

আল্লাহ্‌ তা'আলা বলেন -

إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ ﴿٩﴾ وَمَا جَعَلَهُ اللَّـهُ إِلَّا بُشْرَىٰ وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ ۚ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّـهِ ۚ إِنَّ اللَّـهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ﴿١٠﴾

(৯) আর স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ফরিয়াদ করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে পর পর আগমনকারী এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করছি’। (১০) আর আল্লাহ্‌ তো তা করেছেন কেবল সুসংবাদস্বরূপ এবং যাতে এর দ্বারা তোমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয় এবং সাহায্য তো আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকেই। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

রেফারেন্স: সূরা আল-আনফালঃ ৮:৯-১০

আল্লাহ্‌র সাহায্য #১

আল্লাহ্‌র সাহায্য #১

وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّـهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ ۖ فَاتَّقُوا اللَّـهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿١٢٣﴾ إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَن يَكْفِيَكُمْ أَن يُمِدَّكُمْ رَبُّكُم بِثَلَاثَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُنزَلِينَ ﴿١٢٤﴾ بَلَىٰ ۚ إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَـٰذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ ﴿١٢٥﴾ وَمَا جَعَلَهُ اللَّـهُ إِلَّا بُشْرَىٰ لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِ ۗ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّـهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ ﴿١٢٦﴾

(১২৩) আর অবশ্যই আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছেন অথচ তোমরা ছিলে হীনবল। অতএব তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো, আশা করা যায়, তোমরা শোকরগুজার হবে। (১২৪) স্মরণ করো, যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে, ‘তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে তিন হাজার নাযিলকৃত ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন’? (১২৫) হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা হঠাৎ তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চি‎‎হ্নত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। (১২৬) আর আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য তা কেবল সুসংবাদস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন এবং যাতে তোমাদের অন্তরসমূহ এর দ্বারা প্রশান্ত হয়। আর সাহায্য কেবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে।

রেফারেন্স: সূরা আল-ইমরানঃ ৩:১২৩-১২৬

وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّـهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ ۖ فَاتَّقُوا اللَّـهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ﴿١٢٣﴾ إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَن يَكْفِيَكُمْ أَن يُمِدَّكُمْ رَبُّكُم بِثَلَاثَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُنزَلِينَ ﴿١٢٤﴾ بَلَىٰ ۚ إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هَـٰذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ ﴿١٢٥﴾ وَمَا جَعَلَهُ اللَّـهُ إِلَّا بُشْرَىٰ لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِ ۗ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّـهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ ﴿١٢٦﴾

(১২৩) আর অবশ্যই আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে বদরে সাহায্য করেছেন অথচ তোমরা ছিলে হীনবল। অতএব তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় করো, আশা করা যায়, তোমরা শোকরগুজার হবে। (১২৪) স্মরণ করো, যখন তুমি মুমিনদেরকে বলছিলে, ‘তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে তিন হাজার নাযিলকৃত ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন’? (১২৫) হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধর এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা হঠাৎ তোমাদের মুখোমুখি এসে যায়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চি‎‎হ্নত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। (১২৬) আর আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য তা কেবল সুসংবাদস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন এবং যাতে তোমাদের অন্তরসমূহ এর দ্বারা প্রশান্ত হয়। আর সাহায্য কেবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে।

রেফারেন্স: সূরা আল-ইমরানঃ ৩:১২৩-১২৬

আল্লাহ্‌র সাহায্য #২

আল্লাহ্‌র সাহায্য #২

اَلَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّـهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ﴿١٧٣﴾ فَانقَلَبُوا بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّـهِ وَفَضْلٍ لَّمْ يَمْسَسْهُمْ سُوءٌ وَاتَّبَعُوا رِضْوَانَ اللَّـهِ ۗ وَاللَّـهُ ذُو فَضْلٍ عَظِيمٍ ﴿١٧٤﴾

(১৭৩) যাদেরকে মানুষেরা বলেছিল যে, ‘নিশ্চয় লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে। সুতরাং তাদেরকে ভয় কর’। কিন্তু তা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, ‘আল্লাহ্‌ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’! (১৭৪) অতঃপর তারা ফিরে এসেছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে নিআমত ও অনুগ্রহসহ। কোন মন্দ তাদেরকে স্পর্শ করেনি এবং তারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ্‌ মহা অনুগ্রহশীল।

রেফারেন্স: সূরা আল-ইমরানঃ ৩:১৭৩-১৭৪

اَلَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّـهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ ﴿١٧٣﴾ فَانقَلَبُوا بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّـهِ وَفَضْلٍ لَّمْ يَمْسَسْهُمْ سُوءٌ وَاتَّبَعُوا رِضْوَانَ اللَّـهِ ۗ وَاللَّـهُ ذُو فَضْلٍ عَظِيمٍ ﴿١٧٤﴾

(১৭৩) যাদেরকে মানুষেরা বলেছিল যে, ‘নিশ্চয় লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে। সুতরাং তাদেরকে ভয় কর’। কিন্তু তা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, ‘আল্লাহ্‌ই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক’! (১৭৪) অতঃপর তারা ফিরে এসেছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে নিআমত ও অনুগ্রহসহ। কোন মন্দ তাদেরকে স্পর্শ করেনি এবং তারা আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টির অনুসরণ করেছিল। আর আল্লাহ্‌ মহা অনুগ্রহশীল।

রেফারেন্স: সূরা আল-ইমরানঃ ৩:১৭৩-১৭৪

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর জন্য নবী (ﷺ)-এর দোয়া

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) এর জন্য নবী (ﷺ)-এর দোয়া

اَللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَأَطِلْ حَيَاتَهُ، وَاغْفِرْ لَهُ

আল্লা-হুম্মা আকছির মা-লাহূ ওয়া ওয়ালাদাহূ ওয়া- আতিল ‘হায়া-তাহু ওয়াগ্‌ফির্‌ লাহু

হে আল্লাহ্‌! তুমি তার সম্পদ ও তার সন্তান বৃদ্ধি করো, তাকে দীর্ঘজীবি করো এবং তাকে ক্ষমা করো।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৬৩৪৪

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী (ﷺ) আমাদের আহলে বাইতের এখানে আসতেন। একদিন তিনি এসে আমাদের জন্য দোয়া করলেন। উম্মু সুলাইম (রাঃ) বলেন, আপনার ছোট্ট খাদেমটি, আপনি তার জন্য কি দোয়া করবেন না? তিনি বলেনঃ (উপরে দোয়াটি উল্লেখিত হয়েছে)

اَللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَأَطِلْ حَيَاتَهُ، وَاغْفِرْ لَهُ

হে আল্লাহ্‌! তুমি তার সম্পদ ও তার সন্তান বৃদ্ধি করো, তাকে দীর্ঘজীবি করো এবং তাকে ক্ষমা করো।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৬৩৪৪

আনাস (রাঃ) এর কারামত

আনাস (রাঃ) এর কারামত

আনাস (রাঃ)-এর একটি বাগান ছিল, যেখান থেকে তিনি বছরে দু'বার ফল পেতেন। বাগানটিতে ছিল রাইহান লতা, যা থেকে মেশকের ঘ্রাণ আসত!

রেফারেন্স: সহীহ। তিরমিযিঃ ৩৮৩৩

আনাস (রাঃ)-এর একটি বাগান ছিল, যেখান থেকে তিনি বছরে দু'বার ফল পেতেন। বাগানটিতে ছিল রাইহান লতা, যা থেকে মেশকের ঘ্রাণ আসত!

রেফারেন্স: সহীহ। তিরমিযিঃ ৩৮৩৩

আবু হুরায়রা (রাঃ) ও তাঁর মায়ের জন্য নবী (ﷺ) এর দোয়া

আবু হুরায়রা (রাঃ) ও তাঁর মায়ের জন্য নবী (ﷺ) এর দোয়া

اَللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ

আল্লা- হুম্মা‘হ্‌দি উম্মি আবি হুরায়রা

হে আল্লাহ্‌! তুমি আবু হুরায়রার মাকে হিদায়াত দাও!

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৪৯১

নবী (ﷺ) আবু হুরায়রা (রাঃ) এর মায়ের জন্য দোয়া করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, “আমার মা ছিল এক মুশরিক নারী। আমি তাকে ইসলামের দিকে ডাকতাম। একদিন তাকে (ইসলামের) দাওয়াত দিলে, তিনি আমাকে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) সম্পর্কে এমন এক কথা শুনিয়ে দেন, যা আমার কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয় ঠেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি কাঁদতে কাঁদতে নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলি, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল আমি আমার মাকে ইসলামের দিকে ডাকতাম, কিন্তু তিনি (ইসলাম গ্রহণ করতে) অস্বীকৃতি জানাতেন। আজ তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলাম। এর ফলে তিনি আমাকে আপনার সম্পর্কে অপছন্দনীয় কথা শুনিয়ে দিয়েছেন। আপনি আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করুন, যাতে তিনি আবু হুরায়রার মাকে হিদায়াত দেন। তখন আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বলেন - (উপরে দোয়াটি উল্লেখিত হয়েছে)

اَللَّهُمَّ اهْدِ أُمَّ أَبِي هُرَيْرَةَ

হে আল্লাহ্‌! তুমি আবু হুরায়রার মাকে হিদায়াত দাও!

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৪৯১

অপর মু'মিনের জন্য দোয়া

অপর মু'মিনের জন্য দোয়া

اَللَّهُمَّ حَبِّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِلَيْهِمُ الْمُؤْمِنِيْنَ

আল্লা-হুম্মা হাব্বিব উবাইদাকা হাযা- ওয়া উম্মাহু ইলা ইবা‘দিকাল্‌ মুঅ্‌মিনিন, ওয়া হাব্বিব ইলাই‘হিমুল মুঅ্‌মিনিন

হে আল্লাহ্‌! তোমার এ ক্ষুদ্র বান্দা ও তার মাকে তোমার মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় করে তোলো আর মুমিনদেরকে তাদের কাছে প্রিয় করে দাও!

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৪৯১

এরপর আল্লাহ্‌র নবী (ﷺ) এর দোয়া পেয়ে খুশিমনে বেরিয়ে পড়ি। (বাড়িতে) এসে দরজার কাছে গিয়ে দেখি তা বন্ধ। আমার পায়ের আওয়াজ শুনে আমার মা বলেন, 'আবু হুরায়রা! একটু দাড়াও!" আমি পানি নাড়াচাড়ার শব্দ শুনতে পাই। তিনি গোসল করে জামা পরেন। এরপর চাদর গায়ে দিয়ে দরজা খুলে বলেন, “আবু হুরায়রা! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ্‌ ছাড়া সত্য কোনও মা’বুদ নেই, আর সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর দাস ও বার্তাবাহক। আমি আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) এর কাছে ফিরে আসি। আমার চোখে তখন আনন্দের অশ্রু। এসে বলি, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) সুসংবাদ নিন আল্লাহ্‌ আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছেন, তিনি আবু হুরায়রার মাকে হিদায়াত দিয়েছেন!" এ কথা শুনে তিনি আল্লাহ্‌র প্রশংসা-স্তুতি বর্ণনা করেন এবং কিছু কল্যাণজনক কথা বলেন। আমি বলি, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করুন, তিনি যেন তার বান্দাদের কাছে আমাকে ও আমার মাকে প্রিয় করে দেন এবং তাদেরকে আমাদের কাছে প্রিয় করে দেন। তখন আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বলেন - (উপরে উল্লেখিত দোয়া) এরপর আল্লাহ্‌র সৃষ্টি-করা যে মুমিনই আমার কথা শুনেছে অথবা আমাকে দেখেছে, সে-ই আমাকে ভালোবেসেছে।

اَللَّهُمَّ حَبِّبْ عُبَيْدَكَ هَذَا وَأُمَّهُ إِلَى عِبَادِكَ الْمُؤْمِنِينَ وَحَبِّبْ إِلَيْهِمُ الْمُؤْمِنِيْنَ

হে আল্লাহ্‌! তোমার এ ক্ষুদ্র বান্দা ও তার মাকে তোমার মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় করে তোলো আর মুমিনদেরকে তাদের কাছে প্রিয় করে দাও!

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৪৯১

উরওয়া ইবনু আবিল জা'দ বারিকি (রাঃ) এর জন্য নবী (ﷺ) এর দোয়া

উরওয়া ইবনু আবিল জা'দ বারিকি (রাঃ) এর জন্য নবী (ﷺ) এর দোয়া

ঘটনাটি ছিল এ রকম: একটি ভেড়া কেনার জন্য নবী (ﷺ) তাকে এক দীনার দিয়েছিলেন। তিনি ওই দীনার দিয়ে নবী (ﷺ) এর জন্য দুটি ভেড়া কিনেন। তারপর এক দীনারের বিনিময়ে একটি ভেড়া বিক্রি করে দেন। এরপর এক দীনার ও একটি ভেড়া নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে আসেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নবী (ﷺ) তার বেচাকেনায় বরকতের জন্য দোয়া করেন। এর পর তিনি ধুলাবালি কিনলে, তাতেও তার লাভ হতো।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৩৬৪২

ঘটনাটি ছিল এ রকম: একটি ভেড়া কেনার জন্য নবী (ﷺ) তাকে এক দীনার দিয়েছিলেন। তিনি ওই দীনার দিয়ে নবী (ﷺ) এর জন্য দুটি ভেড়া কিনেন। তারপর এক দীনারের বিনিময়ে একটি ভেড়া বিক্রি করে দেন। এরপর এক দীনার ও একটি ভেড়া নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে আসেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নবী (ﷺ) তার বেচাকেনায় বরকতের জন্য দোয়া করেন। এর পর তিনি ধুলাবালি কিনলে, তাতেও তার লাভ হতো।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৩৬৪২

কারও ব্যবসায় বরকতের জন্য দোয়া

কারও ব্যবসায় বরকতের জন্য দোয়া

নবী (ﷺ) উরওয়া ইবনু আবিল জা'দ বারিকি (রাঃ) এর জন্য এভাবে দোয়া করেছিলেন -

اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُ فِي صَفْقَةِ يَمِيْنِهِ

আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহু ফি স্বফ্‌ক্বাতি ইয়ামিনিহি

হে আল্লাহ্‌! তার বেচাকেনায় বরকত দাও!

রেফারেন্স: বাইহাকীঃ ৬/১১২, আহমেদঃ ১৭৫০

তিনি কুফায় থাকতেন; আর ঘরে ফেরার আগে তিনি চল্লিশ হাজার মুনাফা অর্জন করতেন।

নবী (ﷺ) উরওয়া ইবনু আবিল জা'দ বারিকি (রাঃ) এর জন্য এভাবে দোয়া করেছিলেন -

اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُ فِي صَفْقَةِ يَمِيْنِهِ

হে আল্লাহ্‌! তার বেচাকেনায় বরকত দাও!

রেফারেন্স: বাইহাকীঃ ৬/১১২, আহমেদঃ ১৭৫০

শত্রুর বিরুদ্ধে নবী (ﷺ) দোয়া

শত্রুর বিরুদ্ধে নবী (ﷺ) দোয়া

اَللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ

আল্লা-হুম্মা 'আলাইকা বি‘কুরাইশ

হে আল্লাহ্‌! তুমি কুরাইশদের বিচার করো!

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৯৪

নবী (ﷺ) তাঁর কয়েকজন শত্রুর বিরুদ্ধে দোয়া করেছিলেন এবং সেগুলোর সাড়া পেতে বেশি সময় লাগেনি। এর মধ্যে একটি ছিল: মক্কাতে মুশরিকরা আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) কে কষ্ট দিত। (একদিন) নবী (ﷺ) সিজদায় গেলে তাঁর দু' কাঁধের মাঝখানে উটের পচা নাড়িভুড়ি ফেলে দেওয়ার জন্য, আবু জাহেল কিছু লোককে নির্দেশ দেয়। পরিশেষে এ কাজটি করে উকবা ইবনু আবী মুআইত। নবী (ﷺ) সালাত শেষে উচ্চ আওয়াজে তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করে তিনবার বলেন -(উপরে উল্লেখিত দোয়া)

اَللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِقُرَيْشٍ

হে আল্লাহ্‌! তুমি কুরাইশদের বিচার করো!

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৯৪

শত্রুর বিরুদ্ধে নবী (ﷺ) দোয়া

শত্রুর বিরুদ্ধে নবী (ﷺ) দোয়া

নবী (ﷺ) এর আওয়াজ শুনে তাদের হাসি মিলিয়ে যায় এবং তাঁর দোয়ায় তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। এরপর নবী (ﷺ) বলেন -

اَللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ وَعُتْبَةَ بْنِ رَبِيْعَةَ وَشَيْبَةَ بْنِ رَبِيْعَةَ وَالْوَلِيْدِ بْنِ عُقْبَةَ وَأُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ وَعُقْبَةَ بْنِ أَبِيْ مُعَيْطٍ

আল্লা-হুম্মা 'আলাইকা বি‘আবি জাহ্‌ল ইবন হিশাম, ওয়া উত্‌বাহ ইবন রবীআহ, ওয়া শাইবাহ ইবন রবীআহ, ওয়াল ওয়ালীদ ইবন উক্‌বাহ, ওয়া উমাইয়াহ ইবন খালাফ ওয়া উক্‌বাহ ইবন আবী মুআইত

হে আল্লাহ্‌! আবু জাহলো ইবনু হিশাম, উতবা ইবনু রবীআ, শাইবা ইবনু রবীআ, ওয়ালীদ ইবনু উকবা, উমাইয়া ইবনু খালাফ ও উকবা ইবনু আবী মুআইত - তুমি এসকল লোকদের বিচার করো।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৯৪

ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, ‘শপথ সেই সত্তার, যিনি মুহাম্মাদ (ﷺ) কে সত্য দিয়ে পাঠিয়েছেন! যাদের নাম উল্লেখ করা হলো, বদরে আমি তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি। এরপর তাদের লাশ বদরের কুয়োর দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপর এক বর্ণনায় আছে, ‘শপথ আল্লাহ্‌র! বদরে আমি তাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি। সূর্যের উত্তাপে তাদের লাশ বিকৃত হয়ে গিয়েছিল। সেদিন ছিল প্রচণ্ড গরম।

নবী (ﷺ) এর আওয়াজ শুনে তাদের হাসি মিলিয়ে যায় এবং তাঁর দোয়ায় তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। এরপর নবী (ﷺ) বলেন -

اَللَّهُمَّ عَلَيْكَ بِأَبِي جَهْلِ بْنِ هِشَامٍ وَعُتْبَةَ بْنِ رَبِيْعَةَ وَشَيْبَةَ بْنِ رَبِيْعَةَ وَالْوَلِيْدِ بْنِ عُقْبَةَ وَأُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ وَعُقْبَةَ بْنِ أَبِيْ مُعَيْطٍ

হে আল্লাহ্‌! আবু জাহলো ইবনু হিশাম, উতবা ইবনু রবীআ, শাইবা ইবনু রবীআ, ওয়ালীদ ইবনু উকবা, উমাইয়া ইবনু খালাফ ও উকবা ইবনু আবী মুআইত - তুমি এসকল লোকদের বিচার করো।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৯৪

সূরাকা ইবনু মালিকের বিরুদ্ধে নবী (ﷺ)-এর দোয়া

সূরাকা ইবনু মালিকের বিরুদ্ধে নবী (ﷺ)-এর দোয়া

اَللَّهُمَّ اصْرَعْهُ

আল্লা-হুম্মাস্‌‌ রা‘অ্‌হু

হে আল্লাহ্‌! তুমি তাকে (ঘোড়ার পিঠ থেকে) ফেলে দাও!

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৩৯১১

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র নবী (ﷺ) যখন মদীনায় এলেন তখন উষ্ট্রে পৃষ্ঠে আবূ বকর (রাঃ) তাঁর পশ্চাতে ছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ ও পরিচিত। আর নবী (ﷺ) ছিলেন জাওয়ান এবং অপরিচিত। তখন বর্ননাকারী বলেন, যখন আবূ বকরের সঙ্গে কারো সাক্ষাৎ হত, সে জিজ্ঞেস করত হে আবূ বকর (রাঃ)! তোমার সম্মুখে উপবিষ্ট ঐ ব্যক্তি কে? আবূ বকর (রাঃ) বলতেন, তিনি আমার পথ প্রদর্শক। রাবী বলেন, প্রশ্নকারী সাধারন পথ মনে করত এবং তিনি সত্যপথ উদ্দেশ্য করতেন। তারপর একবার আবূ বকর (রাঃ) পিছনে চেয়ে হঠাৎ দেখতে পেলেন এক ঘোড় সওয়ার তাদের কাছেই এসে পড়েছে। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এই যে একজন ঘোড় সওয়ার আমাদের পিছনে প্রায় কাছে পৌঁছে গেছে। তখন নবী (ﷺ) পিছনের দিকে তাকিয়ে দু’আ করলেন - (উপরে উল্লেখিত দোয়া)

اَللَّهُمَّ اصْرَعْهُ

হে আল্লাহ্‌! তুমি তাকে (ঘোড়ার পিঠ থেকে) ফেলে দাও!

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৩৯১১

বদর যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) এর দোয়া

বদর যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) এর দোয়া

اَللَّهُمَّ أَنْجِزْ لِي مَا وَعَدْتَنِي اَللَّهُمَّ آتِ مَا وَعَدْتَنِي اَللَّهُمَّ إِنْ تُهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةَ مِنْ أَهْلِ الْإِسْلَامِ لَا تُعْبَدُ فِي الْأَرْضِ

আল্লা-হুম্মা আন্‌জিয্‌ লি মা- ওয়া- আদ্‌‘তানি, আল্লা-হুম্মা আ-তি মা- ওয়া- আদ্‌‘তানি, আল্লা-হুম্মা ইন- তুহ্‌লিক্‌ হা‘যিহিল ইস্বা‘বাতা মিন আহ্‌লিল ইসলা-মি লা তু'অ্‌বাদু ফিল আর্‌দ্বি

হে আল্লাহ্‌! আমাকে-দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরা করো। হে আল্লাহ্‌! আমার সঙ্গে ওয়াদাকৃত বিষয় আমাকে দাও। হে আল্লাহ্‌! তুমি যদি এ ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস করে দাও যারা ইসলামের অনুসরণ করছে, তা হলে পৃথিবীতে আর তোমার গোলামি করা হবে না।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৬৩

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) মুশরিকদের দিকে তাকিয়ে দেখেন তাদের সংখ্যা হাজার খানেক, আর তাঁর সাহাবীদের সংখ্যা তিনশত এবং উনিশ জন। এরপর আল্লাহ্‌র নবী (ﷺ) কিবলামুখী হয়ে নিজের হাতদুটি প্রসারিত করেন এবং নিজের রবের কাছে এভাবে মিনতি পেশ করতে থাকেন-(উপরে দোয়াটি উল্লেখিত হয়েছে)

اَللَّهُمَّ أَنْجِزْ لِي مَا وَعَدْتَنِي اَللَّهُمَّ آتِ مَا وَعَدْتَنِي اَللَّهُمَّ إِنْ تُهْلِكْ هَذِهِ الْعِصَابَةَ مِنْ أَهْلِ الْإِسْلَامِ لَا تُعْبَدُ فِي الْأَرْضِ

হে আল্লাহ্‌! আমাকে-দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুরা করো। হে আল্লাহ্‌! আমার সঙ্গে ওয়াদাকৃত বিষয় আমাকে দাও। হে আল্লাহ্‌! তুমি যদি এ ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস করে দাও যারা ইসলামের অনুসরণ করছে, তা হলে পৃথিবীতে আর তোমার গোলামি করা হবে না।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৬৩

মু'মিনদের দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য

মু'মিনদের দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য

إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ

আর স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ফরিয়াদ করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে পর পর আগমনকারী এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করছি’। (সূরা আল-আনফাল ৮:৯)

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৬৩

কিবলামুখী হয়ে দু'হাত প্রসারিত করে তিনি (রাসুলুল্লাহ ﷺ) নিজের রবের কাছে এভাবে মিনতি পেশ করতে থাকেন; এক পর্যায়ে তাঁর দু' কাঁধ থেকে চাদরটি পড়ে যায়। আবু বকর (রাঃ) এসে চাদরটি নিয়ে তাঁর দু' কাঁধের উপর রেখে দেন। তারপর তাঁকে পেছন থেকে ধরে বলেন, “হে আল্লাহ্‌র নবী (ﷺ) আপনার রবের কাছে যে মিনতি পেশ করেছেন, তা আপনার জন্য যথেষ্ট; তিনি আপনাকে যার ওয়াদা দিয়েছেন, অচিরেই তিনি তা আপনাকে দেবেন।” এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ তা'আলা নাযিল করেন-(উপরে উল্লেখিত আয়াত) এরপর আল্লাহ্‌ তাঁকে ফেরেশতা দিয়ে সাহায্য করেছেন।

إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ

আর স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ফরিয়াদ করছিলে, তখন তিনি তোমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে পর পর আগমনকারী এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করছি’। (সূরা আল-আনফাল ৮:৯)

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৬৩

মুজাহিদদের উপর আল্লাহ্‌র সাহায্য #১

মুজাহিদদের উপর আল্লাহ্‌র সাহায্য #১

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, (বদর যুদ্ধে) একজন মুসলিম তার সামনে-থাকা এক মুশরিককে তীব্রবেগে ধাওয়া করেন। এমন সময় তিনি তার উপরের দিকে আচমকা একটি আওয়াজ শুনতে পান। অশ্বারোহী আওয়াজ করে বলছে, “হাইযূম! [১] সামনে চলো!” এরপর তিনি তার সামনের মুশরিকের দিকে তাকিয়ে দেখেন, সে চিত হয়ে পড়ে গিয়েছে। তার দিকে (ভালোভাবে) নজর দিয়ে দেখেন-তার নাক ভেঙে গিয়েছে, চেহারা কেটে গিয়েছে, যেন কেউ চাবুক দিয়ে আঘাত করেছে, এবং তার পুরো চেহারা নীল হয়ে গিয়েছে। ওই আনসার সাহাবী এসে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-কে এ ঘটনা জানালে, তিনি বলেন -“তোমার কথা সত্য। সেটি ছিল তৃতীয় আসমান থেকে পাঠানো লোকবলের অংশ!” সেদিন তারা (কাফিরদের) সত্তর জনকে হত্যা আর সত্তর জনকে বন্দি করেন। [২]

রেফারেন্স: [১] ফেরেশতাকে বহনকারী ঘোড়ার নাম (অনুবাদক) [২] মুসলিমঃ ১৭৬৩

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, (বদর যুদ্ধে) একজন মুসলিম তার সামনে-থাকা এক মুশরিককে তীব্রবেগে ধাওয়া করেন। এমন সময় তিনি তার উপরের দিকে আচমকা একটি আওয়াজ শুনতে পান। অশ্বারোহী আওয়াজ করে বলছে, “হাইযূম! [১] সামনে চলো!” এরপর তিনি তার সামনের মুশরিকের দিকে তাকিয়ে দেখেন, সে চিত হয়ে পড়ে গিয়েছে। তার দিকে (ভালোভাবে) নজর দিয়ে দেখেন-তার নাক ভেঙে গিয়েছে, চেহারা কেটে গিয়েছে, যেন কেউ চাবুক দিয়ে আঘাত করেছে, এবং তার পুরো চেহারা নীল হয়ে গিয়েছে। ওই আনসার সাহাবী এসে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-কে এ ঘটনা জানালে, তিনি বলেন -“তোমার কথা সত্য। সেটি ছিল তৃতীয় আসমান থেকে পাঠানো লোকবলের অংশ!” সেদিন তারা (কাফিরদের) সত্তর জনকে হত্যা আর সত্তর জনকে বন্দি করেন। [২]

রেফারেন্স: [১] ফেরেশতাকে বহনকারী ঘোড়ার নাম (অনুবাদক) [২] মুসলিমঃ ১৭৬৩

মুজাহিদদের উপর আল্লাহ্‌র সাহায্য #২

মুজাহিদদের উপর আল্লাহ্‌র সাহায্য #২

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا ﴿٩﴾ إِذْ جَاءُوكُم مِّن فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا ﴿١٠﴾ هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا ﴿١١﴾

(৯) হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহ্‌র নিআমতকে স্মরণ করো, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা করো আল্লাহ্‌ তার সম্যক দ্রষ্টা। (১০) যখন তারা তোমাদের কাছে এসেছিল তোমাদের উপরের দিক থেকে এবং তোমাদের নিচের দিক থেকে আর যখন চোখগুলো বাঁকা হয়ে পড়েছিল এবং প্রাণ কন্ঠ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আর তোমরা আল্লাহ্‌ সম্পর্কে নানা রকম ধারণা পোষণ করছিলে। (১১) তখন মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। আর তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।

রেফারেন্স: [১] সূরা আল-আহযাবঃ ৩৩:৯-১১ [২] যাদুল মা'আদঃ ৩/২৭৪

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرًا ﴿٩﴾ إِذْ جَاءُوكُم مِّن فَوْقِكُمْ وَمِنْ أَسْفَلَ مِنكُمْ وَإِذْ زَاغَتِ الْأَبْصَارُ وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَنَاجِرَ وَتَظُنُّونَ بِاللَّهِ الظُّنُونَا ﴿١٠﴾ هُنَالِكَ ابْتُلِيَ الْمُؤْمِنُونَ وَزُلْزِلُوا زِلْزَالًا شَدِيدًا ﴿١١﴾

(৯) হে মুমিনগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহ্‌র নিআমতকে স্মরণ করো, যখন সেনাবাহিনী তোমাদের কাছে এসে গিয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর প্রবল বায়ু ও সেনাদল প্রেরণ করলাম যা তোমরা দেখনি। আর তোমরা যা করো আল্লাহ্‌ তার সম্যক দ্রষ্টা। (১০) যখন তারা তোমাদের কাছে এসেছিল তোমাদের উপরের দিক থেকে এবং তোমাদের নিচের দিক থেকে আর যখন চোখগুলো বাঁকা হয়ে পড়েছিল এবং প্রাণ কন্ঠ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। আর তোমরা আল্লাহ্‌ সম্পর্কে নানা রকম ধারণা পোষণ করছিলে। (১১) তখন মুমিনদেরকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। আর তারা ভীষণভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল।

রেফারেন্স: [১] সূরা আল-আহযাবঃ ৩৩:৯-১১ [২] যাদুল মা'আদঃ ৩/২৭৪

আহযাব যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) এর দোয়া

আহযাব যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) এর দোয়া

اَللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ سَرِيعَ الْحِسَابِ اِهْزِمِ الْأَحْزَابَ اَللَّهُمَّ اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ

আল্লা-হুম্মা মুন্‌যিলাল কিতা-বি সারি‘আল হিসা-বি ইহ্‌‘ঝিমিল আহ্‌ঝা-বা, আল্লা-হুম্মাহ্‌ ঝিম্‌হুম্‌ ওয়া- ঝাল্‌ঝিল্‌হুম

হে আল্লাহ্‌, কিতাব-নাযিলকারী! দ্রুত হিসাবগ্রহণকারী! তুমি সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করো! হে আল্লাহ্‌! তুমি তাদের পরাজিত করো এবং তাদের প্রকম্পিত করে তোলো।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৪২

আহযাব যুদ্ধে যারা আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিল, তারা ছিল পাঁচ ধরনের: মক্কার মুশরিক, আরবের বিভিন্ন গোত্রের মুশরিক, মদীনার বাইরে-থেকে-আসা ইয়াহুদি, বানু কুরাইযা ও মুনাফিক। পরিখার সামনে উপস্থিত কাফিরদের সংখ্যা ছিল দশ হাজার; আর নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে-থাকা মুসলিমদের সংখ্যা ছিল তিন হাজার। তারা নবী (ﷺ)-কে এক মাস যাবৎ ঘেরাও করে রাখে। ওই সময় তাদের মধ্যে কোনও লড়াই হয়নি; তবে একটি ঘটনা ছিল এর ব্যতিক্রম আমর ইবনু উদ্দ আমিরি'র সঙ্গে আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) এর লড়াই হয়, তাতে আলী (রাঃ) তাকে হত্যা করে। সেটি ছিল হিজরি চতুর্থ বর্ষের ঘটনা। (ওই যুদ্ধের সময়) আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) তাদের বিরুদ্ধে দোয়ায় বলেন - (দোয়াটি উপরে উল্লেখিত হয়েছে)

اَللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ سَرِيعَ الْحِسَابِ اِهْزِمِ الْأَحْزَابَ اَللَّهُمَّ اهْزِمْهُمْ وَزَلْزِلْهُمْ

হে আল্লাহ্‌, কিতাব-নাযিলকারী! দ্রুত হিসাবগ্রহণকারী! তুমি সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করো! হে আল্লাহ্‌! তুমি তাদের পরাজিত করো এবং তাদের প্রকম্পিত করে তোলো।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৪২

হুনাইন যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ)-এর দোয়া

হুনাইন যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ)-এর দোয়া

شَاهَتِ الْوُجُوْهُ

শা‘হাতিল উযুহ

চেহারাগুলো বিকৃত হোক!

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৭৭

সালামা ইবনুল আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ)-এর হুনাইন যুদ্ধের বিবরণীতে তিনি বলেন, শত্রুবাহিনী আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-কে চারদিক থেকে ঘিরে ফেললে, তিনি খচ্চর থেকে নেমে একমুষ্টি মাটি নেন। এরপর তাদের চেহারার দিকে মুখ করে বলেন -(দোয়াটি উপরে উল্লেখিত হয়েছে) এরপর সেখানে উপস্থিত আল্লাহ্‌র-সৃষ্টি-করা প্রত্যেক মানুষের চোখে ওই একমুঠ মাটি ভরে যায়। এর ফলে তারা (সেখান থেকে) পালিয়ে যায় এবং আল্লাহ্‌ তা'আলা তাদের পরাজিত করেন। এরপর আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত যুদ্ধলব্ধ সম্পদ মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দেন।

شَاهَتِ الْوُجُوْهُ

চেহারাগুলো বিকৃত হোক!

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ১৭৭৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px