📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 মজলিস / বৈঠক শেষের দোয়া

📄 মজলিস / বৈঠক শেষের দোয়া


মজলিসে যা বলতে হয়

মজলিসে যা বলতে হয়

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

রব্বিগফির লী ওয়াতুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত্ তাউওয়া-বুল গাফূর

হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে মাফ করুন এবং তাওবাহ কবুল করুন; নিশ্চয় আপনিই তাওবা কবুলকারী ক্ষমাশীল।

রেফারেন্স: সহীহ। তিরমিযীঃ ৩৪৩৪

ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, গণনা করে দেখা যেতো যে, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এক বৈঠক থেকে উঠে যাবার পূর্বে একশবার এই দোয়া পড়তেন-(উপরে দোয়াটি উল্লেখিত হয়েছে)

رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে মাফ করুন এবং তাওবাহ কবুল করুন; নিশ্চয় আপনিই তাওবা কবুলকারী ক্ষমাশীল।

রেফারেন্স: সহীহ। তিরমিযীঃ ৩৪৩৪

বৈঠকের শেষে কাফ্‌ফারা হিসেবে দোয়া

বৈঠকের শেষে কাফ্‌ফারা হিসেবে দোয়া

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

সুব্‌হা-নাকা আল্লা-হুম্মা ওয়া বি'হামদিকা আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা

হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার প্রশংসা সহকারে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি ছাড়া হক্ব কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার নিকট তাওবা করি।

রেফারেন্স: হাসান সহিহ। আবু দাউদঃ ৪৮৫৯

আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) যখনই কোনো মজলিসে বসেছেন, অথবা কুরআন তেলাওয়াত করেছেন, অথবা সালাত আদায় করেছেন, তখনই তা কিছু বাক্যের মাধ্যমে শেষ করেছেন-(উপরে দোয়াটি উল্লেখিত হয়েছে)

سُبْحَانَكَ اَللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ

হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার প্রশংসা সহকারে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি ছাড়া হক্ব কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার নিকট তাওবা করি।

রেফারেন্স: হাসান সহিহ। আবু দাউদঃ ৪৮৫৯

📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 আনন্দদায়ক অথবা ক্ষতিকারক কিছু দেখলে পঠিতব্য দোয়া সমূহ

📄 আনন্দদায়ক অথবা ক্ষতিকারক কিছু দেখলে পঠিতব্য দোয়া সমূহ


আনন্দদায়ক/পছন্দনীয় বিষয় দেখলে

আনন্দদায়ক/পছন্দনীয় বিষয় দেখলে

নবী করীম (ﷺ) যখন আনন্দদায়ক কিছু লক্ষ্য করতেন, তখন বলতেন -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ

আল’হাম্‌দু লিল্লা-হিল্লাযী বিনি'অ্‌মাতিহী তাতিম্মুস্‌ স্বা-লিহা-ত

প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যার অনুগ্রহে ভালো কাজগুলো সুসম্পন্ন হয়।

রেফারেন্স: হাসান। ইবনে মাজাহঃ ৩৮০৩

নবী করীম (ﷺ) যখন আনন্দদায়ক কিছু লক্ষ্য করতেন, তখন বলতেন -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتُ

প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যার অনুগ্রহে ভালো কাজগুলো সুসম্পন্ন হয়।

রেফারেন্স: হাসান। ইবনে মাজাহঃ ৩৮০৩

ক্ষতিকারক/অপছন্দনীয় বিষয় দেখলে

ক্ষতিকারক/অপছন্দনীয় বিষয় দেখলে

নবী করীম (ﷺ) কোনো অপছন্দনীয় বিষয় দেখলে বা দুঃসংবাদ পেলে বলতেন -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ

আল্‌’হাম্‌দু লিল্লা-হি ‘আলা- কুল্লি ‘হা-ল

সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।

রেফারেন্স: হাসান। ইবনে মাজাহঃ ৩৮০৩

নবী করীম (ﷺ) কোনো অপছন্দনীয় বিষয় দেখলে বা দুঃসংবাদ পেলে বলতেন -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ

সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।

রেফারেন্স: হাসান। ইবনে মাজাহঃ ৩৮০৩

📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 প্রশংসা বিষয়ে দোয়া সমূহ

📄 প্রশংসা বিষয়ে দোয়া সমূহ


কাউকে প্রশংসা করার মাসনূন যিক্‌র

কাউকে প্রশংসা করার মাসনূন যিক্‌র

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন, তোমাদের যদি কখনো কাউকে প্রশংসা করতেই হয় তাহলে বলবে -

أَحْسِبُ فُلَانًا وَاللَّهُ حَسِيْبُهُ وَلَا أُزَكِّيْ عَلَى اللَّهِ أَحَدًا أَحْسِبُهُ كَذَا وَكَذَا

আহ্‌সিবু ফুলানান্‌ ওয়াল্লা-হু 'হাসি‘বুহু ওয়ালা উঝাক্কি 'আলাল্লা-হি 'আহাদান 'আহ্‌সিবুহু কাযা ওয়া-কাযা

আমি অমুককে এরূপ মনে করি, আল্লাহ্‌ই তাকে ভালো জানেন (তিনি তার পরিপূর্ণ হিসেব সংরক্ষক), আল্লাহ্‌র উপরে আমি কাউকে ভালো বলছি না। আমি তাকে অমুক অমুক গুণের অধিকারী বলে মনে করি।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ২৬৬২

কোন মানুষের পিছনে নিন্দা করা এবং সামনে ঢালাও প্রশংসা করা অপরাধ। প্রশংসার ক্ষেত্রে কারো বিশেষ স্বভাব বা গুণের প্রশংসা করা যেতে পারে। কারো ঢালাও প্রশংসা করতে বা নিশ্চিতরূপে কাউকে ভালো বলতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। প্রশংসার ক্ষেত্রে বলতে হবে: আমার ধারণা, অমুক ব্যক্তি ভালো; নিশ্চয়তা প্রকাশ করা যাবে না।

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন, তোমাদের যদি কখনো কাউকে প্রশংসা করতেই হয় তাহলে বলবে -

أَحْسِبُ فُلَانًا وَاللَّهُ حَسِيْبُهُ وَلَا أُزَكِّيْ عَلَى اللَّهِ أَحَدًا أَحْسِبُهُ كَذَا وَكَذَا

আমি অমুককে এরূপ মনে করি, আল্লাহ্‌ই তাকে ভালো জানেন (তিনি তার পরিপূর্ণ হিসেব সংরক্ষক), আল্লাহ্‌র উপরে আমি কাউকে ভালো বলছি না। আমি তাকে অমুক অমুক গুণের অধিকারী বলে মনে করি।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ২৬৬২

প্রশংসিতের দোয়া

প্রশংসিতের দোয়া

اَللَّهُمَّ لَا تُؤَاخِذْنِيْ بِمَا يَقُوْلُوْنَ وَاغْفِرْ لِي مَا لَا يَعْلَمُوْنَ (وَاجْعَلْنِيْ خَيْرًا مِمَّا يَظُنُّوْنَ)

আল্লা-হুম্মা লা-তু’আ-খিযনী বিমা- ইয়াক্বূলূনা, ওয়াগফিরলী মা-লা- ইয়া‘লামূনা, (ওয়াজ‘আলনী খাইরাম মিম্মা- ইয়াযুন্নূন)

হে আল্লাহ্‌, তারা যা বলছে তার জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না, তারা (আমার ব্যাপারে) যা জানে না সে ব্যাপারে আমাকে ক্ষমা করুন (এবং তারা যেরূপ ধারণা করছে আমাকে তার চেয়েও উত্তম বানিয়ে দিন)।

রেফারেন্স: সহীহ। আদাবুল মুফরাদঃ ৭৬১, ব্রাকেটের অংশ (শু'আবুল ঈমান ৪/২৮৮)

সাহাবী-তাবেয়ীগণের রীতি ছিল, কেউ তাদেরকে ধার্মিক বললে বা প্রশংসা করলে তাঁরা কষ্ট পেতেন। কেউ তাদের ভালো বললে তারা বলতেন - (দোয়াটি উপরে উল্লেখিত হয়েছে)

اَللَّهُمَّ لَا تُؤَاخِذْنِيْ بِمَا يَقُوْلُوْنَ وَاغْفِرْ لِي مَا لَا يَعْلَمُوْنَ (وَاجْعَلْنِيْ خَيْرًا مِمَّا يَظُنُّوْنَ)

হে আল্লাহ্‌, তারা যা বলছে তার জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না, তারা (আমার ব্যাপারে) যা জানে না সে ব্যাপারে আমাকে ক্ষমা করুন (এবং তারা যেরূপ ধারণা করছে আমাকে তার চেয়েও উত্তম বানিয়ে দিন)।

রেফারেন্স: সহীহ। আদাবুল মুফরাদঃ ৭৬১, ব্রাকেটের অংশ (শু'আবুল ঈমান ৪/২৮৮)

📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 সালাম বিষয়ক আদব

📄 সালাম বিষয়ক আদব


সালামের প্রসার

সালামের প্রসার

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

আস-সালা-মু ‘আলাইকুম ওয়া রা’হমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহ

আপনার উপর আল্লাহ্‌র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক

রেফারেন্স: [১] মুসনাদ আহমদ ১৪৩০ [২] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারী ) ১/৮২ [৩] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারী) ১/৫৫

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন, “তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর তোমরা পরস্পরকে না ভালোবাসা পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দিবো না যা করলে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসবে? (তা হলো) তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও।” [১] “তিনটি জিনিস যে ব্যক্তি একত্রিত করতে পারবে সে ঈমান একত্রিত করল- ১. নিজের ব্যাপারেও ইনসাফ করা, ২. জগতের সকলকে সালাম দেওয়া, আর ৩. অল্প সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তা থেকে ব্যয় করা [২] ‘আবদুল্লাহ ইবনে ‘আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলো, ইসলামের কোন কাজটি শ্রেষ্ঠ? নবী (ﷺ) বললেন, “তুমি খাবার খাওয়াবে এবং তোমার পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দিবে।” [৩]

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

আপনার উপর আল্লাহ্‌র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক

রেফারেন্স: [১] মুসনাদ আহমদ ১৪৩০ [২] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারী ) ১/৮২ [৩] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারী) ১/৫৫

অমুসলিম সালাম দিলে কীভাবে জবাব দিবে

অমুসলিম সালাম দিলে কীভাবে জবাব দিবে

অমুসলিম ব্যক্তি সালাম দিলে তার উত্তরে বলতে হবে -

وَعَلَيْكُمْ

ওয়া ‘আলাইকুম

আর তোমাদেরও উপর

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৬২৫৮

অমুসলিম ব্যক্তি সালাম দিলে তার উত্তরে বলতে হবে -

وَعَلَيْكُمْ

আর তোমাদেরও উপর

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৬২৫৮

সালামের পদ্ধতি

সালামের পদ্ধতি

এরপর আরেকজন এসে বললো -

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আস্‌সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ

আপনার উপর আল্লাহ্‌র শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক

নবী (ﷺ) অনুরূপ জবাব দিলেন। লোকটি বসলো। তিনি বললেন, বিশ নেকি!

অতঃপর আরেকজন এসে বললো -

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

আস্‌সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

আপনার উপর আল্লাহ্‌র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ৫১৯৫

নবী (ﷺ) তারও জবাব দিলেন। লোকটি বসলো। তিনি বললেনঃ ত্রিশ নেকি।

এরপর আরেকজন এসে বললো -

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আপনার উপর আল্লাহ্‌র শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক

অতঃপর আরেকজন এসে বললো -

اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

আপনার উপর আল্লাহ্‌র শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ৫১৯৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px