📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 বিতরের যিক্‌র

📄 বিতরের যিক্‌র


বিতরের সালাতের পরের যিক্‌র #১

বিতরের সালাতের পরের যিক্‌র #১

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বিতিরের শেষে তিন বার এ যিক্‌রটি বলতেন, শেষবারে লম্বা করে বলতেন -

سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُّدُّوْسِ

সুব’হা-নাল মালিকিল ক্বুদ্দূস

পবিত্রতা ঘোষণা করছি মহা-পবিত্র মালিকের।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদ নং ১৪৩০, সুনান নাসাঈ নং ১৬৯৯,১৭০১

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বিতিরের শেষে তিন বার এ যিক্‌রটি বলতেন, শেষবারে লম্বা করে বলতেন -

سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُّدُّوْسِ

পবিত্রতা ঘোষণা করছি মহা-পবিত্র মালিকের।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদ নং ১৪৩০, সুনান নাসাঈ নং ১৬৯৯,১৭০১

বিতরের সালাতের পরের যিক্‌র #২

বিতরের সালাতের পরের যিক্‌র #২

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বিতরের শেষের দিকে বলতেন -

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُــوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِيْ ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিরিদ্বা-কা মিন সাখাত্বিক, ওয়া বিমু‘আ-ফা-তিকা মিন ‘উক্বুবাতিক, ওয়া আঊযু বিকা মিনকা, লা উহ্‌সী ছানা-আন ‘আলাইকা, আনতা কামা- আছনাইতা ‘আলা নাফসিক

হে আল্লাহ্‌! আমি আশ্রয় চাই তোমার অসন্তুষ্টি থেকে সন্তুষ্টির কাছে, তোমার শাস্তি থেকে তোমার ক্ষমার কাছে। তোমার (পাকড়াও) থেকে তোমার (দয়ার) কাছে। আমি তোমার প্রশংসা বর্ণনা করে শেষ করতে পারব না; তুমি প্রশংসিত, যেভাবে তুমি নিজের প্রশংসা করেছ।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ১৪২৭

আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বিতরের শেষে কথাগুলো বলতেন। এখানে বিতরের শেষ বলতে সালামের আগে না সালামের পরে তা স্পষ্ট করে বলা হয় নি। এজন্য মুমিন এ দোয়াটি সালাতুল বিতরের শেষে সালামের আগে অথবা সালামের পরে পাঠ করতে পারেন।"

আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বিতরের শেষের দিকে বলতেন -

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُــوذُ بِكَ مِنْكَ، لَا أُحْصِيْ ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

হে আল্লাহ্‌! আমি আশ্রয় চাই তোমার অসন্তুষ্টি থেকে সন্তুষ্টির কাছে, তোমার শাস্তি থেকে তোমার ক্ষমার কাছে। তোমার (পাকড়াও) থেকে তোমার (দয়ার) কাছে। আমি তোমার প্রশংসা বর্ণনা করে শেষ করতে পারব না; তুমি প্রশংসিত, যেভাবে তুমি নিজের প্রশংসা করেছ।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ১৪২৭

বিতরের সালাতের পরের যিক্‌র #৩

বিতরের সালাতের পরের যিক্‌র #৩

শেষের বার তাঁর আওয়াজ দীর্ঘায়িত করে বলতেন -

رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

রাব্বুল মালা-ইকাতি ওয়ার-রূহ

যিনি সকল ফেরেশতা ও জিবরীলের মনিব।

রেফারেন্স: সুনানে দারা কুত্বনী ২/৩১, মু'জামুল আওসাত্ব ৮/১০৮, সুনানে বায়হাকি ৩/৪০

শেষের বার তাঁর আওয়াজ দীর্ঘায়িত করে বলতেন -

رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

যিনি সকল ফেরেশতা ও জিবরীলের মনিব।

রেফারেন্স: সুনানে দারা কুত্বনী ২/৩১, মু'জামুল আওসাত্ব ৮/১০৮, সুনানে বায়হাকি ৩/৪০

📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 বিতর সালাতে রাসূল (ﷺ) যেসকল সূরা পড়তেন

📄 বিতর সালাতে রাসূল (ﷺ) যেসকল সূরা পড়তেন


সূরা আল-আ'লা, সূরা আল-কাফিরূন ও সূরা আল-ইখলাস

সূরা আল-আ'লা, সূরা আল-কাফিরূন ও সূরা আল-ইখলাস

সূরা আল-কাফিরূন -

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ﴿١﴾ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٣﴾ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٥﴾ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ ﴿٦﴾

(১) বল, ‘হে কাফিররা, (২) তোমরা যার ‘ইবাদাত করো আমি তার ‘ইবাদাত করি না’। (৩) এবং আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও’। (৪) ‘আর তোমরা যার ‘ইবাদত করছ আমি তার ‘ইবাদাতকারী হব না’। (৫) ‘আর আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী হবে না’। (৬) ‘তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।’ (সূরা আল-কাফিরূন ১০৯ঃ ১-৬)

সূরা আল-ইখলাস -

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। (১) ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। (২) আল্লাহুস্ সামাদ। (৩) লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। (৪) ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

(১) বল, তিনিই আল্লাহ্‌, এক-অদ্বিতীয়। (২) আল্লাহ্‌ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। (৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। (৪) আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই। (সূরা ইখলাস ১১২ঃ ১-৪)

রেফারেন্স: সহীহ। আবু দাউদঃ ১৪২৩

সূরা আল-কাফিরূন -

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ﴿١﴾ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٣﴾ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٥﴾ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ ﴿٦﴾

(১) বল, ‘হে কাফিররা, (২) তোমরা যার ‘ইবাদাত করো আমি তার ‘ইবাদাত করি না’। (৩) এবং আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও’। (৪) ‘আর তোমরা যার ‘ইবাদত করছ আমি তার ‘ইবাদাতকারী হব না’। (৫) ‘আর আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী হবে না’। (৬) ‘তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।’ (সূরা আল-কাফিরূন ১০৯ঃ ১-৬)

সূরা আল-ইখলাস -

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾

(১) বল, তিনিই আল্লাহ্‌, এক-অদ্বিতীয়। (২) আল্লাহ্‌ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। (৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। (৪) আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই। (সূরা ইখলাস ১১২ঃ ১-৪)

রেফারেন্স: সহীহ। আবু দাউদঃ ১৪২৩

📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 মাসনূন কুনুত

📄 মাসনূন কুনুত


বিতরের কুনুতের দোয়া #১

বিতরের কুনুতের দোয়া #১

اَللَّهُمَّ اهْدِنِيْ فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِيْ فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِيْ شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِيْ وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

আল্লা-হুম্মাহ্ দিনী ফীমান হাদাইতা, ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা, ওয়া বা-রিক লী ফীমা- আ’অ্‌তাইতা, ওয়া ক্বিনী শার্‌রা মা- ক্বাদ্বাইতা, ফাইন্নাকা তাক্বদ্বী, ওয়ালা- ইউক্বদ্বা ‘আলাইকা, ওয়া ইন্নাহু লা- ইয়াযিল্লু মান ওয়া-লাইতা, ওয়ালা- ইয়া’ইঝ-ঝু মান ‘আ-দাইতা, তাবা-রাক্‌তা রাব্বানা- ওয়া তা'আ-লাইতা

হে আল্লাহ্‌, আমাকে হেদায়েত দান করুন, যাদেরকে আপনি হেদায়েত করেছেন তাদের সাথে। আমাকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন, যাদেরকে আপনি নিরাপত্তা দান করেছেন তাদের সাথে। আমাকে ওলী হিসাবে গ্রহণ করুন (আমার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন), যাদেরকে আপনি ওলী হিসাবে গ্রহণ করেছেন তাদের সাথে। আপনি আমাকে যা কিছু প্রদান করেছেন তাতে বরকত প্রদান করুন। আপনি যা কিছু আমার ভাগ্যে নির্ধারণ করেছেন তার অকল্যাণ থেকে আমাকে রক্ষা করুন। কারণ আপনিই তো ভাগ্য নির্ধারণ করেন, আপনার বিষয় কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। আপনি যাকে ওলী হিসাবে গ্রহণ করেছেন সে অপমানিত হবে না। আর আপনি যাকে শত্রু হিসাবে গ্রহণ করেছেন সে কখনো সম্মানিত হবে না। মহামহিমান্বিত বরকতময় আপনি, হে আমাদের প্রভু, মহামর্যাদাময় ও সর্বোচ্চ আপনি।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ১৪২৫

এ কুনুতটি সম্পর্কে হাসান ইবন আলী (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) আমাকে এ বাক্যগুলো শিক্ষা দিয়েছেন বিতরের সালাতে বা বিতরের কুনুতে বলার জন্য।”

اَللَّهُمَّ اهْدِنِيْ فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِيْ فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِيْ شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِيْ وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

হে আল্লাহ্‌, আমাকে হেদায়েত দান করুন, যাদেরকে আপনি হেদায়েত করেছেন তাদের সাথে। আমাকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা ও সুস্থতা দান করুন, যাদেরকে আপনি নিরাপত্তা দান করেছেন তাদের সাথে। আমাকে ওলী হিসাবে গ্রহণ করুন (আমার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন), যাদেরকে আপনি ওলী হিসাবে গ্রহণ করেছেন তাদের সাথে। আপনি আমাকে যা কিছু প্রদান করেছেন তাতে বরকত প্রদান করুন। আপনি যা কিছু আমার ভাগ্যে নির্ধারণ করেছেন তার অকল্যাণ থেকে আমাকে রক্ষা করুন। কারণ আপনিই তো ভাগ্য নির্ধারণ করেন, আপনার বিষয় কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। আপনি যাকে ওলী হিসাবে গ্রহণ করেছেন সে অপমানিত হবে না। আর আপনি যাকে শত্রু হিসাবে গ্রহণ করেছেন সে কখনো সম্মানিত হবে না। মহামহিমান্বিত বরকতময় আপনি, হে আমাদের প্রভু, মহামর্যাদাময় ও সর্বোচ্চ আপনি।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ১৪২৫

বিতরের কুনুতের দোয়া #২

বিতরের কুনুতের দোয়া #২

رَبِّ أَعِنِّيْ وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ وَانْصُرْنِيْ وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَيَّ وَاهْدِنِيْ وَيَسِّرِ الْهُدَى لِي (إِلَيَّ) وَانْصُرْنِيْ عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ رَبِّ اجْعَلْنِيْ لَكَ شَكَّارًا لَكَ ذَكَّارًا لَكَ رَهَّابًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَّاهًا مُنِيْبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِيْ وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِيْ وَثَبِّتْ حُجَّتِيْ وَسَدِّدْ لِسَانِيْ وَاهْدِ قَلْبِيْ وَاسْلُلْ سَخِيْمَةَ صَدْرِيْ

রাব্বি আ‘ইন্নি ওয়ালা তু‘ইন আলাইয়্যা ওয়ান্‌-স্বুর্‌নী ওয়ালা তান্‌স্বুর আলাইয়্যা ওয়াম্‌কুর লি ওয়ালা তাম্‌কুর আলাইয়্যা ওয়াহ্‌দিনী ওয়া-ইয়াস্‌ ‘সিরিল হুদা লি (ইলাইয়্যা) ওয়ান্‌-স্বুরনী ‘আলা মান- বাগা ‘আলাইয়্যা রব্বিজ্‌ ‘আলনী লাকা শাক্বারান লাকা যাক্বারান লাকা রাহ্‌‘হাবান লাকা মিত্বওয়া-‘আন লাকা মুখ্‌বিতান ইলাইকা আওয়া-‘হান মুনিবান। রব্বি তাক্বাব্বাল তাওবাতি ওয়াগ্‌সিল ‘হাওবাতি ওয়াআজিব দা‘ওয়াতি ওয়া ‘ছাব্বিত হুজ্জাতি ওয়া ‘সাদ্দিদ লিসা-নী ওয়াহ্‌দী ক্বলবী ওয়াস্‌‘লুল সাখি‘মাতা স্বাদরি

হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে শক্তি-সহায়তা প্রদান করুন, আর আমার বিরুদ্ধে সহায়তা প্রদান করবেন না। এবং আপনি আমাকে সাহায্য করুন, আর আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন না। এবং আপনি আমার জন্য কৌশল করুন, আর আমার বিরুদ্ধে কৌশল করবেন না। এবং আপনি আমাকে হেদায়াত করুন এবং আমার জন্য হেদায়াত সহজ করুন। আপনি আমাকে সাহায্য করুন যে আমার উপর অত্যাচার করেছে তার বিরুদ্ধে। হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে বানিয়ে দিন আপনার জন্য অধিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, আপনার অধিক যিক্‌রকারী, আপনার প্রতি অধিক ভীতিসম্পন্ন, আপনার অধিক আনুগত্যকারী, আপনার প্রতি বিনয়ী এবং আপনার দিকে বেশি বেশি তাওবা কারী। হে আমার প্রতিপালক, আপনি কবুল করুন আমার তাওবা, ধুয়ে দিন আমার পাপ, কবুল করুন আমার দোয়া, প্রতিষ্ঠিত করুন আমার প্রমাণ, পবিত্র-সুসংরক্ষিত করুন আমার জিহ্বা, সুপথে পরিচালিত করুন আমার অন্তর, বের করে দিন আমার অন্তরের সব হিংসা, বিদ্বেষ ও সংকীর্ণতা।

রেফারেন্স: সহিহ। তিরমিজিঃ ৩৫৫১

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এ দোয়া করতেন। হাদীসটির একজন বর্ণনাকারী আবুল হাসান তানাফিসী (রহ) বলেন, আমি হাদীসের রাবী ইমাম ওয়াকী ইবনুল জাররাহকে (রহ) [১৯৬ হি.] জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি বিতর-এর কুনুতে এ দোয়াটি বলব? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

رَبِّ أَعِنِّيْ وَلَا تُعِنْ عَلَيَّ وَانْصُرْنِيْ وَلَا تَنْصُرْ عَلَيَّ وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَيَّ وَاهْدِنِيْ وَيَسِّرِ الْهُدَى لِي (إِلَيَّ) وَانْصُرْنِيْ عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ رَبِّ اجْعَلْنِيْ لَكَ شَكَّارًا لَكَ ذَكَّارًا لَكَ رَهَّابًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَّاهًا مُنِيْبًا رَبِّ تَقَبَّلْ تَوْبَتِيْ وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِيْ وَثَبِّتْ حُجَّتِيْ وَسَدِّدْ لِسَانِيْ وَاهْدِ قَلْبِيْ وَاسْلُلْ سَخِيْمَةَ صَدْرِيْ

হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে শক্তি-সহায়তা প্রদান করুন, আর আমার বিরুদ্ধে সহায়তা প্রদান করবেন না। এবং আপনি আমাকে সাহায্য করুন, আর আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন না। এবং আপনি আমার জন্য কৌশল করুন, আর আমার বিরুদ্ধে কৌশল করবেন না। এবং আপনি আমাকে হেদায়াত করুন এবং আমার জন্য হেদায়াত সহজ করুন। আপনি আমাকে সাহায্য করুন যে আমার উপর অত্যাচার করেছে তার বিরুদ্ধে। হে আমার প্রতিপালক, আপনি আমাকে বানিয়ে দিন আপনার জন্য অধিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, আপনার অধিক যিক্‌রকারী, আপনার প্রতি অধিক ভীতিসম্পন্ন, আপনার অধিক আনুগত্যকারী, আপনার প্রতি বিনয়ী এবং আপনার দিকে বেশি বেশি তাওবা কারী। হে আমার প্রতিপালক, আপনি কবুল করুন আমার তাওবা, ধুয়ে দিন আমার পাপ, কবুল করুন আমার দোয়া, প্রতিষ্ঠিত করুন আমার প্রমাণ, পবিত্র-সুসংরক্ষিত করুন আমার জিহ্বা, সুপথে পরিচালিত করুন আমার অন্তর, বের করে দিন আমার অন্তরের সব হিংসা, বিদ্বেষ ও সংকীর্ণতা।

রেফারেন্স: সহিহ। তিরমিজিঃ ৩৫৫১

বিতরের কুনুতের দোয়া #৩

বিতরের কুনুতের দোয়া #৩

اَللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ، نَرْجُو رَحْمَتَكَ، وَنَخْشَى عَذَابَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكَافِرِينَ مُلْحَقٌ، اَللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ، وَنَسْتَغْفِرُكَ، وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ، وَلَا نَكْفُرُكَ، وَنُؤْمِنُ بِكَ، وَنَخْضَعُ لَكَ، وَنَخْلَعُ مَنْ يَكْفُرُكَ

আল্লা-হুম্মা ইয়্যাকা না‘বুদু, ওয়ালাকা নুসাল্লী, ওনাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস‘আ, ওয়া নাহ্‌ফিদু, নারজূ রাহ্‌মাতাকা, ওয়া নাখশা ‘আযা-বাকা, ইন্না ‘আযা-বাকা বিলকা-ফিরীনা মুলহাক্ব। আল্লা-হুম্মা ইন্না নাসতা‘ঈনুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা, ওয়া নুছনী ‘আলাইকাল খাইর, ওয়ালা-নাকফুরুকা, ওয়ানূ’মিনু বিকা, ওয়া নাখদ্বা‘উ লাকা, ওয়ানাখলা‘উ মাই ইয়াকফুরুক

হে আল্লাহ্‌! আমরা আপনারই ইবাদত করি; আপনার জন্যই সালাত আদায় করি ও সিজদা করি; আমরা আপনার দিকেই দৌড়াই এবং দ্রুত অগ্রসর হই; আমরা আপনার করুণা লাভের আকাঙ্ক্ষা করি এবং আপনার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চয় আপনার শাস্তি কাফেরদেরকে স্পর্শ করবে। হে আল্লাহ্‌! নিশ্চয় আমরা আপনার কাছে সাহায্য চাই, আপনার কাছে ক্ষমা চাই, আপনার উত্তম প্রশংসা করি, আপনার সাথে কুফরি করি না, আপনার উপর ঈমান আনি, আপনার প্রতি অনুগত হই, আর যে আপনার সাথে কুফরি করে আমরা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি।

রেফারেন্স: সহিহ। ইরওয়াউল গালীলঃ ২/১৭০, বায়হাকীঃ আস-সুনানুল কবরা- ২/২১১

اَللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ، نَرْجُو رَحْمَتَكَ، وَنَخْشَى عَذَابَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكَافِرِينَ مُلْحَقٌ، اَللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ، وَنَسْتَغْفِرُكَ، وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ، وَلَا نَكْفُرُكَ، وَنُؤْمِنُ بِكَ، وَنَخْضَعُ لَكَ، وَنَخْلَعُ مَنْ يَكْفُرُكَ

হে আল্লাহ্‌! আমরা আপনারই ইবাদত করি; আপনার জন্যই সালাত আদায় করি ও সিজদা করি; আমরা আপনার দিকেই দৌড়াই এবং দ্রুত অগ্রসর হই; আমরা আপনার করুণা লাভের আকাঙ্ক্ষা করি এবং আপনার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চয় আপনার শাস্তি কাফেরদেরকে স্পর্শ করবে। হে আল্লাহ্‌! নিশ্চয় আমরা আপনার কাছে সাহায্য চাই, আপনার কাছে ক্ষমা চাই, আপনার উত্তম প্রশংসা করি, আপনার সাথে কুফরি করি না, আপনার উপর ঈমান আনি, আপনার প্রতি অনুগত হই, আর যে আপনার সাথে কুফরি করে আমরা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি।

রেফারেন্স: সহিহ। ইরওয়াউল গালীলঃ ২/১৭০, বায়হাকীঃ আস-সুনানুল কবরা- ২/২১১

📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 তাহাজ্জুদ সালাত

📄 তাহাজ্জুদ সালাত


তাহাজ্জুদ সালাতের পূর্বে তেলাওয়াত ও তাসবীহ

তাহাজ্জুদ সালাতের পূর্বে তেলাওয়াত ও তাসবীহ

রাসূল (ﷺ) বিছানা থেকে উঠে সূরা আলে-ইমরানের শেষ রুকূ পাঠ করতেন। [১]

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ﴿١٩٠﴾ الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّـهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿١٩١﴾ رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ ﴿١٩٢﴾ رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا ۚ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ ﴿١٩٣﴾ رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ ﴿١٩٤﴾فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ ۖ بَعْضُكُم مِّن بَعْضٍ ۖ فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِّنْ عِندِ اللَّـهِ ۗ وَاللَّـهُ عِندَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ ﴿١٩٥﴾ لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ ﴿١٩٦﴾ مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۚ وَبِئْسَ الْمِهَادُ ﴿١٩٧﴾ لَـٰكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نُزُلًا مِّنْ عِندِ اللَّـهِ ۗ وَمَا عِندَ اللَّـهِ خَيْرٌ لِّلْأَبْرَارِ ﴿١٩٨﴾ وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَمَن يُؤْمِنُ بِاللَّـهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِينَ لِلَّـهِ لَا يَشْتَرُونَ بِآيَاتِ اللَّـهِ ثَمَنًا قَلِيلًا ۗ أُولَـٰئِكَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ ۗ إِنَّ اللَّـهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿١٩٩﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّـهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٢٠٠﴾

(১৯০) নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নির্দশন। (১৯১) যারা আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) ‘হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর’। (১৯২) ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই’। (১৯৩) ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহবানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহবান করে যে, ‘তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন’। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে’। (১৯৪) ‘হে আমাদের রব, আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না’। (১৯৫) অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন পুরুষ অথবা মহিলা আমলকারীর আমল নষ্ট করব না। তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং যাদেরকে আমার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ বিলুপ্ত করে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ; আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ। আর আল্লাহ্‌র নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান। (১৯৬) নগরসমূহে সেসব লোকের চলা-ফেরা তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে যারা কুফরী করেছে। (১৯৭) এসব অল্প ভোগ্যসামগ্রী। এরপর তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; আর তা কতইনা মন্দ বিছানা! (১৯৮) কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এটা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে মেহমানদারী। আর আল্লাহ্‌র নিকট যা রয়েছে তা নেককার লোকদের জন্য উত্তম। (১৯৯) আর নিশ্চয় আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যে আল্লাহ্‌র জন্য বিনীত হয়ে ঈমান আনে আল্লাহ্‌র প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের প্রতি, আর যা নাযিল করা হয়েছে তাদের প্রতি। তারা আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহ স্বল্পমূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করে না। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট পুরস্কার। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। (২০০) হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহ্‌কে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হও। (সূরা আল-ইমরান ৩ঃ ১৯০-২০০)

রেফারেন্স: [১] বুখারীঃ ৯৯২ [২] সহীহ। নাসাঈঃ ১৬২৬

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল (ﷺ) বিছানা থেকে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে সূরা আলে ইমরানের শেষ রুকূর প্রথম পাঁচ আয়াত পাঠ করতেন। [২]

রাসূল (ﷺ) বিছানা থেকে উঠে সূরা আলে-ইমরানের শেষ রুকূ পাঠ করতেন। [১]

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ﴿١٩٠﴾ الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّـهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَـٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿١٩١﴾ رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ ﴿١٩٢﴾ رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا ۚ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ ﴿١٩٣﴾ رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ ﴿١٩٤﴾فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ ۖ بَعْضُكُم مِّن بَعْضٍ ۖ فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِّنْ عِندِ اللَّـهِ ۗ وَاللَّـهُ عِندَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ ﴿١٩٥﴾ لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ ﴿١٩٦﴾ مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۚ وَبِئْسَ الْمِهَادُ ﴿١٩٧﴾ لَـٰكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نُزُلًا مِّنْ عِندِ اللَّـهِ ۗ وَمَا عِندَ اللَّـهِ خَيْرٌ لِّلْأَبْرَارِ ﴿١٩٨﴾ وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَمَن يُؤْمِنُ بِاللَّـهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِينَ لِلَّـهِ لَا يَشْتَرُونَ بِآيَاتِ اللَّـهِ ثَمَنًا قَلِيلًا ۗ أُولَـٰئِكَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ ۗ إِنَّ اللَّـهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿١٩٩﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّـهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٢٠٠﴾

(১৯০) নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নির্দশন। (১৯১) যারা আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) ‘হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর’। (১৯২) ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই’। (১৯৩) ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহবানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহবান করে যে, ‘তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন’। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে’। (১৯৪) ‘হে আমাদের রব, আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না’। (১৯৫) অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন পুরুষ অথবা মহিলা আমলকারীর আমল নষ্ট করব না। তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং যাদেরকে আমার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ বিলুপ্ত করে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ; আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ। আর আল্লাহ্‌র নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান। (১৯৬) নগরসমূহে সেসব লোকের চলা-ফেরা তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে যারা কুফরী করেছে। (১৯৭) এসব অল্প ভোগ্যসামগ্রী। এরপর তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; আর তা কতইনা মন্দ বিছানা! (১৯৮) কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এটা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে মেহমানদারী। আর আল্লাহ্‌র নিকট যা রয়েছে তা নেককার লোকদের জন্য উত্তম। (১৯৯) আর নিশ্চয় আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যে আল্লাহ্‌র জন্য বিনীত হয়ে ঈমান আনে আল্লাহ্‌র প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের প্রতি, আর যা নাযিল করা হয়েছে তাদের প্রতি। তারা আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহ স্বল্পমূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করে না। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট পুরস্কার। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। (২০০) হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহ্‌কে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হও। (সূরা আল-ইমরান ৩ঃ ১৯০-২০০)

রেফারেন্স: [১] বুখারীঃ ৯৯২ [২] সহীহ। নাসাঈঃ ১৬২৬

তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য ঘুম থেকে উঠে পড়ার দোয়া

তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য ঘুম থেকে উঠে পড়ার দোয়া

১০ বার বলবে -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ

আল্‌ ‘হামদু লিল্লা-হ

প্রশংসা আল্লহর জন্য।

১০ বার বলবে -

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বি’হামদিহী।

ঘোষণা করছি আল্লাহ্‌র পবিত্রতার এবং তার প্রশংসা-সহ।

১০ বার বলবে -

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

আস্তাগফিরুল্লা-হ

আমি আল্লাহ্‌র ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

১০ বার বলবে -

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ

আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই।

রেফারেন্স: হাসান। আবু দাউদঃ ৭৬৬

রাসূল (ﷺ) তাহাজ্জুদ সালাত পড়ার জন্য উঠে ১০ বার ‘আল্লা-হু আকবার’ ১০ বার ‘আল-হামদু লিল্লা-হ’ ১০ বার ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী, ১০ বার ‘আস্তাগফিরুল্লা-হ’ ও ১০ বার ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ পড়তেন। ‘সুবহা-নাল মালিকিল কুদ্দূস’ এবং ‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন যীক্বিদ্দুনইয়া ওয়া যীক্বি ইয়াউমাল ক্বিয়ামাহ’ ১০ বার করে বলার প্রমাণে পেশকৃত হাদীসটি যঈফ।

১০ বার বলবে -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ

প্রশংসা আল্লহর জন্য।

১০ বার বলবে -

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ

ঘোষণা করছি আল্লাহ্‌র পবিত্রতার এবং তার প্রশংসা-সহ।

১০ বার বলবে -

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

আমি আল্লাহ্‌র ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

১০ বার বলবে -

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ

আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই।

রেফারেন্স: হাসান। আবু দাউদঃ ৭৬৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px