📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 ঘুমানোর আগে

📄 ঘুমানোর আগে


একশতবার তাসবীহ পাঠ

একশতবার তাসবীহ পাঠ

৩৩ বার আল-হামদু লিল্লাহ

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ

আল ‘হামদু লিল্লা-হ’

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।

৩৪ বার আল্লাহু আকবার

اَللَّهُ أَكْبَرُ

আল্লাহু আকবার

আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৭/৭১, নং ৩৭০৫; মুসলিম ৪/২০৯১, নং ২৭২৬

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) আলী (রাঃ) এবং ফাতেমা (রাঃ)-কে বলেন: “আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা দু’জনে বলবেঃ (দোয়াটি উপরে উল্লেখিত হয়েছে)

৩৩ বার আল-হামদু লিল্লাহ

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য।

৩৪ বার আল্লাহু আকবার

اَللَّهُ أَكْبَرُ

আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৭/৭১, নং ৩৭০৫; মুসলিম ৪/২০৯১, নং ২৭২৬

আয়াতুল কুরসী

আয়াতুল কুরসী

اَللَّهُ لَآ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُۥ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِى يَشْفَعُ عِنْدَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِىُّ الْعَظِيمُ

আল্লা-হু লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যূল ক্বাইয়্যূম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহূ মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূ ইল্লা বিইযনিহ। ইয়া‘লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহী ইল্লা বিমা শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা। ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যূল ‘আযীম

মহান আল্লাহ্‌, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন প্রকৃত উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করে? তিনি লোকদের সমুদয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু’য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান। (সূরা বাকারা ২ঃ ২৫৫)

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ), ৪/৪৮৭, নং ২৩১১

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন: “যে কেউ যখন রাতে আপন বিছানায় যাবে এবং ‘আয়াতুল কুরসী’ পড়বে, তখন সে রাতের পুরো সময় আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে তার জন্য হেফাযতকারী থাকবে; আর সকাল হওয়া পর্যন্ত শয়তান তার নিকটেও আসতে পারবে না।”

اَللَّهُ لَآ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُۥ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِى يَشْفَعُ عِنْدَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَىْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِىُّ الْعَظِيمُ

মহান আল্লাহ্‌, তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোন প্রকৃত উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বদা রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমণ্ডলে ও ভূমণ্ডলে যা কিছু আছে, তাঁরই। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করে? তিনি লোকদের সমুদয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা জানেন। পক্ষান্তরে মানুষ তাঁর জ্ঞানের কোনকিছুই আয়ত্ত করতে সক্ষম নয়, তিনি যে পরিমাণ ইচ্ছা করেন সেটুকু ছাড়া। তাঁর কুরসী আকাশ ও পৃথিবী পরিবেষ্টন করে আছে এবং এ দু’য়ের রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। তিনি উচ্চ মর্যাদাশীল, মহান। (সূরা বাকারা ২ঃ ২৫৫)

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ), ৪/৪৮৭, নং ২৩১১

সূরা বাকারার শেষ দু আয়াত

সূরা বাকারার শেষ দু আয়াত

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّـهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴿٢٨٥﴾ لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٨٦﴾

(২৮৫) আ-মানার রাসূলু বিমা- উনঝিলা ইলাইহি মির রব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লা-হি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়াকুতুবিহী ওয়া রুসুলিহ, লা- নুফাররিক্বু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহ, ওয়াক্ব-লু সামি‘না- ওয়া আতা‘না- গুফ্‌রা-নাকা রব্বানা- ওয়া ইলাইকাল মাসীর। (২৮৬) লা ইয়ুকাল্লিফুল্লা-হু নাফ্‌সান ইল্লা উস‘আহা- লাহা- মা- কাসাবাত ওয়া আলাইহা- মাক্তাসাবাত রব্বানা- লা- তুআখিয্‌না- ইন নাসীনা- আও আখ্‌ত্বা’না-। রব্বানা- ওয়ালা- তাহ্‌মিল ‘আলাইনা- ইসরান কামা- 'হামালতাহু ‘আলাল্লাযীনা মিন ক্বাবলিনা-। রব্বানা- ওয়ালা- তু'হাম্মিলনা- মা-লা- ত্বা-ক্বাতা লানা- বিহী। ওয়া‘ফু 'আন্না- ওয়াগফির লানা- ওয়ার'হামনা- আনতা মাওলা-না- ফানসুরনা- ‘আলাল ক্বাউমিল কা-ফিরীন।

(২৮৫) রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহ্‌র উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। (২৮৬) আল্লাহ্‌ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। (সূরা বাকারা ২ঃ ২৮৫-২৮৬)

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৯/৯৪, ৪০০৮; মুসলিম ১/৫৫৪, নং ৮০৭

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেন: যে ব্যক্তি রাতের বেলা সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত পড়বে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّـهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴿٢٨٥﴾ لَا يُكَلِّفُ اللَّـهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴿٢٨٦﴾

(২৮৫) রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহ্‌র উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। (২৮৬) আল্লাহ্‌ কোন ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন। (সূরা বাকারা ২ঃ ২৮৫-২৮৬)

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৯/৯৪, ৪০০৮; মুসলিম ১/৫৫৪, নং ৮০৭

সূরা কাফিরূন

সূরা কাফিরূন

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ﴿١﴾ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٣﴾ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٥﴾ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ ﴿٦﴾

বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহি-ম। (১) ক্বু'ল ইয়া- আইয়্যুহাল কা-ফিরুন (২) লা- আ‘বুদু মা- তা'বুদুন (৩) ওয়ালা- আনতুম 'আবিদুনা মা- আ'বুদ (৪) ওয়ালা- আনা- 'আবিদুম মা- 'আবাত্তুম (৫) ওয়ালা- আনতুম 'আ-বিদুনা মা- আ'বুদ (৬) লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন।

(১) বল, ‘হে কাফিররা, (২) তোমরা যার ‘ইবাদাত করো আমি তার ‘ইবাদাত করি না’। (৩) এবং আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও’। (৪) ‘আর তোমরা যার ‘ইবাদত করছ আমি তার ‘ইবাদাতকারী হব না’। (৫) ‘আর আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী হবে না’। (৬) ‘তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।’ (সূরা কাফিরুন ১০৯ঃ ১-৬)

রেফারেন্স: সহিহ। তিরমিযীঃ ৩৪০৩

নাওফাল আল-আশজায়ী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, তুমি সূরা কাফিরূন পড়ে ঘুমাবে, এ হচ্ছে তোমার শিরক থেকে বিমুক্তি।

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ﴿١﴾ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ ﴿٢﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٣﴾ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ ﴿٤﴾ وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ ﴿٥﴾ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ ﴿٦﴾

(১) বল, ‘হে কাফিররা, (২) তোমরা যার ‘ইবাদাত করো আমি তার ‘ইবাদাত করি না’। (৩) এবং আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী নও’। (৪) ‘আর তোমরা যার ‘ইবাদত করছ আমি তার ‘ইবাদাতকারী হব না’। (৫) ‘আর আমি যার ‘ইবাদাত করি তোমরা তার ‘ইবাদাতকারী হবে না’। (৬) ‘তোমাদের জন্য তোমাদের দীন আর আমার জন্য আমার দীন।’ (সূরা কাফিরুন ১০৯ঃ ১-৬)

রেফারেন্স: সহিহ। তিরমিযীঃ ৩৪০৩

সূরা ইখলাস

সূরা ইখলাস

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّـهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّـهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾

বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহি-ম (১) ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। (২) আল্লাহুস্ সামাদ। (৩) লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। (৪) ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ

(১) বল, তিনিই আল্লাহ্‌, এক-অদ্বিতীয়। (২) আল্লাহ্‌ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। (৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। (৪) আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই। (সূরা ইখলাস ১১২ঃ ১-৪)

রেফারেন্স: সহিহ মুসলিমঃ ৮১১

নবীজী (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণকে বললেন: তোমরা কি পারবে না রাতে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে? বিষয়টি তাদের কাছে কষ্টকর মনে হলো। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ), আমাদের মধ্যে কে-ই বা তা পারবে? তখন তিনি বলেন: "ক্বুল হুআল্লাহু আহাদ" সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশ।

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّـهُ أَحَدٌ ﴿١﴾ اللَّـهُ الصَّمَدُ ﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ ﴿٤﴾

(১) বল, তিনিই আল্লাহ্‌, এক-অদ্বিতীয়। (২) আল্লাহ্‌ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। (৩) তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। (৪) আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই। (সূরা ইখলাস ১১২ঃ ১-৪)

রেফারেন্স: সহিহ মুসলিমঃ ৮১১

সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস

সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস

সূরা ফালাক ৩ বার -

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾

বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহি-ম। (১) ক্বুল আ‘উযু বিরব্বিল ফালাক্ব। (২) মিন শাররি মা খালাক্ব। (৩) ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা ওয়াক্বাব। (৪) ওয়া মিন শাররিন নাফফা-সা-তি ফিল ‘উক্বাদ। (৫) ওয়া মিন শাররি 'হা-সিদিন ইযা 'হাসাদ

(১) বল, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে, (২) তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, (৩) আর রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়, (৪) আর গিরায় ফুঁ-দানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে, (৫) আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে’। (সূরা ফালাক ১১৩ঃ ১-৫)

সূরা নাস ৩ বার -

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَـٰهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾

বিসমিল্লা-হির রাহমা-নির রাহি-ম। (১) ক্বুল ‘আউযু বিরাব্বিন্না-স। (২) মালিকিন্না-স, (৩) ইলা-হিন্না-স, (৪) মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স, (৫) আল্লাযি ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-স, (৬) মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স

(১) বল, ‘আমি আশ্রয় চাই মানুষের রব, (২) মানুষের অধিপতি, (৩) মানুষের ইলাহ-এর কাছে, (৪) কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে দ্রুত আত্মগোপন করে। (৫) যে মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয়। (৬) জিন ও মানুষ থেকে। (সূরা নাস ১১৪ঃ ১-৬)

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৫০১৭

আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) প্রতি রাতে বিছানায় গমনের পরে তাঁর মুবারক দুটি হাত একত্রিত করে তাতে ফুঁ দিতেন এবং তাতে উপরের তিনটি সূরা পাঠ করতেন। এরপর শরীরের যতটুকু সম্ভব স্থান দুই হাত দিয়ে মাছেহ করতেন। মাথা, মুখ ও শরীরের সামনের দিক থেকে শুরু করতেন। এভাবে ৩ বার করতেন।

সূরা ফালাক ৩ বার -

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ﴿١﴾ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ﴿٢﴾ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ﴿٣﴾ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ﴿٤﴾ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ ﴿٥﴾

(১) বল, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে, (২) তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে, (৩) আর রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে যখন তা গভীর হয়, (৪) আর গিরায় ফুঁ-দানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে, (৫) আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে’। (সূরা ফালাক ১১৩ঃ ১-৫)

সূরা নাস ৩ বার -

بِسْمِ اللَّـهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ﴿١﴾ مَلِكِ النَّاسِ ﴿٢﴾ إِلَـٰهِ النَّاسِ ﴿٣﴾ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ﴿٤﴾ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ﴿٥﴾ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴿٦﴾

(১) বল, ‘আমি আশ্রয় চাই মানুষের রব, (২) মানুষের অধিপতি, (৩) মানুষের ইলাহ-এর কাছে, (৪) কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে দ্রুত আত্মগোপন করে। (৫) যে মানুষের মনে কুমন্ত্রণা দেয়। (৬) জিন ও মানুষ থেকে। (সূরা নাস ১১৪ঃ ১-৬)

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৫০১৭

ঘুমানোর আগে পঠিত সূরাসমূহ

ঘুমানোর আগে পঠিত সূরাসমূহ

জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। [১] আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) সূরা বানী ইসরাঈল ও সূরা যুমার তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। অন্য হাদীসে আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) প্রত্যেক রাতে সূরা সাজদাহ ও সূরা যুমার পাঠ করতেন। [২]

রেফারেন্স: [১] সহিহ। তিরমিযীঃ ৩৪০৪ [২] সহিহ। তিরমিযীঃ ২৯২০

জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) সূরা সাজদাহ ও সূরা মুলক তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। [১] আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) সূরা বানী ইসরাঈল ও সূরা যুমার তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না। অন্য হাদীসে আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) প্রত্যেক রাতে সূরা সাজদাহ ও সূরা যুমার পাঠ করতেন। [২]

রেফারেন্স: [১] সহিহ। তিরমিযীঃ ৩৪০৪ [২] সহিহ। তিরমিযীঃ ২৯২০

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১

হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) যখন রাতে শয্যা গ্রহণ করতেন তখন তিনি তাঁর হাত গালের নীচে রাখতেন। অতঃপর বলতেন -

اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا

আল্লা-হুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া-

হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার নামে মৃত্যুবরণ করি এবং তোমার নামেই জীবিত হই।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৬৩১৪

হুযায়ফাহ্ (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ﷺ) যখন রাতে শয্যা গ্রহণ করতেন তখন তিনি তাঁর হাত গালের নীচে রাখতেন। অতঃপর বলতেন -

اَللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا

হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার নামে মৃত্যুবরণ করি এবং তোমার নামেই জীবিত হই।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৬৩১৪

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #২

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #২

بِاسْمِكَ اَللَّهُمَّ أَمُوْتُ وَأَحْيَا

বিসমিকা, আল্লা-হুম্মা, আমূতু ওয়া আ’হইয়া-

আপনারই নামে, হে আল্লাহ্‌, আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩২৪; মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১১

হুযাইফা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) ঘুমানোর এরাদা করলে এ যিক্‌রটি বলতেন।

بِاسْمِكَ اَللَّهُمَّ أَمُوْتُ وَأَحْيَا

আপনারই নামে, হে আল্লাহ্‌, আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩২৪; মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১১

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৩

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৩

আব্দুল্লাহ ইবনু ওম্‌র (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) রাত্রে যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন বলতেন -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِى كَفَانِى وَآوَانِى وَأَطْعَمَنِى وَسَقَانِى وَالَّذِى مَنَّ عَلَىَّ فَأَفْضَلَ وَالَّذِى أَعْطَانِى فَأَجْزَلَ اَلْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ، اَللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَىْءٍ وَمَلِيْكَهُ وَإِلَهَ كُلِّ شَىْءٍ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযি কাফা-নী ওয়া আ-ওয়ানী ওয়া আত্‘আমানী ওয়া সাক্কা-নী ওয়াল্লাযী মান্না ‘আলাইয়্যা ফাআফদ্বালা ওয়াল্লাযী আ‘ত্বা-নী ফাআজ্‌ঝালাল-হামদু লিল্লা-হি ‘আলা- কুল্লি হা-ল্, আল্লা-হুম্মা রব্বা কুল্লি শাই’ইন্ ওয়া মালিকাহূ ওয়া ইলা-হা কুল্লি শাই’ইন্ আ‘উযুবিকা মিনান না-র

সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমার প্রয়োজন পুরা করলেন, আমাকে মুক্তি দিলেন, আমাকে পানাহার করালেন, যিনি আমার প্রতি অসীম দয়াবান এবং আমাকে দান করলেন। সুতরাং সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। হে আল্লাহ্‌! প্রত্যেক বস্তুর রব ও অধিকারী এবং প্রত্যেক জিনিসের ইলাহ্‌! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ৫০৫৮

আব্দুল্লাহ ইবনু ওম্‌র (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) রাত্রে যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন বলতেন -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِى كَفَانِى وَآوَانِى وَأَطْعَمَنِى وَسَقَانِى وَالَّذِى مَنَّ عَلَىَّ فَأَفْضَلَ وَالَّذِى أَعْطَانِى فَأَجْزَلَ اَلْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى كُلِّ حَالٍ، اَللَّهُمَّ رَبَّ كُلِّ شَىْءٍ وَمَلِيْكَهُ وَإِلَهَ كُلِّ شَىْءٍ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ

সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমার প্রয়োজন পুরা করলেন, আমাকে মুক্তি দিলেন, আমাকে পানাহার করালেন, যিনি আমার প্রতি অসীম দয়াবান এবং আমাকে দান করলেন। সুতরাং সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌র প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। হে আল্লাহ্‌! প্রত্যেক বস্তুর রব ও অধিকারী এবং প্রত্যেক জিনিসের ইলাহ্‌! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ৫০৫৮

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৪

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৪

اَللَّهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ

আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা খালাক্কতা নাফসী ওয়া আন্তা তাওয়াফ্‌ফা-হা-। লাকা মামা-তুহা- ওয়া মাহ্‌ইয়া-হা-। ইন্ আহ্ইয়াইতাহা- ফাহ্‌ফায্‌হা- ওয়াইন আমাত্তাহা- ফাগফির লাহা-। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ‘আ-ফিয়াহ

হে আল্লাহ্‌! নিশ্চয় আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৭১২

اَللَّهُمَّ إِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِي وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَإِنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ

হে আল্লাহ্‌! নিশ্চয় আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৭১২

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৫

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৫

اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اِقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

আল্লা-হুম্মা আনতাল আউওয়ালু ফালাইসা ক্বাবলাকা শাইউন। ওয়া আনতাল আ-খিরু ফালাইসা বা‘দাকা শাইউন। ওয়া আনতায যা-হিরু ফালাইসা ফাওক্বাকা শাইউন। ওয়া আনতাল বা-ত্বিনু ফালাইসা দূনাকা শাইউন। ইক্বদ্বি ‘আন্নাদ্-দাইনা ওয়া আগনিনা- মিনাল ফাক্বর

হে আল্লাহ্‌! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৭১৩

اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اِقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

হে আল্লাহ্‌! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৭১৩

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৬

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৬

اَللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْأَرْضِ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، وَالْفُرْقَانِ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

আল্লা-হুম্মা রব্বাস্ সামা-ওয়া-তিস্ সাব‘ই ওয়া রব্বাল আরদ্ব, ওয়া রাব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম, রাব্বানা ওয়া রব্বা কুল্লি শাই’ইন্, ফা-লিক্বাল হাব্বি ওয়ান-নাওয়া, ওয়া মুনঝিলাত্-তাওরা-তি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল ফুরক্বা-ন, আ‘উযু বিকা মিন শাররি কুল্লি শাই’ইন্ আনতা আ-খিযুম-বিনা-সিয়াতিহি। আল্লা-হুম্মা আনতাল আউওয়ালু ফালাইসা ক্বাবলাকা শাইউন। ওয়া আনতাল আ-খিরু ফালাইসা বা‘দাকা শাইউন। ওয়া আনতায যা-হিরু ফালাইসা ফাওক্বাকা শাইউন। ওয়া আনতাল বা-ত্বিনু ফালাইসা দূনাকা শাইউন। ইক্বদ্বি ‘আন্নাদ্-দাইনা ওয়া আগনিনা মিনাল ফাক্বর

হে আল্লাহ্‌! হে সপ্ত আকাশের রব্ব, যমিনের রব্ব, মহান ‘আরশের রব্ব, আমাদের রব্ব ও প্রত্যেক বস্তুর রব্ব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ্‌! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৭১৩, সহীহ। তিরমিযীঃ ৩৪৮১

আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) আমাদেরকে বিছানায় শয়ন করার পরে (ডান কাতে শুয়ে) এ মুনাজাতটি পাঠ করতে শিক্ষা দিতেন। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন, ফাতিমা (রাঃ) তাঁর কাছে খাদিমা চাইলে তিনি তাঁকে দোয়াটি শিখিয়ে দেন।

اَللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْأَرْضِ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، وَالْفُرْقَانِ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ، اَللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَأَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ

হে আল্লাহ্‌! হে সপ্ত আকাশের রব্ব, যমিনের রব্ব, মহান ‘আরশের রব্ব, আমাদের রব্ব ও প্রত্যেক বস্তুর রব্ব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)। হে আল্লাহ্‌! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।

রেফারেন্স: মুসলিমঃ ২৭১৩, সহীহ। তিরমিযীঃ ৩৪৮১

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৭

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৭

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে সে যেন বলে -

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ (التَّامَّاتِ) مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَ(مِنْ) شَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَأَنْ يَحْضُرُوْنِ

আ‘উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি (তা-ম্মা-তি) মিন ‘গাদ্বাবিহী ওয়া ‘ইক্বা-বিহী ওয়া (মিন) শার্‌রি ‘ইবা-দিহী, ওয়া মিন হামাযা-তিশ শায়া-তীনি ওয়া আন ইয়া’হদ্বুরূন

আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাক্যাবলির, তাঁর গযব-ক্রোধ থেকে, তার শাস্তি থেকে, তাঁর সৃষ্টির অকল্যাণ থেকে, শয়তানের তাড়না বা প্ররোচনা থেকে এবং আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে।

রেফারেন্স: হাসান। তিরমিযিঃ ৩৫২৮

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ ঘুমের মধ্যে ভয় পেলে সে যেন বলে -

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ (التَّامَّاتِ) مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَ(مِنْ) شَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ وَأَنْ يَحْضُرُوْنِ

আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাক্যাবলির, তাঁর গযব-ক্রোধ থেকে, তার শাস্তি থেকে, তাঁর সৃষ্টির অকল্যাণ থেকে, শয়তানের তাড়না বা প্ররোচনা থেকে এবং আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে।

রেফারেন্স: হাসান। তিরমিযিঃ ৩৫২৮

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৮

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৮

بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، فَإِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ

বিসমিকা রব্বী ওয়াদ্বা‘তু জাম্বী, ওয়া বিকা আরফা‘উহু। ফাইন্ আম্‌সাকতা নাফ্‌সী ফার’হামহা, ওয়াইন আরসালতাহা- ফা’হ্‌ফায্‌হা- বিমা তা’হ্‌ফাযু বিহী ‘ইবা-দাকাস সা-লিহীন

আমার রব্ব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা উঠাবো। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন, তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাযত করে থাকেন।

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/১২৬, নং ৬৩২০; মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১৪

আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা যখন বিছানায় শয়ন করতে যাবে তখন নিজের পোশাক দিয়ে হলেও বিছানাটি ঝেড়ে নেবে ... এরপর বলবে: (দোয়াটি উপরে উল্লেখিত হয়েছে)

بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِي، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، فَإِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِي فَارْحَمْهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِينَ

আমার রব্ব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা উঠাবো। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন, তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাযত করে থাকেন।

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/১২৬, নং ৬৩২০; মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১৪

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৯

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #৯

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দোয়াটি বলতেন -

اَللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ

আল্লা-হুম্মা ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আছু ‘ইবা-দাক

হে আল্লাহ্‌! আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন।

রেফারেন্স: সহিহ। তিরমিযীঃ ৩৩৯৮

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দোয়াটি বলতেন -

اَللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ

হে আল্লাহ্‌! আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন।

রেফারেন্স: সহিহ। তিরমিযীঃ ৩৩৯৮

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১০

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১০

بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِي ذَنْبِيْ

বিসমিকা রাব্বী, ওয়াদ্বা’অ্‌তু জানবী, ফাগফির লী যাম্বী

হে আমার প্রভু, আপনারই নামে শয়ন করলাম। আপনি আমার গোনাহ ক্ষমা করে দিন।

রেফারেন্স: হাসান (শুয়াইব আল-আরনাঊত)। মুসনাদ আহমদঃ ৬৬২০

আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, নবীজী (ﷺ) যখন বিছানায় ঘুমের জন্য শয়ন করতেন, তখন উপরোল্লেখিত দোয়াটি বলতেন।

بِاسْمِكَ رَبِّي وَضَعْتُ جَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِي ذَنْبِيْ

হে আমার প্রভু, আপনারই নামে শয়ন করলাম। আপনি আমার গোনাহ ক্ষমা করে দিন।

রেফারেন্স: হাসান (শুয়াইব আল-আরনাঊত)। মুসনাদ আহমদঃ ৬৬২০

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১১

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১১

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ

আল’হামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ব’আমানা- ওয়া সাক্বা-না-, ওয়াকাফা-না- ওয়া আ-ওয়া-না-। ফাকাম মিম্মান লা- কা-ফিয়া লাহু ওয়ালা-মু’উইয়া

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমাদেরকে খাদ্য দান করেছেন, পানীয় দান করেছেন, সকল অভাব মিটিয়েছেন এবং আশ্রয় দান করেছেন। কত মানুষ আছে, যাদের অভাব মেটানোর বা আশ্রয় প্রদানের কেউ নেই।

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৮৫, নং ২৭১৫

আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) যখন বিছানায় শয়ন করতেন তখন এ দোয়াটি বলতেন।

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমাদেরকে খাদ্য দান করেছেন, পানীয় দান করেছেন, সকল অভাব মিটিয়েছেন এবং আশ্রয় দান করেছেন। কত মানুষ আছে, যাদের অভাব মেটানোর বা আশ্রয় প্রদানের কেউ নেই।

রেফারেন্স: মুসলিম ৪/২০৮৫, নং ২৭১৫

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১২

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১২

اَللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَ شِرْكِهِ وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِيْ سُوءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ

আল্লা-হুম্মা, ‘আ-লিমাল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাতি, ফা-তিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব, রাব্বা কুল্লি শাই’ইন্ ওয়া মালীকাহু, আশহাদু আল্লা- ইলা-হা ইল্লা-আনতা, আ‘উযু বিকা মিন শার্‌রি নাফ্‌সী, ওয়া মিন শার্‌রিশ শাইত্বা-নি ওয়া শিরকিহী, ওয়া আন আক্বতারিফা ‘আলা- নাফ্‌সী সূআন আও আজুর্‌রাহু ইলা- মুসলিম

হে আল্লাহ্‌, গোপন (গায়েব) ও প্রকাশ্য সকল জ্ঞানের অধিকারী, আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা, সকল কিছুর প্রভু ও মালিক, আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আপনি ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই। আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি আমার নিজের অকল্যাণ থেকে এবং শাইতানের অকল্যাণ ও তার শিরক থেকে। আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি, আমি এমন কোনো কর্ম না করি যাতে আমার নিজের কোনো ক্ষতি বা অমঙ্গল হয়, অথবা কোনো মুসলমানের জীবনে ক্ষতি বা অমঙ্গল বয়ে আনে।

রেফারেন্স: সহিহ। তিরমিযীঃ ৩৩৯২

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এ দোয়াটি সকালে, সন্ধ্যায় ও শয়নের পরে পাঠের জন্য শিক্ষা দিয়েছিলেন।

اَللَّهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَ شِرْكِهِ وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِيْ سُوءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ

হে আল্লাহ্‌, গোপন (গায়েব) ও প্রকাশ্য সকল জ্ঞানের অধিকারী, আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা, সকল কিছুর প্রভু ও মালিক, আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আপনি ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই। আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি আমার নিজের অকল্যাণ থেকে এবং শাইতানের অকল্যাণ ও তার শিরক থেকে। আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি, আমি এমন কোনো কর্ম না করি যাতে আমার নিজের কোনো ক্ষতি বা অমঙ্গল হয়, অথবা কোনো মুসলমানের জীবনে ক্ষতি বা অমঙ্গল বয়ে আনে।

রেফারেন্স: সহিহ। তিরমিযীঃ ৩৩৯২

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৩

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৩

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، وبَرَأَ وَذَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا، وَمِنْ شَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الْأَرْضِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ

আ‘উযু বিকালিমা-তিল্লাহিত তা-ম্মা-তিল্লাতী লা- ইউজা-ওয়িঝুহুন্না বার্‌রুন ওয়ালা- ফা-জিরুন, মিন শার্‌রি মা- খালাক্বা ওয়া বারাআ ওয়া যারাআ, ওয়া মিন শার্‌রি মা- ইয়ানঝিলু মিনাস সামা-য়ি ওয়া মিন শার্‌রি মা- ইয়া’অ্‌রুজু ফীহা-, ওয়া মিন শার্‌রি মা- যারাআ ফিল আরদ্বি, ওয়া মিন শার্‌রি মা- ইয়া’খরুজু মিন্‌হা-, ওয়া মিন শার্‌রি ফিতানিল্লাইলি ওয়ান নাহা-রি, ওয়া মিন শার্‌রি কুল্লি ত্বা-রিক্কিন ইল্লা- ত্বারিক্বান ইয়াত্বরুক্বু বিখাইরিন ইয়া- রা’হমা-ন

আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাক্যাবলির, যেগুলোকে অতিক্রম করতে পারে না কোনো পুণ্যবান বা কোনো পাপী, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, বানিয়েছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমান থেকে অবতরণ করে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমানে উঠে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু যমিনে ছড়ানো তার অনিষ্ট থেকে যা কিছু যমিন থেকে বের হয় তার অনিষ্ট থেকে, রাত ও দিনের ফিতনার অনিষ্ট থেকে এবং সকল আগন্তুকের অনিষ্ট থেকে, শুধু যে আগম্ভক কল্যাণ-সহ আগমন করে সে ব্যতীত, হে মহা-দয়াময়।

রেফারেন্স: সহিহ (আরনাঊত্ব)। আহমদঃ ১৫৪৯৯

আব্দুর রাহমান ইবনু খানবাশ (রাঃ) বলেন, “এক রাতে শয়তান জিনগণ আগুন নিয়ে মরুপ্রান্তরে রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ)-কে আক্রমন করতে এগিয়ে আসে। তখন জিবরাঈল (আঃ) এসে তাঁকে এ দোয়াটি শিখিয়ে দেন। দোয়াটি পাঠের সাথে সাথে শয়তানদের আগুন নিভে যায় এবং তারা পালিয়ে যায়।”

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، وبَرَأَ وَذَرَأَ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيهَا، وَمِنْ شَرِّ مَا ذَرَأَ فِي الْأَرْضِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمِنْ شَرِّ فِتَنِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ إِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَا رَحْمَنُ

আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ বাক্যাবলির, যেগুলোকে অতিক্রম করতে পারে না কোনো পুণ্যবান বা কোনো পাপী, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, বানিয়েছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমান থেকে অবতরণ করে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমানে উঠে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু যমিনে ছড়ানো তার অনিষ্ট থেকে যা কিছু যমিন থেকে বের হয় তার অনিষ্ট থেকে, রাত ও দিনের ফিতনার অনিষ্ট থেকে এবং সকল আগন্তুকের অনিষ্ট থেকে, শুধু যে আগম্ভক কল্যাণ-সহ আগমন করে সে ব্যতীত, হে মহা-দয়াময়।

রেফারেন্স: সহিহ (আরনাঊত্ব)। আহমদঃ ১৫৪৯৯

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৪

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৪

بِسْمِ اللَّهِ وَضَعْتُ جَنْبِى اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِيْ وَأَخْسِئْ شَيْطَانِيْ وَفُكَّ رِهَانِيْ وَاجْعَلْنِيْ فِي النَّدِىِّ الْأَعْلَى

বিস্‌মিল্লা-হি ওয়াদ্বা'অ্‌তু জানবী। আল্লা-হুম্মা’গ্‌ফির্‌ লী যানবী, ওয়া আখ্‌সিঅ্‌ শাইত্বা-নী, ওয়া ফুক্‌কা রিহা-নী, ওয়াজ্‌’আল্‌নী ফিন্‌ নাদিইয়্যিল আ’অ্‌লা

আল্লাহ্‌র নামে আমি আমার দেহ (বিছানায়) রাখলাম। হে আল্লাহ্‌ আপনি ক্ষমা করুন আমার পাপ, লাঞ্ছিত-অক্ষম করুন আমার শয়তানকে, মুক্ত করুন আমাকে আমার বাঁধন থেকে এবং আমাকে সর্বোচ্চ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ৫০৫৪

আবুল আযহার আনমারী (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) রাতে যখন বিছানায় শয়ন করতেন তখন এ কথাগুলো বলতেন।”

بِسْمِ اللَّهِ وَضَعْتُ جَنْبِى اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِيْ وَأَخْسِئْ شَيْطَانِيْ وَفُكَّ رِهَانِيْ وَاجْعَلْنِيْ فِي النَّدِىِّ الْأَعْلَى

আল্লাহ্‌র নামে আমি আমার দেহ (বিছানায়) রাখলাম। হে আল্লাহ্‌ আপনি ক্ষমা করুন আমার পাপ, লাঞ্ছিত-অক্ষম করুন আমার শয়তানকে, মুক্ত করুন আমাকে আমার বাঁধন থেকে এবং আমাকে সর্বোচ্চ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন।

রেফারেন্স: সহিহ। আবু দাউদঃ ৫০৫৪

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৫

ঘুমানোর যিক্‌রসমূহ #১৫

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন, “যখন তুমি বিছানা গ্রহণ করবে, তখন নামাযের মতো ওযূ করবে, তারপর তোমার ডান পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়বে। তারপর বলো -

اَللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِيْ إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ

আল্লা-হুম্মা আস্‌লামতু নাফ্‌সী ইলাইকা, ওয়া ফাউওয়াদ্বতু আমরী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহ্‌তু ওয়াজহি ইলাইকা, ওয়াআলজা’তু যাহ্‌রী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা। লা মালজা’আ ওয়ালা মান্‌জা- মিনকা ইল্লা ইলাইকা। আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা ওয়াবিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা

হে আল্লাহ্‌! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩১৩; মুসলিম ৪/২০৮১, নং ২৭১০

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) যাকে এ দোয়াটি শিক্ষা দিলেন, তাকে বলেন: “যদি তুমি ঐ রাতে মারা যাও তবে ‘ফিতরাত’ তথা দীন ইসলামের উপর মারা গেলে।”

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন, “যখন তুমি বিছানা গ্রহণ করবে, তখন নামাযের মতো ওযূ করবে, তারপর তোমার ডান পার্শ্বদেশে শুয়ে পড়বে। তারপর বলো -

اَللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِيْ إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ

হে আল্লাহ্‌! আমি নিজেকে আপনার কাছে সঁপে দিলাম। আমার যাবতীয় বিষয় আপনার কাছেই সোপর্দ করলাম, আমার চেহারা আপনার দিকেই ফিরালাম, আর আমার পৃষ্ঠদেশকে আপনার দিকেই ন্যস্ত করলাম; আপনার প্রতি অনুরাগী হয়ে এবং আপনার ভয়ে ভীত হয়ে। একমাত্র আপনার নিকট ছাড়া আপনার (পাকড়াও) থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং কোনো মুক্তির উপায় নেই। আমি ঈমান এনেছি আপনার নাযিলকৃত কিতাবের উপর এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর।

রেফারেন্স: বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩১৩; মুসলিম ৪/২০৮১, নং ২৭১০

তাহাজ্জুদের নিয়্যাতসহ ঘুমাতে যাওয়া

তাহাজ্জুদের নিয়্যাতসহ ঘুমাতে যাওয়া

রাত্রে উঠে তাহাজ্জুদ আদায়ের দৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে ঘুমাতে হবে; তাহলে রাত্রে ঘুম না ভাঙলেও তাহাজ্জুদের সাওয়াব অর্জিত হবে বলে বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে। এক হাদীসে আবু দারদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন- "যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার নিয়তে বিছানায় আসে কিন্তু তার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা প্রবল হয়ে যাওয়ায় ভোর পর্যন্ত সে ঘুমিয়ে থাকে, তার জন্য তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব লিখা হবে, আর আল্লাহ্‌ তা‘আলার পক্ষ থেকে তার নিদ্রা তার জন্য সদকা স্বরূপ হয়ে যাবে।"

রেফারেন্স: সহিহ। নাসায়ীঃ ১৭৮৭

রাত্রে উঠে তাহাজ্জুদ আদায়ের দৃঢ় ইচ্ছা নিয়ে ঘুমাতে হবে; তাহলে রাত্রে ঘুম না ভাঙলেও তাহাজ্জুদের সাওয়াব অর্জিত হবে বলে বিভিন্ন হাদীসে বলা হয়েছে। এক হাদীসে আবু দারদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন- "যে ব্যক্তি তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার নিয়তে বিছানায় আসে কিন্তু তার চক্ষুদ্বয় নিদ্রা প্রবল হয়ে যাওয়ায় ভোর পর্যন্ত সে ঘুমিয়ে থাকে, তার জন্য তার নিয়ত অনুসারে সওয়াব লিখা হবে, আর আল্লাহ্‌ তা‘আলার পক্ষ থেকে তার নিদ্রা তার জন্য সদকা স্বরূপ হয়ে যাবে।"

রেফারেন্স: সহিহ। নাসায়ীঃ ১৭৮৭

📘 দোয়া ও রুকইয়াহ 📄 ঘুম ভাঙার পরে

📄 ঘুম ভাঙার পরে


ঘুমের মধ্যে পার্শ্বপরিবর্তনের দোয়া

ঘুমের মধ্যে পার্শ্বপরিবর্তনের দোয়া

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ، رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল ওয়া-হিদুল ক্বাহ্‌হা-র রব্বুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল-আরদ্ব, ওয়ামা- বাইনাহুমাল-‘আযীযুল গাফ্‌ফা-র

মহাপ্রতাপশালী এক আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। (তিনি) আসমানসমূহ, যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যস্থিত সবকিছুর রব্ব, প্রবল পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।

রেফারেন্স: হাদীসটি সংকলন করেছেন, হাকেম এবং তিনি তা সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন, ১/৫৪০; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলা, নং ২০২; ইবনুস সুন্নী, নং ৭৫৭। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪/২১৩।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) রাতে যখন বিছানায় পার্শ্ব পরিবর্তন করতেন তখন বলতেন, (দোয়াটি উপরে উল্লেখিত হয়েছে)

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ، رَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ

মহাপ্রতাপশালী এক আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। (তিনি) আসমানসমূহ, যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যস্থিত সবকিছুর রব্ব, প্রবল পরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।

রেফারেন্স: হাদীসটি সংকলন করেছেন, হাকেম এবং তিনি তা সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন, ১/৫৪০; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল্লাইলা, নং ২০২; ইবনুস সুন্নী, নং ৭৫৭। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪/২১৩।

ঘুম থেকে ওঠার পর যিক্‌র (রাত্রে) #১

ঘুম থেকে ওঠার পর যিক্‌র (রাত্রে) #১

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ، رَبِّ اغْفِرْ لِي

লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহূ লা- শারীকা লাহূ, লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন্ ক্বাদীর। সুবহা-নাল্লাহি, ওয়ালহামদু লিল্লা-হি, ওয়ালা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লা-হু আকবার, ওয়ালা- ‘হাওলা ওয়ালা- ক্বুওয়্যাতা ইল্লা- বিল্লা-হিল ‘আলিয়্যিল ‘আযীম, রাব্বিগফির লী

আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, এবং প্রশংসা তাঁরই। এবং তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাবান। সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র। আল্লাহ্‌র পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই। আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ। কোনো অবলম্বন নেই, কোনো ক্ষমতা নেই আল্লাহ্‌র (সাহায্য) ছাড়া।

রেফারেন্স: সহীহ। আবু দাউদঃ ৫০৬০

‘উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন, “যদি কারো রাত্রে ঘুম ভেঙ্গে যায় এরপর সে উপরের যিক্‌রের বাক্যগুলো পাঠ করে এবং এরপর সে আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চায় অথবা কোনো প্রকার দোয়া করে বা কিছু চায় তাহলে তার দোয়া কবুল করা হবে। আর যদি সে এরপর উঠে ওযূ করে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করে তাহলে তার সালাত কবুল করা হবে।”

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيْمِ، رَبِّ اغْفِرْ لِي

আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, এবং প্রশংসা তাঁরই। এবং তিনি সর্বোপরি ক্ষমতাবান। সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র। আল্লাহ্‌র পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই। আল্লাহ্‌ সর্বশ্রেষ্ঠ। কোনো অবলম্বন নেই, কোনো ক্ষমতা নেই আল্লাহ্‌র (সাহায্য) ছাড়া।

রেফারেন্স: সহীহ। আবু দাউদঃ ৫০৬০

ঘুম থেকে ওঠার পর যিক্‌র (রাত্রে) #২

ঘুম থেকে ওঠার পর যিক্‌র (রাত্রে) #২

ঘুম থেকে উঠে ওযূ করে (সূরা আল ইমরান এর শেষ দশটি আয়াত) পাঠ করা -

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ﴿١٩٠﴾ الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿١٩١﴾ رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ ﴿١٩٢﴾ رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا ۚ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ ﴿١٩٣﴾ رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ ﴿١٩٤﴾ فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ ۖ بَعْضُكُم مِّن بَعْضٍ ۖ فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِّنْ عِندِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ ﴿١٩٥﴾ لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ ﴿١٩٦﴾ مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۚ وَبِئْسَ الْمِهَادُ ﴿١٩٧﴾ لَٰكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نُزُلًا مِّنْ عِندِ اللَّهِ ۗ وَمَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ لِّلْأَبْرَارِ ﴿١٩٨﴾ وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَمَن يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِينَ لِلَّهِ لَا يَشْتَرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا ۗ أُولَٰئِكَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿١٩٩﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٢٠٠﴾

(১৯০) নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নির্দশন। (১৯১) যারা আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) ‘হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর’। (১৯২) ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই’। (১৯৩) ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহবানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহবান করে যে, ‘তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন’। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে’। (১৯৪) ‘হে আমাদের রব, আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না’। (১৯৫) অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন পুরুষ অথবা মহিলা আমলকারীর আমল নষ্ট করব না। তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং যাদেরকে আমার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ বিলুপ্ত করে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ; আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ। আর আল্লাহ্‌র নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান। (১৯৬) নগরসমূহে সেসব লোকের চলা-ফেরা তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে যারা কুফরী করেছে। (১৯৭) এসব অল্প ভোগ্যসামগ্রী। এরপর তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; আর তা কতইনা মন্দ বিছানা! (১৯৮) কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এটা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে মেহমানদারী। আর আল্লাহ্‌র নিকট যা রয়েছে তা নেককার লোকদের জন্য উত্তম। (১৯৯) আর নিশ্চয় আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যে আল্লাহ্‌র জন্য বিনীত হয়ে ঈমান আনে আল্লাহ্‌র প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের প্রতি, আর যা নাযিল করা হয়েছে তাদের প্রতি। তারা আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহ স্বল্পমূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করে না। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট পুরস্কার। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। (২০০) হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহ্‌কে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হও। (সূরা আল ইমরান ৩ঃ ১৯০-২০০)

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ৮/২৩৭, নং ৪৫৬৯; মুসলিম ১/৫৩০, নং ২৫৬।

এরপর নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে দু' রাকআত সালাত আদায় করেন; ওই সালাতে তিনি কিয়াম, রুকূ ও সাজদাগুলো অনেক দীর্ঘায়িত করেন। সালাত শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন ...।

ঘুম থেকে উঠে ওযূ করে (সূরা আল ইমরান এর শেষ দশটি আয়াত) পাঠ করা -

إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ ﴿١٩٠﴾ الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَٰذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿١٩١﴾ رَبَّنَا إِنَّكَ مَن تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ أَخْزَيْتَهُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ ﴿١٩٢﴾ رَّبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُنَادِي لِلْإِيمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَآمَنَّا ۚ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ ﴿١٩٣﴾ رَبَّنَا وَآتِنَا مَا وَعَدتَّنَا عَلَىٰ رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيعَادَ ﴿١٩٤﴾ فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ أَنِّي لَا أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنكُم مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ ۖ بَعْضُكُم مِّن بَعْضٍ ۖ فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَأُكَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُدْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِّنْ عِندِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الثَّوَابِ ﴿١٩٥﴾ لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ ﴿١٩٦﴾ مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۚ وَبِئْسَ الْمِهَادُ ﴿١٩٧﴾ لَٰكِنِ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نُزُلًا مِّنْ عِندِ اللَّهِ ۗ وَمَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ لِّلْأَبْرَارِ ﴿١٩٨﴾ وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَمَن يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِمْ خَاشِعِينَ لِلَّهِ لَا يَشْتَرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا ۗ أُولَٰئِكَ لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ ﴿١٩٩﴾ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿٢٠٠﴾

(১৯০) নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের বিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নির্দশন। (১৯১) যারা আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও কাত হয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। (বলে) ‘হে আমাদের রব, তুমি এসব অনর্থক সৃষ্টি করনি। তুমি পবিত্র মহান। সুতরাং তুমি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা কর’। (১৯২) ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় তুমি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমান করবে। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই’। (১৯৩) ‘হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহবানকারীকে, যে ঈমানের দিকে আহবান করে যে, ‘তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন’। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে’। (১৯৪) ‘হে আমাদের রব, আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না’। (১৯৫) অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিলেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন পুরুষ অথবা মহিলা আমলকারীর আমল নষ্ট করব না। তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং যাদেরকে আমার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ বিলুপ্ত করে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ; আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ। আর আল্লাহ্‌র নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান। (১৯৬) নগরসমূহে সেসব লোকের চলা-ফেরা তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে যারা কুফরী করেছে। (১৯৭) এসব অল্প ভোগ্যসামগ্রী। এরপর তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম; আর তা কতইনা মন্দ বিছানা! (১৯৮) কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এটা আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে মেহমানদারী। আর আল্লাহ্‌র নিকট যা রয়েছে তা নেককার লোকদের জন্য উত্তম। (১৯৯) আর নিশ্চয় আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যে আল্লাহ্‌র জন্য বিনীত হয়ে ঈমান আনে আল্লাহ্‌র প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের প্রতি, আর যা নাযিল করা হয়েছে তাদের প্রতি। তারা আল্লাহ্‌র আয়াতসমূহ স্বল্পমূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করে না। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট পুরস্কার। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। (২০০) হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং পাহারায় নিয়োজিত থাক। আর আল্লাহ্‌কে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হও। (সূরা আল ইমরান ৩ঃ ১৯০-২০০)

রেফারেন্স: বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ৮/২৩৭, নং ৪৫৬৯; মুসলিম ১/৫৩০, নং ২৫৬।

ঘুম থেকে উঠার পর যিক্‌র #৩

ঘুম থেকে উঠার পর যিক্‌র #৩

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ

আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বা‘দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্ নুশূর

হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি (নিদ্রারূপ) মৃত্যুর পর আমাদেরকে জীবিত করলেন, আর তাঁরই নিকট সকলের পুনরুত্থান।

রেফারেন্স: বুখারী ফাতহুল বারী ১১/১১৩, নং ৬৩১৪; মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১১

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ

হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি (নিদ্রারূপ) মৃত্যুর পর আমাদেরকে জীবিত করলেন, আর তাঁরই নিকট সকলের পুনরুত্থান।

রেফারেন্স: বুখারী ফাতহুল বারী ১১/১১৩, নং ৬৩১৪; মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১১

ঘুম থেকে উঠার পর যিক্‌র #৪

ঘুম থেকে উঠার পর যিক্‌র #৪

(নবী ﷺ বলেন) তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তখন সে যেন বলে -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِيْ فِي جَسَدِيْ، وَرَدَّ عَلَيَّ رُوحِيْ، وَأَذِنَ لِي بِذِكْرِهِ

আল্‌হামদু লিল্লা-হিল্লাযী ‘আ-ফা-নী ফী জাসাদী, ওয়ারদ্দা ‘আলাইয়্যা রূহী ওয়া আযিনা লী বিযিক্‌রিহ

সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমার দেহকে নিরাপদ করেছেন, আমার রূহকে আমার নিকট ফেরত দিয়েছেন এবং আমাকে তাঁর যিক্‌র করার অনুমতি (সুযোগ) দিয়েছেন।

রেফারেন্স: তিরমিযী ৫/৪৭৩, নং ৩৪০১। দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪৪

(নবী ﷺ বলেন) তোমাদের কেউ যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে, তখন সে যেন বলে -

اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِيْ فِي جَسَدِيْ، وَرَدَّ عَلَيَّ رُوحِيْ، وَأَذِنَ لِي بِذِكْرِهِ

সকল হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, যিনি আমার দেহকে নিরাপদ করেছেন, আমার রূহকে আমার নিকট ফেরত দিয়েছেন এবং আমাকে তাঁর যিক্‌র করার অনুমতি (সুযোগ) দিয়েছেন।

রেফারেন্স: তিরমিযী ৫/৪৭৩, নং ৩৪০১। দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪৪

ঘুম থেকে উঠে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করা

ঘুম থেকে উঠে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করা

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বলেন, “তোমাদের কেউ ঘুমাতে গেলে, তার মাথার পেছন দিকে শয়তান তিনটি গিঁট দেয়। প্রত্যেকটি গিঁটের জায়গায় সে চাপড় দিয়ে বলে, “তোমার সামনে দীর্ঘ রাত পড়ে আছে; সুতরাং আরামে ঘুম দাও!” মানুষ যখন ঘুম থেকে জেগে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে, তখন একটি গিট খুলে যায়; সে যদি ওযূ করে, তাতে (আরও) একটি গিট খুলে যায়। এরপর সালাত আদায় করলে (তৃতীয়) গিট খুলে যায়; এর ফলে তার সকাল কাটে প্রাণবন্ত ও প্রফুল্ল অবস্থায়। অন্যথায় তার সকাল কাটে নোংরা-মন ও অলস অবস্থায়।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ১১৪২

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বলেন, “তোমাদের কেউ ঘুমাতে গেলে, তার মাথার পেছন দিকে শয়তান তিনটি গিঁট দেয়। প্রত্যেকটি গিঁটের জায়গায় সে চাপড় দিয়ে বলে, “তোমার সামনে দীর্ঘ রাত পড়ে আছে; সুতরাং আরামে ঘুম দাও!” মানুষ যখন ঘুম থেকে জেগে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে, তখন একটি গিট খুলে যায়; সে যদি ওযূ করে, তাতে (আরও) একটি গিট খুলে যায়। এরপর সালাত আদায় করলে (তৃতীয়) গিট খুলে যায়; এর ফলে তার সকাল কাটে প্রাণবন্ত ও প্রফুল্ল অবস্থায়। অন্যথায় তার সকাল কাটে নোংরা-মন ও অলস অবস্থায়।

রেফারেন্স: বুখারীঃ ১১৪২

নিদ্রাবস্থায় ভালো বা মন্দ স্বপ্ন দেখলে করণীয়

নিদ্রাবস্থায় ভালো বা মন্দ স্বপ্ন দেখলে করণীয়

ঘুমের মধ্যে মন্দ স্বপ্ন দেখলে বাম পার্শ্বে তিনবার থুথু ফেলতে হবে, এরপর তিনবার বলবে -

أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

আ‘উযুবিল্লা-হি মিনাশ্ শাইত্বা-নির রজীম্

বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

রেফারেন্স: [১] বুখারীঃ ৭০৪৪ [২] মুসলিমঃ ৬০৪১ [৩] সহিহ। তিরমিযীঃ ২২৮০

পার্শ্ব পরিবর্তন করতে হবে। এ স্বপ্ন কারও সামনে বলা নিষিদ্ধ। ভালো স্বপ্ন দেখলেও কাউকে বলতে হয় না। তবে একান্ত অন্তরঙ্গ বন্ধুর সামনে অথবা জ্ঞানীদের সামনে বলা যেতে পারে। আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন, ‘উত্তম স্বপ্ন আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে হয়। আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। কাজেই তোমাদের যে কেউ ভালো স্বপ্ন দেখে, সে যেন এমন ব্যক্তির নিকট প্রকাশ করে, যাকে সে ভালোবাসে। আর যদি কেউ মন্দ স্বপ্ন দেখে তাহলে সে যেন এর ক্ষতি এবং শয়তানের অনিষ্ট হতে আল্লাহ্‌র নিকট আশ্রয় চায় এবং বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে। স্বপ্নটি যেন কারো নিকট প্রকাশ না করে। তাহলে উহা তাঁর ক্ষতি করতে পারবে না। [১] জারির (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ এমন স্বপ্ন দেখে, যা সে অপছন্দ করে, তখন সে যেন নিজের বাম দিকে তিন বার থুথু ফেলে। আর আল্লাহ্‌র নিকট তিন বার শয়তান হতে আশ্রয় চায় ও পার্শ্ব পরিবর্তন করে। [২] আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন, “কেউ যদি খারাপ স্বপ্ন দেখে, সে যেন উঠে দু’রাকা‘আত সালাত আদায় করে”। [৩]

ঘুমের মধ্যে মন্দ স্বপ্ন দেখলে বাম পার্শ্বে তিনবার থুথু ফেলতে হবে, এরপর তিনবার বলবে -

أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ

বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

রেফারেন্স: [১] বুখারীঃ ৭০৪৪ [২] মুসলিমঃ ৬০৪১ [৩] সহিহ। তিরমিযীঃ ২২৮০

স্বপ্ন বিষয়ক দোয়া

স্বপ্ন বিষয়ক দোয়া

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন - "ভালো স্বপ্ন আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে খারাপ লাগে, তা হলে সে যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে তখন সে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং এর ক্ষতি থেকে আশ্রয় চায়। কেননা, তা হলে এটা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।"

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৫৭৪৭

রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বলেছেন - "ভালো স্বপ্ন আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে হয়, আর মন্দ স্বপ্ন শয়তানের তরফ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি এমন কিছু স্বপ্ন দেখে যা তার কাছে খারাপ লাগে, তা হলে সে যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে তখন সে যেন তিনবার থুথু ফেলে এবং এর ক্ষতি থেকে আশ্রয় চায়। কেননা, তা হলে এটা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।"

রেফারেন্স: বুখারীঃ ৫৭৪৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px