📘 দু আর মহিমা > 📄 তিনি অনুরোধে সাড়া দেন

📄 তিনি অনুরোধে সাড়া দেন


আপনি যদি কুরআনের দিকে তাকান, সুরা বাকারায় রামাদান নিয়ে পরপর অনেকগুলো আয়াত আছে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
'হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমার পূর্ববর্তী লোকদের ওপর। যতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। ১০৯
এবং তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, 'রোজা রাখতে হবে কতগুলো নির্দিষ্ট দিনে।'১১০
এখানে প্রথম তিনটি আয়াতে রোজার ব্যাপারে বলা হয়েছে। হঠাৎ করেই চতুর্থ আয়াতে অন্য বিষয় নিয়ে বলা হয়েছে। এখানে দু'আ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
'আর (হে মুহাম্মদ) আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে তখন বলে দিন, নিশ্চয়ই আমি রয়েছি সন্নিকটে।'১১১
এরপর পঞ্চম আয়াতে বলা হয়েছে, রামাদানের নিয়মকানুন সম্পর্কে। 'রোজার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। ১১২

এখানে সাওমের বিষয় ধারাবাহিকভাবে থাকা কয়েকটি আয়াতের মাঝে দু'আ সম্পর্কে আয়াত কেন ছিল? আল্লাহ এখানে কেন অন্য প্রসঙ্গের এমন একটি আয়াত রাখবেন? এটি কি সত্যিই অপ্রাসঙ্গিক? অসম্ভব। কুরআনের প্রতিটি দৃষ্টিভঙ্গিই নিখুঁত। দু'আর গুরুত্ব সম্পর্কে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সাওমের আলোচনায় তা আনা হয়েছে এবং রামাদান হচ্ছে দু'আর মাস।
দু'আ কবুল হওয়ার বিশেষ কিছু সময় রয়েছে। তার মধ্যে রামাদান একটি। এই আয়াতটি আরো গভীরভাবে দেখুন-
'আর আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে, তখন বলে দিন নিশ্চয়ই আমি রয়েছি সন্নিকটে। আমি দু'আকারীর দু'আর জবাব দিই যখন তারা আমার কাছে দু'আ করে।'
“এবং তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে”, আর “এবং যখন তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে”। কথাটি পবিত্র কুরআনে চৌদ্দবার এসেছে। 'ইয়াস আলুনাকা' এসেছে ১৩ বার এবং 'ইযা সাআলাকা' এসেছে একবার। প্রতিবার আল্লাহ যখন বলেন, 'এবং তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে'। এ কথাটির পরে কুল (তাদের বলে দাও) কথাটি আছে। শুধুমাত্র এই আয়াতটিতে বলা হয়নি। এখানে দু'আর কথা বলা হয়েছে। সব জায়গায় কুল আছে, শুধুমাত্র দু'আর জায়গাটি ব্যতীত। 'যদি তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে' এর পরে কোনো কুল (বলে দাও) নেই। এর মাধ্যমে বিশুদ্ধ তাওহিদের একটি বার্তা আপনার কাছে দেওয়া হয়েছে। সেটা হলো আপনার এবং আল্লাহর মাঝে সরাসরি একটি সম্পর্ক। না আছে কোনো বার্তাবাহক, না আছে কোনো ওলি। এমনকি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নন। পূর্ণাঙ্গ তাওহিদ, বিশুদ্ধ তাওহিদ আর এ কারণেই এখানে কোনো কুল নেই।

টিকাঃ
[১০৯] সুরা বাকারা: ১৮২
[১১০] সুরা বাকারাহ: ১৮৫।
[১১১] সুরা বাকারাহ: ১৮৬।
[১১২)সুরা বাকারাহ: ১৮৭।

📘 দু আর মহিমা > 📄 ভাগ্য রজনী (লাইলাতুল কদর)

📄 ভাগ্য রজনী (লাইলাতুল কদর)


রামাদানে আল্লাহ তার বান্দার জন্য অনেক সুযোগ তৈরী করে দেন যাতে বান্দা তার গুনাহগুলো মাফ করিয়ে নিতে পারে। লাইলাতুল কদর সেইসকল সুযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইমানের সাথে সাওয়াবের আশা নিয়ে লাইলাতুল কদরে সালাত আদায় করবে, তার সমস্ত গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে।'

📘 দু আর মহিমা > 📄 লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব

📄 লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব


পবিত্র কুরআনে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে ৫টি আয়াতের একটি সম্পূর্ণ সুরা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তার নাম করণও করা হয়েছে 'সুরাতুল কদর নামে।' এছাড়া সুরা দুখানের শুরুতে প্রায় চার থেকে ছয়টি আয়াতে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলা হয়েছে। সুতরাং এখানে রয়েছে পবিত্র কুরআনের প্রায় ১১টি আয়াত এবং পূর্ণাঙ্গ সুরা। যাতে সেই রাত তথা কদর বা ভাগ্য রজনী সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এটি কোনো সাধারাণ রাত নয়। এটি এমন একটি রাত যে রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল।
আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমি কুরআনকে কদরের রাতে নাজিল করেছি।'১১৩ অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমি একে অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে।'১১৪
কেন এটিকে লাইলাতুল কদর বলা হয়? এর দুটি কারণ রয়েছে। অথবা দুটির কোন একটির কারণে এই রাতের নাম লাইলাতুল কদর রাখা হয়েছে। এক. এটির মূল শব্দ কদর। যার অর্থ মূল্য বা গুরুত্ব। ভাগ্য রজনী অত্যন্ত মূল্যবান এবং গুরুত্বপূর্ণ তাই এর নাম রাখা হয়েছে লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত্র।
দ্বিতীয় কারণ হলো, কদর নিয়তি/ভাগ্য থেকে আসে। এর অর্থ হলো আপনার ভাগ্য ওই রাতে লিখা হয়।
কেউ কেউ হয়তো বলবেন, আপনি আমাদেরকে বিভ্রান্ত করছেন। আপনিই তো আমাদেরকে বলেছেন, আকাশ পৃথিবী তৈরির অনেক আগেই আমাদের ভাগ্য লেখা হয়েছে। কিন্তু এখন বলছেন এটি লাইলাতুল কদরে লেখা হয়। আপনি মনস্থির করুন। দেখুন কীভাবে এটি হয়? এটি আকাশ ও নভোমণ্ডল তৈরির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই লেখা হয়েছে এবং এই বিশেষ রাতে ওই বছরের কাজগুলো ফেরেশতাদের হাতে দেওয়া হয়।
যেমন আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে কারিমে বলেছেন,
فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
'এ রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়।'১১৫
পুরো বছরের জন্য কাজগুলো ফেরেশতাদের দেওয়া হয়। কারা এ বছর মৃত্যুবরণ করবে? কারা ধন-সম্পদ দ্বারা সমৃদ্ধ হবে, কারা দরিদ্র হবে এসব কিছু। এ রাতে ঘুমানোর কোনো সময় নেই। এ রাতে আপনার রিজিক লেখা হবে। ভালো খারাপ সবকিছু ফেরেশতাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তাই এ রাতে আল্লাহর রহমতের জন্য প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
'আর তুমি কি জানো মহিমান্বিত রাত কী?'১১৬
যদি এমন হয় আমি মূল্যবান কোনোকিছু কিনে আনলাম। আর আপনি আমার কাছে সেই জিনিসটি চাইলেন। তখন আমি যদি বলি, আপনি কি জানেন এটার মূল্য কত? প্রশ্নটি শোনার সাথে সাথেই আপনার মনে হবে যে, জিনিসটির মূল্য সত্যিই খুব বেশি যা বর্ণনা করা যায় না।
ঠিক তেমনিভাবে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তার মর্জাদা অধিক হওয়ার কারনে আল্লাহ তাআলাও প্রশ্ন করেছেন যে, আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি? অর্থাৎ আপনি কি জানেন এ রাতে আপনি কি পেতে যাচ্ছেন? এর পরের আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলে দিচ্ছেন,
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
'কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।'১১৭
এ রাতের ইবাদত হাজার মাস অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ মাসের চেয়েও উত্তম। আমার ভাই ও বোনেরা! এটাই আপনাদের জন্য উত্তম রাত। সৌভাগ্য অর্জনের রাত। আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে ক্ষমা লাভের রাত।
যদি এমন প্রশ্ন করা হয় যে, কোনটি তোমার জীবনের শ্রেষ্ট রাত? তখন আপনি কি বলবেন? কেউ কেউ হয়তো বা বলবে তার বাসর রাত, কেউ হয়তো বলবে তার গ্রাজুয়েশনের রাত অথবা যে রাতে তাদের সন্তান জন্ম নিয়েছিল সেই রাত। এসব ভালো, খারাপ জিনিস নয়। কিন্তু এগুলো আপনার জীবনের শ্রেষ্ট রাত হতে পারে না। বরং আপনার জীবনের শ্রেষ্ট রাত হল লাইলাতুল কদরের রাত। কারণ এই এক রাতে আপনি আপনার গুনাহগুলো ক্ষমা করাতে পেরেছেন, হাজার মাস তথা ৮৩ বছর চার মাসের চেয়ে বেশী সময় ধরে নেক আমল করার সাওয়াব অর্জন করতে পেরেছেন। আচ্ছা এর চেয়েও উত্তম কোন রাত কি তোমার জীবনে আসতে পারে?
ওয়াল্লাহি, এটা আপনার জীবনের সবচেয়ে উত্তম রাত হওয়া উচিত। এ রাতে যদি আপনি আল্লাহর ইবাদতে কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করেন, তবে আপনি ৮৩.৩৩ বছর ইবাদতের সমান সওয়াব পাবেন। এ রাতে আপনি আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহ এবং আলহামদুলিল্লাহ বললে যেন হাজার মাস ধরে বিরতিহীনভাবে আল্লাহর জিকির করলেন। এ রাতে যদি আপনি কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং তাওবা করেন তা যেন ৮৩.৩৩ বছর ধরেই তিলাওয়াত আর তাওবা করে গেলেন। এ রাতে যদি আপনি আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হন, তা যেন ৩০,০০০ দিন-ই আপনি আল্লাহ্র সামনে দণ্ডায়মান হলেন। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি?
আল্লাহর কসম আমাকে বলুন, যে এ রাতের বরকত মিস করেছে সে কি নিজেই নিজেকে প্রতারিত করেনি? যে ব্যক্তি এই রাতটি বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ কাজে অতিবাহিত করে, সে কি নিজেই নিজের ওপর জুলুম করে না? আরামের ঘুমকে পরিহার করুন। অলসতায় সময় অতিবাহিত না করে বিশেষ করে এই রাতে নিজের পা দুটোকে দৃঢ় করে বিনয়ের সাথে আপনার মহান রবের সামনে দণ্ডায়মান হোন। আর ৮৩.৩৩ বছরের সমান পুণ্য অর্জন করুন। কোনো বোধশক্তি-সম্পন্ন মানুষের দ্বারা এ রাতের এই সেরা সুযোগ হারানো সম্ভব না।

সেই রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে নেমে আসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ
এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। ১১৮
আয়াতে উল্লিখিত রূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হল জিবরাইল আ.। অনেক হাদিস গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এই পৃথিবীতে যে পরিমাণ পাথর কণা রয়েছে সে রাতে তার চেয়েও বেশিসংখ্যক ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং জিবরাইল আ.-ও তাদের সাথে পৃথিবীতে নেমে আসেন।
এত সুন্দর একটি বিষয়, আপনি কি কখনো তা কল্পনা করে দেখেছেন? এর মাধ্যমেই তো বোঝা যায় যে, এই রাতটি কত শান্তির। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যুর পর জিবরাইল আ. পৃথিবীতে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। কদরের রাতটি এমন একটি বিশেষ রাত যে রাতে জিবরাইল আ. পৃথিবীতে নেমে আসেন। ফেরেশতাগণ ইবাদতের ক্ষেত্রে সেরাটাই ভালোবাসেন। তারা এমন ইবাদাতকারী যারা কখনো আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন না।
لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
'তারা আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেন তা অমান্য করেন না এবং যা আদেশ করা হয় তাই পালন করেন। '১১৯
ফেরেশতাদের ইবাদতের জন্য রয়েছে বাইতুল মামুর। ফেরেশতাগণ সেখানে সকাল-সন্ধ্যা ইবাদতে মশগুল থাকেন। কিন্তু তবুও তারা ওই রাতে পৃথিবীতে নেমে আসেন।

টিকাঃ
[১১৩] সুরা কদর: ১।
[১১৪] সুরা আদ দুখান: ৩।
[১১৫] সুরা আদ দুখান: ৪।
[১১৬] সুরা কদর: ২।
[১১৭] সুরা কদর: ৩।
[১১৮] সুরা কদর-৪
[১১৯] সুরা তাহরীম:০৬

📘 দু আর মহিমা > 📄 কদরের রাতের কিছু নিদর্শন

📄 কদরের রাতের কিছু নিদর্শন


কদরের রাতটি হবে শান্তির রাত। প্রশান্তি হচ্ছে কদরের রাতের একটি নিদর্শন।
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা একবার লাইলাতুল কদর নিয়ে আলোচনা করছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কথা শুনছিলেন। পরে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা এ রাতকে মনে রাখবে তারা যেন এ রাতের চাঁদকে দেখে নেয়। যা দেখতে একটি থালার মতো হবে। অর্থাৎ ক্ষয় হয়ে যাওয়া চাঁদ। চাঁদ দেখতে হবে অর্ধেক থালার মতো।
উবাদা ইবনু সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লাইলাতুল কদর হবে পরিষ্কার আর স্বচ্ছ একটি রাত। দেখে মনে হবে যেন সে রাতে একটি উজ্জ্বল চাঁদ উঠেছে। এই কথাটা খুব মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন। এখানে উজ্জ্বলতা চাঁদ থেকে আসবে না। বরং এই রাতটা স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল হবে ফেরেশতাদের দুনিয়াতে আসা যাওয়ার কারণে। আল্লাহ তাআলা সে রাতে নুর দিয়ে দেবেন। হাদিসটিতে আরো বলা হয়েছে, কদরের রাত হবে একটি শান্ত এবং প্রশান্তির রাত। যা না হবে খুব ঠান্ডা, না হবে খুব গরম। আর সে রাত ফজরের আগ পর্যন্ত আকাশে কোনো তারা খসবে না। এগুলো হলো লাইলাতুল কদরের কিছু নিদর্শন।
কোনো কোনো আলিমদের মতে সেই রাতের বাতাস হবে স্থির। এছাড়াও অনেকে বলেন যে, কদরের রাতে কোনো কুকুর ডাকবে না। কিন্তু এসব কথার কোনো প্রমাণ নেই।

প্রতি বছরই লাইলাতুল কদর সম্পর্কিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি বিখ্যাত হাদিস নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের বলতে যাচ্ছিলেন যে কোন রাতটি কদরের রাত। যাওয়ার পথে তিনি দুটি লোককে ঝগড়া করতে দেখলেন। আর লাইলাতুল কদর কবে তা তিনি ভুলে গেলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি তোমাদেরকে বলতে যাচ্ছিলাম কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি। এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য রহমত এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দয়া যে, লাইলাতুল কদর কবে তা তিনি আমাদের জানাননি। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত যে, তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভুলিয়ে দিয়েছেন এবং আমাদের তা জানানো থেকে বিরত রেখেছেন। কীভাবে এটা রহমত হতে পারে? হ্যাঁ, এটা রহমত। যদি আমরা একটি নির্দিষ্ট রাতকে লাইলাতুল কদর হিসেবে জানতাম তাহলে আমরা নিজেরাই পুরো রামাদানকে অবহেলা করতাম। শুধু ওই একটা রাতের জন্য অপেক্ষা করতাম। আর ওই রাতে অল্প কিছু ইবাদত করে ঘুমিয়ে পড়তাম। কিন্তু তিনি বলেছেন, এটা দশ রাতের মধ্যে যে-কোনো একটি রাত। এর ফলে আমরা এই দশ রাতে অনেক বেশি সওয়াব অর্জন করতে পারি। এরপর আবার এটাকে ওই দশ রাতের এক বেজোড় রাতে বলে দিয়েছেন। এভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাতটিকে নিয়ে না এসে যদি বলা হত বছরের ৩৬৫ রাতের মধ্যে যে-কোনো রাতেই লাইলাতুল কদর হতে পারে। তবুও এই রাতটিতে ইবাদতের আশায় সাড়া বছর প্রত্যেক রাতে ইবাদত করা উচিত ছিল। কারন এই একটা রাতে আপনি যা আমল করবেন, যতটুকু করবেন সেটার জন্য আপনি ৩০ হাজার রাতের প্রতিদান পাবেন। আল্লাহ মাত্র ৫ রাতের কমিয়ে এনে আমাদের ওপর রহম করেছেন। আল্লাহ এটাকে শুধু রামাদান মাসেই কমিয়ে এনেছেন, এরপর রামাদানের শেষ দশদিনের বেজুর রাত্রির কোন এক রাতে।

একটা উদাহরণের দিকে লক্ষ করুন। আমি যদি বলি, আমি একটি কাগজের টুকরোর মধ্যে কোনো একটা তারিখ লিখে রাখব এবং সেটা লুকিয়ে রাখব, আর আমার লেখা ওই তারিখে কেউ যদি আমাকে এক টাকা দেয়, তাহলে এর বিনিময়ে আমার কাছ থেকে সে ৩০ হাজার টাকা পাবে। এ কথা শুনে যে-কোনো বুদ্ধিসম্পন্ন লোক কি করবে? কেউ যদি বোকাও হয় তবুও সে ৩৬৫ দিনের জন্য ৩৬৫ টাকা সংগ্রহ করবে। এরপর প্রতিদিন আমাকে এক টাকা করে দেবে। কারণ সে জানে এটা করলে সে ৩০,০০০ টাকা পাবে। কিন্তু এই কয়েক শত টাকার বিনিময়ে সে কি অর্জন করবে? ৩০,০০০ টাকা! এটাই হলো লাইলাতুল কদর। ৫টি বেজোড় রাতের কোনো এক রাতে আপনি যে কাজ করবেন তার জন্য ৩০,০০০ রাতের সমান প্রতিদান পাবেন।
আল্লাহর সাথে কৃপণতা করবেন না। হতে পারে এ রাতে আপনি যে বিপুল পরিমাণ সওয়াব অর্জন করবেন, সেটাই আপনাকে আপনার আখিরাতে সাফল্য এনে দেবে। হতে পারে আপনাকে আপনার আমলনামা ডান হাতে এনে দেবে। আর তখন আপনি আপনার পরিবারের কাছে দৌড়ে গিয়ে বলবেন,
'এই নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখো'। ১২১

টিকাঃ
[১২০] সুরা কদর: ০৫
[১২১] সুরা আল হাক্কাহ: ১৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00