📘 দু আর মহিমা > 📄 আপনার কুপ্রবৃত্তিকে শিকলবদ্ধ করুন

📄 আপনার কুপ্রবৃত্তিকে শিকলবদ্ধ করুন


আল্লাহ তাআলার বিশেষ একটি নিয়ামত হলো রামাদান মাস। রামাদান আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। কবরবাসীরা নিদারুণভাবে উদগ্রীব হয়ে থাকে, যদি তারা একটি রামাদান পেত! আমাদের মধ্যে যারা রামাদানকে অবহেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি তাদেরকে এর জন্য আফসোস করতে হবে।
রামাদানে যারা আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা পেয়ে সফলতা পেল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সকল সফল ব্যক্তিদের সফলতাকে একজন কৃতদাসের মুক্তির সাথে তুলনা করেছেন। এই দৃষ্টান্তটি কেন? তারা কী থেকে মুক্তি পেল? এটা বোঝার জন্য আপনাকে ফিকহ বুঝতে হবে। তালাক, বিয়ে এবং দাসমুক্ত করার ক্ষেত্রে কেউ বুঝে বলুক আর তামাশা করে বলুক; সে যা বলেছে তা আর ফিরিয়ে নেওয়ার উপায় নেই। কেউ বুঝে বা তামাশার ছলে স্ত্রীকে তালাক দিলে বা দাসকে মুক্ত করে দিলে তা কার্যকর হয়ে যায়। সে কথা আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। মানুষের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। যদি মানুষের এই সামান্য কথাই না ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে সর্বশক্তিমান মহা ক্ষমাশালী, মহা দয়ালু, মহা সম্মানিত আল্লাহ যদি আপনাকে একবার ক্ষমা করে দেন, আপনার কী ধারণা যে তিনি সেই কথা আবার ফিরিয়ে নেবেন? নাকি আপনাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন?

রামাদান এমন এক মাস যখন আপনার দিকে সব দিক থেকে ক্ষমা আসতে থাকে। এ মাসে ক্ষমা না পাওয়ার অর্থ হলো আপনি আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেননি। রামাদান শুরু হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর ক্ষমা অর্জন সম্পর্কে এই তিনটি হাদিস মনে রাখুন।
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، فَإِنَّهُ يُغْفَرُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
‘যে ব্যক্তি ইমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশায় রামাদানের সাওম পালন করবে আল্লাহ তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ ১০১
ইবনু হাজার আসকালানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইমান হলো আল্লাহ তাআলার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করার নাম। আর ইমান আনা আপনার আমার সকলের ওপর ফরজ। আর ইহতিসাব মানে একমাত্র আল্লাহর নিকট পুরস্কারের আশা করা। কোন পুরস্কার সম্পর্কে বলা হচ্ছে? আল্লাহর ক্ষমা। এই ক্ষমাই কি শেষ পুরস্কার? না এটা কখনোই শেষ পুরস্কার না। অনেকেই জাহান্নাম হতে মুক্তি পাবে। তাহলে এটাই কি শেষ পুরস্কার? না এখানেই শেষ নয়। প্রতিদিন বিশেষ কিছু মুহূর্ত আছে, যে মুহূর্তগুলোতে দু'আ কবুল হয়। প্রতিদিন আপনি পাহাড় পরিমাণ আমল করতে পারেন, আর একমাত্র আল্লাহই এসবের হিসাব রাখেন। প্রতিদিন রোজা রাখলে আপনি জাহান্নাম থেকে ৭০ বছর দূরে চলে যাবেন। যদি আপনি পুরো রামাদানে রোজা রাখেন তাহলে সত্তর এর সাথে ত্রিশ গুণ হিসাবে জাহান্নাম থেকে দুই হাজার একশত বছর দূরে চলে যাবেন।
তাই প্রথম হাদিস অনুযায়ী বলা যায়, যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইহতিসাবের সাথে সাওম পালন করে তবে সে ক্ষমা পাবে। দ্বিতীয় হাদিসটির শেষ অংশে একই কথা বলা হয়েছে কিন্তু প্রথম অংশটা ভিন্ন।
যদি আপনি বলেন যে, সাওম পালনের ক্ষেত্রে আপনার কোনো প্রকার ঘাটতি ছিল। তবে অন্য একটি উপায়ও আছে। আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার অন্য একটি সুযোগ রয়েছে। সেটি হলো রাতের ইবাদত যেটিকে আমরা তারাবিহ বলে থাকি। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
'যে ব্যক্তি ইমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশায় রামাদানে কিয়াম করবে তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হবে। ১০২
যদি আপনি বলেন যে, সাওম এবং রাতের কিয়াম (তারাবিহ) দুটিতেই কোনো প্রকার ঘাটতি ছিল। তাহলে আপনার জন্য তৃতীয় একটি সুযোগ রয়েছে। এটি হচ্ছে ভাগ্য রজনী (বা লাইলাতুল কদর) এবং এটি একাই আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া জন্য যথেষ্ট। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে ব্যক্তি ইমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশায় লাইলাতুল কদরে সালাত আদায় করবে তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হবে। ১০৩
তিনটি হাদিসই সহিহাইনে রয়েছে। এই তিনটি হাদিসের শেষে একই কথা বলা হয়েছে যে, আপনাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদি আপনি রামাদানের সাওম পালন করেন, রামাদানের রাতে তারাবিহ সালাত আদায় করেন এবং লাইলাতুল কদরে সালাত আদয় করেন। এই সকল ক্ষমার মধ্যমে আল্লাহ আপনাকে অনেক বেশি পুরস্কার প্রদান করে জান্নাতে সুউচ্চ মর্যাদা প্রদান করবেন। যদি আপনি আল্লাহর ক্ষমা না পান, তাহলে আপনি গাফেল ছিলেন। কিন্তু আপনি কি আল গাফুর (আল্লাহর) ক্ষমাকে ফাঁকি দিচ্ছেন। আপনি সব দিক থেকে আপনার দিকে ছুটে আসা রহমত ও ক্ষমাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এই ইহকালের জীবনে শান্তি এবং পরকালে জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আল্লাহর রহমত এবং ক্ষমা আপনার জন্য নিদারুণভাবে প্রয়োজন।
সুতরাং আল্লাহর ক্ষমা এবং উচ্চ মর্যাদা পাওয়ার এত এত সুযোগ যারা অবহেলায় হারায়, তাদেরকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং জিবরাইল আ. বদদু'আ করেছেন। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মিম্বারে উঠার সময় প্রতি ধাপে ধাপে বললেন আমিন, আমিন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি কেন আমিন বললেন? তিনি উত্তরে বললেন, জিবরাইল আ. আমার কাছে আসলেন এবং আল্লাহর কাছে দু'আ করলেন, আল্লাহ তার নাক ধুলোয় মেখে দিক যে রামাদান পেল কিন্তু আল্লাহর ক্ষমা আদায় করতে পারল না। তাই আমি বললাম, আমিন। ১০৪

রামাদানের শ্রেষ্ঠত্বটি হলো, রামাদানে আপনি যে আমলই করেন না কেন, তার জন্য রয়েছে অনেক পুরস্কার আর অনেক পুণ্য। গত এগার মাসে অবহেলায় আপনি যে সুযোগগুলো হারিয়েছেন তা পূরণ করার এটাই সময়। আপনি যতটুকু কুরআন তিলাওয়াত করবেন, যতটুকু সালাত আদায় করবেন, যতটুকু জিকির করবেন, তার জন্য অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে পুণ্য অর্জন করতে পারবেন। এই মাসের ইবাদতের পুণ্য এত বেশি যে আমি আপনি কেউ-ই গুণে তা শেষ করতে পারব না। কারণ সাওম শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য এবং এর প্রতিদানও আল্লাহ তাআলাই দিবেন। যেমন হাদিসে কুদসিতে এসেছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, 'সাওম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।' জান্নাতুল ফিরদাউসের শিখরে পৌঁছানোর পথটি হলো, আল্লাহর ইবাদতপূর্ণ পথ। যখন আপনি এ পথে চলতে শুরু করবেন (যা শুরু করার এখনি সময়), তখন আপনি সমতল ভূমি, উপত্যকা আর পাহাড়-পর্বত দেখতে পাবেন। অর্থ্যাৎ এ পথে অনেক কষ্ট রয়েছে। ডানে-বামে দস্যু ও দুর্বৃত্তদের দেখতে পাবেন। এই সকল দুর্বৃত্ত, দস্যু আর চোরেরা এই পথে চুরি-ডাকাতির কাজে লেগে থাকে। তারা আপনার টাকা পয়সা চায় না। তারা আপনার ধন-সম্পদ বা জীবন নিতে চায় না। তারা এর চেয়েও মূল্যবান কিছু নিতে চায়। তারা আপনার নেক আমলগুলো কেড়ে নিতে চায়। তারা চায় আপনাকে দ্বীন, ইমান এবং আমলের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে। তাই এ পথের পথিকদের পরিত্রাণ পেতে এবং নিরাপদে আপন গন্তব্যে পৌঁছতে সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রয়োজন। তার এমন একটি দিক নির্দেশনা প্রয়োজন, যেখানে বলা থাকবে কোন পথ নিরাপদ? কোথায় দুর্বৃত্তরা ওত পেতে বসে আছে ? কোন জায়গায় দ্রুত চলতে হবে ? এবং কখন নির্দিষ্ট গতি বজায় রাখতে হবে।?
রামাদান একটি বরকতময় মাস এবং পরিশ্রম করার একটি উপযুক্ত সময়। সুতরাং এমাসে আমাদেরকে ইবাদতের ক্ষেত্রে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে এবং একে অপরকে ইবাদত করার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। কারণ একে অপরকে হক বা সত্যের পথে আহ্বান করা এবং ইবাদতে উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। যদিও এটা আমাদের পুরো বছরই করতে হবে কিন্তু রামাদানে একটু বেশি করা প্রয়োজন। যেমন কুরআনে এসেছে,
'তোমরা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দাও ও ধৈর্যধারণে পরস্পরকে উদ্বুদ্ধ করো। '১০৫

আল্লাহ তায়ালা রামাদান মাসকে তো রহমতের মাস হিসেবে নাজিল করেছেন। অনেকেই সে উদ্দেশ্য থেকে দূরে চলে যায়। অনেক জায়গায় আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার চেয়ে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে যাওয়াই রামাদানের একটি সংস্কৃতি হয়ে গেছে। রামাদানের কী উদ্দেশ্যে ছিল, তা আমরা ভুলে গেছি। আমরা অনেকেই কোনো ইবাদত না করেই রামাদান পার করে দেই। আবার কেউ শুধু নফল ইবাদত করে। অনেকে শুধু গুনাহই করে। খুব কম মানুষই সঠিক পথে থাকে। সব বাধা এড়িয়ে তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকটবর্তি হওয়ার দিকে এগিয়ে যায়।
দুটি কারণে মানুষ গুনাহ করে থাকে, তার একটি হল শয়তান অপরটি নফস। রামাদানে শয়তানকে শিকলবদ্ধ করে রাখা হয়। কেউ যদি রামাদানেও পাপ কাজে জড়িয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে তার নফস হল 'আল আম্মারাহ'। যা খারাপ শয়তানের চেয়েও খারাপ। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'নিশ্চয়ই নফস খারাপ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।'১০৬ সুতরাং নফসকে নিয়ন্ত্রণ এবং পরাজিত করার এখনই সময়। শয়তানকে যেমন (শিকলবদ্ধ করা হয়েছে, তেমনি আপনার কুপ্রবৃত্তিকেও শিকলবদ্ধ করুন) সেভাবে রামাদান হলো ইমানের জন্য ঔষধ। কারণ সময়ের সাথে সাথে ইমানের প্রতি দূর্বলতা আসে। যেমন, কাপড়কে প্রতিবার ধুয়ে পড়ার পর কোনো একসময় তা পুরানো বা মলিন হয়ে যায়। তেমনি কোনো ধাতব বস্তুকে অধিক সময় ধরে বাতাসে ফেলে রাখলে অক্সাডাইশন-এর মাধ্যমে তাতে মরিচা পরে যায়। আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'কাপড় যেমন পুরানো হয়ে যায় তেমনি অন্তরের ইমানও পুরানো হয়ে যায়।
সুতরাং আল্লাহর কাছে আমাদের দু'আ করতে হবে যেন আল্লাহ তাআলা আমাদের পুরানো ইমানকে পুনরায় নতুন করে দেন। আপনি আল্লাহর নিকট দু'আ করবেন এবং সে অনুযায়ী আপনাকে আমলও করতে হবে। রামাদান আপনার অন্তরের ময়লা দূর করে দেয়। কাপড় সেলাই করার মতোই রামাদান আমাদের ইমানকে পুনরায় নতুন করে এবং ইবাদতের জন্য উজ্জীবিত করে। নফসের সাথে লড়াই করে তাকে শিকলবদ্ধ করুন ঠিক যেভাবে শয়তানকে শিকলবদ্ধ করা হয়। যেহেতু পানাহার ও স্ত্রী সহবাস এর মতো হালাল কাজগুলো থেকেও আপনি রামাদানে বিরত থাকেন, তাহলে সাড়া বছর যেসব কাজ হারাম তা থেকে কেন বিরত থাকবেন না? অবশ্যই আপনাকে সেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্কের এ গুরুত্বপূর্ণ ধারণাটি আপনাকে বুঝতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি আপনাকেই শুরু করতে হবে প্রথমে। আর এজন্য প্রথম পদক্ষেপ আপনাকেই নিতে হবে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, বান্দা আমাকে যেমন ধারণা করে আমি তেমনি। যদি সে আমাকে কোনো মজলিসে স্মরণ করে, তাহলে আমি এর চেয়ে উত্তম মজলিসে তাকে স্মরণ করি। সে যদি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তাহলে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, তাহলে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।'১০৭
মূলত শুরুটা আপনাকেই করতে হবে, আপনাকেই আল্লাহর দিকে আগে এগিয়ে যেতে হবে। সুতরাং আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্কটি শুরু করুন। আর রামাদান হলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার সবচেয়ে উত্তম সময়। যেমন শীত আসলে গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করতে হয়, তেমনিভাবে আল্লাহর প্রতি আপনার ইচ্ছাকে আরো উদ্দীপ্ত করতে হবে। আপনি এই রামাদান মাসে যে ইবাদত করবেন তা যেন আপনার জন্য আনন্দের হয়। আপনি যেন তা উপভোগ করতে পারেন। আপনি যদি আল্লাহর প্রতি আপনার আকাঙ্ক্ষাকে উদ্দীপ্ত না করেন, তাহলে আপনি আপনার ইবাদত উপভোগ করতে পারবেন না। আমরা চাই না যে আপনি শুধু আল্লাহর ইবাদত করুন। বরং আমরা চাই আপনি ইবাদতগুলোকে উপভোগ করুন।
যারা বাধ্য হয়ে অনিচ্ছায় সাওম পালন করে আর যার স্বেচ্ছায় সাওম পালন করে আর উপভোগ করে এই ধরনের লোকদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এরা কখনো সমান না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقُ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ ، ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ
'তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে এগিয়ে গেছে। এটাই মহা অনুগ্রহ। '১০৮
আর যারা ওপরের বর্ণনা অনুযায়ী তৃতীয় পর্যায়ের তারাই সর্বোত্তম। তারা সাওম পালন করে এবং সাওম পালন করে আনন্দ পায় এবং তা উপভোগ করে। এদেরকে বলা হয় 'সাবিকুন বিল-খায়রাত' তারা সব সময় ভালো কাজে অগ্রসর থাকে। কিছু লোক আছে যারা তারাবিহ সালাত আদায় করে, কিয়াম করে আর ভাবতে থাকে; কখন ইমাম সাহেব সালাম ফিরাবে। আরো কিছু লোক আছে যারা শুরু করতে হবে তাই করে অর্থাৎ তারাবিহ পড়তে হবে তাই পড়ে। সাওম পালন করতে হয় তাই রাখে। কিন্তু এসবের বাহিরে অনেক লোক আছে, যারা আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত থাকে। কিছু লোক আছে, যারা ভাবে ইবাদত তো করতেই হয়, সবাই করছে তাই আমরা করছি। আর কিছু লোক এমন যারা আল্লাহর ইবাদত করে, রামাদানের সিয়াম পালন করে, কিয়ামুল লাইল করে উপভোগ করে যদিও তাদের পেটে ক্ষুধার যন্ত্রণায় গোঁ গোঁ শব্দ করতে থাকে। কারণ, তার শরীরে কষ্ট হলেও তার মন মহান রবের নিকট ইবাদতগুলো সুন্দরভাবে করার ধ্যানে ব্যস্ত থাকে। আর এসবের মাঝেও অনুধাবন করে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার গভীরতা। সে মহান রবের জন্য তার সকল ইচ্ছেগুলোকে বাদ দিয়েছে। যদিও তার পেটে ক্ষুধার যন্ত্রণায় গোঁ গোঁ শব্দ হচ্ছে, তবুও তার হৃদয় হাসছে এটা ভেবে যে—এসব ইবাদত তাকে জাহান্নাম থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাচ্ছে এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের কত নিকটে করে দিচ্ছে।

টিকাঃ
[১০১] সহিহ মুসলিম: ৭৪০।
[১০২] সহিহ বুখারি-৩৭
[১০৩] সহিহ বুখারি-২০১৪
[১০৪] মুস্তাদরাকে হাকিম: ৭২৫৬। সনদ: সহিহ।
[১০৫] সুরা আল-আসর।
[১০৬] সুরা ইউসুফ: ৫৩।
[১০৭] সুরা গাফির: ৬০।
[১০৮] সুরা আল ফাতির: ৩২।

📘 দু আর মহিমা > 📄 তিনি অনুরোধে সাড়া দেন

📄 তিনি অনুরোধে সাড়া দেন


আপনি যদি কুরআনের দিকে তাকান, সুরা বাকারায় রামাদান নিয়ে পরপর অনেকগুলো আয়াত আছে,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
'হে ইমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমার পূর্ববর্তী লোকদের ওপর। যতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। ১০৯
এবং তৃতীয় আয়াতে বলা হয়েছে, 'রোজা রাখতে হবে কতগুলো নির্দিষ্ট দিনে।'১১০
এখানে প্রথম তিনটি আয়াতে রোজার ব্যাপারে বলা হয়েছে। হঠাৎ করেই চতুর্থ আয়াতে অন্য বিষয় নিয়ে বলা হয়েছে। এখানে দু'আ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
'আর (হে মুহাম্মদ) আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে তখন বলে দিন, নিশ্চয়ই আমি রয়েছি সন্নিকটে।'১১১
এরপর পঞ্চম আয়াতে বলা হয়েছে, রামাদানের নিয়মকানুন সম্পর্কে। 'রোজার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। ১১২

এখানে সাওমের বিষয় ধারাবাহিকভাবে থাকা কয়েকটি আয়াতের মাঝে দু'আ সম্পর্কে আয়াত কেন ছিল? আল্লাহ এখানে কেন অন্য প্রসঙ্গের এমন একটি আয়াত রাখবেন? এটি কি সত্যিই অপ্রাসঙ্গিক? অসম্ভব। কুরআনের প্রতিটি দৃষ্টিভঙ্গিই নিখুঁত। দু'আর গুরুত্ব সম্পর্কে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সাওমের আলোচনায় তা আনা হয়েছে এবং রামাদান হচ্ছে দু'আর মাস।
দু'আ কবুল হওয়ার বিশেষ কিছু সময় রয়েছে। তার মধ্যে রামাদান একটি। এই আয়াতটি আরো গভীরভাবে দেখুন-
'আর আমার বান্দারা যখন আপনাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে, তখন বলে দিন নিশ্চয়ই আমি রয়েছি সন্নিকটে। আমি দু'আকারীর দু'আর জবাব দিই যখন তারা আমার কাছে দু'আ করে।'
“এবং তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে”, আর “এবং যখন তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে”। কথাটি পবিত্র কুরআনে চৌদ্দবার এসেছে। 'ইয়াস আলুনাকা' এসেছে ১৩ বার এবং 'ইযা সাআলাকা' এসেছে একবার। প্রতিবার আল্লাহ যখন বলেন, 'এবং তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে'। এ কথাটির পরে কুল (তাদের বলে দাও) কথাটি আছে। শুধুমাত্র এই আয়াতটিতে বলা হয়নি। এখানে দু'আর কথা বলা হয়েছে। সব জায়গায় কুল আছে, শুধুমাত্র দু'আর জায়গাটি ব্যতীত। 'যদি তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে' এর পরে কোনো কুল (বলে দাও) নেই। এর মাধ্যমে বিশুদ্ধ তাওহিদের একটি বার্তা আপনার কাছে দেওয়া হয়েছে। সেটা হলো আপনার এবং আল্লাহর মাঝে সরাসরি একটি সম্পর্ক। না আছে কোনো বার্তাবাহক, না আছে কোনো ওলি। এমনকি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও নন। পূর্ণাঙ্গ তাওহিদ, বিশুদ্ধ তাওহিদ আর এ কারণেই এখানে কোনো কুল নেই।

টিকাঃ
[১০৯] সুরা বাকারা: ১৮২
[১১০] সুরা বাকারাহ: ১৮৫।
[১১১] সুরা বাকারাহ: ১৮৬।
[১১২)সুরা বাকারাহ: ১৮৭।

📘 দু আর মহিমা > 📄 ভাগ্য রজনী (লাইলাতুল কদর)

📄 ভাগ্য রজনী (লাইলাতুল কদর)


রামাদানে আল্লাহ তার বান্দার জন্য অনেক সুযোগ তৈরী করে দেন যাতে বান্দা তার গুনাহগুলো মাফ করিয়ে নিতে পারে। লাইলাতুল কদর সেইসকল সুযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইমানের সাথে সাওয়াবের আশা নিয়ে লাইলাতুল কদরে সালাত আদায় করবে, তার সমস্ত গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে।'

📘 দু আর মহিমা > 📄 লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব

📄 লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব


পবিত্র কুরআনে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে ৫টি আয়াতের একটি সম্পূর্ণ সুরা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তার নাম করণও করা হয়েছে 'সুরাতুল কদর নামে।' এছাড়া সুরা দুখানের শুরুতে প্রায় চার থেকে ছয়টি আয়াতে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলা হয়েছে। সুতরাং এখানে রয়েছে পবিত্র কুরআনের প্রায় ১১টি আয়াত এবং পূর্ণাঙ্গ সুরা। যাতে সেই রাত তথা কদর বা ভাগ্য রজনী সম্পর্কে বলা হয়েছে।
এটি কোনো সাধারাণ রাত নয়। এটি এমন একটি রাত যে রাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল।
আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমি কুরআনকে কদরের রাতে নাজিল করেছি।'১১৩ অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমি একে অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে।'১১৪
কেন এটিকে লাইলাতুল কদর বলা হয়? এর দুটি কারণ রয়েছে। অথবা দুটির কোন একটির কারণে এই রাতের নাম লাইলাতুল কদর রাখা হয়েছে। এক. এটির মূল শব্দ কদর। যার অর্থ মূল্য বা গুরুত্ব। ভাগ্য রজনী অত্যন্ত মূল্যবান এবং গুরুত্বপূর্ণ তাই এর নাম রাখা হয়েছে লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত্র।
দ্বিতীয় কারণ হলো, কদর নিয়তি/ভাগ্য থেকে আসে। এর অর্থ হলো আপনার ভাগ্য ওই রাতে লিখা হয়।
কেউ কেউ হয়তো বলবেন, আপনি আমাদেরকে বিভ্রান্ত করছেন। আপনিই তো আমাদেরকে বলেছেন, আকাশ পৃথিবী তৈরির অনেক আগেই আমাদের ভাগ্য লেখা হয়েছে। কিন্তু এখন বলছেন এটি লাইলাতুল কদরে লেখা হয়। আপনি মনস্থির করুন। দেখুন কীভাবে এটি হয়? এটি আকাশ ও নভোমণ্ডল তৈরির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই লেখা হয়েছে এবং এই বিশেষ রাতে ওই বছরের কাজগুলো ফেরেশতাদের হাতে দেওয়া হয়।
যেমন আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে কারিমে বলেছেন,
فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
'এ রাতে প্রতিটি প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থির করা হয়।'১১৫
পুরো বছরের জন্য কাজগুলো ফেরেশতাদের দেওয়া হয়। কারা এ বছর মৃত্যুবরণ করবে? কারা ধন-সম্পদ দ্বারা সমৃদ্ধ হবে, কারা দরিদ্র হবে এসব কিছু। এ রাতে ঘুমানোর কোনো সময় নেই। এ রাতে আপনার রিজিক লেখা হবে। ভালো খারাপ সবকিছু ফেরেশতাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তাই এ রাতে আল্লাহর রহমতের জন্য প্রার্থনা করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ
'আর তুমি কি জানো মহিমান্বিত রাত কী?'১১৬
যদি এমন হয় আমি মূল্যবান কোনোকিছু কিনে আনলাম। আর আপনি আমার কাছে সেই জিনিসটি চাইলেন। তখন আমি যদি বলি, আপনি কি জানেন এটার মূল্য কত? প্রশ্নটি শোনার সাথে সাথেই আপনার মনে হবে যে, জিনিসটির মূল্য সত্যিই খুব বেশি যা বর্ণনা করা যায় না।
ঠিক তেমনিভাবে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তার মর্জাদা অধিক হওয়ার কারনে আল্লাহ তাআলাও প্রশ্ন করেছেন যে, আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি? অর্থাৎ আপনি কি জানেন এ রাতে আপনি কি পেতে যাচ্ছেন? এর পরের আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলে দিচ্ছেন,
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
'কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।'১১৭
এ রাতের ইবাদত হাজার মাস অর্থাৎ ৮৩ বছর ৪ মাসের চেয়েও উত্তম। আমার ভাই ও বোনেরা! এটাই আপনাদের জন্য উত্তম রাত। সৌভাগ্য অর্জনের রাত। আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে ক্ষমা লাভের রাত।
যদি এমন প্রশ্ন করা হয় যে, কোনটি তোমার জীবনের শ্রেষ্ট রাত? তখন আপনি কি বলবেন? কেউ কেউ হয়তো বা বলবে তার বাসর রাত, কেউ হয়তো বলবে তার গ্রাজুয়েশনের রাত অথবা যে রাতে তাদের সন্তান জন্ম নিয়েছিল সেই রাত। এসব ভালো, খারাপ জিনিস নয়। কিন্তু এগুলো আপনার জীবনের শ্রেষ্ট রাত হতে পারে না। বরং আপনার জীবনের শ্রেষ্ট রাত হল লাইলাতুল কদরের রাত। কারণ এই এক রাতে আপনি আপনার গুনাহগুলো ক্ষমা করাতে পেরেছেন, হাজার মাস তথা ৮৩ বছর চার মাসের চেয়ে বেশী সময় ধরে নেক আমল করার সাওয়াব অর্জন করতে পেরেছেন। আচ্ছা এর চেয়েও উত্তম কোন রাত কি তোমার জীবনে আসতে পারে?
ওয়াল্লাহি, এটা আপনার জীবনের সবচেয়ে উত্তম রাত হওয়া উচিত। এ রাতে যদি আপনি আল্লাহর ইবাদতে কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করেন, তবে আপনি ৮৩.৩৩ বছর ইবাদতের সমান সওয়াব পাবেন। এ রাতে আপনি আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহ এবং আলহামদুলিল্লাহ বললে যেন হাজার মাস ধরে বিরতিহীনভাবে আল্লাহর জিকির করলেন। এ রাতে যদি আপনি কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং তাওবা করেন তা যেন ৮৩.৩৩ বছর ধরেই তিলাওয়াত আর তাওবা করে গেলেন। এ রাতে যদি আপনি আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হন, তা যেন ৩০,০০০ দিন-ই আপনি আল্লাহ্র সামনে দণ্ডায়মান হলেন। আপনি কি জানেন লাইলাতুল কদর কি?
আল্লাহর কসম আমাকে বলুন, যে এ রাতের বরকত মিস করেছে সে কি নিজেই নিজেকে প্রতারিত করেনি? যে ব্যক্তি এই রাতটি বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ কাজে অতিবাহিত করে, সে কি নিজেই নিজের ওপর জুলুম করে না? আরামের ঘুমকে পরিহার করুন। অলসতায় সময় অতিবাহিত না করে বিশেষ করে এই রাতে নিজের পা দুটোকে দৃঢ় করে বিনয়ের সাথে আপনার মহান রবের সামনে দণ্ডায়মান হোন। আর ৮৩.৩৩ বছরের সমান পুণ্য অর্জন করুন। কোনো বোধশক্তি-সম্পন্ন মানুষের দ্বারা এ রাতের এই সেরা সুযোগ হারানো সম্ভব না।

সেই রাতে ফেরেশতারা পৃথিবীতে নেমে আসেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ
এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। ১১৮
আয়াতে উল্লিখিত রূহ দ্বারা উদ্দেশ্য হল জিবরাইল আ.। অনেক হাদিস গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এই পৃথিবীতে যে পরিমাণ পাথর কণা রয়েছে সে রাতে তার চেয়েও বেশিসংখ্যক ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং জিবরাইল আ.-ও তাদের সাথে পৃথিবীতে নেমে আসেন।
এত সুন্দর একটি বিষয়, আপনি কি কখনো তা কল্পনা করে দেখেছেন? এর মাধ্যমেই তো বোঝা যায় যে, এই রাতটি কত শান্তির। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যুর পর জিবরাইল আ. পৃথিবীতে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। কদরের রাতটি এমন একটি বিশেষ রাত যে রাতে জিবরাইল আ. পৃথিবীতে নেমে আসেন। ফেরেশতাগণ ইবাদতের ক্ষেত্রে সেরাটাই ভালোবাসেন। তারা এমন ইবাদাতকারী যারা কখনো আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন না।
لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
'তারা আল্লাহ তাআলা যা আদেশ করেন তা অমান্য করেন না এবং যা আদেশ করা হয় তাই পালন করেন। '১১৯
ফেরেশতাদের ইবাদতের জন্য রয়েছে বাইতুল মামুর। ফেরেশতাগণ সেখানে সকাল-সন্ধ্যা ইবাদতে মশগুল থাকেন। কিন্তু তবুও তারা ওই রাতে পৃথিবীতে নেমে আসেন।

টিকাঃ
[১১৩] সুরা কদর: ১।
[১১৪] সুরা আদ দুখান: ৩।
[১১৫] সুরা আদ দুখান: ৪।
[১১৬] সুরা কদর: ২।
[১১৭] সুরা কদর: ৩।
[১১৮] সুরা কদর-৪
[১১৯] সুরা তাহরীম:০৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00