📘 দু আর মহিমা > 📄 অন্তরের আমলসমূহ

📄 অন্তরের আমলসমূহ


সর্বশেষ বিষয় হলো আপনার অন্তরের আমল বা অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা খুব দীর্ঘ। পুরো বিষয়টি খুব দীর্ঘ কিন্তু আমরা এখানে খুব ছোট্ট একটি সাড়াংশ আলোচনা করব। যেমন: দু'আ করার পূর্বে আল্লাহর কাছে তাওবা করুন। অন্যের হক আদায় করুন। পূর্ণ মনোযোগ সহকারে আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হোন। দান করুন এবং আল্লাহর প্রতি আশ্বস্ত থাকুন যে, আল্লাহ আপনাকে হতাশ করবেন না। আল্লাহ বলেছেন, চাও তাহলে আমি দেব এবং তিনি অবশ্যই দেবেন।

📘 দু আর মহিমা > 📄 দু‘আ কবুলের ঘটনা

📄 দু‘আ কবুলের ঘটনা


আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি একবার মদিনায় গেলাম। তখন সেখানে খরা চলছিল। লোকেরা বাইরে এসে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইস্তিসকা অর্থাৎ বৃষ্টির জন্য দু'আ করলেন। একদিন আমি মসজিদে কালো এক লোকের পাশে বসলাম। তার পড়নে ছিল খাস কাপড় (এটা উট অথবা বকরির পশম থেকে তৈরি একধরনের খসখসে কাপড়)। লোকজন অনেক আগেই চলে গিয়েছে। তাদের দু'আ কবুল হয়নি। আমি এই কালো লোকটির পাশে মসজিদে বসেছিলাম। লোকটি তার কোমর একটি কাপড় দিয়ে পেচিয়ে মসজিদের কাঁঠের সাথে বেধে রেখেছিল। তিনি তার দু'আয় বলছিলেন, হে আমার রব! আপনি পাপীদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করছেন না, ইয়া হালিম, ইয়া আল্লাহ, ইয়া হালিম, ইয়া আল্লাহ, ইয়া হালিম, ইয়া আল্লাহ। যারা আপনার কাছে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু আশা করে না তাদেরকে বৃষ্টি দেন। এখন বৃষ্টি দেন, এখন, এখন, এখন। আস সাআহ, আস সাআহ, আস সাআহ। তিনি এভাবেই দু'আ করতে থাকলেন যতক্ষণ পর্যন্ত না চারদিক থেকে মেঘ এসে গর্জন করে বৃষ্টি হতে লাগল। বড়ো বড়ো আলেমগণ কিছু সময়ের জন্য ইস্তিসকা আদায় করলেন। ধনী লোক, গরিব লোক, নেতা আর সাধারণ সবাই দু'আ করেছিল। কিন্তু একজন অবহেলিত লোক। যার পোশাকটি ছিল খুবই পুরোনো। তিনি যখন হাত তুলে দু'আ করলেন, তখন আল্লাহ দু'আ কবুল করে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন।
আমার ভাই ও বোনেরা, মুসলিম উম্মাহর একজন সদস্য হিসেবে মাজলুম ও মুসলিমদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলা করার জন্য আপনিও দায়ী। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, কাছের মানুষের জন্য তো দু'আ করবেন-ই, এর সাথে মাজলুম এবং নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য প্রতিদিন দু'আ করবেন। দু'আ করবেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদরত মুজাহিদদের জন্য। যাতে অন্তত আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হলে বলতে পারেন যে, হে আল্লাহ! আমি তাদের জন্য দু'আ করেছিলাম। এ ঘটনার পর ইবনুল মুবারক দেখা করতে গেলেন ফুযাইল ইবনু ইয়ায এর সাথে। তারা দুজনই খুব বড়ো আলেম এবং ইমাম ছিলেন। ফুযাইল ইবনু ইয়ায, আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহি. এর মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইবনু মুবারক ! আপনার কী হয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন, এমন অনেক বিষয় আছে যেসব বিষয়ে লোকেরা আমাদের হারিয়ে দিচ্ছে। তারপর তিনি তার নিকট সেই কালো লোকটির সাথে ঘটা সম্পূর্ণ ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। ঘটনাটি শোনার পর তারা দুজনেই অত্যন্ত দুঃখের সাথে চিন্তা করতে লাগলেন যে, কীভাবে মানুষ গোপনে ইবাদত করে তাদেরকে হারিয়ে দিচ্ছে। যখন তিনি ফুযাইল ইবনু ইয়াযকে ঘটনাটি বলছিলেন, তখন ফুযাইল ইবনু ইয়ায চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন।

📘 দু আর মহিমা > 📄 অন্যের কাছে দু‘আ চাওয়া কি জায়েজ?

📄 অন্যের কাছে দু‘আ চাওয়া কি জায়েজ?


আপনার প্রশ্নের সহজ উত্তরটি হলো যদি কেউ অন্যের কাছে বা জীবিত কারো কাছে নিজের জন্য দু'আ চায়, তবে তা শিরক নয়। যদি আমি আপনাদের বলি যে, ভাইয়েরা আমার জন্য দু'আ করবেন। প্রথমত, এটা শিরক নয়। দ্বিতীয়ত, যদি আমার জন্য দু'আ করতে বলি তবে তা পাপও নয়। তাছাড়া তালাবাত আল ইলম অনুযায়ী কোনটি সর্বোত্তম, এর শর্তগুলো কী কী এবং উলামাগণ এ সম্পর্কে কি বলেছেন তা সাগ্রহে শেখার চেষ্টা করব। উলামারা এ সম্পর্কে বলেছেন, এটি এমন এক বিষয় যা অভ্যাসগতভাবে করা হয়। উদাহরণস্বরুপ, রুকইয়াহ। এটা কি জায়েজ? অবশ্যই রুকইয়াহ জায়েজ। এটা হারাম নয়। তবে অন্যকে রুকইয়া করে দিতে না বলাটাই ভালো। সেরকম দু'আর ক্ষেত্রেও একই।
এক হাদিসে সত্তর হাজার লোকের কথা বলা হয়েছে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের বিশেষ কিছু গুণের কারণে। এই দলে থাকার একটি বিধি হচ্ছে-তারা অন্যের কাছে রুকইয়াহ করে দিতে বলে না।
আপনি যদি কারো কাছ থেকে রুকইয়াহ নেন, তবে কি তা জায়েজ? এটা জায়েজ। তাছাড়া আপনি যদি উচ্চতর পদমর্যাদায় থাকতে চান, তবে আপনাকে উচ্চতর মানে অধিষ্ঠিত হতে হবে। উচ্চতর পদমর্যাদা হচ্ছে প্রথম দলটি যাতে সত্তর হাজার লোককে কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং এর মধ্যে অবশ্যই আরো কিছু বর্ণনা আছে যা অন্তর্ভুক্ত হবে।
কিছু বর্ণনার সাথে দু'আর খুব মিল রয়েছে। আপনি যদি কাউকে দু'আ করতে বলেন, তখন আপনার উদ্দেশ্য থাকে নিজের কল্যাণ লাভ করা। দু'আর প্রতি উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে যদি কাউকে দু'আ করতে বলেন, তবে আপনিও এর জন্য সওয়াব লাভ করবেন। যদি আপনার উদ্দেশ্য থাকে তার উপকার করা, তবেও আপনি এর জন্য সওয়াব লাভ করবেন। আপনি কীভাবে তাকে উপকৃত করবেন? যদি আপনি তাকে দু'আ করতে বলেন। তবে আপনি একটি ইবাদত করানোর মাধ্যমে তার উপকার করছেন। দু'আ একটি ইবাদত। যখন আপনি তাকে বলছেন যে আমার জন্য দু'আ করবেন। তখন আপনি তাকে একটি ইবাদত করার জন্য উৎসাহিত করছেন। যেহেতু আমরা বলি দু'আ একটি ইবাদত, সুতরাং আপনি তাকে একটি ইবাদত পালন করার জন্য উৎসাহিত করেছেন এবং এটি ভাইটির জন্য দুটি সুন্নাহর একটি ইবাদত। আর আপনি সওয়াব পাবেন তাকে একটি ইবাদতে উৎসাহিত করার জন্য।
যখন আপনি কারো জন্য দু'আ করেন, ফেরেশতারা তখন বলতে থাকে আপনারও অনুরূপ হোক। আল্লাহ আপনার দু'আকে কবুল করুন। যখন আপনার উদ্দেশ্য থাকে কারো উপকার করা তখন ফেরেশতারাও বলতে থাকেন, আপনারও তা হোক।
যখন আপনি কোনো মুসলিমের জন্য দু'আ করেন, তখন তার প্রতি এটা ইহসান হয়। সুতরাং আমি যদি কোনো মুসলিম ভাইকে আমার বা অন্য কারোর জন্য দু'আ করার জন্য তৈরি করি, তবে সম্ভবত পুরষ্কৃত হবো ইনশাআল্লাহ।

কাউকে দু'আ করতে বলার উদ্দেশ্যটি যদি কেবল ব্যক্তিগত কল্যাণে হয়, তবে তা কাউকে করতে না বলাটাই ভালো। কারণ এটা অনেক সময় মানুষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্যের ওপর নির্ভরতার দিকে পরিচালিত করে। অনেকে নিজের প্রতি অবহেলা করতে পারে, যখন সে জানবে যে কেউ তার জন্য দু'আ করবে। এই সময়ে বা এই যুগে কেউ যদি বলে আমার জন্য দু'আ করবেন, তখন অনেকে অহংকারের বশে নিজেকে গর্বিত বা অহংকারী মনে করতে পারে।
উমর ইবনুল খাত্তাব এবং অন্যান্য সাহাবি, তাবেয়িনরা তাদেরকে দু'আ করতে বললে অপছন্দ করতেন। তারা বলতেন আমরা কি নবি? তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে এটা নবিদের একটি গুণ। তারা ছিলেন বিনয়ী এবং তারা কখনো আল্লাহর সাথে নম্রতা ত্যাগ করতে চাইতেন না।
ইবনু জারীর হতে বর্ণিত, যখন সা'দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু দামেস্ক গিয়েছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, আমার জন্য দু'আ করবেন আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন। সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুক। তিনি প্রথম লোকটিকে বললেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুক। অন্য একজন লোক আসল এবং সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করতে বলল। আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করে দেন। সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু এবার উত্তরে বললেন, আল্লাহ আপনাকে এবং ওই লোকটিকে যিনি আপনার পূর্বে এসেছিল, তাকে ক্ষমা না করুক। আপনাদের কাছে কি আমাকে রাসুল মনে হয়?
আল ই-তিসাম গ্রন্থে, আশ শাতিবি এই বক্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন, যখন তিনি দেখলেন যে, দু'আ চাওয়া ছিল একটা ব্যতিক্রমধর্মী অনুরোধ এবং লোকজন ধীরে ধীরে জড়ো হতে শুরু করল, তিনি বিষয়টি ভিন্নভাবে বুঝেছিলেন, লোকজন ধীরে ধীরে জড়ো হতে শুরু করল, তিনি বিষয়টি ভিন্নভাবে বুঝেছিলেন, লোকজন হয়তো ভাবতে পারে তার অনেক দূরদর্শিতা রয়েছে।
ইবনু জারির তাবারি একই রকম আরো একটি গল্প বর্ণনা করেছেন যে, এক লোক হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার জন্য দু'আ করতে বললেন। হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা না করুক। সা'দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর গল্পটির মতোই। তিনিও সম্ভবত চাননি যে মানুষজন ভাবুক যে তিনি খুব উচ্চমর্যাদায় আছেন। তিনি চাননি যে, লোকজন এটাকে কোনো ট্রেন্ড বা প্রথা বানিয়ে ফেলুক।
আল খাতিব তার গ্রন্থ আত তাখলিস এ বর্ণনা করেছেন যে, উবাইদুল্লাহ আবি ইবনু সালিহ যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন তাবুস তাকে দেখতে গেলেন। উবাইদুল্লাহ আবি ইবনু সালিহ বললেন, ওহে আবু আব্দুর রহমান, আমার জন্য দু'আ করেন। তিনি জবাবে বললেন, আপনি নিজের জন্য নিজে দু'আ করেন। আল্লাহ তাদের বিপদে সাড়া দেয় যখন তারা তাঁকে ডাকে। তাবুস তাকে বললেন, আপনি নিজের জন্য নিজেই দু'আ করেন।
এর অর্থ হলো, আপনি আপনার থেকে ভালো অন্য কাউকে আপনার জন্য দু'আ করতে বলতে পারেন।
আপনি সংকটে আছেন, খুব বিপদে আছেন, দুঃখে আপনি জর্জরিত হয়ে আছেন। এখন এমন একজনকে দু'আর জন্য বললেন, যে কি না আপনার থেকেও আরো বিপদে আছে, এমন কারো কাছ থেকে দুআ না চাওয়াই ভালো। আপনি বরং নিজেই আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করুন। কারণ আল্লাহ তাআলা সকলের দু'আই কবুল করেন। ইরশাদ হয়েছে, 'বলো তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে।'৯৯ বান্দা যখন হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় আল্লাহকে ডাকে, তখন আল্লাহ বান্দার ডাকে সাড়া দেন।

নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, উমর, আমার জন্য দু'আ করো। বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করার পর আমি খুঁজে পেলাম এটি ছিল একটি দুর্বল হাদিস।
অন্যান্য হাদিসে এসেছে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বললেন, 'তোমরা ওয়ায়েস আল কারনিকে দেখলে বলবে আমার জন্য দু'আ করতে' ইমাম মালেক হাদিসটি অস্বীকার করেছেন। এমনকি ওয়ায়েস নামক ব্যক্তির বাস্তবতাকেও অস্বীকার করেছেন। তবে সঠিক মত হলো হাদিসটি সঠিক। এটি একটি বিশেষ ঘটনা। ওয়ায়েস আল কারনি এমন একজন ব্যক্তি; যার দু'আ কবুল হয়েছিল।'
আপনাদের তো মাত্রই বললাম, যে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম সহ তাবেঈ এবং বড় বড় উলামায়ে কেরামগণ, অন্যের কাছে দু'আ চাওয়াকে অপছন্দ করতেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তখন এটি বিশেষ কিছু হয় যখন অন্যের কাছে দু'আ না চেয়ে নিজের জন্য নিজেই দু'আ করা হয়।
বর্তমানে মানুষ অন্যের কাছে দু'আ চায়, কিন্তু নিজে দু'আ করে না। তারা অধ্যবসায় করে না। এমনকিছু তো উমর এবং আবু বকরের কাছে আশা করাটা অনুচিত।
সারমর্ম হলো: আমরা আলোচনা শুরু করেছিলাম অন্যের কাছে দু'আ চাওয়া শিরক কি না? -না, এটা শিরক নয়। - গুনাহ হবে কি? -না। -এটা কি ভালো? -অন্যের কাছে দু'আ চাওয়ার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। বরং মাঝে মাঝে তা আপনার উপকারে আসে। তবে আপনার উদ্দেশ্য যদি এমন থাকে যে, এর দ্বারা গোটা উম্মাহ উপকৃত হবে তাহলে অন্যের কাছে দু'আ চাইতে পারেন। তাছাড়া যদি আপনি আপনার দু'আয় দৃঢ় ও অবিচল থাকেন, তবে আপনার দু'আর অভ্যাস কমিয়ে দেবেন না। আর সব সময় অন্যের দু'আর ওপর নির্ভর করবেন না।
আমাদের একটি সাধারণ এবং মৌলিক দায়িত্ব হলো, একে অন্যের জন্য দু'আ করা। সেটা সবার অগোচরেই, কাউকে কিছু না বলেই। আর এতে আমরাই বেশী উপকৃত হবো, অন্যের চেয়ে।
আমরা অনেক সময় লোকদেরকে দান করে বলি, যে আপনি আমার জন্য দু'আ করবেন। এমনটা বলা উচিত কি না, নিচের আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا
'তারা বলে, আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোনো প্রতিদান চাই না এবং কোনো শোকরও না।১০০
আমরা তোমাদের খাওয়াচ্ছি আল্লাহর উদ্দেশ্যে। আমরা তোমাদের নিকট কোনো ধন্যবাদ বা উপহার চাই না। যখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কাউকে কোনো কিছু দান করতেন, তখন যার মাধ্যমে পাঠাতেন তাকে বলে দিতেন, দেখবে যে সে কোনো দু'আ করে কি না। সে কোনো দু'আ করলে তিনিও তার জন্য দু'আ করতেন, যাতে তিনি আল্লাহর কাছ থেকে পূর্ণ প্রতিদান পেতে পারেন।
ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি তোমার দান পেয়ে বলে আল্লাহ আপনাকে বরকত দিন, আপনিও উত্তরে একই কথা বলুন। যাতে আপনি তার কাছ থেকে কিছু না নিয়ে আল্লাহর কাছ থেকে সম্পূর্ণ প্রতিদান পেতে পারেন।

টিকাঃ
[৯৯] সুরা আন নমল: ৬২।
[১০০] সুরা আল ইনসান: ৯

📘 দু আর মহিমা > 📄 আপনার কুপ্রবৃত্তিকে শিকলবদ্ধ করুন

📄 আপনার কুপ্রবৃত্তিকে শিকলবদ্ধ করুন


আল্লাহ তাআলার বিশেষ একটি নিয়ামত হলো রামাদান মাস। রামাদান আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। কবরবাসীরা নিদারুণভাবে উদগ্রীব হয়ে থাকে, যদি তারা একটি রামাদান পেত! আমাদের মধ্যে যারা রামাদানকে অবহেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি তাদেরকে এর জন্য আফসোস করতে হবে।
রামাদানে যারা আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা পেয়ে সফলতা পেল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সকল সফল ব্যক্তিদের সফলতাকে একজন কৃতদাসের মুক্তির সাথে তুলনা করেছেন। এই দৃষ্টান্তটি কেন? তারা কী থেকে মুক্তি পেল? এটা বোঝার জন্য আপনাকে ফিকহ বুঝতে হবে। তালাক, বিয়ে এবং দাসমুক্ত করার ক্ষেত্রে কেউ বুঝে বলুক আর তামাশা করে বলুক; সে যা বলেছে তা আর ফিরিয়ে নেওয়ার উপায় নেই। কেউ বুঝে বা তামাশার ছলে স্ত্রীকে তালাক দিলে বা দাসকে মুক্ত করে দিলে তা কার্যকর হয়ে যায়। সে কথা আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। মানুষের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। যদি মানুষের এই সামান্য কথাই না ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে সর্বশক্তিমান মহা ক্ষমাশালী, মহা দয়ালু, মহা সম্মানিত আল্লাহ যদি আপনাকে একবার ক্ষমা করে দেন, আপনার কী ধারণা যে তিনি সেই কথা আবার ফিরিয়ে নেবেন? নাকি আপনাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন?

রামাদান এমন এক মাস যখন আপনার দিকে সব দিক থেকে ক্ষমা আসতে থাকে। এ মাসে ক্ষমা না পাওয়ার অর্থ হলো আপনি আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেননি। রামাদান শুরু হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর ক্ষমা অর্জন সম্পর্কে এই তিনটি হাদিস মনে রাখুন।
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، فَإِنَّهُ يُغْفَرُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
‘যে ব্যক্তি ইমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশায় রামাদানের সাওম পালন করবে আল্লাহ তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।’ ১০১
ইবনু হাজার আসকালানি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইমান হলো আল্লাহ তাআলার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করার নাম। আর ইমান আনা আপনার আমার সকলের ওপর ফরজ। আর ইহতিসাব মানে একমাত্র আল্লাহর নিকট পুরস্কারের আশা করা। কোন পুরস্কার সম্পর্কে বলা হচ্ছে? আল্লাহর ক্ষমা। এই ক্ষমাই কি শেষ পুরস্কার? না এটা কখনোই শেষ পুরস্কার না। অনেকেই জাহান্নাম হতে মুক্তি পাবে। তাহলে এটাই কি শেষ পুরস্কার? না এখানেই শেষ নয়। প্রতিদিন বিশেষ কিছু মুহূর্ত আছে, যে মুহূর্তগুলোতে দু'আ কবুল হয়। প্রতিদিন আপনি পাহাড় পরিমাণ আমল করতে পারেন, আর একমাত্র আল্লাহই এসবের হিসাব রাখেন। প্রতিদিন রোজা রাখলে আপনি জাহান্নাম থেকে ৭০ বছর দূরে চলে যাবেন। যদি আপনি পুরো রামাদানে রোজা রাখেন তাহলে সত্তর এর সাথে ত্রিশ গুণ হিসাবে জাহান্নাম থেকে দুই হাজার একশত বছর দূরে চলে যাবেন।
তাই প্রথম হাদিস অনুযায়ী বলা যায়, যদি কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইহতিসাবের সাথে সাওম পালন করে তবে সে ক্ষমা পাবে। দ্বিতীয় হাদিসটির শেষ অংশে একই কথা বলা হয়েছে কিন্তু প্রথম অংশটা ভিন্ন।
যদি আপনি বলেন যে, সাওম পালনের ক্ষেত্রে আপনার কোনো প্রকার ঘাটতি ছিল। তবে অন্য একটি উপায়ও আছে। আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার অন্য একটি সুযোগ রয়েছে। সেটি হলো রাতের ইবাদত যেটিকে আমরা তারাবিহ বলে থাকি। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
'যে ব্যক্তি ইমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশায় রামাদানে কিয়াম করবে তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হবে। ১০২
যদি আপনি বলেন যে, সাওম এবং রাতের কিয়াম (তারাবিহ) দুটিতেই কোনো প্রকার ঘাটতি ছিল। তাহলে আপনার জন্য তৃতীয় একটি সুযোগ রয়েছে। এটি হচ্ছে ভাগ্য রজনী (বা লাইলাতুল কদর) এবং এটি একাই আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া জন্য যথেষ্ট। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
'যে ব্যক্তি ইমানের সাথে এবং আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশায় লাইলাতুল কদরে সালাত আদায় করবে তার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করা হবে। ১০৩
তিনটি হাদিসই সহিহাইনে রয়েছে। এই তিনটি হাদিসের শেষে একই কথা বলা হয়েছে যে, আপনাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদি আপনি রামাদানের সাওম পালন করেন, রামাদানের রাতে তারাবিহ সালাত আদায় করেন এবং লাইলাতুল কদরে সালাত আদয় করেন। এই সকল ক্ষমার মধ্যমে আল্লাহ আপনাকে অনেক বেশি পুরস্কার প্রদান করে জান্নাতে সুউচ্চ মর্যাদা প্রদান করবেন। যদি আপনি আল্লাহর ক্ষমা না পান, তাহলে আপনি গাফেল ছিলেন। কিন্তু আপনি কি আল গাফুর (আল্লাহর) ক্ষমাকে ফাঁকি দিচ্ছেন। আপনি সব দিক থেকে আপনার দিকে ছুটে আসা রহমত ও ক্ষমাকে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এই ইহকালের জীবনে শান্তি এবং পরকালে জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আল্লাহর রহমত এবং ক্ষমা আপনার জন্য নিদারুণভাবে প্রয়োজন।
সুতরাং আল্লাহর ক্ষমা এবং উচ্চ মর্যাদা পাওয়ার এত এত সুযোগ যারা অবহেলায় হারায়, তাদেরকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং জিবরাইল আ. বদদু'আ করেছেন। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মিম্বারে উঠার সময় প্রতি ধাপে ধাপে বললেন আমিন, আমিন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি কেন আমিন বললেন? তিনি উত্তরে বললেন, জিবরাইল আ. আমার কাছে আসলেন এবং আল্লাহর কাছে দু'আ করলেন, আল্লাহ তার নাক ধুলোয় মেখে দিক যে রামাদান পেল কিন্তু আল্লাহর ক্ষমা আদায় করতে পারল না। তাই আমি বললাম, আমিন। ১০৪

রামাদানের শ্রেষ্ঠত্বটি হলো, রামাদানে আপনি যে আমলই করেন না কেন, তার জন্য রয়েছে অনেক পুরস্কার আর অনেক পুণ্য। গত এগার মাসে অবহেলায় আপনি যে সুযোগগুলো হারিয়েছেন তা পূরণ করার এটাই সময়। আপনি যতটুকু কুরআন তিলাওয়াত করবেন, যতটুকু সালাত আদায় করবেন, যতটুকু জিকির করবেন, তার জন্য অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে পুণ্য অর্জন করতে পারবেন। এই মাসের ইবাদতের পুণ্য এত বেশি যে আমি আপনি কেউ-ই গুণে তা শেষ করতে পারব না। কারণ সাওম শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য এবং এর প্রতিদানও আল্লাহ তাআলাই দিবেন। যেমন হাদিসে কুদসিতে এসেছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, 'সাওম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।' জান্নাতুল ফিরদাউসের শিখরে পৌঁছানোর পথটি হলো, আল্লাহর ইবাদতপূর্ণ পথ। যখন আপনি এ পথে চলতে শুরু করবেন (যা শুরু করার এখনি সময়), তখন আপনি সমতল ভূমি, উপত্যকা আর পাহাড়-পর্বত দেখতে পাবেন। অর্থ্যাৎ এ পথে অনেক কষ্ট রয়েছে। ডানে-বামে দস্যু ও দুর্বৃত্তদের দেখতে পাবেন। এই সকল দুর্বৃত্ত, দস্যু আর চোরেরা এই পথে চুরি-ডাকাতির কাজে লেগে থাকে। তারা আপনার টাকা পয়সা চায় না। তারা আপনার ধন-সম্পদ বা জীবন নিতে চায় না। তারা এর চেয়েও মূল্যবান কিছু নিতে চায়। তারা আপনার নেক আমলগুলো কেড়ে নিতে চায়। তারা চায় আপনাকে দ্বীন, ইমান এবং আমলের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে। তাই এ পথের পথিকদের পরিত্রাণ পেতে এবং নিরাপদে আপন গন্তব্যে পৌঁছতে সঠিক দিক-নির্দেশনা প্রয়োজন। তার এমন একটি দিক নির্দেশনা প্রয়োজন, যেখানে বলা থাকবে কোন পথ নিরাপদ? কোথায় দুর্বৃত্তরা ওত পেতে বসে আছে ? কোন জায়গায় দ্রুত চলতে হবে ? এবং কখন নির্দিষ্ট গতি বজায় রাখতে হবে।?
রামাদান একটি বরকতময় মাস এবং পরিশ্রম করার একটি উপযুক্ত সময়। সুতরাং এমাসে আমাদেরকে ইবাদতের ক্ষেত্রে কঠিন পরিশ্রম করতে হবে এবং একে অপরকে ইবাদত করার প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। কারণ একে অপরকে হক বা সত্যের পথে আহ্বান করা এবং ইবাদতে উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। যদিও এটা আমাদের পুরো বছরই করতে হবে কিন্তু রামাদানে একটু বেশি করা প্রয়োজন। যেমন কুরআনে এসেছে,
'তোমরা পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দাও ও ধৈর্যধারণে পরস্পরকে উদ্বুদ্ধ করো। '১০৫

আল্লাহ তায়ালা রামাদান মাসকে তো রহমতের মাস হিসেবে নাজিল করেছেন। অনেকেই সে উদ্দেশ্য থেকে দূরে চলে যায়। অনেক জায়গায় আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার চেয়ে আল্লাহর কাছ থেকে দূরে যাওয়াই রামাদানের একটি সংস্কৃতি হয়ে গেছে। রামাদানের কী উদ্দেশ্যে ছিল, তা আমরা ভুলে গেছি। আমরা অনেকেই কোনো ইবাদত না করেই রামাদান পার করে দেই। আবার কেউ শুধু নফল ইবাদত করে। অনেকে শুধু গুনাহই করে। খুব কম মানুষই সঠিক পথে থাকে। সব বাধা এড়িয়ে তারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকটবর্তি হওয়ার দিকে এগিয়ে যায়।
দুটি কারণে মানুষ গুনাহ করে থাকে, তার একটি হল শয়তান অপরটি নফস। রামাদানে শয়তানকে শিকলবদ্ধ করে রাখা হয়। কেউ যদি রামাদানেও পাপ কাজে জড়িয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে তার নফস হল 'আল আম্মারাহ'। যা খারাপ শয়তানের চেয়েও খারাপ। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'নিশ্চয়ই নফস খারাপ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।'১০৬ সুতরাং নফসকে নিয়ন্ত্রণ এবং পরাজিত করার এখনই সময়। শয়তানকে যেমন (শিকলবদ্ধ করা হয়েছে, তেমনি আপনার কুপ্রবৃত্তিকেও শিকলবদ্ধ করুন) সেভাবে রামাদান হলো ইমানের জন্য ঔষধ। কারণ সময়ের সাথে সাথে ইমানের প্রতি দূর্বলতা আসে। যেমন, কাপড়কে প্রতিবার ধুয়ে পড়ার পর কোনো একসময় তা পুরানো বা মলিন হয়ে যায়। তেমনি কোনো ধাতব বস্তুকে অধিক সময় ধরে বাতাসে ফেলে রাখলে অক্সাডাইশন-এর মাধ্যমে তাতে মরিচা পরে যায়। আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'কাপড় যেমন পুরানো হয়ে যায় তেমনি অন্তরের ইমানও পুরানো হয়ে যায়।
সুতরাং আল্লাহর কাছে আমাদের দু'আ করতে হবে যেন আল্লাহ তাআলা আমাদের পুরানো ইমানকে পুনরায় নতুন করে দেন। আপনি আল্লাহর নিকট দু'আ করবেন এবং সে অনুযায়ী আপনাকে আমলও করতে হবে। রামাদান আপনার অন্তরের ময়লা দূর করে দেয়। কাপড় সেলাই করার মতোই রামাদান আমাদের ইমানকে পুনরায় নতুন করে এবং ইবাদতের জন্য উজ্জীবিত করে। নফসের সাথে লড়াই করে তাকে শিকলবদ্ধ করুন ঠিক যেভাবে শয়তানকে শিকলবদ্ধ করা হয়। যেহেতু পানাহার ও স্ত্রী সহবাস এর মতো হালাল কাজগুলো থেকেও আপনি রামাদানে বিরত থাকেন, তাহলে সাড়া বছর যেসব কাজ হারাম তা থেকে কেন বিরত থাকবেন না? অবশ্যই আপনাকে সেসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্কের এ গুরুত্বপূর্ণ ধারণাটি আপনাকে বুঝতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি আপনাকেই শুরু করতে হবে প্রথমে। আর এজন্য প্রথম পদক্ষেপ আপনাকেই নিতে হবে। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, বান্দা আমাকে যেমন ধারণা করে আমি তেমনি। যদি সে আমাকে কোনো মজলিসে স্মরণ করে, তাহলে আমি এর চেয়ে উত্তম মজলিসে তাকে স্মরণ করি। সে যদি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, তাহলে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, তাহলে আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।'১০৭
মূলত শুরুটা আপনাকেই করতে হবে, আপনাকেই আল্লাহর দিকে আগে এগিয়ে যেতে হবে। সুতরাং আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্কটি শুরু করুন। আর রামাদান হলো আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করার সবচেয়ে উত্তম সময়। যেমন শীত আসলে গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করতে হয়, তেমনিভাবে আল্লাহর প্রতি আপনার ইচ্ছাকে আরো উদ্দীপ্ত করতে হবে। আপনি এই রামাদান মাসে যে ইবাদত করবেন তা যেন আপনার জন্য আনন্দের হয়। আপনি যেন তা উপভোগ করতে পারেন। আপনি যদি আল্লাহর প্রতি আপনার আকাঙ্ক্ষাকে উদ্দীপ্ত না করেন, তাহলে আপনি আপনার ইবাদত উপভোগ করতে পারবেন না। আমরা চাই না যে আপনি শুধু আল্লাহর ইবাদত করুন। বরং আমরা চাই আপনি ইবাদতগুলোকে উপভোগ করুন।
যারা বাধ্য হয়ে অনিচ্ছায় সাওম পালন করে আর যার স্বেচ্ছায় সাওম পালন করে আর উপভোগ করে এই ধরনের লোকদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এরা কখনো সমান না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَمِنْهُمْ ظَالِمٌ لِنَفْسِهِ وَمِنْهُم مُّقْتَصِدٌ وَمِنْهُمْ سَابِقُ بِالْخَيْرَاتِ بِإِذْنِ اللَّهِ ، ذَلِكَ هُوَ الْفَضْلُ الْكَبِيرُ
'তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যমপন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে এগিয়ে গেছে। এটাই মহা অনুগ্রহ। '১০৮
আর যারা ওপরের বর্ণনা অনুযায়ী তৃতীয় পর্যায়ের তারাই সর্বোত্তম। তারা সাওম পালন করে এবং সাওম পালন করে আনন্দ পায় এবং তা উপভোগ করে। এদেরকে বলা হয় 'সাবিকুন বিল-খায়রাত' তারা সব সময় ভালো কাজে অগ্রসর থাকে। কিছু লোক আছে যারা তারাবিহ সালাত আদায় করে, কিয়াম করে আর ভাবতে থাকে; কখন ইমাম সাহেব সালাম ফিরাবে। আরো কিছু লোক আছে যারা শুরু করতে হবে তাই করে অর্থাৎ তারাবিহ পড়তে হবে তাই পড়ে। সাওম পালন করতে হয় তাই রাখে। কিন্তু এসবের বাহিরে অনেক লোক আছে, যারা আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত থাকে। কিছু লোক আছে, যারা ভাবে ইবাদত তো করতেই হয়, সবাই করছে তাই আমরা করছি। আর কিছু লোক এমন যারা আল্লাহর ইবাদত করে, রামাদানের সিয়াম পালন করে, কিয়ামুল লাইল করে উপভোগ করে যদিও তাদের পেটে ক্ষুধার যন্ত্রণায় গোঁ গোঁ শব্দ করতে থাকে। কারণ, তার শরীরে কষ্ট হলেও তার মন মহান রবের নিকট ইবাদতগুলো সুন্দরভাবে করার ধ্যানে ব্যস্ত থাকে। আর এসবের মাঝেও অনুধাবন করে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার গভীরতা। সে মহান রবের জন্য তার সকল ইচ্ছেগুলোকে বাদ দিয়েছে। যদিও তার পেটে ক্ষুধার যন্ত্রণায় গোঁ গোঁ শব্দ হচ্ছে, তবুও তার হৃদয় হাসছে এটা ভেবে যে—এসব ইবাদত তাকে জাহান্নাম থেকে অনেক দূরে নিয়ে যাচ্ছে এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের কত নিকটে করে দিচ্ছে।

টিকাঃ
[১০১] সহিহ মুসলিম: ৭৪০।
[১০২] সহিহ বুখারি-৩৭
[১০৩] সহিহ বুখারি-২০১৪
[১০৪] মুস্তাদরাকে হাকিম: ৭২৫৬। সনদ: সহিহ।
[১০৫] সুরা আল-আসর।
[১০৬] সুরা ইউসুফ: ৫৩।
[১০৭] সুরা গাফির: ৬০।
[১০৮] সুরা আল ফাতির: ৩২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00