📄 দু‘আর শুরুতে, শেষে এবং মাঝে নবিজির প্রতি দরুদ পাঠ করুন
দু'আর শুরুতে এবং শেষে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়ুন এবং দু'আর মাঝেও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়ুন।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে দু'আ আটকে থাকে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ না পড়া পর্যন্ত তা আসমানে পৌঁছায় না। তাছাড়া এটা উমর ইবনুল খাত্তাব এর ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। কারণ তিনি বলেননি যে, এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। তবে এ ধরনের কথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর বিবেচনাযোগ্য। কারণ এগুলো দ্বীন সম্পর্কিত বিষয়। এমন হতে পারে না যে, দ্বীনের সম্পর্কে কোনো কথা তিনি মনের মতো করে নিয়ে আসবেন। এ ধরনের কথা বা হাদিসের ব্যাপারে এটাই নিয়ম। আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজির ওপর দরুদ পাঠ না করলে দু'আ কবুল হয় না।
📄 অন্তরের আমলসমূহ
সর্বশেষ বিষয় হলো আপনার অন্তরের আমল বা অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা খুব দীর্ঘ। পুরো বিষয়টি খুব দীর্ঘ কিন্তু আমরা এখানে খুব ছোট্ট একটি সাড়াংশ আলোচনা করব। যেমন: দু'আ করার পূর্বে আল্লাহর কাছে তাওবা করুন। অন্যের হক আদায় করুন। পূর্ণ মনোযোগ সহকারে আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হোন। দান করুন এবং আল্লাহর প্রতি আশ্বস্ত থাকুন যে, আল্লাহ আপনাকে হতাশ করবেন না। আল্লাহ বলেছেন, চাও তাহলে আমি দেব এবং তিনি অবশ্যই দেবেন।
📄 দু‘আ কবুলের ঘটনা
আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি একবার মদিনায় গেলাম। তখন সেখানে খরা চলছিল। লোকেরা বাইরে এসে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইস্তিসকা অর্থাৎ বৃষ্টির জন্য দু'আ করলেন। একদিন আমি মসজিদে কালো এক লোকের পাশে বসলাম। তার পড়নে ছিল খাস কাপড় (এটা উট অথবা বকরির পশম থেকে তৈরি একধরনের খসখসে কাপড়)। লোকজন অনেক আগেই চলে গিয়েছে। তাদের দু'আ কবুল হয়নি। আমি এই কালো লোকটির পাশে মসজিদে বসেছিলাম। লোকটি তার কোমর একটি কাপড় দিয়ে পেচিয়ে মসজিদের কাঁঠের সাথে বেধে রেখেছিল। তিনি তার দু'আয় বলছিলেন, হে আমার রব! আপনি পাপীদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করছেন না, ইয়া হালিম, ইয়া আল্লাহ, ইয়া হালিম, ইয়া আল্লাহ, ইয়া হালিম, ইয়া আল্লাহ। যারা আপনার কাছে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু আশা করে না তাদেরকে বৃষ্টি দেন। এখন বৃষ্টি দেন, এখন, এখন, এখন। আস সাআহ, আস সাআহ, আস সাআহ। তিনি এভাবেই দু'আ করতে থাকলেন যতক্ষণ পর্যন্ত না চারদিক থেকে মেঘ এসে গর্জন করে বৃষ্টি হতে লাগল। বড়ো বড়ো আলেমগণ কিছু সময়ের জন্য ইস্তিসকা আদায় করলেন। ধনী লোক, গরিব লোক, নেতা আর সাধারণ সবাই দু'আ করেছিল। কিন্তু একজন অবহেলিত লোক। যার পোশাকটি ছিল খুবই পুরোনো। তিনি যখন হাত তুলে দু'আ করলেন, তখন আল্লাহ দু'আ কবুল করে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন।
আমার ভাই ও বোনেরা, মুসলিম উম্মাহর একজন সদস্য হিসেবে মাজলুম ও মুসলিমদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলা করার জন্য আপনিও দায়ী। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, কাছের মানুষের জন্য তো দু'আ করবেন-ই, এর সাথে মাজলুম এবং নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য প্রতিদিন দু'আ করবেন। দু'আ করবেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদরত মুজাহিদদের জন্য। যাতে অন্তত আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হলে বলতে পারেন যে, হে আল্লাহ! আমি তাদের জন্য দু'আ করেছিলাম। এ ঘটনার পর ইবনুল মুবারক দেখা করতে গেলেন ফুযাইল ইবনু ইয়ায এর সাথে। তারা দুজনই খুব বড়ো আলেম এবং ইমাম ছিলেন। ফুযাইল ইবনু ইয়ায, আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহি. এর মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইবনু মুবারক ! আপনার কী হয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন, এমন অনেক বিষয় আছে যেসব বিষয়ে লোকেরা আমাদের হারিয়ে দিচ্ছে। তারপর তিনি তার নিকট সেই কালো লোকটির সাথে ঘটা সম্পূর্ণ ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। ঘটনাটি শোনার পর তারা দুজনেই অত্যন্ত দুঃখের সাথে চিন্তা করতে লাগলেন যে, কীভাবে মানুষ গোপনে ইবাদত করে তাদেরকে হারিয়ে দিচ্ছে। যখন তিনি ফুযাইল ইবনু ইয়াযকে ঘটনাটি বলছিলেন, তখন ফুযাইল ইবনু ইয়ায চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন।
📄 অন্যের কাছে দু‘আ চাওয়া কি জায়েজ?
আপনার প্রশ্নের সহজ উত্তরটি হলো যদি কেউ অন্যের কাছে বা জীবিত কারো কাছে নিজের জন্য দু'আ চায়, তবে তা শিরক নয়। যদি আমি আপনাদের বলি যে, ভাইয়েরা আমার জন্য দু'আ করবেন। প্রথমত, এটা শিরক নয়। দ্বিতীয়ত, যদি আমার জন্য দু'আ করতে বলি তবে তা পাপও নয়। তাছাড়া তালাবাত আল ইলম অনুযায়ী কোনটি সর্বোত্তম, এর শর্তগুলো কী কী এবং উলামাগণ এ সম্পর্কে কি বলেছেন তা সাগ্রহে শেখার চেষ্টা করব। উলামারা এ সম্পর্কে বলেছেন, এটি এমন এক বিষয় যা অভ্যাসগতভাবে করা হয়। উদাহরণস্বরুপ, রুকইয়াহ। এটা কি জায়েজ? অবশ্যই রুকইয়াহ জায়েজ। এটা হারাম নয়। তবে অন্যকে রুকইয়া করে দিতে না বলাটাই ভালো। সেরকম দু'আর ক্ষেত্রেও একই।
এক হাদিসে সত্তর হাজার লোকের কথা বলা হয়েছে যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের বিশেষ কিছু গুণের কারণে। এই দলে থাকার একটি বিধি হচ্ছে-তারা অন্যের কাছে রুকইয়াহ করে দিতে বলে না।
আপনি যদি কারো কাছ থেকে রুকইয়াহ নেন, তবে কি তা জায়েজ? এটা জায়েজ। তাছাড়া আপনি যদি উচ্চতর পদমর্যাদায় থাকতে চান, তবে আপনাকে উচ্চতর মানে অধিষ্ঠিত হতে হবে। উচ্চতর পদমর্যাদা হচ্ছে প্রথম দলটি যাতে সত্তর হাজার লোককে কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং এর মধ্যে অবশ্যই আরো কিছু বর্ণনা আছে যা অন্তর্ভুক্ত হবে।
কিছু বর্ণনার সাথে দু'আর খুব মিল রয়েছে। আপনি যদি কাউকে দু'আ করতে বলেন, তখন আপনার উদ্দেশ্য থাকে নিজের কল্যাণ লাভ করা। দু'আর প্রতি উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে যদি কাউকে দু'আ করতে বলেন, তবে আপনিও এর জন্য সওয়াব লাভ করবেন। যদি আপনার উদ্দেশ্য থাকে তার উপকার করা, তবেও আপনি এর জন্য সওয়াব লাভ করবেন। আপনি কীভাবে তাকে উপকৃত করবেন? যদি আপনি তাকে দু'আ করতে বলেন। তবে আপনি একটি ইবাদত করানোর মাধ্যমে তার উপকার করছেন। দু'আ একটি ইবাদত। যখন আপনি তাকে বলছেন যে আমার জন্য দু'আ করবেন। তখন আপনি তাকে একটি ইবাদত করার জন্য উৎসাহিত করছেন। যেহেতু আমরা বলি দু'আ একটি ইবাদত, সুতরাং আপনি তাকে একটি ইবাদত পালন করার জন্য উৎসাহিত করেছেন এবং এটি ভাইটির জন্য দুটি সুন্নাহর একটি ইবাদত। আর আপনি সওয়াব পাবেন তাকে একটি ইবাদতে উৎসাহিত করার জন্য।
যখন আপনি কারো জন্য দু'আ করেন, ফেরেশতারা তখন বলতে থাকে আপনারও অনুরূপ হোক। আল্লাহ আপনার দু'আকে কবুল করুন। যখন আপনার উদ্দেশ্য থাকে কারো উপকার করা তখন ফেরেশতারাও বলতে থাকেন, আপনারও তা হোক।
যখন আপনি কোনো মুসলিমের জন্য দু'আ করেন, তখন তার প্রতি এটা ইহসান হয়। সুতরাং আমি যদি কোনো মুসলিম ভাইকে আমার বা অন্য কারোর জন্য দু'আ করার জন্য তৈরি করি, তবে সম্ভবত পুরষ্কৃত হবো ইনশাআল্লাহ।
কাউকে দু'আ করতে বলার উদ্দেশ্যটি যদি কেবল ব্যক্তিগত কল্যাণে হয়, তবে তা কাউকে করতে না বলাটাই ভালো। কারণ এটা অনেক সময় মানুষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্যের ওপর নির্ভরতার দিকে পরিচালিত করে। অনেকে নিজের প্রতি অবহেলা করতে পারে, যখন সে জানবে যে কেউ তার জন্য দু'আ করবে। এই সময়ে বা এই যুগে কেউ যদি বলে আমার জন্য দু'আ করবেন, তখন অনেকে অহংকারের বশে নিজেকে গর্বিত বা অহংকারী মনে করতে পারে।
উমর ইবনুল খাত্তাব এবং অন্যান্য সাহাবি, তাবেয়িনরা তাদেরকে দু'আ করতে বললে অপছন্দ করতেন। তারা বলতেন আমরা কি নবি? তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে এটা নবিদের একটি গুণ। তারা ছিলেন বিনয়ী এবং তারা কখনো আল্লাহর সাথে নম্রতা ত্যাগ করতে চাইতেন না।
ইবনু জারীর হতে বর্ণিত, যখন সা'দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু দামেস্ক গিয়েছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, আমার জন্য দু'আ করবেন আল্লাহ যেন আমাকে ক্ষমা করে দেন। সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুক। তিনি প্রথম লোকটিকে বললেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুক। অন্য একজন লোক আসল এবং সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করতে বলল। আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করে দেন। সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহু এবার উত্তরে বললেন, আল্লাহ আপনাকে এবং ওই লোকটিকে যিনি আপনার পূর্বে এসেছিল, তাকে ক্ষমা না করুক। আপনাদের কাছে কি আমাকে রাসুল মনে হয়?
আল ই-তিসাম গ্রন্থে, আশ শাতিবি এই বক্তব্য সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন, যখন তিনি দেখলেন যে, দু'আ চাওয়া ছিল একটা ব্যতিক্রমধর্মী অনুরোধ এবং লোকজন ধীরে ধীরে জড়ো হতে শুরু করল, তিনি বিষয়টি ভিন্নভাবে বুঝেছিলেন, লোকজন ধীরে ধীরে জড়ো হতে শুরু করল, তিনি বিষয়টি ভিন্নভাবে বুঝেছিলেন, লোকজন হয়তো ভাবতে পারে তার অনেক দূরদর্শিতা রয়েছে।
ইবনু জারির তাবারি একই রকম আরো একটি গল্প বর্ণনা করেছেন যে, এক লোক হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তার জন্য দু'আ করতে বললেন। হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা না করুক। সা'দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর গল্পটির মতোই। তিনিও সম্ভবত চাননি যে মানুষজন ভাবুক যে তিনি খুব উচ্চমর্যাদায় আছেন। তিনি চাননি যে, লোকজন এটাকে কোনো ট্রেন্ড বা প্রথা বানিয়ে ফেলুক।
আল খাতিব তার গ্রন্থ আত তাখলিস এ বর্ণনা করেছেন যে, উবাইদুল্লাহ আবি ইবনু সালিহ যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন তাবুস তাকে দেখতে গেলেন। উবাইদুল্লাহ আবি ইবনু সালিহ বললেন, ওহে আবু আব্দুর রহমান, আমার জন্য দু'আ করেন। তিনি জবাবে বললেন, আপনি নিজের জন্য নিজে দু'আ করেন। আল্লাহ তাদের বিপদে সাড়া দেয় যখন তারা তাঁকে ডাকে। তাবুস তাকে বললেন, আপনি নিজের জন্য নিজেই দু'আ করেন।
এর অর্থ হলো, আপনি আপনার থেকে ভালো অন্য কাউকে আপনার জন্য দু'আ করতে বলতে পারেন।
আপনি সংকটে আছেন, খুব বিপদে আছেন, দুঃখে আপনি জর্জরিত হয়ে আছেন। এখন এমন একজনকে দু'আর জন্য বললেন, যে কি না আপনার থেকেও আরো বিপদে আছে, এমন কারো কাছ থেকে দুআ না চাওয়াই ভালো। আপনি বরং নিজেই আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করুন। কারণ আল্লাহ তাআলা সকলের দু'আই কবুল করেন। ইরশাদ হয়েছে, 'বলো তো কে নিঃসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে।'৯৯ বান্দা যখন হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় আল্লাহকে ডাকে, তখন আল্লাহ বান্দার ডাকে সাড়া দেন।
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, উমর, আমার জন্য দু'আ করো। বিভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করার পর আমি খুঁজে পেলাম এটি ছিল একটি দুর্বল হাদিস।
অন্যান্য হাদিসে এসেছে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বললেন, 'তোমরা ওয়ায়েস আল কারনিকে দেখলে বলবে আমার জন্য দু'আ করতে' ইমাম মালেক হাদিসটি অস্বীকার করেছেন। এমনকি ওয়ায়েস নামক ব্যক্তির বাস্তবতাকেও অস্বীকার করেছেন। তবে সঠিক মত হলো হাদিসটি সঠিক। এটি একটি বিশেষ ঘটনা। ওয়ায়েস আল কারনি এমন একজন ব্যক্তি; যার দু'আ কবুল হয়েছিল।'
আপনাদের তো মাত্রই বললাম, যে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম সহ তাবেঈ এবং বড় বড় উলামায়ে কেরামগণ, অন্যের কাছে দু'আ চাওয়াকে অপছন্দ করতেন। তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, তখন এটি বিশেষ কিছু হয় যখন অন্যের কাছে দু'আ না চেয়ে নিজের জন্য নিজেই দু'আ করা হয়।
বর্তমানে মানুষ অন্যের কাছে দু'আ চায়, কিন্তু নিজে দু'আ করে না। তারা অধ্যবসায় করে না। এমনকিছু তো উমর এবং আবু বকরের কাছে আশা করাটা অনুচিত।
সারমর্ম হলো: আমরা আলোচনা শুরু করেছিলাম অন্যের কাছে দু'আ চাওয়া শিরক কি না? -না, এটা শিরক নয়। - গুনাহ হবে কি? -না। -এটা কি ভালো? -অন্যের কাছে দু'আ চাওয়ার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। বরং মাঝে মাঝে তা আপনার উপকারে আসে। তবে আপনার উদ্দেশ্য যদি এমন থাকে যে, এর দ্বারা গোটা উম্মাহ উপকৃত হবে তাহলে অন্যের কাছে দু'আ চাইতে পারেন। তাছাড়া যদি আপনি আপনার দু'আয় দৃঢ় ও অবিচল থাকেন, তবে আপনার দু'আর অভ্যাস কমিয়ে দেবেন না। আর সব সময় অন্যের দু'আর ওপর নির্ভর করবেন না।
আমাদের একটি সাধারণ এবং মৌলিক দায়িত্ব হলো, একে অন্যের জন্য দু'আ করা। সেটা সবার অগোচরেই, কাউকে কিছু না বলেই। আর এতে আমরাই বেশী উপকৃত হবো, অন্যের চেয়ে।
আমরা অনেক সময় লোকদেরকে দান করে বলি, যে আপনি আমার জন্য দু'আ করবেন। এমনটা বলা উচিত কি না, নিচের আয়াতের দিকে লক্ষ্য করলে তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
إِنَّمَا نُطْعِمُكُمْ لِوَجْهِ اللَّهِ لَا نُرِيدُ مِنكُمْ جَزَاءً وَلَا شُكُورًا
'তারা বলে, আমরা তো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদেরকে খাদ্য দান করি। আমরা তোমাদের থেকে কোনো প্রতিদান চাই না এবং কোনো শোকরও না।১০০
আমরা তোমাদের খাওয়াচ্ছি আল্লাহর উদ্দেশ্যে। আমরা তোমাদের নিকট কোনো ধন্যবাদ বা উপহার চাই না। যখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কাউকে কোনো কিছু দান করতেন, তখন যার মাধ্যমে পাঠাতেন তাকে বলে দিতেন, দেখবে যে সে কোনো দু'আ করে কি না। সে কোনো দু'আ করলে তিনিও তার জন্য দু'আ করতেন, যাতে তিনি আল্লাহর কাছ থেকে পূর্ণ প্রতিদান পেতে পারেন।
ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন, যখন কোনো ব্যক্তি তোমার দান পেয়ে বলে আল্লাহ আপনাকে বরকত দিন, আপনিও উত্তরে একই কথা বলুন। যাতে আপনি তার কাছ থেকে কিছু না নিয়ে আল্লাহর কাছ থেকে সম্পূর্ণ প্রতিদান পেতে পারেন।
টিকাঃ
[৯৯] সুরা আন নমল: ৬২।
[১০০] সুরা আল ইনসান: ৯