📄 দু‘আতে অটল থাকুন
দু'আর প্রতি অটল হোন। বারবার দু'আ করতে থাকুন। দু'আর মধ্যে কাকুতি-মিনতি ও ভিক্ষা করুন। সাথে সাথে দু'আ কবুল না হলে হেরে যাবেন না। আবারো মন খুলে দু'আ করুন।
নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার করে দু'আ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার দু'আ করতেন।
এভাবেই দু'আ করা উচিত এবং প্রতিনিয়ত দু'আর ক্ষেত্রে অবিচল থাকা উচিত। রাতারাতি দু'আ কবুল না হলেও হাল ছেড়ে দেবেন না। বরং আরো বেশি করে দু'আ করতে থাকুন। কখনো এবাবে বলবেন না যে, আমি এত বেশি দু'আ করলাম কিন্তু আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করেননি। এরকমভাবে বললে আপনি নিজেই নিজের দু'আগুলোকে ধ্বংস করে ফেলবেন।
সালাফদের মাঝে দেখা যায়, কেউ ২০ বছর দু'আ করে একটা জিনিস চেয়েও তা পাননি। তারপরও হাল ছেড়ে দেননি, নিরাশ হয়ে দু'আ ছেড়ে দেননি যে, আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করবেন না。
📄 দু‘আর শুরুতে, শেষে এবং মাঝে নবিজির প্রতি দরুদ পাঠ করুন
দু'আর শুরুতে এবং শেষে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়ুন এবং দু'আর মাঝেও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়ুন।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে দু'আ আটকে থাকে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ না পড়া পর্যন্ত তা আসমানে পৌঁছায় না। তাছাড়া এটা উমর ইবনুল খাত্তাব এর ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। কারণ তিনি বলেননি যে, এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। তবে এ ধরনের কথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর বিবেচনাযোগ্য। কারণ এগুলো দ্বীন সম্পর্কিত বিষয়। এমন হতে পারে না যে, দ্বীনের সম্পর্কে কোনো কথা তিনি মনের মতো করে নিয়ে আসবেন। এ ধরনের কথা বা হাদিসের ব্যাপারে এটাই নিয়ম। আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজির ওপর দরুদ পাঠ না করলে দু'আ কবুল হয় না।
📄 অন্তরের আমলসমূহ
সর্বশেষ বিষয় হলো আপনার অন্তরের আমল বা অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা খুব দীর্ঘ। পুরো বিষয়টি খুব দীর্ঘ কিন্তু আমরা এখানে খুব ছোট্ট একটি সাড়াংশ আলোচনা করব। যেমন: দু'আ করার পূর্বে আল্লাহর কাছে তাওবা করুন। অন্যের হক আদায় করুন। পূর্ণ মনোযোগ সহকারে আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হোন। দান করুন এবং আল্লাহর প্রতি আশ্বস্ত থাকুন যে, আল্লাহ আপনাকে হতাশ করবেন না। আল্লাহ বলেছেন, চাও তাহলে আমি দেব এবং তিনি অবশ্যই দেবেন।
📄 দু‘আ কবুলের ঘটনা
আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি একবার মদিনায় গেলাম। তখন সেখানে খরা চলছিল। লোকেরা বাইরে এসে দীর্ঘ সময়ের জন্য ইস্তিসকা অর্থাৎ বৃষ্টির জন্য দু'আ করলেন। একদিন আমি মসজিদে কালো এক লোকের পাশে বসলাম। তার পড়নে ছিল খাস কাপড় (এটা উট অথবা বকরির পশম থেকে তৈরি একধরনের খসখসে কাপড়)। লোকজন অনেক আগেই চলে গিয়েছে। তাদের দু'আ কবুল হয়নি। আমি এই কালো লোকটির পাশে মসজিদে বসেছিলাম। লোকটি তার কোমর একটি কাপড় দিয়ে পেচিয়ে মসজিদের কাঁঠের সাথে বেধে রেখেছিল। তিনি তার দু'আয় বলছিলেন, হে আমার রব! আপনি পাপীদেরকে শাস্তি দেওয়ার জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করছেন না, ইয়া হালিম, ইয়া আল্লাহ, ইয়া হালিম, ইয়া আল্লাহ, ইয়া হালিম, ইয়া আল্লাহ। যারা আপনার কাছে কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু আশা করে না তাদেরকে বৃষ্টি দেন। এখন বৃষ্টি দেন, এখন, এখন, এখন। আস সাআহ, আস সাআহ, আস সাআহ। তিনি এভাবেই দু'আ করতে থাকলেন যতক্ষণ পর্যন্ত না চারদিক থেকে মেঘ এসে গর্জন করে বৃষ্টি হতে লাগল। বড়ো বড়ো আলেমগণ কিছু সময়ের জন্য ইস্তিসকা আদায় করলেন। ধনী লোক, গরিব লোক, নেতা আর সাধারণ সবাই দু'আ করেছিল। কিন্তু একজন অবহেলিত লোক। যার পোশাকটি ছিল খুবই পুরোনো। তিনি যখন হাত তুলে দু'আ করলেন, তখন আল্লাহ দু'আ কবুল করে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন।
আমার ভাই ও বোনেরা, মুসলিম উম্মাহর একজন সদস্য হিসেবে মাজলুম ও মুসলিমদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলা করার জন্য আপনিও দায়ী। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, কাছের মানুষের জন্য তো দু'আ করবেন-ই, এর সাথে মাজলুম এবং নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য প্রতিদিন দু'আ করবেন। দু'আ করবেন আল্লাহর রাস্তায় জিহাদরত মুজাহিদদের জন্য। যাতে অন্তত আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হলে বলতে পারেন যে, হে আল্লাহ! আমি তাদের জন্য দু'আ করেছিলাম। এ ঘটনার পর ইবনুল মুবারক দেখা করতে গেলেন ফুযাইল ইবনু ইয়ায এর সাথে। তারা দুজনই খুব বড়ো আলেম এবং ইমাম ছিলেন। ফুযাইল ইবনু ইয়ায, আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহি. এর মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইবনু মুবারক ! আপনার কী হয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন, এমন অনেক বিষয় আছে যেসব বিষয়ে লোকেরা আমাদের হারিয়ে দিচ্ছে। তারপর তিনি তার নিকট সেই কালো লোকটির সাথে ঘটা সম্পূর্ণ ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। ঘটনাটি শোনার পর তারা দুজনেই অত্যন্ত দুঃখের সাথে চিন্তা করতে লাগলেন যে, কীভাবে মানুষ গোপনে ইবাদত করে তাদেরকে হারিয়ে দিচ্ছে। যখন তিনি ফুযাইল ইবনু ইয়াযকে ঘটনাটি বলছিলেন, তখন ফুযাইল ইবনু ইয়ায চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন।