📄 দু‘আর ক্ষেত্রে দৃঢ় হোন
মহান আল্লাহ আপনার দু'আ কবুল করবেন। একথা জেনে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দু'আ করুন।
আল্লাহ তাআলা আপনার দু'আর জবাব দেবেন। এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে আল্লাহকে ডাকুন। তবে এটাও জেনে রাখুন যে, গাফেল অন্তরের দু'আর জবাব দেওয়া হয় না।
সুতরাং আপনি যখন দু'আ করবেন, মন থেকে দৃঢ়ভাবে দু'আ করবেন। মনের মাঝে এমন একটা ভাব নিয়ে দু'আ করুন যে, আল্লাহ তায়ালা আপনার দু'আকে কবুল করছেন। এভাবে দু'আ করবেন না যে, হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন। বরং বলবেন, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন। দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন যে, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন। দ্বিধাগ্রস্ত হবেন না যে, আল্লাহ আপনার দু'আ কবুল করবেন না। আল্লাহ তো ইবলিস শয়তানের দু'আও কবুল করেছেন, আর তিনি আপনার আমার দু'আ কবুল করবেন না, এটা কিভাবে হয়!? শয়তান দু'আ করেছিল তাকে যেন পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া হয়। আল্লাহ তাআলা তাকে এ অবকাশ দিয়েছেন। যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
قَالَ أَنظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنظَرِينَ
'ইবলিস বলল, আমাকে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন। আল্লাহ বললেন, তোকে অবকাশ দেওয়া হলো।'৯৭
আমি আপনি শয়তানের চেয়ে খারাপ নই। আমরা যাই করি না কেন; আমরা শয়তানের চেয়ে খারাপ কাজ করি না। এমনকি যদি আমরা পাহাড় পরিমাণ গুনাহও করে থাকি। আল্লাহ যদি শয়তানের দু'আ না ফিরিয়ে দেন, তাহলে কি তিনি আপনার আমার দু'আ ফিরিয়ে দেবেন?
এমনকি অবিশ্বাসী মুশরিকিনরাও একটা সময় সভাবে আল্লাহকে ডাকে এবং আল্লাহ তাদের ডাকে সাড়া দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَإِذَا رَكِبُوا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُونَ
‘তারা যখন জলযানে আরোহণ করে তখন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন তখনই তারা শরিক করতে থাকে।’৯৮
মহাসাগরের স্রোত ও বাতাস যখন তাদের ডুবিয়ে দেওয়ার উপক্রম হয়, তখন তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। শিরক ছেড়ে দেয় এবং কিছু সময়ের জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। তারা পূর্বেও আল্লাহর সাথে শরিক করেছে এবং আল্লাহ জানেন যে, তাদের নিরাপদে তীরে পৌছে দেওয়ার পর তারা আল্লাহর সাথে আবার শরিক করবে। তারপরও যখন তারা কিছু সময়ের জন্য আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহ তাদের দু’আ কবুল করে নেন। তিনি যদি অল্প সময়ে একনিষ্ঠভাবে দু’আ করার ফলে তা কবুল করে নেন। তাহলে তাওহিদের অনুসারীদের দু’আ কি ফিরিয়ে দেবেন?
টিকাঃ
[৯৭] সুরা আল আরাফ: ১৪-১৫।
[৯৮] সুরা আল আনকাবুত: ৬৫।
📄 দু‘আতে অটল থাকুন
দু'আর প্রতি অটল হোন। বারবার দু'আ করতে থাকুন। দু'আর মধ্যে কাকুতি-মিনতি ও ভিক্ষা করুন। সাথে সাথে দু'আ কবুল না হলে হেরে যাবেন না। আবারো মন খুলে দু'আ করুন।
নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার করে দু'আ করতেন। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনবার দু'আ করতেন।
এভাবেই দু'আ করা উচিত এবং প্রতিনিয়ত দু'আর ক্ষেত্রে অবিচল থাকা উচিত। রাতারাতি দু'আ কবুল না হলেও হাল ছেড়ে দেবেন না। বরং আরো বেশি করে দু'আ করতে থাকুন। কখনো এবাবে বলবেন না যে, আমি এত বেশি দু'আ করলাম কিন্তু আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করেননি। এরকমভাবে বললে আপনি নিজেই নিজের দু'আগুলোকে ধ্বংস করে ফেলবেন।
সালাফদের মাঝে দেখা যায়, কেউ ২০ বছর দু'আ করে একটা জিনিস চেয়েও তা পাননি। তারপরও হাল ছেড়ে দেননি, নিরাশ হয়ে দু'আ ছেড়ে দেননি যে, আল্লাহ আমার দু'আ কবুল করবেন না。
📄 দু‘আর শুরুতে, শেষে এবং মাঝে নবিজির প্রতি দরুদ পাঠ করুন
দু'আর শুরুতে এবং শেষে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়ুন এবং দু'আর মাঝেও নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পড়ুন।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে দু'আ আটকে থাকে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ না পড়া পর্যন্ত তা আসমানে পৌঁছায় না। তাছাড়া এটা উমর ইবনুল খাত্তাব এর ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে। কারণ তিনি বলেননি যে, এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। তবে এ ধরনের কথা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর বিবেচনাযোগ্য। কারণ এগুলো দ্বীন সম্পর্কিত বিষয়। এমন হতে পারে না যে, দ্বীনের সম্পর্কে কোনো কথা তিনি মনের মতো করে নিয়ে আসবেন। এ ধরনের কথা বা হাদিসের ব্যাপারে এটাই নিয়ম। আলি ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজির ওপর দরুদ পাঠ না করলে দু'আ কবুল হয় না।
📄 অন্তরের আমলসমূহ
সর্বশেষ বিষয় হলো আপনার অন্তরের আমল বা অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা খুব দীর্ঘ। পুরো বিষয়টি খুব দীর্ঘ কিন্তু আমরা এখানে খুব ছোট্ট একটি সাড়াংশ আলোচনা করব। যেমন: দু'আ করার পূর্বে আল্লাহর কাছে তাওবা করুন। অন্যের হক আদায় করুন। পূর্ণ মনোযোগ সহকারে আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হোন। দান করুন এবং আল্লাহর প্রতি আশ্বস্ত থাকুন যে, আল্লাহ আপনাকে হতাশ করবেন না। আল্লাহ বলেছেন, চাও তাহলে আমি দেব এবং তিনি অবশ্যই দেবেন।