📄 এ অস্ত্র যেভাবে ব্যর্থ হয়
এমন অব্যর্থ অস্ত্রও কি কখনো ব্যর্থ হয়? আল্লাহ তাআলাও কি কখনো বান্দার দু'আ কবুল না করে ফিরিয়ে দেন? হ্যাঁ! অনেকগুলো কারণে এই অব্যর্থ অস্ত্রও ব্যর্থ হয়। আল্লাহ তাআলা বান্দার দু'আ কবুল না করে ফিরিয়ে দেন। নিম্নে একটি একটি করে সে কারণগুলো উল্লেখ করা হলো-
১) মানুষ যখন আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার (তথা সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ) ছেড়ে দেয় তখন এই অস্ত্র ব্যর্থ হয়, সে তার কার্যকারিতা হারায় এবং আল্লাহ তাআলা বান্দার দু'আ ফিরিয়ে দেন। হাদিস শরিফে এসেছে, হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'ওই সত্তার কসম করে বলছি যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ করবে। (যদি না করো) তাহলে আল্লাহ তাআলা হয়তো এজন্য তোমাদের ওপর শাস্তি প্রেরণ করবেন। অতঃপর তোমরা দু'আ করবে কিন্তু তিনি তোমাদের দু'আ কবুল করবেন না।'৮৬
সুতরাং হে ভাই ও বোন, আসুন একবার নিজেরাই নিজেদেরকে প্রশ্ন করে দেখি যে, আমরা কি আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার করি, মানুষকে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করি? আমাদের উত্তর যদি 'হ্যাঁ' হয়, তাহলে তো আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি না হয়, তাহলে আমাদের দু'আ কীভাবে কবুল হবে? এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের দু'আ কেন কবুল করবেন? যখন আমরা নিজেরাই দু'আ কবুলের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছি।
২) মানুষ যখন হারাম খাবার গ্রহণ করবে, তখন তার এই অব্যর্থ অস্ত্র অকেজো হবে। মহান রবের দরবারে তার দু'আ পৌঁছবে না এবং তা কবুলও হবে না। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই কবুল করে থাকেন। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ওই কাজই করার হুকুম দিয়েছেন যা করার হুকুম তিনি রাসুলদেরকে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে রাসুলগণ! পবিত্র বস্তু আহার করুন এবং নেক আমল করুন। আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন, হে মুমিনগণ! আমরা তোমাদের যে পবিত্র জীবিকা দান করেছি তা থেকে আহার করো।
তারপর তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে ব্যক্তি দীর্ঘ সফরের কারণে তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে ও কাপড় ধুলোবালিতে ময়লা হয়ে আছে। অতঃপর সে নিজের দুই হাত আকাশের দিকে তুলে ধরে ও বলে, হে রব! হে রব! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম, সে হারামভাবে লালিত-পালিত হয়েছে; এ অবস্থায় কেমন করে তার দু'আ কবুল হতে পারে। ১৮৭
(৩) মানুষের মধ্যে যখন গুনাহ, প্রতারণা, লোক-ঠকানো, অশ্লীলতা, জিনা-ব্যভিচার বেড়ে যাবে তখন এই অস্ত্র অকেজো হয়ে যাবে এবং তা আল্লাহ তাআলার দরবারে পৌঁছতে ব্যর্থ হবে। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো সম্প্রদায়ের লোকেরা যখন ওজন ও পরিমাপে কম দেবে, আল্লাহ তাআলা তখন তাদের ওপর বৃষ্টি বন্ধ করে দেবেন। কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে যখন যিনা-ব্যভিচার প্রকাশ পাবে, তখন তাদের মধ্যে মৃত্যু (কঠিন কোনো রোগ যা মৃত্যুর কারণ হবে) ছড়িয়ে পড়বে। কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে যখন সুদ প্রকাশ পাবে, আল্লাহ তাআলা তখন তাদের ওপর পাগলামির বিস্তার ঘটাবেন। আর যে সম্প্রদায়ের মধ্যে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ড প্রকাশ পাবে, একজন অপরজনকে কোনো কারণ ছাড়াই হত্যা করবে, আল্লাহ তাআলা তখন তাদের ওপর তাদের শত্রুদেরকে চাপিয়ে দেবেন। আর যে সম্প্রদায়ের মধ্যে লুত সম্প্রদায়ের কর্মকান্ড (সমকামিতা) প্রকাশ পাবে, তখন তাদের মধ্যে ভূমিধস এবং ভূমিকম্প প্রকাশ পাবে। মানুষ যখন আমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার ছেড়ে দেয় তখন তাদের আমল কবুল হয় না এবং তাদের দু'আ কবুল হয় না। ৮৮
এ সকল লোকের ব্যাপারে ইয়াহইয়া ইবনু মুআজ রাহিমাহুল্লাহু বলেন, এরা কিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদের নামাজের ওপর ঘুমকে প্রাধান্য দেয়। জিহাদের ওপর বাড়িতে স্বস্তিতে বসে থাকাকে প্রাধান্য দেয়।
(৪) মানুষ যখন শেষরাতে ইস্তেগফার করা ছেড়ে দেয়, তখন তাদের দু'আর অস্ত্র অকেজো হয়ে যায়। তাদের দু'আ কবুল হয় না।
(৫) মানুষ যখন রাতের ইবাদত এবং দিনের জিহাদ ছেড়ে দেবে তখন দু'আর অস্ত্র ভোঁতা হয়ে যাবে। তাদের দু'আ আর কবুল হবে না।
টিকাঃ
[৮৬] তিরমিজি।
[৮৭] মুসলিম: ১০১৫।
[৮৮] তাবারানি।
📄 শেষ কথা
প্রিয় ভাই ও বোন! তোমরা যারা বিশ্বাস করো যে, এই পৃথিবী তোমাদের আসল ঠিকানা নয়, এরপর তথা মৃত্যুর পর শুরু হবে তোমাদের আসল জীবন। যেই জীবনের শুরু আছে কিন্তু তার শেষ নেই। সেখানের সুখই হলো আসল সুখ। আর সেখানের দুঃখ হলো আসল দুঃখ। তারা যেন শেষরাতে বিছানা ছেড়ে উঠে আশা ও ভয় নিয়ে মহান রবের সামনে দাঁড়ায় এবং তাঁর নিকট প্রার্থনা করে। সে যেন তার মহান রবের ওই ডাকে সাড়া দেয় যখন তিনি প্রথম আসমানে এসে বান্দাদের ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য ডাকতে থাকেন।
ওইসকল লোক কতই-না সৌভাগ্যবান যারা দুনিয়া ছেড়ে আখিরাতকে গ্রহণ করেছে এবং চেষ্টা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আখিরাতকে দুনিয়ার ওপর প্রাধান্য দিয়েছে। তারা দিনে রোজা রেখে আত্মাকে কষ্ট দেয়, আর রাত্রিতে তাহাজ্জুদে দাঁড়িয়ে পা ফুলায়।
ওইসকল লোক কতই না ভাগ্যবান, যারা দুনিয়ার খারাবি ও দোষ-ত্রুটিগুলো দেখতে পায় এবং সেগুলো এড়িয়ে চলে। জাহান্নাম ও ধ্বংসের পথ দেখে তা থেকে পালিয়ে বেড়ায়। তারা সুখ ও শান্তির খোঁজে জান্নাতের পথে চলে। গভীর রাতে আরামের বিছানা ছেড়ে তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করে, দু-হাত তুলে রবের দরবারে দু-চোখের অশ্রু নিবেদন করে। দিনের বেলায় রোজা রেখে প্রবৃত্তি ও পাকস্থলিকে ক্লান্ত করে। তারা হারাম দৃষ্টি এবং হারাম কথা থেকে চোখ ও মুখকে হেফাজত রাখে।
হে আমার রব! আপনার নিকট এমন শরীর থেকে পানাহ চাই, যে দেহ আপনার সামনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত হয় না। আপনার কাছে এমন হৃদয় থেকে পানাহ চাই, যে হৃদয় আপনার সাথে মিলিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখে না। এমন দু'আ থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই, যে দু'আ আপনার নিকট পৌঁছে না। এমন চোখ থেকে আপনার নিকট পানাহ চাই, যে চোখ আপনার জন্য বা আপনার ভয়ে কাঁদে না।
হে আমার রব! আপনি পবিত্র, আপনি মহান। অন্ধকার রাতের নির্জনতায় নেককার বান্দারা আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে, সমুদ্রের তলদেশ থেকে মাছেরা আপনার জিকির করে। হে আমার প্রতিপালক, আপনি পবিত্র এবং মহিমাময়, রাত-দিন, চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, নদী-নালা, পাহাড়-সাগর সবকিছুই আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং আপনাকে সিজদাহ করে।
হে আমার রব, আমরা আপনার সন্তুষ্টি কামনা করি এবং আপনার নিকট জান্নাত ভিক্ষা চাই। আমরা আপনার ক্রোধ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই। আপনি আমাদের নিকট ইমানকে প্রিয় করে দিন এবং দ্বীনের প্রতিটি বিষয়ের মুহব্বত আমাদের অন্তরে গেঁথে দিন।
হে আমার রব, আপনি কুফর, ফুসুক এবং অবাধ্যতাকে আমাদের অন্তরে ঘৃণিত ও অপছন্দনীয় করে দিন।
হে আমার রব, আপনি আমাদেরকে পূর্ণ ইমান এবং সত্য ইয়াকিন দান করুন। আমাদেরকে খুশুখুজুর সাথে সালাত আদায় করার তাওফিক দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের রিজিককে হালাল এবং প্রশস্ত করে দিন। প্রতিটি বিষয়ে আপনি আমাদের তত্ত্বাবধায়ক হয়ে যান। এক মুহূর্তের জন্যেও আপনি আমাদের দায়িত্ব আমাদের হাতে ছেড়ে দেবেন না। হে আমার রব, আপনি আমাদের দু'আকে কবুল করুন। আমিন।
📄 কখনো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়না যে তির
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে। ১৮৬
এটা রামাদানের দু'আর গুরুত্বের প্রতি আপনাকে আরো যত্নশীল হতে উৎসাহিত করবে। আন্তরিক এবং একনিষ্ঠ দু'আ যে কতটা শক্তিশালী ও সুন্দর হতে পারে সেটা অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না।
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রায়ই বলতেন, 'আমার দু'আ কবুল হচ্ছে কি না সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমি চিন্তিত দু'আ করার তাওফিক পাব কি না সেটা নিয়ে।'
বান্দা যখন আল্লাহর কাছে দু'আ করে তখন সে তার দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া- পাওয়া আর অভিযোগকে আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করে, আর স্বয়ং আল্লাহই সেই চাওয়া-পাওয়া দুঃখ কষ্টকে দেখেন।
আপনি কি লক্ষ করেছেন যে, কুরআন শুরু হয়েছে দু'আর মাধ্যমে এবং শেষও হয়েছে আল্লাহর নিকট দু'আ করার মধ্য দিয়ে। শুরু হয়েছে আল ফাতিহায়। আর আল ফাতিহা হলো কুরআনের সবচেয়ে বিস্ময়কর সুন্দর দু'আয় সাজানো সুরাগুলোর মধ্যে অন্যতম। যেমন, “তুমি আমাদের সরল পথের রাস্তা দেখাও”। আর কুরআন শেষ হয়েছে সুরা নাস এর মধ্য দিয়ে বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের ওপর তার অনিষ্ট থেকে যে আত্মগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে, জিনের মধ্য থেকে ও মানুষের মধ্য থেকে।
ইমাম আল আওজায়ি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, একবার লোকজন বৃষ্টির জন্য 'সালাতুল ইস্তিসকা' আদায়ের জন্য সমবেত হলো। বেলাল ইবনু সাদ সেখানে একটি বক্তব্য পেশ করলেন। বিলাল ইবনু সাদ উঠে দাঁড়ালেন। আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর মহিমা ঘোষণা করলেন এবং লোকজনকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা যারা এখানে জড়ো হয়েছ তোমরা কি তোমাদের গুনাহের কথা স্বীকার করছ?' সবাই জবাব দিলো, 'হ্যাঁ'। তিনি বললেন, 'হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী তারা যা বলেছে।' আল্লাহ বলেন, 'সৎ লোকের প্রতি কোনো প্রকার অভিযোগ নেই। '৯০
আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি হে আল্লাহ! আপনার ক্ষমা কি তবে তাদের ছাড়া অন্য কারো জন্য হবে? যারা তাদের ভুল স্বীকার করে? আমাদের ক্ষমা করুন আল্লাহ। আমাদের ওপর রহম করুন। তিনি তার দুই হাত তুললেন আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং বৃষ্টি না নামা পর্যন্ত হাত নামালেন না। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করলেন।
যিনি অবিরাম বর্ষণসহ তাঁর রহমতের দরজাগুলো খুলে দিতে পারেন। তিনি আপনাকে আপনার পছন্দমতো জীবনসঙ্গীও দিতে পারেন, যদি আপনি আল্লাহর নিকট দু'আ করেন। তিনি আপনার জীবনের হারানো শান্তি ফিরিয়ে দিতে পারেন যদি আপনি দু'আ করেন। আপনার দাম্পত্যজীবনের শান্তি কি হারিয়ে গেছে? এখনি আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন, তাঁর নিকট দু'আ করুন। আপনার স্বামীর মনের ওপর যতটুকু তার নিজের ক্ষমতা মহান আল্লাহর ক্ষমতা কি তার থেকে বেশি নয়? আপনার স্ত্রীর মনের ওপর আপনার স্ত্রীর চেয়ে মহান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ কি বেশি নয়?
وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ
'জেনে রেখো, আল্লাহ মানুষের এবং তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে যান। '৯১
আল্লাহর কাছে প্রার্থনাকারী ব্যক্তিটি যে কেউ হতে পারে। এমন কথা বলবেন না যে, আমি তো অনেক গুনাহ করে ফেলেছি। আল্লাহ কি আমার দু'আ কবুল করবেন? হ্যাঁ, আপনাকে আপনার গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে। সাথে সাথে দু'আও করতে হবে। আপনার হতাশ হলে চলবে না
টিকাঃ
[৮৯] সুরা বাকারা: ১৮৬।
[৯০] সুরা তাওবা: ৯১।
[৯১] সুরা আনফাল: ২৪।
📄 স্বচ্ছ হৃদয়ের ডাক
আতা আস সুলামি বলেন, আমাদের এলাকায় একবার বেশ কয়েকদিন যাবত বৃষ্টি হচ্ছিল না। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছিল। একদিন আমরা আমাদের নেতার আদেশে 'সালাতুল ইস্তিস্কা' আদায় করতে গেলাম। যাওয়ার সময় সরু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোকের সাথে দেখা হলো। লোকটি আতা আস সুলামিকে চিনতে পেরে জিজ্ঞেস করলেন, এটাই কি কিয়ামতের দিন? এটাই কি সেই দিন? যেই দিনের ব্যপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ
'সে কি জানে না, যখন কবরে যা আছে তা উত্থিত হবে। '৯২
আসলে লোকটি সেদিন মানুষের এতো বিশাল সমাবেশ দেখেছিলেন। যা তিনি আগে কখনো দেখেননি। আতা আস সুলামি বললেন, 'না আমারা বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করতে যাচ্ছি।' লোকটি বলল, 'দুনিয়ার মাঝে ডুবে থাকা হৃদয় নিয়ে আল্লাহর দরবারে দু'আ করবেন? নাকি আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল হৃদয় নিয়ে আল্লাহর দরবারে দু'আ করবেন?' আতা আস সুলামি বললেন, 'ইনশাআল্লাহ ইমানদারদের হৃদয় নিয়ে আমরা দু'আ করব।' অতপর মসজিদে পৌছানোর পূর্বেই লোকটি আল্লাহর নিকট দু'আ করলেন। এরপর আমাদের কারো গন্তব্য পৌঁছানোর আগেই বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করল এবং বৃষ্টি পড়তে আরম্ভ করল। খাঁটি মনে আল্লাহর কাছে দু'আ করলে, আল্লাহ তায়ালা দু'আ কবুল করে নেন। তাই পরিশুদ্ধময় হৃদয় দিয়ে আল্লাহকে ডাকতে হবে।
টিকাঃ
[৯২] সুরা আদিয়াত: ০৯