📄 বাবার দু‘আর ফলে
সাঈদ ইবনু মুসফির আল কাহতানি রহ. বলেন, এক লোক তার নিজের জীবনের একটি ঘটনা আমাকে শুনিয়েছিল। সে বলেছিল, আমাদের অত্যন্ত নম্র-ভদ্র ও নেককার একটি ছেলে ছিল। একদিন রাতে আমরা ঘুমাতে যাব এমন সময় আমার সেই ছেলেটি এসে বলল, 'বাবা, পড়াশোনা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি, তাই বাহিরে গিয়ে কিছু সময় হাঁটা-চলা করে আসতে চাই। আধঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসব।' আমি তখন বললাম, 'বাবা, এখন বাহিরে যেয়ো না। মানুষজন এখন ঘুমিয়ে গেছে, আর তুমিও তো ঘুমের পোশাক পরিধান করেছ।' ছেলে বলল, 'বাবা, আমি ঘুমের পোশাক পরেই যাব, একটু হাঁটাহাঁটি করেই ফিরে আসব।' আমি বললাম, 'না, কোনোভাবেই এখন বাহিরে যাওয়া যাবে না।' ছেলেটি আর কথা না বাড়িয়ে মন খারাপ করে চলে গেল। কারণ সে ছিল খুবই বিনয়ী ও ভদ্র। তাকে এভাবে মন খারাপ দেখে তার মা এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, 'আমি বাবার কাছে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে যেতে দিচ্ছেন না।' তখন তার মা আমার কাছে এসে বলল, 'ওকে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে যেতে দিন না (!) আমাদের ছেলের ব্যাপারে তো আমরা জানি ও কেমন? ও তো অনেক ভালো ছেলে।' এভাবে ওর মার পীড়াপীড়িতে আমি তাকে বাহিরে যাওয়ার অনুমতি দিলাম ঠিক কিন্তু সাথে- সাথে আমার মুখ থেকে ওর জন্য বদ দু'আ বের হয়ে গেল। আমি ওর মাকে বললাম, 'ওকে যেতে দাও।' আল্লাহ তাআলা ওকে এই যে বের করবেন আর ঘরে ফিরিয়ে আনবেন না।' আমি কিন্তু কথাটা ইচ্ছা করে বলিনি, মন থেকেও বলিনি, কিন্তু আমার মুখ থেকে কথাটা বের হয়ে গেছে। কিন্তু সময়টি ছিল দু'আ কবুলের সময়। আসমানের দরজা ছিল খোলা। রব্বে কারিমের আরশে আজিম একেবারেই উন্মুক্ত ছিল। ছেলেটি আমার বের হয়ে গেল আর ফিরে এলো না। এক ঘণ্টা যায় দুই ঘণ্টা যায় সে আর আসে না। ফজরের আজান হলো কিন্তু সে তাও এলো না। আমার অন্তর তখন ফেটে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কেউ তির দিয়ে তাতে আঘাত করছে। আমারও বুঝতে বাকি রইল না যে এটা দু'আর ফল। আমি ফজরের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরলাম, কিন্তু আমার ছেলে ফিরে এলো না। আমি থানায় গেলাম, তারা বিভিন্ন দিকে যোগাযোগ করে বলল, গতকাল রাতে ওমুক জায়গায় দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ মারা গেছে, আপনি ওমুক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখুন। আমি সেখানে দেখলাম এবং তারা আমার জন্য মর্গের দরজা খোলে দিলো। আমি দেখলাম আমার ছেলে গত রাতের দূর্ঘটনার সর্বশেষ নিহত। সে তখন ঘুমের পোশাকই পরা ছিল। আমরা তাকে সেখান থেকে নিয়ে এলাম এবং গোসল ও জানাজা দিয়ে দাফন করলাম।
আমার মনে হচ্ছে আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী। কারণ আমি তার জন্য বদদু'আ করেছি আর সেই দু'আ কবুল হয়েছে। ৬৯
টিকাঃ
[৬৯] মিন আজায়িবিদ দোয়া: ৮৪।
সাঈদ ইবনু মুসফির আল কাহতানি রহ. বলেন, এক লোক তার নিজের জীবনের একটি ঘটনা আমাকে শুনিয়েছিল। সে বলেছিল, আমাদের অত্যন্ত নম্র-ভদ্র ও নেককার একটি ছেলে ছিল। একদিন রাতে আমরা ঘুমাতে যাব এমন সময় আমার সেই ছেলেটি এসে বলল, 'বাবা, পড়াশোনা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি, তাই বাহিরে গিয়ে কিছু সময় হাঁটা-চলা করে আসতে চাই। আধঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসব।' আমি তখন বললাম, 'বাবা, এখন বাহিরে যেয়ো না। মানুষজন এখন ঘুমিয়ে গেছে, আর তুমিও তো ঘুমের পোশাক পরিধান করেছ।' ছেলে বলল, 'বাবা, আমি ঘুমের পোশাক পরেই যাব, একটু হাঁটাহাঁটি করেই ফিরে আসব।' আমি বললাম, 'না, কোনোভাবেই এখন বাহিরে যাওয়া যাবে না।' ছেলেটি আর কথা না বাড়িয়ে মন খারাপ করে চলে গেল। কারণ সে ছিল খুবই বিনয়ী ও ভদ্র। তাকে এভাবে মন খারাপ দেখে তার মা এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, 'আমি বাবার কাছে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে যেতে দিচ্ছেন না।' তখন তার মা আমার কাছে এসে বলল, 'ওকে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে যেতে দিন না (!) আমাদের ছেলের ব্যাপারে তো আমরা জানি ও কেমন? ও তো অনেক ভালো ছেলে।' এভাবে ওর মার পীড়াপীড়িতে আমি তাকে বাহিরে যাওয়ার অনুমতি দিলাম ঠিক কিন্তু সাথে- সাথে আমার মুখ থেকে ওর জন্য বদ দু'আ বের হয়ে গেল। আমি ওর মাকে বললাম, 'ওকে যেতে দাও।' আল্লাহ তাআলা ওকে এই যে বের করবেন আর ঘরে ফিরিয়ে আনবেন না।' আমি কিন্তু কথাটা ইচ্ছা করে বলিনি, মন থেকেও বলিনি, কিন্তু আমার মুখ থেকে কথাটা বের হয়ে গেছে। কিন্তু সময়টি ছিল দু'আ কবুলের সময়। আসমানের দরজা ছিল খোলা। রব্বে কারিমের আরশে আজিম একেবারেই উন্মুক্ত ছিল। ছেলেটি আমার বের হয়ে গেল আর ফিরে এলো না। এক ঘণ্টা যায় দুই ঘণ্টা যায় সে আর আসে না। ফজরের আজান হলো কিন্তু সে তাও এলো না। আমার অন্তর তখন ফেটে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কেউ তির দিয়ে তাতে আঘাত করছে। আমারও বুঝতে বাকি রইল না যে এটা দু'আর ফল। আমি ফজরের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরলাম, কিন্তু আমার ছেলে ফিরে এলো না। আমি থানায় গেলাম, তারা বিভিন্ন দিকে যোগাযোগ করে বলল, গতকাল রাতে ওমুক জায়গায় দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ মারা গেছে, আপনি ওমুক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখুন। আমি সেখানে দেখলাম এবং তারা আমার জন্য মর্গের দরজা খোলে দিলো। আমি দেখলাম আমার ছেলে গত রাতের দূর্ঘটনার সর্বশেষ নিহত। সে তখন ঘুমের পোশাকই পরা ছিল। আমরা তাকে সেখান থেকে নিয়ে এলাম এবং গোসল ও জানাজা দিয়ে দাফন করলাম।
আমার মনে হচ্ছে আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী। কারণ আমি তার জন্য বদদু'আ করেছি আর সেই দু'আ কবুল হয়েছে। ৬৯
টিকাঃ
[৬৯] মিন আজায়িবিদ দোয়া: ৮৪।
সাঈদ ইবনু মুসফির আল কাহতানি রহ. বলেন, এক লোক তার নিজের জীবনের একটি ঘটনা আমাকে শুনিয়েছিল। সে বলেছিল, আমাদের অত্যন্ত নম্র-ভদ্র ও নেককার একটি ছেলে ছিল। একদিন রাতে আমরা ঘুমাতে যাব এমন সময় আমার সেই ছেলেটি এসে বলল, 'বাবা, পড়াশোনা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি, তাই বাহিরে গিয়ে কিছু সময় হাঁটা-চলা করে আসতে চাই। আধঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসব।' আমি তখন বললাম, 'বাবা, এখন বাহিরে যেয়ো না। মানুষজন এখন ঘুমিয়ে গেছে, আর তুমিও তো ঘুমের পোশাক পরিধান করেছ।' ছেলে বলল, 'বাবা, আমি ঘুমের পোশাক পরেই যাব, একটু হাঁটাহাঁটি করেই ফিরে আসব।' আমি বললাম, 'না, কোনোভাবেই এখন বাহিরে যাওয়া যাবে না।' ছেলেটি আর কথা না বাড়িয়ে মন খারাপ করে চলে গেল। কারণ সে ছিল খুবই বিনয়ী ও ভদ্র। তাকে এভাবে মন খারাপ দেখে তার মা এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, 'আমি বাবার কাছে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে যেতে দিচ্ছেন না।' তখন তার মা আমার কাছে এসে বলল, 'ওকে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে যেতে দিন না (!) আমাদের ছেলের ব্যাপারে তো আমরা জানি ও কেমন? ও তো অনেক ভালো ছেলে।' এভাবে ওর মার পীড়াপীড়িতে আমি তাকে বাহিরে যাওয়ার অনুমতি দিলাম ঠিক কিন্তু সাথে- সাথে আমার মুখ থেকে ওর জন্য বদ দু'আ বের হয়ে গেল। আমি ওর মাকে বললাম, 'ওকে যেতে দাও।' আল্লাহ তাআলা ওকে এই যে বের করবেন আর ঘরে ফিরিয়ে আনবেন না।' আমি কিন্তু কথাটা ইচ্ছা করে বলিনি, মন থেকেও বলিনি, কিন্তু আমার মুখ থেকে কথাটা বের হয়ে গেছে। কিন্তু সময়টি ছিল দু'আ কবুলের সময়। আসমানের দরজা ছিল খোলা। রব্বে কারিমের আরশে আজিম একেবারেই উন্মুক্ত ছিল। ছেলেটি আমার বের হয়ে গেল আর ফিরে এলো না। এক ঘণ্টা যায় দুই ঘণ্টা যায় সে আর আসে না। ফজরের আজান হলো কিন্তু সে তাও এলো না। আমার অন্তর তখন ফেটে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কেউ তির দিয়ে তাতে আঘাত করছে। আমারও বুঝতে বাকি রইল না যে এটা দু'আর ফল। আমি ফজরের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরলাম, কিন্তু আমার ছেলে ফিরে এলো না। আমি থানায় গেলাম, তারা বিভিন্ন দিকে যোগাযোগ করে বলল, গতকাল রাতে ওমুক জায়গায় দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ মারা গেছে, আপনি ওমুক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখুন। আমি সেখানে দেখলাম এবং তারা আমার জন্য মর্গের দরজা খোলে দিলো। আমি দেখলাম আমার ছেলে গত রাতের দূর্ঘটনার সর্বশেষ নিহত। সে তখন ঘুমের পোশাকই পরা ছিল। আমরা তাকে সেখান থেকে নিয়ে এলাম এবং গোসল ও জানাজা দিয়ে দাফন করলাম।
আমার মনে হচ্ছে আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী। কারণ আমি তার জন্য বদদু'আ করেছি আর সেই দু'আ কবুল হয়েছে। ৬৯
টিকাঃ
[৬৯] মিন আজায়িবিদ দোয়া: ৮৪।
সাঈদ ইবনু মুসফির আল কাহতানি রহ. বলেন, এক লোক তার নিজের জীবনের একটি ঘটনা আমাকে শুনিয়েছিল। সে বলেছিল, আমাদের অত্যন্ত নম্র-ভদ্র ও নেককার একটি ছেলে ছিল। একদিন রাতে আমরা ঘুমাতে যাব এমন সময় আমার সেই ছেলেটি এসে বলল, 'বাবা, পড়াশোনা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি, তাই বাহিরে গিয়ে কিছু সময় হাঁটা-চলা করে আসতে চাই। আধঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসব।' আমি তখন বললাম, 'বাবা, এখন বাহিরে যেয়ো না। মানুষজন এখন ঘুমিয়ে গেছে, আর তুমিও তো ঘুমের পোশাক পরিধান করেছ।' ছেলে বলল, 'বাবা, আমি ঘুমের পোশাক পরেই যাব, একটু হাঁটাহাঁটি করেই ফিরে আসব।' আমি বললাম, 'না, কোনোভাবেই এখন বাহিরে যাওয়া যাবে না।' ছেলেটি আর কথা না বাড়িয়ে মন খারাপ করে চলে গেল। কারণ সে ছিল খুবই বিনয়ী ও ভদ্র। তাকে এভাবে মন খারাপ দেখে তার মা এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, 'আমি বাবার কাছে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি আমাকে যেতে দিচ্ছেন না।' তখন তার মা আমার কাছে এসে বলল, 'ওকে কিছু সময়ের জন্য বাহিরে যেতে দিন না (!) আমাদের ছেলের ব্যাপারে তো আমরা জানি ও কেমন? ও তো অনেক ভালো ছেলে।' এভাবে ওর মার পীড়াপীড়িতে আমি তাকে বাহিরে যাওয়ার অনুমতি দিলাম ঠিক কিন্তু সাথে- সাথে আমার মুখ থেকে ওর জন্য বদ দু'আ বের হয়ে গেল। আমি ওর মাকে বললাম, 'ওকে যেতে দাও।' আল্লাহ তাআলা ওকে এই যে বের করবেন আর ঘরে ফিরিয়ে আনবেন না।' আমি কিন্তু কথাটা ইচ্ছা করে বলিনি, মন থেকেও বলিনি, কিন্তু আমার মুখ থেকে কথাটা বের হয়ে গেছে। কিন্তু সময়টি ছিল দু'আ কবুলের সময়। আসমানের দরজা ছিল খোলা। রব্বে কারিমের আরশে আজিম একেবারেই উন্মুক্ত ছিল। ছেলেটি আমার বের হয়ে গেল আর ফিরে এলো না। এক ঘণ্টা যায় দুই ঘণ্টা যায় সে আর আসে না। ফজরের আজান হলো কিন্তু সে তাও এলো না। আমার অন্তর তখন ফেটে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল কেউ তির দিয়ে তাতে আঘাত করছে। আমারও বুঝতে বাকি রইল না যে এটা দু'আর ফল। আমি ফজরের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরলাম, কিন্তু আমার ছেলে ফিরে এলো না। আমি থানায় গেলাম, তারা বিভিন্ন দিকে যোগাযোগ করে বলল, গতকাল রাতে ওমুক জায়গায় দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ মারা গেছে, আপনি ওমুক হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখুন। আমি সেখানে দেখলাম এবং তারা আমার জন্য মর্গের দরজা খোলে দিলো। আমি দেখলাম আমার ছেলে গত রাতের দূর্ঘটনার সর্বশেষ নিহত। সে তখন ঘুমের পোশাকই পরা ছিল। আমরা তাকে সেখান থেকে নিয়ে এলাম এবং গোসল ও জানাজা দিয়ে দাফন করলাম।
আমার মনে হচ্ছে আমার সন্তানের মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী। কারণ আমি তার জন্য বদদু'আ করেছি আর সেই দু'আ কবুল হয়েছে। ৬৯
টিকাঃ
[৬৯] মিন আজায়িবিদ দোয়া: ৮৪।
📄 দু‘আর মহিমা
স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, আমি স্কুলটিতে জয়েন করার প্রথম দিন ক্লাসের বিরতিতে লক্ষ করলাম সকল শিক্ষক এক রুমে আড্ডা দিচ্ছে, কিন্তু একজন শিক্ষক একাকী ভিন্ন একটি রুমে বসে আছে। তার সাথে কেউই কথা বলছে না, গল্পও করছে না। আমি তখন এর কারণ সম্পর্কে জানতে শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলাম। তখন তারা আমাকে বলল, সে নামাজ পড়ে না, ইসলামের কোনো বিধি-বিধান মানে না, তাই আমরা তার সাথে একটু কম মিশি। তার সাথে প্রয়োজনের বাইরে কথা বলি না। তখন আমি সেই শিক্ষকের কাছে গিয়ে বসলাম কিন্তু সে আমার থেকে দূরে চলে গেল। এরপর দ্বিতীয়বার বিরতির সময় আমি আবার তার কাছে গেলাম, তখন সে আমার সাথে কিছুটা আন্তরিক হলো। আমি তখন তাকে বললাম, 'আমি এই গ্রামে নতুন এসেছি, এখানে আমার পরিবার বা পরিচিত কেউ নেই।
আর আমি শুনেছি, আপনি একা একা থাকেন; তাই আমি আপনার সাথে থাকতে চাই। তখন সে বলল, 'আমি লোক হিসেবে বেশি একটা ভালো না। অন্যদিকে আমি একাকী থাকতেই পছন্দ করি।' আমি বললাম, 'অল্প কিছুদিন আপনার সাথে থাকব, ভালো একটা থাকার জায়গার ব্যবস্থা হয়ে গেলেই চলে যাব।' এই প্রস্তাবে সে রাজি হলো। আমি তার সাথে থাকতে শুরু করার পর থেকে বাসার কোনো কাজই আমি তাকে করতে দিতাম না। খাবার তৈরি করা, বিছানা ঝাড়া, ঘর পরিষ্কার করা ইত্যাদি যৌথ কাজগুলো আমি একাই করতাম। এমনকি আমি তার ব্যাক্তিগত কাজগুলোও করে দিতাম। যেমন তার কাপড় ধোয়া ইত্যাদি। আমি তাকে একবারের জন্যও জিজ্ঞেস করিনি যে, সে কেন নামাজ আদায় করে না। এভাবে কিছুদিন চলার পর একদিন আমি তাকে বললাম, আপনার সাথে তো অনেক দিন থাকলাম, এবার অন্য একটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে চলে যেতে চাচ্ছি। কিন্তু সে আমার ব্যবহার ও কাজের কারণে আমাকে অন্য কোথাও যেতে দিতে রাজি হাচ্ছিল না।
আমরা একদিন দুপরের খাবারের পর চা খাচ্ছিলাম, এমন সময় আসরের আজান দিলো। আমি আমার হাতের চা রেখে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার এ অবস্থা দেখে সে আমাকে বলল, 'এভাবে প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদে যেতে তোমার কি একটুও ক্লান্তি লাগে না।' আমি বললাম, 'না বরং আমি এতে এক ধরনের শান্তি অনুভব করি। নামাজ পড়লে মানুষ ক্লান্ত হয় না বরং সে নিশ্চিন্ত হয় এবং মনের মধ্যে প্রশান্তি অনুভব করে। তুমি কি বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে চাও?' সে বলল, 'ঠিক আছে।' তারপর আমরা ওজু করে মসজিদে গেলাম। অতঃপর আমরা মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত 'দুখুলুল মসজিদ' আদায় করলাম। আমি তার পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নামাজ শেষে আমি আসমানের দিকে হাত উঠিয়ে আল্লাহর নিকট দু'আ করে বললাম, 'হে আমার রব! তাকে মসজিদে তোমার নিকট নিয়ে আসার জন্য যতকিছু করার আমি করেছি। হে আল্লাহ, তুমি তাকে হেদায়াত দান করো।' এরপর নামাজ শেষে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'মনের ভিতর কেমন অনুভব করছ?' সে বলল, 'এমন প্রশান্তি ইতঃপূর্বে আর কখনো অনুভব করিনি।' আমি বললাম, 'ঠিক আছে, তাহলে আমরা এখানেই মাগরিবের সালাত আদায় করব। আমি চাই তুমি এখন ভালোভাবে ওজু ও গোসল করে এসো। সে আমার সাথে একমত হলো। আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান করলেন এবং এরপর থেকে সে পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের সকল বিধি-বিধানগুলো মানতে শুরু করল। আমরা তখন বন্ধু হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি স্কুলের অন্য শিক্ষকদের বললাম, 'তার সাথে তোমরা ভালো আচরণ করোনি। তোমরা দেখো, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তাকে কোমলতা এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে হেদায়েত দান করলেন। এরপর সে কাজের জন্য দেশের বাইরে এক অমুসলিম দেশে গেল। সেখানে তার হাতে অনেক মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার। ৭০
টিকাঃ
[৭০] মিন আজায়িবিদ দোয়া: ৮৫।
স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, আমি স্কুলটিতে জয়েন করার প্রথম দিন ক্লাসের বিরতিতে লক্ষ করলাম সকল শিক্ষক এক রুমে আড্ডা দিচ্ছে, কিন্তু একজন শিক্ষক একাকী ভিন্ন একটি রুমে বসে আছে। তার সাথে কেউই কথা বলছে না, গল্পও করছে না। আমি তখন এর কারণ সম্পর্কে জানতে শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলাম। তখন তারা আমাকে বলল, সে নামাজ পড়ে না, ইসলামের কোনো বিধি-বিধান মানে না, তাই আমরা তার সাথে একটু কম মিশি। তার সাথে প্রয়োজনের বাইরে কথা বলি না। তখন আমি সেই শিক্ষকের কাছে গিয়ে বসলাম কিন্তু সে আমার থেকে দূরে চলে গেল। এরপর দ্বিতীয়বার বিরতির সময় আমি আবার তার কাছে গেলাম, তখন সে আমার সাথে কিছুটা আন্তরিক হলো। আমি তখন তাকে বললাম, 'আমি এই গ্রামে নতুন এসেছি, এখানে আমার পরিবার বা পরিচিত কেউ নেই।
আর আমি শুনেছি, আপনি একা একা থাকেন; তাই আমি আপনার সাথে থাকতে চাই। তখন সে বলল, 'আমি লোক হিসেবে বেশি একটা ভালো না। অন্যদিকে আমি একাকী থাকতেই পছন্দ করি।' আমি বললাম, 'অল্প কিছুদিন আপনার সাথে থাকব, ভালো একটা থাকার জায়গার ব্যবস্থা হয়ে গেলেই চলে যাব।' এই প্রস্তাবে সে রাজি হলো। আমি তার সাথে থাকতে শুরু করার পর থেকে বাসার কোনো কাজই আমি তাকে করতে দিতাম না। খাবার তৈরি করা, বিছানা ঝাড়া, ঘর পরিষ্কার করা ইত্যাদি যৌথ কাজগুলো আমি একাই করতাম। এমনকি আমি তার ব্যাক্তিগত কাজগুলোও করে দিতাম। যেমন তার কাপড় ধোয়া ইত্যাদি। আমি তাকে একবারের জন্যও জিজ্ঞেস করিনি যে, সে কেন নামাজ আদায় করে না। এভাবে কিছুদিন চলার পর একদিন আমি তাকে বললাম, আপনার সাথে তো অনেক দিন থাকলাম, এবার অন্য একটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে চলে যেতে চাচ্ছি। কিন্তু সে আমার ব্যবহার ও কাজের কারণে আমাকে অন্য কোথাও যেতে দিতে রাজি হাচ্ছিল না।
আমরা একদিন দুপরের খাবারের পর চা খাচ্ছিলাম, এমন সময় আসরের আজান দিলো। আমি আমার হাতের চা রেখে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার এ অবস্থা দেখে সে আমাকে বলল, 'এভাবে প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদে যেতে তোমার কি একটুও ক্লান্তি লাগে না।' আমি বললাম, 'না বরং আমি এতে এক ধরনের শান্তি অনুভব করি। নামাজ পড়লে মানুষ ক্লান্ত হয় না বরং সে নিশ্চিন্ত হয় এবং মনের মধ্যে প্রশান্তি অনুভব করে। তুমি কি বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে চাও?' সে বলল, 'ঠিক আছে।' তারপর আমরা ওজু করে মসজিদে গেলাম। অতঃপর আমরা মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত 'দুখুলুল মসজিদ' আদায় করলাম। আমি তার পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নামাজ শেষে আমি আসমানের দিকে হাত উঠিয়ে আল্লাহর নিকট দু'আ করে বললাম, 'হে আমার রব! তাকে মসজিদে তোমার নিকট নিয়ে আসার জন্য যতকিছু করার আমি করেছি। হে আল্লাহ, তুমি তাকে হেদায়াত দান করো।' এরপর নামাজ শেষে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'মনের ভিতর কেমন অনুভব করছ?' সে বলল, 'এমন প্রশান্তি ইতঃপূর্বে আর কখনো অনুভব করিনি।' আমি বললাম, 'ঠিক আছে, তাহলে আমরা এখানেই মাগরিবের সালাত আদায় করব। আমি চাই তুমি এখন ভালোভাবে ওজু ও গোসল করে এসো। সে আমার সাথে একমত হলো। আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান করলেন এবং এরপর থেকে সে পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের সকল বিধি-বিধানগুলো মানতে শুরু করল। আমরা তখন বন্ধু হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি স্কুলের অন্য শিক্ষকদের বললাম, 'তার সাথে তোমরা ভালো আচরণ করোনি। তোমরা দেখো, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তাকে কোমলতা এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে হেদায়েত দান করলেন। এরপর সে কাজের জন্য দেশের বাইরে এক অমুসলিম দেশে গেল। সেখানে তার হাতে অনেক মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার। ৭০
টিকাঃ
[৭০] মিন আজায়িবিদ দোয়া: ৮৫।
স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, আমি স্কুলটিতে জয়েন করার প্রথম দিন ক্লাসের বিরতিতে লক্ষ করলাম সকল শিক্ষক এক রুমে আড্ডা দিচ্ছে, কিন্তু একজন শিক্ষক একাকী ভিন্ন একটি রুমে বসে আছে। তার সাথে কেউই কথা বলছে না, গল্পও করছে না। আমি তখন এর কারণ সম্পর্কে জানতে শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলাম। তখন তারা আমাকে বলল, সে নামাজ পড়ে না, ইসলামের কোনো বিধি-বিধান মানে না, তাই আমরা তার সাথে একটু কম মিশি। তার সাথে প্রয়োজনের বাইরে কথা বলি না। তখন আমি সেই শিক্ষকের কাছে গিয়ে বসলাম কিন্তু সে আমার থেকে দূরে চলে গেল। এরপর দ্বিতীয়বার বিরতির সময় আমি আবার তার কাছে গেলাম, তখন সে আমার সাথে কিছুটা আন্তরিক হলো। আমি তখন তাকে বললাম, 'আমি এই গ্রামে নতুন এসেছি, এখানে আমার পরিবার বা পরিচিত কেউ নেই।
আর আমি শুনেছি, আপনি একা একা থাকেন; তাই আমি আপনার সাথে থাকতে চাই। তখন সে বলল, 'আমি লোক হিসেবে বেশি একটা ভালো না। অন্যদিকে আমি একাকী থাকতেই পছন্দ করি।' আমি বললাম, 'অল্প কিছুদিন আপনার সাথে থাকব, ভালো একটা থাকার জায়গার ব্যবস্থা হয়ে গেলেই চলে যাব।' এই প্রস্তাবে সে রাজি হলো। আমি তার সাথে থাকতে শুরু করার পর থেকে বাসার কোনো কাজই আমি তাকে করতে দিতাম না। খাবার তৈরি করা, বিছানা ঝাড়া, ঘর পরিষ্কার করা ইত্যাদি যৌথ কাজগুলো আমি একাই করতাম। এমনকি আমি তার ব্যাক্তিগত কাজগুলোও করে দিতাম। যেমন তার কাপড় ধোয়া ইত্যাদি। আমি তাকে একবারের জন্যও জিজ্ঞেস করিনি যে, সে কেন নামাজ আদায় করে না। এভাবে কিছুদিন চলার পর একদিন আমি তাকে বললাম, আপনার সাথে তো অনেক দিন থাকলাম, এবার অন্য একটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে চলে যেতে চাচ্ছি। কিন্তু সে আমার ব্যবহার ও কাজের কারণে আমাকে অন্য কোথাও যেতে দিতে রাজি হাচ্ছিল না।
আমরা একদিন দুপরের খাবারের পর চা খাচ্ছিলাম, এমন সময় আসরের আজান দিলো। আমি আমার হাতের চা রেখে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার এ অবস্থা দেখে সে আমাকে বলল, 'এভাবে প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদে যেতে তোমার কি একটুও ক্লান্তি লাগে না।' আমি বললাম, 'না বরং আমি এতে এক ধরনের শান্তি অনুভব করি। নামাজ পড়লে মানুষ ক্লান্ত হয় না বরং সে নিশ্চিন্ত হয় এবং মনের মধ্যে প্রশান্তি অনুভব করে। তুমি কি বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে চাও?' সে বলল, 'ঠিক আছে।' তারপর আমরা ওজু করে মসজিদে গেলাম। অতঃপর আমরা মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত 'দুখুলুল মসজিদ' আদায় করলাম। আমি তার পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নামাজ শেষে আমি আসমানের দিকে হাত উঠিয়ে আল্লাহর নিকট দু'আ করে বললাম, 'হে আমার রব! তাকে মসজিদে তোমার নিকট নিয়ে আসার জন্য যতকিছু করার আমি করেছি। হে আল্লাহ, তুমি তাকে হেদায়াত দান করো।' এরপর নামাজ শেষে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'মনের ভিতর কেমন অনুভব করছ?' সে বলল, 'এমন প্রশান্তি ইতঃপূর্বে আর কখনো অনুভব করিনি।' আমি বললাম, 'ঠিক আছে, তাহলে আমরা এখানেই মাগরিবের সালাত আদায় করব। আমি চাই তুমি এখন ভালোভাবে ওজু ও গোসল করে এসো। সে আমার সাথে একমত হলো। আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান করলেন এবং এরপর থেকে সে পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের সকল বিধি-বিধানগুলো মানতে শুরু করল। আমরা তখন বন্ধু হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি স্কুলের অন্য শিক্ষকদের বললাম, 'তার সাথে তোমরা ভালো আচরণ করোনি। তোমরা দেখো, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তাকে কোমলতা এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে হেদায়েত দান করলেন। এরপর সে কাজের জন্য দেশের বাইরে এক অমুসলিম দেশে গেল। সেখানে তার হাতে অনেক মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার। ৭০
টিকাঃ
[৭০] মিন আজায়িবিদ দোয়া: ৮৫।
স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, আমি স্কুলটিতে জয়েন করার প্রথম দিন ক্লাসের বিরতিতে লক্ষ করলাম সকল শিক্ষক এক রুমে আড্ডা দিচ্ছে, কিন্তু একজন শিক্ষক একাকী ভিন্ন একটি রুমে বসে আছে। তার সাথে কেউই কথা বলছে না, গল্পও করছে না। আমি তখন এর কারণ সম্পর্কে জানতে শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলাম। তখন তারা আমাকে বলল, সে নামাজ পড়ে না, ইসলামের কোনো বিধি-বিধান মানে না, তাই আমরা তার সাথে একটু কম মিশি। তার সাথে প্রয়োজনের বাইরে কথা বলি না। তখন আমি সেই শিক্ষকের কাছে গিয়ে বসলাম কিন্তু সে আমার থেকে দূরে চলে গেল। এরপর দ্বিতীয়বার বিরতির সময় আমি আবার তার কাছে গেলাম, তখন সে আমার সাথে কিছুটা আন্তরিক হলো। আমি তখন তাকে বললাম, 'আমি এই গ্রামে নতুন এসেছি, এখানে আমার পরিবার বা পরিচিত কেউ নেই।
আর আমি শুনেছি, আপনি একা একা থাকেন; তাই আমি আপনার সাথে থাকতে চাই। তখন সে বলল, 'আমি লোক হিসেবে বেশি একটা ভালো না। অন্যদিকে আমি একাকী থাকতেই পছন্দ করি।' আমি বললাম, 'অল্প কিছুদিন আপনার সাথে থাকব, ভালো একটা থাকার জায়গার ব্যবস্থা হয়ে গেলেই চলে যাব।' এই প্রস্তাবে সে রাজি হলো। আমি তার সাথে থাকতে শুরু করার পর থেকে বাসার কোনো কাজই আমি তাকে করতে দিতাম না। খাবার তৈরি করা, বিছানা ঝাড়া, ঘর পরিষ্কার করা ইত্যাদি যৌথ কাজগুলো আমি একাই করতাম। এমনকি আমি তার ব্যাক্তিগত কাজগুলোও করে দিতাম। যেমন তার কাপড় ধোয়া ইত্যাদি। আমি তাকে একবারের জন্যও জিজ্ঞেস করিনি যে, সে কেন নামাজ আদায় করে না। এভাবে কিছুদিন চলার পর একদিন আমি তাকে বললাম, আপনার সাথে তো অনেক দিন থাকলাম, এবার অন্য একটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে চলে যেতে চাচ্ছি। কিন্তু সে আমার ব্যবহার ও কাজের কারণে আমাকে অন্য কোথাও যেতে দিতে রাজি হাচ্ছিল না।
আমরা একদিন দুপরের খাবারের পর চা খাচ্ছিলাম, এমন সময় আসরের আজান দিলো। আমি আমার হাতের চা রেখে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার এ অবস্থা দেখে সে আমাকে বলল, 'এভাবে প্রতিদিন পাঁচবার মসজিদে যেতে তোমার কি একটুও ক্লান্তি লাগে না।' আমি বললাম, 'না বরং আমি এতে এক ধরনের শান্তি অনুভব করি। নামাজ পড়লে মানুষ ক্লান্ত হয় না বরং সে নিশ্চিন্ত হয় এবং মনের মধ্যে প্রশান্তি অনুভব করে। তুমি কি বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে চাও?' সে বলল, 'ঠিক আছে।' তারপর আমরা ওজু করে মসজিদে গেলাম। অতঃপর আমরা মসজিদে প্রবেশ করে দুই রাকাত 'দুখুলুল মসজিদ' আদায় করলাম। আমি তার পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নামাজ শেষে আমি আসমানের দিকে হাত উঠিয়ে আল্লাহর নিকট দু'আ করে বললাম, 'হে আমার রব! তাকে মসজিদে তোমার নিকট নিয়ে আসার জন্য যতকিছু করার আমি করেছি। হে আল্লাহ, তুমি তাকে হেদায়াত দান করো।' এরপর নামাজ শেষে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'মনের ভিতর কেমন অনুভব করছ?' সে বলল, 'এমন প্রশান্তি ইতঃপূর্বে আর কখনো অনুভব করিনি।' আমি বললাম, 'ঠিক আছে, তাহলে আমরা এখানেই মাগরিবের সালাত আদায় করব। আমি চাই তুমি এখন ভালোভাবে ওজু ও গোসল করে এসো। সে আমার সাথে একমত হলো। আল্লাহ তাকে হেদায়াত দান করলেন এবং এরপর থেকে সে পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের সকল বিধি-বিধানগুলো মানতে শুরু করল। আমরা তখন বন্ধু হয়ে গেলাম। অতঃপর আমি স্কুলের অন্য শিক্ষকদের বললাম, 'তার সাথে তোমরা ভালো আচরণ করোনি। তোমরা দেখো, আল্লাহ তাআলা কীভাবে তাকে কোমলতা এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে হেদায়েত দান করলেন। এরপর সে কাজের জন্য দেশের বাইরে এক অমুসলিম দেশে গেল। সেখানে তার হাতে অনেক মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার। ৭০
টিকাঃ
[৭০] মিন আজায়িবিদ দোয়া: ৮৫।
📄 পেটব্যথা ভালো হয়ে গেল
এক লোক বলেন, একদিন রাত প্রায় একটার সময় হঠাৎ আমার প্রচন্ড পেটব্যথা শুরু হলো এবং ধীরে ধীরে তা আরো বাড়তে থাকল। আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি সহ্য করতে না পেরে বাড়ির উঠোনে গিয়ে হাঁটতে লাগলাম। এরপর আমি আবার ঘরে ফিরে এলাম। আমার অবস্থা তখন এমন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। তখন আমি মনে মনে বললাম, আমি কেন আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করছি না? যেই ভাবা সেই কাজ। আমি সাথে সাথে উঠে গিয়ে ওজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলাম এবং শেষ সিজদার সময় আমার সুস্থতার জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট অনেক দু'আ করলাম। আমি যখন সিজদায় দু'আ করছিলাম তখন অনুভব করছিলাম যে, আমার শরীর থেকে অস্বস্তিকর কিছু বের হয়ে যাচ্ছে এবং প্রশান্তিদায়ক কিছু প্রবেশ করছে। এরপর আমি সিজদাহ থেকে মাথা উঠানোর পূর্বেই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। ফলে আমার প্রতি আল্লাহর এমন অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করলাম। একমাত্র তিনিই তো অনুগ্রহ ও ইহসানের উপযুক্ত মালিক। ৭১
টিকাঃ
[৭১] সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/১৩৬।
এক লোক বলেন, একদিন রাত প্রায় একটার সময় হঠাৎ আমার প্রচন্ড পেটব্যথা শুরু হলো এবং ধীরে ধীরে তা আরো বাড়তে থাকল। আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি সহ্য করতে না পেরে বাড়ির উঠোনে গিয়ে হাঁটতে লাগলাম। এরপর আমি আবার ঘরে ফিরে এলাম। আমার অবস্থা তখন এমন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। তখন আমি মনে মনে বললাম, আমি কেন আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করছি না? যেই ভাবা সেই কাজ। আমি সাথে সাথে উঠে গিয়ে ওজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলাম এবং শেষ সিজদার সময় আমার সুস্থতার জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট অনেক দু'আ করলাম। আমি যখন সিজদায় দু'আ করছিলাম তখন অনুভব করছিলাম যে, আমার শরীর থেকে অস্বস্তিকর কিছু বের হয়ে যাচ্ছে এবং প্রশান্তিদায়ক কিছু প্রবেশ করছে। এরপর আমি সিজদাহ থেকে মাথা উঠানোর পূর্বেই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। ফলে আমার প্রতি আল্লাহর এমন অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করলাম। একমাত্র তিনিই তো অনুগ্রহ ও ইহসানের উপযুক্ত মালিক। ৭১
টিকাঃ
[৭১] সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/১৩৬।
এক লোক বলেন, একদিন রাত প্রায় একটার সময় হঠাৎ আমার প্রচন্ড পেটব্যথা শুরু হলো এবং ধীরে ধীরে তা আরো বাড়তে থাকল। আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি সহ্য করতে না পেরে বাড়ির উঠোনে গিয়ে হাঁটতে লাগলাম। এরপর আমি আবার ঘরে ফিরে এলাম। আমার অবস্থা তখন এমন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। তখন আমি মনে মনে বললাম, আমি কেন আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করছি না? যেই ভাবা সেই কাজ। আমি সাথে সাথে উঠে গিয়ে ওজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলাম এবং শেষ সিজদার সময় আমার সুস্থতার জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট অনেক দু'আ করলাম। আমি যখন সিজদায় দু'আ করছিলাম তখন অনুভব করছিলাম যে, আমার শরীর থেকে অস্বস্তিকর কিছু বের হয়ে যাচ্ছে এবং প্রশান্তিদায়ক কিছু প্রবেশ করছে। এরপর আমি সিজদাহ থেকে মাথা উঠানোর পূর্বেই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। ফলে আমার প্রতি আল্লাহর এমন অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করলাম। একমাত্র তিনিই তো অনুগ্রহ ও ইহসানের উপযুক্ত মালিক। ৭১
টিকাঃ
[৭১] সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/১৩৬।
এক লোক বলেন, একদিন রাত প্রায় একটার সময় হঠাৎ আমার প্রচন্ড পেটব্যথা শুরু হলো এবং ধীরে ধীরে তা আরো বাড়তে থাকল। আমি কি করব বুঝতে পারছিলাম না। আমি সহ্য করতে না পেরে বাড়ির উঠোনে গিয়ে হাঁটতে লাগলাম। এরপর আমি আবার ঘরে ফিরে এলাম। আমার অবস্থা তখন এমন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। তখন আমি মনে মনে বললাম, আমি কেন আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করছি না? যেই ভাবা সেই কাজ। আমি সাথে সাথে উঠে গিয়ে ওজু করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলাম এবং শেষ সিজদার সময় আমার সুস্থতার জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট অনেক দু'আ করলাম। আমি যখন সিজদায় দু'আ করছিলাম তখন অনুভব করছিলাম যে, আমার শরীর থেকে অস্বস্তিকর কিছু বের হয়ে যাচ্ছে এবং প্রশান্তিদায়ক কিছু প্রবেশ করছে। এরপর আমি সিজদাহ থেকে মাথা উঠানোর পূর্বেই পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। ফলে আমার প্রতি আল্লাহর এমন অনুগ্রহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করলাম। একমাত্র তিনিই তো অনুগ্রহ ও ইহসানের উপযুক্ত মালিক। ৭১
টিকাঃ
[৭১] সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/১৩৬।
📄 রব কখনো দু‘আ ফিরিয়ে দেন না
এক লোক বলেন, একদিন হঠাৎ আমার প্রচন্ড কাশি ও গলাব্যথা শুরু হয়। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। আমি তখন ওজু করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম এবং সিজদায় পড়ে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করে বললাম, 'হে আল্লাহ! আপনি তো এমন সত্তা, যাকে রোগ ও ক্ষতি স্পর্শ করতে পারে না। হে আমার রব, আমি এমন এক বান্দা, যার রোগ এবং ক্ষতি হতে পারে। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন, আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন।' এরপর আমি দু'আ শেষ করে যখন ঘুমের রুমে আসলাম আল্লাহর রহমতে আমি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। ৭২
টিকাঃ
[৭২] সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/১৬৪।
এক লোক বলেন, একদিন হঠাৎ আমার প্রচন্ড কাশি ও গলাব্যথা শুরু হয়। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। আমি তখন ওজু করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম এবং সিজদায় পড়ে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করে বললাম, 'হে আল্লাহ! আপনি তো এমন সত্তা, যাকে রোগ ও ক্ষতি স্পর্শ করতে পারে না। হে আমার রব, আমি এমন এক বান্দা, যার রোগ এবং ক্ষতি হতে পারে। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন, আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন।' এরপর আমি দু'আ শেষ করে যখন ঘুমের রুমে আসলাম আল্লাহর রহমতে আমি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। ৭২
টিকাঃ
[৭২] সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/১৬৪।
এক লোক বলেন, একদিন হঠাৎ আমার প্রচন্ড কাশি ও গলাব্যথা শুরু হয়। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। আমি তখন ওজু করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম এবং সিজদায় পড়ে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করে বললাম, 'হে আল্লাহ! আপনি তো এমন সত্তা, যাকে রোগ ও ক্ষতি স্পর্শ করতে পারে না। হে আমার রব, আমি এমন এক বান্দা, যার রোগ এবং ক্ষতি হতে পারে। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন, আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন।' এরপর আমি দু'আ শেষ করে যখন ঘুমের রুমে আসলাম আল্লাহর রহমতে আমি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। ৭২
টিকাঃ
[৭২] সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/১৬৪।
এক লোক বলেন, একদিন হঠাৎ আমার প্রচন্ড কাশি ও গলাব্যথা শুরু হয়। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিল। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। আমি তখন ওজু করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলাম এবং সিজদায় পড়ে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করে বললাম, 'হে আল্লাহ! আপনি তো এমন সত্তা, যাকে রোগ ও ক্ষতি স্পর্শ করতে পারে না। হে আমার রব, আমি এমন এক বান্দা, যার রোগ এবং ক্ষতি হতে পারে। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আপনি আমাকে সুস্থ করে দিন, আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন।' এরপর আমি দু'আ শেষ করে যখন ঘুমের রুমে আসলাম আল্লাহর রহমতে আমি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলাম। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। ৭২
টিকাঃ
[৭২] সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২/১৬৪।