📘 দু আর মহিমা > 📄 বিজয়ের ফয়সালা তো হয় আরশে আজিমে

📄 বিজয়ের ফয়সালা তো হয় আরশে আজিমে


এই উম্মাহর বিজয় শুধুমাত্র তরবারি চালনায় দক্ষ বীরদের মাধ্যমেই অর্জিত হয়নি বরং উম্মাহর বিজয়ের ক্ষেত্রে আসমানের দিকে হাত তুলে মহান রবের নিকট কাকুতি-মিনতি করা বীরদের ভূমিকাও কম নয়।
আইনে জালুতের যুদ্ধের সময় সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ রাহিমাহুল্লাহু জুমার দিন মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন, এবং খতিবগণ মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে মুজাহিদদের বিজয় এবং মুসলিম উম্মাহকে রক্ষার জন্য কাকুতি-মিনতে করে মহান রবের দরবারে দু'আ করেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা স্বল্পসংখ্যক মুজাহিদদের হাতে প্রবল শক্তিধর বিশাল তাতার বাহিনীকে পরাজিত করেন।
যুদ্ধ যখন তুমুল আকার ধারণ করে, সুলতান তখন শত্রুদের ঘেরাউয়ের মধ্যে পড়ে জীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়। তখন একদল মুসলিম বীর সুলতানকে বাঁচানোর জন্য অগ্রসর হয় এবং নিজেদের জীবন বাজি রেখে সুলতানকে রক্ষা করতে থাকে। তাদের মধ্যে একজন ছিল খুব বেশি তৎপর। সুলতানকে রক্ষার ব্যাপারে ছিল বদ্ধপরিকর। এভাবে যুদ্ধের একপর্যায়ে সে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন সে সুলতানকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকে, হে মুসলিমদের সুলতান! আপনি নিজেকে রক্ষা করুন। হে মুসলিমদের সুলতান! আপনি নিজেকে রক্ষা করুন। এই তো আমি আপনার পূর্বে জান্নাতে চলে যাচ্ছি। এই তো আমি আপনার পূর্বে জান্নাতে চলে যাচ্ছি।
সুলতান তখন ভালোভাবে লক্ষ করে দেখেন, এতক্ষণ যেই সৈন্যটি তাকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপনে লড়াই করল সে তারই প্রিয়তমা স্ত্রী। সুলতান তখন স্ত্রীকে তুলে নিয়ে তাবুতে ফিরে আসেন এবং বিছানায় প্রিয়তমা স্ত্রীকে শুইয়ে তার কপালে চুমু দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার স্ত্রী। সুলতানের স্ত্রীর তখনও সামান্য হুঁশ ছিল। সে তখন সুলতানের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকাল এবং ভাঙা ভাঙা গলায় বলল, হায় আমার প্রিয়তমা! হায় আমার প্রিয়তমা! বলো না। বরং বলো, হায় আমার ইসলাম! হায় আমার ইসলাম! এরপর তার ইন্তেকাল হয়ে গেল।
সুলতান প্রিয়তমা স্ত্রীর কপালে একটি চুমু দিলেন। নিজের চোখের অশ্রু মুছে ফেললেন ঠিকই কিন্তু ভেতরের হৃদয় নামক চোখটা কাঁদতেই ছিল। কয়েকজনকে স্ত্রীর দাফনের দায়িত্ব দিয়ে ময়দানের দিকে রওনা হলেন। ময়দানে এসে তাকবির দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। সুলতানের তাকবির ধ্বনি শুনে মুজাহিদদের সাহস ও মনোবল ফিরে এলো। তারাও সুলতানের সাথে তাকবির বলে ময়দান প্রকম্পিত করে তুলল। সুলতান তখন মাথা থেকে শিরস্ত্রাণ খুলে ফেললেন যাতে মুজাহিদগণ তাকে দেখে চিনতে পারে এবং তার উপস্থিতির কথা জেনে জিহাদের উদ্দমতা ফিরে পায়। সুলতান তার শিরস্ত্রাণ খুলে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, হায় আমার ইসলাম! হায় আমার ইসলাম!!
একদিকে মুজাহিদগণ তাদের জীবন বাজি রেখে ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। অন্য দিকে যারা অক্ষম, জিহাদে আসতে পারেনি তারা মসজিদে, গৃহের অভ্যন্তরে জায়নামাজে বসে মহান প্রভুর দরবারে হাত উঠিয়ে বলতেছিলেন, হে আমাদের রব! আমাদের রক্ষা করুন। শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের মুজাহিদ ভাইদের সাহায্য করুন। মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! আপনি শিরক ও মুশরিকদের ধ্বংস করুন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষা করুন।
এভাবে যখন মুজাহিদদের তাকবির ধ্বনি এবং মুসল্লিদের দু'আয় কান্নার আওয়াজ একত্র হয়ে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে, কেবল তখনই আসমান থেকে আল্লাহর সাহায্য নেমে আসে এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় অর্জন হয়। কারণ বিজয়ের ফয়সালা তো হয় আরশে আজিমে, মহান রবের দরবারে।

সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ যখন মুজাহিদদের নিয়ে তাতারদের ওপর চূড়ান্ত আক্রমণ করলেন তখন তারা এই আয়াতগুলো বলেছিল,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ
'হে ইমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখি হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না।'৫৬
হ্যাঁ! শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে ধৈর্য্যের সাথে দৃঢ়পদ থাকা এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে দু'আ-মুনাজাতের মাধ্যমেই বিজয় অর্জিত হয়। রাতের ইবাদতকারী এবং দিনের বীর যোদ্ধাদের হাতেই কাফেররা পরাজিত হয়।
প্রিয় ভাই ও বোন! নিশ্চয় রাতের নামাজ এবং শেষ রাতের দু'আর মধ্যেই রয়েছে দুনিয়াতে মুমিনের সম্মান, শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এবং আখিরাতে রয়েছে তার মহা প্রতিদান।
রোম সম্রাট তার এক অনুসারীকে মুসলিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। (সে মুসলমানদের নিকট কিছুদিন বন্দী ছিল) সম্রাট তাকে বলল, এই লোকদের ব্যাপারে আমাকে কিছু বলো। তখন সে বলল, আমি আপনাকে এমনভাবে তাদের বর্ণনা দেব যেন আপনি তাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন। তারা হলো রাতের সন্যাসী আর দিনের লড়াকু বীর। তারা তাদের অধীনস্থদের থেকেও মূল্যের বিনিময়ে ক্রয় করা ব্যতীত কিছু খায় না। তারা যেখানেই প্রবেশ করে সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় আসা পর্যন্ত তারা ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে ময়দানে টিকে থাকে।
তখন রুম সম্রাট বলল, তুমি যা বললে তা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তারা আমার পায়ের নিচের এই মাটিরও মালিক হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এমনটিই হয়েছিল। আমরা রোমানদের পরাজিত করেছিলাম। তাদের সিংহাসনের মালিক হয়েছিলাম।
হ্যাঁ, যখন আমরা রোজা রাখতাম, রাতের বেলা তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করতাম, মহান রবের দরবারে অশ্রু ফেলে দু'আ করতাম, দিনের বেলা মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করতাম, কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা করতাম, জালিমদের থেকে মাজলুমদের হক আদায় করে করে দিতাম, আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তাম তখন আমাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এসেছে। আমরা ময়দানে শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি।
কোনো এক প্রচার মাধ্যমে শুনেছিলাম, তার সংবাদদাতা বলছিলেন, আমি কাশ্মীরের একটি হত্যাকান্ডের দৃশ্য দেখেছি। এর চেয়ে কুৎসিত আর ভয়ংকর দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। হাজার হাজার মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছে। আমি অসংখ্য নারী ও শিশুর মস্তকবিহীন লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি।
আজ আমাদের অবস্থা কেন এমন হলো? কেন পৃথিবীর এখানে সেখানে আমাদের হত্যা করা হচ্ছে? আমরা কেন সবখানে মার খাচ্ছি?
এর উত্তর একটাই, আমরা যখন দ্বীন থেকে দূরে সরে গেছি, আল্লাহর আদেশ মানা এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা বন্ধ করেছি, শেষ রাতে উঠে সালাতে তেলাওয়াত এবং মুনাজাতে তার নিকট কাকুতি মিনতি করা বন্ধ করেছি, দিনের বেলা অস্ত্র ও ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দিয়েছি তখনই শত্রুরা আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। তারা আমাদের ভয় পাওয়ার বিপরীতে আমাদেরকে ভয় দেখানো শুরু করেছে।

টিকাঃ
[৫৬] সুরা আনফাল: ১৫।

📘 দু আর মহিমা > 📄 আল্লাহ তাআলাই হলেন সাহায্যকারী

📄 আল্লাহ তাআলাই হলেন সাহায্যকারী


হে আল্লাহ, আপনিই আমাদের সাহায্যকারী, আমাদেরকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারকারী। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সাহায্য করুন। এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুন।
হে আল্লাহ! আপনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। হে অন্তরসমূহকে পরিবর্তনকারী। আপনি তো পথভ্রষ্টকে হেদায়েত দান করেন, ফকিরকে ধনী বানান, গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন, মানুষের দোষত্রুটি গোপন করেন, মাজলুমকে সাহায্য করেন।
হে পরাক্রমশালী মাবুদ, আপনি আমাদের অবস্থাকে পরিবর্তন করে দিন। আমাদেরকে আপনার প্রিয় বান্দা বানিয়ে দিন। আমাদেরকে রাতের সন্যাসী আর দিনের লড়াকু বীর বানিয়ে দিন।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ইসলামের খাদিম বানান। আপনার দ্বীনের জন্য আমাদের কবুল করেন।

أتهزأ بالدعاء وتزدريه وما تدري بما صنع الدعاء
سهام الليل لا تخطي ولكن لها أمد وللأمد انقضاء
'তুমি কি দু'আ নিয়ে ঠাট্টা করো এবং তাকে তুচ্ছ মনে করো? তুমি তো জানো না যে দু'আ কি করতে পারে। রাতের তীর কখনো লক্ষভ্রষ্ট হয় না। কিন্তু তার নির্দিষ্ট একটা সময় রয়েছে সেই সময়েই তা কবুল হবে।'

📘 দু আর মহিমা > 📄 কার মাধ্যমে উম্মাহর বিজয় আসবে?

📄 কার মাধ্যমে উম্মাহর বিজয় আসবে?


এই উম্মাহর বিজয় আসবে ওইসকল আবেদিন, সালেহিন, সাদেকিন ও মুজাহিদিনদের মাধ্যমে, যারা কুরআন-হাদিসকে অনুসরণ করে। তাদের পরিচয় হলো:
'তারা হলো রাতের ইবাদতকারী। রাতের অন্ধকার যখন গভীর হয় তারা তখন রবের দরবারে অশ্রু ঝরায়। লুকায়িত সিংহ। জিহাদের ডাক আসলে মৃত্যুর দিকে ছুটে যায়, আর এটাকে তারা স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম বানায়।'
হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহু বলেন, কুরআন তেলাওয়াতকারী তিন প্রকার। (১) যারা কুরআনকে পণ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
(২) যারা কুরআনের হুদুদ বাদ দিয়ে শুধু হরফকে গ্রহণ করে।
(৩) যারা কুরআনকে তাদের অন্তরের প্রতিষেধক হিসেবে গ্রহণ করে এবং কুরআনকে নিজেদের পথপ্রদর্শক বানায়।
এই তৃতীয় প্রকার লোকদের মাধ্যমেই উম্মাহর বিজয় আসবে। এবং এদের কারণেই জমিনে বৃষ্টি বর্ষণ হয়।

ইয়ামামার যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যবাহিনী যখন মুসাইলামাতুল কাজজাব ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সারিবদ্ধ হলো তখন মুহাজিরদের ঝান্ডাবাহী হযরত সালেম মাওলা আবি হুজায়ফাকে মুসলমানরা বলল, আমরা আশঙ্কা করছি যে, আপনার দিক থেকে (শত্রুর) আক্রমণ আসবে। তখন তিনি বলেছিলেন, যদি আমার দিক থেকে আক্রমণ আসে তাহলে আমি কতই-না নিকৃষ্ট কুরআনের বাহক।
কুতাইবা ইবনু মুসলিম রহ. যেদিন তুরকিদের মুখোমুখি হন, তার আগের রাতে তিনি আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর নিকট দু'আ-মুনাজাতে প্রচুর পরিমাণে কান্নাকাটি করেন। অতঃপর সকালে মুহাম্মদ ইবনুল ওয়াসির ব্যাপারে লোকদের নিকট জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি এখন কোথায়? লোকেরা তাকে খুঁজতে খুঁজতে তার তাবুর কাছে এসে দেখেন, তিনি নামাজ আদায় করছেন এবং আসমানের দিকে আঙুল তুলে আল্লাহর দরবারে দু'আ করছেন। তারা কুতাইবা ইবনু মুসলিমের নিকট ফিরে এসে তার এ অবস্থা বর্ণনা করল। কুতাইবা ইবনু মুসলিম তখন বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, মুহাম্মদ ইবনু ওয়াসির একটা আঙুল আমার নিকট এক হাজার ধারালো তরবারির চেয়ে এবং এক হাজার সুঠাম দেহী যুবকের চেয়েও উত্তম।
আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মিশরের বাবেলিয়নদের দূর্গ অবরোধ করলেন, তখন তিনি হজরত উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর নিকট চার হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী পাঠানোর অনুরোধ করে একটি চিঠি পাঠিয়ে তাতে লিখেন, এদের সাহায্যে তিনি পূর্ণ মিশর বিজয় সম্পন্ন করতে চান। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জুবাইর ইবনলু আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নেতৃত্বে মাত্র চারজন লোকের একটি কাফেলা পাঠালেন এবং আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট চিঠিতে লিখলেন, আমি তোমার নিকট জুবাইর ইবনলু আওয়ামের নেতৃত্বে চারজন লোক পাঠিয়েছি। যাদের প্রত্যেকে এক হাজার লোকের সমান। আর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একথা বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, 'যেই বাহিনীর মধ্যে মিকদাদ থাকবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা কখনো পরাজিত হবে না।'
হ্যাঁ! এমন লোকদের মাধ্যমেই উম্মাহর বিজয় আসে। এরা সর্বদা আল্লাহর জিকির করতে থাকে। তাদের চেহারা দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের নুর বিচ্ছুরিত হতে থাকে। এদের ব্যাপারে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
من عادى لي ولياً فقد آذنته بالحرب 'যে আমার ওলির সাথে শত্রুতা করবে আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি।'
এরাই তো ওইসকল লোক, যাদের মধ্য থেকে কেউ যখন বলে, হে আমার রব! সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমার কী প্রয়োজন বলো, হে আমার বান্দা? এরা তো রাতের অন্ধকারে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাহাজ্জুদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আর তির নিক্ষেপ করে। আল্লাহ তাআলা যখন নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবুওয়াতের মহান দায়িত্ব দিলেন তখন ওহির মাধ্যমে তাকে বলে দিলেন,

يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا نِصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا
'হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রিতে দণ্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম অথবা তদপেক্ষা বেশি এবং কুরআন তেলাওয়াত করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। নিশ্চয় ইবাদতের জন্যে রাত্রিতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল।'৫৭
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সাহাবিদেরকে তাহাজ্জুদ ও রাতে আল্লাহর দরবারে দু'আ মুনাজাতের ওপর অভ্যস্ত করে গড়ে তুলেছেন। যেমন: আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন-
إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِن ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِّنَ الَّذِينَ مَعَكَ
'আপনার পালনকর্তা জানেন, আপনি ইবাদতের জন্যে দণ্ডায়মান হোন রাত্রির প্রায় দুই তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও তৃতীয়াংশ এবং আপনার সঙ্গীদের একটি দলও দণ্ডায়মান হয়। '৫৮
কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তাহাজ্জুদের জন্য একমাত্র খাঁটি মুনিনগণ উঠতে পারেন কারণ মুনাফিক তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে পারে না।

টিকাঃ
[৫৭] সুরা মুজাম্মিল: ১-৬।
[৫৮] সুরা মুজাম্মিল: ২০।

📘 দু আর মহিমা > 📄 তুমিও হতে পারবে অনেক কিছু

📄 তুমিও হতে পারবে অনেক কিছু


তুমি যদি সালেহিনদের কাতারে শামিল হতে চাও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে শেষরাতে তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করতে হবে এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতিমিনতি করে দু'আ করতে হবে।
তুমি যদি দরিদ্র হও এবং আল্লাহর নিকট তোমার দারিদ্রতা থেকে মুক্তি কামনা করতে চাও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে শেষরাতে তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করতে হবে এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতিমিনতি করে দু'আ করতে হবে।
তুমি যদি মাজলুম হয়ে থাকো এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য চাও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে শেষরাতে তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করতে হবে এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতিমিনতি করে দু'আ করতে হবে।
তুমি যদি পাপ ও পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি চাও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে শেষ রাতে তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করতে হবে এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতিমিনতি করে ক্ষমা চাইতে হবে।
তুমি যদি অসুস্থ হয়ে থাকো এবং আল্লাহ তাআলার নিকট সুস্থতা কামনা করতে চাও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে শেষরাতে তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করতে হবে এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতিমিনতি করে দু'আ করতে হবে।
তুমি যদি বন্ধ্যা ও নিঃসন্তান হয়ে থাকো এবং তুমি সন্তান কামনা করো; তাহলে অবশ্যই তোমাকে শেষরাতে তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করতে হবে এবং আল্লাহর দরবারে কাকুতিমিনতি করে দু'আ করতে হবে। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
عليكم بقيام الليل فإنه دأب الصالحين قبلكم، ومقربة لكم إلى ربكم، ومكفرة للسيئات، وملهاة عن الإثم، ومطردة لداء الجسد
'তোমরা অবশ্যই কিয়ামুল লাইল তথা তাহাজ্জুদ আদায় করবে। কারণ তা ছিল তোমাদের পূর্ববর্তী সালেহিনদের অভ্যাস ও সাধনা। এর মাধ্যমে তোমাদের রবের নৈকট্য হাসিল হবে। তোমাদের পাপসমূহ মাফ হবে। এটা তোমাদেরকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে রাখবে এবং রুগ্ন-ব্যাধিকে শরীর থেকে দূরে রাখবে। [৫৯]

টিকাঃ
[৫৯] তাবরানি ফিল কাবির।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00