📄 তোমরা দু‘আ করো, তোমাদের রব কবুল করবেন
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বদর যুদ্ধের দিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তারা সংখ্যায় প্রায় এক হাজার। আর তাঁর সাহাবিরা ছিলেন তিনশ' তেরজন। তখন নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হলেন। এরপর দু-হাত উঁচু করে উচ্চস্বরে তার পালনকর্তার কাছে দু'আ করতে লাগলেন, হে আল্লাহ, তুমি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছ আমার জন্য তা পূরণ করো। হে আমার রব, তুমি আমাকে যা প্রদানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, তা প্রদান করো। হে আল্লাহ, যদি মুসলিমদের এই ক্ষুদ্র সেনাদল ধ্বংস করে দাও তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না। তিনি এমনিভাবে দু-হাত উঁচু করে কিবলামুখী হয়ে তার পালনকর্তার কাছে অনর্গল উচ্চস্বরে দু'আ করতে ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর কাঁধ থেকে চাদর পড়ে গেল। এরপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কাছে এসে চাদরখানা তাঁর কাঁধে তুলে দিলেন। তারপর তাঁর পিছন দিক থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নবি, আপনার এতটুকু দু'আই যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আপনার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন, তা অচিরেই পূর্ণ করবেন।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সময় মাথা নিচু করে নীরব রইলেন এবং এভাবে কিছু সময় থাকার পর মাথা উঁচু করে বললেন, হে আবু বকর, সুসংবাদ গ্রহণ করো। হে আবু বকর, সুসংবাদ গ্রহণ করো। বিজয় এসে গেছে, বিজয় এসে গেছে। এই তো ভাই জিবরাইল ঘোড়ার লাগাম ধরেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُ
'এ দল তো সত্ত্বরই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কিয়ামত ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততর। ৫৩
আবু জুমায়ল বর্ণনা করেন, আমাকে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, সেদিন একজন মুসলমান সৈনিক তার সামনের একজন মুশরিকের পিছনে ধাওয়া করছিলেন। এমন সময় তিনি তাঁর ওপর দিক থেকে বেত্রাঘাতের শব্দ শুনতে পেলেন এবং তার ওপর দিকে অশ্বারোহীর ধ্বনি শুনতে পেলেন। তিনি (অদৃশ্য অশ্বারোহী) বলছেন, হে হায়মুম (ফিরিশতার ঘোড়ার নাম), সামনের দিকে অগ্রসর হও। তখন তিনি (উক্ত সাহাবি) তার সামনের মুশরিক ব্যক্তির প্রতি তাকিয়ে দেখলেন যে, সে চিৎ হয়ে পড়ে আছে। এরপর তাকিয়ে দেখেন যে, তার নাক ক্ষতযুক্ত এবং তার মুখমন্ডল আঘাতপ্রাপ্ত। যেন কেউ তাকে বেত্রাঘাত করেছে। আহত স্থানগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে। এরপর আনসারি ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে যাবতীয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। এই সাহায্য আসমান থেকে এসেছে। পরিশেষে সেদিন মুসলিমগণ সত্তরজন কাফিরকে হত্যা এবং সত্তরজনকে বন্দি করলেন।
হ্যাঁ আল্লাহ তাআলা তাঁর কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তাআলাও শত্রুদেরকে পরাজিত করে তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। তারা আল্লাহকে সাহায্য করেছেন; ফলে আল্লাহও তাদের সাহায্য করেছেন। বিজয় দান করেছেন।
বদরের পূর্বে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের নিকট পরামর্শ চেয়ে বললেন,
أشيروا علي أيها الناس 'হে লোকসকল, আমাকে পরামর্শ দাও।'
তখন মুহাজিরগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ তাআলা আপনাকে যেই আদেশ দিয়েছেন, আপনি তা পালনে অগ্রসর হোন, আমরা আপনার সাথে থাকব। ওই সত্তার কসম করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্য নবি হিসেবে প্রেরণ করেছেন, আপনি যদি আমাদেরকে নিয়ে বারকুল গিমাদ পর্যন্ত যান আমরা আপনার সাথে যাব এবং আপনার আশপাশে থেকে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করব। আমাদের মধ্যে থেকে একজনও পিছপা হবো না। আল্লাহর শপথ করে বলছি, বনি ইসরাইল মুসা আ.-কে যেমনটি বলেছিল আমরা আপনাকে তেমনটি বলব না। তারা বলেছিল, 'আপনি এবং আপনার রব গিয়ে যুদ্ধ করুন আমরা এখানেই বসে থাকব।' বরং আমরা বলব, আপনি অগ্রসর হোন, আমরাও আপনার এবং আপনার রবের সাথে যুদ্ধ করব।
অতঃপর আনসারগণ দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার প্রতি ইমান এনেছি, আপনাকে সত্যায়ন করেছি, আপনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন; তাকে সত্য বলে সাক্ষ্য দিয়েছি এবং এ বিষয়ে আমরা আপনার সাথে অঙ্গীকার করেছি, আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সুতরাং আপনি আগ্রসর হোন, আমরা আপনার সাথে থাকব। ওই সত্তার কসম করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্য হিসেবে পাঠিয়েছেন, আপনি যদি আমাদেরকে নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন, তাহলে আমরা আপনার সামনে সমুদ্রে ঝাঁপ দেব, আমাদের থেকে একজনও পিছনে থাকবে না। আল্লাহর শপথ! আপনি যদি আমাদেরকে পাহাড়ের ওপর থেকে ঝাঁপ দিতে বলেন, তাহলে আমরা তাই করব, আমাদের থেকে একজনও পিছপা হবো না। হে আল্লাহর রাসুল, আপনি যার সাথে সম্পর্কের রশি জুড়া দিতে চান দিন, আর যার থেকে এই রশি ছিন্ন করতে চান, করুন। যার সাথে সন্ধি করতে চান করুন। আর যার সাথে শত্রুতা করতে চান করুন। আমরা আপনার সাথেই থাকব। হে নবিজি! আপনি আমাদের সম্পদ থেকে যা নিতে চান নিয়ে নিন এবং যা রেখে দিতে চান রেখে দিন। আপনি আগামীকাল আমাদেরকে নিয়ে শত্রুর মুকাবিলা করুন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। নিশ্চয় আমরা যুদ্ধের ময়দানে পরীক্ষিত এবং বিশ্বস্ত। সুতরাং আল্লাহর ওপর ভরসা করে আপনি আমাদের নিয়ে অগ্রসর হোন।
প্রিয় ভাই, সাহাবারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা রক্ষা করেছেন, ফলে আল্লাহ তাআলাও তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। তারা আল্লাহকে সাহায্য করেছেন; ফলে আল্লাহও তাদের সাহায্য করেছেন। বিজয় দান করেছেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ ، فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَن يَكْفِيَكُمْ أَن يُمِدَّكُمْ رَبُّكُم بِثَلَاثَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُنزَلِينَ بَلَى إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هُذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَى لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ
'বস্তুত আল্লাহ বদর যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। কাজেই আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো। আপনি যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে, তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের পালনকর্তা আসমান থেকে অবতীর্ণ তিন হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন। অবশ্য তোমরা যদি সবর করো এবং বিরত থাকো আর তারা যদি তখনই তোমাদের ওপর চড়াও হয়, তাহলে তোমাদের পালনকর্তা পাঁচ হাজার ফেরেশতা তোমাদের সাহায্যে পাঠাতে পারেন। বস্তুত এটা তো আল্লাহ তোমাদের সুসংবাদ দান করলেন, যাতে তোমাদের মনে এতে সান্ত্বনা আসতে পারে। আর সাহায্য শুধুমাত্র পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী আল্লাহরই পক্ষ থেকে।'৫৪
প্রিয় ভাই! একবার ভেবে দেখেছ কি, তারা কীভাবে বিজয় অর্জন করলেন? কীভাবে এত অল্পসংখ্যক লোক অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করল? হ্যাঁ, তারা এটা পেরেছেন আল্লাহর আনুগত্য করে, আসমান ও জমিনের রবের নিকট কাকুতি-মিনতি করে দু'আ করে। তারা নিজেদের জান-মাল আল্লাহর নিকেট বিক্রি করে দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা জান্নাতের বিনিময় তা কবুল করে নিয়েছেন। আল্লাহর শপথ করে বলছি, ফলে তারা সফল হয়েছেন।
البائعون نفوسهم لمليكهم الله أمضى بيعهم وتكرما
والحاملين إلى الوغى أرواحهم " وعلى نحورهم تحدرت الدما
قوم كأن وجوههم شمس الضحى طلعت ففرّ الليل كالح مظلما
'যারা তাদের মালিকের জন্য নিজেদেরকে বিক্রি করে দিয়েছে, আল্লাহ তাদের এই বিক্রয়কে গ্রহণ করেছেন এবং তারা সম্মানিত হয়েছে।
তারা নিজের জান হাতে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং তাদের গন্ডদেশ দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়েছে।
তারা এমন সম্প্রদায় যাদের চেহারা পূর্বাহ্ণের সূর্যের চেয়েও উজ্জ্বল দীপ্তিময়। যার আলোতে রাতের কালো অন্ধকার দূরীভূত হয়ে গেছে।'
তুমি তোমার পূর্ণ জীবনকে আল্লাহ তাআলার জন্য উৎসর্গ করে দাও। তুমি আল্লাহর দিকে দাওয়াত ও জিহাদের পথে তোমার পূর্ণ জীবনকে ব্যয় করো। তুমি এমন জীবন গঠন করো, যার বাহ্যিক অবস্থাটা হবে দুঃখ-কষ্ট আর সংকীর্ণতার আর ভেতরটা হবে সুখ-শান্তি, প্রশস্ততা আর দীপ্তিময়তার। বাহ্যিকটা হবে অস্থিরতা ও অশ্রু বিসর্জনের আর ভেতরটা হবে বিনয় ও ভরসার। শরীর ক্লান্ত হবে অন্তর প্রশান্ত থাকবে। দেহটা হাটাহাটি করবে জমিনের ওপরে আর আত্মাটা ঘুরাঘুরি করবে আরশের ওপর। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন,
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ
'বলো, আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবানিতে। সুতরাং এরই প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত। এটিই উত্তম তারা যা সঞ্চয় করছে তা থেকে। '৫৫
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ হলো ইসলাম, আর তাঁর রহমত হলো তিনি তোমাদেরকে কুরআনওয়ালা বানাবেন।'
হে আমার রব, আমরা যেন দাঁড়ানো ও বসা, ঘুমন্ত ও জাগ্রত, চলতে-ফিরতে সর্বাবস্থায় মুসলিম হয়ে এবং কুরআনওয়ালা হয়ে বাঁচতে পারি এবং আপনি আমাদেরকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিয়ে আপনার প্রিয় বান্দা সালেহিনদের সাথে একত্র করে দিন। আমিন।
টিকাঃ
[৫৩] সুরা কামার: ৪৫-৪৬।
[৫৪] সূরা আল ইমরান-১২৩-১২৬
[৫৫] সুরা ইউসুফ: ৫৮।
📄 বিজয়ের ফয়সালা তো হয় আরশে আজিমে
এই উম্মাহর বিজয় শুধুমাত্র তরবারি চালনায় দক্ষ বীরদের মাধ্যমেই অর্জিত হয়নি বরং উম্মাহর বিজয়ের ক্ষেত্রে আসমানের দিকে হাত তুলে মহান রবের নিকট কাকুতি-মিনতি করা বীরদের ভূমিকাও কম নয়।
আইনে জালুতের যুদ্ধের সময় সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ রাহিমাহুল্লাহু জুমার দিন মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন, এবং খতিবগণ মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে মুজাহিদদের বিজয় এবং মুসলিম উম্মাহকে রক্ষার জন্য কাকুতি-মিনতে করে মহান রবের দরবারে দু'আ করেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা স্বল্পসংখ্যক মুজাহিদদের হাতে প্রবল শক্তিধর বিশাল তাতার বাহিনীকে পরাজিত করেন।
যুদ্ধ যখন তুমুল আকার ধারণ করে, সুলতান তখন শত্রুদের ঘেরাউয়ের মধ্যে পড়ে জীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়। তখন একদল মুসলিম বীর সুলতানকে বাঁচানোর জন্য অগ্রসর হয় এবং নিজেদের জীবন বাজি রেখে সুলতানকে রক্ষা করতে থাকে। তাদের মধ্যে একজন ছিল খুব বেশি তৎপর। সুলতানকে রক্ষার ব্যাপারে ছিল বদ্ধপরিকর। এভাবে যুদ্ধের একপর্যায়ে সে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন সে সুলতানকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকে, হে মুসলিমদের সুলতান! আপনি নিজেকে রক্ষা করুন। হে মুসলিমদের সুলতান! আপনি নিজেকে রক্ষা করুন। এই তো আমি আপনার পূর্বে জান্নাতে চলে যাচ্ছি। এই তো আমি আপনার পূর্বে জান্নাতে চলে যাচ্ছি।
সুলতান তখন ভালোভাবে লক্ষ করে দেখেন, এতক্ষণ যেই সৈন্যটি তাকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপনে লড়াই করল সে তারই প্রিয়তমা স্ত্রী। সুলতান তখন স্ত্রীকে তুলে নিয়ে তাবুতে ফিরে আসেন এবং বিছানায় প্রিয়তমা স্ত্রীকে শুইয়ে তার কপালে চুমু দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার স্ত্রী। সুলতানের স্ত্রীর তখনও সামান্য হুঁশ ছিল। সে তখন সুলতানের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকাল এবং ভাঙা ভাঙা গলায় বলল, হায় আমার প্রিয়তমা! হায় আমার প্রিয়তমা! বলো না। বরং বলো, হায় আমার ইসলাম! হায় আমার ইসলাম! এরপর তার ইন্তেকাল হয়ে গেল।
সুলতান প্রিয়তমা স্ত্রীর কপালে একটি চুমু দিলেন। নিজের চোখের অশ্রু মুছে ফেললেন ঠিকই কিন্তু ভেতরের হৃদয় নামক চোখটা কাঁদতেই ছিল। কয়েকজনকে স্ত্রীর দাফনের দায়িত্ব দিয়ে ময়দানের দিকে রওনা হলেন। ময়দানে এসে তাকবির দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। সুলতানের তাকবির ধ্বনি শুনে মুজাহিদদের সাহস ও মনোবল ফিরে এলো। তারাও সুলতানের সাথে তাকবির বলে ময়দান প্রকম্পিত করে তুলল। সুলতান তখন মাথা থেকে শিরস্ত্রাণ খুলে ফেললেন যাতে মুজাহিদগণ তাকে দেখে চিনতে পারে এবং তার উপস্থিতির কথা জেনে জিহাদের উদ্দমতা ফিরে পায়। সুলতান তার শিরস্ত্রাণ খুলে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, হায় আমার ইসলাম! হায় আমার ইসলাম!!
একদিকে মুজাহিদগণ তাদের জীবন বাজি রেখে ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। অন্য দিকে যারা অক্ষম, জিহাদে আসতে পারেনি তারা মসজিদে, গৃহের অভ্যন্তরে জায়নামাজে বসে মহান প্রভুর দরবারে হাত উঠিয়ে বলতেছিলেন, হে আমাদের রব! আমাদের রক্ষা করুন। শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের মুজাহিদ ভাইদের সাহায্য করুন। মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! আপনি শিরক ও মুশরিকদের ধ্বংস করুন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষা করুন।
এভাবে যখন মুজাহিদদের তাকবির ধ্বনি এবং মুসল্লিদের দু'আয় কান্নার আওয়াজ একত্র হয়ে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে, কেবল তখনই আসমান থেকে আল্লাহর সাহায্য নেমে আসে এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় অর্জন হয়। কারণ বিজয়ের ফয়সালা তো হয় আরশে আজিমে, মহান রবের দরবারে।
সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ যখন মুজাহিদদের নিয়ে তাতারদের ওপর চূড়ান্ত আক্রমণ করলেন তখন তারা এই আয়াতগুলো বলেছিল,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ
'হে ইমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখি হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না।'৫৬
হ্যাঁ! শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে ধৈর্য্যের সাথে দৃঢ়পদ থাকা এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে দু'আ-মুনাজাতের মাধ্যমেই বিজয় অর্জিত হয়। রাতের ইবাদতকারী এবং দিনের বীর যোদ্ধাদের হাতেই কাফেররা পরাজিত হয়।
প্রিয় ভাই ও বোন! নিশ্চয় রাতের নামাজ এবং শেষ রাতের দু'আর মধ্যেই রয়েছে দুনিয়াতে মুমিনের সম্মান, শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এবং আখিরাতে রয়েছে তার মহা প্রতিদান।
রোম সম্রাট তার এক অনুসারীকে মুসলিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। (সে মুসলমানদের নিকট কিছুদিন বন্দী ছিল) সম্রাট তাকে বলল, এই লোকদের ব্যাপারে আমাকে কিছু বলো। তখন সে বলল, আমি আপনাকে এমনভাবে তাদের বর্ণনা দেব যেন আপনি তাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন। তারা হলো রাতের সন্যাসী আর দিনের লড়াকু বীর। তারা তাদের অধীনস্থদের থেকেও মূল্যের বিনিময়ে ক্রয় করা ব্যতীত কিছু খায় না। তারা যেখানেই প্রবেশ করে সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় আসা পর্যন্ত তারা ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে ময়দানে টিকে থাকে।
তখন রুম সম্রাট বলল, তুমি যা বললে তা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তারা আমার পায়ের নিচের এই মাটিরও মালিক হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এমনটিই হয়েছিল। আমরা রোমানদের পরাজিত করেছিলাম। তাদের সিংহাসনের মালিক হয়েছিলাম।
হ্যাঁ, যখন আমরা রোজা রাখতাম, রাতের বেলা তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করতাম, মহান রবের দরবারে অশ্রু ফেলে দু'আ করতাম, দিনের বেলা মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করতাম, কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা করতাম, জালিমদের থেকে মাজলুমদের হক আদায় করে করে দিতাম, আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তাম তখন আমাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এসেছে। আমরা ময়দানে শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি।
কোনো এক প্রচার মাধ্যমে শুনেছিলাম, তার সংবাদদাতা বলছিলেন, আমি কাশ্মীরের একটি হত্যাকান্ডের দৃশ্য দেখেছি। এর চেয়ে কুৎসিত আর ভয়ংকর দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। হাজার হাজার মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছে। আমি অসংখ্য নারী ও শিশুর মস্তকবিহীন লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি।
আজ আমাদের অবস্থা কেন এমন হলো? কেন পৃথিবীর এখানে সেখানে আমাদের হত্যা করা হচ্ছে? আমরা কেন সবখানে মার খাচ্ছি?
এর উত্তর একটাই, আমরা যখন দ্বীন থেকে দূরে সরে গেছি, আল্লাহর আদেশ মানা এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা বন্ধ করেছি, শেষ রাতে উঠে সালাতে তেলাওয়াত এবং মুনাজাতে তার নিকট কাকুতি মিনতি করা বন্ধ করেছি, দিনের বেলা অস্ত্র ও ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দিয়েছি তখনই শত্রুরা আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। তারা আমাদের ভয় পাওয়ার বিপরীতে আমাদেরকে ভয় দেখানো শুরু করেছে।
টিকাঃ
[৫৬] সুরা আনফাল: ১৫।
📄 আল্লাহ তাআলাই হলেন সাহায্যকারী
হে আল্লাহ, আপনিই আমাদের সাহায্যকারী, আমাদেরকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারকারী। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সাহায্য করুন। এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুন।
হে আল্লাহ! আপনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। হে অন্তরসমূহকে পরিবর্তনকারী। আপনি তো পথভ্রষ্টকে হেদায়েত দান করেন, ফকিরকে ধনী বানান, গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন, মানুষের দোষত্রুটি গোপন করেন, মাজলুমকে সাহায্য করেন।
হে পরাক্রমশালী মাবুদ, আপনি আমাদের অবস্থাকে পরিবর্তন করে দিন। আমাদেরকে আপনার প্রিয় বান্দা বানিয়ে দিন। আমাদেরকে রাতের সন্যাসী আর দিনের লড়াকু বীর বানিয়ে দিন।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ইসলামের খাদিম বানান। আপনার দ্বীনের জন্য আমাদের কবুল করেন।
أتهزأ بالدعاء وتزدريه وما تدري بما صنع الدعاء
سهام الليل لا تخطي ولكن لها أمد وللأمد انقضاء
'তুমি কি দু'আ নিয়ে ঠাট্টা করো এবং তাকে তুচ্ছ মনে করো? তুমি তো জানো না যে দু'আ কি করতে পারে। রাতের তীর কখনো লক্ষভ্রষ্ট হয় না। কিন্তু তার নির্দিষ্ট একটা সময় রয়েছে সেই সময়েই তা কবুল হবে।'
📄 কার মাধ্যমে উম্মাহর বিজয় আসবে?
এই উম্মাহর বিজয় আসবে ওইসকল আবেদিন, সালেহিন, সাদেকিন ও মুজাহিদিনদের মাধ্যমে, যারা কুরআন-হাদিসকে অনুসরণ করে। তাদের পরিচয় হলো:
'তারা হলো রাতের ইবাদতকারী। রাতের অন্ধকার যখন গভীর হয় তারা তখন রবের দরবারে অশ্রু ঝরায়। লুকায়িত সিংহ। জিহাদের ডাক আসলে মৃত্যুর দিকে ছুটে যায়, আর এটাকে তারা স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম বানায়।'
হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহু বলেন, কুরআন তেলাওয়াতকারী তিন প্রকার। (১) যারা কুরআনকে পণ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
(২) যারা কুরআনের হুদুদ বাদ দিয়ে শুধু হরফকে গ্রহণ করে।
(৩) যারা কুরআনকে তাদের অন্তরের প্রতিষেধক হিসেবে গ্রহণ করে এবং কুরআনকে নিজেদের পথপ্রদর্শক বানায়।
এই তৃতীয় প্রকার লোকদের মাধ্যমেই উম্মাহর বিজয় আসবে। এবং এদের কারণেই জমিনে বৃষ্টি বর্ষণ হয়।
ইয়ামামার যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যবাহিনী যখন মুসাইলামাতুল কাজজাব ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সারিবদ্ধ হলো তখন মুহাজিরদের ঝান্ডাবাহী হযরত সালেম মাওলা আবি হুজায়ফাকে মুসলমানরা বলল, আমরা আশঙ্কা করছি যে, আপনার দিক থেকে (শত্রুর) আক্রমণ আসবে। তখন তিনি বলেছিলেন, যদি আমার দিক থেকে আক্রমণ আসে তাহলে আমি কতই-না নিকৃষ্ট কুরআনের বাহক।
কুতাইবা ইবনু মুসলিম রহ. যেদিন তুরকিদের মুখোমুখি হন, তার আগের রাতে তিনি আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাঁর নিকট দু'আ-মুনাজাতে প্রচুর পরিমাণে কান্নাকাটি করেন। অতঃপর সকালে মুহাম্মদ ইবনুল ওয়াসির ব্যাপারে লোকদের নিকট জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি এখন কোথায়? লোকেরা তাকে খুঁজতে খুঁজতে তার তাবুর কাছে এসে দেখেন, তিনি নামাজ আদায় করছেন এবং আসমানের দিকে আঙুল তুলে আল্লাহর দরবারে দু'আ করছেন। তারা কুতাইবা ইবনু মুসলিমের নিকট ফিরে এসে তার এ অবস্থা বর্ণনা করল। কুতাইবা ইবনু মুসলিম তখন বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, মুহাম্মদ ইবনু ওয়াসির একটা আঙুল আমার নিকট এক হাজার ধারালো তরবারির চেয়ে এবং এক হাজার সুঠাম দেহী যুবকের চেয়েও উত্তম।
আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন মিশরের বাবেলিয়নদের দূর্গ অবরোধ করলেন, তখন তিনি হজরত উমর ইবন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর নিকট চার হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী পাঠানোর অনুরোধ করে একটি চিঠি পাঠিয়ে তাতে লিখেন, এদের সাহায্যে তিনি পূর্ণ মিশর বিজয় সম্পন্ন করতে চান। তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জুবাইর ইবনলু আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নেতৃত্বে মাত্র চারজন লোকের একটি কাফেলা পাঠালেন এবং আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট চিঠিতে লিখলেন, আমি তোমার নিকট জুবাইর ইবনলু আওয়ামের নেতৃত্বে চারজন লোক পাঠিয়েছি। যাদের প্রত্যেকে এক হাজার লোকের সমান। আর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে একথা বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, 'যেই বাহিনীর মধ্যে মিকদাদ থাকবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা কখনো পরাজিত হবে না।'
হ্যাঁ! এমন লোকদের মাধ্যমেই উম্মাহর বিজয় আসে। এরা সর্বদা আল্লাহর জিকির করতে থাকে। তাদের চেহারা দিয়ে আল্লাহর আনুগত্যের নুর বিচ্ছুরিত হতে থাকে। এদের ব্যাপারে হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
من عادى لي ولياً فقد آذنته بالحرب 'যে আমার ওলির সাথে শত্রুতা করবে আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি।'
এরাই তো ওইসকল লোক, যাদের মধ্য থেকে কেউ যখন বলে, হে আমার রব! সাথে সাথে আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমার কী প্রয়োজন বলো, হে আমার বান্দা? এরা তো রাতের অন্ধকারে আল্লাহর ইবাদত করে এবং তাহাজ্জুদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আর তির নিক্ষেপ করে। আল্লাহ তাআলা যখন নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবুওয়াতের মহান দায়িত্ব দিলেন তখন ওহির মাধ্যমে তাকে বলে দিলেন,
يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا نِصْفَهُ أَوِ انقُصْ مِنْهُ قَلِيلًا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا إِنَّ نَاشِئَةَ اللَّيْلِ هِيَ أَشَدُّ وَطْئًا وَأَقْوَمُ قِيلًا
'হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রিতে দণ্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত্রি অথবা তদপেক্ষা কিছু কম অথবা তদপেক্ষা বেশি এবং কুরআন তেলাওয়াত করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। নিশ্চয় ইবাদতের জন্যে রাত্রিতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল।'৫৭
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও সাহাবিদেরকে তাহাজ্জুদ ও রাতে আল্লাহর দরবারে দু'আ মুনাজাতের ওপর অভ্যস্ত করে গড়ে তুলেছেন। যেমন: আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন-
إِنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى مِن ثُلُثَيِ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ وَثُلُثَهُ وَطَائِفَةٌ مِّنَ الَّذِينَ مَعَكَ
'আপনার পালনকর্তা জানেন, আপনি ইবাদতের জন্যে দণ্ডায়মান হোন রাত্রির প্রায় দুই তৃতীয়াংশ, অর্ধাংশ ও তৃতীয়াংশ এবং আপনার সঙ্গীদের একটি দলও দণ্ডায়মান হয়। '৫৮
কাতাদা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তাহাজ্জুদের জন্য একমাত্র খাঁটি মুনিনগণ উঠতে পারেন কারণ মুনাফিক তাহাজ্জুদের জন্য উঠতে পারে না।
টিকাঃ
[৫৭] সুরা মুজাম্মিল: ১-৬।
[৫৮] সুরা মুজাম্মিল: ২০।