📄 আগ্রহ এবং ভয় নিয়ে দু‘আ করা
দু'আ করার সময় অমনোযোগী না হওয়া। বরং খুব মনযোগ সহকারে দরদে দিল নিয়ে দু'আ-মুনাজাত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ
'তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত। এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত। '৫২
উল্লিখিত আয়াতে দুইটা শব্দ এসেছে: رَغَبًا )রাগাবা) আগ্রহ ও رَهَبًا )রাহাবা) ভয়।
প্রথম শব্দ তথা رَغَبًا )রাগাবা) এর অর্থ হলো কল্যাণের কাজের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া, এক্ষেত্রে কোনো ধরণের অলসতা বা শৈথিল্যতা না করা। এর অর্থ শুধুমাত্র আশা বা আকাঙ্ক্ষা করা নয়। আশা বা আকাঙ্ক্ষা বোঝানোর জন্য আরবিতে رجاء রজা শব্দ ব্যবহার করা হয়। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে। প্রত্যেকের মনের মধ্যেই কিন্তু জান্নাতে যাওয়ার আশা আছে, কিন্তু জান্নাত কি শুধু আশা- আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে পাওয়া যাবে? একজন আশা করে কিন্তু তার জন্য আমল করে না তাহলে সে রাগেব বা আগ্রহী হতে পারবে না। আরেকজন আশা করার সাথে সাথে আমলও করে সে হবে রাগেব।
অনুরূপভাবে الرهب বা الرهبة )রাহাবা) শব্দের অর্থ ভয়। আরবিতে ভয় শব্দ ব্যবহারের জন্য আরো কয়েকটি শব্দ ব্যবহার হয়, যেমন: الخوف খাওফু,الوجل ওয়াজালু এবং الخشية খাসইয়াতু। কিন্তু রাহাবুন বা রাহবাতুন শব্দের অর্থ শুধু ভয় নয় বরং ভয় করে কোনো অপছন্দনীয় বা অবাধ্যতার কাজ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং আয়াতে উল্লিখিত রাগাবা অর্থ হলো আল্লাহ এবং তাঁর জান্নাতের আগ্রহী হয়ে দ্রুত তাঁর আনুগত্যের দিকে অগ্রসর হওয়া। আর রাহাবা অর্থ হলো, আল্লাহকে ভয় করে তাঁর অবাধ্যতার কাজ থেকে পরিপূর্ণভাবে বিরত থাকা।
উল্লিখিত আয়াতে আরেকটি শব্দ হলো, خَاشِعِينَ খাশেইন। অর্থ: বিনীত, লাঞ্ছিত এবং অপদস্ত হওয়া। অর্থাৎ নিজেকে হীন তুচ্ছ ও লাঞ্ছিত মনে করে বিনীত হৃদয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ কত সুন্দরই না বলেছেন,
أنا الفقير إلى رب السموات * أنا المسيكين في مجموع حالاتي
أنا الظلوم لنفسى وهى ظالمتي * والخير إن جائنا من عنده ياتي
لا أستطيع لنفسى جلب منفعة * ولا عن النفس في دفع المضرات
وليس لي دونه مولا يدبرني * ولا شفيع الى رب البريات
إلا بأذن من الرحمن خالقنا * رب السماء كما قد جا في الآيات
. ولست أملك شيئا دونه أبدا * ولا شريك أنا في بعض ضراتي
ولا ظهير له كي أعاظمه " كما يكون لأرباب الولايات
والفقر لى وصف لازم أبدا * كما الغنا وصـف لـــه ذات
وهذه الحال حال الخلق أجمعهم " وكلهم عنده عبـد لـــه آت
فمن بغى مطلبا دون خالقه * فهو الظلوم الجهول المشرك العات
والحمد لله ملء الكون أجمعه " ماكان منه ومن بعده ياتي
ثم الصلاة على المختار من مضر * خير البرية من ماض ومن آت
'আমি সর্বদাই আসমান-জমিনের রবের নিকট মুখাপেক্ষী, আমি সর্বাবস্থায়ই নিঃস্ব অসহায়।
আমি আমার নফসের প্রতি বড়ো অত্যাচারী আর সে আমার জুলুমকারী, আর কল্যাণ তো কেবল তাঁর (আমার রবের) নিকট থেকেই এসে থাকে।
আমি নিজের জন্য কোনো উপকার করতে পারি না এবং নিজের ওপর থেকে কোনো অপকার দূরও করতে পারি না।
আমাকে পরিচালনার জন্য আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো মাওলা নেই এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট কোনো সুপারিশকারীও নেই। তবে আমাদের স্রষ্টা কাউকে সুপারিশের অনুমতি দিলে কেবল সেই আমাদের জন্য সুপারিশ করতে পারবে। কুরআনে এমনটিই এসেছে।
তাঁকে ব্যতীত আমি কোনোকিছুর মালিক নই এবং আমি নিজের কোনো ক্ষতি করার ক্ষেত্রেও তাঁর শরিক নই।
পৃথিবীর রাজা-বাদশাহদের মতো তার কোনো সাহায্যকারী নেই। বরং তিনি নিজে-নিজেই স্বয়ংসম্পন্ন।
আমি সর্বদাই প্রয়োজনগ্রস্ত এবং মুখাপেক্ষী আর তিনি সর্বদাই অমুখাপেক্ষী নিজে-নিজেই স্বয়ংসম্পন্ন।
সর্বদাই সৃষ্টিজীব প্রয়োজনগ্রস্ত এবং মুখাপেক্ষী। সকল সৃষ্টিজীব আল্লাহর দাস এবং তাঁর নিকট মুখাপেক্ষী।
আর যারা তাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নিকট থেকে অমুখাপেক্ষী থাকে সে মহা জালেম, মূর্খ, মুশরিক এবং অবাধ্য সীমালঙ্ঘনকারী।
সমস্ত প্রশংসা সেই দয়াময় প্রভুর যার দয়া ও অনুগ্রহে বিশ্বজগত পরিপূর্ণ।
দরুদ ও সালাম সেই নির্বাচিত মহামানবের প্রতি যিনি আগের ও পরের সকল মানবের চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ।'
সুতরাং যখন আল্লাহ তাআলার সামনে তুমি প্রার্থনা করার জন্য দাঁড়াবে, তখন অবশ্যই তোমার দেহ ও মনকে একত্র করে বিনীত হয়ে আল্লাহ তাআলার সামনে দাঁড়াবে এবং তাঁর নিকট দু'আ করবে। ইনশাআল্লাহ তিনি তোমার দু'আ কবুল করবেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বিনীত ও ভগ্ন হৃদয়ের দু'আ কবুল করেন।
একবার হজের মৌসুমে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এক অন্ধ লোককে দেখল, কাবা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে আল্লাহর নিকট দু'আ করে বলছে, হে আল্লাহ! তুমি আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দাও। আমার দু-চোখ ভাল করে দাও। দ্বিতীয় দিন সে লোকটিকে একই স্থানে একই দু'আ করতে দেখল। হাজ্জাজ তখন তাকে বলল, আগামীকাল যদি তোমার দৃষ্টি শক্তি ফিরে না আসে, তাহলে তোমার গর্দান উড়িয়ে দেব। তৃতীয় দিন লোকটি তার নিকট দৃষ্টিশক্তি অবস্থায় এসে সাক্ষাৎ করল। হাজ্জাজকে তখন বলা হয়েছিল আপনি লোকটির সাথে এমন করলেন কেন? হাজ্জাজ বলল, আমি দেখলাম লোকটি উদাসীনতার সাথে দু'আ করছে। অথচ তার দু'আর বিষয়টি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার জন্য দেহ ও মন একত্র করে দু'আর প্রয়োজন ছিল। অতঃপর সে মৃত্যুর ভয়ে বাধ্য হয়ে দেহ ও মনকে আল্লাহর দিকে একাগ্র হয়ে দু'আ করল। ফলে আল্লাহ তায়ালা তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিলেন।
নিশ্চয় দু'আ তোমার মালিকানাধীন অত্যন্ত কার্যকরী একটা অস্ত্র। যা কখনো প্রতিহত হয় না, তবে এর কর্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য তোমাকে এর সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। সুতরাং তুমি তার ব্যবহারপদ্ধতি জেনে সঠিক সময়ে তা ব্যবহার করো। তুমি তোমার মন-মস্তিস্ককে সকল ধরনের চিন্তামুক্ত করে একমাত্র আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করে তাঁর সামনে নত ও বিনীত হয়ে তোমার মুখাপেক্ষিতা এবং প্রয়োজনের কথা আল্লাহ তাআলার সামনে প্রকাশ করো। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দু'আর যেসব আদব শিক্ষা দিয়েছেন সেগুলো সঠিকভাবে আদায় করে দু'আ করো ইনশাআল্লাহ তোমার দু'আ কবুল হবে। তোমার দু'আ বিফলে যাবে না। নিশ্চয় হতভাগাড়াই কেবল দু'আর অস্ত্র ঠিকমতো ব্যবহার করতে জানে না।
টিকাঃ
[৫২] সুরা আম্বিয়া: ৯০।
📄 তোমরা দু‘আ করো, তোমাদের রব কবুল করবেন
উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, বদর যুদ্ধের দিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তারা সংখ্যায় প্রায় এক হাজার। আর তাঁর সাহাবিরা ছিলেন তিনশ' তেরজন। তখন নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হলেন। এরপর দু-হাত উঁচু করে উচ্চস্বরে তার পালনকর্তার কাছে দু'আ করতে লাগলেন, হে আল্লাহ, তুমি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছ আমার জন্য তা পূরণ করো। হে আমার রব, তুমি আমাকে যা প্রদানে প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, তা প্রদান করো। হে আল্লাহ, যদি মুসলিমদের এই ক্ষুদ্র সেনাদল ধ্বংস করে দাও তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না। তিনি এমনিভাবে দু-হাত উঁচু করে কিবলামুখী হয়ে তার পালনকর্তার কাছে অনর্গল উচ্চস্বরে দু'আ করতে ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর কাঁধ থেকে চাদর পড়ে গেল। এরপর আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কাছে এসে চাদরখানা তাঁর কাঁধে তুলে দিলেন। তারপর তাঁর পিছন দিক থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, হে আল্লাহর নবি, আপনার এতটুকু দু'আই যথেষ্ট। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আপনার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন, তা অচিরেই পূর্ণ করবেন।
আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সময় মাথা নিচু করে নীরব রইলেন এবং এভাবে কিছু সময় থাকার পর মাথা উঁচু করে বললেন, হে আবু বকর, সুসংবাদ গ্রহণ করো। হে আবু বকর, সুসংবাদ গ্রহণ করো। বিজয় এসে গেছে, বিজয় এসে গেছে। এই তো ভাই জিবরাইল ঘোড়ার লাগাম ধরেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُ
'এ দল তো সত্ত্বরই পরাজিত হবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কিয়ামত ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততর। ৫৩
আবু জুমায়ল বর্ণনা করেন, আমাকে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, সেদিন একজন মুসলমান সৈনিক তার সামনের একজন মুশরিকের পিছনে ধাওয়া করছিলেন। এমন সময় তিনি তাঁর ওপর দিক থেকে বেত্রাঘাতের শব্দ শুনতে পেলেন এবং তার ওপর দিকে অশ্বারোহীর ধ্বনি শুনতে পেলেন। তিনি (অদৃশ্য অশ্বারোহী) বলছেন, হে হায়মুম (ফিরিশতার ঘোড়ার নাম), সামনের দিকে অগ্রসর হও। তখন তিনি (উক্ত সাহাবি) তার সামনের মুশরিক ব্যক্তির প্রতি তাকিয়ে দেখলেন যে, সে চিৎ হয়ে পড়ে আছে। এরপর তাকিয়ে দেখেন যে, তার নাক ক্ষতযুক্ত এবং তার মুখমন্ডল আঘাতপ্রাপ্ত। যেন কেউ তাকে বেত্রাঘাত করেছে। আহত স্থানগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে। এরপর আনসারি ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে যাবতীয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। এই সাহায্য আসমান থেকে এসেছে। পরিশেষে সেদিন মুসলিমগণ সত্তরজন কাফিরকে হত্যা এবং সত্তরজনকে বন্দি করলেন।
হ্যাঁ আল্লাহ তাআলা তাঁর কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছেন। তিনি তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছিলেন। ফলে আল্লাহ তাআলাও শত্রুদেরকে পরাজিত করে তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। তারা আল্লাহকে সাহায্য করেছেন; ফলে আল্লাহও তাদের সাহায্য করেছেন। বিজয় দান করেছেন।
বদরের পূর্বে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের নিকট পরামর্শ চেয়ে বললেন,
أشيروا علي أيها الناس 'হে লোকসকল, আমাকে পরামর্শ দাও।'
তখন মুহাজিরগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ তাআলা আপনাকে যেই আদেশ দিয়েছেন, আপনি তা পালনে অগ্রসর হোন, আমরা আপনার সাথে থাকব। ওই সত্তার কসম করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্য নবি হিসেবে প্রেরণ করেছেন, আপনি যদি আমাদেরকে নিয়ে বারকুল গিমাদ পর্যন্ত যান আমরা আপনার সাথে যাব এবং আপনার আশপাশে থেকে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করব। আমাদের মধ্যে থেকে একজনও পিছপা হবো না। আল্লাহর শপথ করে বলছি, বনি ইসরাইল মুসা আ.-কে যেমনটি বলেছিল আমরা আপনাকে তেমনটি বলব না। তারা বলেছিল, 'আপনি এবং আপনার রব গিয়ে যুদ্ধ করুন আমরা এখানেই বসে থাকব।' বরং আমরা বলব, আপনি অগ্রসর হোন, আমরাও আপনার এবং আপনার রবের সাথে যুদ্ধ করব।
অতঃপর আনসারগণ দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার প্রতি ইমান এনেছি, আপনাকে সত্যায়ন করেছি, আপনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন; তাকে সত্য বলে সাক্ষ্য দিয়েছি এবং এ বিষয়ে আমরা আপনার সাথে অঙ্গীকার করেছি, আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সুতরাং আপনি আগ্রসর হোন, আমরা আপনার সাথে থাকব। ওই সত্তার কসম করে বলছি, যিনি আপনাকে সত্য হিসেবে পাঠিয়েছেন, আপনি যদি আমাদেরকে নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন, তাহলে আমরা আপনার সামনে সমুদ্রে ঝাঁপ দেব, আমাদের থেকে একজনও পিছনে থাকবে না। আল্লাহর শপথ! আপনি যদি আমাদেরকে পাহাড়ের ওপর থেকে ঝাঁপ দিতে বলেন, তাহলে আমরা তাই করব, আমাদের থেকে একজনও পিছপা হবো না। হে আল্লাহর রাসুল, আপনি যার সাথে সম্পর্কের রশি জুড়া দিতে চান দিন, আর যার থেকে এই রশি ছিন্ন করতে চান, করুন। যার সাথে সন্ধি করতে চান করুন। আর যার সাথে শত্রুতা করতে চান করুন। আমরা আপনার সাথেই থাকব। হে নবিজি! আপনি আমাদের সম্পদ থেকে যা নিতে চান নিয়ে নিন এবং যা রেখে দিতে চান রেখে দিন। আপনি আগামীকাল আমাদেরকে নিয়ে শত্রুর মুকাবিলা করুন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। নিশ্চয় আমরা যুদ্ধের ময়দানে পরীক্ষিত এবং বিশ্বস্ত। সুতরাং আল্লাহর ওপর ভরসা করে আপনি আমাদের নিয়ে অগ্রসর হোন।
প্রিয় ভাই, সাহাবারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা রক্ষা করেছেন, ফলে আল্লাহ তাআলাও তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছেন। তারা আল্লাহকে সাহায্য করেছেন; ফলে আল্লাহও তাদের সাহায্য করেছেন। বিজয় দান করেছেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে,
وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ ، فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَن يَكْفِيَكُمْ أَن يُمِدَّكُمْ رَبُّكُم بِثَلَاثَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُنزَلِينَ بَلَى إِن تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُم مِّن فَوْرِهِمْ هُذَا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُم بِخَمْسَةِ آلَافٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُسَوِّمِينَ وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَى لَكُمْ وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُم بِهِ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ
'বস্তুত আল্লাহ বদর যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। কাজেই আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো। আপনি যখন বলতে লাগলেন মুমিনগণকে, তোমাদের জন্য কি যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের সাহায্যার্থে তোমাদের পালনকর্তা আসমান থেকে অবতীর্ণ তিন হাজার ফেরেশতা পাঠাবেন। অবশ্য তোমরা যদি সবর করো এবং বিরত থাকো আর তারা যদি তখনই তোমাদের ওপর চড়াও হয়, তাহলে তোমাদের পালনকর্তা পাঁচ হাজার ফেরেশতা তোমাদের সাহায্যে পাঠাতে পারেন। বস্তুত এটা তো আল্লাহ তোমাদের সুসংবাদ দান করলেন, যাতে তোমাদের মনে এতে সান্ত্বনা আসতে পারে। আর সাহায্য শুধুমাত্র পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানী আল্লাহরই পক্ষ থেকে।'৫৪
প্রিয় ভাই! একবার ভেবে দেখেছ কি, তারা কীভাবে বিজয় অর্জন করলেন? কীভাবে এত অল্পসংখ্যক লোক অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করল? হ্যাঁ, তারা এটা পেরেছেন আল্লাহর আনুগত্য করে, আসমান ও জমিনের রবের নিকট কাকুতি-মিনতি করে দু'আ করে। তারা নিজেদের জান-মাল আল্লাহর নিকেট বিক্রি করে দিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা জান্নাতের বিনিময় তা কবুল করে নিয়েছেন। আল্লাহর শপথ করে বলছি, ফলে তারা সফল হয়েছেন।
البائعون نفوسهم لمليكهم الله أمضى بيعهم وتكرما
والحاملين إلى الوغى أرواحهم " وعلى نحورهم تحدرت الدما
قوم كأن وجوههم شمس الضحى طلعت ففرّ الليل كالح مظلما
'যারা তাদের মালিকের জন্য নিজেদেরকে বিক্রি করে দিয়েছে, আল্লাহ তাদের এই বিক্রয়কে গ্রহণ করেছেন এবং তারা সম্মানিত হয়েছে।
তারা নিজের জান হাতে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এবং তাদের গন্ডদেশ দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হয়েছে।
তারা এমন সম্প্রদায় যাদের চেহারা পূর্বাহ্ণের সূর্যের চেয়েও উজ্জ্বল দীপ্তিময়। যার আলোতে রাতের কালো অন্ধকার দূরীভূত হয়ে গেছে।'
তুমি তোমার পূর্ণ জীবনকে আল্লাহ তাআলার জন্য উৎসর্গ করে দাও। তুমি আল্লাহর দিকে দাওয়াত ও জিহাদের পথে তোমার পূর্ণ জীবনকে ব্যয় করো। তুমি এমন জীবন গঠন করো, যার বাহ্যিক অবস্থাটা হবে দুঃখ-কষ্ট আর সংকীর্ণতার আর ভেতরটা হবে সুখ-শান্তি, প্রশস্ততা আর দীপ্তিময়তার। বাহ্যিকটা হবে অস্থিরতা ও অশ্রু বিসর্জনের আর ভেতরটা হবে বিনয় ও ভরসার। শরীর ক্লান্ত হবে অন্তর প্রশান্ত থাকবে। দেহটা হাটাহাটি করবে জমিনের ওপরে আর আত্মাটা ঘুরাঘুরি করবে আরশের ওপর। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন,
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ
'বলো, আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবানিতে। সুতরাং এরই প্রতি তাদের সন্তুষ্ট থাকা উচিত। এটিই উত্তম তারা যা সঞ্চয় করছে তা থেকে। '৫৫
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ হলো ইসলাম, আর তাঁর রহমত হলো তিনি তোমাদেরকে কুরআনওয়ালা বানাবেন।'
হে আমার রব, আমরা যেন দাঁড়ানো ও বসা, ঘুমন্ত ও জাগ্রত, চলতে-ফিরতে সর্বাবস্থায় মুসলিম হয়ে এবং কুরআনওয়ালা হয়ে বাঁচতে পারি এবং আপনি আমাদেরকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিয়ে আপনার প্রিয় বান্দা সালেহিনদের সাথে একত্র করে দিন। আমিন।
টিকাঃ
[৫৩] সুরা কামার: ৪৫-৪৬।
[৫৪] সূরা আল ইমরান-১২৩-১২৬
[৫৫] সুরা ইউসুফ: ৫৮।
📄 বিজয়ের ফয়সালা তো হয় আরশে আজিমে
এই উম্মাহর বিজয় শুধুমাত্র তরবারি চালনায় দক্ষ বীরদের মাধ্যমেই অর্জিত হয়নি বরং উম্মাহর বিজয়ের ক্ষেত্রে আসমানের দিকে হাত তুলে মহান রবের নিকট কাকুতি-মিনতি করা বীরদের ভূমিকাও কম নয়।
আইনে জালুতের যুদ্ধের সময় সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ রাহিমাহুল্লাহু জুমার দিন মুসলিম সৈন্যদের নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন, এবং খতিবগণ মুসলমানদেরকে সাথে নিয়ে মুজাহিদদের বিজয় এবং মুসলিম উম্মাহকে রক্ষার জন্য কাকুতি-মিনতে করে মহান রবের দরবারে দু'আ করেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা স্বল্পসংখ্যক মুজাহিদদের হাতে প্রবল শক্তিধর বিশাল তাতার বাহিনীকে পরাজিত করেন।
যুদ্ধ যখন তুমুল আকার ধারণ করে, সুলতান তখন শত্রুদের ঘেরাউয়ের মধ্যে পড়ে জীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়। তখন একদল মুসলিম বীর সুলতানকে বাঁচানোর জন্য অগ্রসর হয় এবং নিজেদের জীবন বাজি রেখে সুলতানকে রক্ষা করতে থাকে। তাদের মধ্যে একজন ছিল খুব বেশি তৎপর। সুলতানকে রক্ষার ব্যাপারে ছিল বদ্ধপরিকর। এভাবে যুদ্ধের একপর্যায়ে সে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তখন সে সুলতানকে উদ্দেশ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকে, হে মুসলিমদের সুলতান! আপনি নিজেকে রক্ষা করুন। হে মুসলিমদের সুলতান! আপনি নিজেকে রক্ষা করুন। এই তো আমি আপনার পূর্বে জান্নাতে চলে যাচ্ছি। এই তো আমি আপনার পূর্বে জান্নাতে চলে যাচ্ছি।
সুলতান তখন ভালোভাবে লক্ষ করে দেখেন, এতক্ষণ যেই সৈন্যটি তাকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপনে লড়াই করল সে তারই প্রিয়তমা স্ত্রী। সুলতান তখন স্ত্রীকে তুলে নিয়ে তাবুতে ফিরে আসেন এবং বিছানায় প্রিয়তমা স্ত্রীকে শুইয়ে তার কপালে চুমু দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার স্ত্রী। সুলতানের স্ত্রীর তখনও সামান্য হুঁশ ছিল। সে তখন সুলতানের দিকে শান্ত দৃষ্টিতে তাকাল এবং ভাঙা ভাঙা গলায় বলল, হায় আমার প্রিয়তমা! হায় আমার প্রিয়তমা! বলো না। বরং বলো, হায় আমার ইসলাম! হায় আমার ইসলাম! এরপর তার ইন্তেকাল হয়ে গেল।
সুলতান প্রিয়তমা স্ত্রীর কপালে একটি চুমু দিলেন। নিজের চোখের অশ্রু মুছে ফেললেন ঠিকই কিন্তু ভেতরের হৃদয় নামক চোখটা কাঁদতেই ছিল। কয়েকজনকে স্ত্রীর দাফনের দায়িত্ব দিয়ে ময়দানের দিকে রওনা হলেন। ময়দানে এসে তাকবির দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। সুলতানের তাকবির ধ্বনি শুনে মুজাহিদদের সাহস ও মনোবল ফিরে এলো। তারাও সুলতানের সাথে তাকবির বলে ময়দান প্রকম্পিত করে তুলল। সুলতান তখন মাথা থেকে শিরস্ত্রাণ খুলে ফেললেন যাতে মুজাহিদগণ তাকে দেখে চিনতে পারে এবং তার উপস্থিতির কথা জেনে জিহাদের উদ্দমতা ফিরে পায়। সুলতান তার শিরস্ত্রাণ খুলে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, হায় আমার ইসলাম! হায় আমার ইসলাম!!
একদিকে মুজাহিদগণ তাদের জীবন বাজি রেখে ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। অন্য দিকে যারা অক্ষম, জিহাদে আসতে পারেনি তারা মসজিদে, গৃহের অভ্যন্তরে জায়নামাজে বসে মহান প্রভুর দরবারে হাত উঠিয়ে বলতেছিলেন, হে আমাদের রব! আমাদের রক্ষা করুন। শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের মুজাহিদ ভাইদের সাহায্য করুন। মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! আপনি শিরক ও মুশরিকদের ধ্বংস করুন এবং ইসলাম ও মুসলমানদের রক্ষা করুন।
এভাবে যখন মুজাহিদদের তাকবির ধ্বনি এবং মুসল্লিদের দু'আয় কান্নার আওয়াজ একত্র হয়ে আল্লাহর দরবারে পৌঁছে, কেবল তখনই আসমান থেকে আল্লাহর সাহায্য নেমে আসে এবং ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয় অর্জন হয়। কারণ বিজয়ের ফয়সালা তো হয় আরশে আজিমে, মহান রবের দরবারে।
সুলতান সাইফুদ্দিন কুতুজ যখন মুজাহিদদের নিয়ে তাতারদের ওপর চূড়ান্ত আক্রমণ করলেন তখন তারা এই আয়াতগুলো বলেছিল,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا زَحْفًا فَلَا تُوَلُّوهُمُ الْأَدْبَارَ
'হে ইমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখি হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না।'৫৬
হ্যাঁ! শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে ধৈর্য্যের সাথে দৃঢ়পদ থাকা এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে দু'আ-মুনাজাতের মাধ্যমেই বিজয় অর্জিত হয়। রাতের ইবাদতকারী এবং দিনের বীর যোদ্ধাদের হাতেই কাফেররা পরাজিত হয়।
প্রিয় ভাই ও বোন! নিশ্চয় রাতের নামাজ এবং শেষ রাতের দু'আর মধ্যেই রয়েছে দুনিয়াতে মুমিনের সম্মান, শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় এবং আখিরাতে রয়েছে তার মহা প্রতিদান।
রোম সম্রাট তার এক অনুসারীকে মুসলিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। (সে মুসলমানদের নিকট কিছুদিন বন্দী ছিল) সম্রাট তাকে বলল, এই লোকদের ব্যাপারে আমাকে কিছু বলো। তখন সে বলল, আমি আপনাকে এমনভাবে তাদের বর্ণনা দেব যেন আপনি তাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন। তারা হলো রাতের সন্যাসী আর দিনের লড়াকু বীর। তারা তাদের অধীনস্থদের থেকেও মূল্যের বিনিময়ে ক্রয় করা ব্যতীত কিছু খায় না। তারা যেখানেই প্রবেশ করে সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে। শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় আসা পর্যন্ত তারা ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে ময়দানে টিকে থাকে।
তখন রুম সম্রাট বলল, তুমি যা বললে তা যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তারা আমার পায়ের নিচের এই মাটিরও মালিক হয়ে যাবে। হ্যাঁ, এমনটিই হয়েছিল। আমরা রোমানদের পরাজিত করেছিলাম। তাদের সিংহাসনের মালিক হয়েছিলাম।
হ্যাঁ, যখন আমরা রোজা রাখতাম, রাতের বেলা তাহাজ্জুদে তেলাওয়াত করতাম, মহান রবের দরবারে অশ্রু ফেলে দু'আ করতাম, দিনের বেলা মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করতাম, কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা করতাম, জালিমদের থেকে মাজলুমদের হক আদায় করে করে দিতাম, আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তাম তখন আমাদের কাছে আল্লাহর সাহায্য এসেছে। আমরা ময়দানে শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি।
কোনো এক প্রচার মাধ্যমে শুনেছিলাম, তার সংবাদদাতা বলছিলেন, আমি কাশ্মীরের একটি হত্যাকান্ডের দৃশ্য দেখেছি। এর চেয়ে কুৎসিত আর ভয়ংকর দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। হাজার হাজার মুসলমানদের হত্যা করা হয়েছে। আমি অসংখ্য নারী ও শিশুর মস্তকবিহীন লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি।
আজ আমাদের অবস্থা কেন এমন হলো? কেন পৃথিবীর এখানে সেখানে আমাদের হত্যা করা হচ্ছে? আমরা কেন সবখানে মার খাচ্ছি?
এর উত্তর একটাই, আমরা যখন দ্বীন থেকে দূরে সরে গেছি, আল্লাহর আদেশ মানা এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা বন্ধ করেছি, শেষ রাতে উঠে সালাতে তেলাওয়াত এবং মুনাজাতে তার নিকট কাকুতি মিনতি করা বন্ধ করেছি, দিনের বেলা অস্ত্র ও ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দিয়েছি তখনই শত্রুরা আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে। তারা আমাদের ভয় পাওয়ার বিপরীতে আমাদেরকে ভয় দেখানো শুরু করেছে।
টিকাঃ
[৫৬] সুরা আনফাল: ১৫।
📄 আল্লাহ তাআলাই হলেন সাহায্যকারী
হে আল্লাহ, আপনিই আমাদের সাহায্যকারী, আমাদেরকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারকারী। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সাহায্য করুন। এই বিপদ থেকে উদ্ধার করুন।
হে আল্লাহ! আপনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই। হে অন্তরসমূহকে পরিবর্তনকারী। আপনি তো পথভ্রষ্টকে হেদায়েত দান করেন, ফকিরকে ধনী বানান, গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন, মানুষের দোষত্রুটি গোপন করেন, মাজলুমকে সাহায্য করেন।
হে পরাক্রমশালী মাবুদ, আপনি আমাদের অবস্থাকে পরিবর্তন করে দিন। আমাদেরকে আপনার প্রিয় বান্দা বানিয়ে দিন। আমাদেরকে রাতের সন্যাসী আর দিনের লড়াকু বীর বানিয়ে দিন।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ইসলামের খাদিম বানান। আপনার দ্বীনের জন্য আমাদের কবুল করেন।
أتهزأ بالدعاء وتزدريه وما تدري بما صنع الدعاء
سهام الليل لا تخطي ولكن لها أمد وللأمد انقضاء
'তুমি কি দু'আ নিয়ে ঠাট্টা করো এবং তাকে তুচ্ছ মনে করো? তুমি তো জানো না যে দু'আ কি করতে পারে। রাতের তীর কখনো লক্ষভ্রষ্ট হয় না। কিন্তু তার নির্দিষ্ট একটা সময় রয়েছে সেই সময়েই তা কবুল হবে।'