📄 নবিজি ﷺ আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু‘আ
শাহর ইবনু হাউশাব রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহ আনহুমাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'হে উম্মুল মুমিনিন, আপনার নিকট যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকতেন; তখন তিনি সবচে বেশি কোন দু'আ করতেন? জবাবে তিনি বলেন, নবিজি আমার কাছে থাকাকালে নিম্নোক্ত দু'আটি বেশি বেশি পাঠ করতেন।
يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك 'হে অন্তরসমূহকে পরিবর্তনকারী, আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর স্থির করে দিন। '১৬
আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশিরভাগ সময় এই দু'আ করতেন:
اللهم ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار 'হে আমাদের রব, আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদেরকে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। '১৭
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আয় বলতেন, رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَى وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَى وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَى وَاهْدِنِي وَيَسْرِ الْهُدَى لِي وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَى رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَارًا لَكَ ذَكَارًا لَكَ رَهَابًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَاهَا مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاهْدِ قَلْبِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِي 'হে আমার রব! তুমিই আমায় সহযোগিতা করো। আমার বিরুদ্ধে সহযোগিতা করো না, আমায় সাহায্য করো। আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করো না, আমার পক্ষে কৌশল অবলম্বন করো, আমার বিরুদ্ধে কৌশল করো না, আমাকে হিদায়াত দান করো, আমার জন্য হিদায়াত সহজ করে দাও। যারা আমার ওপর অত্যাচার করে তাদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো।
হে পরওয়ারদিগার! আমাকে তোমার শোকর আদায়কারী বান্দা বানাও, তোমার জিকিরকারী, তোমার প্রতি ভয় পোষণকারী, তোমার প্রতি আনুগত্যশীল, তোমার প্রতি বিনয়াবনত, তোমার প্রতি মিনতিপূর্ণ ও প্রত্যাবর্তনশীল বানিয়ে দাও।
হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করে নাও। আমার সব পাপরাশি ধুয়ে- মুছে সাফ করে দাও, আমার দু'আর জবাব দিয়ে দিয়ো। আমার দলিল- প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত করে নিয়ো। আমার জবানকে সঠিক রাখো। আমার অন্তরকে হিদায়াত করে দাও। আমার হৃদয় থেকে সব হিংসা-বিদ্ধেষ দূর করে দাও।'১৮
টিকাঃ
[১৬] তিরমিজি: ৩৫২২
[১৭] বুখারি ও মুসলিম
[১৮] সুনানে তিরমিজি: ৩৫৫১।
📄 দু‘আর উপকারিতা
দু'আর উপকারিতা সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। এখানে দু'আর কতিপয় ফায়দা ও উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হলো:
(১) দু'আর মাধ্যমে দ্রুত বিপদ কেটে যায়।
(২) আল্লাহর নৈকট্য, তাঁর ভালোবাসা এবং তাঁকে বিশ্বাসের দিক থেকে নিজের সকল চিন্তা ও পেরেশানিকে আল্লাহ তাআলার নিকট ন্যস্ত করা হয়।
(৩) দু'আ এমন এক অস্ত্র, যার মাধ্যমে শত্রু এবং দুর্ভাগ্য প্রতিহত হয়।
(৪) দু'আর মাধ্যমে কল্যাণ অর্জিত হয় এবং অকল্যাণ দূর হয়।
(৫) অন্যের দোষ-ত্রুটি চর্চা থেকে মুক্ত থাকা যায়। কারণ দু'আর মাধ্যমে নিজের পাপরাশি স্মরণ হয়, আর এতে সে নিজের গুনাহ নিয়েই ব্যস্ত ও পেরেশান থাকে।
(৬) দু'আর মাধ্যমে মনের মধ্যে নিজের দুর্বলতা, অক্ষমতা এবং প্রয়োজনগ্রস্ততার অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
(৭) দু'আ অনেক বড়ো এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা ইবাদত। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নিজের প্রয়োজন পূরা হয়, ক্ষতি ও বিপদমুক্ত হয়; অন্য দিকে এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অনেক বড়ো একটি ইবাদতও করা হয়।
(৮) দু'আর মাধ্যমে বান্দার মধ্যে সর্বদা এই অনুভূতি জাগ্রত থাকে যে, আমি যেখানেই থাকি না কেন আল্লাহ তাআলা আমার সাথে আছেন এবং তিনি আমাকে সাহায্য করবেন।
ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহু বলেন,
أتهزأ بالدعاء وتزدريه وما تدري بما صنع الدعاء
سهام الليل لا تخطي ولكن لها أمد وللأمد انقضاء
فيمسكها إذا ما شاء ربي - ويرسلها إذا نفذ القضاء
'তুমি কি দু'আ নিয়ে ঠাট্টা করো এবং তাকে তুচ্ছ ও হালকা মনে করো? তুমি তো জানো না যে দু'আ কি করতে পারে! দু'আ হলো রাতের অব্যর্থ তির, কিন্তু (দু'আ কবুলের) একটা সময় আছে, সে সময়মতো তা কবুল হয়। আমার রবের যখন ইচ্ছা থাকে, তখন তিনি দু'আকে আটকে রাখেন। (কবুল করেন না।) আবার যখন (কবুল করার ইচ্ছা করেন) তখন কবুল করে নেন।'
📄 দু‘আর রুকন এবং তার শর্তসমূহ
দু'আর চেয়ে সম্মানের বিষয় বান্দার জন্য আর কিছু নেই। দু'আ হলো আল্লাহ তাআলার সামনে বিনীত হয়ে, নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে আশা ও ভয় নিয়ে আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করা। দু'আর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করে, তাঁর ওপর ভরসা করে এবং নিজের বিষয়াদি আল্লাহ তাআলার নিকট অর্পণ করে।
প্রিয় ভাই! আমাদের সালাফদের রাত্রি কাটত আল্লাহর ইবাদত ও দু'আ-মুনাজাত করে, আর দিন কাটত শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে যুদ্ধ করে। তারা রাতে আল্লাহর ইবাদত করতেন, কাকুতি মিনতি করে দু'আ করতেন। আর দিনের বেলায় মানুষের মাঝে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতেন।
দু'আ আল্লাহ তাআলার অনেক বড়ো একটি ইবাদত। যেই ইবাদত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বা স্থানের প্রয়োজন হয় না এবং দু'আর নির্দিষ্ট কোনো অবস্থাও নেই। রাতে-দিনে, জলে-স্থলে, সফরে-হজরে, সচ্ছলতায়-অসচ্ছলতায়, সুস্থতাবস্থায়-অসুস্থতাবস্থায়, গোপনে-প্রকাশ্যে, দাঁড়িয়ে-বসে যে-কোনো সময়, যে-কোনো অবস্থায়ই দু'আর ইবাদত করা যায়।
আল্লাহর শপথ করে বলছি, দু'আ মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অজিফা। এর মাধ্যমে বিপদের কালো মেঘগুলো কেটে যায়। দূর হয়ে যায় দুঃখের সফেদ মেঘ। চিন্তা-পেরেশানি হালকা হয়ে মনের মধ্যে এক ধরনের নিশ্চিন্ততা এবং প্রশান্তি সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইবরাহিম আ. সম্পর্কে এসেছে, তিনি বলেছিলেন, وَأَدْعُو رَبِّي عَسَى أَلَّا أَكُونَ بِدُعَاءِ رَبِّي شَقِيًّا
'আমি আমার পালনকর্তার ইবাদত করব, তাঁকে ডাকব। আশা করি, আমার পালনকর্তার ইবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না।'১৯
দু'আর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার রহমত অর্জিত হয়, বান্দার ইজ্জত ও তামকিন প্রতিষ্ঠা হয় এবং মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং দু'আ বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার অনেক বড়ো একটি রহমত এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের বড় একটি মাধ্যম।
দু'আর অনেকগুলো শর্ত রয়েছে যা আল্লাহ তাআলা নিম্নের আয়াতে একত্র করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
اُدْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ، إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
'তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাকো, কাকুতি-মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না। পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহ্বান করো ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।'২০
সাহল আত তুসতুরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, দু'আ কবুলের জন্য সাতটি শর্ত রয়েছে:
(১) কাকুতি মিনতি করে দু'আ করা।
(২) মনের মধ্যে আল্লাহ তাআলার ভয় নিয়ে দু'আ করা।
(৩) আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ কবুলের আশা নিয়ে দু'আ করা।
(৪) নিয়মিতভাবে দু'আ করা।
(৫) বিনয় ও একাগ্রতার সাথে দু'আ করা।
(৬) দু'আর মধ্যে সকলকেই শামিল করা। কৃপণতা না করা।
(৭) হালাল খাবার গ্রহণ করা।
দু'আর কিছু রুকন রয়েছে। যেমন:
(১) ইখলাসের সাথে দু'আ করা।
(২) গুনাহ মুক্ত হয়ে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন না করে আল্লাহর প্রতি সুন্দর ও উত্তম ধারণা নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দু'আ করা।
(৩) আল্লাহ তাআলার জাত ও সিফাতের মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করে দু'আ শুরু করা।
(৪) দু'আর শুরুতে, মাঝে এবং শেষে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ পড়া। নবিজির ওপর দরুদ হলো দু'আর ডানাস্বরূপ, যা দু'আকে কবুল হওয়ার জন্য আসমানের দিকে নিয়ে যায়। এগুলোর সাথে সাথে, পবিত্র খাবার, পবিত্র পোশাক ও পবিত্র বাসস্থান এবং দু'আ কবুলের দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দু'আ করা। এই বিষয়গুলো যখন পাওয়া যাবে তখন আমাদের দু'আ কবুল হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُم
'তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমার নিকট দু'আ করো আমি সাড়া দেব।'২১
দু'আর শর্তসমূহ যখন পূর্ণ হবে এবং দু'আ কবুলের প্রতিবন্ধক বিষয়গুলো যখন থাকবে না তখন আল্লাহর ইচ্ছায় দু'আ কবুল হবে।
টিকাঃ
[১৯] সুরা মারইয়াম: ৪৮।
[২০] সুরা আরাফ: ৫৫-৫৬।
[২১] সুরা গাফির: ৬০।
📄 সালাফদের কথা
দু'আ নিয়ে সালাফরা অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন।
ইবনু আতা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নিশ্চয় দু'আ কবুলের জন্য কিছু রুকন (স্তম্ভ), কিছু ডানা, কিছু সবাব বা কারণ এবং কয়েকটি মুহূর্ত রয়েছে। সুতরাং দু'আর রুকনের মাধ্যমে দু'আ শক্তিশালী হয়, ডানার ওপর ভর করে সে আসমানে আল্লাহর আরশের দিকে উঠে এবং সময় হলে তা কবুল হয় এবং আসবাবগুলোর মাধ্যমে সে সফল হয়।
* দু'আর রুকনসমূহ, একাগ্রতার সাথে আল্লাহ তাআলার সামনে নিজেকে তুচ্ছ মনে করে, নিজের মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করে, আশা ও ভয় নিয়ে দু'আ করা। * দু'আর ডানা হলো, আল্লাহ তাআলার সাথে সততা। এই সততা নামক ডানা দিয়েই দু'আ আসমানে উঠে যায়। * দু'আর বিশেষ সময় হলো, রাতের শেষ প্রহর। * দু'আ কবুলের সবব বা মাধ্যম হলো, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরুদ পাঠ করা।
একবার লোকেরা ইবরাহিম ইবনু আদহামকে প্রশ্ন করলেন, 'আচ্ছা শাইখ, বলুন তো আমাদের দু'আ কবুল হয় না কেন? আমরা তো আল্লাহর কাছে অনেক দু'আ করি।' জবাবে তিনি বলেন, 'এর কারণ হলো, তোমরা আল্লাহ তাআলাকে চিনেছো কিন্তু তাঁর আনুগত্য করছ না। আল্লাহ তাআলা কি একথা বলেননি যে,
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ
'তোমরা আল্লাহর এবং রাসুলের অনুগত্য করো।' ২২ তোমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চিনেছ কিন্তু তাঁর সুন্নতের অনুসরণ করো না। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা কি একথা বলেননি যে,
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
'বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ করো, যাতে আল্লাহও তোমাদেরকে ভালোবাসেন এবং তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। '২৩
তোমাদেরকে কুরআন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তোমরা কুরআন নিয়ে চিন্তা- গবেষণা করো না এবং কুরআন অনুযায়ী আমল করো না। আল্লাহ তাআলা কি তোমাদের একথা বলেননি যে,
كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ 'এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসূহ লক্ষ করে এবং বুদ্ধিমানরা যেন তা অনুধাবন করে।' ২৪
তোমরা আল্লাহ তাআলার নিয়ামত ভক্ষণ করো কিন্তু তাঁর শুকরিয়া আদায় করো না। আল্লাহ কি তোমাদেরকে একথা বলেননি যে,
يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ 'তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনে, এরপর অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।'২৫
তোমরা জান্নাতের ব্যাপারে জানো কিন্তু জান্নাত তালাশ করো না, আল্লাহ তাআলা কি তোমাদেরকে একথা বলেননি যে,
وَتِلْكَ الْجَنَّةُ الَّتِي أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ 'এই যে জান্নাতের উত্তরাধিকারী তোমরা হয়েছ, এটা তোমাদের কর্মের ফল।'২৬
তোমরা শয়তানকে চিনো কিন্তু শয়তান থেকে বাঁচার জন্য তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হও না বরং তোমরা তোমাদের শত্রু শয়তানেরই অনুসরণ করো। আল্লাহ কি তোমাদের এ কথা বলেননি,
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا نَّ إِنَّمَا يَدْعُو حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ
'শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রুরূপেই গ্রহণ করো। সে তার দলবলকে আহ্বান করে যেন তারা জাহান্নামি হয়।'২৭
তোমরা জানো যে মৃত্যু সুনিশ্চিত কিন্তু তোমরা মৃত্যুর জন্য কোনোই প্রস্তুতি গ্রহণ করো না। আল্লাহ কি তোমাদের এ কথা বলেননি যে,
قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ ، ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
'বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়নপর, সেই মৃত্যু অবশ্যই তোমাদের মুখোমুখি হবে, অতঃপর তোমরা অদৃশ্য, দৃশ্যের জ্ঞানী আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন সেসব কর্ম, যা তোমরা করতে।’২৮
তোমরা নিজ হাতে কত মৃতকে কবরস্থ করো কিন্তু নিজেরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো না। আল্লাহ তাআলা কি তোমাদের এ কথা বলেননি যে,
فَاعْتَبِرُوا يَا أُولِي الْأَبْصَارِ 'অতএব, হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষাগ্রহণ করো।'২৯
তোমরা নিজের দোষ রেখে অন্যের দোষের পিছনে লেগে থাকো। অথচ আল্লাহ তাআলা তোমাদের বলেছেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا يَسْخَرْ قَوْمٌ مِّن قَوْمٍ عَسَى أَن يَكُونُوا خَيْرًا مِنْهُمْ وَلَا نِسَاءٌ مِّن نِّسَاءٍ عَسَى أَن يَكُنَّ خَيْرًا مِّنْهُنَّ ۖ وَلَا تَلْمِزُوا أَنفُسَكُمْ وَلَا تَنَابَزُوا بِالْأَلْقَابِ ۖ بِئْسَ الِاسْمُ الْفُسُوقُ بَعْدَ الْإِيمَانِ ۚ وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
'মুমিনগণ, কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কেননা, সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ বিশ্বাস স্থাপন করলে তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এমন কাজ থেকে তওবা না করে তারাই জালেম।'৩০
টিকাঃ
[২২] সুরা মাইদা: ৯২।
[২৩] সুরা আল ইমরান: ৩১।
[২৪] সুরা ছাদ: ২৯।
[২৫] সুরা নাহল: ৮৩।
[২৬] সুরা যুখরুফ: ৭২।
[২৭] সুরা ফাতির: ৫।
[২৮] সুরা জুমআহঃ ৮।
[২৯] সুরা হাশর: ২।
[৩০] সুরা হুজরাত: ১১।