📄 দু‘আর সংজ্ঞা ও তার প্রকার
দু'আর আভিধানিক অর্থ: (الدعاء والدعوة) দু'আ বা দাওয়া) এটা আরবি শব্দ যা دعا يدعو ক্রিয়ার মূল ধাতু, অর্থ: ডাকা, আহ্বান করা, প্রার্থনা করা, দু'আ করা বা মঙ্গল কামনা করা।
পারিভাষিক অর্থ: ইমাম তিবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, দু'আ হলো আল্লাহ তাআলার সামনে চূড়ান্তভাবে নতি স্বীকার করে নিজের বিনয় এবং মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা। আর এভাবে দু'আ করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।১০
মুনাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, দু'আ হলো প্রয়োজন ব্যাখ্যা করে মুখাপেক্ষিতার প্রকাশ ঘটানো। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার নিকট নিজের প্রয়োজন চাওয়া।
দু'আর প্রকার: পবিত্র কুরআনুল কারিমে দু'আ দুইটি অর্থে এসেছে। (১) দু'আউল ইবাদত বা ইবাদতের দু'আ। (২) দু'আউল মাসআলা বা প্রার্থনার দু'আ।
(১) দু'আউল ইবাদত হলো, আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ ভয় ও আশা নিয়ে তার যথাযথ হামদ ও সানা তথা তাঁর প্রশংসা করা।
(২) দু'আউল মাসআলা বা প্রার্থনার দু'আ হলো, প্রার্থনাকারী তার প্রয়োজন আল্লাহ তাআলার নিকট চাইবে। যেমন সে তার ওপর আপতিত বিপদ থেকে মুক্তি কামনা করবে এবং নিজের কোনো প্রয়োজন আল্লাহ তাআলার নিকট চাইবে।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এমনটিই বলেছেন।
সুতরাং কুরআনে দু'আ কখনো এই অর্থে এসেছে আবার কখনো ওই অর্থে। কিন্তু উভয়টাই দু'আর অর্থ। যেভাবে-ই হোক বান্দা যখন আল্লাহর কাছে চায়, তখন আল্লাহ তায়ালা বান্দার দু'আকে কবুল করে নেবেন, যদি বান্দা মন থেকে আল্লাহকে ডাকতে পারে।
اُدْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
'তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাকো, কাকুতি-মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না। পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহ্বান করো ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।' ১১
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
'আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, (তখন তুমি বলে দেবে) বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। প্রার্থনাকারীরা যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে আমি তাদের প্রার্থনা কবুল করে নিই। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।' ১২
অর্থাৎ বান্দা যখন আমার নিকট চায়, তখন আমি তাকে তা দিই। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন এভাবে, অর্থাৎ বান্দা আমার ইবাদত করলে আমি তাকে প্রতিদান দিই।
দু'আ করার সময় মনকে প্রসস্ত করে দু'আ করা। হৃদয় থেকে দু'আ করা। অমনোযোগী হয়ে দু'আ না করা।
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ أَعْجَزَ النَّاسِ مَنْ عَجَزَ عَنِ الدُّعَاءِ، وَأَبْخَلَ النَّاسِ مَنْ بَخِلَ بِالسَّلَامِ
'সবচেয়ে ব্যর্থ ও অপারগ হলো ওই ব্যক্তি যে দু'আ করতে ব্যর্থ হয়। আর সবচেয়ে কৃপণ ওই ব্যক্তি যে সালাম দিতে কার্পণ্য করে। '১৩
সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إن ربكم تبارك وتعالى حبي كريم يستحيي من عبده إذا رفع يديه إليه أن يردهما صفرا
'নিশ্চয় তোমাদের রব চিরঞ্জীব দয়ালু। বান্দা যখন দুই হাত তুলে তার নিকট দু'আ করে, তখন তিনি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান। '১৪
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,
ادعوا الله وأنتم موقنون بالإجابة، وأعلموا أن الله لا يستجيب دعاء من قلب غافل لاه
'তোমরা এই বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করো যে, তিনি তোমাদের দু'আ কবুল করবেন এবং তোমরা জেনে রাখো যে, আল্লাহ তাআলা গাফেল উদাস অন্তরের দু'আ কবুল করেন না। '১৫
টিকাঃ
[১০] ফাতহুল বারি।
[১১] সুরা আরাফ: ৫৫-৫৬।
[১২] সুরা বাকারা: ১৮৬।
[১৩] আল মুজামুল আওসাত।
[১৪] আবু দাউদ: ১৪৮৮।
[১৫] আস সুনান, তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ।
📄 নবিজি ﷺ আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু‘আ
শাহর ইবনু হাউশাব রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহ আনহুমাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'হে উম্মুল মুমিনিন, আপনার নিকট যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকতেন; তখন তিনি সবচে বেশি কোন দু'আ করতেন? জবাবে তিনি বলেন, নবিজি আমার কাছে থাকাকালে নিম্নোক্ত দু'আটি বেশি বেশি পাঠ করতেন।
يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك 'হে অন্তরসমূহকে পরিবর্তনকারী, আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর স্থির করে দিন। '১৬
আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশিরভাগ সময় এই দু'আ করতেন:
اللهم ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار 'হে আমাদের রব, আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদেরকে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। '১৭
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আয় বলতেন, رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَى وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَى وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَى وَاهْدِنِي وَيَسْرِ الْهُدَى لِي وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَى رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَارًا لَكَ ذَكَارًا لَكَ رَهَابًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَاهَا مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاهْدِ قَلْبِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِي 'হে আমার রব! তুমিই আমায় সহযোগিতা করো। আমার বিরুদ্ধে সহযোগিতা করো না, আমায় সাহায্য করো। আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করো না, আমার পক্ষে কৌশল অবলম্বন করো, আমার বিরুদ্ধে কৌশল করো না, আমাকে হিদায়াত দান করো, আমার জন্য হিদায়াত সহজ করে দাও। যারা আমার ওপর অত্যাচার করে তাদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো।
হে পরওয়ারদিগার! আমাকে তোমার শোকর আদায়কারী বান্দা বানাও, তোমার জিকিরকারী, তোমার প্রতি ভয় পোষণকারী, তোমার প্রতি আনুগত্যশীল, তোমার প্রতি বিনয়াবনত, তোমার প্রতি মিনতিপূর্ণ ও প্রত্যাবর্তনশীল বানিয়ে দাও।
হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করে নাও। আমার সব পাপরাশি ধুয়ে- মুছে সাফ করে দাও, আমার দু'আর জবাব দিয়ে দিয়ো। আমার দলিল- প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত করে নিয়ো। আমার জবানকে সঠিক রাখো। আমার অন্তরকে হিদায়াত করে দাও। আমার হৃদয় থেকে সব হিংসা-বিদ্ধেষ দূর করে দাও।'১৮
টিকাঃ
[১৬] তিরমিজি: ৩৫২২
[১৭] বুখারি ও মুসলিম
[১৮] সুনানে তিরমিজি: ৩৫৫১।
📄 দু‘আর উপকারিতা
দু'আর উপকারিতা সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না। এখানে দু'আর কতিপয় ফায়দা ও উপকারিতার কথা উল্লেখ করা হলো:
(১) দু'আর মাধ্যমে দ্রুত বিপদ কেটে যায়।
(২) আল্লাহর নৈকট্য, তাঁর ভালোবাসা এবং তাঁকে বিশ্বাসের দিক থেকে নিজের সকল চিন্তা ও পেরেশানিকে আল্লাহ তাআলার নিকট ন্যস্ত করা হয়।
(৩) দু'আ এমন এক অস্ত্র, যার মাধ্যমে শত্রু এবং দুর্ভাগ্য প্রতিহত হয়।
(৪) দু'আর মাধ্যমে কল্যাণ অর্জিত হয় এবং অকল্যাণ দূর হয়।
(৫) অন্যের দোষ-ত্রুটি চর্চা থেকে মুক্ত থাকা যায়। কারণ দু'আর মাধ্যমে নিজের পাপরাশি স্মরণ হয়, আর এতে সে নিজের গুনাহ নিয়েই ব্যস্ত ও পেরেশান থাকে।
(৬) দু'আর মাধ্যমে মনের মধ্যে নিজের দুর্বলতা, অক্ষমতা এবং প্রয়োজনগ্রস্ততার অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
(৭) দু'আ অনেক বড়ো এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা ইবাদত। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নিজের প্রয়োজন পূরা হয়, ক্ষতি ও বিপদমুক্ত হয়; অন্য দিকে এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অনেক বড়ো একটি ইবাদতও করা হয়।
(৮) দু'আর মাধ্যমে বান্দার মধ্যে সর্বদা এই অনুভূতি জাগ্রত থাকে যে, আমি যেখানেই থাকি না কেন আল্লাহ তাআলা আমার সাথে আছেন এবং তিনি আমাকে সাহায্য করবেন।
ইমাম শাফেঈ রাহিমাহুল্লাহু বলেন,
أتهزأ بالدعاء وتزدريه وما تدري بما صنع الدعاء
سهام الليل لا تخطي ولكن لها أمد وللأمد انقضاء
فيمسكها إذا ما شاء ربي - ويرسلها إذا نفذ القضاء
'তুমি কি দু'আ নিয়ে ঠাট্টা করো এবং তাকে তুচ্ছ ও হালকা মনে করো? তুমি তো জানো না যে দু'আ কি করতে পারে! দু'আ হলো রাতের অব্যর্থ তির, কিন্তু (দু'আ কবুলের) একটা সময় আছে, সে সময়মতো তা কবুল হয়। আমার রবের যখন ইচ্ছা থাকে, তখন তিনি দু'আকে আটকে রাখেন। (কবুল করেন না।) আবার যখন (কবুল করার ইচ্ছা করেন) তখন কবুল করে নেন।'
📄 দু‘আর রুকন এবং তার শর্তসমূহ
দু'আর চেয়ে সম্মানের বিষয় বান্দার জন্য আর কিছু নেই। দু'আ হলো আল্লাহ তাআলার সামনে বিনীত হয়ে, নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করে আশা ও ভয় নিয়ে আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করা। দু'আর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করে, তাঁর ওপর ভরসা করে এবং নিজের বিষয়াদি আল্লাহ তাআলার নিকট অর্পণ করে।
প্রিয় ভাই! আমাদের সালাফদের রাত্রি কাটত আল্লাহর ইবাদত ও দু'আ-মুনাজাত করে, আর দিন কাটত শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে যুদ্ধ করে। তারা রাতে আল্লাহর ইবাদত করতেন, কাকুতি মিনতি করে দু'আ করতেন। আর দিনের বেলায় মানুষের মাঝে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতেন।
দু'আ আল্লাহ তাআলার অনেক বড়ো একটি ইবাদত। যেই ইবাদত করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বা স্থানের প্রয়োজন হয় না এবং দু'আর নির্দিষ্ট কোনো অবস্থাও নেই। রাতে-দিনে, জলে-স্থলে, সফরে-হজরে, সচ্ছলতায়-অসচ্ছলতায়, সুস্থতাবস্থায়-অসুস্থতাবস্থায়, গোপনে-প্রকাশ্যে, দাঁড়িয়ে-বসে যে-কোনো সময়, যে-কোনো অবস্থায়ই দু'আর ইবাদত করা যায়।
আল্লাহর শপথ করে বলছি, দু'আ মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অজিফা। এর মাধ্যমে বিপদের কালো মেঘগুলো কেটে যায়। দূর হয়ে যায় দুঃখের সফেদ মেঘ। চিন্তা-পেরেশানি হালকা হয়ে মনের মধ্যে এক ধরনের নিশ্চিন্ততা এবং প্রশান্তি সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইবরাহিম আ. সম্পর্কে এসেছে, তিনি বলেছিলেন, وَأَدْعُو رَبِّي عَسَى أَلَّا أَكُونَ بِدُعَاءِ رَبِّي شَقِيًّا
'আমি আমার পালনকর্তার ইবাদত করব, তাঁকে ডাকব। আশা করি, আমার পালনকর্তার ইবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না।'১৯
দু'আর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার রহমত অর্জিত হয়, বান্দার ইজ্জত ও তামকিন প্রতিষ্ঠা হয় এবং মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং দু'আ বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার অনেক বড়ো একটি রহমত এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের বড় একটি মাধ্যম।
দু'আর অনেকগুলো শর্ত রয়েছে যা আল্লাহ তাআলা নিম্নের আয়াতে একত্র করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
اُدْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ، إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
'তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাকো, কাকুতি-মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না। পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহ্বান করো ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।'২০
সাহল আত তুসতুরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, দু'আ কবুলের জন্য সাতটি শর্ত রয়েছে:
(১) কাকুতি মিনতি করে দু'আ করা।
(২) মনের মধ্যে আল্লাহ তাআলার ভয় নিয়ে দু'আ করা।
(৩) আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ কবুলের আশা নিয়ে দু'আ করা।
(৪) নিয়মিতভাবে দু'আ করা।
(৫) বিনয় ও একাগ্রতার সাথে দু'আ করা।
(৬) দু'আর মধ্যে সকলকেই শামিল করা। কৃপণতা না করা।
(৭) হালাল খাবার গ্রহণ করা।
দু'আর কিছু রুকন রয়েছে। যেমন:
(১) ইখলাসের সাথে দু'আ করা।
(২) গুনাহ মুক্ত হয়ে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন না করে আল্লাহর প্রতি সুন্দর ও উত্তম ধারণা নিয়ে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দু'আ করা।
(৩) আল্লাহ তাআলার জাত ও সিফাতের মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করে দু'আ শুরু করা।
(৪) দু'আর শুরুতে, মাঝে এবং শেষে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরুদ পড়া। নবিজির ওপর দরুদ হলো দু'আর ডানাস্বরূপ, যা দু'আকে কবুল হওয়ার জন্য আসমানের দিকে নিয়ে যায়। এগুলোর সাথে সাথে, পবিত্র খাবার, পবিত্র পোশাক ও পবিত্র বাসস্থান এবং দু'আ কবুলের দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দু'আ করা। এই বিষয়গুলো যখন পাওয়া যাবে তখন আমাদের দু'আ কবুল হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُم
'তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমার নিকট দু'আ করো আমি সাড়া দেব।'২১
দু'আর শর্তসমূহ যখন পূর্ণ হবে এবং দু'আ কবুলের প্রতিবন্ধক বিষয়গুলো যখন থাকবে না তখন আল্লাহর ইচ্ছায় দু'আ কবুল হবে।
টিকাঃ
[১৯] সুরা মারইয়াম: ৪৮।
[২০] সুরা আরাফ: ৫৫-৫৬।
[২১] সুরা গাফির: ৬০।