📘 দু আর মহিমা > 📄 আল্লাহর সমীপে সাহায্য চাওয়া

📄 আল্লাহর সমীপে সাহায্য চাওয়া


আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থাশীল হওয়া এবং তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা করা। তুমি যদি কোনো মানুষের ওপর আস্থা রাখো তাহলে তুমি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাকারী হতে পারবে না। অনুরূপভাবে তুমি যদি কোনো মানুষের ওপর ভরসা করো, তাহলে তুমি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থাশীল হতে পারবে না। আমরা আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করব, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করব কারণ এটা আমাদের প্রয়োজন। আমরা তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাঁর ইবাদত করার মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ لِلّٰهِ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اِلَیۡهِ یُرۡجَعُ الۡاَمۡرُ کُلُّهٗ فَاعۡبُدۡهُ وَ تَوَکَّلۡ عَلَیۡهِ وَ مَا رَبُّکَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ
‘আর আল্লাহর কাছেই আছে আসমান ও জমিনের গোপন তথ্য; আর সকল কাজের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে; অতএব তাঁরই বন্দেগি করো এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখো, আর তোমাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তোমার পালনকর্তা কিন্তু বে-খবর নন।’৪
আল্লাহ তাআলার এই বাণী:
اِیَّاکَ نَعۡبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسۡتَعِیۡنُ
‘আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।’৫
এই আয়াত এটাই প্রমাণ করে যে, আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের জন্য সাহায্য কামনা করতে হবে।
ইবাদত ও ইস্তেআনাতের অনেক প্রকার রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও গুরুত্ব পূর্ণ হলো, আল্লাহ তাআলার ইবাদতের ওপর সাহায্য চাওয়া। আর এ বিষয়টাই মুআজ ইবনু জাবালকে ভালোবেসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন
'হে মুআজ! আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালোবাসি। (সুতরাং এই ভালোবাসা থেকেই তোমাকে বলছি) তুমি প্রতি নামাজের পর এই দু'আ পড়তে ভুলবে না।
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
'হে আমার রব, আপনি আমাকে আপনার জিকির করা, আপনার শুকরিয়া আদায় করা এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে সাহায্য করুন।৬

টিকাঃ
[৪] সুরা হুদ: ১২৩।
[৫] সুরা ফাতিহা: ৫।
[৬] আবু দাউদ: ১৫২২। সনদ: সহিহ। হাদিস: সহিহ।

📘 দু আর মহিমা > 📄 সর্বোত্তম দু‘আ

📄 সর্বোত্তম দু‘আ


হে প্রিয় ভাই ও বোন! আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করা এবং তার ইবাদতের ওপর সাহায্য প্রার্থনা করাই হলো সর্বোত্তম দু'আ। কারণ, এই দু'আর ওপরই অন্য সকল দু'আ করার তাওফিক নির্ভর করে।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'আমি অনেক ভেবে দেখলাম, সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে উপকারী দু'আ হলো, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করা। এরপরে আমি আরো একটু খেয়াল করে দেখলাম, এই দু'আটা সুরা ফাতিহার মধ্যে রয়েছে, আর তা হলো, إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য প্রর্থনা করি। '৭
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দু'আ করতেন: اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي 'হে আমার রব, আপনি আমার দ্বীনকে সঠিক করে দিন।' وَلَا تَجْعَلْ مُصِيبَتِي فِي دِينِي 'আপনি আমার দ্বীনের মধ্যে কোনো ধরণের মুসিবত দিয়েন না।৮

দ্বিতীয় বিষয় হলো, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ব্যতীত সাহায্য চাওয়াটা ইবাদত হবে না এবং তা ইস্তেআনাতও হবে না। বরং সেটা হবে শাহওয়াতুদ দুনিয়া বা নিজের দুনিয়ার স্বার্থে দু'আ বা সাহায্য চাওয়া।
তুমি বিষয়টি নিয়ে একবার চিন্তা করে দেখো যে, আল্লাহ তাআলার নিকট তো দু'আ করে যারা তাঁর বন্ধু তারাও আবার যারা তার দুশমন তারাও। এরাও হাত পাতে তারাও হাত পাতে। এবার তুমিই বলো এদের উভয় জনেরটাই কি ইবাদত হবে? নিশ্চয় না। ইবলিস হলো আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে নিকৃষ্ট শত্রু, সে যখন তাঁর কাছে চেয়েছে, আল্লাহ তাআলা ইবলিসের চাওয়াকে পূরণ করে তাকে কিয়ামত অবদি জীবন দান করেছেন। ইবলিসের দু'আ যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়নি, তখন তা তার দুর্ভাগ্য বৃদ্ধির কারণ হয়েছে। সে আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে আরো দূরে সরে গেছে এবং বিতারিত হয়েছে। অনুরূপভাবে যে আল্লাহ তাআলার নিকট শুধুমাত্র তার প্রয়োজন চাইবে, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও তার সাহায্য কামনা করবে না; এটা আল্লাহ তাআলার ইবাদত হবে না বরং এটা তাঁর সন্তুষ্টি থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণ হবে।

অবশ্যই বিষয়টি তোমার জানা থাকতে হবে যে, দু'আকারীদের দু'আ কবুল হওয়া মানে আল্লাহ তাআলার নিকট সে সম্মানিত বা প্রিয় বিষয়টি তেমন নয়। বরং মানুষ আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করে অতঃপর আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন। নেককার বান্দা কিছু চাইলে আল্লাহ তাআলা তাকে তা দেন আবার বদকার বান্দা কিছু চাইলে তাকেও তা দেন। বদকার বান্দার দুনিয়াবী কিছু চাওয়ার পরে তাকে তা দেওয়াটা তার ধ্বংস এবং দুর্ভাগ্যের করণ হয়। আবার কোনো নেককার বান্দার দু'আর ফল সাথে সাথে না পাওয়া বা বাহ্যিক দৃষ্টিতে তা কবুল না হতে দেখলেই সে আল্লাহর অপ্রিয় বা তার দু'আ কবুল হয়নি বিষয়টি এমন না। বরং আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় বান্দাদের দু'আর ফল কখনো দ্রুত দেন, কখনো দেরিতে সেটা বা তার চেয়ে উত্তম কিছু দেন আবার কখনো তা দুনিয়াতে না দিয়ে আখিরাতে তার সওয়াবকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন। কারণ আল্লাহ তাআলা যেহেতু তাকে ভালোবাসেন সুতরাং তিনি তার প্রিয় বান্দার জন্য যেটা উত্তম সেটা দেন। বান্দার জন্য যদি দ্রুত ফলাফলটা কল্যাণকর হয় তাহলে তিনি তার ফল দ্রুত দেন। যদি পরবর্তিতে দিলে কল্যাণের হয় তাহলে পরবর্তিতে দেন। আর ভালোবাসার দাবিও তো এটাই যে প্রিয়া তার প্রেমাস্পদের জন্য তাই পছন্দ করবে যা সর্বোত্তম ও কল্যাণকর। কিন্তু এটা দেখে অনেক মূর্খরা মনে করে যে, আল্লাহ তাআলা যেহেতু তার দু'আ কবুল করেননি সুতরাং তিনি তাকে ভালোবাসেন না। বিশেষ করে তারা যখন কোনো বদকার লোকের দু'আর ফল দ্রুত পেতে দেখে তখন তাদের মনের মধ্যে এই বিশ্বাস আরো দৃঢ় হয়। কিন্তু এটা ঠিক না।

তুমি যখন আল্লাহ তায়ালার কাছে দু'আ করবে, তখন দুনিয়াবী কোনো বিষয় সরাসরি চাইবে না। সেটা তোমার দৃষ্টিতে যতই কল্যাণের হোক বা অকল্যাণের। তুমি তাকে আল্লাহর ইলমের সাথে সম্পৃক্ত করবে। বলবে হে আল্লাহ যদি এর মধ্যে আমার কল্যাণ থাকে তাহলে আপনি আমাকে তা দান করুন। কারণ, হতে পারে কোনো বিষয় তোমার কাছে কল্যাণের মনে হচ্ছে কিন্তু এতে তোমার জন্য অকল্যাণ রয়েছে, আবার তোমার কাছে কোনো বিষয়কে অকল্যাণের মনে হচ্ছে কিন্তু তাতে তোমার কল্যাণ রয়েছে। তাই তুমি সরাসরি কোনো কিছু চাইবে না বরং তাকে তুমি আল্লাহর ইলমের সাথে সম্পৃক্ত করবে। তুমি তোমার দায়িত্বকে আল্লাহ তাআলার ওপর ন্যস্ত করবে। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু'আও করতেন,
يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيثُ، أَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ
'হে চিরঞ্জীব অবিনশ্বর সত্তা! আপনার রহমতের মাধ্যমে আপনার নিকট সাহায্য চাচ্ছি, আপনি আমার সকল বিষয়কে সংশোধন করে দিন এবং এক মূহুর্তের জন্য আমার ওপর আমার নিজের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন না।'৯
اللهم أرجو رحمتك فلا تكلني إلى نفسي طرفة عين
'হে আমার রব, আমি আপনার রহমতের কাঙ্গাল। সুতরাং আপনি এক মুহূর্তের জন্যও আমার ওপর আমার নিজের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন না।'

টিকাঃ
[৭] সুরা ফাতিহা: -৫।
[৮] সহিহ মুসলিম: ২০২৭।
[৯] আস সুনান, ইমাম তিরমিজি: ৩৫২৪।

📘 দু আর মহিমা > 📄 দু‘আর সংজ্ঞা ও তার প্রকার

📄 দু‘আর সংজ্ঞা ও তার প্রকার


দু'আর আভিধানিক অর্থ: (الدعاء والدعوة) দু'আ বা দাওয়া) এটা আরবি শব্দ যা دعا يدعو ক্রিয়ার মূল ধাতু, অর্থ: ডাকা, আহ্বান করা, প্রার্থনা করা, দু'আ করা বা মঙ্গল কামনা করা।
পারিভাষিক অর্থ: ইমাম তিবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, দু'আ হলো আল্লাহ তাআলার সামনে চূড়ান্তভাবে নতি স্বীকার করে নিজের বিনয় এবং মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা। আর এভাবে দু'আ করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।১০
মুনাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, দু'আ হলো প্রয়োজন ব্যাখ্যা করে মুখাপেক্ষিতার প্রকাশ ঘটানো। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার নিকট নিজের প্রয়োজন চাওয়া।

দু'আর প্রকার: পবিত্র কুরআনুল কারিমে দু'আ দুইটি অর্থে এসেছে। (১) দু'আউল ইবাদত বা ইবাদতের দু'আ। (২) দু'আউল মাসআলা বা প্রার্থনার দু'আ।
(১) দু'আউল ইবাদত হলো, আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ ভয় ও আশা নিয়ে তার যথাযথ হামদ ও সানা তথা তাঁর প্রশংসা করা।
(২) দু'আউল মাসআলা বা প্রার্থনার দু'আ হলো, প্রার্থনাকারী তার প্রয়োজন আল্লাহ তাআলার নিকট চাইবে। যেমন সে তার ওপর আপতিত বিপদ থেকে মুক্তি কামনা করবে এবং নিজের কোনো প্রয়োজন আল্লাহ তাআলার নিকট চাইবে।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এমনটিই বলেছেন।
সুতরাং কুরআনে দু'আ কখনো এই অর্থে এসেছে আবার কখনো ওই অর্থে। কিন্তু উভয়টাই দু'আর অর্থ। যেভাবে-ই হোক বান্দা যখন আল্লাহর কাছে চায়, তখন আল্লাহ তায়ালা বান্দার দু'আকে কবুল করে নেবেন, যদি বান্দা মন থেকে আল্লাহকে ডাকতে পারে।

اُدْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
'তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাকো, কাকুতি-মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদের পছন্দ করেন না। পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহ্বান করো ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।' ১১
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
'আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, (তখন তুমি বলে দেবে) বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। প্রার্থনাকারীরা যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে আমি তাদের প্রার্থনা কবুল করে নিই। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।' ১২
অর্থাৎ বান্দা যখন আমার নিকট চায়, তখন আমি তাকে তা দিই। কেউ কেউ এর অর্থ করেছেন এভাবে, অর্থাৎ বান্দা আমার ইবাদত করলে আমি তাকে প্রতিদান দিই।

দু'আ করার সময় মনকে প্রসস্ত করে দু'আ করা। হৃদয় থেকে দু'আ করা। অমনোযোগী হয়ে দু'আ না করা।
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِنَّ أَعْجَزَ النَّاسِ مَنْ عَجَزَ عَنِ الدُّعَاءِ، وَأَبْخَلَ النَّاسِ مَنْ بَخِلَ بِالسَّلَامِ
'সবচেয়ে ব্যর্থ ও অপারগ হলো ওই ব্যক্তি যে দু'আ করতে ব্যর্থ হয়। আর সবচেয়ে কৃপণ ওই ব্যক্তি যে সালাম দিতে কার্পণ্য করে। '১৩
সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إن ربكم تبارك وتعالى حبي كريم يستحيي من عبده إذا رفع يديه إليه أن يردهما صفرا
'নিশ্চয় তোমাদের রব চিরঞ্জীব দয়ালু। বান্দা যখন দুই হাত তুলে তার নিকট দু'আ করে, তখন তিনি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান। '১৪
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,
ادعوا الله وأنتم موقنون بالإجابة، وأعلموا أن الله لا يستجيب دعاء من قلب غافل لاه
'তোমরা এই বিশ্বাস নিয়ে আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করো যে, তিনি তোমাদের দু'আ কবুল করবেন এবং তোমরা জেনে রাখো যে, আল্লাহ তাআলা গাফেল উদাস অন্তরের দু'আ কবুল করেন না। '১৫

টিকাঃ
[১০] ফাতহুল বারি।
[১১] সুরা আরাফ: ৫৫-৫৬।
[১২] সুরা বাকারা: ১৮৬।
[১৩] আল মুজামুল আওসাত।
[১৪] আবু দাউদ: ১৪৮৮।
[১৫] আস সুনান, তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ।

📘 দু আর মহিমা > 📄 নবিজি ﷺ আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু‘আ

📄 নবিজি ﷺ আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু‘আ


শাহর ইবনু হাউশাব রাহিমাহুল্লাহু বলেন, আমি উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহ আনহুমাকে জিজ্ঞেস করলাম, 'হে উম্মুল মুমিনিন, আপনার নিকট যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থাকতেন; তখন তিনি সবচে বেশি কোন দু'আ করতেন? জবাবে তিনি বলেন, নবিজি আমার কাছে থাকাকালে নিম্নোক্ত দু'আটি বেশি বেশি পাঠ করতেন।
يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك 'হে অন্তরসমূহকে পরিবর্তনকারী, আপনি আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর স্থির করে দিন। '১৬
আনাস ইবনু মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশিরভাগ সময় এই দু'আ করতেন:
اللهم ربنا آتنا في الدنيا حسنة وفي الآخرة حسنة وقنا عذاب النار 'হে আমাদের রব, আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদেরকে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। '১৭
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'আয় বলতেন, رَبِّ أَعِنِّي وَلَا تُعِنْ عَلَى وَانْصُرْنِي وَلَا تَنْصُرْ عَلَى وَامْكُرْ لِي وَلَا تَمْكُرْ عَلَى وَاهْدِنِي وَيَسْرِ الْهُدَى لِي وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَى رَبِّ اجْعَلْنِي لَكَ شَكَارًا لَكَ ذَكَارًا لَكَ رَهَابًا لَكَ مِطْوَاعًا لَكَ مُخْبِتًا إِلَيْكَ أَوَاهَا مُنِيبًا رَبِّ تَقَبَلْ تَوْبَتِي وَاغْسِلْ حَوْبَتِي وَأَجِبْ دَعْوَتِي وَثَبِّتْ حُجَّتِي وَسَدِّدْ لِسَانِي وَاهْدِ قَلْبِي وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ صَدْرِي 'হে আমার রব! তুমিই আমায় সহযোগিতা করো। আমার বিরুদ্ধে সহযোগিতা করো না, আমায় সাহায্য করো। আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করো না, আমার পক্ষে কৌশল অবলম্বন করো, আমার বিরুদ্ধে কৌশল করো না, আমাকে হিদায়াত দান করো, আমার জন্য হিদায়াত সহজ করে দাও। যারা আমার ওপর অত্যাচার করে তাদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো।
হে পরওয়ারদিগার! আমাকে তোমার শোকর আদায়কারী বান্দা বানাও, তোমার জিকিরকারী, তোমার প্রতি ভয় পোষণকারী, তোমার প্রতি আনুগত্যশীল, তোমার প্রতি বিনয়াবনত, তোমার প্রতি মিনতিপূর্ণ ও প্রত্যাবর্তনশীল বানিয়ে দাও।
হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করে নাও। আমার সব পাপরাশি ধুয়ে- মুছে সাফ করে দাও, আমার দু'আর জবাব দিয়ে দিয়ো। আমার দলিল- প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত করে নিয়ো। আমার জবানকে সঠিক রাখো। আমার অন্তরকে হিদায়াত করে দাও। আমার হৃদয় থেকে সব হিংসা-বিদ্ধেষ দূর করে দাও।'১৮

টিকাঃ
[১৬] তিরমিজি: ৩৫২২
[১৭] বুখারি ও মুসলিম
[১৮] সুনানে তিরমিজি: ৩৫৫১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00