📘 দু আর মহিমা > 📄 প্রাককথন

📄 প্রাককথন


দু'আ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাহ। দু'আ মুমিনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার। 'দু'আ' অর্থ ডাকা, আল্লাহকে ডাকা। 'ইস্তিগফার' অর্থ মাফ চাওয়া। আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া। আর 'ইনাবাত ইলাল্লাহ' অর্থ আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া। দুআ, ইস্তিগফার ও ইনাবাত ইলাল্লাহ মুমিনের পাথেয়, ঈমানদারের সম্বল, সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় তা মুমিনের অবলম্বন। মুমিন যখন সুখী তখনও মহান রবকে ভুলে যায় না, যখন দুঃখী তখনও রবের রহমত থেকে নিরাশ হয় না। সুখ ও শান্তি রবের পক্ষ থেকে আসে। মুক্তি ও বিপদ মোচনও তাঁর আদেশে হয়। তারই ফায়সালায় অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। অতএব দু'আ সর্বাবস্থার আমল। আল্লাহ তায়ালা দু'আকারীদের খুব কাছেই থাকেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে—
"আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে (তখন বলে দিবে) বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। প্রার্থনাকারী যখন আমার নিকট প্রার্থনা করে, আমি তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।” (সূরা বাকারা: ১৮৬)

অনেক সময় দেখা যায় বান্দা দীর্ঘদিন দু'আ করেও কোনো ফল পায় না। তখন বান্দা হতাশ হয়ে দু'আ করা ছেড়ে দেয়, আসলে এমনটা করা উচিত না। বরং ধারাবাহিকভাবে দু'আ করে যাওয়া উচিত। আল্লাহ তায়ালা হয়ত বান্দার ধৈর্য পরীক্ষা করেন। ইমাম ইবনুল কায়্যিম জাওযি রাহিমাহুল্লাহু বলেন, রব যদি তোমার মুনাজাতকে কবুল না করেন, তাহলে তুমি রবকে আহবান করা থেকে বিরত থেকো না। এমনও তো হতে পারে যে, মহান রব দু'আর মাধ্যমে তোমার কন্ঠ শুনতে চান।
আবার এমনও তো হতে পারে যে, আপনি আল্লাহর কাছে যেই জিনিস কামনা করছেন, সেটা আপনার জন্য কল্যাণকর নয় বিধায়, আল্লাহ তায়ালা আপনাকে কাংখিত জিনিস দিচ্ছেন না। ইমাম ইবনুল কায়্যিম জাওযি রাহিমাহুল্লাহু বলেন—
আল্লাহ তায়ালা যদি সাথে সাথে তোমার দু'আর উত্তর দেন, দু'আ কবুল করে নেন, তাহলে মনে করবে—তিনি তোমার ঈমানকে বৃদ্ধি করেছেন। আর যদি তিনি তোমার দু'আর উত্তর সাথে সাথে না দেন, তাহলে মনে করবে—তিনি তোমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন। আর যদি দেখো; তিনি তোমার দু'আই কবুল করছেন না, তাহলে মনে করবে—তিনি তোমার জন্য এর চেয়ে আরো উত্তম কিছু নির্ধারিত করে রেখেছেন।

..হাশরের দিন এমন কিছু মানুষ থাকবে, দুনিয়াতে যাদের দু'আ আল্লাহ তাআলা কবুল করতেন না। তবুও সে ঐ দু'আ নিয়মিত করতে থাকতো। শেষ বিচারের দিন সে দেখবে এক বিশাল পুরস্কারের পাহাড়। সে অবাক হয়ে ঐ পুরস্কারটা দেখবে এবং চিন্তা করবে, আমি তো জীবনে এমন কিছু করিনি যে এ পুরস্কারটা পাব। নিশ্চয়ই এটা অন্য কারো। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরেও যখন এটা কেউ দাবি করতে আসবে না তখন সে আল্লাহ তাআলাকে ডেকে বলবে,
- ইয়া আল্লাহ!
: বলো হে আমার বান্দা!
- এ পুরস্কারটা কার জন্য?
: তোমার জন্য।
- কী!!! আমার জন্য!!!!?
: হ্যাঁ, তোমার জন্য।
- কিন্তু আমি তো এ পুরস্কার পাওয়ার মত কোন আমল করিনি।
: তুমি দুনিয়ায় থাকাকালীন একটা বিষযে আমার কাছে নিয়মিত দু'আ করতে। কিন্তু আমি তোমার সে দু'আ কবুল করতাম না। তবুও তুমি দু'আ করা থামাতে না। আজ সে দু'আর প্রতিদানই তুমি পাচ্ছ।
তখন সে ব্যক্তি আবেগাপ্লুত হয় বলবে—ও আল্লাহ! ও আল্লাহ! আপনি যদি দুনিয়ায় আমার কোন দু'আই কবুল না করতেন, কতই না ভালো হত! (মুসনাদু আহমাদ)

দু'আ হচ্ছে সবচে পাওয়ার ফুল একটি নিয়ামাহ। দু'আর মাধ্যমে অনেক অসম্ভবকে আল্লাহ তায়ালা সহজ করে দেন। দু'আর মহিমা এবং ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই উদাসীন। আমরা অনেকেই দু'আ করতে অনীহা প্রকাশ করি। আমাদের অনেকেই জানে না যে, দু'আ কীভাবে করতে হয়, কোন পদ্ধতিতে আল্লাহর কাছে দু'আ করলে আল্লাহ তায়ালা সাড়া দেন। দু'আ কবুল না হওয়ার কারণ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন বিষয়।
এইসব বিষয় নিয়ে আমরা আপনাদের জন্য আয়োজন করেছি—'দু'আর মহিমা' নামে চমৎকার একটি বই। বইটি মূলত আরবের বিখ্যাত দু'জন শাইখের বক্তৃতার সংকলন। তারা দরদ নিয়ে দু'আ সম্পর্কে খুব সুন্দর বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। বইটিতে দু'আর বিভিন্ন টিপসসহ দু'আ কবুল হওয়ার হৃদয়স্পর্শী কিছু ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা আশা করি, বইটি সমস্ত পাঠকের অনেক উপকারে আসবে ইনশা আল্লাহ।
পরিশেষে বলব- বইটির কোথাও কোন ভুল বা অসংগতি যদি কারো দৃষ্টিগোচর হয়, তাহলে অনুগ্রহপূর্বক আমাদের অবহিত করলে আমরা পরবর্তী সংস্করণে অবশ্যই পরিবর্তন করবো ইন শা আল্লাহ।
হাসানাহ অনুবাদ টিম ০১-০৯-২০২০ ইং

📘 দু আর মহিমা > 📄 মহান রব বান্দার কাছে থাকেন

📄 মহান রব বান্দার কাছে থাকেন


হে আমার রব, আপনার দয়াতে আমরা বেঁচে আছি। সুখে-দুঃখে সব সময় আপনাকে আমরা কাছে পাই। আমরা যখন অনেক দুঃখে পড়ে যাই, তখন আপনি ছাড়া আর কেউ আমাদেরকে দুঃখের সাগর থেকে উত্তোলন করতে পারে না। আমাদের দুঃখের কথা, শোকের কথা—সবকিছু তো আপনি শুনতে পান। আমরা আপনার অনেক অবাধ্যতা করি, আপনার বিপরীত কাজ করি, তবুও আপনি আমাদের খুব কাছাকাছি থাকেন। কখনো পাপের কারণে আপনি আমাদের ছেড়ে চলে যান না। আপনি তো পবিত্র কুরআনুল করিমে বলেছেন—
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে, (তখন বলে দেবে) বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। প্রার্থনাকারী যখন আমার নিকট প্রার্থনা করে, আমি তাদের প্রার্থনা কবুল করে নিই। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে।১

প্রিয় ভাই আমার! একটু লক্ষ করে দেখুন, আল্লাহ তাআলা কতটা মুহব্বতের সাথে, ভালোবেসে আপনাকে বলেছেন, 'আমার বান্দা'। মহান প্রভু আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এর চেয়েও সুন্দর ও সম্মানের আর কিছু আছে কী? যে এখানে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে নিজের সাথে সম্পৃক্ত করে বলেছেন— عِبَادِي 'আমার বান্দা'।
এরপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'আমি তার ডাকে সাড়া দেব।' দেখুন, এখানে কিন্তু আল্লাহ তাআলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেননি যে, সুতরাং হে নবি, আপনি বলে দিন যে, আমার বান্দারা যদি আমার কাছে দু'আ করে, তাহলে আমি তাদের দু'আ কবুল করব। বরং আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। এর অর্থ হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের মাঝে এবং তাঁকে আহ্বানকারী বান্দার মাঝে কোনো মাধ্যম রাখেননি। অর্থাৎ বান্দার দু'আ সরাসরি আল্লাহ তাআলার দরবারে চলে যায় এবং তাঁর দরজাও সর্বদা খোলা থাকে। যারা তাঁকে ডাকে তিনি তাদের নিকটেই থাকেন। তিনি তাদের দু'আ কবুল করেন।
ভাই আমার, তোমার রব তো অত্যন্ত দয়ালু। যে বান্দা রবের অবাধ্যতা করে, তার ওপরও তিনি রহমত বর্ষণ করেন। দয়ার চাদরে আগলে রাখেন। খাবার-দাবারসহ সবকিছুর ব্যবস্থা করেন।
সাইয়েদ কুতুব শহিদ রাহিমাহুল্লাহু বলেছেন, এটা এমন এক আশ্চর্য আয়াত, যার তেলাওয়াত ও স্মরণ মুমিন বান্দাদের হৃদয়কে করে সিক্ত ও স্নিগ্ধ, তাদের মনে প্রেম ও ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দেয়। তাদের মনকে করে নিশ্চিন্ত ও সন্তুষভাজন এবং তাদের অন্তরে আল্লাহর ভালোবাসা আরো মজবুত ও শক্তিশালী হয়।

আয়াতে আরো একটু লক্ষ করলে তুমি বুঝতে পারবে, আয়াতে আল্লাহ তাআলা একথা বলেননি أسمع الدعاء 'আমি তার দু'আ শুনব'। যদি এমনটা বলা হতো, তাহলে বান্দাকে ততটা কাছের বা প্রিয়জন মনে হত না। বরং আল্লাহ তাআলা বান্দাদের খুব কাছে এবং প্রিয়জন ভেবে এভাবে বলেছেন, أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ 'তারা যখনই আমার কাছে প্রার্থনা করে বা আমাকে ডাকে আমি তাদের ডাকে সাড়া দিই এবং তাদের প্রার্থনা কবুল করে নিই।'
সুতরাং নিশিতে, ভরদুপুরে কিংবা রাত-গভীরে তোমার প্রিয়জনকে ডেকে তোমার মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা কথাগুলো, চাওয়াগুলোকে শেয়ার করে নিয়ো। তিনি তোমার সব কথা শুনবেন, কবুলও করে নেবেন। তোমার কোনো প্রয়োজন চাওয়া থাকলে দু'আতে হাত উঠিয়ে তাকেই বলে দিয়ো। মানুষের জীবনে হাজারো কষ্ট থাকে, পাথরচাপা কষ্ট। হরেক রকম কষ্ট। বুকের মধ্যিখানের এই কষ্টগুলো কেউ দেখে না। কেউ জানেও না। একজন দেখেন। একজন জানেন। তিনি হলেন আমাদের রব, মহান আল্লাহ তাআলা।
সুতরাং তুমি তোমার প্রয়োজনের কথা, তোমার কষ্টের কথা তোমার রবকে বলো। তাঁর নিকট দু'আ করে তোমার প্রয়োজন চাও, তিনি তোমার প্রয়োজন পূর্ণ করে দিবেন। তাঁর নিকট হাত তুলে তোমার কষ্ট-মসিবত থেমে মুক্তি চাও, তিনি তোমার কষ্ট-মসিবত দূর করে দিবেন।

টিকাঃ
[১] সুরা বাকারা: ১৮৬।

📘 দু আর মহিমা > 📄 ইবাদত কাকে বলে

📄 ইবাদত কাকে বলে


নু'মান ইবনু বাশির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'দু'আই ইবাদত'। অতঃপর তিনি এই আয়াত তেলাওয়াত করেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ، إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ
তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা অতি শীঘ্রই লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।' ২
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা ইবরাহিম আ. সম্পর্কে বলেছেন,
وَأَعْتَزِلُكُمْ وَمَا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَأَدْعُو رَبِّي عَسَى أَلَّا أَكُونَ بِدُعَاءِ رَبِّي شَقِيًّا فَلَمَّا اعْتَزَلَهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ وَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ * وَكُلًّا جَعَلْنَا نَبِيًّا
'আমি পরিত্যাগ করছি তোমাদেরকে এবং তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করো তাদেরকে; আমি আমার পালনকর্তার ইবাদত করব। আশা করি, আমার পালনকর্তার ইবাদত করে আমি বঞ্চিত হব না। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে এবং তারা আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করত, তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করলেন, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকুব এবং প্রত্যেককে নবি করলাম।"৩
এখানে দু'আকে ইবাদাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইবনুল কাইয়ুম রাহিমাহুল্লাহু বলেন, 'ইবাদত হলো নিজের তুচ্ছতা, হীনতা ও মুখাপেক্ষীতাসহ আল্লাহ তাআলার প্রতি নিজের ভালবাসার চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটানো।'
ইবাদত হতে হলে দুটি জিনিস আবশ্যক।
১. আল্লাহর সমীপে বিনীত হওয়া। ২. তাঁকে মনে-প্রাণে ভালোবাসা। তুমি আল্লাহকে ভালোবাসলে কিন্তু তার জন্য বিনীত হলে না তাহলে তো তুমি তার ইবাদত করলে না। আবার তুমি তার জন্য বিনীত হলে, কিন্তু তাকে ভালোবাসলে না তাহলেও এটা তার ইবাদত হবে না। অর্থাৎ যতক্ষণ না তুমি তাকে ভালোবাসবে এবং তার জন্য বিনীত হবে ততক্ষণ তুমি তার ইবাদতকারী হতে পারবে না।
সুতরাং আল্লাহ তাআলার নিকট দু'আ করা একটি ইবাদত। দু'আর মধ্যে আল্লাহ তাআলার সামনে নিজের তুচ্ছতা, হীনতা ও মুখাপেক্ষীতা প্রকাশ করা হয় এবং আল্লাহ তাআলার প্রতি ভালবাসার পূর্ণ প্রকাশ ঘটিয়ে তাঁর নিকট নিজের প্রয়োজন চাওয়া হয়।

টিকাঃ
[২] সুরা গাফির: ৬০, আদাবুল মুফরাদ: ৭১৪; মুসনাদে আহমদ: ১৮৩৫২।
[৩] সুরা মারইয়াম: ৪৮-৪৯।

📘 দু আর মহিমা > 📄 আল্লাহর সমীপে সাহায্য চাওয়া

📄 আল্লাহর সমীপে সাহায্য চাওয়া


আল্লাহ তাআলার প্রতি আস্থাশীল হওয়া এবং তাঁর ওপর পূর্ণ ভরসা করা। তুমি যদি কোনো মানুষের ওপর আস্থা রাখো তাহলে তুমি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসাকারী হতে পারবে না। অনুরূপভাবে তুমি যদি কোনো মানুষের ওপর ভরসা করো, তাহলে তুমি আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থাশীল হতে পারবে না। আমরা আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করব, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করব কারণ এটা আমাদের প্রয়োজন। আমরা তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাঁর ইবাদত করার মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ لِلّٰهِ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اِلَیۡهِ یُرۡجَعُ الۡاَمۡرُ کُلُّهٗ فَاعۡبُدۡهُ وَ تَوَکَّلۡ عَلَیۡهِ وَ مَا رَبُّکَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ
‘আর আল্লাহর কাছেই আছে আসমান ও জমিনের গোপন তথ্য; আর সকল কাজের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে; অতএব তাঁরই বন্দেগি করো এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখো, আর তোমাদের কার্যকলাপ সম্বন্ধে তোমার পালনকর্তা কিন্তু বে-খবর নন।’৪
আল্লাহ তাআলার এই বাণী:
اِیَّاکَ نَعۡبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسۡتَعِیۡنُ
‘আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।’৫
এই আয়াত এটাই প্রমাণ করে যে, আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার ইবাদতের জন্য সাহায্য কামনা করতে হবে।
ইবাদত ও ইস্তেআনাতের অনেক প্রকার রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও গুরুত্ব পূর্ণ হলো, আল্লাহ তাআলার ইবাদতের ওপর সাহায্য চাওয়া। আর এ বিষয়টাই মুআজ ইবনু জাবালকে ভালোবেসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন
'হে মুআজ! আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালোবাসি। (সুতরাং এই ভালোবাসা থেকেই তোমাকে বলছি) তুমি প্রতি নামাজের পর এই দু'আ পড়তে ভুলবে না।
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
'হে আমার রব, আপনি আমাকে আপনার জিকির করা, আপনার শুকরিয়া আদায় করা এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে সাহায্য করুন।৬

টিকাঃ
[৪] সুরা হুদ: ১২৩।
[৫] সুরা ফাতিহা: ৫।
[৬] আবু দাউদ: ১৫২২। সনদ: সহিহ। হাদিস: সহিহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00