📄 অসুস্থতার বৃদ্ধি, বিদায় গ্রহণ ও ওসীয়ত
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতা বোধ করলে সুরায়ে নাস, ফালাক এবং ইখলাস পড়ে পড়ে নিজের উপর দম করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যু কালীন অসুস্থতা যখন বেড়ে গেল, তখন আমি উক্ত সুরাগুলো পড়ে দম করতাম। অন্য বর্ণনায় আছে, আমি তার উপর দম করতাম এবং বরকতের জন্য তারই হাত দিয়ে মালিশ করতাম। ইবনে শিহাব জুহরী রহ. বলেন, 'আয়েশা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে দম করতেন, অতঃপর তারই হাত দিয়ে চেহারা মালিশ করতেন।
সহীহ মুসলিমে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে সুরায়ে নাস, ফালাক এবং ইখলাস পড়ে দম করতেন। যখন তিনি নিজেই শেষবারে মত অসুস্থ হলেন, তখন আমি নিজে এ সুরাগুলো পড়ে তার উপর দম করি, আর তারই হাত দিয়ে তাকে মালিশ করি। কারণ, তার হাত আমার হাতের চেয়ে বেশি বরকতপূর্ণ।
আয়েশা রা বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সকল স্ত্রীগণ তার নিকট জড়ো হয়ে বসে ছিল। এমন সময় ফাতেমা হাঁটে হাঁটে তার কাছে আসে। তার হাঁটার ধরণ ছিল, রাসূলের হাঁটার ন্যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, 'স্বাগতম! আসো আমার মেয়ে।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডানে অথবা বায়ে বসালেন। অতঃপর তার সাথে কানে কানে কিছু কথা বললেন, যা শুনে ফাতেমা কাঁদলেন। দ্বিতীয়বার তার সাথে কানে কানে কথা বললেন, এবার ফাতেমা হাসলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কেঁদেছো কেন? সে বলল, আমি রাসূলের গোপনে বলা কথা কাউকে বলতে চাই না। আমি বললাম, 'কাঁদার সাথে সাথে এতো দ্রুত হাসতে আজকের মত তোমাকে আর কখনো দেখেনি।' আমি তাকে বললাম, 'আরে আমাদের রেখে শুধু তোমার সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোপন কথা বললেন, তারপরও তুমি কাঁদো?' আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেছেন?' সে বলল, 'আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা গোপনে বলেছেন তা ফাঁস করতে পারি না।' যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন, তখন আমি তাকে বলি, 'তোমাকে আমার আত্মীয়তার কথা স্বরণ করিয়ে বলছি, তুমি বল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেছিলেন?' ফাতেমা বলল, 'এখন বলতে পারি। প্রথমবার তিনি আমাকে বললেন, 'জিবরীল প্রতি বছর একবার করে আমার সাথে কুরআনের অনুশীলন করে, এ বছর দু'বার করেছে। আমার মনে হচ্ছে, আমার মৃত্যু সময় ঘনিয়ে এসেছে। তুমি তাকওয়ার অবলম্বন কর এবং ধৈর্যধারণ কর। আমি তোমার জন্য খুব ভাল এক পূর্বসূরী।' আপনি যে আমাকে কাঁদতে দেখেছেন, তার কারণ ছিল এটা। তিনি আমার অস্থিরতা দেখে দ্বিতীয়বার বললেন, 'ফাতেমা! তুমি মুমিনদের সকল নারীদের নেত্রী অথবা বলেছেন, তুমি এ উম্মতের সকল নারীদের শ্রেষ্ঠতম। এতে কি তুমি সন্তুষ্ট নয়?' আপনি যে আমাকে হাসতে দেখেছেন, তার কারণ ছিল এটা।" আরেকটি বর্ণনায় আছে, 'তিনি আমাকে বলেছেন, আমার পরিবারের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে।'
ফাতেমার হাসার কারণ ছিল, তিনি সকল মু'মিন নারীদের নেত্রী এবং তিনিই সর্ব প্রথম রাসূলের পরিবারের মধ্য থেকে তার সাথে মিলিত হবেন। কান্নার কারণ ছিল, তিনি নিজের মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছেন এ জন্য। ইবনে হাজার রহ. বলেন, 'ইমাম নাসায়ী রহ. ফাতেমার কান্নার দু'টি কারণ উল্লেখ করেছেন।' একটি হল, সুসংবাদ; যে তিনি এ উম্মতের নারীদের নেত্রী। অপরটি হল, তিনি রাসূলের সাথে সবার আগে মিলিত হবেন। সকল ঐতিহাসিকগণ এক মত যে, ফাতেমা রা. রাসূলের ওফাতের পর রাসূলের পরিবারের মধ্যে সকলের আগে ইন্তেকাল করেন। এমনকি রাসূলের স্ত্রীদেরও আগে।'
আয়েশা রা. বলেন, 'কাউকে আমি রাসূলের চেয়ে বেশি মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করতে দেখিনি।'
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, 'আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট প্রবেশ করে দেখি, তিনি খুব জ্বরাক্রান্ত হয়ে আছেন। আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর জ্বরের প্রকোপ খুব বেশি। তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, তোমাদের দু'জনের উপর যে পরিমাণ জ্বর আসে, একা আমার উপর সে পরিমাণ জ্বর এসেছে। আমি বললাম, 'এর কারণ হল, আপনাকে দ্বিগুন সওয়াব দেয়া হয়।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তুমি ঠিক-ই বলেছ। যে কোনো মুসলমানের গাঁয়ে কাঁটা কিংবা তার চেয়ে ছোট কোনো জিনিস বিদ্ধ হলেও আল্লাহ এর বিনিময়ে গুনাহ ঝরিয়ে দেন, যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে ফেলে।'
আয়েশা রা. এবং ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত, তারা বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর যখন জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি একটি নকশি চাদর চেহারার উপর টেনে তুলছিলেন, আর রেখে দিচ্ছিলেন। যখন জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পেত, মুখ হতে কাপড় সরিয়ে নিতেন। এমন অবস্থায় তিনি বললেন, 'ইহুদী ও খৃষ্টানদের উপর আল্লাহর অভিশম্পাত। তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে।' তিনি তাদের কর্ম হতে আমাদের সতর্ক করছিলেন।
আয়েশা রা. বলেন, আমরা রাসূলের অসুস্থ অবস্থায় আলোচনা করতে ছিলাম। এমন সময় উম্মে সালামা এবং উম্মে হাবীবা হাবশার (ইথিওপিয়ার) গীর্জা এবং তাতে দেখা ছবির স্মৃতি নিয়ে আলোচনা করতে ছিলো। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তাদের অভ্যাস হল, তাদের মধ্যে কোনো ভাল লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং তাতে তার ছবি অংকন করে রাখত। তারা আল্লাহর কাছে কেয়ামতের দিন সবচেয়ে নিকৃষ্ট জাতি হিসেবে পরিগনিত হবে।'
আয়েশা রা. হতে আরো বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সর্বশেষ অসুস্থতায় বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ইহুদী ও খৃষ্টানদের উপর অভিশম্পাত করুন, তারা নিজেদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে রূপান্তরিত করেছে।' আয়েশা রা. বলেন, যদি সে আশংকা না থাকত, তবে রাসূলের কবরও উচু করা হতো। আমার আশংকা হচ্ছে একে মসজিদে রূপান্তরিত করা হবে।'
আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না, আবার আমার কবরকে উৎসবের স্থান বানিয়ো না। তোমরা আমার উপর দরুদ পড়। তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের দরুদ আমার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।'
আনাস রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থতার প্রকোপে বেহুש হয়ে যাচ্ছিলেন। এ অবস্থা দেখে ফাতেমা রা. বলেন, 'হায় বিপদ! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, 'তোমার পিতার উপর আজকের পর আর কোনো বিপদ নেই।' ইন্তেকাল হয়ে গেলে, ফাতেমা রা. বলেন, 'হে আমার প্রাণের পিতা! আপনি আল্লাহর ডাকে সারা দিয়েছেন। হে আমার প্রাণের পিতা! আপনার ঠিকানা জান্নাতুল ফেরদাউস। হে আমার প্রাণের পিতা! আপনার বিয়োগ ব্যথা জিবরীলের নিকট প্রকাশ করছি। যখন দাফনকর্ম শেষ হল, ফাতেম রা. বললেন, 'হে আনাস! রাসূলের উপর কিভাবে তোমরা মাটি রাখলে! তোমাদের মন কিভাবে সায় দিল?'
এ পরিচ্ছেদের সারকথা ও শিক্ষনীয় বিষয়ঃ
১. কুরআন এবং হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন সুরা ও দুআ-জিকির দিয়ে ঝাড় ফুক করা মুস্তাহাব। বিশেষ করে সুরা নাস, সূরাফালাক এবং সুরা ইখলাসের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সকল বস্তুর অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাওয়া।
২. ফাতেমার প্রতি রাসুলের বিশেষ দৃষ্টি ও আন্তরিক মহব্বত। যেমন, তিনি স্বাগতম বলে ফাতেমাকে কাছে নিয়েছেন। আরো বর্ণিত আছে, ফাতেমা যখন রাসুলের কাছে যেতেন, তখন তাকে তিনি কাছে বসাতেন, চুমু খেতেন, দাড়িয়ে অভ্যর্থনা জানাতেন। তদ্রুপ ফাতেমাও রাসুলের সাথে করতেন, যখন তিনি তার বাড়িতে যেতেন।
৩. এ ঘটনা থেকে জানা যায়, মেয়েদের সাথে সদাচারণ করা, তাদের শিক্ষা-দীক্ষা এবং আচার ব্যবহারের তালিম দেয়া জরুরী বিষয়, রাসুলের সুন্নত। এবং তারা যখন বড় হয়ে যাবে, তখন তাদের জন্য সৎ পাত্রের ব্যবস্থা করা।
৪. বাচ্চাদের উচিত পিতা, মাতার প্রতি যত্নশীল হওয়া। তাদের অবাধ্যতা কিংবা নাফরমানী না করা। করলে আল্লাহর শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে।
৫. রাসুলের সত্যতার প্রমাণ যে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন, ফাতেমা সবার আগে তার সাথে মিলিত হবে। বাস্তবে তা-ই হয়েছে।
৬. পরপারে যাওয়ার কথা শুনে ঈমানদারদের খুশী হওয়া। এর অর্থ এ নয় যে, কোনো বিপদ-মুসিবতের কারণে মৃত্যু কামনা করা। বরং নেক আমেলের সুযোগ মনে করে দুনিয়ার জীবনকে সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করা। হাদীসে এসেছে মানুষ মারা গেলে তার সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি জিনিস ব্যতীত। তাই জীবনকে সুযোগ মনে করে কাজ করতে থাকা মু'মিনের কর্তব্য।
৭. মৃত্যু ঘনিয়ে এলে মুমুর্ষ ব্যক্তির উচিত পরিবারের লোকজনকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়া। যেমন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতেমাকে দিয়েছেন।
৮. ফাতেমা রা. এর ফজিলত, তিনি সকল মুমিন নারীদের নেত্রী।
৯. অসুস্থ ব্যক্তিরা যদি স্বীয় অসুস্থতাকে সওয়াব মনে করে, আল্লাহ এর বিনিময়ে সওয়াব দিবেন, গুনাহ মাফ করবেন এবং জান্নাতে সুউচ্চ স্থানের যোগ্য করে গড়ে তুলবেন। দুনিয়াতে সবচেয়ে বেশি মুসীবতের সম্মুখীন হন নবী ও রাসূলগণ। এরপর যারা তাদের সাথে নীতি, আদর্শ ও আকীদা-বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে তারা। যেহেতু তারা ধৈর্য ও আল্লাহ নির্ভরতায় সবার উর্ধ্বে। তারা আরো জানেন এগুলো আল্লাহর নেআমত ও প্রতিদান বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। এর মধ্য দিয়ে তাদের ধৈর্য ও সন্তুষ্টির পরীক্ষা নেয়া হবে। কম মর্যাদার হওয়া সত্ত্বেও নবী ও রাসূলদের অনুসরণ, আনুগত্য এবং ঘনিষ্টতার কারণে তাদের সাথে সম্পৃক্ত হবে। এতে সম্ভাব্য রহস্য হয়তো এটা যে, বিপদ-মুসিবত নেআমতের বিপরীতে প্রদান করা হয়। সুতরাং যার উপর আল্লাহর নেআমত বেশি হবে, তার উপর বিপদ-মুসিবতও বেশি হবে, সন্দেহ নেই। এ জন্যই পরাধীন ব্যক্তির উপর স্বাধীন ব্যক্তির অর্ধেক শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমাদের ভেতর যে স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হবে, তাকে দ্বিগুন শ্বাস্তি দেয়া হবে।” শক্তিশালী ব্যক্তির উপর বড় বোঝাটাই রাখা হয়। দুর্বলের সাথে সহানুভূতি দেখানো হয়। তবে এটা ঠিক যে, যার ঈমান দৃঢ়, তার জন্য মুসিবত সহনীয়। কারণ, তার ধারণা মুসিবতের বিনিময়ে সওয়াব অর্জিত হবে, বিধায় তার জন্য মুসিবত সহনীয় হয়ে যায়। আবার কেউ মনে করে, এটা মহান আল্লাহর পক্ষ হতে। তাই তার তাকদীরের উপর বিশ্বাস রেখে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়। কোনও আপত্তি জানায় না।
১০. কবরকে মসজিদে রূপান্তরিত করা কিংবা মসজিদের ভিতর কবর প্রবেশ করানো হতে বিরত থাকা। যে এ রকম কাজ করবে, সে অভিশপ্ত। কেয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সে সর্ব নিকৃষ্ট জীব হিসেবে পরিগণিত হবে। এটা রাসুলের গুরুত্বপূর্ণ উপদেশের একটি। মুত্যুর পাঁচ দিন আগে তিনি এ কথা বলে গেছেন。
টিকাঃ
১ সহীহ আল - বুখারী ৪৪৩৯, ৫০১৬, ৫৭৩৫, ৫৭৫১, সহীহ মুসলিম ২১৯২, এ আমলটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমের সময়ও করতেন। তিনি ঘুমের সময় সুরায়ে নাস, ফালাক এবং ইখলাস পড়ে হাতের উপর দম করে চেহারা এবং হাত পৌঁছে এমন সকল স্থান মেসেজ করতেন। সহীহ আল - বুখারী ৫৭৪৮ ২ সহীহ মুসলিম ২১৯২
২ সূরা আল-আহযাব : ৩০
📄 ইন্তেকাল পূর্ব অধ্যায়
ইবেন আব্বাস রা. বলেন, বৃহস্পতিবার দিন রসুলের অসুখ প্রচণ্ড আকার ধারণ করলে তিনি বলেন, 'আমার কাছে কিছু একটা নিয়ে আসো, আমি তোমাদের জন্য একটি উপদেশনামা লিখে দেই। যার পরে তোমাদের পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না।' সাহাবারা এ নিয়ে পরস্পর দ্বিধাদ্বন্দে লিপ্ত হয়ে গেল। অথচ রাসুলের সামনে এমন করা উচিত ছিল না। কেউ বলল, 'এখন রসুলের উপর রোগের প্রকোপ খুব বেশি, তোমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব রয়েছে, আমাদের জন্য এ কিতাবই যথেষ্ট।' ঘরে উপবিষ্ট লোকজন মতদ্বৈততায় লিপ্ত হয়ে গেল। কেউ বলল, 'কিছু একটা সামনে দাও, তোমাদের জন্য কিছু লিখে দিক, তাহলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না।' অন্যেরা অন্য কিছু বলতে ছিল। যখন হৈ চৈ আর দ্বিরুক্তি কথাবার্তা বৃদ্ধি পেল, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমরা আমার এখান থেকে দূরে সরে যাও।' আরেকটি বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন, 'আমি যে অবস্থায় আছি, সেভাবে থাকতে দাও, তোমাদের কথা শুনার চেয়ে এটাই আমার জন্য উত্তম। আমি তোমাদেরকে তিনটি উপদেশ দিচ্ছি, জাজিরাতুল আরব তথা আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দেবে। আগত মুসাফিরের দল, পথিক ও মেহমানদের মেহমানদারী এবং আমার নীতি অনুসারে তাদের সাহায্য, সহযোগিতা প্রদান করবে। তৃতীয়টি ভুলে গেছেন, অথবা তিনি বলেছেন, আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।" ইবনে হাজার রহ. বলেন, সেই কঠিন মুহূর্তে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ তিনটি উপদেশ দিয়েছেন। এর দ্বারা বুঝে আসে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা লিখতে চেয়েছেন, তা লেখা জরুরী ছিল না। কেননা যদি জরুরী হতো, তাহলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা থেকে বিরত থাকতেন না। অধিকন্তু যারা এর প্রতিবন্ধক হয়েছে, তাদের উপর শাস্তি নাযিল হত। পারতপক্ষে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখে হলেও বলে দিতেন। যেমন তিনি বলেছেন, মুশরিকদেরকে বের করে দিতে। তার পরেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েক দিন জীবিত ছিলেন, তার থেকে অনেক হাদীস সাহাবায়ে কেরাম লিপিবদ্ধ করেছেন, হতে পারে তার মধ্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জরুরী সে বিষয়কেও বলে দেয়া হয়েছে, যা তিনি লিখতে চেয়ে ছিলেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
তৃতীয় উপদেশের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা আছে যে, সে উপদেশ হচ্ছে আল- কুরআন। অথবা উসামা বিন যায়েদের সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করার উপদেশ। অথবা নামাজ এবং অধীনস্থদের ব্যাপারে কিংবা তার কবরকে ঈদ-উৎসবের স্থান না বানানোর উপদেশ। এ সকল উপদেশ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে প্রমাণিত আছে।'
আব্দুল্লাহ বিন আবি আওফা রা. কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কোনো অসীয়ত করে গেছেন? তিনি বললেন, 'আল্লাহর কিতাবের ব্যাপারে উপদেশ দিয়েছেন।' আল্লাহর কিতাবের অসীয়তের অর্থ হল, তার অর্থ ও শব্দ সংরক্ষণ করা। এর সম্মান করা, অসম্মান না করা এবং এর অনুসরণ করা। আদেশগুলো পালন করা। নিষেধ হতে বিরত থাকা। রীতিমত এর তেলাওয়াত করা, শিক্ষা দেয়া ও শিক্ষা গ্রহণ করা ইত্যাদি।
পবিত্র কুরআনের ব্যাপারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন জায়গায় উপদেশ প্রদান করেছেন। আরাফা এবং মিনার খুতবাতে, মক্কা হতে প্রত্যাবর্তনের সময় গাদিরে খুমের নিকট। তিনি বলেছেন, '... আমি তোমাদের মাঝে দু'টি জিনিস রেখে যাচ্ছি : একটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। এতে রয়েছে পথ নিদের্শনা, আলোকবর্তিকা। এটা আল্লাহর শক্ত রজ্জু। যে এটাকে আঁকড়ে ধরবে, সে সৎ পথে প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আর যে এটাকে ছেড়ে দেবে, সে পথভ্রষ্ট হবে। তোমরা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধর এবং এর দ্বারা অটল-অবিচলতার সাথে পরিচালিত হও।' তিনি কুরআন প্রসংগের পরে বলেন, 'এবং আমার পরিবারবর্গ, তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে আল্লাহর কথা স্বরণ করিয়ে দিচ্ছি...' তিনবার বলেছেন। মৃত্যুর সময় তিনি আল্লাহর কুরআনের উপদেশ দিয়েছেন।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা বিন যায়েদের সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করার নিদের্শও দিয়েছেন। ইবনে হাজার রহ. বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর মাত্র দু'দিন আগে, শনিবার দিন উসামা বিন যায়েদের সৈন্যবাহিনী গঠন করেন। এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল রাসুলের অসুস্থতারও আগে। সফর মাসের শেষে রোমের সাথে যুদ্ধের জন্য মুসলিম সৈনিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামাকে ডেকে বলেন, 'তোমার পিতার শাহাদাতের ময়দানের পানে ধাবিত হও। সে দিকে ঘোড়া চালাও। আমি তোমাকে এ সেনাদলের দায়িত্ব প্রদান করলাম...' তৃতীয় দিন তার অসুখের সূচনা হয়। তিনি নিজ হাতে উসামা বিন যায়েদের পতাকা তৈরী করে দিলেন, উসামা তার হাত থেকে পতাকা তুলে নেন। উসামার সাথে মুহাজির, আনসারদের বড় বড় সাহাবী সঙ্গী হলেন। অতঃপর রাসুলের রোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পেল। তিনি বললেন, 'উসামার সৈন্যদল পাঠিয়ে দাও।' আবু বকর রা. খলীফা হয়ে উসামার সৈন্যদল প্রেরণ করেন। বিশ দিন পর্যন্ত সফর করলেন, তার পিতার যুদ্ধের ময়দানে পৌঁছানোর জন্য। তিনি খুব পারঙ্গমতার সহিত যুদ্ধ করলেন। অবশেষে অনেক গণীমত নিয়ে বিজয় বেশে ফিরে আসেন।'
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন, 'রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সৈন্যদল পাঠিয়েছেন, যার দায়িত্ব দিয়েছেন উসামা বিন যায়েদকে। এতে কেউ কেউ তার নেতৃত্বে আপত্তি জানাতে ছিল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'এখন তোমরা তার নেতৃত্বে আপত্তি জানাচ্ছ, এক সময় তার পিতার নেতৃত্বেও তোমরা আপত্তি জানিয়েছিলে। আল্লাহর শপথ করে বলছি, সে-ই নেতৃত্বের উপযুক্ত। তার পিতা যেমন আমার কাছে সবার চেয়ে বেশি প্রিয় ছিল, সেও আমার নিকট সবার চেয়ে বেশি প্রিয়।' রাসুলের ইন্তেকালের সময় উসামার বয়স ছিল আঠারো বছর।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ এবং অধীনস্থদের ব্যাপারেও উপদেশ বাণী প্রদান করেছেন। আনাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'মৃত্যুকালীন সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিকাংশ উপদেশ-ই ছিল এরকম যে, 'নামাজ! নামাজ! আর তোমাদের যারা অধীনস্থ! বলতে বলতে তার বুকের ঢেকুর আরম্ভ হয়ে যেত। তবুও মুখে উচ্চারণ করতেই থাকতেন।' আলী রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সর্বশেষ বাণী ছিল: 'নামাজ! নামাজ! আর তোমাদের অধীনস্থ যারা!
এ পরিচ্ছেদের সারকথা ও শিক্ষনীয় বিষয়ঃ
১. জাযিরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপ হতে মুশরিকদের বের করা অবশ্য কর্তব্য। মৃত্যুকালীন সময়ে এ ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি নিদের্শ দিয়েছেন। যা উমার রা. স্বীয় খেলাফতের শুরুতেই বাস্তবায়ন করেন। মুরতাদদের সাথে বোঝা-পড়া আর যুদ্ধ-বিগ্রহ করতে করতেই আবু বকর রা. এর খেলাফত যুগ শেষ হয়ে যায়। তাই তার পক্ষে এ হুকুম পালন করা সম্ভব হয়নি।
২. আগত মেহমান ও পথিকদের মেহমানদারী, সম্মান এবং উপযুক্ত হাদিয়া ইত্যাদি প্রদান করা। যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং করতেন। আর এটা তার নিদের্শও বটে।
৩. কুরআনের শব্দ ও অর্থের প্রতি যত্নশীল হওয়া, একে সম্মান করা, হেফাজত করা, এর মধ্যে যা কিছু আছে তার অনুসরণ করা, এর আদেশ-নিষেধগুলো যথাযথ পালন করা এবং রীতিমত এর তেলাওয়াত করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন জায়গায় এর জন্য উপদেশ দিয়েছেন। এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
৪. নামাজের গুরুত্ব; কারণ কালিমায়ে শাহাদাতের পরই এর স্থান। মুমুর্ষ মুহূর্তেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য অসীয়ত করেছেন।
৫. অধীনস্থ কর্মী ও দাস-দাসীদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন থাকা। যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যু মুহূর্তেও এর জন্য তাগিদ দিয়েছেন।
৬. উসামা বিন যায়েদের ফজিলত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেনা প্রধান বানিয়েছেন। যখন অনেক শীর্ষস্থানীয় মুহাজির ও আনসার সাহাবায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। অধিকন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ হুকুম বাস্তবায়ন করার নিদের্শও প্রদান করেছেন।
৭. আবু বকর রা এর ফজিলত। তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপদেশ পালন করেছেন, উসামা বিন যায়েদের সৈন্য বাহিনীর লক্ষ্য পরিবর্তন করেননি। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
"যারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আদেশের বিরোধিতা করে, তাদের উচিত ফেতনা অথবা মর্মন্তুদ শাস্তির আক্রমন হতে সতর্ক থাকে।"
📄 মহান রবের সান্নিধ্য প্রত্যাশা
আয়েশা রা. বলেন, আমি শুনতাম, কোনো নবীকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়া এবং আখেরাতের মাঝে কোনটা বেছে নিবে এটার স্বাধীনতা দেয়ার আগ পর্যন্ত মৃত্যু দেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যখন রোগের তীব্রতা বেড়ে গেল, তখন তিনি বলতে ছিলেন,
مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا
"যে সকল নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং নেককার লোকদের উপর আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করেছেন, তাদের সঙ্গ, তারাই উত্তম বন্ধু।" আয়েশা রা. বলেন, তখনই আমার ধারণা হল, তাকে দুনিয়া এবং আখেরাতের একটি বেছে নেয়ার নির্দেশ এসে গেছে।'
একটি বর্ণনায় আছে, আয়েশা রা. বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ অবস্থায় বলতেন, 'যতক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতের ঠিকানা দর্শন করিয়ে, দুনিয়া এবং আখেরাতের মাঝে একটি বেছে নেয়ার নির্দেশ না দেয়া হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো নবীর জান কবজ করা হয় না।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হলেন, তার মাথা আমার রানের উপর, কিছুক্ষণ বেহুশ হয়ে থেকে পুনরায় হুশ ফিরে পেলেন। ছাদের দিকে তার মাথা তুলে বললেন, 'হে আল্লাহ! সবচেয়ে মহান বন্ধুর সান্নিধ্য কাম্য।' আমি ধারণা করলাম, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর আমাদের দিকে আর খেয়াল দিবেন না। আমার বুঝতে বাকি রইল না যে, এটা হল তার সুস্থ অবস্থার বাণীর প্রতিফলন। তিনি সর্বশেষে বলেন, 'আল্লাহ! সবেচেয় মহান বন্ধুর সান্নিধ্য কাম্য।' আয়েশা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার গায়ে হেলান দেয়া অবস্থায় বলতে শুনেছি,
اللهم اغفر لي وارحمني، وألحقني بالرفيق الأعلى.
'হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করো! আমার উপর রহম করো! উত্তম বন্ধুর সাথে আমাকে মিলিত করো।'
তিনি আল্লাহর নৈকট্য, সান্নিধ্য, তার নিকট রক্ষিত নেআমত এবং তার পছন্দের বস্তুগুলো খুব পছন্দ করতেন। যেমন একটি মেসওয়াক, এটি যেমন মুখ পরিস্কার রাখে তেমনি আল্লাহর সন্তুষ্টিরও কারণ। আয়েশা রা. বলেন, আমার উপর আল্লাহর বড় একটি নেআমত হচ্ছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে, আমার বাড়িতে এবং আমার গলা ও বক্ষের মাঝে মাথা রেখে ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা তার মুখের লালা আর আমার মুখের লালা একত্র করেছেন। ঘটনাটির বিবরণ: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. হাতে মেসওয়াক নিয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করে। তখন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার বুকের সাথে হেলান দিয়ে রেখেছি। আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম, তিনি বার বার আব্দুর রহমানের হাতে রাখা মেসওয়াকের দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝলাম, তিনি মেসওয়াকটি পছন্দ করছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 'আপনার জন্য মেসওয়াকটি চাবো?' তিনি মাথার ইশারায় বললেন, 'হ্যাঁ।' আমি মেসওয়াকটি নিয়ে তাকে দিলাম। মেসওয়াক করা তার জন্য দুস্কর হয়ে গেল। আমি বললাম, 'নরম করে দেই?' 'তিনি মাথার ইশারায় অনুমতি দিলেন। আমি নরম করে দিলাম, তিনি এর দ্বারা খুব সুন্দর করে মেসওয়াক করলেন। যেভাবে কখনো করতে দেখিনি। তার হাতে একটি ছোট পাত্রে পানি রাখা ছিল, তিনি হাত দিয়ে পানি তুলে মুখমণ্ডল মাছেহ করতে ছিলেন আর বলতে ছিলেন,
لا إله إلا الله إن للموت سكرات.
'আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, নিশ্চয় মৃত্যুর কষ্ট আছে।' অতঃপর হাত খাড়া করে বললেন,
اللهم في الرفيق الأعلى.
'হে আল্লাহ! সবচেয়ে মহান বন্ধুর সান্নিধ্য কাম্য।' এরপরই তার ইন্তেকাল হল, হাত দু'টি মাটিতে পরে গেল।'
আয়েশা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার গলা ও বুকের মাঝে ইন্তেকাল করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের পর আমি আর কারো মৃত্যু কষ্টকে অপছন্দ করি না।
এ পরিচ্ছেদের সারকথা ও শিক্ষনীয় বিষয়ঃ
১. সর্বোত্তম বন্ধু হলেন তারা, আল্লাহ তাআলার এ বাণীতে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে:
وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا النساء : ٦٩﴾
"যারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অনুসরণ করবে, তারা আল্লাহর নেআমত প্রাপ্ত নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককার লোকদের সাথে থাকবে। তারাই উত্তম বন্ধু।” উলামায়ে কেরাম বলেছেন, যারা সর্বোচ্চ স্থানে বসবাস করেন, সে সকল নবী ও রাসূলগণই হচ্ছেন সর্বোত্তম বন্ধু।'
২. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার মহব্বত এবং উত্তম বন্ধুদের মহব্বতে আখেরাতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত প্রত্যাশা করে, আল্লাহর তার সাক্ষাত প্রত্যাশা করেন।'
৩. আয়েশা রা. এর ফজিলত, তার থেকে আমরা অনেক জ্ঞান অর্জন করেছি। তিনি মৃত্যু মুহূর্তেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গলা এবং বুকের মাঝে রেখে সেবা প্রদান করেছেন। তিনি এটা আল্লাহর নেআমত মনে করতেন এবং খুব গর্ব করে এর আলোচনা করতেন।
৪. মেসওয়াকের ব্যাপারে রাসূলের গুরুত্বারোপ: মুমুর্ষ অবস্থায়ও তিনি মেসওয়াক করেছেন। কারণ, মেসওয়াক যেমন মুখ পরিস্কার করে, তেমন এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জিত হয়।
৫. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যু যন্ত্রণাতেও 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মৃত্যুর ভীষণ কষ্ট।' উচ্চারণ করেছেন। এর দ্বারা প্রতীয়মান যে, মৃত্যুমুখে পতিত হলে বেশি বেশি এ কালেমাটি পড়া মুস্তাহাব। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যার শেষ বাক্য হবে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।'
৬. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যান্য নবীদের সঙ্গ গ্রহণের অধির আগ্রহ পোষণ করতেন এবং এর জন্য তিনি দুআ করেছেন। যার দ্বারা বুঝে আসে যে, প্রত্যেক মুসলমানের উচিত জান্নাতে নবীদের সঙ্গ পাওয়ার জন্য দুআ করা এবং এর জন্য আগ্রহ রাখা। আল্লাহ! তোমার রহমতে আমাদের সকলকে তাদের সাথে মিলিত করো।
৭. মৃত্যু কষ্ট ও তার অসহ্য যন্ত্রনা। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অগ্র পশ্চাতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়েছিল। তা সত্বেও তিনি মৃত্যুযন্ত্রণা ভোগ ভোগ করেছেন। এ দিকটি বিবেচনায় আমাদের অবস্থা একটু ভেবে দেখা দরকার।
টিকাঃ
১ সহীহ আল - বুখারী ৪৪৩৬, ৪৪৩৭, ৪৪৬৩, ৪৫৮৬, ৬৩৪৮, ৬৫০৯ সহীহ মুসলিম ২৪৪৪
২ সহীহ আল বুখারী ৪৪৪০, ৫৬৬৪
৩ সহীহ আল বুখারী ৮৯০, সহীহ মুসলিম: ২৪৪৪ ৪ সুরা আন-নিসা: ৬৯ ৫ ফাতহুল বারি: ৮/১৩৮ ইমাম নববীর ব্যাখা গ্রন্থ: ১৫/২১৯ * সহীহ আল বুখারী ৬৫০৭, সহীহ মুসলিম: ২৬৮৩
📄 তাঁর শহীদি ইন্তেকাল
আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষবারের মত অসুস্থ হয়ে বলেন, 'আয়েশা! খায়বারে যে বিষ মাখা গোস্ত ভক্ষণ করে ছিলাম, তার কষ্ট এখনো আমি অনুভব করছি। সে বিষ ক্রিয়ায় মনে হচ্ছে আমার রগ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারে বিষ মাখা বকরীর গোস্ত খেয়ে তিন বছর বেঁচে ছিলেন। ইন্তেকালের সময়ও সে বিষক্রিয়া বিদ্যমান ছিল। বর্ণিত আছে যে মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বকরীর বিষাক্ত গোস্ত ভক্ষণ করতে দিয়েছিল, সে ইসলাম গ্রহণ করেছে। সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিল, 'কে আপনাকে বলেছে, এতে বিষ আছে?' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'এ বকরীই বলেছে।' অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মাফ করে দেন। কিন্তু এ বিষক্রিয়ায় বাশার ইবনে বারা মৃত্যু বরণ করল। ফলে তাকে হত্যার করার অপরাধে মহিলাটিকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়, কেসাসের বিধান অনুসারে। হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলের মৃত্যুর কারণ ছিল বিষক্রিয়া। আবু সালামা বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীয়া বা উপহার গ্রহণ করতেন, সদকা খেতেন না। খায়বারে এক ইহুদী মহিলা বিষ প্রয়োগ করে একটি ভুনা বকরী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাদীয়া হিসাবে পেশ করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেলেন, সাথে অন্যরাও খেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমরা হাত উঠিয়ে নাও। আমাকে এ বকরীই বলছে যে, এর গোস্ত বিষাক্ত।' কিন্তু সে খানা খেয়ে রাসূলের সাহাবী বাশার বিন আল-বারা আনসারী মারা যান।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদী মহিলার নিকট খবর দিয়ে পাঠালেন, তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, 'কি কারণে তুমি এ কু কর্ম করেছ?' সে বলল, যদি আপনি নবী হন, তবে এর দ্বারা আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। আর যদি বাদশাহ হতে চান, তাহলে মানুষকে আপনার প্রতারণা হতে মুক্ত করলাম। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে নিদের্শ জারি করেন। তাকে হত্যা করা হয় বাশার আনসারীকে হত্যার শাস্তি হিসাবে। তাই মৃত্যুর সময় বলেছেন, 'আমি এখনও খায়বরে ভক্ষণকৃত গোস্তের বিষক্রিয়া অনুভব করছি। যার কারণে আমার রগ ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।' বাশারের মা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার শেষ অসুস্থ অবস্থায় বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কোন জিনিসকে দায়ী করেন? আমার ছেলের মৃত্যুর ব্যাপারে আমি সে গোশতকেই দায়ী করি, যা আপনার সাথে খায়বরে খেয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আমিও আমার মৃত্যুর ব্যাপারে সে গোশতকেই দায়ী করি। এ মুহূর্তে তো আমার রগ টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে।'
ইবনে কাসীর খুব জোর দিয়ে বলেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাহাদাতের সাথে মৃত্যু বরণ করেছেন। তিনি উদ্ধৃত করেছেন, 'মুসলমানগণ মনে করেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়তের মর্যাদার সাথে সাথে শহীদ হওয়ার মর্যাদা নিয়েও মৃত্যু বরণ করেছেন।' ইবনে মাসউদ রা. বলেন, 'নয় বার শপথ করে এ কথা বলা আমার নিকট অধিক শ্রেয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অন্যান্য হত্যার মতই হত্যা করা হয়েছে একবার শপথ করে এ কথা বলার চেয়ে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করা হয়নি। কারণ, আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে যেমন তাকে নবুওয়তের মর্যাদা দিয়েছেন, তেমনি তাকে শাহাদাতের মর্যাদাও দিয়েছেন।
আনাস রা. বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ থাকাকালীন আবু বকর রা. তাদের নিয়ে নামাজ পড়তেন। সোমবার দিন ফজরের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হঠাৎ আয়েশা রা. র ঘরের পর্দা খুলে উঁকি দিলেন। সাহাবায়ে কেরাম রা. তখন জামাতে দাড়ানো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ানো ছিলেন, মনে হচ্ছিল তার চেহারা মুবারক কুরআনের একটি নির্মল পৃষ্ঠা। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেকটা মুচকি হাসির ন্যায় হাসলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে তো সাহাবাদের নামাজ ছেড়ে দেয়ার অবস্থা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হচ্ছেন ভেবে আবু বকর রা. পিছনে সরে যেতে লাগলেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতের ইশারা দিয়ে বলেন, তোমরা নামাজ পূর্ণ করো। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশার ঘরে প্রবেশ করেন এবং পর্দা টেনে দেন। সে দিনই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন।
আরেকটি বর্ণনায় আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দিন শেষে ইন্তেকাল করেন। আরেকটি বর্ণনায় আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিন পর্যন্ত ঘর থেকে বের হননি। একদিন নামাজের একামত দেয়া হলে আবু বকর এগিয়ে গেলেন ইমামতি করার জন্য। এদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের পর্দা তুলে দাড়ালেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চেহারা বের করে আমাদের দিকে তাকালেন, আমরা তার চেহারার প্রতি দৃষ্টি দিলাম; মনে হল রাসূলের এতো সুন্দর চেহারা আর কোনো দিন দেখিনি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে সামনে বেড়ে নামাজ পড়ানোর নিদের্শ দিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্দা টেনে ভিতরে চলে গেলেন। আর বের হতে পারেননি। সে বিছানাতেই ইন্তেকাল করেন।'
এ পরিচ্ছেদের সারকথা ও শিক্ষনীয় বিষয়ঃ
১. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাহাদাতের মর্যাদা নিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন। আল্লাহ তাকে নবুওয়ত এবং শাহাদাত দু'টিই দান করেছেন।
২. ইহুদীদের শত্রুতা ইসলামের শুরু যুগ থেকেই। তারা আল্লাহ এবং তার রাসূলের দুশমন।
৩. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জন্য প্রতিশোধ নিতেন না কখনো। বরং ক্ষমা করতেন, মাফ করে দিতেন। আলোচিত ঘটনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদী মহিলাকে প্রথম মাফ করে দেন। পরবর্তীতে বাশারের হত্যার অপরাধে তাকে হত্যা করেন। যেহেতু সে তার দেয়া বিষযুক্ত খানা খেয়ে সে মৃত্যু বরণ করেছিলো।
৪. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মু'জিযা। ভুনা বকরী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছে, 'আমি বিষাক্ত।'
৫. বান্দার উপর আল্লাহর মেহেরবাণী। তিনি কোনো নবীকে তার দীন পূর্ণভাবে প্রচার করার পূর্ব পর্যন্ত মৃত্যু দেননি।
৬. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি সাহাবাদের নিখাঁদ মহব্বত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার দিন সকাল বেলা যখন পর্দা উঠিয়ে তাদের দিকে তাকান, তখন তারা খুশিতে আত্মহারা হয়ে যান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাদের নামাজ এবং সারিবদ্ধ দৃশ্য দেখে আনন্দিত হন। পীড়া সত্ত্বেও মুচকি হাসি দেন।
টিকাঃ
১ সহীহ আল বুখারী ৪৪২৮ ২ ফাহুল বারী: ৮/১৩১