📄 সুন্দর চরিত্র
প্রথমত: যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্দর চরিত্র দেখে বিমুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে তাদের সংখ্যা অগণিত। সেই চরিত্র তার বদান্যতা হোক বা দান হোক অথবা তার ক্ষমা মার্জনা, ধীরতা-সহনশীলতা হোক, কিংবা তা নম্রতা- ধৈর্যশীলতা বা তার ন্যায়পরায়ণতা- বিনয় হোক, বা তার দয়া- দান অথবা শক্তি- বীরত্ব হোক।
অনেক ক্ষেত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুন্দর চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন। নিম্নে তার বর্ণনা করা গেল।
(১) মুসলমানের জীবনে সুন্দর চরিত্রের বিষয়টি ব্যাপক, বিশেষ করে আল্লাহর দিকে আহবান কারীদের জীবনে গুরুত্ববহ। কারণ এটা হল ঈমানের সাথে সম্পর্কিত বিষয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'মুমিনদের মধ্যে যার ঈমান যতটা পরিপূর্ণ সে ততটা সুন্দর চরিত্রের অধিকারী।'
(২) সুন্দর চরিত্র সকল সমাজের জন্য একটি আবশ্যকীয় বিষয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী সকলের মধ্যে থাকা আবশ্যক।
কেননা যে এ সকল চারিত্রিক গুণাবলির অধিকারী হবে সে কেয়ামত দিবসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সবচেয়ে প্রিয় ও সবচেয়ে বেশি নিকটে থাকবে।
তিনি বলেছেন, 'নিশ্চয় সেই ব্যক্তিই আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও কেয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আমার নিকটে বসবে যার চরিত্র তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুন্দর।'
কবি যথার্থই বলেছেন: জাতি সমূহ তত দিন টিকে থাকবে যতদিন তাদের চরিত্র ঠিক থাকবে। আর যদি তাদের চরিত্র সমূহ নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।
৪। সুন্দর চরিত্র সবচেয়ে বড় ইবাদত, সবচেয়ে বড় দান এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বড় সহায়ক। উত্তম চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া মানুষের প্রধানতম কর্তব্য। বিশেষ করে যারা মানুষকে এর দিকে দাওয়াত দেবে তাদের জন্য তো অবশ্যই। এজন্যই তিনি বলেছেন, 'কেয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় সবচেয়ে বেশি ভারী হবে সুন্দর চরিত্র।' তিনি আরো বলেছেন, 'নিশ্চয় মুমিন ব্যক্তি সুন্দর চরিত্রের কারণে অব্যাহত সিয়াম পালনকারী ও সালাত আদায়কারীর সওয়াব লাভ করবে।'
আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'চারটি বিষয় যখন তোমার মধ্যে থাকবে তখন দুনিয়ার প্রাচুর্য তোমার থেকে ছুটে গেলে তোমার কোন অনুতাপ করা উচিত নয়: আমানত রক্ষা করা, সত্য কথা বলা, সৎ চরিত্র ও লোভ-লালসা মুক্ত হওয়া।'
এই গুণাবলির মাধ্যমে একজন মুসলিম সমস্ত মঙ্গল ও বরকতের অধিকারী হতে পারে। তিনি আরো বলেছেন, 'পূণ্য হল উত্তম চরিত্র।'
৫। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মুসলমানদের সুন্দর চরিত্রের অর্জন করার জন্য নির্দেশ দিয়ে গেছেন। বিশেষ করে দাওয়াত- কর্মীদের। তিনি মুআয বিন জাবাল রা. কে ইয়েমেনের গভর্নর, বিচারক ও ইসলামের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে পাঠানোর সময় সৎ-চরিত্র অবলম্বনের জোরালো আদেশ করে বলেছেন, 'মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার কর।'
৬। সুন্দর চরিত্র একটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আল্লাহ তাআলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ ব্যাপারে আদেশ করেছেন এবং এর জন্য তার প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:
خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الجَاهِلِينَ
"তুমি ক্ষমা করে যাও এবং সৎ কাজের আদেশ কর এবং মূর্খদের থেকে ফিরে থাক।”
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন:
وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ
'আপনি সুমহান চরিত্রের উপর অধিষ্ঠিত।' নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'আমি প্রেরিত হয়েছি মানুষের উত্তম চরিত্রগুলো পরিপূর্ণ করার জন্য।'
আয়েশা রা. কে জিজ্ঞাসা করা হল রাসূলের চরিত্র সম্পর্কে, তিনি উত্তর দিলেন, 'নিশ্চয় তোমাদের নবীর চরিত্র সম্পূর্ণ কুরআন।'
৭। সুন্দর চরিত্র ইসলামের দিকে, হেদায়াতের দিকে মানুষকে আকর্ষণ করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এজন্য রাসূলের চরিত্রে অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে যে, তিনি সর্বাবস্থায় বিশেষ করে আল্লাহর দিকে আহবান করার ক্ষেত্রে সুন্দর চরিত্রের সাথে নিজেকে উপস্থাপন করতেন। ফলে মানুষ সামনের দিকে আসতে লাগল এবং আল্লাহ তাআলার দয়ায় ও নবীর সুন্দর চরিত্রের কারণে মানুষ দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করতে লাগল।
এবং কত মানুষ যে তার সুন্দর চরিত্রের কারণে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে তার হিসাব নাই।
যেমন একজন বলেছিলেন যে, তোমার চেহারা অপেক্ষা আমার কাছে পৃথিবীতে আর কারো চেহারা এত ঘৃণ্য ছিল না, এখন তোমার চেহারা আমার নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে গেছে।'
অন্য একজন বলেছিল 'হে আল্লাহ তুমি আমাকে ও মুহাম্মাদকে দয়া কর, আমাদের সাথে আর কাউকে দয়া কর না।
এ ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষমায় এতটা প্রভাবিত হয়েছে যে, সে আল্লাহর রহমত যা সকলের জন্য উন্মুক্ত তাকে নিজের জন্য ও রাসূলের জন্য সীমিত করে দিয়েছে তার প্রার্থনায়। এরপরও রাসূল তাকে কোন কটু কথা বললেন না।
অন্য আরেকজন বলেছিল, 'আমার পিতা- মাতার শপথ! তার পূর্বে ও তার পরে তার চেয়ে উত্তম কোন শিক্ষক আমি দেখিনি।'
চতুর্থ আরেকজন বলেছিল, 'হে আমার সম্প্রদায় তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, কেননা মুহাম্মাদ যাকে দান করে সে কখনো অভাবের ভয় করে না।'
পঞ্চম আরেকজন বলেছিল, 'আল্লাহর শপথ! অবশ্যই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেয়ার মত দিয়েছেন। নিশ্চয় তিনি আমার নিকট ছিলেন সকলের চেয়ে নিকৃষ্ট। তিনি আমাকে দান করতে থাকেন, ফলে তিনি আমার নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে যান।
ষষ্ঠ আরেক ব্যক্তি, যাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। সে বলেছিল, 'আমি তোমাদের নিকট মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তম ব্যক্তির কাছ থেকে এসেছি। অতঃপর সে তার সম্প্রদায়কে ইসলামের দিকে আহবান করতে থাকে। ফলে তাদের মধ্যে থেকে অনেক মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এ বিষয়ে আরো অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।'
৮। সুন্দর চরিত্র প্রত্যেক মুসলিম বিশেষ করে সকল সাচ্চা দায়ীর জন্য আবশ্যক। কেননা তার দ্বারা সাধারণ ও অসাধারণ সকল মানুষ সর্বক্ষেত্রে মুক্তি পায় ও সফলতা লাভ করে। এই তাৎপর্যের কারণে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রভুর নিকট সুন্দর চরিত্রের পথ দেখাতে দু'আ করতেন। রাতের নামাজ শুরু করার সময় বলতেন।
واهدني لأحسن الأخلاق لا يهدى لأ حسنها إلا أنت
'তুমি আমাকে সবচেয়ে বেশি সুন্দর চরিত্রের পথ দেখাও! সুন্দর চরিত্রের পথ একমাত্র তুমিই দেখাতে পার।'
তিনি আরো বলেছেন, 'তুমি যেমন আমার শরীরের গঠন সুন্দর করেছো, তেমনি তুমি আমার চরিত্র সুন্দর করে দাও।'
৯। সুন্দর সৎ চরিত্রবান ব্যক্তি সকল মানুষের কাছে প্রিয় এমন কি শত্রুর কাছেও। সে সকল শ্রেণীর মানুষকে সন্তুষ্ট করতে পারে। যেই তার সাথে চলাফেরা করে তাকে ভালবাসে। সে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সাহায্যে তার মহান উদ্দেশ্য সহজভাবে বুঝাতে পারে। কেননা আল্লাহর পথের আহ্বানকারীরা তাদের ধন-সম্পদ দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করে না। বরং হাস্যোজ্জল চেহারা ও সুন্দর চরিত্র দিয়েই আকৃষ্ট করে থাকে।
১০। নিশ্চয় যে আহবানকারী সুন্দর চরিত্রে চরিত্রবান নয়, তার আহবান থেকে মানুষ দূরে সরে যায়।
তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ উপকৃত হয় না। কেননা মানুষের প্রকৃতি এমন যে, তারা অহংকারী ও অবজ্ঞাকারী থেকে কোন কিছু গ্রহণ করে না। আল্লাহ তাআলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যথার্থ বলেছেন:
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ
"অবশ্যই তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্যে থেকে একজন রাসূল এসেছে যার কাছে তোমাদের ক্ষতিকর বিষয় কষ্টদায়ক ও তোমাদের কল্যাণকামী এবং মুমিনদের প্রতি দয়ার্দ্র ও দয়ালু।” আল্লাহ তাআলা অন্যত্র ইরশাদ করেন:
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ
"আল্লাহ তাআলার রহমতে তুমি তাদের প্রতি কোমল হয়েছো, যদি তুমি কর্কশবাসী কঠিন হৃদয়ের অধিকারী হতে, তাহলে তারা তোমার থেকে দূরে সরে যেত। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও ও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং যে কোন বিষয়ে তুমি তাদের সাথে পরামর্শ কর।" আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ
وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
"মুমিনদের যারা তোমার অনুসরণ করে তুমি তাদের সাথে বিনম্র ব্যবহার কর।" আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের উপর ইহসান উল্লেখ করে বলেনঃ
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ
"অবশ্যই আল্লাহ তাআলা ম'মিনদের উপর ইহসান করেছেন যখন তিনি তাদের নিকট তাদের মধ্যে থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের নিকট তার আয়াতসমূহ আবৃতি করেন। তাদের সংশোধন করেন ও তাদের কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেন।” আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ ﴿۱۰۷﴾
"আমি তোমাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।” আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ
محَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهَ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ
"মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তার সাথিরা কাফেরদের ব্যাপারে কঠোর, নিজেরা একে অপরের প্রতি দয়ার্দ্র।”
আল্লাহ তাআলা আরো বলেন:
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا ﴿٤٥﴾ وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا ﴿٤٦﴾ وَبَشِّرِ المُؤْمِنِينَ بِأَنَّ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ فَضْلًا كَبِيرًا ﴿٤٧﴾
"হে নবী! আমি তোমাকে সাক্ষ্য দাতা, শুভসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি এবং আল্লাহর অনুমতিতে আল্লাহর দিকে আহবানকারী ও উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা স্বরূপ। তুমি ম'মিনদের শুভসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশাল মর্যাদা রয়েছে।”
ইসলামের দিকে প্রত্যেক আহ্বানকারীর কর্তব্য হল যে, সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদর্শ ও ইমাম হিসেবে গ্রহণ করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا
"অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। যে আল্লাহ ও আখেরাতের আশা করে এবং আল্লাহকে অধিক হারে স্মরণ করে তার জন্য।"
১১। নিশ্চয় উম্মতের সংশোধন, হেদায়েত ও উন্নতি নির্ভর করে স্বচ্ছ ও পরিষ্কার উৎস থেকে আহরণ এবং বিকৃত ধ্বংসাত্মক চিন্তা ফিকির থেকে দূরে থাকার উপর। আল্লাহর দিকে আহবানকারীরা সুন্দর চরিত্র আঁকড়িয়ে ধরলে এ উৎস অনুসারে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করলে ও সে অনুপাতে নিজে আমল করলে তবেই তো নিশ্চিত হবে উন্নতি ও অগ্রগতি। এর অন্যথা কাম্য নয় আল্লাহর কাছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ ﴿۲﴾ كَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللَّهِ أَنْ تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ ﴿٣﴾
"হে ঈমানদারগণ! যা তোমরা করোনা তা কেন বলো? তোমরা যা করনা তা তোমাদের বলা আল্লাহর দৃষ্টিতে অতিশয় অসন্তোষজনক।”
আল্লাহ তাআলা এ জন্যই কাজের পূর্বে ইলম-জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالمُؤْمِنَاتِ (سورة محمد : ۱۹)
"জেনে রাখ! যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি তোমার জন্য ও সকল মুমিন নারী-পুরুষের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।"
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَالْعَصْرِ ﴿۱﴾ إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ ﴿۲﴾ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالحُقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ﴿٣﴾
"শপথ আসরের! নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করেছে। এবং তারা পরস্পর সত্যের নির্দেশ দেয় এবং ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়।”
এখানে সত্যের আহ্বান করার পূর্বে আমল করার কথা বলা হয়েছে।
১২। উত্তম চরিত্র দাওয়াতের ক্ষেত্রে দায়ীকে আলোকিত হৃদয়ের অধিকারী করে তোলে। তার অনুভূতি গুলো খুলে দেয়। ফলে সে সত্যের ক্ষেত্রগুলো অন্তর দৃষ্টি দিয়ে দেখতে পায়। আর তখন সে ব্যক্তি, স্থান-কাল-পাত্র উপযোগী দাওয়াতের সঠিক পদ্ধতি ও মাধ্যম অবলম্বন করতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا (سورة الأنفال : ٢٩)
“হে ঈমানদারগণ যদি তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় কর, তাহলে তিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার উপলব্ধি দান করবেন।”
১৩। দাওয়াতে সুন্দর চরিত্র একটি কার্যকরী পদ্ধতি যা আগুন থেকে মুক্তি দান করে এবং সফলতার শীর্ষ মর্যাদা জান্নাতুন নাঈম এর অধিকারী করে। আর এটাই আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির পর প্রত্যেক মুসলমানের প্রত্যাশা। এজন্যই এক ব্যক্তিকে রাসূল জিজ্ঞাসা করে বললেন তুমি নামাজের মধ্যে কি বল?
সে বলল আমি নামাজে তাশাহহুদ পড়ার পর আল্লাহর কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাই।
তিনি বললেন, 'ওহে শুন! আল্লাহর শপথ! তোমার গুঞ্জন কতই না সুন্দর! মুআজের গুঞ্জন নয়। আমরা যেন এমন গুঞ্জন করতে পারি।'
এটা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের পর সমস্ত কথা, কাজ ও দাওয়াত সবই জান্নাত লাভ করার জন্য ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই করা হবে।
যে নিজ চরিত্রকে সুন্দর করবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে তার জন্য উত্তম বাড়ির যিম্মা নিয়েছেন। তিনি বলেন, 'যে ব্যক্তি সত্যের উপর অটল থাকার পরও ঝগড়া বিবাদ পরিহার করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের প্রান্তে একটি ঘরের দায়িত্ব নিলাম। যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা - যদি তা হাসি তামাশার জন্যও হয়ে থাকে- পরিহার করবে আমি তার জন্য জান্নাতের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ঘরের দায়িত্ব নিলাম। যে নিজ চরিত্রকে উন্নত করবে আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ শিখরে একটি ঘরের দায়িত্ব নিলাম।'
১৪। সুন্দর চরিত্রের কারণেই সবচেয়ে বেশি মুসলমান জান্নাতে প্রবেশ করবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল কোন আমল মানুষকে বেশি জান্নাতে নিয়ে যাবে? তিনি বললেন, 'আল্লাহ ভীতি ও সুন্দর চরিত্র।' তিনি আরো বলেন, 'নিশ্চয় জাহান্নাম প্রত্যেক সহজ সরল ও কোমল হৃদয়বান ব্যক্তির জন্য হারাম।' এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'আমি তোমাদের কি বলব না তার কথা, যার জন্য জাহান্নাম হারাম ও যে জাহান্নামের জন্য হারাম? সে হল প্রত্যেক সহজ সরল কোমল হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি।
দ্বিতীয়: সুন্দর চরিত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আমল
সুন্দর চরিত্র একটি পরিব্যাপ্ত বিষয় যার মধ্যে রয়েছে সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, ধীর-স্থিরতা, দানশীলতা, বদান্যতা, ক্ষমা, মার্জনা, দয়া, নম্রতা, ধৈর্য, স্থিতিশীলতা, অবিচলতা, ন্যায়-পরায়ণতা, ইনসাফ, সত্যবাদিতা, সুন্দর ব্যবহার, প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা, অঙ্গীকার পালন করা, আত্মত্যাগ, করুণা, অভাব প্রকাশ না করা, বিনয়, সাধনা, উৎকর্ষ, কর্ম-উদ্যম, মমতাবোধ, মনুষ্যত্ব বোধ, সাহসিকতা, আমানতদারী, ঐকান্তিকতা এগুলো যা উল্লেখ করা হলো আল্লাহর পথের আহবানে তা সুন্দর চরিত্র নামে আখ্যায়িত।
যে মহান চরিত্রের প্রশংসা আল্লাহ তাআলা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যাপারে করেছেন তা হচ্ছে সম্পূর্ণ দীন। আর সুন্দর চরিত্র হল তার একটি অংশ। যেমন ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন, আর ইবনু কায়্যিম রহ. মাদারিজুস সালেকীনে বলেছেন সুন্দর চরিত্র চারটি ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো ছাড়া তাকে কল্পনা করা যায় না। ভিতগুলো হলঃ
(১) ধৈর্য (২) ইফফাত বা অভাব মুক্ত ভাব (৩) সাহসিকতা (৪) ন্যায়পরায়ণতা।
এই চারটা গুণ সকল উন্নত চরিত্রের সূচনাস্থল।
আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই মহান সুন্দর চরিত্রসমূহের দিকগুলো নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করেছেন。
টিকাঃ
১ তিরিমিজী ৪৭৭/৩, আবু দাউদ ২২০/৪ ২ তিরমিজী ৩৭০/৪
২ সহীহ আল - বুখারী ৮৭/৭, সহীহ মুসলিম ১৩৮৬/৩ ৩ সহীহ আল - বুখারী ৪৩৮/১০ ৪ সহীহ মুসলিম ৩৮১/১ * সহীহ মুসলিম ১৮০৬/৪
৩ সহীহ মুসলিম ১৮০৬/৪ ৪ সহীহ আল বুখারী ২৯১০, সহীহ মুসলিম, ৮৪৩ ৫ সহীহ মুসলিম ৫৩৪/১ * বাইহাকী, আহমাদ ৬৮/৬
৪ সূরা আত-তাওবা ১২৮ ৫ সূরা আলে ইমরান ১৬৪ * সূরা আল-আম্বিয়া ১০৭
৫ সূরা আলে ইমরান ১৫৯ * সূরা আশ-শুআরা ২১৫
৬ সূরা আস-সাফ ২-৩ ৭ সূরা মুহাম্মাদ ১৯
৭ সূরা আল-ফাতহ ২৯ ৮ সূরা আল-আহযাব ৪৫-৪৭ * সূরা আল-আহযাব ২১
৮ সূরা আল-আসর ৯ সূরা আল-আনফাল ২৯ * আবু দাউদ ৭৯২
৯ আবু দাউদ ৭৮০ ১০ তিরমিজী ৩৬৩/৪ * তিরমিজী ৬৫৪/৪
📄 দান ও বদান্যতা
বদান্যতা ও মহানুভবতার দশটি স্তর রয়েছে যা নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
(১) আত্মার বদান্যতা : আর এটাই সর্বস্তরের উঁচু মানের বদান্যতা।
(২) নেতৃত্বের বদান্যতা : দাতা তার সাধনা দিয়ে মানুষের উপকার করে। নিজের প্রয়োজনের চেয়ে অপরের প্রয়োজন পূরণকে অগ্রাধিকার দেয়।
(৩) নিজের আরাম আয়েশের বদান্যতা : যিনি অন্যের উপকারের জন্য নিজের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করেন।
(৪) ইলম ও তার শিক্ষার বদান্যতা, এটাও উঁচু স্তরের বদান্যতা, যা মাল- সম্পদের বদান্যতা থেকে উত্তম।
(৫) নিজের মান মর্যাদা দিয়ে বদান্যতা. যেমন শাফাআত ও অন্যান্য বিষয়।
(৬) শারীরিক বদান্যতা : বিভিন্নভাবে শরীরের সামর্থ্য ব্যয় করে অন্যের প্রতি বদান্যতা, যেমন দু ব্যক্তির মাঝে মীমাংসা করা ছদকাতুল্য। কোন ব্যক্তিকে যানবাহনে আরোহণে সাহায্য করা, তার পণ্য সামগ্রী তার কাছে তুলে দেয়া বা তার উপর বহন করতে তাকে সাহায্য করা ছদকাতুল্য। সুন্দর কথা বলাও ছদকাতুল্য।
(৭) ক্ষমার বদান্যতা : যেমন কেহ তাকে গালি দিল তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন বা গীবত করল বা তার জন্য অমর্যাদাকর কিছু করল।
(৮) ধৈর্যের বদান্যতা, যেমন ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করা, এটা সম্পদ দিয়ে উপকার করার চেয়ে উপকারী।
(৯) সুন্দর চরিত্রের বদান্যতা : যেমন হাস্য-ভাব, সদালাপ, এটা ধৈর্যের বদান্যতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
(১০) মানুষের কাছে পাওনা ছেড়ে দেয়ার বদান্যতা। ফলে তিনি তা আর চাইতেন না।
প্রত্যেক স্তরের বদান্যতার জন্য অন্তরে বিশেষ বিশেষ প্রকারের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। আল্লাহ তাআলা দাতাকে আরো বাড়িয়ে দেয়ার ও কৃপণকে কমিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন।
আর আল্লাহ তাআলাই আমাদের শেষ আশ্রয়।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক প্রকারের বদান্যতা ও মহানুভবতার গুণে গুণান্বিত এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধন-সম্পদ ব্যয় করে যে বদান্যতা ও মহানুভবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার কতিপয় দিক নিয়ে আলোচনা করা হলঃ
১ম দৃষ্টান্ত:
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দানে আনাস রা. এর প্রশংসাঃ
* আনাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন যে, ইসলামের নামে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট কোন কিছু চাওয়া হলে দান করতেন। তিনি বলেন, তার নিকট এক ব্যক্তি আসল অতঃপর তিনি তাকে দু' পাহাড়ের মাঝখানের সব বকরী দিয়ে দিলেন। এরপর সে তার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে আসল এবং বলল হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ কর কেননা মুহাম্মাদ এমন দান করে যে, সে দারিদ্রতার ভয় করে না।'
এই মহান ঘটনাগুলো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দান ও তার সীমাহীন বদান্যতার প্রমাণ করে।
* তিনি দান করতেন আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে মানুষকে ইসলামের প্রেরণা দেয়ার জন্য ও তাদের আত্ম প্রশান্তির জন্য। প্রথমে কোন ব্যক্তি ইসলাম প্রকাশ করত ইহকালীন সুবিধা ভোগ করার জন্য, অতঃপর আল্লাহ তার রাসূলের আকর্ষণে ও ইসলামের নূরের কারণে তার অন্তর ইসলামের প্রকৃত ঈমানের জন্য খুলে যেত এবং ইসলাম তার অন্ত রে গেঁথে যেত। তখন ইসলাম তার নিকট পৃথিবী ও তার মধ্যে যা আছে তা অপেক্ষা উত্তম হয়ে যেত।
২য় দৃষ্টান্তঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদান্যতা সম্পর্কে সাফওয়ানের প্রশংসা মূলক বর্ণনা:
সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা অভিযানে বের হলেন, এবং তার সাথে মুসলমানরা বের হল। অতঃপর তারা হুনাইনে যুদ্ধ করলেন, আল্লাহ তাআলা তার দীন ও মুসলমানদের সাহায্য করলেন, সে দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাফওয়ান বিন উমাইয়াকে একশত বকরী দিলেন অতঃপর আরো একশত। তারপর আবার একশত, এভাবে মোট তিনশত বকরী দিলেন। সাফওয়ান বলল, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেয়ার মত দিয়েছেন। অথচ তিনি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ঘৃণিত। তিনি আমাকে দিতে থাকলেন, এক সময় তিনি আমার নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় হয়ে গেলেন।'
আনাস রা. বলেন কোন কোন ব্যক্তি দুনিয়ার সুবিধার্থে ইসলাম গ্রহণ করত ইসলাম গ্রহণ মাত্রই তার নিকট তা দুনিয়া ও তার ধন-সম্পদ অপেক্ষায় উত্তম হয়ে যেত।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাউকে দুর্বল ঈমান ওয়ালা দেখলে তাকে প্রচুর পরিমাণে দান করতেন। তিনি বলেন, 'আমি যখন কোন ব্যক্তিকে দান করি। তার থেকে আমার অন্য কিছু উদ্দেশ্য থাকে। তাহল তাকে যেন উপুর করে আগুনে নিক্ষেপ করা না হয়।' অর্থ্যাত তাকে শিরক ও কুফর থেকে মুক্ত করা আমার দানের একটি উদ্দেশ্য। এজন্যই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরাইশদের এক এক জনকে একশো করে উট দিতেন।
৩য় দৃষ্টান্তঃ
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুশরিক মহিলার সাথে যে আচরণ করেছেন
• মুশরিক মহিলা যে পানির মশক নিয়ে যাচ্ছিল তার সাথে রাসূলের মহৎ চরিত্রের বর্ণনাঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মশক থেকে সাহাবীদের পানি পান করার পর সে আগের তুলনায় দু মশক আরো বেশি পানি ভরা অবস্থায় ফিরে গেল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাহাবীদের বললেন তার জন্য যে খেজুর আটা, সাতু আছে তা নিয়ে এসো। তারা তার জন্য অনেক খাদ্য একত্র করলেন এবং তা একটি কাপড়ে রাখলেন, তার উটে তা বহন করিয়ে দিলেন কাপড়টি তার সামনে রাখলেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন যে, 'তুমি এগুলো নিয়ে যাও ও তোমার পরিবারকে খেতে দাও। আর জেনে রাখ! আমরা তোমার কিছু কমিয়ে দেয়নি। তোমার থেকে কিছুই গ্রহণ করিনি। আল্লাহই আমাদের পানি পান করিয়েছেন।'
এ ঘটনায় আরো বর্ণিত আছে, যে মহিলাটি তার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে গিয়ে বলল, 'আমি সবচেয়ে বড় যাদুকরের কাছ থেকে এসেছি অবশ্য তার লোকেরা তাকে নবী বলে জানে।' আল্লাহ তাআলা ঐ মহিলার কারণে একটি সমাজকে হেদায়াত দান করলেন। ফলে সে ও তারা সকলে ইসলাম গ্রহণ করল।'
আরেক বর্ণনায় আছে যে, মুসলমানরা তার আশে পাশের মুশরিকদের আক্রমণ করত কিন্তু সে এলাকায় তারা আক্রমণ করত না, যেখানে সে মহিলা রয়েছে।
সে মহিলা একদিন তার সম্প্রদায়কে বলল, 'এই সম্প্রদায় (মুসলিমগন) নিজেদের স্বার্থে তোমাদের দাওয়াত দেয় আমি তা মনে করি না। অতএব তোমরা কি ইসলামের অংশ নিবে?' অতঃপর তারা তার কথা মেনে ইসলাম গ্রহণ করল।'
এই মহিলার ইসলাম গ্রহণের দুটি কারণ:
১ম কারণ: যা সে অবলোকন করেছে: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার সাহাবারা তার মশক দুটো থেকে থেকে পানি নিয়েছে তবে তার পানি কোন অংশে কমেনি। এটা নবীর অলৌকিকতা যা তার রিসালতের সত্যতার পরিচায়ক।
২য় কারণ :
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বদান্যতা: যখন তিনি সাহাবীদের তার জন্য খাদ্য পানীয় একত্র করতে আদেশ করলেন তখন তারা তার জন্য অনেক খাদ্য- পানীয় একত্র করলেন।
আর তার সম্প্রদায় তার কথায় ইসলাম গ্রহণ করল। কারণ, মুসলমানরা নবীর আদেশে তার সম্প্রদায়কে দেখাশোনা করত, তাদের ইসলামে আকৃষ্ট করার জন্য। এটাই পরে তাদের ইসলাম গ্রহণের কারণ হয়।
এই উপরোক্ত দৃষ্টান্তসমূহ রাসূলের বদান্যতার কিছু নমুনামাত্র। এ থেকে আমাদের রাসূলের অনুসরণ তার শিক্ষা, দাওয়াতে তার আদর্শ ও সর্বক্ষেত্রে তাকে আলোকবর্তিকা হিসাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন。
টিকাঃ
১ সহীহ আল বুখারী ৫৮০/৬ ২ সহীহ আল বুখারী ৪৪৮/১
📄 ন্যায়পরায়ণতা
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ন্যায়পরায়ণতার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেন, 'সাত ব্যক্তিকে আরশের ছায়ায় স্থান দেয়া হবে, যে দিন আরশের ছায়া ব্যতীত কোন ছায়া থাকবে না। এদের মধ্যে আছেন ন্যায়পরায়ণ শাসক....'
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা রহমানের ডান পার্শ্বে নূরের মঞ্চে আরোহণ করবে। আসলে আল্লাহর দুটো হাতই ডান হাত। যে সকল ব্যক্তি তাদের শাসন কার্যে, পরিবার পরিচালনায় ও অধীনস্থদের ব্যাপারে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করেছে তারা এ মর্যাদার অধিকারী হবে।'
ন্যায়পরায়ণতার ক্ষেত্র হল বিশাল-বিস্তৃত। দেশ শাসনে ন্যায়পরায়ণতা, বিচারের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা, আল্লাহর আইন ও বিধান প্রয়োগে ন্যায়পরায়ণতা, মানুষের সাথে লেনদেন করার ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা, মানুষের মধ্যে সালিশ ও মীমাংসার ক্ষেত্রে ন্যায়নীতি, শত্রুদের সাথে আচার-আচরণে ন্যায়পরায়ণতা, সন্তান- সন্ততির ব্যাপারে ন্যায়, স্ত্রী পরিজনের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ন্যায় বিচারের কয়েকটি দৃষ্টান্ত: প্রথম দৃষ্টান্ত : মাখযুম গোত্রের এক সম্ভ্রান্ত মহিলা একবার চুরি করল। মহিলার এ বিষয়টি কুরাইশদের ভাবিয়ে তুলল। কারণ বংশের দিক দিয়ে সে ছিল অত্যন্ত সম্মানিত। তারা মহিলার শাস্তি মওকুফ করতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট মধ্যস্থ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল। তারা বলল যে, 'কে এ বিষয়ে রাসূলের সাথে কথা বলতে পারে?' তারা মত দিল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় ব্যক্তি হল উসামা বিন যায়েদ। সে-ই এ দুঃসাহস দেখাতে পারে। অতঃপর এ মহিলাকে রাসূলুল্লাহর দারবারে আনা হল। তারপর তার ব্যাপারে উসামাহ বিন যায়েদ রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট শাস্তি মওকুফের সুপারিশ করলেন। তৎক্ষণাৎ রাসূলুল্লাহর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং বললেন, 'তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তির ব্যাপারে সুপারিশ করছ?' অতঃপর উসামা বলল, 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।' এরপর বিকেলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বক্তৃতা দিতে দাঁড়ালেন, তিনি আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেন, 'শুনে রাখ! তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংস হয়েছে এজন্য যে, তাদের মধ্যে কেউ কোন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি চুরি করলে তারা তাকে শাস্তি ব্যতীত ছেড়ে দিত। আর যখন কোন দুর্বল ব্যক্তি চুরি করত তাহলে তারা তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আর আমি ঐ সত্ত্বার শপথ করে বলছি যার হাতে আমার জীবন, যদি মুহাম্মাদের মেয়ে ফাতেমাও চুরি করে তাহলে আমি তার হাত কেটে দেব।' এরপর সে মহিলার হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেয়া হল। আয়েশা রা. বলেন, 'সে মহিলা পরে সুন্দর তাওবা করেছে, বিবাহ করেছে। মাঝে মাঝে সে আমার কাছে আসত। আমি তার প্রয়োজনের কথাগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে উপস্থাপন করতাম।'
ন্যায়পরায়ণতা হল অন্যায়-অবিচারের বিপরীত। আল্লাহ তাআলা সর্বক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দিয়েছেন। সকল কথায় ও সকল কাজে। তিনি বলেছেন:
وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى "যখন তোমরা কথা বলবে ন্যায়সংগতভাবে বলবে, আত্মীয়-স্বজন সম্পর্কে হলেও।"
وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ "যখন তোমরা মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবে।”
দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত: নোমান ইবনে বশীর ও তার ছেলের ব্যাপারে: নুমান বিন বশীর মিম্বরে বসে বলেন যে, আমার পিতা আমাকে অতিরিক্ত দান করলেন কিন্তু উমরাহ বিনতে রাওয়াহা অসন্তোষ প্রকাশ করে বললেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যেয়ে ফয়সালা ব্যতীত আমি এটা মেনে নিব না।' অতঃপর বশীর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে আসলেন এবং বললেন, 'আমি উমরাহ বিনতে রাওয়াহার ঘরে আমার ছেলেকে অতিরিক্ত সম্পদ দান করেছি। অতঃপর সে আমাকে আদেশ করেছে আপনার অনুমোদন নেয়ার জন্য। হে আল্লাহর রাসূল!' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তুমি কি তোমার সব ছেলেকে এভাবে অতিরিক্ত দিয়েছ?' তিনি বললেন, 'না', রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার ছেলেদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ কর।' বশীর ফিরে চলে গেল এবং তার অতিরিক্ত দান ফিরিয়ে নিল।
আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তোমার কি আরো সন্তান আছে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, আছে।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'তুমি কি সবাইকে এ রকম দিয়েছো?' বললো, 'না,' রাসূল বললেন, 'তাহলে আমি অন্যায় অবিচারের সাক্ষী হতে পারি না।'
এ হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তানদের ব্যাপারে ন্যায়-ভিত্তিক আচরণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখতে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের শায়খ ইমাম আব্দুল আযীয ইবনে বায রহ. বলেছেন, এ হাদীস দিয়ে স্পষ্ট প্রমাণিত হল যে, সন্তানদের মধ্যে কাউকে বেশি দেয়া জায়েয নয়। এটা তাদের মধ্যে বৈষম্য ও শত্রুতা সৃষ্টির নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে।
তৃতীয় দৃষ্টান্ত: স্ত্রী পরিজনের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ন্যায়ভিত্তিক আচরণ
স্ত্রীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ন্যায়পরায়ণতার বাস্তবায়ন করেছেন যথাযথভাবে। তিনি যতটুকু সম্ভব রাত্রি যাপন, খাদ্য-বস্ত্র দান, স্থায়ী বা অস্থায়ী সর্বাবস্থায় সকল বিষয়ে তাদের মধ্যে পরিপূর্ণ সমভাগে ভাগ-বণ্টন করেছেন। তিনি প্রত্যেকের নিকট এক রাত্র করে অবস্থান করতেন। নিজের হাতে যা রয়েছে তা তাদের প্রত্যেকের উপর সমভাবে খরচ করতেন। প্রত্যেকের জন্য একটি করে কক্ষ নির্মাণ করেছেন। যখন তিনি ভ্রমণে যেতেন তখন তাদের মধ্যে লটারি দিতেন। যার ভাগ্যে লটারি আসত তাকে নিয়ে সফরে যেতেন। এ ব্যাপারে তিনি শিথিলতা করতেন না। এ সমতা ছিল তার আমরণ। তার অসুস্থ অবস্থায় তাদের পালা অনুসারে তাকে প্রত্যেক স্ত্রীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হত। আর যখন এটা করা অসম্ভব হয়ে গেল, তখন সকলে বুঝে নিল যে, তিনি আয়েশার ঘরে থাকতে চান। তারা সকলে আয়েশার ঘরে চিকিৎসা করার অনুমতি দিল। তিনি সেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অবস্থান করলেন। এত পরিমাণ সমতা রক্ষা করা সত্ত্বেও তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করছেন এবং বলেন- اللهم هذا قسمي فيما أملك، فلا تلمني فيما تملك لا أملك 'হে আল্লাহ এ হল আমার ভাগ-বণ্টন। যার মালিক আমি। আর আপনি যার মালিক আমি যার ক্ষমতা রাখি না, সে ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার করবেন না।”
অর্থ্যাত বৈষয়িক ভাগ-বণ্টনে আমি সমতার বাস্তবায়ন করলাম কিন্তু আমি অন্তরের মালিক নই। কাজেই আমার অন্তর যদি করো প্রতি ঝুঁকে যায় তবে সে জন্য আমাকে আপনি শাস্তি দেবেন না। অন্তরের উপর ক্ষমতা তো আপনারই।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক স্ত্রীর দিকে অন্য স্ত্রীর তুলনায় বেশি ঝুঁকে যেতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি বলেছেন- যার দুজন স্ত্রী রয়েছে অতঃপর সে একটার দিকে বেশি ঝুঁকে যায় সে কেয়ামতের দিন এক পার্শ্ব বাঁকা অবস্থায় উপস্থিত হবে।
অত্র হাদীসখানার মাধ্যমে যে আন্তরিক টানের ব্যাপারে মানুষের ইচ্ছাশক্তি কার্যকর, তা হারাম সাব্যস্ত হয়। আর যেটি মানুষের আয়ত্বের বাইরে, সেটি সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে:
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا "আল্লাহ তাআলা কাউকে সামর্থ্যের বাইরে আদেশ করেন না।”
فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ "তোমরা আল্লাহকে সামর্থ্য অনুযায়ী ভয় কর।" তিনি আরো বলেন:
وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ المُيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالمُعَلَّقَةِ "আর তোমরা চাইলেও স্ত্রীদের মাঝে সমতা বজায় রাখতে পারবে না। অতএব, তোমরা কারো প্রতি পূর্ণ ঝুঁকে পড়ো না, ফলে একজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় ছেড়ে দেবে।" উল্লেখিত হাদীসের সতর্ক বাণী শুধুমাত্র তার ক্ষেত্রে, যে ইচ্ছাকৃত বৈষম্যমূলক আচরণ করে। আর সে কেয়ামত দিবসে মুখের এক পার্শ্ব বক্র অবস্থায় উঠবে। এটি একটি স্পষ্ট শাস্তি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষা হলো, যে ব্যক্তি কুমারী নারী বিবাহ করবে, সে সাত দিন একাধারে তার সাথে অবস্থান করবে, এবং এরপর থেকে সকল স্ত্রীদের মাঝে সঙ্গ দেয়ার পালা বণ্টন শুরু করবে, যদি তার একাধিক স্ত্রী থাকে। আনাস রা. এর হাদীসে বর্ণিত আছে -
من السنة إذا تزوج الرجل البكر على الثيب أقام عندها سبعاً ثم قسم، وإذا تزوج الثيب أقام عندها ثلاثا ثم قسم.
"কোন ব্যক্তি অন্য স্ত্রী থাকা অবস্থায় যদি কুমারী মেয়ে বিবাহ করে, তার সাথে একাধারে সাত দিন রাত্রিযাপন করবে, অতঃপর পালা বণ্টন শুরু করবে। আর যদি অকুমারী নারী বিবাহ করে, তাহলে তিন দিন অবস্থান করে পালা বণ্টন শুরু করবে।' উম্মে সালামা রা. এর বর্ণনা- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে বিবাহ করলেন, তখন তার সাথে তিন দিন অবস্থান করেছেন এবং বলেছেন, 'তোমার কোন সমস্যা নেই, ইচ্ছা করলে আমি তোমার নিকট সাত দিন থাকতে পারি, তবে তোমার ঘরে সাত দিন রাত্রিযাপন করলে অন্য স্ত্রীদের ঘরেও সাত দিন করে থাকতে হবে।'" আয়েশা রা. কর্তৃক বর্ণিত- সাওদা বিনতে যামআ রা. স্বীয় দিনটি আয়েশা রা. কে দান করেছেন, ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্যে নিজের ও সাওদার উভয় দিন তার কাছে যাপন করতেন। আয়েশা রা. থেকে আরো বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পালা বণ্টনের ক্ষেত্রে আমাদের কাউকে কারো উপর প্রাধান্য দিতেন না। খুব কম দিনই তিনি আমাদের সকলের কাছে যেতেন। তবে গভীর মেলা-মেশা করা ব্যতীত সকলের নিকটবর্তী হতেন। সর্বশেষ তার নিকট গিয়ে রাত্রি যাপন করতেন, যার পালা রয়েছে। সাওদা রা. বয়স্ক হয়ে যখন এই আশঙ্কা করলেন যে, রাসূল হয়তোবা তাকে দূরে ঠেলে দেবেন, তখন বলেছিলেন, আমি আমার দিনটি আয়েশাকে দিয়ে দিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেন, আয়েশা রা. বলেন, 'সাওদা এবং তার মত মহিলাদের ব্যাপারেই নিগোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয় -
وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا
"যদি কোন নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে রূঢ়তা কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তারা পরস্পর আপোশ করে নিলে তাদের কোন গুনাহ নেই।”
ইবনে বায রহ. ঘটনাটি বর্ণনা করে মন্তব্য করেছেন, 'এর দ্বারা বুঝা গেল, যদি কোন নারী নিজের অধিকার থেকে সরে আসে তবে তা তার জন্য বৈধ। যেমন স্বামীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে নিজের পাওনা দিনটিকে অন্য একজন সতীনকে দান করে দিতে পারে।
সকল স্ত্রীদের জন্যে সম্মিলিত সময় ছিল আসরের পরের সময়টি। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসর সালাত আদায় করে স্ত্রীদের সান্নিধ্যে যেতেন。
গ্রন্থকার বলেন, আমার শায়েখ ইবনে বায রহ. কে বলতে শুনেছি, এ হাদীসটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উত্তম চরিত্রের প্রতি দিক-নির্দেশ করে। তিনি ছিলেন স্বীয় পরিবারের নিকট সর্বোত্তম ব্যক্তি。
তিনি প্রতিদিন আসর সালাতের পর স্ত্রী গণের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজ খবর নিতেন। তবে তিনি ঐ সময় তাদের সাথে মেলামেশা করতেন না। অবশ্য কখনও কখনও সকলের সাথে মেলামেশা শেষ করে একবার গোসল করতেন, যেমনটি আনাস রা. এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তবে এটি ছিল বিরল。
আয়েশা রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীস ও আনাস রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মধ্যে এভাবে সমাধান করা যায় যে, সকল স্ত্রীর সাথে মেলামেশা শেষ করে একবার গোসল করার বিষয়টি খুব কম সময়ই হয়েছিল。
আনাস রা. এর বর্ণনা নিরূপ:
'নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ও দিনে একই সময়ে এগারো জন স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করতেন, আনাস রা. কে জিজ্ঞেস করা হল, 'এটা কি করে সম্ভব?' তিনি বললেন, 'আমরা জানি, তাকে ত্রিশজন পুরুষের শক্তি দেয়া হয়েছে।' সাঈদ রহ. কাতাদার বরাত দিয়ে আনাস রা. থেকে বর্ণনা করেন, তাতে নয়জন বিবির উল্লেখ রয়েছে।'
হাফেয ইবনে হাজার রহ. এর সমাধানে বলেছেন, স্ত্রীর সংখ্যা নয়জনই ছিল, তবে মারিয়া ও রায়হানা নামে দুইজন বাঁদীকেও নয়জনের সাথে যোগ করে দেয়া হয়েছে। আমার উস্তাদ ইবনে বায রহ. থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেন, 'এটি একটি আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি। কারণ নয়জন বিবি, তার উপর আবার মারিয়া ও রায়হানা নামে দু'জন বাঁদী। এর দ্বারা বুঝা গেল এক ব্যক্তি একাধিক স্ত্রীর সাথে তাদের যৌথ সময়ের মধ্যে মেলামেশা করতে পারে, এটি শুধু জায়েয ই নয়, বরং এটি সুন্নত। এটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ।
আনাস রা. এর হাদীসে বর্ণিত আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নয়জন স্ত্রীর জন্য দিন ভাগ করা ছিল। তিনি প্রথম স্ত্রীর নিকট নয়দিন পরই যেতেন। তিনি যেদিন সকলের সাথে মেলামেশা করতেন সেদিন সবাই এক বাড়িতে একত্রিত হত।'
আমার উস্তাদ ইবনে বায রহ. বলতেন, প্রতিদিন আসর বাদ সবার সাথে দেখা করতেন সেটি ভিন্ন ব্যাপার। এভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মাঝে সম্প্রীতি ও ভালবাসার সৃষ্টি করতেন এবং সকল প্রকার বৈরী ভাব দূর করতেন। কেননা সতীনদের মাঝে দূরত্ব থাকাটাই স্বাভাবিক। রাতের বেলা সকলে একত্রিত হলে নিজেদের মধ্যে মুহাব্বত বাড়ে। স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ ঠিক রাখার জন্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন তাদের মাঝে লটারীর ব্যবস্থা করতেন। লটারীতে যার নাম উঠত, সেই তার সাথে সফরে যেত。
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনসাফ ও উত্তম আখলাকের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আনাস রা. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে সুস্পষ্ট হয়, যা নিরূপ:
একদিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক স্ত্রীর ঘরে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় অন্য আরেক স্ত্রী পেয়ালায় করে কিছু খাদ্য-দ্রব্য পাঠালেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার ঘরে অবস্থানরত, তিনি খাদেমের হাত থেকে পেয়ালা ফেলে দিয়ে তা ভেঙ্গে দেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভাঙ্গা পেয়ালার টুকরো জমা করে তাতে খাবার উঠাতে লাগলেন এবং বললেন, 'তোমাদের মা রাগ করেছে।' নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদেমকে আটকে রেখে ওর ঘর থেকে একটি ভাল পেয়ালা নিয়ে, যার পেয়ালা ভাঙ্গা হয়েছে তার ঘরে পাঠিয়ে দিলেন, আর ভাঙ্গাটি এ ঘরে রেখে দিলেন。
অত্র হাদীসমূহের মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্রের সুমহান দিকগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরা হলো।
টিকাঃ
১ সহীহ আল বুখারী ৬৬০, সহীহ মুসলিম ১০৩১ ২ সহীহ মুসলিম ১৮২৭
২ সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম কিতাবুল হুদুদ ৩ সূরা আল আনআম ১৫২ * সূরা আন-নিসা ৫৮
৩ সূরা আল-বাকারা: ২৮৬ ৪ সূরা আত-তাগাবুন:১৬ * সূরা আন-নিসা: ১২৯
৪ সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম * সহীহ মুসলিম * সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম
📄 বিনয় ও নম্রতা
নম্রতা একটি মহৎ গুণ, এ কারণেই আল্লাহ তাআলা নম্র লোকদের প্রশংসা করেছেন। এরশাদ হচ্ছেঃ
وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا ﴿٦٣﴾ الفرقان "রহমানের বান্দাগণ যখন যমীনের উপর চলে, তখন তারা খুব নম্র হয়ে চলে। আর যখন মুর্খ লোকেরা তাদেরকে সম্বোধন করে, তখন তাদেরকে শান্তির বাণী শুনিয়ে দেয়।"
মুসলমান বিনয়ী হলে, আল্লাহ তাআলা তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে মর্যাদার আসনে উন্নীত করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'সদকা করলে সম্পদ কমে না, ক্ষমা করলে আল্লাহ তাআলা সম্মান বাড়িয়ে দেন, আর বিনয়ী হলে মর্যাদা উঁচু করে দেন।'
আর এটি একজন মুসলমানের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষের অন্তর প্রশস্ত করে দেয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। নম্র হওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলাই দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের মাঝে তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। অপরদিকে যে ব্যক্তি মানুষের উপর অহংকার করে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখেরাতে তাকে অপদস্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। যেমন আবু হুরাইরা রা. ও আবু সায়ীদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অহংকার আল্লাহর পরিচ্ছদ, গর্ব তার চাদর, আল্লাহ বলেন, "যে ব্যক্তি আমার হক নিয়ে কাড়াকাড়ি করবে, আমি তাকে কঠিন শাস্তি দেব।"
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অধিক মাত্রায় বিনয়ী। তার বিনয়ের কতিপয় দৃষ্টান্ত নিম্নে উল্লেখ করা হল:
(১) আদবা নামক উষ্ট্রীর ঘটনা: আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর 'আদবা' নামে একটি উষ্ট্রী ছিল। তাকে কখনও পরাজিত করা যেত না, একদা কোন এক গ্রাম্য ব্যক্তি তার একটি বাহন এনে সেটিকে পরাজিত করে ফেলল, বিষয়টি মুসলমানদের অনুভূতিকে মারাত্মকভাবে আহত করল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আল্লাহ কোন বস্তু দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেয়ার পূর্বে সেটিকে নিচু করে দেন।'
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই হলেন আমাদের জন্যে উত্তম আদর্শ। তিনি মানুষকে দাওয়াত দেয়ার সময় নম্রতা অবলম্বন করতেন।
(২) আবু মাসউদ রা. কর্তৃক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিনয়ের বর্ণনা: আবু মাসউদ রা. বলেন, জনৈক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে কথা বলার সময় ভয়ে কাপতেছিল। রাসূল তাকে বললেন, 'তুমি স্বাভাবিক হয়ে কথা বল, কেননা আমি এমন এক মহিলার ছেলে, যে শুকনো গোস্ত টুকরো টুকরো করে খেয়ে জীবন ধারণ করতো।' হাকেম রহ. জরীর রা. এর বর্ণনায় কিছুটা বাড়িয়ে বলেছেন, তাহল, অতঃপর জরীর রা. এই আয়াত পাঠ করেছেন:
وَمَا أَنْتَ عَلَيْهِمْ بِجَبَّارٍ فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَنْ يَخَافُ وَعِيدِ "তুমি তাদের প্রতি জোর-জবরদস্তিকারী নও। যে আমার শাস্তির ভয় করে তাকে তুমি কুরআনের মাধ্যমে উপদেশ দাও।”
অতএব, সকল মানুষকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করা অতীব জরুরী। তিনি দাওয়াতী ময়দানে ছিলেন খুবই বিনয়ী। তিনি শিশুদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে তাদেরকে সালাম দিতেন। ছোট্ট বালিকা তার হাত ধরে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেতে পারত। তিনি ঘরে থাকা অবস্থায় পরিবারের খেদমত করতেন। ব্যক্তিগত কারণে কারো উপর প্রতিশোধ নিতেন না। জুতা সেলাই করতেন। কাপড়ে তালি লাগাতেন। বকরী দোহন করতেন। উটকে ঘাস খাওয়াতেন। চাকর-বাকরদের সাথে খাবার খেতেন। মিসকীনদের সাথে উঠাবসা করতেন। বিধবা ও এতিমের সাথে তাদের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য হাটতেন। কারো সাথে সাক্ষাৎ হলে প্রথমেই সালাম দিতেন। কেউ দাওয়াত দিলে তা অল্প হলেও গ্রহণ করতেন। মোটকথা তিনি নিজেকে অপদস্ত না করে ছিলেন বিনয়ী। অপচয় না করে ছিলেন দানশীল। ছিলেন কোমল হৃদয়ের অধিকারী, মুমিনদের সামনে আপন বাহুকে ঝুকিয়ে দিতেন।'
(৩) অন্য নবীগণকে নিজের উপর মর্যাদা দেয়া: এক ব্যক্তি তাকে বলল: يَا خَيْرَ الْبَرِيَّةِ (হে সৃষ্টির সেরা), একথা শুনে তিনি বললেন, 'তিনি ছিলেন ইব্রাহীম আ.।" কারো একথা বলা উচিত নয় যে, আমি ইউনুসের চেয়ে উত্তম।" তিনি নবী রাসূলগনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। সকল মানুষের নেতা এতে কোন সন্দেহ নেই। তিনি নিজেই বলেন: أنا سيد الناس يوم القيامة 'কিয়ামত দিবসে আমি হবো মানবজাতির নেতা।' তা সত্ত্বেও তিনি বিনয় প্রদর্শন করতে যেয়ে এ কথাগুলো বলেছেন。
তার বিনয়ী হওয়ার আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো, তার দরজায় কোন দারোয়ান থাকতনা, তিনি রুগ্ন ব্যক্তিদের ঝাড়-ফুঁক করতেন, তাদের আরোগ্যের জন্যে দুআ করতেন, ছোট শিশুর মাথায় হাত বুলাতেন, তাদের জন্যে দুআ করতেন, তিনি তার সাহাবীদের জন্যে সুপারিশ করতেন, এবং তিনি বলতেন, 'তোমরা সুপারিশ কর, প্রতিদান পাবে, আর আল্লাহ তার নবীর যবানে যা চাইবেন তা-ই ফয়সালা করবেন।'
আনাস রা. কে তিনি আদর ও স্নেহ করে يا بني (হে ছেলে) বলে ডাক দিতেন।'
তার বিনয়ী হওয়ার আরেকটি উদাহরণ হলো: এক মহিলা মসজিদ ঝাড়ু দিত। এক রাতে সে মারা গেলে লোকজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তাকে দাফন করে ফেলল। আল্লাহর রাসূল তার মৃত্যুর কথা শুনতে পেয়ে বললেন, 'আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও' অতঃপর তিনি বললেন, 'নিশ্চয়ই এ সকল কবরসমূহ কবর বাসীর জন্যে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা আমার দুআর মাধ্যমে তাদের কবর আলোকিত করে দেন।'
আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, 'আমি একটানা দশ বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমতে ছিলাম, কখনও তিনি আমার কাজে উহ! শব্দও উচ্চারণ করতেন না। যেটি করে ফেলেছি সেটির ব্যাপারে বলতেন না, 'কেন করেছ?' আর যেটি করিনি সেটির ব্যাপারে বলতেন না, 'কেন করনি?' তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে উত্তম চরিত্রের অধিকারী।"
টিকাঃ
১ সূরা আল-ফুরকান: ৬৩ ২ সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮ • শরহে নববী (সহীহ সহীহ মুসলিম এব ব্যাখ্যা গ্রন্থ): ১৬/১৪২ * সহীহ মুসলিম: ২৬২০
২ মাদারিজুস সালেকীন: ২/৩২৮ ৩ সহীহ মুসলিম: ১৩৬৯ * সহীহ আল-বুখারী: ৪৬৩০, সহীহ মুসলিম: ২৩৭৬ * সহীহ আল-বুখারী: ৩৩৪০, সহীহ মুসলিম: ১৯৪ * সহীহ আল-বুখারী: ১২৮৩ * সহীহ আল-বুখারী: ৭২১০ * সহীহ আল-বুখারী: ১৪৩২, সহীহ মুসলিম: ২৬২৭