📄 তাড়াহুড়া করবেন না
ধৈর্যধারণের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করা যাবে না। কেননা মানুষকে ত্বরাপ্রবণ করে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই মানবজাতি সবক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করতে পছন্দ করে। কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
خُلِقَ الْإِنسَانُ مِنْ عَجَلٍ.
"নিশ্চয় সৃষ্টিগতভাবে মানুষ তড়িৎপ্রবণ।"১০৩
যদি ধৈর্যধারণ করা হয় তাহলে ফল ভোগ করবে অন্যথায় ধৈর্যের ফল পাওয়া যাবে না। প্রিয়তম প্রভু আল্লাহ ﷻ তাঁর প্রেমময় বন্ধুকে তাড়াহুড়া করতে নিষেধ করেছেন। আর পূর্ববর্তী নবিরা যেমন কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করেছেন, ঠিক ওভাবে আপনিও ধৈর্যধারণ করুন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلَا تَسْتَعْجِل لَّهُمْ.
“হে নবি! আপনি ধৈর্যধারণ করুন, যেমন পূর্ববতী সাহসী পয়গম্বরগণ ধৈর্যধারণ করেছেন। আপনি কোনো বিষয়ে তাড়াহুড়া করবেন না।"১০৪
টিকাঃ
১০৩ সুরা আম্বিয়া: ৩৭।
১০৪ সুরা আহকাফ: ৩৫।
📄 রাগ করবেন না
ধৈর্যধারণের ফল পেতে হলে আপনাকে রাগ না করা থেকে দূরে অবস্থান করতে হবে। কেননা রাগ হলো ধৈর্যধারণের বিপরীত কাজ। তাই রাগ না করা চাই। যদি কোনো কষ্টে আক্রান্ত হওয়ার পরও রাগ না করে থাকেন, তবেই আপনি পাবেন ধৈর্যধারণের ফল। আল্লাহ ﷻ তাঁর প্রিয় বন্ধু রাসুল ﷺ -কে রাগ করতে নিষেধ করেছেন। কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
فَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ وَلَا تَكُن كَصَاحِبِ الْحُوتِ إِذْ نَادَى وَهُوَ مَكْظُومُ.
"আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় ধৈর্যধারণ করুন, আপনি মাছওয়ালা ইউনুসের মতো হবেন না। যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করছিলো।”১০৫
টিকাঃ
১০৫ সুরা আল কলম: ৪৮।
📄 নিরাশ হবেন না
ধৈর্যধারণের ক্ষেত্রে যে বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা হচ্ছে, কোনো বিপদ আসলে নিরাশ না হওয়া। তাই তো ইয়াকুব তার সন্তানদেরকে নিরাশ হতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
يَا بَنِيَّ اذْهَبُوا فَتَحَسَّسُوا مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ.
"বৎসগণ! যাও ইউসুফ ও তার ভাইকে তালাশ করো, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।”১০৬
ধৈর্য আশা ও আকাঙ্ক্ষার বাতিকে জ্বালিয়ে দেয়। ধৈর্যধারণ করা হলো নিরাশ না হওয়ার ঔষধ। আর যে নিরাশ হয় না, আল্লাহ কখনো তার আশাকে অপরিপূর্ণ রাখেন না। অবশ্যই আল্লাহ দুখের পরে সুখ দান করবেন।
টিকাঃ
১০৬ সুরা ইউসুফ: ৮৭।