📄 ওরওয়া বিন যুবাইর -র ধৈর্য
ওরওয়া বিন যুবাইর। তিনি ছিলেন তাবিঈনদের অনেক বড় ও মর্যাদাবান ব্যক্তি। তার একজন আদরের সন্তান ছিলো অনেক সুন্দর ও সুদর্শন। নাম মুহাম্মাদ। সে একদা ওয়ালিদের দরবারে গেলেন। তখন ওয়ালিদ আশ্চর্য হয়ে বললো, কুরাইশের ছেলেরা এত সুন্দর হতে পারে! ওয়ালিদ তার জন্য সামান্য বরকতের দোয়াও করলো না। অতঃপর ওয়ালিদের বদনযর তার ওপর লেগে গেল। এরপরে মুহাম্মাদ বিন ওরওয়া সেখান থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরছিলো। ঠিক তখনি সে সওয়ারির আস্তাবলে পড়ে গেলো। আর উঠতে পারেনি। ততক্ষণে সওয়ারীগুলো তাকে পিষ্ঠ করে মেরে ফেললো।
এরপরে ওরওয়া-র পায়ে ক্যান্সার হলো। ডাক্তার যা বললো তা ছিলো ভয়ানক। ডাক্তাররা বললো, তার পায়ে অস্ত্রপাচার করা হবে। নয়তো বিষের ক্রিয়া শরীরের অন্য জায়গাতেও সংক্রমিত হতে পারে। ডাক্তাররা তাই করতে শুরু করলো, অপারেশনের সময় যখন ছুরি ওরওয়া-র হাঁড়ে গিয়ে পৌঁছলো; তখন তিনি বেহুশ হয়ে গেলেন। সেসময় তার চেহারা থেকে ঘাম ঝরে পড়ছিলো, তখনও তিনি "লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলে আল্লাহর যিকির করতে ছিলেন।" (সুবহানাল্লাহ! কত ধৈর্যধারণ করেছেন।)
অতঃপর ওরওয়া ছেলেকে কাছে টেনে বললেন, আজ তোমার আর আমার ওপর যে কষ্ট এসেছে তা আল্লাহ-র পরীক্ষা। আল্লাহ জানেন, আমি তোমাকে নিয়ে কখনো আল্লাহ-র অসন্তুষ্টিমূলক কোনো কাজ ও পাপের দিকে রওয়ানা হইনি। অতঃপর তার সন্তানকে গোসল ও কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করার আদেশ দিলেন। এরপরে কবরস্থানের দিকে নিয়ে যেতে বললেন। দাফন সম্পন্ন করে ফেরার পথে—যখন কিনা তার মনে অনেক কষ্ট, একদিকে সন্তানহারা কষ্টের পতাকা হৃদয়াকাশে উড়ছে, অপরদিকে তার একটি পা কেটে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে, তখন তিনি বললেন—আজকের এ সফর আমাকে ক্লান্ত করে দিয়েছে। যখন অপারেশনের ডাক্তাররা তাকে বললো, আপনাকে এমন কোনো ওষুধ দেওয়া হবে—সেটা পান করলে আপনি আর ব্যাথা পাবেন না? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আল্লাহ আমাকে মুসিবতের মধ্যে ফেলেছেন আমাকে পরীক্ষা করার জন্য ও আমার ধৈর্যকে দেখার জন্য।