📄 মুসা -এর ধৈর্য
মুসা তার জাতিকে একত্ববাদের দাওয়াত দিলেন অনেক বছর। কিন্তু ঐ জাহান্নামের কীটগুলো মুসা নবিকে হাজারো কষ্ট দিয়েছিলো। তবুও তিনি তাদের কষ্টকে উপেক্ষা করে তাদেরকে এক আল্লাহ-র পথেই ডেকেছেন। তিনি তাদের কষ্টের কাছে হেরে যাননি, অধৈর্যও হননি। ফেরআউন জাতিও তাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। তিনি তাতে ধৈর্যধারণ করেছেন, অবশেষে আল্লাহ এ জাতিকে ধ্বংস করে দেন। এরপর বনি ইসরাইলরা খুব কষ্ট দিয়েছিলো, তাতেও তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন। অধৈর্য হননি একটুও।
রাসুল যখন মাঝে-মাঝে নবিদের ধৈর্যধারণের কথা আলোচনা-পর্যালোচনা করতেন, তখন মুসা নবির ধৈর্যধারণের কথা বলতেন।
يرحم الله موسى، قد أوذي بأكثر من هذا فصبر.
"আল্লাহ তা'আলা মুসার প্রতি রহম করুন! তাকে এর থেকেও অনেক কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তিনি কত কষ্ট সহ্য করেছেন।”১৫
কবি আরো সুন্দর করে বলেছেন-
সয়েছে মুসা ফেরাউনজাতির কত অত্যাচার,
ধৈর্যের ফলে নীল নদ জলে রাস্তায় হলো পার। [সংযুক্ত]
টিকাঃ
৯৫ সহিহ বুখারি: ৩৪০৫।
📄 ঈসা -এর ধৈর্য
ঈসা নবিকে তার জাতি জারজ ইত্যাদি বলে কত কষ্ট দিয়েছেন। তবুও তিনি ধৈর্যধারণ করেছেন। শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো-ঈসা নবিকে হত্যা করে ফেলবে। কিন্তু আল্লাহ তার প্রিয় বন্ধু ঈসা নবিকে তার কাছে উঠিয়ে নিলেন।
📄 মুহাম্মদ -এর ধৈর্য
মক্কার জাহান্নামের কীটগুলো রাসুল-কে কত কষ্ট দিয়েছে। ঐ জাতি রাসুল-কে পাগল, জাদুকর, মিথ্যুক, ধোঁকাবাজসহ সব ধরনের অপবাদ আরোপ করেছিল, তবুও রাসুল তাতে ধৈর্যধারণ করেছেন। অথচ তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় জ্ঞানী, সবচেয়ে বড় সত্যবাদী, সবচেয়ে বড় আমানতদারী। তার মতো সুন্দর ও উত্তম আদর্শের আর কোনো লোক পৃথিবীতে ছিলো না। তাদের কষ্টে রাসুল তার মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যান দূর দেশ মদিনায়। ছেড়ে যান শিশু বেলার মক্কা। ছেড়ে যান সকল স্বজনদের। ঐ কাফিরগুলো তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলো। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِيُثْبِتُوكَ أَوْ يَقْتُلُوكَ أَوْ يُخْرِجُوكَ وَيَمْكُرُونَ وَيَمْكُرُ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ.
“আর কাফেররা যখন প্রতারণা করতো আপনাকে বন্দি বা আপনাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কিংবা আপনাকে মক্কা থেকে বের করে দেওয়ার জন্য, যেমন ছলনা করেছিলো ঠিক তেমনি আল্লাহও তাদের সাথে ছলনা করেছে, বস্তুতঃ আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম।”
তায়েফে নরাধম কাফেরদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দিতে গিয়ে পাথরের আঘাতে নবির শরীর মোবারককে রক্তে রঞ্জিত করেছিল ঐ জাহান্নামের কীটগুলো। উহুদ যুদ্ধে রাসুল-এর দাঁত মোবারক শহিদ করে দিয়েছিলেন ঐ কাফেররা, তবুও তিনি বিনীত সুরে বললেন, ওরা বুঝে না। তিনি অধৈর্য হয়ে পড়েননি।
রাসুল-এর অনেক সাহাবাকে হত্যা করেছেন ঐসব কাফিররা। আবার অনেক সাহাবায়ে কেরামকে নির্মম কষ্ট দিয়েছিল তারা। যখন সাহাবাদেরকে রাসুল -এর সামনে নির্মম কষ্ট দিত তখন তিনি খুব ব্যথিত হতেন, যা বলার মত নয়।
টিকাঃ
৯৬ সুরা আনফাল: ৩০।
📄 সাহাবাদের ধৈর্য
কাফিরদের নির্যাতনে ধৈর্যধারণ করেছেন আরো হাজারো সাহাবায়ে কেরام, কাউকে একেবারে দুনিয়া জীবন থেকে বিদায় করে দিয়েছে মক্কার কাফিররা। আবার কাউকে তিলে-তিলে কষ্ট দিয়েছেন ঐ নরাধম জাহান্নামের কীটগুলো। বিলাল, সুমাইয়্যা, সুহাইব, আম্মার, মিকদাদ সহ সকলকে হাজারো কষ্ট দেওয়া হয়েছে। তবুও তারা অধৈর্য হয়ে দ্বীনের পথকে ছেড়ে যাননি। তাদের একজন হলেন খুবাইব।
টিকাঃ
৯৭ মুসতাদরাকে হাকিম: ৫৬৬৬।