📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 জগতের নিয়ম জানা

📄 জগতের নিয়ম জানা


একথা হৃদয়ঙ্গম করে নিন যে, আল্লাহ মানুষকে এ জগতে কষ্টের মাঝেই সৃষ্টি করেছেন। মানুষ কষ্টের নদীতে ভাসতে ভাসতে একদিন সুখের দেখা পেয়ে আল্লাহ -র সাথে সাক্ষাত করবে। একটু ভাবুন-দুনিয়াটা আসলেই কষ্টের জগত। এ জগত সংসারে যারাই দেখবেন বড় কিংবা মর্যাদাবান হয়েছে বা সফলতার পথ ধরে বিজয়মালা পরিধান করেছেন, তাদের পূর্বের পথচলা ছিলো অনেক কষ্টের। সুতরাং আপনাকেও এ জগত নামক কষ্টের ভূবনে সফলতাকে খুঁজে পেতে হলে কষ্টের নদীতে ডুব দিতে হবে। ব্যস, এতটুকু ভাবলেই তো হয়। তাহলেই আপনার কাছে সে কষ্ট আর কষ্ট মনে হবে না। ধৈর্যধারণ করা আপনার জন্য একদম সহজ হয়ে যাবে।
আবুল হাসান তাহামি আবৃত্তি করেছেন-
হয়েছো সৃষ্টি কষ্টের মাঝে, চলতে কেন চাও সহজের মাঝে। মানুষ আদিষ্ট মনের বিপরীত, পানি থেকে বের করে আনতে হবে আগুনের কুন্ডি।
জগতটাকে এমন ধারণা করলে আপনার জীবনে হাজারো দুঃখকে কখনোই দুঃখ মনে হবে না; আপনি তাতে ধৈর্যধারণ করতে পারবেন অনায়াসে। উপভোগ করতে পারবেন আপনার সোনালি জীবন। যে এমন বুঝতে পারবে তার কাছে জগতের যত গ্লানি আসবে সেটাকে একদম স্বাভাবিক মনে হবে। সয়ে যেতে পারবে সব ক্লান্তি। হৃদয়ে পাবে প্রশান্তি।

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 বালা-মুসিবত আল্লাহ -র পক্ষ থেকে

📄 বালা-মুসিবত আল্লাহ -র পক্ষ থেকে


ধৈর্যধারণের আরেকটি মাধ্যম হলো-দুনিয়া কেবল আল্লার-ই, তিনি যাকে চান দান করেন আর যাকে চান বঞ্চিত রাখেন এমন বিশ্বাস হৃদয়ে বদ্ধমূল করে নেওয়া। তাহলে আপনার আমার জন্য দুনিয়ার গ্লানির উপর ধৈর্যধারণ করা একদম সহজ হবে।
আল্লাহ ইরশাদ করেন-
وَمَا بِكُم مِّن نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ. “হে মানব! তোমাদের কাছে যে সমস্ত নিয়ামত রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। অতঃপর যখন তোমরা দুঃখ-কষ্টে পতিত হও তখন আল্লাহর নিকটই কান্নাকাটি করো।”
দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাদের আবার দুঃখ কিসের।
এ সমগ্র দুনিয়া ঐ মালিকেরই, (যিনি এ আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, সূর্য, তারকা, নিহারিকা, খাল-বিল, নদি-নালাসহ সব কিছুর মালিক ও সৃষ্টিকর্তা।) তিনি যাকে ইচ্ছে দান করেন আর যাকে ইচ্ছে বঞ্চিত করেন। তাই তো আল্লাহ -র পক্ষ থেকে যখন কোন বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবতের মাধ্যমে কাউকে পরীক্ষা করা হয়; তখন সে যেন বলে-ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন। এমনটাই আল্লাহ-র নির্দেশ। পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে-
الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ.
"যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে-নিশ্চয়ই আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো।"
পৃথিবীর সব মানুষ, ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন আল্লাহ-রই মালিকানায়। তিনি এগুলোকে মানবের কাছে 'ধার' হিসেবে দিয়েছেন, আবার যখন ইচ্ছা করলে এগুলো তিনি ফিরিয়ে নিবেন।
উম্মে সুলাইম-র প্রিয় সন্তানের প্রাণ পাখি না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার পর উম্মে সুলাইম আবু তালহাকে উদ্দেশ্য করে বললেন-'হে আবু তালহা! তুমি কি মনে করো যদি কেউ বাড়ির মালিককে কোনো কিছু ধার হিসাবে দেয়, অতঃপর বাড়ির মালিকের থেকে সে ধারকৃত বস্তু আবার ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তারা কি তাদেরকে বাঁধা প্রদান করতে পারবে? বাড়ির মালিকের কোনো অন্যায় হবে?' আবু তালহা জবাব দিলেন, না। (অন্যায় হবে কেন? তার সম্পদ সে নিয়েছে।) তখন উম্মে সুলাইম বললেন, (তাহলে শোনো! আমাদের সন্তানের মালিক তো আল্লাহ; তাই তিনি তার বস্তুকে নিয়ে নিয়েছেন। এতে কোনো আফসোসের কারণ নেই।) সুতরাং তোমার সন্তানের জন্য আল্লাহ-র কাছে সওয়াব কামনা করো।

টিকাঃ
৭৮ সুরা নাহল: ৫৩।
৭৯ সুরা বাকারা: ১৫৬।
৮০ সহিহ মুসলিম: ২১৪৪।

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 সবরের মধ্যে সওয়াব নিহিত রয়েছে এমন ধারণা করা

📄 সবরের মধ্যে সওয়াব নিহিত রয়েছে এমন ধারণা করা


সবরের পথে চলার আরো একটি মাধ্যম হলো—এটা মনে করবেন যে, আমার এ কষ্টের উপর আল্লাহ সওয়াব দান করবেন ইনশা আল্লাহ!
আল্লাহ ইরশাদ করেন-
نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ. “তাদের প্রতিদান কতইনা উত্তম! যারা বিভিন্ন কষ্টে ধৈর্যধারণ করে এবং প্রেমময় প্রভুর উপর ভরসা করে।”
ইমাম ইবনুল কায়্যিম বলেন, উপরোক্ত আয়াতে এটাই সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, যারা বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হয়েও সওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করবে আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করবেন।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেন-
يود أهل العافية يوم القيامة حين يعطى أهل البلاء الثواب لو أن جلودهم كانت قرضت في الدنيا بالمقاريض. "কিয়ামতের দিন (দুনিয়াতে) মুসিবতে পতিতদেরকে প্রতিদান দেওয়ার সময়কালে বিপদ থেকে মুক্তিপ্রাপ্তরা বলবে-হায়! জগতে যদি আমাদের আরো কষ্ট দেওয়া হতো; এমনকি গায়ের চামড়াগুলোকে যদি কেঁচির মাধ্যমে কর্তন করা হতো; তবুও ভালো হতো, (আজ তাহলে আরো অনেক বড় প্রতিদান পেতাম।)”

টিকাঃ
৮১ সুরা আল আনকাবৃত: ৫৮-৫৯।
৮২ মাদারিজুস সালিকিন : ২/১৬৭।
৮৩ সুনানু তিরমিযি: ২৪০২।

📘 ধৈর্য হারাবেন না > 📄 ধৈর্যের নিয়ত করা

📄 ধৈর্যের নিয়ত করা


আব্দুল ওহেদ বিন যায়েদ বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ-র আনুগত্যের ওপর সবরের নিয়ত করবে, আল্লাহ তাকে সবর করার ক্ষমতা প্রদান করবেন ও অনেক শক্তি প্রদান করবেন। আর যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বিমুখতায় সবরের নিয়ত করবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করবেন ও পাপ থেকে পবিত্র রাখবেন।

টিকাঃ
৮৪ হিলইয়াতুল আওলিয়া : ৬/১৬৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00